21-05-2026, 03:37 AM
এর আগে একটা গল্প লিখতে শুরু করেছিলাম রিক্তের জীবনযাত্রা নামে পরে আইডি হারিয়ে ফেলায় আর লেখা হয় নি এখন নতুন করে সেটা আরেকটু সুন্দর ভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছি।।আসা করছি পাশে থাকবেন।।এখানে লেখার নিয়ম জানি না তাই সরাসরি গল্পে চলে গেলাম।।
সকাল বেলা পাখির ডাকে ঘুম ভাংলো।। পাখি আমার ছোট বোন তার একমাত্র কাজ আমার সাথে ঝগড়া করা কিভাবে আমাকে জালানো যাবে এটাই তার রোজ হোমওয়ার্ক থাকে।।আমার মাঝে মাঝে মাঝে মনে হয় পরিক্ষার খাতাতেও সে এসব ই লিখে আসে সেকারনে রেজাল্ট খানাও হয় সেরকম ই।।জন্মের পর সে সব সময় পাখির বাচ্চার মত কিচির মিচির করতে থাকতো তাই বাবা মা ভালোবেসে নাম রাখে পাখি।।সাধারণত দেখা যায় যেসব বাচ্চা বেশি চঞ্চল থাকে বড় হয়ে তারা শান্ত হয়ে যায়।।কিন্তু পাখির বেলা তা হয় নি বয়সের সাথে তার কিচির মিচির বেড়েই গেছে যেনো।।আমার সাথে তার বয়সের ব্যাবধান ২ বছরের তাই ছোট থেকেই তার সাথে আমার লেগেই থাকতো।। বাবা মা দুজনে জব করার কারনে আমাদের মারামারি করার যথেষ্ঠ সময় থাকতো।।ছোট বেলায় মারা মারি করে দুজনে পড়ে থাকতাম বয়স বাড়ার সাথে সাথে মারামারি কমে গেলেও একে অন্যের পিছনে লাগা একটুও কমে নি।।ছোট থেকেই মনে হতো আমাদের ভাই বোন একে অপরের চোখের বিষ যেন আলাদা থাকলেই বাচি।। কিন্তু যখন সত্যি আলাদা হবার সময় এলো তখন মনে হচ্ছে যা ভাবতাম তা মোটেই ঠিক না।।ঢাকা ভার্সিটিতে চান্স পেয়েছি কিছুদিন হলো।। চান্স পাবার পর পরিবারের সবাই অনেক খুশি পাখি খবর টা শুনেই বললো যাক বাবা এখন তো আপদ বিদায় হবে।।আমিও বলি সেজন্যই এত খুশি আমি তোর থেকে দূরে থাকবো তাই।।
কিন্তু যতই যাওয়ার সময় এগিয়ে আসলো ততই কেমন যেন বদলে যেতে লাগলো সব কিছু এভাবে বাবা মা কে ছেড়ে পাখিকে ছেড়ে একা একা একটা শহরে থাকবো ভাবতেই কেমন শূন্যতা লাগতে লাগলো।।
পাখি এখনো ডেকেই চলেছে কিরে ভাইয়া উঠবি না মা কখন থেকে ডাকছে।।
-হুম উঠছি মা অফিস যায় নি?
-মা বাবা কেউ অফিস যায় নি তুই চলে যাবি না আজকে ' তাই ছুটি নিয়েছে।।
-ছুটি নেওয়ার কি দরকার ছিলো।।আচ্ছা চল আমি যাচ্ছি।।
পাখিকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে মন ভীষিণ খারাপ।।খারাপ আমারো লাগছে কিন্তু সেটা বুঝতে দিলে সবার আরো বেশি মন খারাপ হবে তাই উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম হাসি মুখে নিচে নামলাম।।মা রান্না করছিলো আমাকে দেখে রান্না রেখে এগিয়ে এলো একটু কাজল মুছে ছোট্ট করে কপালে একটা টিপ এর মত দিয়ে দিলো।।
ইসস এত্ত সুন্দর ছেলেটা আমার বাইরে একা একা কিভাবে থাকবে।।কত মানুষের নজর লাগবে।।
মা সব সময় এভাবেই বলেন।।আমাদের দুই ভাই বোনকে সৃষ্টিকর্তা রুপ দিতে একটুও কার্পণ্য করেননি।।
মায়ের কথা শুনে পাখি বললো সে কি আর বাকি আছে?তোমার ছেলেকে যে কত মেয়ে অলরেডি নজর দিয়ে দিয়েছে।।আমি কলেজে প্রথম দিন যেতেই সব মেয়ে শুধু ভাইয়ার কথাই জিজ্ঞাসা করে সেকেন্ড ইয়ারের আপু গুলা।।
আমি পাখির মাথায় একটা চাটি মেরে বললাম চুপ করতো শুধু বাজে বকিস।।মাকে একটু সাহায্য করলেও তো পারিস।।
-সে মা দিলে তো।।চুলার কাছে গেলে নাকি চেহারা নষ্ট হয়ে যাবে তাই যেতে দিচ্ছে না।।
-তোর চেহারা নষ্ট হবে কিরে?চূলার মত চেহারা আরো বল সব কিছু নষ্ট করে ফেলবি তাই যেতে দিচ্ছে না।।
-যা তো খেতে বস।।
আগে হলে পাখি এভাবে ছেড়ে দেওয়ার পাত্রি নয় ঠিক শুরু করে দিতো ঝগড়া।।কিন্তু আজ কিছুই বললো না।।
খেতে বসলাম বাবাও এসে বসলো সাথে।। বাবাকে ঠিক আমি বুঝতে পারি না কখনো মাঝে মাঝে আমাদের সাথে একদম মিশে যায় যেন বন্ধু৷। কি যে মজার মজার কথা বলে আমি ভাবি ইসস আমিও এভাবে কথা বলতে পারি না কেনো?আবার মাঝে মাঝে একদম চুপ চাপ কিছু বলতে গেলেই ঝাড়ি খেতে হয়।।
বাবা বললেন রাসেলের সাথে কথা হয়েছে?
