Thread Rating:
  • 4 Vote(s) - 3.25 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
Adultery কামুক শ্বশুর ও ভাসুর
#2
পর্ব - ২ : বাপ-বেটা

দুপুর বারোটা।

এবি গ্রুপের হেড অফিস। ১৮ তলার লিগ্যাল ফ্লোরটা পুরো কাঁচে ঘেরা। দেবাশিস তার নিজের কেবিনে বসে ক্যান্টিন থেকে আনা ব্ল্যাক কফিটা খাচ্ছে। সামনে ফাইল পড়ে আছে, কিন্তু মন ফাইলে নেই।

তার মনে হচ্ছে, জীবনটা কত পরিপূর্ণ।

এক বছর আগেও যে ছেলেটা হাজরার মেসে বসে দুটো টিউশনির টাকায় দিন গুনতো, আজ তার কেবিনের বাইরে 'হেড অফ লিগ্যাল - দেবাশিস মুখার্জী' লেখা। যে ছেলেটা ভাবতো কলকাতায় টিকে থাকতে পারবে তো, আজ তার বউ ঋত্বিকা মুখার্জী। ভগবানের কাছে আর কি চাইবে সে? সবই তো পেয়েছে। বাবা-মায়ের মতো শ্বশুর-শাশুড়ি, ভালোবাসার বউ, একটা সাম্রাজ্য।

দেবাশিস কফিতে চুমুক দিয়ে হালকা হাসল। তার জানালা দিয়ে পুরো কলকাতা দেখা যায়।

আর ঠিক সেই সময়ে, সেই কলকাতারই অন্য প্রান্তে, বালিগঞ্জের মুখার্জী ম্যানসনের সামনে...

একটা পুরনো, ধুলো মাখা বাস থেকে দুজন লোক নামল।

একজন বুড়ো। বয়স ষাটের ওপর হবে। পরনে লুঙ্গি, গায়ে একটা ময়লা গেঞ্জি, কাঁধে একটা গামছা। চুল সব পেকে গেছে, মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। কিন্তু শরীরে এখনও টান আছে। রোদে পুড়ে, গঙ্গায় জাল টেনে টেনে শরীরটা এখনও শক্ত।

আরেকজন তার পাশে। বুড়োর চেয়েও লম্বা, বিশাল চেহারা। গায়ের রং কুচকুচে কালো, রোদে পুড়ে আরও কালো। হাতের মাসলগুলো যেন পাথর। বয়স চল্লিশের কাছাকাছি। চেহারায় মিল থাকায় বোঝাই যাচ্ছে তারা বাপ-বেটা।

তারা এসে দাঁড়িয়েছে মুখার্জী ম্যানসনের বিশাল লোহার গেটটার সামনে। গেটের ভেতরে এত বড় বাগান, এত বড় বাড়ি দেখে বুড়োটার চোখ ছানাবড়া।

বুড়ো লোকটা কপালে হাত দিয়ে বাড়িটার দিকে তাকিয়ে বলল -

বুড়ো - হ্যাঁ রে হারু, তোর কি সত্যি মনে হয় এটা দেবাশিসের বাড়ি বটে? ওই হতভাগা এত বড় বাড়িতে থাকবে?

ছেলে (হারু) - হ্যাঁ গো বাবা, এটাই তো বটে। কলকাতার লোকটা তো বলল, বালিগঞ্জে এবি গ্রুপের মালিকের বাড়িটাই। এটাই তো সেই বাড়ি হবেক।

বুড়ো - আরে ধুর! তুই ভুল জায়গায় নিয়ে এলি আমাকে। ওর এত বড় বাড়ি হবেক নাকি? ও তো জেলে পাড়ার ছেলে। ওর বাপ আমি, আমি জানি না? ও মাছ বেচবে, আর কি করবে? এই রাজপ্রাসাদে থাকবে?

