07-10-2026, 08:14 PM
(This post was last modified: 07-10-2026, 08:18 PM by কাদের. Edited 1 time in total. Edited 1 time in total.)
খ
সন্ধ্যা নেমে এসেছে। আকাশটা ধূসর। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাইরে, ক্যাম্পাস থেকে একটু দূরে একটা সড়কের মোড়ে আলো কম। গাড়ি কম চলছে। আবিদ একা হাঁটছিল। হাতে ফোন। বাসায় যাওয়ার কথা। মাথায় পড়াশোনার চিন্তা। আজকের ক্লাসগুলো মনে মনে গুছিয়ে নিচ্ছিল।
হঠাৎ সামনে থেকে কয়েকজন এসে দাঁড়াল। চারজন। ছিনতাইকারী? নাহ। হিজড়া। ছিনতাইকারী হলে যেন আর বেশি খুশি হত আবিদ। রাস্তায় হিজড়াদের নিয়ে ওর এক ধরনের ভীতি আছে। একবার ওর এক বন্ধু কে নাকি অন্ডকোষ ধরে চাপ দিয়েছিল সবার সামনে। এরপর সেই বন্ধুর নাম হয়ে গিয়েছিল হিজড়া। সেই পুরাতন শোনা কাহিনী মনে পড়ে শীতল একটা স্রোত বয়ে গেল এর মেরুদন্ড দিয়ে। হিজড়াদের একজন লম্বা, চিকন গলার স্বর। চিকন গলার স্বরে জিজ্ঞেস করলো, কিরে ভয় পেলি নাকি বাপের ব্যাটা। অন্যরা হেসে উঠল। আরেকজন ছোটখাটো, মুখে ভাঙা হাসি। সে হাত তালি দিয়ে বলল ছেলেটা সুন্দর আছে। বাকি দুজন পাশে দাঁড়িয়ে, তারা হাসল। আবিদকে ঘিরে দাড়িয়েছে সবাই। ভড়কে গেছে আবিদ। চারজনের দুইজন শাড়ি পড়া আর দুইজন শার্ট প্যান্ট পড়া। তবে সবার মাথায় লম্বা বেণি করা। আবিদ নির্বিবাদি ভদ্রলোক। সহজে মানুষের সাথে কথা কাটাকাটি হবে এমন ঘটনায় জড়ায় না। আজকে হঠাত করে রাস্তার মাঝে হিজড়াদের সামনে পড়ে যাবায় একদম হকচকিয়ে গেছে। কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না। আর আবিদের নিরুত্তর ভাব ভংগি চারজন কে রাগিয়ে দিল। হিজড়ারা সমাজের মানুষের অবহেলা পেয়ে পেয়ে বড় হয়ে উঠেছে। তাই মানুষের অবহেলা তাদের সবচেয়ে বেশি রাগিয়ে দেয়।
লম্বা জন এগিয়ে এসে বলল,
“কী রে সোনা? একা একা যাচ্ছিস? আমাদের একটু দে কিছু। পয়সা দে।”
আবিদ থেমে গেল। চোখ তুলে তাকাল। অস্বস্তি হলো। সে একটু সরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করল।
“আমার কাছে এখন তেমন কিছু নেই।” একটু তোতলাচ্ছে আবিদ।
ছোটখাটজন হেসে উঠল। হাত বাড়িয়ে আবিদের হাত ধরল।
“নেই মানে? পকেটে তো ফোন আছে। আর তোর মুখ দেখেই মনে হয় টাকা আছে। দে না একটু। আমরা গরিব মানুষ। কি নরম হাত রে তোর। ধরলে আর ছাড়তে ইচ্ছা করে না। পয়সা না দিলে কি প্রেম দিবি?” হাসির রোল উঠল গ্রুপে।
আরেকজন পেছন থেকে এসে কাঁধে হাত রেখে প্রায় জড়িয়ে ধরল আবিদ কে। আবিদের শরীর শক্ত হয়ে গেল। সরে যাবার চেষ্টা করল। তবে টের পেলে ওর থেকে শক্তি অনেক বেশি যে জড়িয়ে ধরেছে তার।
“আমাকে ছেড়ে দাও। আমার কাছে কিছু নেই।” একটু গলা চড়িয়ে নিজের কথায় জোর প্রকাশের চেষ্টা করে আবিদ। তবে গলা কাপছে। কাপা কাপা গলায় বলা জোরে কথা ঠিক কতৃত্ব প্রকাশ করে না বরং ভিতরের ভয়টা প্রকাশ করে।
লম্বাটা আরও কাছে এসে গলায় সুর চাড়িয়ে বলল,
“রেগে গেলি নাকি রে ব্যাটা? এত রাগ কেন সোনা? তোর মতো সুন্দর ছেলেদের তো আমরা ভালোবাসি। একটু হাস না। হাস। পয়সা দিলে আমরা আশীর্বাদ করব। সুন্দর বউ হবে তোর”
জড়িয়ে যে ছিল সে আরও কাছে ঘেঁষে এল। একজন আবিদের বুকের দিকে হাত বাড়াল। আরেকজন তার হাত ধরে টানল। আবিদের মুখ লাল হয়ে গেল। একসাথে ভয় আর রাগ হবার অনুভূতি এই প্রথম ওর।
“আমাকে টাচ করো না! সরে যাও!”
