15-10-2026, 01:01 PM
শূন্য ঘরে দীর্ঘশ্বাস
ঢাকার ব্যস্ততম এলাকা মিরপুর এখানেই 30 বছর ধরে বাস করছি । ভাবতেই অবাক লাগে, মনে হয় এইতো সেদিন গ্রাম থেকে এলাম পড়ালেখার শুবাধে। তারপর আর ফেরা হলোনা নিজের শিকড়ে । কিভাবে এই শহর আমাকে আপন করে নিল। কখন এই শহুরে জীবনে অভ্যস্থ হয়ে পড়লাম ধীরে ধীরে বুঝতেই পারলাম না । এখন আমি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি এই শহরে । নিজের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যবসা , নিজের 3BHK ফ্ল্যাট নিজের গাড়ি, সব হয়েছে আমার আজ । সাথে ছোট্ট একটা সুখী সংসার । আমি, আমার স্ত্রী,
এবং আমাদের একমাত্র সন্তান। সবই আছে এখন আমার ।
ওহ সরি এতক্ষণ তো নিজের পরিচয়ই দেইনি আপনাদের।
আমি(কামাল হোসেন) : বয়স 46, উচ্চতা 5,9",গায়ের রং ফর্সা, সব সময় হাসিখুশি থাকতে পছন্দ করি।
আমার স্ত্রী(বিউটি খানম) : বয়স 38, উচ্চতা 5,3", গায়ের রং শ্যামলা, কিন্তু খুবই মায়াবী দেখতে, চোখের দিকে থাকলে যে কেউ আটকে যেতে পারে, বয়সের সাথে আরও ভরাট শরীর, দেখলে কেউ বলবে না তার একটা কলেজ পড়ুয়া ছেলে আছে ।
এবং আমার ছেলে(রনি হাসান): বয়স 16, উচ্চতা 5,7", গায়ের রং আমার থেকে ফর্সা, দেখতে কিছুটা বাবার মতো হয়েছে, বাড়ন্ত শরীর বডি গ্রোথ ভালো হওয়ার কারণে প্রায় আমার কাধ ছুঁয়ে ফেলেছে। চুপচাপ স্বভাবের কম কথা বলতে পছন্দ করে, সারাক্ষণ পড়ালেখা নিয়ে আর টিভির সামনে ক্রিকেট খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকে।
গল্পে ফেরা যাক। আমারি সারাদিন ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকি। দিন শেষে কিছু সময় পাই পরিবারের সাথে সময় কাটাতে। সংসারের সব আমার স্ত্রী সামলায়, সাথে ছেলের দিকে তার বিশ্বের নজর তার খাওয়া দাওয়া পড়ালেখা সব, কিন্তু ছেলে বড় হচ্ছে সব সময় নজর রাখা যায় না। এখন তো আরও না ছেলে কিছুদিন হলো মাধ্যমিক দিলো, এখন ফ্রি টাইম কাটাচ্ছে। আর খেলা ধুলা আর উচ্চমাধ্যমিকের প্রস্তুতি।
প্রতিদিনের তুলনায় আজকে একটু আগেই বাসায় ফিরলাম । দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কলিং বেল বাজালাম। ওপর প্রান্ত থেকে স্ত্রীর গলা শুনতে পেলাম "বাবু দেখতো কে এলো এই সময়" তার কিছু সময় পরেই দরজা খুললো আমাদের ছেলে। সামনে তাকাতেই দেখলাম প্রায় আমার কাধ ছুই ছুই ছেলের চেহারা কিশোর থেকে যুবক হচ্ছে। ঠোঁটের ওপর হালকা গোঁফের রেখা । বাসায় পড়া ট্রাউজার আর ওভার সাইজ টি-শার্ট পরনে।
বাসায় ঢুকতে ঢুকতে জিজ্ঞাসা করলাম।
আমিঃ কিরে কি করছিস।
ছেলে: খেলা দেখছি বাবা।
আমিঃ ওহ... তোর মা কোথায় ?
ছেলে: রান্না করছে...।
ছেলের কোথায় লিভিং রুমের সোফায় বসতে বসতে ঘাড় ঘুরিয়ে রান্না ঘরের দিকে তাকিয়ে দেখলাম স্ত্রী কোমরে আঁচল গুঁজে রান্নায় ব্যস্ত ।
দেখতে দেখতে অতীতের কথা মনে পড়ে গেলো ।এত সেদিন বাবা মায়ের পছন্দে বিয়ে করে তাকে ঘরে তুল্লাম, আর ভাবি তখন ছিল একটা গ্রামের সহজ সরল মেয়ে থেকে কিভাবে একটি সোফল গৃহিণী হয়ে উঠল বুঝতেই পারলাম না, নিজ হাতে স্বামী,সন্তান,সংসার সামলাচ্ছে। যেখানে শহরের অন্য নারীদের উচ্চবিলাসীতা থাকে সেখানে তার কোনো চাহিদা নেই, অন্য নারীদের মতো মডার্ন চলাফেরা তার পছন্দ না। সাধারণ ভাবে থাকে, একজন অভিজাত গৃহিণী যেভাবে পোশাক আশাক গহনা পরিধান করে সেও তাই করে। তার পরেও তার চলা ফেরায় আভিজাত্য ফুটে ওঠে । যেখানে সোসাইটিতে তার বান্ধবী ও অন্য গৃহিনীরা পার্টি,ক্লাব নিয়ে ব্যস্ত সেখানে আমার স্ত্রী নিজের সংসার সামলানো নিয়ে ব্যস্ত। এসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে ওঠাত ঘোর কাটলো স্ত্রীর ডাকে।
স্ত্রী: কিগো... ফ্রেশ হয়ে খেতো এসো, খবর দিচ্ছি টেবিলে, এই বাবু তুইও আয় খেতে অনেক খেলা দেখেছিস ।
বলেই স্ত্রী ব্যস্ত হয়ে টেবিলে খাবার সাজানোতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। আমিও রুমের চলে গেলাম ফ্রেশ হতে।
রাতে স্ত্রী সন্তানের সাথে খাওয়া দাওয়া করে ছেলে তার রুমে আর আমরা আমাদের রুমে শুতে চলে গেলাম ।
[আমাদের বেডরুম:]
আমি খাটে হেলান দিয়ে বসে অফিসের ফাইল দেখেছি, আমার স্ত্রী খাতের পাশে ড্রেসিং টেবিল এর সামনে বসে গুণ গুণ করে গান গাইছে আর চুল আঁচড়াচ্ছে। হঠাৎ স্ত্রী বলে উঠল।
স্ত্রী: রনির বাবা তোমাকে কিছু বলার আছে।
আমি ফাইল দেখতে দেখতেই বললাম ।
আমি: বলো শুনছি ।
স্ত্রী: রনি ইদানীং খুব মন মরা হয়ে থাকে, আর কেমন যেন সব কিছুতে উদাসীন,সামনে ওর ভর্তি পরীক্ষা ঠিক মত পড়তেও বসে না, ছুটির দিন চলছে অথচ বাইরেও যায় না খেলতে।
আমি: আরে....তেমন কিছু না হয়তো কলেজের বন্ধুদের মিস করছে তুমি ওসব নিয়ে চিন্তা করো নাতো।
স্ত্রী এবার চুল আঁচড়ানো বাদ দিয়ে আমার দিকে ঘুরে বসে বললো।
স্ত্রী: প্রথমে আমিও তাই ভাবছিলাম.....কিন্তু ও কি যেনো লুকোচ্ছে আমাদের থেকে আমার মনে হচ্ছে।
এভাবে চলতে থাকলে তো ও ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করবে না আর ভালো না করলে ভালো কলেজ এ চান্স পাবে কিভাবে ?