-হ্যা বাবা আমাকে কমলাপুর স্টেশন থেকে পিক করবে বলছে।।
-ওদের ওখানে ২ মাস থাক তার পর হলে সিট পেলে উঠে যাস।।ওদের ও নতুন সংসার বেশি ঝামেলা করিস না নিজের কাজ নিজে করবি।।এখন আর ছোট নেই বড় হয়ে গেছিস।।
-হ্যা বাবা সমস্যা নেই আমি নিজে নিজে সব করে নিতে পারবো।।
-ট্রেন কখন?
-এইতো ৯.৩০ এ।। সব গোছানো আছে খেয়ে বের হবো এখন।।
-ওখানে আজে বাজে ছেলেদের সাথে বেশি মিশবি না।। নতুন যায়গা মানিয়ে নিতে সময় লাগবে।।কিন্তু যা করবি একটু বুঝে শুনে।।
-তুমি চিন্তা করিও না বাবা আমি সব ম্যানেজ করে নিতে পারবো।।
মা এসে বললো থাক আর এত জ্ঞান দিতে হবে না আমার রিক্ত সব বোঝে।।বলে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।।
ট্রেন ছাড়ার হুইসেল দিয়ে দিয়েছে।।মা আমাকে জড়িয়ে ধরে কাদছেন যেন আমি বিদেশে চলে যাচ্ছি।।আমি একটু বিব্রত হয়ে আসে পাশে তাকাচ্ছি।।
-আহ মা বিদেশে যাচ্ছি না তো।।কেদো না তো সবাই কিভাবে দেখছে আমাদের।।
-দেখুক।।ওদের ছেলে যাচ্ছে না আমার ছেলে যাচ্ছে কখনো একা থাকেনি ছেলেটা আমার।।
বাবা বললেন আচ্ছা এবার ছাড়ো ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে।।
পাখির চোখেও পানি আসবো আসবো করছে হয়তো অনেক কষ্টে আটকে রেখেছে।।আমি ওর মাথায় চাটি মেরে বললাম বাবা মা কে দেখে রাখিস।।বেশি দুষ্টামি করিস না আর পড়াশোনা করবি ভালোমত ফাকিবাজি করিস না।।
পাখি আর পারলো না আমাকে জড়িয়ে ধরে ফুফিয়ে কেদে উঠলো।।
বাবা বললো কি শুরু করলি তোরা ট্রেন টা মিস করবি নাকি?
ট্রেনে উঠলাম।।ধিরে ধিরে পিছনে ফেলে গেলাম চিরচেনা স্টেশন।। আপনজন।।
বাবা কেবিন বুক করে দিয়েছে।।৩ সিটের কেবিন।। এখনো ফাকা কেউ ওঠেনি।।হয়তো আসবে না নাকি বুক হয়নি কে জানে।।আমি আরাম করে বসে পড়লাম নিজের সিটে।।
ট্রেন জার্নি আমার বেশ ভালো লাগে।।প্রকৃতি দেখতে দেখতে যাওয়া যায়।।
আরিশাকে ম্যাসেজ করলাম ট্রেন ছাড়লো।।রিপ্লে এলো সাথে সাথেই হয়তো আমার ম্যাসেজের অপেক্ষাই করছিলো।।
-সাবধানে যেও।।পাশের ছিটে কোনো মেয়ে নেই তো?
-আরেহ না কিযে বলো।।ফাকা পুরোটাই বুক হয়নি হয়তো বাকি দুটো সিট।।
-ওখানে সাবধানে থাকবো মেয়েদের সাথে বেশি মেশার দরকার নেই।।
-কি সব বলো?তুমি জানো না আমি কেমন?
-হুম তোমাকে তো জানি কিন্তু শহরের মেয়েদের উপর ভরসা নেই একটুও।।তার উপর তুমি এত্ত হ্যান্ডসাম আর এত্ত সুন্দর গান গাও সব মেয়েরা তো পিছে লেগে থাকবে।।
-বলছে তোমাকে।।
-হুম বলছে তো।।
-তুমি রাজশাহী কবে যাচ্ছো?
