05-10-2024, 02:18 AM
(This post was last modified: 05-10-2024, 02:35 AM by কাদের. Edited 1 time in total. Edited 1 time in total.)
মাহফুজ জিজ্ঞেস করে তাহলে নানু, সাফিনা আন্টি এখনো পুরো হ্যা বলছে না কেন। আসমা প্রশ্নটা শুনে একটু বিরতি নিলেন। উনার ব্যাখ্যাটা কি উনি দিবেন নাকি ভাবছেন। উনি নিশ্চত না যে তার মেয়ের মনে বড় বাধাটা আসলে এটাই। তবে আসমা বেগম ভাবলেন, অনেক বছর আগে উনি যে ভুল করেছিলেন সেইম ভুল উনার মেয়ে কে মা হিসেবে করতে দিবেন না। আর মাহফুজ ছেলেটা করিতকর্মা। পুরো ব্যাপারটা জানলে ওর পক্ষে হয়ত আর কিছু করা সম্ভব। আর উনি নিজেও ঠিক করলেন আজকের পুরো সাফিনার সাথে এই ব্যাপারে আর বিস্তারিত কথা বলবেন। আসমা বললেন এইটা আসলে কেন আমি নিশ্চিত না। সাফিনার সাথে আমি কথা বলছি। ও এখন নিমরাজি তবে পুরো হ্যা বলতে এখনো দ্বিধাবোধ করছে। মাহফুজ বলল আন্টির মনে কি আমাদের ফ্যামিলি স্ট্যাটাস নিয়ে এখনো দ্বিধা আছে। আসমা বললেন, শুন মাহফুজ ফ্যামিলি স্ট্যাটাস নিয়ে আমাদের পরিবারে কখনোই খুব বেশি চিন্তা ছিল না। পাত্র বা পাত্রী যদি শিক্ষিত হয়, ভাল সম্ভাবনা থাকে আর পরিবার যদি একটু ডিসেন্ট হয় তাইলে আমরা মানা করি না। স্ট্যাটাস নিয়ে বেশি ভাবে আসলে মিজবাহদের ফ্যামিলি। তুমি নুসাইবা কে সেফ করে সেইদিক টা রক্ষা করেছ। তবে সাফিনার মনে আসল প্রশ্ন তোমার প্রফেশন নিয়ে, তোমার রাজনীতি করা নিয়ে। মাহফুজ এই শংকাটা করেছিল। বাংলাদেশে এখনো অনেকে রাজনীতি করাটা কে ভাল চোখে দেখে না। রাজনীতিবিদদের হাতে দেশ ছেড়ে দিতে পারে মানুষ কিন্তু তার ছেলে বা মেয়ে কে বিয়ে দিতে রাজি হয় না। পলিটিক্যাল সার্কেলে এমন প্রচুর ঘটনার স্বাক্ষী ও। মনটা একটু খারাপ হয়ে যায় ওর। আসমা কে বলে, নানু আমি কিন্তু চাদাবাজি টেন্ডারবাজির পলিটিক্স করি না। আর আমি রাস্তার ক্যাডারও না। কেন্দ্রীয় যুব সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক আমি। আর আমার ব্যবসা আছে। আমার মেইন ইনকাম সোর্স সেইটাই। ইনকাম খারাপ না। এমন কি ভাল ভাল কর্পোরেট জব করা অনেকের থেকে আমার ইনকাম অনেক বেশি। আসমা বললেন আমি জানি। সিনথিয়া আমাকে সব বুঝিয়ে বলেছে। সিনথিয়া ওর মা এবং বাবা কে বুঝিয়ে বলেছে এইসব চাদাবাজি টেন্ডারবাজি তুমি কর না। মাহফুজ বলল তাহলে আমার অপরাধ কি খালি রাজনীতি করা? আসমা বললেন ঠিক অপরাধ বলব না তবে তোমাকে হ্যা বলার ক্ষেত্রে সাফিনার মেইন চিন্তা ঐ জায়গাটাতে।
মাহফুজ বলল নানু তাহলে আমি কি করব? রাজনীতি ছেড়ে দিব? আমি সিনথিয়া কে ভালবাসি। তবে রাজনীতি আমার রক্তে। আমার নানা, আমার বাবা তাদের সারাটা জীবন দিয়ে দিয়েছেন পলিটিক্সের পিছনে। উনারা কখনো পলিটিক্স থেকে টাকা বানাতে চান নাই। উনাদের সাথে পলিটিক্স করা লোক, উনাদের লেভেলে পলিটিক্স করা লোকেরা আজকে কোটি কোটি টাকার মালিক আর বিশ বছর আগে থেকে। আমাদের ফ্যামিলি এখনো পুরাতন ঢাকায় আমাদের একটা দোকানের ইনকামের উপর