আমি কিছুটা চিন্তায় পড়ে গেলাম, স্ত্রী এবার বললো
স্ত্রী:তোমাদের বাপ ছেলেতে তো অনেক ভাব, তুমি রনির সাথে কথা বলে দেখো ও কিছু বলে কিনা?
আমি বললাম আচ্ছা আমি ওর সাথে কথা বলব পরে এক সময়। তুমি লাইট নিভিয়ে শুয়ে এসো।
তার পরে কেটে গেলো এক সপ্তাহ। স্ত্রী ওই রাতে বলা কথা বেমালুম ভুলে গেলাম কাজের চাপে ।
[লিভিং রুম:]
শুক্রবার ছুটির দিন এই একটা দিনই সপ্তাহে ফুরসত মিলে শব কিছু থেকে, বিকেল বেলা আরাম করতে লিভিং রুমে বসে খবরের কাগজ পড়ছি। স্ত্রী চা নিয়ে এসে সামনের টি টেবিলে রেখে পাশে বসলো। চিন্তিত শরে আমাকে শুধোলো ।
স্ত্রী: কিগো তোমাকে কি বলেছিলাম আমি ? কথা বলেছো রনির সাথে ?
আমি প্রথমে বুঝতে না পারলেও পরে মনে পড়লো
স্ত্রী কোন কথা বলছে। মাঝে একবার আমার মনে পড়েছিল পরে আমি ভেবেছিলাম যেহেতু এটা নিয়ে আর কোনো কথা বলেনি তাহলে ছেলে ঠিক হয়ে গেছে তাই ছেলের মাকে বললাম ।
আমি: না আমি ভাবলাম ঠিক হয়ে গেছে তাই আমি আর কথা বলিনি ।
স্ত্রী তখন কপট রাগ দেখিয়ে আমাকে বললো।
স্ত্রী: তোমার সব কিছুতেই খামখেয়ালি....সংসারের কোন কথা টা তুমি গুরুত্ব দাও শুনি ?
আমি তখন ছেলের মাকে শান্ত করার জন্য বললাম।
আমি: আরে বাবা রেগে যাচ্ছ কেন? তুমিই তো সব কিছু দেখো তাই আমি মাথা ঘামাই না, তুমি থাকতে আমার কি কোনো চিন্তা আছে ?
স্ত্রী তখন রাগ কমিয়ে বোঝানোর ভঙ্গিতে বললো।
স্ত্রী: দেখো ছেলে বড় হচ্ছে, ওর শারীরিক বিকাশ এর সাথে মানসিক বিকাশও হচ্ছে, আর তা ছাড়া আমার মনে হচ্ছে ও কিছু লুকাচ্ছে, ইদানীং ঠিক মত খায়ও না , আমি অনেক বার চেষ্টা করেছি জানার, ও এড়িয়ে যায়, তোমার সাথে তো বন্ধুর মত দেখো না তুমি কিছু বের করতে পারো কিনা...।
এই কোথায় আমি চিন্তা করতে লাগলাম। এর পর ছেলের মা আবার বললো।
স্ত্রী: ছেলেটা দিনদিন শুকিয়ে যাচ্ছে তুমি কি দেখতে পারছো না, এমিতেই ও একটু চাপা স্বভাবের তার ওপর যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে ওর স্বাস্থ্য পড়ালেখা সব নষ্ট হবে।
আমি এবার ভাবলাম সরাসরি ছেলের সাথেই কথা বলবো তাই ছেলের মাকে আশ্বস্থ করলাম আমি ছেলের কথা বলে জানার চেষ্টা করব ।
[ছেলের রুম:]
রাতের খাওয়া দাওয়া শেষে ছেলের মা চলে গেলো আমাদের শোবার ঘরে শোয়ার জন্য বিছানা ঠিক করতে এই ফাঁকে আমি এলাম ছেলের ঘরে। দরজায় দাঁড়িয়ে দেখি ছেলে শুয়ে শুয়ে ফোন এ গেমস খেলছে, তাই আমি নক করে বলি ।
আমিঃ কিরে আসব ?
ছেলে: কি..... বাবা তোমার কি অনুমতি নিতে হয় আমার ঘরে আসতে?
আমি মজার করে বললাম
আমিঃ ব্যাটা আমার বড় হচ্ছে... গার্লফ্রেন্ডের সাথেও তো কথা বলতে পারে. তার প্রাইভেসি আছে না ?
দেখলাম ছেলে লজ্জা পেয়ে গেছে, আমাকে বললো।
ছেলে: কি যে বলো না বাবা....আমার ওসব নেই।
আমি রসিকতা করে হাসতে হাসতে বললাম।
যেনো ছেলে আরও সহজ হয়, যাতে আমি সহজে সোজা কথা আসতে পারি।
আমিঃ কি বলিস ? কলেজ পেরিয়ে কলেজে উঠবি এখনও একটা গার্লফ্রেন্ড বানাতে পার্লি না ?
