Yesterday, 10:19 AM
আশা করি সবাই ভালো আছেন। আজকের যে গল্প আমি শুরু করতে যাচ্ছি সেটা সম্পূর্ণ ভিন্ন স্বাদের একটা গল্প। অফিসে জয়েন করার সময় আমার সাথেই জয়েন করে রথীন চক্রবর্তী নামে একটা ছেলে। বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরদীঘির কাছে। যেখানে অন্য সবাই একে অপরের সাথে তুইটুকারী করত, গালিগালাজ চলত এই ছেলেটি আমাকে দাদা বলত, আপনি বলত। শুধু যে আমাকে বলত তা নয় সবাইকেই । আরও একটা জিনিস এই যুগেও এই ছেলেটা স্মার্ট ফোন ব্যবহার করত না, একটা সাধারণ কি প্যাড ফোন ব্যবহার করত। আমার মনে হতো ও কোথাও যেন নিজেকে খুব চেষ্টা করেও সবার সাথে মানিয়ে নিতে পারত না। কয়েকদিনের অফিসিয়াল ট্রেনিং শেষ করে আমাদের জেলায় পোস্টিং হলো। আমার পোস্টিং হলো মুর্শিদাবাদে। সাথে শ্রেয়া, অঙ্কন আর রাতুল। রথীন নামের ছেলেটার পোস্টিং হলো কোচবিহারে। সেদিন রাতে গোছানোর তোড়জোড় চলছে এমন সময় রথীন এসে আমাকে আড়ালে ডেকে নিল।
রথীন: সুমন বাবু একটা কথা বলব। আপনার তো মুর্শিদাবাদ জেলা। আমার একটা কাজ করে দেবেন?
আমি কিছুটা অবাক হয়েই বললাম হ্যাঁ বলো কি কাজ?
রথীন: আসলে আমি তো থাকব না। ওখানে একজন আছে...
এই টুকু বলেই ও থেমে গেল। যেন নিজেকে প্রস্তুত করছে কিছু একটা করার জন্য।
আমি বললাম, হ্যাঁ বলো কে আছে। কি করতে হবে?
রথীন ঢোক গিলে বলল, নাম ইসমত বেগম। সাগরদিঘীর কাছে একটা গ্রাম আছে, ধলসা নামে। ওখানে ইকবাল হোসেনের নাম সবাই জানে। তার বিবি... ওই ইসমত বেগম। উনার একটু খোঁজ খবর রাখবেন । যদি কোনোদিন সুযোগ হয় একটু কথা বলিয়ে দেবেন?
হঠাৎ করে রথীন কেঁদে ফেলে ছুটে চলে গেল সেখান থেকে। একদম ছুটে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার পেরিয়ে গেলেও তার দৌড়ানো থামলো না। আমি তার দৌড়ানো টা দেখছিলাম। তাতেও অনেক জড়তা। কে এই ইসমত বেগম।
এরপর পেরিয়ে গেছে প্রায় চার মাস। আমার সাগরদীঘি যাওয়ার সুযোগ হয় নি। আমার পোস্টিং হলো ডোমকলে। সাগরদীঘিতে আমাদের চার জনের কারোরই পোস্টিং হলো না। নতুন কাজ বুঝতে শুরু করার জন্য অন্য কোনো দিকে আর মন দিতে পারি নি। রথীন চক্রবর্তী যা বলেছিল সেগুলো প্রায় ভুলেই গেছিলাম। একদিন শ্রেয়া আর অঙ্কনের সাথে এই নিয়ে কথা হয়েছিল বটে, তবে শুধু ওই টুকুই। আমাদের পুলিশ ইন্সপেক্টর ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত একদিন আমাকে পাঠালেন বীরভূম জেলার একটা কাজে। যাওয়ার সময় কান্দি হয়ে গেলেও ফেরার সময় ওই রাস্তায় আসতে পারলাম না। আমাদের আমাদের নলহাটি হয়ে আসতে হলো। সেদিন সাগরদিঘির পাশ দিয়ে আসার সময় থেকেই আমার মাথায় ঘুরতে থাকলো রথীন । রথিনের কথা গুলো। খুব অস্বস্তি হচ্ছিল রথীন ছেলেটার জন্য।