চলে। রাজনীতি আমার পক্ষে ছাড়া কঠিন। তবে আমার বাবা বা নানা যেমন তাদের দোকানের ব্যবসাটা কখনো বড় করেন নায় আমি তেমন না। আমি এর বাইরে বের হয়ে আসছি। নিজের বিজনেস নিজ হাতে দাড় করাচ্ছি। ইনশাল্লাহ আগামী দশ পনের বছর পর এটা ভাল কিছু হবে। নষ্ট পলিটিক্স করব না দেখে অনেক সংগ্রাম করছি পলিটিক্সের ভিতর। প্লিজ নানু সাফিনা আন্টি কে একটু বুঝিয়ে বলেন। নানু আপনি আমাকে বলেন আমি কি করব? আসমা বেগম মাহফুজের কন্ঠে আকুলতা টের পান। প্রেমিকের ভালবাসার তীব্রতা তাকে মুগ্ধ করে। অনেক বছর আগে একটা প্রেম ফুটে উঠার আগে তার কারণে নষ্ট হয়েছে আজ একটা ফুটন্ত প্রেম কে আবার নষ্ট হতে দিতে তার কষ্ট লাগে। আসমা বলেন, মাহফুজ সাফিনার তোমার ব্যাপারে অবস্থান বুঝতে গেলে প্রায় ত্রিশ বছর পিছিয়ে যেতে হবে। মাহফুজ বলে মানে? আসমা বলেন আজকে তোমাকে যেটা বলছি সেটা সিনথিয়া সাবরিনা কেউ জানে না। সম্ভবত মিজবাহ জানে না। এমন কি সাফিনার সাথে এই ব্যাপারে অনেক বছর কোন কথা হয় নি। আমি নিজেও ভুলে গেছিলাম অনেকটা। তবে সিনথিয়া যেদিন তোমাকে প্রথম পরিচয় করিয়ে দিল আর তুমি কি কর বলল সেদিন হঠাত করে আমার পুরাতন ঐ ঘটনা টা মনে পড়ে গেছিলো। সবাই বলে সাবরিনা ওর মায়ের মত হয়েছে। চুপচাপ শান্ত, ভেবেচিন্তে কোন সিদ্ধান্ত নেয়। তবে আমার মনে হয় সিনথিয়া আর বেশি ওর মায়ের মত। রাগি, চঞ্চল, আবেগী। আমার মেয়ের চরিত্রের এই দিকটা সময়ের সাথে সাথে চাপা পড়ে গেছে। তাই এখনকার সাফিনা কে দেখলে মনে হবে ওর সাথে সাবরিনার মিল বুঝি অনেক। তবে কম বয়সী, বিয়ের আগের সাফিনা কে দেখলে যে কেউ বুঝবে সিনথিয়ার সাথে ওর কতটা মিল। মাহফুজ অবাক হয় এটা শুনে। সিনথিয়া হাজার বার ওকে বলেছে, ওর মায়ের সাথে সাবরিনার কতটা মিল। এই প্রথম অন্য কিছু শুনল। আসমা বেগম বললেন দাড়াও তোমাকে একটা জিনিস দেখাই। এই বলে ভিতরে গেলেন, কয়েক মিনিট পর একটা বড় ছবির এলবাম নিয়ে আসলেন। বললেন, এই এলবামে সাফিনাদের ভাইবোনদের সবার কলেজ কলেজের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন এচিভমেন্টের ছবি আমি রেখে দিয়েছি। কেউ দেখে না। আমি মাঝে মাঝে উলটে দেখি। এই বলে এলবামের পাতা উলটাতে উলটাতে একটা পাতায় স্থির হলেন। একটা বড় ছবি দেখিয়ে বললেন দেখতো কাউকে চিন কিনা। মাহফুজ এলবামের উপর ঝুকে পড়ে দেখে। সাদাকাল ছবি। একটা মঞ্চে পাচজন দাঁড়িয়ে আছে। দুই জন মেয়ে তিনজন ছেলে। একটা মেয়ের মুখ দেখে চমকে গেল। এত সুন্দর। সাফিনা আন্টি কে সরাসরি কখনো দেখে নি মাহফুজ। ছবিতে দেখেছে। সাফিনা যে সাবরিনা সিনথিয়া দুইজন থেকে বেশি সুন্দরী এইটা সব সময় বলে সিনথিয়া। আজকে এত বছর পুরাতন সাদাকালো ছবি যেন সেই প্রমাণ দিচ্ছে। মাঝে অনেক বছর গেছে কিন্তু মুখের আদল এক আছে। আর ছবির মুখে তারুণের ঝলকানি। ঘুড়ে দাঁড়িয়ে দেখবার মত সুন্দর একটা মুখ। শুকনো ছিপছিপে এক তরুণী। শাড়ি পড়া। মাহফুজের চোখে বিস্ময়। আসমা বেগম কে বললেন এইটা তো সাফিনা আন্টি। অনেক আগের ছবি মনে হচ্ছে।