ছেলে: আমার ওসব ভালো লাগবে না ?
দেখলাম ছেলে কেমন উদাস ভাবে কথা বলছে তাই আমি সোজা প্রশ্ন করেই বসলাম।
আমিঃ আচ্ছা,, তোর কি হয়েছে বলতো বাবা আমাকে? তোর মা বলল তুই ইদানীং ঠিক মত পড়া লেখা করছিস না, বাহিরে খেলতে জাসনা, ঠিক মত খাচ্ছিসও না? এটা কি সত্যিই?
দেখলাম ছেলে কেমন ঘাবড়ে গেলো আর কিছু কাচুমাচু করছে ।
ছেলে: না বাবা তেমন কিছু না তোমার অযথাই চিন্তা করছো আমাকে নিয়ে!
বুঝলাম ছেলে কিছু লুকাচ্ছে আর তাই আমি তার পিঠে আমার একটা হাত রেখে অভয় দিয়ে বললাম।
আমিঃ রনি,,, দেখ বাবা আমার না বেস্টফ্রেন্ড? তাহলে আমার কাছে কেনো লুকোচ্ছিস? কারো সাথে কিছু হয়েছে ঝগড়া মারা মারি, নাকি তোর বারণ এখন বাড়ন্ত বয়স, এই বয়সে অনেক কিছুর সম্মুখীন হতে হয়। শরীরী কোনো সমস্যা হচ্ছে বল বাবাকে? নাহলে সমস্যার সমাধান হবে কি করে?
ছেলে কিছু টা চুপ হয়ে গেলো তারপর,তারপর মাথা নিচু করে ধিরশরে বললো।
ছেলে: বাবা আমার একটা সমস্যা হচ্ছে কিছুদিন ধরে ।
আমি: কি সমস্যা বল বাবাকে? ডাক্তার এর কাছে যাবি? এপয়েন্ট নেবো ডাক্তারের ?
আমি কিছুটা চিন্তিও সরে বললাম।
ছেলে: আসলে বাবা আমার কিছুদিন ধরে স্বপ্নদোস আছে না ঐটা হচ্ছে ,আমি জানতাম না এটাকে স্বপ্নধশ বলে ইন্টারনেট গেটে জানলাম ।আর ওখান টায় অনেক ব্যথা করে ।
আমার কাছে সব পরিষ্কার হয়ে গেলো ছেলে কেনো এমন করছে ? আমি তখন চিন্তায় পড়ে গেলাম কি করবো এখন । ছেলেকে শুধোলাম ।
আমিঃ তুই কি কোনো মেয়েকে...?
ছেলে আমাকে শেষ করতে দিলো না আতকে উঠে বলল।
ছেলে: না না বাবা কি বলছো ?আমি ওসব ভাবিনি কখনো, আর আমার কোনো মেয়ে বন্ধু ও নেই, এটা এমনিতেই হয়েছে ।
আমিঃ আচ্ছা তাহলে কালকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব তোকে রেডি হয়ে থাকিস ।
ছেলে: আচ্ছা থেকে আছে।
আমার চলে আসলাম আমাদের ঘরে
[আমাদের রুমে :]
ছেলের মাকে সব খুলে বললাম, শুনে ছেলের মা কান্না শুরু করে দিলো।
স্ত্রী: বলেছিলাম না? আমার ছেলের কিছু হয়েছে দেখলে? এর জন্যই আমার ছেলেটার এই অবস্থা, তুমি এখনই আমাদের পরিচিত ডাক্তার কে ফোন দাও ।
আমিও তাই করলাম আমাদের পরিচিত একজন ডাক্তার আছে "ডা.আসলাম" তাকে কল করলাম ফোন এ সব খুলে বললাম, উনি শোনার পরে আমাকে ফোনের ওপাশ থেকে বললো ।
ডাক্তার: কামাল ভাই আপনি ওকে আমার কাছে নিয়ে আসেন ওর কিছু টেস্ট করতে হবে।
যথারীতি আমরা ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে চলে আসলাম হাসপাতালে ছেলেকে নিয়ে, ছেলের মা আর আমি তো অনেক টেনশনে আছি, কারণ আমাদের একমাত্র ছেলে , তার যদি কিছু হয় তাহলে আমরা বাঁচবো কি নিয়ে।
হাসপাতালে যাওয়ার পরে ডাক্তার কিছু টেস্ট দিলো। ইউরিন,ব্লাড সহ আরও কিছু। কিছু সময় অপেক্ষা করে আমরা টেস্টের রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তারের চেম্বারে হাজির হলাম ।
[ডাক্তারের চেম্বার :]
ডাক্তার: কামাল ভাই আর বিউটি ভাবি আপনারা আমার অনেক আগের থেকে পরিচিত, আপনাদের যেকোনো সমস্যায় আমি আছি চিন্তা করবেন না ভয় পাবার কিছু নেই ।
ডাক্তার কিছুক্ষণ টেস্ট রিপোর্ট গুলো পর্যবেক্ষণ করে আমাদের দিকে তাকিয়ে বললো।
ডাক্তার;কামাল ভাই আপনি ভাবি কে নিয়ে একটু বাহিরে যান। ছেলের সাথে আমি আলাদা কথা বলতে চাই।
আমি বুঝলাম ডাক্তার ঠিক কাজ করছে। কারণ ছেলে হয়তো বা আমাদের সামনে লজ্জায় ঠিক মত নিজের সমস্যার কথা বলতে পারবে না আর তাই ছেলে মাকে নিয়ে বাহিরে এসে বেঞ্চে বসলাম আর চিন্তা করতে লাগলাম ভিতরে কি কথা হচ্ছে। কি এসেছে রিপোর্টে ? এসব ভাবতে ভাবতেই ছেলে বেরিয়ে আসলো আর আমাদের ডাক পড়লো চেম্বারের ভিতরে । আমরা 2 জন গিয়ে ডাক্তারের মুখোমুখি চেয়ারে বসলাম। ডাক্তারের মুখ কিছুটা চিন্তিত দেখালো । ডাক্তার বলতে শুরু করলো।
ডাক্তার: দেখেন ভাই এটা খুবই রেয়ার কেস, এরকম কেস আমি এর আগে পাইনি, মেডিকেল সায়েন্স থেকে যা জানি এটা অনেক জটিল চিকিৎসা ।
আমরা তো আতকে উঠলাম ছেলের মা রীতিমতো কান্না শুরু করে দিয়েছে।
স্ত্রী: কি হয়েছে আমার ছেলের ডাক্তার সাহেব বলেন আমাদের।
আমিঃ যত টাকা লাগে আমি খরচ করবি তবুও আমার ছেলে কে সারিয়ে তুলুন ডাক্তার সাহেব!!!