-পরের সপ্তাহে।।
-মিস করবো তোমাকে।।
-মিস ইউ ঠু রিক্তু বেবি।।আচ্ছা থাকো মা ডাকে পরে কথা বলছি।।
-ওকে বাই লাভিউ।।
রাসেল ভাই কে ম্যাসেজ করে রাখলাম ভাই ট্রেন ছাড়লো।।কানে হেডফোন লাগিয়ে ওয়ারফেজ এর গান ছাড়লাম আর ফেসবুক স্ক্রলিং করছিলাম।।ট্রেন কখন পরের স্টেশনে এসে দাড়িয়েছে খেয়াল করিনি।।
টের পেলাম একটা মেয়ের ডাকে।।
ফাস্ট নজরে মনে হলো হয়তো কোনো মডেল শুটিং এ যাচ্ছে।।পরনে জিন্স টিশার্ট গলায় ঝোলানো হেডফোন চোখে সান গ্লাস।।কাধে গিটার হাতে ব্যাগ।।কিছুক্ষনের জন্য ভুলে গেলাম সব কিছু।।সম্মতি ফিরলো তার ডাকে।।
এক্সকিউজমিইই...
-জি আমাকে বলছেন?
-আপ্নি ছাড়া আর কেউ আছে এখানে?
-আমি একটু ইতস্তত করে বললাম না নেই।।জি বলুন কি বলছেন?
-এটা কি আপনার সিট?
-আমি পকেট থেকে টিকিট বের করে একবার চেক করে নিয়ে বললাম জি।।
-ওহ পাশের দুটো আমাদের।।একটু হেল্প করুন তো ব্যাগ দুটো রাখতে।।
আমি এগিয়ে এলাম মেয়েটা ভিতরে ঢুকলো আমি ব্যাগ তুলতে গিয়ে ধাক্কা খেলাম।।
আমি মাথা তুলে তাকিয়ে আবারো বিষম খেলাম আগের জন মডেল হলে এ যেন নাইকা।।পরনে থ্রিপিচ চোখে চশমা চেহারায় একটা অন্য রকম মাধুর্য ৯০ দশকের নাইকা দের মত।।
পিছন থেকে মেয়েটা বললো মৌ ঠিক আছিস তুই?তারপর আমাকে উদ্দ্যেশ্য করে বললো ভাই একটু দেখে চলবেন না আমার বান্ধবিকে তো মেরেই ফেলতেন এখুনি।।
-না মানে আমি খেয়াল করিনি।।
-খেয়াল কেনো করবেন না?চোখ দুটো কি কাজে ইউজ করেন?
-মৌ নামের মেয়েটা বিব্রত হয়ে বললো আহহ মাহি থামতো ওনাকে বকছিস কেনো ভুল তো আমার ছিলো।।
মাহি নামের মেয়েটা কিঞ্চিত রাগ দেখিয়ে বললো ভিতরে আয় তো তুই বুঝবি না এসব।।
মৌ নামের মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে বললো আপনি কিছু মনে করবেন না ভাইয়া ও আসলে একটু এমন ই বেশি কথা বলে।।
-আরেহ না সমস্যা নেই।।
ব্যাগ রেখে নিজের সিটে বসতে গিয়ে দেখি ওখানে মাহি নামের মেয়েটা বসে আছে আরেক পাশে মৌ নামের মেয়েটা।।মাঝের টা ফাকা।।আমি বললাম এক্সকিউজ মি জানালার পাশের সিট টা আমার।।
মাহি:তাতে কি?অই দিকে বসুন তো আমি জানালা ছাড়া বসতে পারি না।।
মৌ:উফফ মাহি এদিকে আয়তো।।
মাহি: তুই এদিকে আয় আর নাহলে চুপ করে বসে থাক ওখানে।।
আমি বললাম আচ্ছা সমস্যা নেই আপনি মাঝে আসুন আমি এদিকে বসছি।।
মৌ:পাশে সরে যেতে যেতে বললো আপনি কিছু মনে করবেন না প্লিজ।।
আরেহ না সমস্যা নেই।।
বেশ কিছুটা সময় নিরবতায় গেলো আমি বসে বসে ফেসবুক স্ক্রলিং করছি আর গান শুনছিলাম।। এক ঘেয়েমি লেগে গেছে প্রকৃতি ও দেখতে পাচ্ছি না প্রথমে মোহিত হলেও এখন মাহি নামের মেয়েটার উপর বিরক্তিই লাগছে।।আমি গেলাম হেল্প করতে সেখানে এরকম ব্যাবহার করার কোনো মানে হয়? উঠে ওয়াশ রুমে গেলাম।।
ফিরে এসে দেখি মাহি নামের মায়েটা গিটার হাতে নিয়েছে।।ধিরে ধিরে বাজাচ্ছে একটা গানের রিদম আরো একবার চলো ফিরে যাই।।
মনে হলো নতুন শিখছে এখনো বেশ কিছু যায়গায় ভুল করছে।।
মৌ নামের মেয়েটার ফোন বেজে উঠতে গিটারের বাজনা থেমে গেলো।।তার মা ফোন করেছে।।
মৌ:হ্যা মা এইতো যাচ্ছি না যমুনা আসেনি এখনো
ক্লাস তো রবিবার থেকে।।না হলে সিট পাইনি পরের মাসে পাবো।।হ্যা হ্যা মাহি সহ একসাথেই থাকবো মা টেনশন করিও না।।আচ্ছা ঠিক আছে।।
ফোন কাটার পর বললাম আচ্ছা আপ্নারা কি ঢাবির স্টুডেন্ট?