ছেলে - আরে না গো বাবামশাই, তোকে কইতাছি তো এটাই। তুই তো বিশ্বাসই করতাছিস না। ও কলকাতায় এসে অনেক বড় সাহেব হইছে। টাকার কুমির হইছে শুনলাম।

বুড়ো - টাকার কুমির? আমার ছেলে? যে ছোটবেলায় একটা নতুন জামার জন্য কানতো? চুপ কর তুই। চল, অন্য কোথাও খুঁজি।

ছেলে - আমি চুপ করব কেনে? তুই-ই তো ভুলভাল বকছিস। আমি ঠিক জায়গাতেই নিয়ে এসেছি।

বাপ-ব্যাটায় রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়েই ঝগড়া শুরু করে দিল। একেবারে খাঁটি গ্রামের টানে। পশ্চিম মেদিনীপুরের দিকের টান।

ঠিক তখনই ভেতর থেকে দারোয়ান ছুটে এলো। পরনে খাকি উর্দি, হাতে লাঠি।

দারোয়ান - এই! এই দুজন! কি হয়েছে এখানে? সকাল থেকে গেটের সামনে দাঁড়িয়ে চিল্লামিল্লি করছিস কেন? কি চাই? ঝামেলা করছিস যে?

বাপ-ব্যাটা দারোয়ানের উর্দি দেখে ভয়ে একেবারে সিঁটিয়ে গেল। তারা ভাবল পুলিশ।

বুড়ো (হাত জোড় করে) - আরে না না, পুলিশবাবু, আমরা ঝামেলা করছি না গো। আমরা বাপ-ব্যাটা বটে। আমরা তো এখানে দেবাশিসের খোঁজে এসেছি। ও আমার ছোট ছেলে বটে।

ছেলে (ভয়ে ভয়ে) - হ্যাঁ পুলিশবাবু, আমরা গাঁ থেকে আসছি। দেবাশিসকে একটু দরকার ছিল।

দারোয়ানের ভুরু কুঁচকে গেল।

দারোয়ান - দেবাশিস স্যার? এই! তোরা স্যারকে নাম ধরে ডাকছিস কেন? জানিস উনি কে? এবি গ্রুপের লিগ্যাল হেড! আর তোরা বলছিস বাপ-ব্যাটা? সাহস তো কম নয়!

দুজন আরও ভয় পেয়ে গেল। বুড়ো লোকটা গামছাটা শক্ত করে ধরল।

ঠিক তখনই পেছন থেকে একটা কালো মার্সিডিজের তীব্র হর্ন।

প্যাঁ-পোঁ!

দারোয়ান চমকে উঠল।

দারোয়ান - আরে! সর্বনাশ! বড় সাহেব এসে গেছে! এই তোরা, তোরা এখনই গেটের সামনে থেকে সর! সাইডে যা, সাইডে যা!

দারোয়ান দৌড়ে গিয়ে বিশাল গেটটা হাট করে খুলে দিল। স্যালুট দিয়ে দাঁড়াল।

কালো মার্সিডিজটা ধীরে ধীরে ঢুকছে ম্যানসনে। বাপ-ব্যাটা দুজন হাঁ করে গাড়িটার দিকে তাকিয়ে আছে। গাড়ির কাঁচ কালো, ভেতরে কে আছে বোঝা যাচ্ছে না।

বুড়ো ফিসফিস করে ছেলেকে বলল -

বুড়ো - হ্যাঁ রে হারু... এটাই কি তবে দেবাশিসের গাড়ি বটে?

ছেলে - হ্যাঁ গো বাবামশাই, দেখছিস না কত বড় গাড়ি! কলকাতায় এসে অনেক টাকার মালিক হয়ে গেছে বটে। আমাদের আর চিনবে কি?

গাড়িটা গেটের ভেতরে ঢুকেই থামল। পেছনের জানালার কাঁচটা আস্তে আস্তে নামল।

ভেতরে বসে আছেন অরিন্দম মুখার্জী। তিনি দূর থেকে দেখেছেন দুজন গরীব মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। তিনি ভেবেছেন হয়তো সাহায্য চাইতে এসেছে।

অরিন্দম মানিব্যাগ থেকে একটা ২০০০ টাকার নোট বের করে দারোয়ানের দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন,

"দারোয়ান, এই নাও। ওদের দিয়ে দাও। মনে হচ্ছে খুব গরীব। কিছু খেয়ে নেবে।"

অরিন্দমের গলায় দয়ার সুর।

কিন্তু দারোয়ান নোটটা নিল না। সে মাথা নিচু করে বলল,

দারোয়ান - বড় সাহেব, ওরা সাহায্যের কথা বলে নি। ওরা বলছে... ওরা বলছে ওরা দেবাশিস স্যারের বাপ আর ভাই।

