15-10-2026, 01:15 AM
পরীক্ষা যত এগিয়ে আসছিল, ক্যাম্পাসের চেনা পরিবেশটাও যেন ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছিল। আড্ডার জায়গাগুলোতে লোকজনের ভিড় থাকলেও কথাবার্তার বেশির ভাগটাই ঘুরেফিরে এসে ঠেকছিল সিলেবাস, সাজেশন আর পরীক্ষার প্রস্তুতিতে। কেউ লাইব্রেরিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকছে, কেউ আবার বন্ধুদের কাছ থেকে নোট সংগ্রহ করতে ব্যস্ত।
আমিও নিজেকে পড়াশোনার মধ্যে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করছিলাম। তবে মনের ভেতর নানা চিন্তা থাকলেও সেগুলো নিয়ে আপাতত কারও সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছে ছিল না।
সেদিন সকালে মিলির মেসেজ এল।
— কী রে, আজকে ক্যাম্পাসে আসবি?
আমি লিখলাম,
— হ্যাঁ, কেন?
— একটু আগে আসিস। একটা চ্যাপ্টার কিছুতেই বুঝতে পারছি না। হোস্টেলে বসে মাথা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
মিলি এখন পরীক্ষার জন্য হোস্টেলে থাকছে। আগে প্রায়ই দেখা হয়ে যেত, কিন্তু হোস্টেলে ওঠার পর থেকে দেখা করতে হলে আলাদা করে সময় বের করতে হয়।
আমি লিখলাম,
— ঠিক আছে। তুই পড়ার বই খুলে রাখিস, আমি এসে দেখি।
কিছুক্ষণ পর ওর উত্তর এল,
— বাহ! আজকাল তোকে দিয়ে কাজ আদায় করা যাচ্ছে দেখছি!
মেসেজটা পড়ে হেসে ফেললাম।
— বেশি কথা বলিস না। যে চ্যাপ্টার বুঝিস না, সেটা নিয়েই বসে থাকিস।
— আচ্ছা স্যার, আপনার অপেক্ষায় রইলাম।
মিলির সঙ্গে কথা বললে একটা ব্যাপার লক্ষ করতাম—ও খুব সহজেই পরিবেশটা হালকা করে দিতে পারে।
অন্যরা যেখানে একটা সাধারণ কথার মধ্যেও অস্বস্তি খুঁজে পায়, মিলি সেখানে অনায়াসে মজা করার মতো কিছু খুঁজে নেয়।
দুপুরের দিকে ওর হোস্টেলে গেলাম। পড়ার ঘরে ঢুকতেই দেখলাম, টেবিলের ওপর বইখাতা ছড়ানো। মিলি একটা খাতা খুলে বসে আছে, কিন্তু মুখ দেখে মনে হলো পড়াশোনার চেয়ে বিরক্তির সঙ্গেই তার লড়াই বেশি চলছে।
আমাকে দেখে বলল,
— এই যে, অবশেষে মহামান্য হাজির হয়েছেন!
আমি চেয়ার টেনে বসতে বসতে বললাম,
— তোর জন্য নিজের পড়াশোনা বাদ দিয়ে চলে এলাম, আর তুই শুরুতেই অপমান করছিস?
— আরে, প্রশংসা করছি। তুই বুঝিস না কেন?
— তোর প্রশংসা আর অপমানের মধ্যে পার্থক্য বোঝার জন্য আলাদা একটা ডিগ্রি লাগবে।
মিলি হেসে উঠল।
তারপর বইটা আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,
— আচ্ছা, এবার সিরিয়াস হ। এই অংশটা বুঝিয়ে দে। পরীক্ষার আগে ফেল করলে কিন্তু তোকে দোষ দেব।
— নিজে পড়িস না, ফেল করিস তুই, আর দোষ আমার! চমৎকার বিচারব্যবস্থা।
— বন্ধুত্বে এসব হিসাব চলে না, বুঝলি?