মাহি:তা জেনে আপনার কাজ কি শুনি?
মৌ :উফফ মাহি তুই এত রুড কেনো?ওর কথায় কিছু মনে করবেন না মুড অফ থাকলে ওর বিহেভ রুড হয়ে যায়।।এম্নিতে অনেক ফ্রেন্ডলি।।জি আমরা এবার ভর্তি হলাম ঢাবিতে।।আপনি?
:আমিও ঢাবিতে ভর্তি হলাম এবার।।ডিপার্টমেন্ট অফ ল
মাহি:আসলেই?বিলিভ হচ্ছে না।।
-কেনো?
মাহি:আমি তো জানি সুন্দর ছেলেরা অকর্মা হয়।।
মৌ:ছি মাহি।।সরি এগেইন ভাইয়া।।আমি ইংলিশ ডিপার্টমেন্ট এ আর মাহি মিউজিক এ।।আমরা কলেজ ফ্রেন্ড।।তাহলে তো আপ্নিও আমাদের ফ্রেন্ড ই হচ্ছেন।।
-হ্যা বলা চলে।।বাট আপনার বান্ধবি হয়তো ফ্রেন্ড ভাবতে নারাজ।।
মাহি বললো থ্যাংকিউ বোঝার জন্য।।বলে গিটার বাজানোতে মন দিলো।।
আমি নিচ থেকে আমার গিটার টা বের করলাম।।আর ওর সাথে বাজাতে শুরু করলাম।। এই প্রথম মেয়েটা একটু অবাক চোখে আমার দিকে তাকালো।।অবাক ভাবটা কেটে যাওয়ার আগেই গান শুরু করলাম আরো একবার চলো ফিরে যাই পাহাড়ের ওই বুকেতে দাড়াই।।
গান শেষ করতেই মৌ নামের মেয়েটা তালি দিলো।।বাহ আপনি তো অনেক সুন্দর গান করেন।।
-থ্যাংকিউ।।
মাহি মেয়েটা এতক্ষনে আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলো।।
হ্যালো আমি মাহি।।আমি এটা বিলিভ করি যে যারা মিউজিক ভালোবাসে তাদের বিলিভ করা যায়।।
আমি হাসলাম বললাম যাক এতক্ষনে তবু বিলিভ করা গেলো।।নাহলে তো আপনার কথা বার্তায় নিজেকে মেয়ে পাচার কারি মনে হচ্ছিলো এতক্ষন।।
দুজনে হেসে উঠলো।।
জীবনের প্রথম লং ট্রেন জার্নি বেশ স্মরণীয় হয়ে রইলো।।পুরোটা রাস্তা হাসাহাসি গান বাজনা করে বেশ ভালো সময় কাটলো মাহি আর মৌ এর সাথে।। বন্ধুত্ত ও হয়ে গেলো মাহি তুই করে বলা শুরু করলেও মৌ তুমিতেই থাকলো।।স্টেশনে নেমে দুজনকে বিদায় দিলাম বললাম রবিবার ভার্সিটিতে দেখা হচ্ছে।।
মাহি বললো গিটার নিয়ে আসবি কিন্তু।।
ওদের বিদায় দিয়ে রাসেল ভাই কে ফোন দিতে যাবো তখন রাসেল ভাই এসে সামনে দাড়ালো।।
রাসেল ভাই হাসি খুশি মানুষ।। চিল পার্সন যাকে বলে বুয়েট থেকে পাশ করে বের হলো এবার।।সব কাজিন দের মধ্যে আমার সাথে ভাই এর সব থেকে ভালো সম্পর্ক কারন আমি ভালো গান গাই গিটার বাজাই আর ভাই ড্রামস সে কারনে ভাই এর সাথে একটা ভালো বন্ডিং তৈরি হয়।।
ভাই আমাকে জড়িয়ে ধরে বললো।।
কিরে তুই দেখি আমার থেকেও ফাস্ট।। ঢাকায় না নামতেই পরি জুটায় ফেলছিস তাও আবার দুইটা।।
-আরেহ ভাই কি বলো।।ট্রেনেই দেখা ওরাও ঢাবিতে ভর্তি হইলো এবার তাই একটু ফ্রেন্ডশিপ।।
-আরেহ ব্যাডা আমারে বোঝাইতে হবে না আমি বুঝি সব।। মাল দুইডা কিন্তু কড়া।।দুই দিন পর ঠিক ই বাসায় নিয়া আসবি জানি সব।। এগ্লা সময় আমিও পার করছি।।প্যারানাই আমি আর তোর ভাবি কোনো ডিস্টার্ব দেবো না চিল করিস।।
রাসেল ভাই এর সাথে আমি যথেষ্ট ফ্রি ভাই বাসায় গেলে যখন আমার সাথে থাকতো তখন প্রায় শোনাতো কোন মেয়ের সাথে প্রেম করলো কোন মেয়েকে বাসায় নিয়ে গেলো।। আমি বললাম।।থাক ভাই তোমার মত এত বড় খেলোয়াড় হতে পারবো না।।ভাবি কি জানে তোমার এসব।।
-আরেহ পাগল এসব কি বউ কে জানায় নাকি কেউ?