এই একটা বাক্য।

পুরো সময়টা যেন থমকে গেল।

গাড়ির ভেতরে অরিন্দম মুখার্জীর হাতটা ২০০০ টাকার নোটটা ধরে থাকা অবস্থায় স্থির হয়ে গেল। তার চোখ দুটো ধীরে ধীরে বড় হয়ে গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা ওই দুটো ধুলো মাখা মানুষের দিকে গেল।

আর গেটের বাইরে, বুড়ো আর তার ছেলে তখনও বোঝার চেষ্টা করছে, ভেতরের সাহেবটা কে।

পর্ব ২ - দ্বিতীয় অংশ : লাইব্রেরি ঘর

মুখার্জী ম্যানসনের লাইব্রেরি ঘরটা যেন অন্য এক জগৎ।

চারদিকে কাঁচের আলমারিতে হাজার হাজার বই। মাঝখানে একটা বিশাল সেগুন কাঠের টেবিল। বাইরের গরম থেকে এখানে এসি-র ঠান্ডায় শরীর জুড়িয়ে যায়।

অরিন্দম মুখার্জী তার নিজের চেয়ারে বসে চায়ে চুমুক দিচ্ছেন। তার বিপরীতে দুটো দামি সোফায় আড়ষ্ট হয়ে বসে আছে বুড়ো আর তার ছেলে। তাদের সামনে প্লেটে কাজু, কিসমিস আর ফিশ ফ্রাই দেওয়া হয়েছে। তারা ছুঁয়েও দেখে নি। বুড়োটার হাত কাঁপছে।

বুড়ো (কালীপদ) - ইয়ে... বাবু, আপনার বাড়িটা তো রাজপ্রাসাদ বটে। আমাদের গাঁয়ের জমিদার বাড়িটাও এত বড় লয় গো।

ছেলে (হরিপদ) - হ্যাঁ গো বাবু, এমন বাড়ি তো সিনেমাতেও দেখি নাই। আপনিই কি তবে... মালিক বটে?

অরিন্দম মুখার্জী হালকা হাসলেন, কিন্তু উত্তর দিলেন না। তার চোখে একটা গভীর পর্যবেক্ষণ। তিনি মানুষ চিনতে ভুল করেন না। তিনি দেখছেন, এদের চোখে বিস্ময় নেই, আছে লোভ। একটা চকচকে লোভ।

কালীপদ - বাবু, আমাদের দেবাশিসটা কেমন আছে গো? শুনলাম অনেক বড় চাকরি করে। অনেক টাকা...

হরিপদ - হ্যাঁ গো বাবু, ও তো আমাদের ভুলেই গেছে। একটা খবরও লেয় না গাঁয়ে।

অরিন্দম তখনও চুপ। তিনি শুধু চায়ে চুমুক দিচ্ছেন। তিনি একটু আগেই দেবাশিসকে ফোন করেছেন।

"দেবাশিস, তুমি এক্ষুনি বাড়ি এসো। খুব জরুরি। লাইব্রেরিতে এসো।"

দেবাশিসের গাড়ি তখনই এবি টাওয়ার থেকে বেরিয়েছিল। শ্বশুরের গলায় এমন গাম্ভীর্য সে আগে শোনে নি। সে ভেবেছে কোম্পানির কোনো বড় কেসে সমস্যা হয়েছে।

কুড়ি মিনিটের মধ্যে দেবাশিস বাড়ি ঢুকল। সোজা লাইব্রেরির দরজায়।

তার পরনে এখনও অফিসের ফর্মাল শার্ট। কপালে ঘাম।

দরজায় নক করে বলল,

দেবাশিস - আসতে পারি, স্যার?

বিয়ের এক বছর হয়ে গেলেও দেবাশিস কখনও অরিন্দমকে 'বাবা' বলে ডাকে নি। সবসময় 'স্যার'। এই 'স্যার' ডাকটার মধ্যে একটা সম্মান আছে, একটা দূরত্বও আছে, যেটা দেবাশিস নিজেই তৈরি করে রেখেছে। কারণ সে জানে, সে কোথা থেকে এসেছে।

অরিন্দম - আরে আসো দেবাশিস, তোমার জন্যই অপেক্ষা করছি। ভেতরে এসো।

দেবাশিস ঘরে ঢুকল। আর ঢুকেই তার পা দুটো যেন মাটিতে আটকে গেল।

সোফায় বসে থাকা দুটো মানুষকে দেখে তার মুখের রক্ত সরে গেল।

হরিপদ তড়াক করে উঠে দেবাশিসকে জড়িয়ে ধরল। তার গায়ের ঘামের গন্ধে দেবাশিসের গা গুলিয়ে উঠল।

হরিপদ - আরে দেবাশিস! কেমন আছিস রে ভাই আমার! কত বছর পর তোর সাথে দেখা বটে! তুই তো একেবারে সাহেব হয়ে গেছিস রে!