ডাক্তার তখন বললো ।
ডাক্তার: দেখেন কামাল ভাই সব কিছু টাকা দিয়ে হয় না, কিছু প্রসেস থাকে চিকিৎসা নেই আমি তো বলিনি আগে শুনুন কি হয়েছে আগেই এত উত্তেজিত হলে হবে? যেমন সমস্যা আছে তেমন সমাধান ও আছে তাই না ?
আমরা তখন শান্ত হয়ে বসলাম ডাক্তার কে বললাম
আমিঃ বলেন ডাক্তার সাহেব রনির কি হয়েছে?
ডাক্তার আবার বলতে শুরু করলো।
ডাক্তার: আপনার ছেলের যেটা হয়েছে সেটা খুবই বিরল সমস্যা যদি মেডিকেল সায়েন্সের ভাষায় বলি তাহলে বুঝবেন না তাই আপনাদের সহজ ভাবে বাংলায় বুঝাচ্ছি, আপনাদের ছেলের হরমোনের চাপ অনেক বেশি, তার অন্ডকোষ থেকে সাধারণের তুলনায় বেশি বীর্য উৎপাদন হচ্ছে আর তাই মাঝে মাঝে সেটা কন্ট্রোল না করতে পেরে বেরিয়ে আসছে যেটাকে আমরা স্বপ্ন ধস বলি। এখানে আরেক টা ব্যাপার হচ্ছে তার লিঙ্গো মানে পেনিস বয়সের তুলনায় একটু বেশি বড় যা এই বয়সের ছেলেদের হয় না, তাই হরমোনের চাপ সহ্য না হয়ে ব্যথা সৃষ্টি হয়।
আমি চিন্তিত শরে জিজ্ঞাসা করলাম ।
আমি: তাহলে এখন উপায় কি
ডাক্তার বললো ।
ডাক্তার: দেখেন আপনার ছেলের সাথে কথা কথা বলে যতটুকু বুঝতে পারলাম, সেক্স বা এসবের ব্যাপারে সে এখন জ্ঞান অর্জন করতে পারেনি আর এটাই স্বাভাবিক তারও বয়স কম একটা ষোলো পা রাখা নাবালক ছেলে সব কিছু জানবে এটার কোনো এমন নেই। এটার সমাধান হতো যদি সে সাবালক থাকত তাহলে বলতাম ওকে বিয়ে দিয়ে দিন, কারণ তার যে পরিমাণ বীর্য উৎপাদন হচ্ছে সে অর্থে তার রিলিজ করতে হবে আর সেটা সে পারে না!!! তাই সে সারাদিন উধাশ থাকে,কিছুতে মন বসে না ।
আমি হতাশ হয়ে বললাম ।
আমিঃ এখন আমি ওকে বিয়ে দিবো কিভাবে । আপনিই তো নিজে বললেন ও শব বোঝে না। আর তাছাড়া ও এখনও ছোট এখন বিয়ে করলে ওর পড়ালেখা ক্যারিয়ার শব শেষ হয়ে যাবে ডাক্তার সাহেব !
ডাক্তার:হতাশ হলে চলবে না কামাল ভাই, সন্তানের জীবনের থেকে আর কিছু নেই, তাছাড়া আজকের যুগে বিয়ে কোনো ব্যাপার না, বিয়ে না করেও তো মানুষ কত কিছু করছে, টাকা হলে অনেক কিছুই হয় । আপনি নাহয় এভাবেই একটা পার্টনার জোগাড় করুন ছেলের জন্য আপাতত পরের টা পরে দেখা যাবে,
আমিঃ কিন্তু এরকম বিশ্বস্ত মানুষ কোথায় পাবো আমরা।
কিছুটা চিন্তার শুরে বললাম আমি।
আপনি খোঁজ করুন এদিক দিয়ে দেখি আমিও পাই কিনা । খোঁজ হলে জানাবো আপনাকে আপনিও শেষটা করেন। ওকে আপাতত কিছু ওষুধ লিখে দিচ্ছি, ব্যথা কমানোর জন্য এগুলো খাওয়াবেন।
আরেকটা কথা আপনার ছেলের পেনিস এখন যা আছে শানমে আরও বাড়াতে পারে খেয়াল রাখবেন। আপাতত মাস্টারবেট করে রিলিজ কড়া ছাড়া কোনো গতি নেই, আর সেটা আপনার ছেলেকে বলেদিয়েছি আমি আর বুঝেই দিয়েছি না পারলে ইন্টারনেটের সাহায্য নিতে।
এর ডাক্তার আমাদের আবার সাবধান করলেন ছেলের সামনে সহজ থাকি যেনো সে বিব্রত না হয়। এটা একটা রোগ ছাড়া আর কিছুই না।
এরপর আমরা বাসায় চলে আসি আবার গোপনেও চলতে থাকলো আমাদের খোঁজ যেই এই দুর্দিনে আমাদের সাহায্য করবে কিন্তু পেলাম না এমন বিশ্বাস যজ্ঞ নারী। এভাবেই চলতে থাকলো কিছুদিন ছেলে ওষুধ খাচ্ছে, ছেলের মাও ছেলের দিকে বিশেষ নজর রাখছে । বিশেষ করে তার খবর দাবারে কিছুদিন পরের কথা ।রাতে বাসায় এসেছি স্ত্রী এসে ঘরে এসে বললো।
স্ত্রী: রনির বাবা শুনছো ছেলের আবার কিছু সমস্যা হয়েছে?
আমি চিন্তিত হয়ে উঠে বসলাম জিজ্ঞাসা করলাম
আমিঃ কি হয়েছে?
স্ত্রী: আমার কাছে বলতে চাচ্ছে না তুমি গিয়ে শোনো ?
চলবে.....