আসমা বললেন, হ্যা। এইটা অনেক আগের। সাফিনা যখন কলেজের ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে তখনকার। একটা থিয়েটার গ্রুপে ও যোগ দিয়েছিল। ওরা চিত্রাংগদা নাটক টা মঞ্চস্থ করেছিল। সাফিনা হয়েছিল চিত্রাংগদা। মাহফুজ পলিটিক্স করা সেই রেয়ার ছেলেদের একজন যার শিল্প সাহিত্যে আগ্রহ আছে। অপি করিম যখন চিত্রাংগদা নাটকে চিত্রাংগদা হল, তখন সেই নাটক শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে দেখেছিল মাহফুজ। চিত্রাঙ্গদা চরিত্রটা সৌন্দর্য আর বিদ্রোহের যে মিশেল সেটা দারুণ ফুটিয়ে তুলেছিল অপি করিম। মাহফুজের মনে হয় যদি সত্যি সত্যি সেই সময়ের সাফিনা আন্টির ভিতর সিনথিয়ার বিদ্রোহী স্বভাবটা থাকে তাহলে এই চরিত্রে উনি পারফেক্ট। কারণ ছবি বলে দিচ্ছে কতটা সুন্দর উনি, সাথে ভিতরের বিদ্রোহের আগুন। আসমা বেগম বললেন এত কম বয়সে মেইন পার্ট পাবে এইটা বুঝতে পারে নি আমি। তোমার নানা, মানে আমার হাজব্যান্ড নাটক করতে দেবার ব্যাপারে একটু চিন্তিত ছিলেন তবে আমি তাকে মানিয়েছিলাম। তোমার ব্যাপারে সাফিনার আপত্তির শুরুটা আসলে ঐ সময়ের সাথে সম্পর্কিত। মাহফুজ জিজ্ঞেস করে কিভাবে? আপনি যে সময়ের কথা বলছেন ঐ সময় আমার জন্ম হলেও বয়স হয়ত এক দুই বছর। আসমা হাসলেন বললেন, আগে ছবিতে সাফিনার পাশে দাঁড়ানো ছেলেটা কে দেখ। মাহফুজ ভাল করে খেয়াল করে দেখল একটা তেইশ চব্বিশ বছরের যুবক। যথেষ্ট লম্বা। মুখে দৃঢ়তার ছাপ। বেকব্রাশ করা চুল। পাঞ্জাবী পড়া। পাঞ্জাবীর হাতা কনুই পর্যন্ত গুটানো। হ্যান্ডসাম আছে ছেলেটা মনে মনে ভাবে মাহফুজ। আসমা বলেন এই ছেলেটার নাম কাজল। আমাদের পাড়ার ছেলে। খুব ভাল ছেলে ছিল। পাড়ার কোন অনুষ্ঠান ওকে ছাড়া হয় না, সবার বাড়িতে কোন কাজ থাকলে ওর ডাক পড়ে। পড়াশুনায় খারাপ ছিল না। নাটক করত, সাহিত্য পত্রিকা বের করত ওরা কয় বন্ধু মিলে। পলিটিক্সও করত। মাহফুজ আগ্রহী হয়ে উঠে গল্পে। আসমা বলেন এমন ছেলের প্রেমে তরুণীরা পড়বে স্বাভাবিক। পাড়ার কম বয়েসী বউরা পর্যন্ত ওর দিকে অন্য চোখে তাকাত। সাফিনা তখন সদ্য তরুণী। এই শহরটাই ওর ভাল করে দেখা হয় নি। তাই কাজল ওর চোখ ঝলসে দিয়েছিল। ঐ বয়সী সব মেয়েরা তখন কাজলের প্রেমে পড়েছিল, তোমার হবু শ্বাশুড়ীও পড়েছিল। বলে হাসলেন আসমা বেগম। মাহফুজ নিজেও হাসল, এই কারণে আসমা বেগম কে ভাল লাগে ওর। যেকোন জায়গায় প্রাণখুলে হাসার একটা ব্যাপার আছে উনার মাঝে।
আসমা বেগম বললেন, কম বয়েসী মেয়েদের মায়ের অনেক সতর্ক থাকতে হয়। আমি তাই সাফিনার চোখের ভাষা পড়তে পেরেছিলাম। ওকে একদিন অনেক বকাঝকা করেছিলাম তাই। যাতে কাজলের সাথে কম মিশে। আর নাটক এরপর থেকে করা বন্ধ। সাফিনা অনেক কেদেছিল। তবে সেই সময়ে বাবা মায়ের উপর বেশি কথা বলত পারত না ছেলে মেয়েরা। একদিন কাজল এসেছিল বাসায় সাফিনা আর প্রাকটিসে যায় না কেন এইটা জিজ্ঞেস করার জন্য। আমি ওর চোখেও