কালীপদ ও উঠে দাঁড়াল। বুড়ো চোখে জল আনার চেষ্টা করল।

কালীপদ - আরে দেবাশিস... বাবা আমার... কত বদলে গেছিস রে তুই। তোকে তো চেনাই যাচ্ছে না। বাবাটাকে ভুলে গেলি?

দেবাশিস এই মুহূর্তের জন্য একটুও প্রস্তুত ছিল না। তার বিরক্ত লাগছিল। ভীষণ বিরক্ত। তার সাথে লজ্জা। শ্বশুরের সামনে, এই লাইব্রেরি ঘরে, তার এই অতীতটা এসে দাঁড়াবে, এটা সে কখনও চায় নি। সে তো চেয়েছিল এই পরিচয়টা চিরদিনের মতো মুছে ফেলতে।

অরিন্দম সবটা লক্ষ্য করছিলেন। তিনি শান্ত গলায় বললেন,

অরিন্দম - দেবাশিস, এনারা বলছেন এনারা তোমার বাবা আর দাদা। এটা কি সত্যি?

লাইব্রেরিতে পিন পড়ার নিস্তব্ধতা।

দেবাশিস মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপর ধীরে ধীরে মুখ তুলল। তার মুখটা গোমড়া, শক্ত।

দেবাশিস - হ্যাঁ স্যার। ইনি আমার বাবা। ওনার নাম কালীপদ। আর ও আমার বড় ভাই, হরিপদ।

স্বীকার করতে তার গলাটা কেঁপে গেল। সে কখনও চায় নি তার শ্বশুরবাড়িতে তার বাবা আর ভাইয়ের পরিচয় দিতে। কারণ সে জানত, এরা কেমন মানুষ।

আসলে কালীপদ আর হরিপদরও দেবাশিসের প্রতি কোনো ভালোবাসা নেই। ভালোবাসা থাকলে কি আর ছেলেটা একা কলকাতায় না খেয়ে পড়ে থাকত, আর তারা খোঁজও নিত না? তাদের ভালোবাসা এখন উথলে উঠেছে অন্য কারণে।

গত মাসে তাদের গ্রামের একটা ছেলে কলকাতা থেকে ঘুরে গিয়ে বলেছে, "তোদের দেবাশিস তো এখন বিরাট বড়লোক। বালিগঞ্জে কোটি টাকার বাড়িতে থাকে। গাড়ি-বাড়ি সব আছে।"

সেই থেকে কালীপদ আর হরিপদর ঘুম উড়ে গেছে। তাদের মাথায় একটাই চিন্তা ঘুরছে।

হরিপদর মনে ভাবনা - ভাইটা যখন এত টাকার মালিক হইছে, যদি কিছু টাকা হাতানো যায়, তবে বাকি জীবনটা আর গঙ্গায় জাল টানতে হবে না। রোজ সন্ধ্যায় পেট ভরে মাল খাওয়া যাবে। আহা, কি শান্তির জীবন! এলাকার যে মালের দোকান সেটা থেকেও বাকি দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

কালীপদর মনে মনে ভাবনা - ছেলেটা তো আমারই। আমার রক্ত। ওর টাকায় আমারও তো হক আছে।

তাই তারা এসেছে। ভালোবাসার টানে নয়, টাকার গন্ধে।

অরিন্দম মুখার্জী চায়ের কাপটা টেবিলে নামিয়ে রাখলেন। কাপটা নামানোর টুং শব্দটা লাইব্রেরিতে প্রতিধ্বনিত হলো। তিনি কালীপদ আর হরিপদর দিকে তাকিয়ে এবার প্রথমবার মুখ খুললেন। তার গলাটা ঠান্ডা, কিন্তু ভেতরে আগুন।

অরিন্দম যা বলবেন, তার ওপরই এখন নির্ভর করছে এই বাড়ির পরবর্তী ঝড়।
[+] 1 user Likes Bengali_Writer's post
Like Reply


Messages In This Thread
RE: কামুক শ্বশুর ও ভাসুর - by Bengali_Writer - 12-10-2026, 09:03 PM



Users browsing this thread: 1 Guest(s)