-হুম দাড়াও আমি যাচ্ছি জানাইতে।।
-কিরে ভাই আমি তোর লাইন করে দিচ্ছি আর তুই আমার সংসার ভাংতে চাইস।।
-চলো চলো তোমার খবর আছে।।
সকাল বেলা পাখির ডাকে ঘুম ভাংলো।। পাখি আমার ছোট বোন তার একমাত্র কাজ আমার সাথে ঝগড়া করা কিভাবে আমাকে জালানো যাবে এটাই তার রোজ হোমওয়ার্ক থাকে।।আমার মাঝে মাঝে মাঝে মনে হয় পরিক্ষার খাতাতেও সে এসব ই লিখে আসে সেকারনে রেজাল্ট খানাও হয় সেরকম ই।।জন্মের পর সে সব সময় পাখির বাচ্চার মত কিচির মিচির করতে থাকতো তাই বাবা মা ভালোবেসে নাম রাখে পাখি।।সাধারণত দেখা যায় যেসব বাচ্চা বেশি চঞ্চল থাকে বড় হয়ে তারা শান্ত হয়ে যায়।।কিন্তু পাখির বেলা তা হয় নি বয়সের সাথে তার কিচির মিচির বেড়েই গেছে যেনো।।আমার সাথে তার বয়সের ব্যাবধান ২ বছরের তাই ছোট থেকেই তার সাথে আমার লেগেই থাকতো।। বাবা মা দুজনে জব করার কারনে আমাদের মারামারি করার যথেষ্ঠ সময় থাকতো।।ছোট বেলায় মারা মারি করে দুজনে পড়ে থাকতাম বয়স বাড়ার সাথে সাথে মারামারি কমে গেলেও একে অন্যের পিছনে লাগা একটুও কমে নি।।ছোট থেকেই মনে হতো আমাদের ভাই বোন একে অপরের চোখের বিষ যেন আলাদা থাকলেই বাচি।। কিন্তু যখন সত্যি আলাদা হবার সময় এলো তখন মনে হচ্ছে যা ভাবতাম তা মোটেই ঠিক না।।ঢাকা ভার্সিটিতে চান্স পেয়েছি কিছুদিন হলো।। চান্স পাবার পর পরিবারের সবাই অনেক খুশি পাখি খবর টা শুনেই বললো যাক বাবা এখন তো আপদ বিদায় হবে।।আমিও বলি সেজন্যই এত খুশি আমি তোর থেকে দূরে থাকবো তাই।।
কিন্তু যতই যাওয়ার সময় এগিয়ে আসলো ততই কেমন যেন বদলে যেতে লাগলো সব কিছু এভাবে বাবা মা কে ছেড়ে পাখিকে ছেড়ে একা একা একটা শহরে থাকবো ভাবতেই কেমন শূন্যতা লাগতে লাগলো।।
পাখি এখনো ডেকেই চলেছে কিরে ভাইয়া উঠবি না মা কখন থেকে ডাকছে।।
-হুম উঠছি মা অফিস যায় নি?
-মা বাবা কেউ অফিস যায় নি তুই চলে যাবি না আজকে ' তাই ছুটি নিয়েছে।।
-ছুটি নেওয়ার কি দরকার ছিলো।।আচ্ছা চল আমি যাচ্ছি।।
পাখিকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে মন ভীষিণ খারাপ।।খারাপ আমারো লাগছে কিন্তু সেটা বুঝতে দিলে সবার আরো বেশি মন খারাপ হবে তাই উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম হাসি মুখে নিচে নামলাম।।মা রান্না করছিলো আমাকে দেখে রান্না রেখে এগিয়ে এলো একটু কাজল মুছে ছোট্ট করে কপালে একটা টিপ এর মত দিয়ে দিলো।।
ইসস এত্ত সুন্দর ছেলেটা আমার বাইরে একা একা কিভাবে থাকবে।।কত মানুষের নজর লাগবে।।
মা সব সময় এভাবেই বলেন।।আমাদের দুই ভাই বোনকে সৃষ্টিকর্তা রুপ দিতে একটুও কার্পণ্য করেননি।।
মায়ের কথা শুনে পাখি বললো সে কি আর বাকি আছে?তোমার ছেলেকে যে কত মেয়ে অলরেডি নজর দিয়ে দিয়েছে।।আমি কলেজে প্রথম দিন যেতেই সব মেয়ে শুধু ভাইয়ার কথাই জিজ্ঞাসা করে সেকেন্ড ইয়ারের আপু গুলা।।
আমি পাখির মাথায় একটা চাটি মেরে বললাম চুপ করতো শুধু বাজে বকিস।।মাকে একটু সাহায্য করলেও তো পারিস।।
-সে মা দিলে তো।।চুলার কাছে গেলে নাকি চেহারা নষ্ট হয়ে যাবে তাই যেতে দিচ্ছে না।।
-তোর চেহারা নষ্ট হবে কিরে?চূলার মত চেহারা আরো বল সব কিছু নষ্ট করে ফেলবি তাই যেতে দিচ্ছে না।।
-যা তো খেতে বস।।
আগে হলে পাখি এভাবে ছেড়ে দেওয়ার পাত্রি নয় ঠিক শুরু করে দিতো ঝগড়া।।কিন্তু আজ কিছুই বললো না।।
খেতে বসলাম বাবাও এসে বসলো সাথে।। বাবাকে ঠিক আমি বুঝতে পারি না কখনো মাঝে মাঝে আমাদের সাথে একদম মিশে যায় যেন বন্ধু৷। কি যে মজার মজার কথা বলে আমি ভাবি ইসস আমিও এভাবে কথা বলতে পারি না কেনো?আবার মাঝে মাঝে একদম চুপ চাপ কিছু বলতে গেলেই ঝাড়ি খেতে হয়।।
বাবা বললেন রাসেলের সাথে কথা হয়েছে?