আমি পড়ানো শুরু করলাম। প্রথম দিকে মিলি মনোযোগ দিয়ে শুনছিল, কিন্তু কিছুক্ষণ পরপরই এমন সব প্রশ্ন করতে লাগল, যেগুলোর সঙ্গে মূল বিষয়ের সম্পর্ক খুঁজে পেতে আমারই সময় লাগছিল।
একসময় বিরক্ত হয়ে বললাম,
— তুই সত্যিই বুঝতে চাস, নাকি আমাকে বিরক্ত করাই তোর আসল উদ্দেশ্য?
মিলি গম্ভীর মুখ করে বলল,
— দুটোই হতে পারে।
আবারও হেসে ফেললাম।
তবে মজার আড়ালে একটা সত্যি ছিল—মিলি পড়াশোনাটা নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত। কথায় কথায় সেটা প্রকাশ না করলেও, একই প্রশ্ন বারবার করা আর খাতার পাতায় অযথা দাগ কাটার মধ্য দিয়ে তার অস্থিরতা বোঝা যাচ্ছিল।
পড়ানো শেষ করে বই বন্ধ করতেই মিলি বলল,
— কালও আসবি? আরেকটা টপিক বাকি আছে।
আমি বললাম,
— দেখি। সময় পেলে আসব।
— এই উত্তর চলবে না। আসবি কি না, পরিষ্কার করে বল।
— আচ্ছা বাবা, আসব। এবার খুশি?
মিলি মুচকি হেসে বলল,
— হুম। জানতাম, তোকে দিয়ে কাজ হবে।
হোস্টেল থেকে বেরিয়ে আসার সময় মনে হলো, জীবনের সব সম্পর্কের মধ্যে যে জটিলতা থাকে, তা নয়। কিছু সম্পর্ক থাকে একেবারে সহজ—যেখানে দু-চারটে কথা, সামান্য খুনসুটি আর প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানোই যথেষ্ট।
কিন্তু সেই সহজ সম্পর্কগুলোও কখন যে জীবনের গল্পে অন্য রকম জায়গা করে নেয়, তা আগে থেকে বোঝা যায় না।
আমিও নিজেকে পড়াশোনার মধ্যে ব্যস্ত রাখার চেষ্টা করছিলাম। তবে মনের ভেতর নানা চিন্তা থাকলেও সেগুলো নিয়ে আপাতত কারও সঙ্গে কথা বলার ইচ্ছে ছিল না।
সেদিন সকালে মিলির মেসেজ এল।
— কী রে, আজকে ক্যাম্পাসে আসবি?
আমি লিখলাম,
— হ্যাঁ, কেন?
— একটু আগে আসিস। একটা চ্যাপ্টার কিছুতেই বুঝতে পারছি না। হোস্টেলে বসে মাথা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
মিলি এখন পরীক্ষার জন্য হোস্টেলে থাকছে। আগে প্রায়ই দেখা হয়ে যেত, কিন্তু হোস্টেলে ওঠার পর থেকে দেখা করতে হলে আলাদা করে সময় বের করতে হয়।
আমি লিখলাম,
— ঠিক আছে। তুই পড়ার বই খুলে রাখিস, আমি এসে দেখি।
কিছুক্ষণ পর ওর উত্তর এল,
— বাহ! আজকাল তোকে দিয়ে কাজ আদায় করা যাচ্ছে দেখছি!