পরের সপ্তাহে দুই দিনের একটা ছুটি পেলাম। ইন্দ্রনীল স্যার নিজেই বলেছিল দুদিন একটু ঘুরে আসতে। আমাকে নাকি খুব অস্থির আর ক্লান্ত লাগছিল। ছুটি পেতেই পৌঁছে গেলাম সাগরদিঘি। একটা হোটেল ভাড়া করলাম। সেখানে থেকে পৌঁছে গেলাম ধালসা। গ্রামে একটা লোককে ইকবাল হোসেনের নাম জিজ্ঞেস করলাম। সেই যেন ইকবাল হোসেনের বডিগার্ড। রীতিমত গম্ভীর ভাবে বলল, তার সাথে তোমার কি দরকার? তার গলার স্বর আর ব্যবহার দেখেই বুঝলাম সব কিছু ততটা স্বাভাবিক নয়।
আমি আমতা আমতা করে বললাম, আসলে উনি আমার কাকার কাছে কিছু টাকা পেতেন। আমার কাকার সাথে উনার ভালো বন্ধুত্ব ছিল। কাকা তার ডায়েরিতে লিখে মারা গেছেন। তাই সেই টাকা ফেরত দিতে এসেছি।
লোকটা এবার একগাল হেসে বললেন একটু দাঁড়াও ডাকছি।
লোকটা একটা ঘরে ঢুকে গেলো। তারপর একটা বয়স 20 এর ছেলের সঙ্গে বেরিয়ে এলো। ছেলেটার খালি গা। একটা লুঙ্গি পরে আছে। চুল চোখ মুখ কেমন যেন অগোছালো। বেশ পেশীবহুল। গায়ের রং শ্যামলা। গলায় একটা মোটা সোনার চেন। হাতে বালা। সিগারেট খেতে খেতে বলল, আব্বা নেই। আমি ইকবাল হোসেনের ছেলে মেহবুব। কি দরকার। তার গলার আওয়াজ শুনে আমার মনে হচ্ছে যেন আমি নেহাত শিশু।
আমি আবার একই কথা বলে এগিয়ে যেতে গেলাম। মেহবুব ছেলেটা বলল, ব্যাস আর এগোবে না হিরো। কামের সময় বাইরের লোক আলাউ করি না। যা বলার ওখান থেকেই।
আমি বুঝতে পারলাম নেহাত সামান্য ব্যাপার না। আমার মানিব্যাগে চারহাজার টাকা ছিল। বের করে ফেরত দিলাম। ছেলেটা টাকাটা হাতে নিয়ে কিছু না বলে ভেতরে ঢুকে গেল। আমি বড্ড অবাক হলাম। সেই লোকটিও পেছন পেছন ঢুকলো। আবার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বেরিয়ে এলো।
আমাকে বলল, বেশ আর এখানে থাকার দরকার নেই। অটো ডেকে দিচ্ছি। তারপর কোথায় থেকে একটা অটো কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই নিয়ে এসে আমাকে তুলে দিল। সেদিন অনেক চেষ্টা করেও আর কিছু করতে পারলাম না। গ্রামের মধ্যে অদ্ভুত নীরবতা। সব মিলিয়ে আমার মনে হতে লাগল রথীন চক্রবর্তী আমাকে এক অদ্ভুত রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার সাক্ষী করে যেতে চাই। সেদিন হোটেলে ফিরে ফোনে এই ঢালসা নামের জায়গাটার নাম দিয়ে সার্চ করলাম। দুটো খবর পেলাম। একটা 2016 সালের। নেহাত সামান্য কয়েকটা লাইন। রাস্তা পাকা করা নিয়ে আন্দোলন। তারই একটা ফেসবুক নিউজ। দ্বিতীয় টা আরও ছোট। 2013 সালের। গ্রামে সম্প্রীতির বার্তা। সেই নিয়ে সুশীল সমাজ একটি অনুষ্ঠান করেছে। তাতে ইকবাল হোসেন সভাপতি ইত্যাদি। এই ইকবাল হোসেনের নাম পেয়ে কিছুটা ভালো লাগছিল। লোকটা তবে ভালোই।
আরও কিছু পড়ার আগেই ফোনটা বেজে উঠল। ইন্দ্রনীল স্যার। ফোন করছে।
ইন্দ্রনীল স্যার: হোয়াই আর ইউ ইন সাগরদিঘী সুমন?