-হ্যা বাবা আমাকে কমলাপুর স্টেশন থেকে পিক করবে বলছে।।
-ওদের ওখানে ২ মাস থাক তার পর হলে সিট পেলে উঠে যাস।।ওদের ও নতুন সংসার বেশি ঝামেলা করিস না নিজের কাজ নিজে করবি।।এখন আর ছোট নেই বড় হয়ে গেছিস।।
-হ্যা বাবা সমস্যা নেই আমি নিজে নিজে সব করে নিতে পারবো।।
-ট্রেন কখন?
-এইতো ৯.৩০ এ।। সব গোছানো আছে খেয়ে বের হবো এখন।।
-ওখানে আজে বাজে ছেলেদের সাথে বেশি মিশবি না।। নতুন যায়গা মানিয়ে নিতে সময় লাগবে।।কিন্তু যা করবি একটু বুঝে শুনে।।
-তুমি চিন্তা করিও না বাবা আমি সব ম্যানেজ করে নিতে পারবো।।
মা এসে বললো থাক আর এত জ্ঞান দিতে হবে না আমার রিক্ত সব বোঝে।।বলে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।।
ট্রেন ছাড়ার হুইসেল দিয়ে দিয়েছে।।মা আমাকে জড়িয়ে ধরে কাদছেন যেন আমি বিদেশে চলে যাচ্ছি।।আমি একটু বিব্রত হয়ে আসে পাশে তাকাচ্ছি।।
-আহ মা বিদেশে যাচ্ছি না তো।।কেদো না তো সবাই কিভাবে দেখছে আমাদের।।
-দেখুক।।ওদের ছেলে যাচ্ছে না আমার ছেলে যাচ্ছে কখনো একা থাকেনি ছেলেটা আমার।।
বাবা বললেন আচ্ছা এবার ছাড়ো ট্রেন ছেড়ে দিয়েছে।।
পাখির চোখেও পানি আসবো আসবো করছে হয়তো অনেক কষ্টে আটকে রেখেছে।।আমি ওর মাথায় চাটি মেরে বললাম বাবা মা কে দেখে রাখিস।।বেশি দুষ্টামি করিস না আর পড়াশোনা করবি ভালোমত ফাকিবাজি করিস না।।
পাখি আর পারলো না আমাকে জড়িয়ে ধরে ফুফিয়ে কেদে উঠলো।।
বাবা বললো কি শুরু করলি তোরা ট্রেন টা মিস করবি নাকি?
ট্রেনে উঠলাম।।ধিরে ধিরে পিছনে ফেলে গেলাম চিরচেনা স্টেশন।। আপনজন।।
বাবা কেবিন বুক করে দিয়েছে।।৩ সিটের কেবিন।। এখনো ফাকা কেউ ওঠেনি।।হয়তো আসবে না নাকি বুক হয়নি কে জানে।।আমি আরাম করে বসে পড়লাম নিজের সিটে।।
ট্রেন জার্নি আমার বেশ ভালো লাগে।।প্রকৃতি দেখতে দেখতে যাওয়া যায়।।
আরিশাকে ম্যাসেজ করলাম ট্রেন ছাড়লো।।রিপ্লে এলো সাথে সাথেই হয়তো আমার ম্যাসেজের অপেক্ষাই করছিলো।।
-সাবধানে যেও।।পাশের ছিটে কোনো মেয়ে নেই তো?
-আরেহ না কিযে বলো।।ফাকা পুরোটাই বুক হয়নি হয়তো বাকি দুটো সিট।।
-ওখানে সাবধানে থাকবো মেয়েদের সাথে বেশি মেশার দরকার নেই।।
-কি সব বলো?তুমি জানো না আমি কেমন?
-হুম তোমাকে তো জানি কিন্তু শহরের মেয়েদের উপর ভরসা নেই একটুও।।তার উপর তুমি এত্ত হ্যান্ডসাম আর এত্ত সুন্দর গান গাও সব মেয়েরা তো পিছে লেগে থাকবে।।
-বলছে তোমাকে।।
-হুম বলছে তো।।
-তুমি রাজশাহী কবে যাচ্ছো?
-পরের সপ্তাহে।।
-মিস করবো তোমাকে।।
-মিস ইউ ঠু রিক্তু বেবি।।আচ্ছা থাকো মা ডাকে পরে কথা বলছি।।
-ওকে বাই লাভিউ।।
রাসেল ভাই কে ম্যাসেজ করে রাখলাম ভাই ট্রেন ছাড়লো।।কানে হেডফোন লাগিয়ে ওয়ারফেজ এর গান ছাড়লাম আর ফেসবুক স্ক্রলিং করছিলাম।।ট্রেন কখন পরের স্টেশনে এসে দাড়িয়েছে খেয়াল করিনি।।
টের পেলাম একটা মেয়ের ডাকে।।
ফাস্ট নজরে মনে হলো হয়তো কোনো মডেল শুটিং এ যাচ্ছে।।পরনে জিন্স টিশার্ট গলায় ঝোলানো হেডফোন চোখে সান গ্লাস।।কাধে গিটার হাতে ব্যাগ।।কিছুক্ষনের জন্য ভুলে গেলাম সব কিছু।।সম্মতি ফিরলো তার ডাকে।।
এক্সকিউজমিইই...