মেসেজটা পড়ে হেসে ফেললাম।
— বেশি কথা বলিস না। যে চ্যাপ্টার বুঝিস না, সেটা নিয়েই বসে থাকিস।
— আচ্ছা স্যার, আপনার অপেক্ষায় রইলাম।
মিলির সঙ্গে কথা বললে একটা ব্যাপার লক্ষ করতাম—ও খুব সহজেই পরিবেশটা হালকা করে দিতে পারে।
অন্যরা যেখানে একটা সাধারণ কথার মধ্যেও অস্বস্তি খুঁজে পায়, মিলি সেখানে অনায়াসে মজা করার মতো কিছু খুঁজে নেয়।
দুপুরের দিকে ওর হোস্টেলে গেলাম। পড়ার ঘরে ঢুকতেই দেখলাম, টেবিলের ওপর বইখাতা ছড়ানো। মিলি একটা খাতা খুলে বসে আছে, কিন্তু মুখ দেখে মনে হলো পড়াশোনার চেয়ে বিরক্তির সঙ্গেই তার লড়াই বেশি চলছে।
আমাকে দেখে বলল,
— এই যে, অবশেষে মহামান্য হাজির হয়েছেন!
আমি চেয়ার টেনে বসতে বসতে বললাম,
— তোর জন্য নিজের পড়াশোনা বাদ দিয়ে চলে এলাম, আর তুই শুরুতেই অপমান করছিস?
— আরে, প্রশংসা করছি। তুই বুঝিস না কেন?
— তোর প্রশংসা আর অপমানের মধ্যে পার্থক্য বোঝার জন্য আলাদা একটা ডিগ্রি লাগবে।
মিলি হেসে উঠল।
তারপর বইটা আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,
— আচ্ছা, এবার সিরিয়াস হ। এই অংশটা বুঝিয়ে দে। পরীক্ষার আগে ফেল করলে কিন্তু তোকে দোষ দেব।
— নিজে পড়িস না, ফেল করিস তুই, আর দোষ আমার! চমৎকার বিচারব্যবস্থা।
— বন্ধুত্বে এসব হিসাব চলে না, বুঝলি?
আমি পড়ানো শুরু করলাম। প্রথম দিকে মিলি মনোযোগ দিয়ে শুনছিল, কিন্তু কিছুক্ষণ পরপরই এমন সব প্রশ্ন করতে লাগল, যেগুলোর সঙ্গে মূল বিষয়ের সম্পর্ক খুঁজে পেতে আমারই সময় লাগছিল।
একসময় বিরক্ত হয়ে বললাম,
— তুই সত্যিই বুঝতে চাস, নাকি আমাকে বিরক্ত করাই তোর আসল উদ্দেশ্য?
মিলি গম্ভীর মুখ করে বলল,
— দুটোই হতে পারে।
আবারও হেসে ফেললাম।
তবে মজার আড়ালে একটা সত্যি ছিল—মিলি পড়াশোনাটা নিয়ে যথেষ্ট চিন্তিত। কথায় কথায় সেটা প্রকাশ না করলেও, একই প্রশ্ন বারবার করা আর খাতার পাতায় অযথা দাগ কাটার মধ্য দিয়ে তার অস্থিরতা বোঝা যাচ্ছিল।
পড়ানো শেষ করে বই বন্ধ করতেই মিলি বলল,
— কালও আসবি? আরেকটা টপিক বাকি আছে।
আমি বললাম,
— দেখি। সময় পেলে আসব।
— এই উত্তর চলবে না। আসবি কি না, পরিষ্কার করে বল।
— আচ্ছা বাবা, আসব। এবার খুশি?
মিলি মুচকি হেসে বলল,
— হুম। জানতাম, তোকে দিয়ে কাজ হবে।
হোস্টেল থেকে বেরিয়ে আসার সময় মনে হলো, জীবনের সব সম্পর্কের মধ্যে যে জটিলতা থাকে, তা নয়। কিছু সম্পর্ক থাকে একেবারে সহজ—যেখানে দু-চারটে কথা, সামান্য খুনসুটি আর প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানোই যথেষ্ট।
কিন্তু সেই সহজ সম্পর্কগুলোও কখন যে জীবনের গল্পে অন্য রকম জায়গা করে নেয়, তা আগে থেকে বোঝা যায় না।


![[+]](https://xossipy.com/themes/sharepoint/collapse_collapsed.png)