ঢাকার ব্যস্ততম এলাকা মিরপুর এখানেই 30 বছর ধরে বাস করছি । ভাবতেই অবাক লাগে, মনে হয় এইতো সেদিন গ্রাম থেকে এলাম পড়ালেখার শুবাধে। তারপর আর ফেরা হলোনা নিজের শিকড়ে । কিভাবে এই শহর আমাকে আপন করে নিল। কখন এই শহুরে জীবনে অভ্যস্থ হয়ে পড়লাম ধীরে ধীরে বুঝতেই পারলাম না । এখন আমি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি এই শহরে । নিজের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যবসা , নিজের 3BHK ফ্ল্যাট নিজের গাড়ি, সব হয়েছে আমার আজ । সাথে ছোট্ট একটা সুখী সংসার । আমি, আমার স্ত্রী,
এবং আমাদের একমাত্র সন্তান। সবই আছে এখন আমার ।
ওহ সরি এতক্ষণ তো নিজের পরিচয়ই দেইনি আপনাদের।
আমি(কামাল হোসেন) : বয়স 46, উচ্চতা 5,9",গায়ের রং ফর্সা, সব সময় হাসিখুশি থাকতে পছন্দ করি।
আমার স্ত্রী(বিউটি খানম) : বয়স 38, উচ্চতা 5,3", গায়ের রং শ্যামলা, কিন্তু খুবই মায়াবী দেখতে, চোখের দিকে থাকলে যে কেউ আটকে যেতে পারে, বয়সের সাথে আরও ভরাট শরীর, দেখলে কেউ বলবে না তার একটা কলেজ পড়ুয়া ছেলে আছে ।
এবং আমার ছেলে(রনি হাসান): বয়স 16, উচ্চতা 5,7", গায়ের রং আমার থেকে ফর্সা, দেখতে কিছুটা বাবার মতো হয়েছে, বাড়ন্ত শরীর বডি গ্রোথ ভালো হওয়ার কারণে প্রায় আমার কাধ ছুঁয়ে ফেলেছে। চুপচাপ স্বভাবের কম কথা বলতে পছন্দ করে, সারাক্ষণ পড়ালেখা নিয়ে আর টিভির সামনে ক্রিকেট খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকে।
গল্পে ফেরা যাক। আমারি সারাদিন ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকি। দিন শেষে কিছু সময় পাই পরিবারের সাথে সময় কাটাতে। সংসারের সব আমার স্ত্রী সামলায়, সাথে ছেলের দিকে তার বিশ্বের নজর তার খাওয়া দাওয়া পড়ালেখা সব, কিন্তু ছেলে বড় হচ্ছে সব সময় নজর রাখা যায় না। এখন তো আরও না ছেলে কিছুদিন হলো মাধ্যমিক দিলো, এখন ফ্রি টাইম কাটাচ্ছে। আর খেলা ধুলা আর উচ্চমাধ্যমিকের প্রস্তুতি।
প্রতিদিনের তুলনায় আজকে একটু আগেই বাসায় ফিরলাম । দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কলিং বেল বাজালাম। ওপর প্রান্ত থেকে স্ত্রীর গলা শুনতে পেলাম "বাবু দেখতো কে এলো এই সময়" তার কিছু সময় পরেই দরজা খুললো আমাদের ছেলে। সামনে তাকাতেই দেখলাম প্রায় আমার কাধ ছুই ছুই ছেলের চেহারা কিশোর থেকে যুবক হচ্ছে। ঠোঁটের ওপর হালকা গোঁফের রেখা । বাসায় পড়া ট্রাউজার আর ওভার সাইজ টি-শার্ট পরনে।
বাসায় ঢুকতে ঢুকতে জিজ্ঞাসা করলাম।
আমিঃ কিরে কি করছিস।
ছেলে: খেলা দেখছি বাবা।
আমিঃ ওহ... তোর মা কোথায় ?
ছেলে: রান্না করছে...।
ছেলের কোথায় লিভিং রুমের সোফায় বসতে বসতে ঘাড় ঘুরিয়ে রান্না ঘরের দিকে তাকিয়ে দেখলাম স্ত্রী কোমরে আঁচল গুঁজে রান্নায় ব্যস্ত ।
দেখতে দেখতে অতীতের কথা মনে পড়ে গেলো ।এত সেদিন বাবা মায়ের পছন্দে বিয়ে করে তাকে ঘরে তুল্লাম, আর ভাবি তখন ছিল একটা গ্রামের সহজ সরল মেয়ে থেকে কিভাবে একটি সোফল গৃহিণী হয়ে উঠল বুঝতেই পারলাম না, নিজ হাতে স্বামী,সন্তান,সংসার সামলাচ্ছে। যেখানে শহরের অন্য নারীদের উচ্চবিলাসীতা থাকে সেখানে তার কোনো চাহিদা নেই, অন্য নারীদের মতো মডার্ন চলাফেরা তার পছন্দ না। সাধারণ ভাবে থাকে, একজন অভিজাত গৃহিণী যেভাবে পোশাক আশাক গহনা পরিধান করে সেও তাই করে। তার পরেও তার চলা ফেরায় আভিজাত্য ফুটে ওঠে । যেখানে সোসাইটিতে তার বান্ধবী ও অন্য গৃহিনীরা পার্টি,ক্লাব নিয়ে ব্যস্ত সেখানে আমার স্ত্রী নিজের সংসার সামলানো নিয়ে ব্যস্ত। এসব নিয়ে ভাবতে ভাবতে ওঠাত ঘোর কাটলো স্ত্রীর ডাকে।
স্ত্রী: কিগো... ফ্রেশ হয়ে খেতো এসো, খবর দিচ্ছি টেবিলে, এই বাবু তুইও আয় খেতে অনেক খেলা দেখেছিস ।
বলেই স্ত্রী ব্যস্ত হয়ে টেবিলে খাবার সাজানোতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো। আমিও রুমের চলে গেলাম ফ্রেশ হতে।
রাতে স্ত্রী সন্তানের সাথে খাওয়া দাওয়া করে ছেলে তার রুমে আর আমরা আমাদের রুমে শুতে চলে গেলাম ।
[আমাদের বেডরুম:]
আমি খাটে হেলান দিয়ে বসে অফিসের ফাইল দেখেছি, আমার স্ত্রী খাতের পাশে ড্রেসিং টেবিল এর সামনে বসে গুণ গুণ করে গান গাইছে আর চুল আঁচড়াচ্ছে। হঠাৎ স্ত্রী বলে উঠল।
স্ত্রী: রনির বাবা তোমাকে কিছু বলার আছে।
আমি ফাইল দেখতে দেখতেই বললাম ।
আমি: বলো শুনছি ।
স্ত্রী: রনি ইদানীং খুব মন মরা হয়ে থাকে, আর কেমন যেন সব কিছুতে উদাসীন,সামনে ওর ভর্তি পরীক্ষা ঠিক মত পড়তেও বসে না, ছুটির দিন চলছে অথচ বাইরেও যায় না খেলতে।
আমি: আরে....তেমন কিছু না হয়তো কলেজের বন্ধুদের মিস করছে তুমি ওসব নিয়ে চিন্তা করো নাতো।
স্ত্রী এবার চুল আঁচড়ানো বাদ দিয়ে আমার দিকে ঘুরে বসে বললো।
স্ত্রী: প্রথমে আমিও তাই ভাবছিলাম.....কিন্তু ও কি যেনো লুকোচ্ছে আমাদের থেকে আমার মনে হচ্ছে।
এভাবে চলতে থাকলে তো ও ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করবে না আর ভালো না করলে ভালো কলেজ এ চান্স পাবে কিভাবে ?