-জি আমাকে বলছেন?
-আপ্নি ছাড়া আর কেউ আছে এখানে?
-আমি একটু ইতস্তত করে বললাম না নেই।।জি বলুন কি বলছেন?
-এটা কি আপনার সিট?
-আমি পকেট থেকে টিকিট বের করে একবার চেক করে নিয়ে বললাম জি।।
-ওহ পাশের দুটো আমাদের।।একটু হেল্প করুন তো ব্যাগ দুটো রাখতে।।
আমি এগিয়ে এলাম মেয়েটা ভিতরে ঢুকলো আমি ব্যাগ তুলতে গিয়ে ধাক্কা খেলাম।।
আমি মাথা তুলে তাকিয়ে আবারো বিষম খেলাম আগের জন মডেল হলে এ যেন নাইকা।।পরনে থ্রিপিচ চোখে চশমা চেহারায় একটা অন্য রকম মাধুর্য ৯০ দশকের নাইকা দের মত।।
পিছন থেকে মেয়েটা বললো মৌ ঠিক আছিস তুই?তারপর আমাকে উদ্দ্যেশ্য করে বললো ভাই একটু দেখে চলবেন না আমার বান্ধবিকে তো মেরেই ফেলতেন এখুনি।।
-না মানে আমি খেয়াল করিনি।।
-খেয়াল কেনো করবেন না?চোখ দুটো কি কাজে ইউজ করেন?
-মৌ নামের মেয়েটা বিব্রত হয়ে বললো আহহ মাহি থামতো ওনাকে বকছিস কেনো ভুল তো আমার ছিলো।।
মাহি নামের মেয়েটা কিঞ্চিত রাগ দেখিয়ে বললো ভিতরে আয় তো তুই বুঝবি না এসব।।
মৌ নামের মেয়েটা আমার দিকে তাকিয়ে বললো আপনি কিছু মনে করবেন না ভাইয়া ও আসলে একটু এমন ই বেশি কথা বলে।।
-আরেহ না সমস্যা নেই।।
ব্যাগ রেখে নিজের সিটে বসতে গিয়ে দেখি ওখানে মাহি নামের মেয়েটা বসে আছে আরেক পাশে মৌ নামের মেয়েটা।।মাঝের টা ফাকা।।আমি বললাম এক্সকিউজ মি জানালার পাশের সিট টা আমার।।
মাহি:তাতে কি?অই দিকে বসুন তো আমি জানালা ছাড়া বসতে পারি না।।
মৌ:উফফ মাহি এদিকে আয়তো।।
মাহি: তুই এদিকে আয় আর নাহলে চুপ করে বসে থাক ওখানে।।
আমি বললাম আচ্ছা সমস্যা নেই আপনি মাঝে আসুন আমি এদিকে বসছি।।
মৌ:পাশে সরে যেতে যেতে বললো আপনি কিছু মনে করবেন না প্লিজ।।
আরেহ না সমস্যা নেই।।
বেশ কিছুটা সময় নিরবতায় গেলো আমি বসে বসে ফেসবুক স্ক্রলিং করছি আর গান শুনছিলাম।। এক ঘেয়েমি লেগে গেছে প্রকৃতি ও দেখতে পাচ্ছি না প্রথমে মোহিত হলেও এখন মাহি নামের মেয়েটার উপর বিরক্তিই লাগছে।।আমি গেলাম হেল্প করতে সেখানে এরকম ব্যাবহার করার কোনো মানে হয়? উঠে ওয়াশ রুমে গেলাম।।
ফিরে এসে দেখি মাহি নামের মায়েটা গিটার হাতে নিয়েছে।।ধিরে ধিরে বাজাচ্ছে একটা গানের রিদম আরো একবার চলো ফিরে যাই।।
মনে হলো নতুন শিখছে এখনো বেশ কিছু যায়গায় ভুল করছে।।
মৌ নামের মেয়েটার ফোন বেজে উঠতে গিটারের বাজনা থেমে গেলো।।তার মা ফোন করেছে।।
মৌ:হ্যা মা এইতো যাচ্ছি না যমুনা আসেনি এখনো
ক্লাস তো রবিবার থেকে।।না হলে সিট পাইনি পরের মাসে পাবো।।হ্যা হ্যা মাহি সহ একসাথেই থাকবো মা টেনশন করিও না।।আচ্ছা ঠিক আছে।।
ফোন কাটার পর বললাম আচ্ছা আপ্নারা কি ঢাবির স্টুডেন্ট?
মাহি:তা জেনে আপনার কাজ কি শুনি?
মৌ :উফফ মাহি তুই এত রুড কেনো?ওর কথায় কিছু মনে করবেন না মুড অফ থাকলে ওর বিহেভ রুড হয়ে যায়।।এম্নিতে অনেক ফ্রেন্ডলি।।জি আমরা এবার ভর্তি হলাম ঢাবিতে।।আপনি?