সাফিনার জন্য মুগ্ধতা দেখেছিলাম। বয়সটাই যে অমন। আর দুইজন সুন্দর মানুষ পরষ্পরকে চুম্বকের মত টানবে এটাই স্বাভাবিক। তাই আমি কাজল কে তখন বুঝিয়েছিলাম যে ও যেন আর না আগায়। মফস্বল শহর। একটা বাজে গুজব তৈরি হয়ে গেলে একবার পরে সমস্যা হবে সাফিনার। আমার বকা খেয়ে কাজল একদম মিইয়ে গিয়েছিল। সাফিনা সব দরজার আড়াল থেকে শুনছিল, পরে আমি এটা টের পেয়েছিলাম। এর ঠিক কয়েক সাপ্তাহ পর একটা পলিটিক্যাল মারামারিতে মারা যায় কাজল। বলতে পার তোমার হবু শ্বাশুড়ীর না করা প্রেম ছিল কাজল। পলিটিক্যাল মারামারিতে ও মারা গেছে এইটা কখনো ভুলতে পারে নি সাফিনা। এরপর থেকে পলিটিক্স আর পলিটিক্স করা লোকদের একদম অপছন্দ ওর। তুমিও পলিটিক্স কর। এইবার বুজতে পারছ সাফিনার মনে দ্বিধাটা কোথায়? মাহফুজের মনে হঠাত করে এই পাজলের রহস্য যেন খুলে গেল। সাফিনা আন্টি কেন এত কিছুর পরেও ওর সাথে মেয়ের বিয়ে দিতে দ্বিধা করছে সেটা টের পেল। মাহফুজ ছবির দিকে আর ভাল করে তাকায়। ছবিতে কাজল নামের লোকটা ওর মত লম্বা হবে। বডি ওর মত পিটানো। চোখেমুখে বুদ্ধির ছাপ। হ্যান্ডসাম ছিল লোকটা মনে মনে ভাবে মাহফুজ। অনেক বছর আগে মারা যাওয়া এই মানুষ যে ওর জীবনে এই রকম গূরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে সেইটা ও বুঝতে পারে নি। মাহফুজ বলল তাইলে নানু কি করব আমি? আসমা বেগম বললেন, আমি সাফিনার সাথে এই ব্যাপারে খোলাখুলি কথা বলব। নুসাইবা ফেরত আসলে হয়ত ও আর বুঝাবে। তবে মজার ব্যাপার কি জান সিনথিয়া যখন তোমার ব্যাপারে আমাকে প্রথম বলল যে তুমি পলিটিক্স কর কিন্তু অন্য পলিটিক্যাল ছেলেদের মত না। বই পড়, মুভি দেখ, গান পছন্দ কর। তখন আমার অনেক বছর পর হঠাত করে কাজলের কথা মনে হয়েছিল। নিয়তির কি খেল দেখ। মা আর মেয়ে এত বছর বাদে সেইম জায়গায় দাঁড়ানো। তুমি অত টেনশন করো না। আমি এর আগেরবার একটা প্রেমে বাধা হয়েছিলাম। এইবার এই প্রেম যাতে সফল হয় সেই চেষ্টা করব।
আসমা বেগমের সাথে আর কিছুক্ষণ কথা বলে আর আর কিছু পরামর্শ করে বের হয়ে আসে মাহফুজ। মাহফুজ সব সময় বিশ্বাস করে যত বেশি জানা যায় একটা ব্যাপার সম্পর্কে তত ভাল করে বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। তাই মোবাইলের ফোন বুকটাতে একটা নাম্বার খুজে। ময়মনসিংহে ওর প্রশ্নের উত্তর কে দিতে পারবে এইটা আসলে সম্ভবত একটা লোক বলতে পারবে। সন্তোষ দাস। ময়মনসিংহে একটা লোকাল পত্রিকার সম্পাদক। ষাটের উপর বয়স। এই জেলা শহরে যথেষ্ট প্রভাবশালী লোক। নির্বাচনী প্রচারণায় সমন্বয়কের কাজ করছে ও তাই গতকালো উনার সাথে গিয়ে মিটিং করেছে। এর আগে অন্য একটা পলিটিক্যাল ব্যাপার আলাপ হয়েছিল কয়েক বছর আগে। এরপর থেকে যতবার ময়মনসিং আসে ততবার সন্তোষ’দার সাথে একবার দেখা করে আর না পারলে অন্তত একটা কল দেয়। প্রচন্ড হাসিখুশি মানুষ। ময়মনসিং শহরের সব গূরুত্বপূর্ন রাজনৈতিক, ব্যবসায়ীক বা সাংস্কৃতিক মানুষের নাড়ি নক্ষত্র