আমি কিছুটা চিন্তায় পড়ে গেলাম, স্ত্রী এবার বললো
স্ত্রী:তোমাদের বাপ ছেলেতে তো অনেক ভাব, তুমি রনির সাথে কথা বলে দেখো ও কিছু বলে কিনা?
আমি বললাম আচ্ছা আমি ওর সাথে কথা বলব পরে এক সময়। তুমি লাইট নিভিয়ে শুয়ে এসো।
তার পরে কেটে গেলো এক সপ্তাহ। স্ত্রী ওই রাতে বলা কথা বেমালুম ভুলে গেলাম কাজের চাপে ।
[লিভিং রুম:]
শুক্রবার ছুটির দিন এই একটা দিনই সপ্তাহে ফুরসত মিলে শব কিছু থেকে, বিকেল বেলা আরাম করতে লিভিং রুমে বসে খবরের কাগজ পড়ছি। স্ত্রী চা নিয়ে এসে সামনের টি টেবিলে রেখে পাশে বসলো। চিন্তিত শরে আমাকে শুধোলো ।
স্ত্রী: কিগো তোমাকে কি বলেছিলাম আমি ? কথা বলেছো রনির সাথে ?
আমি প্রথমে বুঝতে না পারলেও পরে মনে পড়লো
স্ত্রী কোন কথা বলছে। মাঝে একবার আমার মনে পড়েছিল পরে আমি ভেবেছিলাম যেহেতু এটা নিয়ে আর কোনো কথা বলেনি তাহলে ছেলে ঠিক হয়ে গেছে তাই ছেলের মাকে বললাম ।
আমি: না আমি ভাবলাম ঠিক হয়ে গেছে তাই আমি আর কথা বলিনি ।
স্ত্রী তখন কপট রাগ দেখিয়ে আমাকে বললো।
স্ত্রী: তোমার সব কিছুতেই খামখেয়ালি....সংসারের কোন কথা টা তুমি গুরুত্ব দাও শুনি ?
আমি তখন ছেলের মাকে শান্ত করার জন্য বললাম।
আমি: আরে বাবা রেগে যাচ্ছ কেন? তুমিই তো সব কিছু দেখো তাই আমি মাথা ঘামাই না, তুমি থাকতে আমার কি কোনো চিন্তা আছে ?
স্ত্রী তখন রাগ কমিয়ে বোঝানোর ভঙ্গিতে বললো।
স্ত্রী: দেখো ছেলে বড় হচ্ছে, ওর শারীরিক বিকাশ এর সাথে মানসিক বিকাশও হচ্ছে, আর তা ছাড়া আমার মনে হচ্ছে ও কিছু লুকাচ্ছে, ইদানীং ঠিক মত খায়ও না , আমি অনেক বার চেষ্টা করেছি জানার, ও এড়িয়ে যায়, তোমার সাথে তো বন্ধুর মত দেখো না তুমি কিছু বের করতে পারো কিনা...।
এই কোথায় আমি চিন্তা করতে লাগলাম। এর পর ছেলের মা আবার বললো।
স্ত্রী: ছেলেটা দিনদিন শুকিয়ে যাচ্ছে তুমি কি দেখতে পারছো না, এমিতেই ও একটু চাপা স্বভাবের তার ওপর যদি এভাবে চলতে থাকে তাহলে ওর স্বাস্থ্য পড়ালেখা সব নষ্ট হবে।
আমি এবার ভাবলাম সরাসরি ছেলের সাথেই কথা বলবো তাই ছেলের মাকে আশ্বস্থ করলাম আমি ছেলের কথা বলে জানার চেষ্টা করব ।
[ছেলের রুম:]
রাতের খাওয়া দাওয়া শেষে ছেলের মা চলে গেলো আমাদের শোবার ঘরে শোয়ার জন্য বিছানা ঠিক করতে এই ফাঁকে আমি এলাম ছেলের ঘরে। দরজায় দাঁড়িয়ে দেখি ছেলে শুয়ে শুয়ে ফোন এ গেমস খেলছে, তাই আমি নক করে বলি ।
আমিঃ কিরে আসব ?
ছেলে: কি..... বাবা তোমার কি অনুমতি নিতে হয় আমার ঘরে আসতে?
আমি মজার করে বললাম
আমিঃ ব্যাটা আমার বড় হচ্ছে... গার্লফ্রেন্ডের সাথেও তো কথা বলতে পারে. তার প্রাইভেসি আছে না ?
দেখলাম ছেলে লজ্জা পেয়ে গেছে, আমাকে বললো।
ছেলে: কি যে বলো না বাবা....আমার ওসব নেই।
আমি রসিকতা করে হাসতে হাসতে বললাম।
যেনো ছেলে আরও সহজ হয়, যাতে আমি সহজে সোজা কথা আসতে পারি।
আমিঃ কি বলিস ? কলেজ পেরিয়ে কলেজে উঠবি এখনও একটা গার্লফ্রেন্ড বানাতে পার্লি না ?
ছেলে: আমার ওসব ভালো লাগবে না ?
