Thread Rating:
  • 74 Vote(s) - 2.95 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
কন্যাদান ও পিতৃঋণ
#15
পরবর্তী আপডেট।


রোগাই আছে. ছবিটা দেখার সঙ্গে সঙ্গে একটা টেলিফোন করে পরিতোষ বাবু. মেয়ের সাথে কথা বলার জন্য.. ফোনের ওপাশে মধুরিমায় থাকে. “হ্যা তোর চিঠিটা আজ পেলাম “বাবা পরিতোষ বলেন মেয়েকে. “তুই ভালো রেজাল্ট কিরেছিস দেখে আমি খুব খুশি “.মধুরিমা হাসতে থাকে আর বলে “এসব তোমাদের আশীর্বাদে র  ফল বাবা “.মেয়ের এমন কথা শুনে খুশি হন বাবা পরিতোষ. “হ্যা মা তুই আরও ভালো রেজাল্ট কর এটাই আশির্বাদ করি “.কিছু ক্ষণ চুপ থাকার পর পরিতোষ বাবু বললেন, “তবে মা তোর শরীর এতো খারাপ হয়ে গেছে কেনো, সেই রোগা হয়েই আছিস “.মেয়ে বলে “না বাবা আমি রোগা হয়নি আসলে সবাই বলছে আমি লম্বা হচ্ছি তাই এমন রোগা লাগছে “.মেয়ের কথা শুনে পরিতোষ বাবু আশ্বাস নেন. বলেন “খাওয়া দাওয়া ঠিক মতো করিস মা “.”হ্যা বাবা তুমিও শরীর এর যত্ন নিয়ো “মধুরিমা বলে ফোন টা রেখে দেয়. রাতের খাবার খেয়ে শুতে যাবার আগে বিছানায় বসে চশমা পরে মেয়ের ছবি টাকে ভালো করে দেখে. আর ছবির মধ্যেই মেয়ের গালে কপালে চুমু খেয়ে নেয়. কয়েক দিন পর পরিতোষ বাবু আবার একদিন নৃপেন বাবুকে দেখলেন একটি মহিলার সাথে তবে এই মহিলা আগের দুই মহিলার থেকে আলাদা অন্য কেউ. পরিতোষ বাবু এটা বুঝে উঠতে পারছেন না এরা কারা. মনে মনে ভাবেন জিজ্ঞাসা করবেন কিন্তু ভুলে যান. তাছাড়া অন্যের বিষয়ে নাক গোলাননা পরিতোষ বাবু. এই ভাবেই কয়েক মাস কেটে গেলো. মেয়ে মধুরিমার সাথে ফোনেই কথা হতে থাকে পরিতোষ বাবুর. একদিন পরিতোষ ব্যাংকে নিজের কাজ করছিলেন. পরিতোষ ব্যাংক ম্যানেজার তাই আলাদা রুম. হঠাত একটি বয়স আঠারোর যুবতী মেয়ে তার কেবিনের দরজা খুলে ভেতরে ঢোকে. পরিতোষ বাবু মেয়েটিকে দেখে থতমত খেয়ে যায়.”মধুরিমা”এখানে. পরক্ষনেই বুঝতে পারেন এ মেয়ে মধুরিমা নয়. আলাদা মেয়ে তবে অনেকটা তার মেয়ের মতোই দেখতে. “স্যার আমি নতুন একাউন্ট বানাতে এসেছি “.মেয়েটা পরিতোষ বাবুকে বলল. “হ্যা তুমি বাইরে একটা ফর্ম নিয়ে সেটা ফিলআপ করে, ওখানে জমা করে দিয়ো “.পরিতোষ বাবু বললেন. মেয়েটি আবার বলল “না মানে স্যার আমার ভ্যালিড আই ডি শুধু কলেজ আইডি আছে,আপনি যদি এটাকে অপ্প্রভ করে দেন তাহলে উপকৃত হবো “.পরিতোষ বাবু মেয়েটির আর্জি ফেলতে পারলেন না. ওনার মেয়েটাকে দেখে শুধু নিজের মেয়ের কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল. “আচ্ছা ঠিক আছে তোমার নাম কি? বলো আমি একটা এপ্লিকেশন করে দিচ্ছি “-পরিতোষ বাবু বললেন. “আজ্ঞে মধুমিতা সান্যাল “-মেয়েটি জবাব দেয়. আশ্চর্য !!