জানে এই লোকটা। সব রাজনৈতিক দল তাকে সমীহ করে চলে। ত্রিশ বছর আগে মৃত রাজনীতি করা একটা লোকের সম্পর্কে খোজ দিতে পারলে সম্ভবত এই লোকটাই পারবে। মাহফুজের ফোন পেয়ে উচ্ছাসিত হয়ে উঠেন সন্তোষ দাস। বলেন কি ব্যাপার মাহফুজ আজকে সকাল সকাল। চলে আস আমার অফিসে। আড্ডা দেওয়া যাবে। মাহফুজ বলে দাদা এখন তো একটা কাজে যেতে হবে। রাতে চেষ্টা করব আপনার সাথে দেখা করার। সন্তোষ দাস জিজ্ঞেস করেন তা কি ব্যাপার? তোমাদের পার্টির পলিটিকাল ব্যাপারটা যেটা নিয়ে গতকাল আলোচনা করেছিলে ঐটা নিয়ে কিছু নাকি। আর দেখ ভাই, আমি কিন্তু একটা পত্রিকা চালাই। ফলে আমি কোন দল কে সরাসরি মাঠে নেমে সাপোর্ট করব না। আর সাংবাদিক হিসেবে আমার দ্বায়িত্ব নিরপেক্ষ ভাবে এই নির্বাচন রিপোর্ট করা। মাহফুজ বলে সন্তোষ দা আমরা সবাই এইটা জানি। আপনাকে কেউ এই ব্যাপারে ইনফ্লুয়েন্স করবে না। আমি আসলে অন্য একটা ব্যাপারে জানতে চাইছিলাম। খানিকটা পার্সনাল। সন্তোষ দাস জিজ্ঞেস করলেন কি ব্যপার? মাহফুজ বলে আপনি কি কাজল নামে কাউকে চিনতেন। বাম রাজনীতি করত এক সময়। লম্বা করে। নাটক করত। বেকব্রাশ করত চুলে। চমকে গেলেন সন্তোষ। বহু যুগ পরে কেউ তাকে কাজলের সম্পর্কে প্রশ্ন করল।
মাহফুজ বলল নানু তাহলে আমি কি করব? রাজনীতি ছেড়ে দিব? আমি সিনথিয়া কে ভালবাসি। তবে রাজনীতি আমার রক্তে। আমার নানা, আমার বাবা তাদের সারাটা জীবন দিয়ে দিয়েছেন পলিটিক্সের পিছনে। উনারা কখনো পলিটিক্স থেকে টাকা বানাতে চান নাই। উনাদের সাথে পলিটিক্স করা লোক, উনাদের লেভেলে পলিটিক্স করা লোকেরা আজকে কোটি কোটি টাকার মালিক আর বিশ বছর আগে থেকে। আমাদের ফ্যামিলি এখনো পুরাতন ঢাকায় আমাদের একটা দোকানের ইনকামের উপর চলে। রাজনীতি আমার পক্ষে ছাড়া কঠিন। তবে আমার বাবা বা নানা যেমন তাদের দোকানের ব্যবসাটা কখনো বড় করেন নায় আমি তেমন না। আমি এর বাইরে বের হয়ে আসছি। নিজের বিজনেস নিজ হাতে দাড় করাচ্ছি। ইনশাল্লাহ আগামী দশ পনের বছর পর এটা ভাল কিছু হবে। নষ্ট পলিটিক্স করব না দেখে অনেক সংগ্রাম করছি পলিটিক্সের ভিতর। প্লিজ নানু সাফিনা আন্টি কে একটু বুঝিয়ে বলেন। নানু আপনি আমাকে বলেন আমি কি করব? আসমা বেগম মাহফুজের কন্ঠে আকুলতা টের পান। প্রেমিকের ভালবাসার তীব্রতা তাকে মুগ্ধ করে। অনেক বছর আগে একটা প্রেম ফুটে উঠার আগে তার কারণে নষ্ট হয়েছে আজ একটা ফুটন্ত প্রেম কে আবার নষ্ট হতে দিতে তার কষ্ট লাগে। আসমা বলেন, মাহফুজ সাফিনার তোমার ব্যাপারে অবস্থান বুঝতে গেলে প্রায় ত্রিশ বছর পিছিয়ে যেতে হবে। মাহফুজ বলে মানে? আসমা বলেন আজকে তোমাকে যেটা বলছি সেটা সিনথিয়া সাবরিনা কেউ জানে না। সম্ভবত মিজবাহ জানে না। এমন কি সাফিনার সাথে এই ব্যাপারে অনেক বছর কোন কথা হয় নি। আমি নিজেও ভুলে গেছিলাম অনেকটা। তবে সিনথিয়া যেদিন তোমাকে প্রথম পরিচয় করিয়ে দিল আর তুমি কি কর বলল সেদিন হঠাত করে আমার পুরাতন ঐ ঘটনা টা মনে পড়ে গেছিলো। সবাই বলে সাবরিনা