দেখলাম ছেলে কেমন উদাস ভাবে কথা বলছে তাই আমি সোজা প্রশ্ন করেই বসলাম।
আমিঃ আচ্ছা,, তোর কি হয়েছে বলতো বাবা আমাকে? তোর মা বলল তুই ইদানীং ঠিক মত পড়া লেখা করছিস না, বাহিরে খেলতে জাসনা, ঠিক মত খাচ্ছিসও না? এটা কি সত্যিই?
দেখলাম ছেলে কেমন ঘাবড়ে গেলো আর কিছু কাচুমাচু করছে ।
ছেলে: না বাবা তেমন কিছু না তোমার অযথাই চিন্তা করছো আমাকে নিয়ে!
বুঝলাম ছেলে কিছু লুকাচ্ছে আর তাই আমি তার পিঠে আমার একটা হাত রেখে অভয় দিয়ে বললাম।
আমিঃ রনি,,, দেখ বাবা আমার না বেস্টফ্রেন্ড? তাহলে আমার কাছে কেনো লুকোচ্ছিস? কারো সাথে কিছু হয়েছে ঝগড়া মারা মারি, নাকি তোর বারণ এখন বাড়ন্ত বয়স, এই বয়সে অনেক কিছুর সম্মুখীন হতে হয়। শরীরী কোনো সমস্যা হচ্ছে বল বাবাকে? নাহলে সমস্যার সমাধান হবে কি করে?
ছেলে কিছু টা চুপ হয়ে গেলো তারপর,তারপর মাথা নিচু করে ধিরশরে বললো।
ছেলে: বাবা আমার একটা সমস্যা হচ্ছে কিছুদিন ধরে ।
আমি: কি সমস্যা বল বাবাকে? ডাক্তার এর কাছে যাবি? এপয়েন্ট নেবো ডাক্তারের ?
আমি কিছুটা চিন্তিও সরে বললাম।
ছেলে: আসলে বাবা আমার কিছুদিন ধরে স্বপ্নদোস আছে না ঐটা হচ্ছে ,আমি জানতাম না এটাকে স্বপ্নধশ বলে ইন্টারনেট গেটে জানলাম ।আর ওখান টায় অনেক ব্যথা করে ।
আমার কাছে সব পরিষ্কার হয়ে গেলো ছেলে কেনো এমন করছে ? আমি তখন চিন্তায় পড়ে গেলাম কি করবো এখন । ছেলেকে শুধোলাম ।
আমিঃ তুই কি কোনো মেয়েকে...?
ছেলে আমাকে শেষ করতে দিলো না আতকে উঠে বলল।
ছেলে: না না বাবা কি বলছো ?আমি ওসব ভাবিনি কখনো, আর আমার কোনো মেয়ে বন্ধু ও নেই, এটা এমনিতেই হয়েছে ।
আমিঃ আচ্ছা তাহলে কালকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাব তোকে রেডি হয়ে থাকিস ।
ছেলে: আচ্ছা থেকে আছে।
আমার চলে আসলাম আমাদের ঘরে
[আমাদের রুমে :]
ছেলের মাকে সব খুলে বললাম, শুনে ছেলের মা কান্না শুরু করে দিলো।
স্ত্রী: বলেছিলাম না? আমার ছেলের কিছু হয়েছে দেখলে? এর জন্যই আমার ছেলেটার এই অবস্থা, তুমি এখনই আমাদের পরিচিত ডাক্তার কে ফোন দাও ।
আমিও তাই করলাম আমাদের পরিচিত একজন ডাক্তার আছে "ডা.আসলাম" তাকে কল করলাম ফোন এ সব খুলে বললাম, উনি শোনার পরে আমাকে ফোনের ওপাশ থেকে বললো ।
ডাক্তার: কামাল ভাই আপনি ওকে আমার কাছে নিয়ে আসেন ওর কিছু টেস্ট করতে হবে।
যথারীতি আমরা ডাক্তারের এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে চলে আসলাম হাসপাতালে ছেলেকে নিয়ে, ছেলের মা আর আমি তো অনেক টেনশনে আছি, কারণ আমাদের একমাত্র ছেলে , তার যদি কিছু হয় তাহলে আমরা বাঁচবো কি নিয়ে।
হাসপাতালে যাওয়ার পরে ডাক্তার কিছু টেস্ট দিলো। ইউরিন,ব্লাড সহ আরও কিছু। কিছু সময় অপেক্ষা করে আমরা টেস্টের রিপোর্ট নিয়ে ডাক্তারের চেম্বারে হাজির হলাম ।
[ডাক্তারের চেম্বার :]
ডাক্তার: কামাল ভাই আর বিউটি ভাবি আপনারা আমার অনেক আগের থেকে পরিচিত, আপনাদের যেকোনো সমস্যায় আমি আছি চিন্তা করবেন না ভয় পাবার কিছু নেই ।
ডাক্তার কিছুক্ষণ টেস্ট রিপোর্ট গুলো পর্যবেক্ষণ করে আমাদের দিকে তাকিয়ে বললো।
ডাক্তার;কামাল ভাই আপনি ভাবি কে নিয়ে একটু বাহিরে যান। ছেলের সাথে আমি আলাদা কথা বলতে চাই।
আমি বুঝলাম ডাক্তার ঠিক কাজ করছে। কারণ ছেলে হয়তো বা আমাদের সামনে লজ্জায় ঠিক মত নিজের সমস্যার কথা বলতে পারবে না আর তাই ছেলে মাকে নিয়ে বাহিরে এসে বেঞ্চে বসলাম আর চিন্তা করতে লাগলাম ভিতরে কি কথা হচ্ছে। কি এসেছে রিপোর্টে ? এসব ভাবতে ভাবতেই ছেলে বেরিয়ে আসলো আর আমাদের ডাক পড়লো চেম্বারের ভিতরে । আমরা 2 জন গিয়ে ডাক্তারের মুখোমুখি চেয়ারে বসলাম। ডাক্তারের মুখ কিছুটা চিন্তিত দেখালো । ডাক্তার বলতে শুরু করলো।
ডাক্তার: দেখেন ভাই এটা খুবই রেয়ার কেস, এরকম কেস আমি এর আগে পাইনি, মেডিকেল সায়েন্স থেকে যা জানি এটা অনেক জটিল চিকিৎসা ।
আমরা তো আতকে উঠলাম ছেলের মা রীতিমতো কান্না শুরু করে দিয়েছে।
স্ত্রী: কি হয়েছে আমার ছেলের ডাক্তার সাহেব বলেন আমাদের।
আমিঃ যত টাকা লাগে আমি খরচ করবি তবুও আমার ছেলে কে সারিয়ে তুলুন ডাক্তার সাহেব!!!