রথীন: সুমন বাবু একটা কথা বলব। আপনার তো মুর্শিদাবাদ জেলা। আমার একটা কাজ করে দেবেন?
আমি কিছুটা অবাক হয়েই বললাম হ্যাঁ বলো কি কাজ?
রথীন: আসলে আমি তো থাকব না। ওখানে একজন আছে...
এই টুকু বলেই ও থেমে গেল। যেন নিজেকে প্রস্তুত করছে কিছু একটা করার জন্য।
আমি বললাম, হ্যাঁ বলো কে আছে। কি করতে হবে?
রথীন ঢোক গিলে বলল, নাম ইসমত বেগম। সাগরদিঘীর কাছে একটা গ্রাম আছে, ধলসা নামে। ওখানে ইকবাল হোসেনের নাম সবাই জানে। তার বিবি... ওই ইসমত বেগম। উনার একটু খোঁজ খবর রাখবেন । যদি কোনোদিন সুযোগ হয় একটু কথা বলিয়ে দেবেন?
হঠাৎ করে রথীন কেঁদে ফেলে ছুটে চলে গেল সেখান থেকে। একদম ছুটে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার পেরিয়ে গেলেও তার দৌড়ানো থামলো না। আমি তার দৌড়ানো টা দেখছিলাম। তাতেও অনেক জড়তা। কে এই ইসমত বেগম।
এরপর পেরিয়ে গেছে প্রায় চার মাস। আমার সাগরদীঘি যাওয়ার সুযোগ হয় নি। আমার পোস্টিং হলো ডোমকলে। সাগরদীঘিতে আমাদের চার জনের কারোরই পোস্টিং হলো না। নতুন কাজ বুঝতে শুরু করার জন্য অন্য কোনো দিকে আর মন দিতে পারি নি। রথীন চক্রবর্তী যা বলেছিল সেগুলো প্রায় ভুলেই গেছিলাম। একদিন শ্রেয়া আর অঙ্কনের সাথে এই নিয়ে কথা হয়েছিল বটে, তবে শুধু ওই টুকুই। আমাদের পুলিশ ইন্সপেক্টর ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত একদিন আমাকে পাঠালেন বীরভূম জেলার একটা কাজে। যাওয়ার সময় কান্দি হয়ে গেলেও ফেরার সময় ওই রাস্তায় আসতে পারলাম না। আমাদের আমাদের নলহাটি হয়ে আসতে হলো। সেদিন সাগরদিঘির পাশ দিয়ে আসার সময় থেকেই আমার মাথায় ঘুরতে থাকলো রথীন । রথিনের কথা গুলো। খুব অস্বস্তি হচ্ছিল রথীন ছেলেটার জন্য।
পরের সপ্তাহে দুই দিনের একটা ছুটি পেলাম। ইন্দ্রনীল স্যার নিজেই বলেছিল দুদিন একটু ঘুরে আসতে। আমাকে নাকি খুব অস্থির আর ক্লান্ত লাগছিল। ছুটি পেতেই পৌঁছে গেলাম সাগরদিঘি। একটা হোটেল ভাড়া করলাম। সেখানে থেকে পৌঁছে গেলাম ধালসা। গ্রামে একটা লোককে ইকবাল হোসেনের নাম জিজ্ঞেস করলাম। সেই যেন ইকবাল হোসেনের বডিগার্ড। রীতিমত গম্ভীর ভাবে বলল, তার সাথে তোমার কি দরকার? তার গলার স্বর আর ব্যবহার দেখেই বুঝলাম সব কিছু ততটা স্বাভাবিক নয়।