ওর মায়ের মত হয়েছে। চুপচাপ শান্ত, ভেবেচিন্তে কোন সিদ্ধান্ত নেয়। তবে আমার মনে হয় সিনথিয়া আর বেশি ওর মায়ের মত। রাগি, চঞ্চল, আবেগী। আমার মেয়ের চরিত্রের এই দিকটা সময়ের সাথে সাথে চাপা পড়ে গেছে। তাই এখনকার সাফিনা কে দেখলে মনে হবে ওর সাথে সাবরিনার মিল বুঝি অনেক। তবে কম বয়সী, বিয়ের আগের সাফিনা কে দেখলে যে কেউ বুঝবে সিনথিয়ার সাথে ওর কতটা মিল। মাহফুজ অবাক হয় এটা শুনে। সিনথিয়া হাজার বার ওকে বলেছে, ওর মায়ের সাথে সাবরিনার কতটা মিল। এই প্রথম অন্য কিছু শুনল। আসমা বেগম বললেন দাড়াও তোমাকে একটা জিনিস দেখাই। এই বলে ভিতরে গেলেন, কয়েক মিনিট পর একটা বড় ছবির এলবাম নিয়ে আসলেন। বললেন, এই এলবামে সাফিনাদের ভাইবোনদের সবার কলেজ কলেজের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন এচিভমেন্টের ছবি আমি রেখে দিয়েছি। কেউ দেখে না। আমি মাঝে মাঝে উলটে দেখি। এই বলে এলবামের পাতা উলটাতে উলটাতে একটা পাতায় স্থির হলেন। একটা বড় ছবি দেখিয়ে বললেন দেখতো কাউকে চিন কিনা। মাহফুজ এলবামের উপর ঝুকে পড়ে দেখে। সাদাকাল ছবি। একটা মঞ্চে পাচজন দাঁড়িয়ে আছে। দুই জন মেয়ে তিনজন ছেলে। একটা মেয়ের মুখ দেখে চমকে গেল। এত সুন্দর। সাফিনা আন্টি কে সরাসরি কখনো দেখে নি মাহফুজ। ছবিতে দেখেছে। সাফিনা যে সাবরিনা সিনথিয়া দুইজন থেকে বেশি সুন্দরী এইটা সব সময় বলে সিনথিয়া। আজকে এত বছর পুরাতন সাদাকালো ছবি যেন সেই প্রমাণ দিচ্ছে। মাঝে অনেক বছর গেছে কিন্তু মুখের আদল এক আছে। আর ছবির মুখে তারুণের ঝলকানি। ঘুড়ে দাঁড়িয়ে দেখবার মত সুন্দর একটা মুখ। শুকনো ছিপছিপে এক তরুণী। শাড়ি পড়া। মাহফুজের চোখে বিস্ময়। আসমা বেগম কে বললেন এইটা তো সাফিনা আন্টি। অনেক আগের ছবি মনে হচ্ছে।
আসমা বললেন, হ্যা। এইটা অনেক আগের। সাফিনা যখন কলেজের ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে তখনকার। একটা থিয়েটার গ্রুপে ও যোগ দিয়েছিল। ওরা চিত্রাংগদা নাটক টা মঞ্চস্থ করেছিল। সাফিনা হয়েছিল চিত্রাংগদা। মাহফুজ পলিটিক্স করা সেই রেয়ার ছেলেদের একজন যার শিল্প সাহিত্যে আগ্রহ আছে। অপি করিম যখন চিত্রাংগদা নাটকে চিত্রাংগদা হল, তখন সেই নাটক শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে দেখেছিল মাহফুজ। চিত্রাঙ্গদা চরিত্রটা সৌন্দর্য আর বিদ্রোহের যে মিশেল সেটা দারুণ ফুটিয়ে তুলেছিল অপি করিম। মাহফুজের মনে হয় যদি সত্যি সত্যি সেই সময়ের সাফিনা আন্টির ভিতর সিনথিয়ার বিদ্রোহী স্বভাবটা থাকে তাহলে এই চরিত্রে উনি পারফেক্ট। কারণ ছবি বলে দিচ্ছে কতটা সুন্দর উনি, সাথে ভিতরের বিদ্রোহের আগুন। আসমা বেগম বললেন এত কম বয়সে মেইন পার্ট পাবে এইটা বুঝতে পারে নি আমি। তোমার নানা, মানে আমার হাজব্যান্ড নাটক করতে দেবার ব্যাপারে একটু চিন্তিত ছিলেন তবে আমি তাকে মানিয়েছিলাম। তোমার ব্যাপারে সাফিনার আপত্তির শুরুটা আসলে ঐ সময়ের সাথে সম্পর্কিত। মাহফুজ জিজ্ঞেস করে