কি নামের মিল তার মেয়ের সাথে. মধুরিমা মধুমিতা. যেন দুই কন্যা পরিতোষ বাবুর. যাইহোক কি সব আকাশ কুসুম ভাবছিলেন পরিতোষ বাবু. সেদিন ব্যাংক থেকে বাড়ি ফেরার সময় আবার নৃপেন বাবুর গাঁজা খুরি গল্প শুনতে শুনতে আসতে হয়েছিল তাকে. পরিতোষ বাবুর একবার ভাবলেন নৃপেন বাবুকে সেদিন গুলির কথা জিজ্ঞাসা করবেন কিন্তু পারলেন না. শুধু এটুকু জিজ্ঞাসা করলেন নৃপেন বাবুর বাড়িতে কে কে আছেন. নৃপেন বাবু জানান যে তার বাড়িতে শুধু তিনি আর তার স্ত্রী থাকেন. অর্থাৎ নৃপেন বাবু নিস্সন্তান. তবে কে  ওই মহিলা গুলো?পরিতোষ বাবুর আর বুঝতে অসুবিধা হলো না. যাইহোক কোনো লোকের বেপারে এতো আগে থেকে খারাপ চিন্তা ভাবনা করা উচিত হবে না. বাস থেকে নেমে বাড়ি চলেযান পরিতোষ বাবু. রাতে বসে বসে শুধু ভাবেন মধুরিমা মধুমিতা কত মিল দুজনের. যেন একই বাবা মায়ের সন্তান তারা. আর কোনো দিন দেখা হবে কি মধুমিতার সাথে. এভাবেই দিন পার হতে থাকে. পরিতোষ বাবু নিজের কাজ কর্ম মনোযোগ দিয়ে করতে থাকেন. মেয়েকে এখন উচ্চ শিক্ষা দেওয়াতে হবে এই তার চিন্তা ভাবনা .মাধ্যমিক পাশ করার পর বাবার উপদেশই বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা আরম্ভ করে দিয়েছে মধুরিমা. এখন প্রায় প্রতিদিন মেয়ের সাথে কথা হয় পরিতোষ বাবুর. মেয়ের সুমিষ্ট গলার আওয়াজ তাকে কেমন এক আলাদা অনুভূতি দেয় সেটা তিনি বুঝতে পারেন না. একদিন ব্যাংকে বসে তার যথেষ্ট জমা পুঁজি দেখা সোনা করছিলেন. এতো দিনের কর্মজীবনে যথেষ্ট সঞ্চয় করে নিয়েছেন পরিতোষ বাবু. এতেই মেয়ের উচ্চ শিক্ষা আর বিয়ে স্বচ্ছন্দ ভাবে হয়ে যাবে. বিয়ে !!!.মেয়ের বিয়ের কথাটা মাথায় আসতেই বুকটা কেঁপে পরিতোষ বাবুর. মনে মনে বলে উঠলেন না !!.তিনি মেয়ের সাথে যথেষ্ট সময় কাটাতে পারেন নি. আর মেয়ের বয়স কতই বা হয়েছে ওই ষোলো সতেরো. বিয়ে দিতে অনেক দেরি. দূরে থাকলেও মেয়েকে নিজের জীবন থেকে দূরে সরাতে চাননা পরিতোষ বাবু. মেয়েকে যে বড্ডো ভালোবাসেন তিনি. চোখের চশমা টা খুলে ফেলেন পরিতোষ বাবু এই সব সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে মাথা ধরে আসে তার. কেবিন থেকে বেরিয়ে এসে নৃপেন বাবুর কাছে যান কিছু ক্ষণ গসিপ করার জন্য. নৃপেন বাবু রসিক মানুষ তার কাছে গল্প করার টপিক এর অভাব হয়না. তবে বেশির ভাগ ওই ধরণের. প্রেম ভালোবাসা অবৈধ সম্পর্ক পরকীয়া ইত্যাদি. পরিতোষ বাবুর কাছে এগুলো অনেক সময় অসহ্য হয়ে দাঁড়ায়. মনে মনে ভাবেন এনার কাছে কি যৌনতাই সর্বপরি. সেদিন ব্যাংকে ছুটি হবার পর ভিড় বাসে তরুণী মেয়েদের গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে তাদের চুলের গন্ধ নিতে দেখেন পরিতোষ বাবু তাকে. এমনিতেই বেশ কয়েকবার পর মহিলার সাথে নৃপেন বাবু কে দেখে তার প্রতি যে সম্মান বোধ টুকু ছিলো সেটাও খোয়াতে চলেছেন তিনি. তবে হ্যা কারোর প্রতি তিনি কেমন মনোভাব রাখেন ভালো বা