আমি আমতা আমতা করে বললাম, আসলে উনি আমার কাকার কাছে কিছু টাকা পেতেন। আমার কাকার সাথে উনার ভালো বন্ধুত্ব ছিল। কাকা তার ডায়েরিতে লিখে মারা গেছেন। তাই সেই টাকা ফেরত দিতে এসেছি।
লোকটা এবার একগাল হেসে বললেন একটু দাঁড়াও ডাকছি।
লোকটা একটা ঘরে ঢুকে গেলো। তারপর একটা বয়স 20 এর ছেলের সঙ্গে বেরিয়ে এলো। ছেলেটার খালি গা। একটা লুঙ্গি পরে আছে। চুল চোখ মুখ কেমন যেন অগোছালো। বেশ পেশীবহুল। গায়ের রং শ্যামলা। গলায় একটা মোটা সোনার চেন। হাতে বালা। সিগারেট খেতে খেতে বলল, আব্বা নেই। আমি ইকবাল হোসেনের ছেলে মেহবুব। কি দরকার। তার গলার আওয়াজ শুনে আমার মনে হচ্ছে যেন আমি নেহাত শিশু।
আমি আবার একই কথা বলে এগিয়ে যেতে গেলাম। মেহবুব ছেলেটা বলল, ব্যাস আর এগোবে না হিরো। কামের সময় বাইরের লোক আলাউ করি না। যা বলার ওখান থেকেই।
আমি বুঝতে পারলাম নেহাত সামান্য ব্যাপার না। আমার মানিব্যাগে চারহাজার টাকা ছিল। বের করে ফেরত দিলাম। ছেলেটা টাকাটা হাতে নিয়ে কিছু না বলে ভেতরে ঢুকে গেল। আমি বড্ড অবাক হলাম। সেই লোকটিও পেছন পেছন ঢুকলো। আবার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই বেরিয়ে এলো।
আমাকে বলল, বেশ আর এখানে থাকার দরকার নেই। অটো ডেকে দিচ্ছি। তারপর কোথায় থেকে একটা অটো কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই নিয়ে এসে আমাকে তুলে দিল। সেদিন অনেক চেষ্টা করেও আর কিছু করতে পারলাম না। গ্রামের মধ্যে অদ্ভুত নীরবতা। সব মিলিয়ে আমার মনে হতে লাগল রথীন চক্রবর্তী আমাকে এক অদ্ভুত রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার সাক্ষী করে যেতে চাই। সেদিন হোটেলে ফিরে ফোনে এই ঢালসা নামের জায়গাটার নাম দিয়ে সার্চ করলাম। দুটো খবর পেলাম। একটা 2016 সালের। নেহাত সামান্য কয়েকটা লাইন। রাস্তা পাকা করা নিয়ে আন্দোলন। তারই একটা ফেসবুক নিউজ। দ্বিতীয় টা আরও ছোট। 2013 সালের। গ্রামে সম্প্রীতির বার্তা। সেই নিয়ে সুশীল সমাজ একটি অনুষ্ঠান করেছে। তাতে ইকবাল হোসেন সভাপতি ইত্যাদি। এই ইকবাল হোসেনের নাম পেয়ে কিছুটা ভালো লাগছিল। লোকটা তবে ভালোই।
আরও কিছু পড়ার আগেই ফোনটা বেজে উঠল। ইন্দ্রনীল স্যার। ফোন করছে।
ইন্দ্রনীল স্যার: হোয়াই আর ইউ ইন সাগরদিঘী সুমন?


![[+]](https://xossipy.com/themes/sharepoint/collapse_collapsed.png)