:আমিও ঢাবিতে ভর্তি হলাম এবার।।ডিপার্টমেন্ট অফ ল
মাহি:আসলেই?বিলিভ হচ্ছে না।।
-কেনো?
মাহি:আমি তো জানি সুন্দর ছেলেরা অকর্মা হয়।।
মৌ:ছি মাহি।।সরি এগেইন ভাইয়া।।আমি ইংলিশ ডিপার্টমেন্ট এ আর মাহি মিউজিক এ।।আমরা কলেজ ফ্রেন্ড।।তাহলে তো আপ্নিও আমাদের ফ্রেন্ড ই হচ্ছেন।।
-হ্যা বলা চলে।।বাট আপনার বান্ধবি হয়তো ফ্রেন্ড ভাবতে নারাজ।।
মাহি বললো থ্যাংকিউ বোঝার জন্য।।বলে গিটার বাজানোতে মন দিলো।।
আমি নিচ থেকে আমার গিটার টা বের করলাম।।আর ওর সাথে বাজাতে শুরু করলাম।। এই প্রথম মেয়েটা একটু অবাক চোখে আমার দিকে তাকালো।।অবাক ভাবটা কেটে যাওয়ার আগেই গান শুরু করলাম আরো একবার চলো ফিরে যাই পাহাড়ের ওই বুকেতে দাড়াই।।
গান শেষ করতেই মৌ নামের মেয়েটা তালি দিলো।।বাহ আপনি তো অনেক সুন্দর গান করেন।।
-থ্যাংকিউ।।
মাহি মেয়েটা এতক্ষনে আমার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলো।।
হ্যালো আমি মাহি।।আমি এটা বিলিভ করি যে যারা মিউজিক ভালোবাসে তাদের বিলিভ করা যায়।।
আমি হাসলাম বললাম যাক এতক্ষনে তবু বিলিভ করা গেলো।।নাহলে তো আপনার কথা বার্তায় নিজেকে মেয়ে পাচার কারি মনে হচ্ছিলো এতক্ষন।।
দুজনে হেসে উঠলো।।
জীবনের প্রথম লং ট্রেন জার্নি বেশ স্মরণীয় হয়ে রইলো।।পুরোটা রাস্তা হাসাহাসি গান বাজনা করে বেশ ভালো সময় কাটলো মাহি আর মৌ এর সাথে।। বন্ধুত্ত ও হয়ে গেলো মাহি তুই করে বলা শুরু করলেও মৌ তুমিতেই থাকলো।।স্টেশনে নেমে দুজনকে বিদায় দিলাম বললাম রবিবার ভার্সিটিতে দেখা হচ্ছে।।
মাহি বললো গিটার নিয়ে আসবি কিন্তু।।
ওদের বিদায় দিয়ে রাসেল ভাই কে ফোন দিতে যাবো তখন রাসেল ভাই এসে সামনে দাড়ালো।।
রাসেল ভাই হাসি খুশি মানুষ।। চিল পার্সন যাকে বলে বুয়েট থেকে পাশ করে বের হলো এবার।।সব কাজিন দের মধ্যে আমার সাথে ভাই এর সব থেকে ভালো সম্পর্ক কারন আমি ভালো গান গাই গিটার বাজাই আর ভাই ড্রামস সে কারনে ভাই এর সাথে একটা ভালো বন্ডিং তৈরি হয়।।
ভাই আমাকে জড়িয়ে ধরে বললো।।
কিরে তুই দেখি আমার থেকেও ফাস্ট।। ঢাকায় না নামতেই পরি জুটায় ফেলছিস তাও আবার দুইটা।।
-আরেহ ভাই কি বলো।।ট্রেনেই দেখা ওরাও ঢাবিতে ভর্তি হইলো এবার তাই একটু ফ্রেন্ডশিপ।।
-আরেহ ব্যাডা আমারে বোঝাইতে হবে না আমি বুঝি সব।। মাল দুইডা কিন্তু কড়া।।দুই দিন পর ঠিক ই বাসায় নিয়া আসবি জানি সব।। এগ্লা সময় আমিও পার করছি।।প্যারানাই আমি আর তোর ভাবি কোনো ডিস্টার্ব দেবো না চিল করিস।।
রাসেল ভাই এর সাথে আমি যথেষ্ট ফ্রি ভাই বাসায় গেলে যখন আমার সাথে থাকতো তখন প্রায় শোনাতো কোন মেয়ের সাথে প্রেম করলো কোন মেয়েকে বাসায় নিয়ে গেলো।। আমি বললাম।।থাক ভাই তোমার মত এত বড় খেলোয়াড় হতে পারবো না।।ভাবি কি জানে তোমার এসব।।
-আরেহ পাগল এসব কি বউ কে জানায় নাকি কেউ?
-হুম দাড়াও আমি যাচ্ছি জানাইতে।।
-কিরে ভাই আমি তোর লাইন করে দিচ্ছি আর তুই আমার সংসার ভাংতে চাইস।।
-চলো চলো তোমার খবর আছে।।


![[+]](https://xossipy.com/themes/sharepoint/collapse_collapsed.png)