কিভাবে? আপনি যে সময়ের কথা বলছেন ঐ সময় আমার জন্ম হলেও বয়স হয়ত এক দুই বছর। আসমা হাসলেন বললেন, আগে ছবিতে সাফিনার পাশে দাঁড়ানো ছেলেটা কে দেখ। মাহফুজ ভাল করে খেয়াল করে দেখল একটা তেইশ চব্বিশ বছরের যুবক। যথেষ্ট লম্বা। মুখে দৃঢ়তার ছাপ। বেকব্রাশ করা চুল। পাঞ্জাবী পড়া। পাঞ্জাবীর হাতা কনুই পর্যন্ত গুটানো। হ্যান্ডসাম আছে ছেলেটা মনে মনে ভাবে মাহফুজ। আসমা বলেন এই ছেলেটার নাম কাজল। আমাদের পাড়ার ছেলে। খুব ভাল ছেলে ছিল। পাড়ার কোন অনুষ্ঠান ওকে ছাড়া হয় না, সবার বাড়িতে কোন কাজ থাকলে ওর ডাক পড়ে। পড়াশুনায় খারাপ ছিল না। নাটক করত, সাহিত্য পত্রিকা বের করত ওরা কয় বন্ধু মিলে। পলিটিক্সও করত। মাহফুজ আগ্রহী হয়ে উঠে গল্পে। আসমা বলেন এমন ছেলের প্রেমে তরুণীরা পড়বে স্বাভাবিক। পাড়ার কম বয়েসী বউরা পর্যন্ত ওর দিকে অন্য চোখে তাকাত। সাফিনা তখন সদ্য তরুণী। এই শহরটাই ওর ভাল করে দেখা হয় নি। তাই কাজল ওর চোখ ঝলসে দিয়েছিল। ঐ বয়সী সব মেয়েরা তখন কাজলের প্রেমে পড়েছিল, তোমার হবু শ্বাশুড়ীও পড়েছিল। বলে হাসলেন আসমা বেগম। মাহফুজ নিজেও হাসল, এই কারণে আসমা বেগম কে ভাল লাগে ওর। যেকোন জায়গায় প্রাণখুলে হাসার একটা ব্যাপার আছে উনার মাঝে।
আসমা বেগম বললেন, কম বয়েসী মেয়েদের মায়ের অনেক সতর্ক থাকতে হয়। আমি তাই সাফিনার চোখের ভাষা পড়তে পেরেছিলাম। ওকে একদিন অনেক বকাঝকা করেছিলাম তাই। যাতে কাজলের সাথে কম মিশে। আর নাটক এরপর থেকে করা বন্ধ। সাফিনা অনেক কেদেছিল। তবে সেই সময়ে বাবা মায়ের উপর বেশি কথা বলত পারত না ছেলে মেয়েরা। একদিন কাজল এসেছিল বাসায় সাফিনা আর প্রাকটিসে যায় না কেন এইটা জিজ্ঞেস করার জন্য। আমি ওর চোখেও সাফিনার জন্য মুগ্ধতা দেখেছিলাম। বয়সটাই যে অমন। আর দুইজন সুন্দর মানুষ পরষ্পরকে চুম্বকের মত টানবে এটাই স্বাভাবিক। তাই আমি কাজল কে তখন বুঝিয়েছিলাম যে ও যেন আর না আগায়। মফস্বল শহর। একটা বাজে গুজব তৈরি হয়ে গেলে একবার পরে সমস্যা হবে সাফিনার। আমার বকা খেয়ে কাজল একদম মিইয়ে গিয়েছিল। সাফিনা সব দরজার আড়াল থেকে শুনছিল, পরে আমি এটা টের পেয়েছিলাম। এর ঠিক কয়েক সাপ্তাহ পর একটা পলিটিক্যাল মারামারিতে মারা যায় কাজল। বলতে পার তোমার হবু শ্বাশুড়ীর না করা প্রেম ছিল কাজল। পলিটিক্যাল মারামারিতে ও মারা গেছে এইটা কখনো ভুলতে পারে নি সাফিনা। এরপর থেকে পলিটিক্স আর পলিটিক্স করা লোকদের একদম অপছন্দ ওর। তুমিও পলিটিক্স কর। এইবার বুজতে পারছ সাফিনার মনে দ্বিধাটা কোথায়? মাহফুজের মনে হঠাত করে এই পাজলের রহস্য যেন খুলে গেল। সাফিনা আন্টি কেন এত কিছুর পরেও ওর সাথে মেয়ের বিয়ে দিতে দ্বিধা করছে সেটা টের পেল। মাহফুজ ছবির দিকে আর ভাল করে তাকায়। ছবিতে কাজল নামের লোকটা ওর মত লম্বা হবে। বডি ওর মত পিটানো। চোখেমুখে বুদ্ধির ছাপ। হ্যান্ডসাম ছিল লোকটা মনে মনে ভাবে মাহফুজ। অনেক বছর আগে মারা যাওয়া এই মানুষ যে ওর জীবনে এই রকম গূরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে সেইটা ও বুঝতে পারে নি। মাহফুজ বলল তাইলে নানু কি করব আমি? আসমা বেগম বললেন, আমি সাফিনার সাথে এই ব্যাপারে খোলাখুলি কথা বলব। নুসাইবা ফেরত আসলে হয়ত ও আর বুঝাবে। তবে মজার ব্যাপার কি জান সিনথিয়া যখন তোমার ব্যাপারে আমাকে প্রথম বলল যে তুমি পলিটিক্স কর কিন্তু অন্য পলিটিক্যাল ছেলেদের মত না। বই পড়, মুভি দেখ, গান পছন্দ কর। তখন আমার অনেক বছর পর হঠাত করে কাজলের কথা মনে হয়েছিল। নিয়তির কি খেল দেখ। মা আর মেয়ে এত বছর বাদে সেইম জায়গায় দাঁড়ানো। তুমি অত টেনশন করো না। আমি এর আগেরবার একটা প্রেমে বাধা হয়েছিলাম। এইবার এই প্রেম যাতে সফল হয় সেই চেষ্টা করব।
আসমা বেগমের সাথে আর কিছুক্ষণ কথা বলে আর আর কিছু পরামর্শ করে বের হয়ে আসে মাহফুজ। মাহফুজ সব সময় বিশ্বাস করে যত বেশি জানা যায় একটা ব্যাপার সম্পর্কে তত ভাল করে বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। তাই মোবাইলের ফোন বুকটাতে একটা নাম্বার খুজে। ময়মনসিংহে ওর প্রশ্নের উত্তর কে দিতে পারবে এইটা আসলে সম্ভবত একটা লোক বলতে পারবে। সন্তোষ দাস। ময়মনসিংহে একটা লোকাল পত্রিকার সম্পাদক। ষাটের উপর বয়স। এই জেলা শহরে যথেষ্ট প্রভাবশালী লোক। নির্বাচনী প্রচারণায় সমন্বয়কের কাজ করছে ও তাই গতকালো উনার সাথে গিয়ে মিটিং করেছে। এর আগে অন্য একটা পলিটিক্যাল ব্যাপার আলাপ হয়েছিল কয়েক বছর আগে। এরপর থেকে যতবার ময়মনসিং আসে ততবার সন্তোষ’দার সাথে একবার দেখা করে আর না পারলে অন্তত একটা কল দেয়। প্রচন্ড হাসিখুশি মানুষ। ময়মনসিং শহরের সব গূরুত্বপূর্ন রাজনৈতিক, ব্যবসায়ীক বা সাংস্কৃতিক মানুষের নাড়ি নক্ষত্র জানে এই লোকটা। সব রাজনৈতিক দল তাকে সমীহ করে চলে। ত্রিশ বছর আগে মৃত রাজনীতি করা একটা লোকের সম্পর্কে খোজ দিতে পারলে সম্ভবত এই লোকটাই পারবে। মাহফুজের ফোন পেয়ে উচ্ছাসিত হয়ে উঠেন সন্তোষ দাস। বলেন কি ব্যাপার মাহফুজ আজকে সকাল সকাল। চলে আস আমার অফিসে। আড্ডা দেওয়া যাবে। মাহফুজ বলে দাদা এখন তো একটা কাজে যেতে হবে। রাতে চেষ্টা করব আপনার সাথে দেখা করার। সন্তোষ দাস জিজ্ঞেস করেন তা কি ব্যাপার? তোমাদের পার্টির পলিটিকাল ব্যাপারটা যেটা নিয়ে গতকাল আলোচনা করেছিলে ঐটা নিয়ে কিছু নাকি। আর দেখ ভাই, আমি কিন্তু একটা পত্রিকা চালাই। ফলে আমি কোন দল কে সরাসরি মাঠে নেমে সাপোর্ট করব না। আর সাংবাদিক হিসেবে আমার দ্বায়িত্ব নিরপেক্ষ ভাবে এই নির্বাচন রিপোর্ট করা। মাহফুজ বলে সন্তোষ দা আমরা সবাই এইটা জানি। আপনাকে কেউ এই ব্যাপারে ইনফ্লুয়েন্স করবে না। আমি আসলে অন্য একটা ব্যাপারে জানতে চাইছিলাম। খানিকটা পার্সনাল। সন্তোষ দাস জিজ্ঞেস করলেন কি ব্যপার? মাহফুজ বলে আপনি কি কাজল নামে কাউকে চিনতেন। বাম রাজনীতি করত এক সময়। লম্বা করে। নাটক করত। বেকব্রাশ করত চুলে। চমকে গেলেন সন্তোষ। বহু যুগ পরে কেউ তাকে কাজলের সম্পর্কে প্রশ্ন করল।