ডাক্তার তখন বললো ।
ডাক্তার: দেখেন কামাল ভাই সব কিছু টাকা দিয়ে হয় না, কিছু প্রসেস থাকে চিকিৎসা নেই আমি তো বলিনি আগে শুনুন কি হয়েছে আগেই এত উত্তেজিত হলে হবে? যেমন সমস্যা আছে তেমন সমাধান ও আছে তাই না ?
আমরা তখন শান্ত হয়ে বসলাম ডাক্তার কে বললাম
আমিঃ বলেন ডাক্তার সাহেব রনির কি হয়েছে?
ডাক্তার আবার বলতে শুরু করলো।
ডাক্তার: আপনার ছেলের যেটা হয়েছে সেটা খুবই বিরল সমস্যা যদি মেডিকেল সায়েন্সের ভাষায় বলি তাহলে বুঝবেন না তাই আপনাদের সহজ ভাবে বাংলায় বুঝাচ্ছি, আপনাদের ছেলের হরমোনের চাপ অনেক বেশি, তার অন্ডকোষ থেকে সাধারণের তুলনায় বেশি বীর্য উৎপাদন হচ্ছে আর তাই মাঝে মাঝে সেটা কন্ট্রোল না করতে পেরে বেরিয়ে আসছে যেটাকে আমরা স্বপ্ন ধস বলি। এখানে আরেক টা ব্যাপার হচ্ছে তার লিঙ্গো মানে পেনিস বয়সের তুলনায় একটু বেশি বড় যা এই বয়সের ছেলেদের হয় না, তাই হরমোনের চাপ সহ্য না হয়ে ব্যথা সৃষ্টি হয়।
আমি চিন্তিত শরে জিজ্ঞাসা করলাম ।
আমি: তাহলে এখন উপায় কি
ডাক্তার বললো ।
ডাক্তার: দেখেন আপনার ছেলের সাথে কথা কথা বলে যতটুকু বুঝতে পারলাম, সেক্স বা এসবের ব্যাপারে সে এখন জ্ঞান অর্জন করতে পারেনি আর এটাই স্বাভাবিক তারও বয়স কম একটা ষোলো পা রাখা নাবালক ছেলে সব কিছু জানবে এটার কোনো এমন নেই। এটার সমাধান হতো যদি সে সাবালক থাকত তাহলে বলতাম ওকে বিয়ে দিয়ে দিন, কারণ তার যে পরিমাণ বীর্য উৎপাদন হচ্ছে সে অর্থে তার রিলিজ করতে হবে আর সেটা সে পারে না!!! তাই সে সারাদিন উধাশ থাকে,কিছুতে মন বসে না ।
আমি হতাশ হয়ে বললাম ।
আমিঃ এখন আমি ওকে বিয়ে দিবো কিভাবে । আপনিই তো নিজে বললেন ও শব বোঝে না। আর তাছাড়া ও এখনও ছোট এখন বিয়ে করলে ওর পড়ালেখা ক্যারিয়ার শব শেষ হয়ে যাবে ডাক্তার সাহেব !
ডাক্তার:হতাশ হলে চলবে না কামাল ভাই, সন্তানের জীবনের থেকে আর কিছু নেই, তাছাড়া আজকের যুগে বিয়ে কোনো ব্যাপার না, বিয়ে না করেও তো মানুষ কত কিছু করছে, টাকা হলে অনেক কিছুই হয় । আপনি নাহয় এভাবেই একটা পার্টনার জোগাড় করুন ছেলের জন্য আপাতত পরের টা পরে দেখা যাবে,
আমিঃ কিন্তু এরকম বিশ্বস্ত মানুষ কোথায় পাবো আমরা।
কিছুটা চিন্তার শুরে বললাম আমি।
আপনি খোঁজ করুন এদিক দিয়ে দেখি আমিও পাই কিনা । খোঁজ হলে জানাবো আপনাকে আপনিও শেষটা করেন। ওকে আপাতত কিছু ওষুধ লিখে দিচ্ছি, ব্যথা কমানোর জন্য এগুলো খাওয়াবেন।
আরেকটা কথা আপনার ছেলের পেনিস এখন যা আছে শানমে আরও বাড়াতে পারে খেয়াল রাখবেন। আপাতত মাস্টারবেট করে রিলিজ কড়া ছাড়া কোনো গতি নেই, আর সেটা আপনার ছেলেকে বলেদিয়েছি আমি আর বুঝেই দিয়েছি না পারলে ইন্টারনেটের সাহায্য নিতে।
এর ডাক্তার আমাদের আবার সাবধান করলেন ছেলের সামনে সহজ থাকি যেনো সে বিব্রত না হয়। এটা একটা রোগ ছাড়া আর কিছুই না।
এরপর আমরা বাসায় চলে আসি আবার গোপনেও চলতে থাকলো আমাদের খোঁজ যেই এই দুর্দিনে আমাদের সাহায্য করবে কিন্তু পেলাম না এমন বিশ্বাস যজ্ঞ নারী। এভাবেই চলতে থাকলো কিছুদিন ছেলে ওষুধ খাচ্ছে, ছেলের মাও ছেলের দিকে বিশেষ নজর রাখছে । বিশেষ করে তার খবর দাবারে কিছুদিন পরের কথা ।রাতে বাসায় এসেছি স্ত্রী এসে ঘরে এসে বললো।
স্ত্রী: রনির বাবা শুনছো ছেলের আবার কিছু সমস্যা হয়েছে?
আমি চিন্তিত হয়ে উঠে বসলাম জিজ্ঞাসা করলাম
আমিঃ কি হয়েছে?
স্ত্রী: আমার কাছে বলতে চাচ্ছে না তুমি গিয়ে শোনো ?
চলবে.....
Ex_Professor
Let's make a happy moment.
Let's make a happy moment.


![[+]](https://xossipy.com/themes/sharepoint/collapse_collapsed.png)