খারাপ সেটা পরিতোষ বাবু কাউকে জানান দেন না. সবার সাথেই যথেষ্ট ভালোভাবে মেশেন তিনি. সে হেতু নৃপেন বাবুর প্রতি সঠিক যে মনোভাব টা আছে সেটা তিনি একপ্রকার গোপন করেই রেখেছেন. পরিতোষ বাবু ব্যাংক ম্যানেজার হওয়া সত্ত্বেও ব্যাংকের গাড়িতে যাতায়াত খুব কম করেন. বাসেই বেশি সাচ্ছন্দ বোধ করেন. আর নৃপেন বাবুর মতো হরবোলা লোক সহযাত্রী থাকলে তো বলার কিছুই নেই. তা একদিন ব্যাংক থেকে বাড়ি ফেরার সময় যখন পরিতোষ বাবু বাসের জানালার ধারে বসে আনমনা হয়ে বাইরের দৃশ্য দেখছিলেন, হঠাৎ একটি মেয়ের গলার আওয়াজ শুনতে পেলেন. “কাকু একটু সরবেন প্লিজ “.মেয়েটির কথা সোনা মাত্রই তিনি আরও জানালা ঘেঁষে সরে এলেন. পরিতোষ বাবু তখনও মেয়েটির দিকে তাকান নি.”আরে স্যার আপনি !!!”মেয়েটি সজোরে বলে ওঠে পরিতোষ বাবুকে দেখে. তখন পরিতোষ বাবু মেয়েটির দিকে তাকান. মনে মনে ভাবেন আচ্ছা সেই মেয়েটি না. কি যেন নাম “মধুমিতা “.মেয়েটি তার দিকে তাকিয়ে হেঁসে বলে “এমা আমি আপনাকে কাকু বলে দিয়েছি সরি সরি... “ আপনি ব্যাংকের ম্যানেজার না “.পরিতোষ বাবু মেয়েটিকে হেঁসে উত্তর দেন, “না না ঠিক আছে তুমি আমার মেয়ের মতোই “, এতে কোনো অসুবিধা নেই “.অশেষ ধন্যবাদ আপনাকে, ব্যাংকের একাউন্ট টা খুলে দেওয়ার জন্য”.মধুমিতা পরিতোষ বাবুকে বলে. এভাবেই বেশ কয়েকবার মধুমিতার সাথে দেখা হয়ে যেত পরিতোষ বাবুর. তবে বেশির ভাগ ওই বাসের মধ্যেই মধ্যেই. যখনি পরিতোষ বাবু এই মেয়েটি অর্থাৎ মধুমিতাকে ভুলতে বসতো. হঠাৎ করে করে মধুমিতা পরিতোষ বাবুর কাছে আবিরভাব হয়ে যেত. যেন মেয়েটি এটা জানান দিতে চাই যে সে তার জীবনে কিছু উদ্দেশ্য নিয়ে এসেছে. বাসের মধ্যেই যেটুকু আলাপ হয়েছে তাতে মেয়েটির বিষয়ে অনেক কিছু জানতে পেরেছেন. মধুমিতা  তাদের ব্যাংক পেরিয়ে আরও এক কিলোমিটার দূরে স্থিত একটি প্রাইভেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্রী. বেশ মেধাবী. বাড়িতে মধুমিতা তার মা ও বাবার সাথে থাকে. মা গৃহিনী আর বাবা কলেজ শিক্ষক. পরিতোষ বাবুও মধুমিতাকে নিজের সম্বন্ধে অনেক কিছু বলেছেন. তার বাড়ি কোথায়, আপন বলতে কে কে আছেন ইত্যাদি.. পরিতোষ বাবু মধুমিতাকে এটাও জানান যে ওর মতো তারও একটি মেয়ে আছে. এটা শুনে মধুমিতার ও বেশ খুশি হয়. তবে হ্যা এই কয়দিনে মধুমিতার সাথে আলাপে পরিতোষ বাবু তাকে নিজের মেয়ের মতো মনে করতে শুরু করে দিয়েছে সেটা তিনি জানান নি. মধুমিতার প্রতি তার পিতৃ সুলভ স্নেহ ভালোবাসা তিনি তার মনেই দমন করে রেখেছেন. আসলে পরিতোষ বাবু বড্ডো চাপা স্বভাবের মানুষ.



[+] 2 users Like Jupiter10's post
Like Reply


Messages In This Thread
RE: কন্যাদান ও পিতৃঋণ - by Jupiter10 - 13-10-2019, 06:03 PM



Users browsing this thread: 1 Guest(s)