হিজড়াগুলো হেসে উঠল। জোরে।
“ও মাইরি! রেগে গেছে দেখ। পুরুষমানুষ সেজেছো কিন্তু গলা কাঁপছে। এত কিপটে কেন? দুইশো টাকা দিলেই তো হয়। না দিলে আমরা তোর সাথেই যাব। আজকে তোর বাসায় থাকাব আর ফূর্তি করব”
একজন আবার তার হাত ধরল। কাঁধে হাত রেখেছে যে সে বলল,
“এত ছটফট করছিস কেন রে ছেলে? একটু নরম হ না। তোর মতো ছেলেদের আমরা চিনি। ভেতরে অন্যরকম হয়।”
আবিদের কান পর্যন্ত লাল হয়ে গেল। সে জোরে হাত ছাড়িয়ে নিল। কথা বলতে গিয়ে গলা বসে গেল।
“আমি পুলিশ ডাকব।”
হিজড়াগুলো আরও হাসল।
“ডাক না। আমরা তো কিছু করিনি। শুধু পয়সা চেয়েছি। তুই এত রাগ করছো কেন? লজ্জা পাচ্ছিস নাকি?” পুলিশ ডাকার কথায় আর আবিদের কাজকর্মে মজা পেয়ে গেছে চারজন। রাস্তায় যে এক দুইজন পথচারী যাচ্ছে তারা আবিদ আর চারজন কে এড়িয়ে চলে যাচ্ছে। কেউ ঝামেলায় পড়তে চায় না।
রাস্তার উলটো দিকে একটা চায়ের দোকানের সামনে বসে ছিল নোমান। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলো। রাফি, তানভীর ওর সাথে গল্প করছিল। কাজ আছে বলে ওরা উঠে গেল। নোমান উঠে যেত তবে কি মনে করে একটা সিগারেট ধরালো। খুব বেশি সিগারেট খায় নোমান এমন না। তবে বিকাল বাস্কেটবল শেষে আড্ডা দিয়ে একটা সিগারেট ধরালে একটা শান্তি লাগে। এটা না খেলে বুঝানো যাবে না। সামনেই ওর রায়াল এনফিল্ড বাইকটা পার্ক করা। পরিবারের ছোট সন্তান বলে যা চায় তাই পাবার অভ্যাস নোমানের। তাই মা একটু গাই গুই করলেও বাবা আর বাসার বাকিদের কারণে মায়ের কথা টিকল না। নোমানের বাবার কথা হচ্ছে ছেলেরা একটু ড্যাশিং না হলে কিভাবে হবে। সিগারেট খেতে খেতে রাস্তার উলটা দিকে চোখ পড়ে। একটা ছেলে কে চারজন হিজড়া ঘিরে দাড়িয়েছে। হাসল নোমান। বেচারা। টাকা খসবে তার উপর একটু টিজ খাবে। সিগারেটে টান দিতে দিতে ঘটনা দেখছিল দূর থেকে। ছেলেটার গায়ে হিজড়ারা হাত দিতে একদম সিউড়ে যাচ্ছে ছেলেটা। মাথা নাড়ল নোমান। এইসব দেখলে হিজড়ারা ক্ষেপে যায় জানে নোমান। খুব স্বাভাবিক হয়ে কথা চালাতে হয়। দরকার হলে কিছু টাকা দিতে হয়। কথার মাঝে ছেলেটার মুখ একবার তার দিকে হলো। আরে এটা আবিদ না? ঐদিন আড্ডা দিয়ে ভাল লেগেছিল ছেলেটাকে। যদিও তার পুরো বিপরীত তবে ভাল ছেলে। নোমান সব সময় সব ধরনের মানুষের সাথে পরিচয় রাখতে পছন্দ করে। তার উপর কথায় কথায় বুঝা গিয়েছিল ভাল ছাত্র আবিদ কিন্তু সেটা নিয়ে কথায় কোন রকম অহংকার ছিল না। তাই ছেলেটাকে ভাল নজরে দেখেছে নোমান। সিগারেটটা ফেলে দেয় রাস্তায় নোমান। চায়ের দোকানের দিকে তাকিয়ে বলে, মামা বাইকটার দিকে একটু নজর রাইখো। আমি আসতেছি পাচ মিনিট। এই বলে ব্যস্ত রাস্তা পের হয়।
আবিদ রাস্তার মাঝে হিজড়াদের আচরণে একদম হতচকিত হয়ে গেছে। কি বলবে বুঝতে পারছে না। যে দুই একটা কথা বলছে সেগুলো নিয়ে এমন ভাবে হাসি ঠাট্টা করছে যাতে আর বিব্রত হয়ে যাচ্ছে আবিদ। এমন সময় রাস্তার অন্য দিক থেকে কেউ এসে দাঁড়াল। নোমান। হাতে ফোন। চোখে একটা শান্ত ভাব। যত অল্প পরিচিত হোক না কেন এই সময় একটা পরিচিত মুখ সামনে দেখে যেন জীবন ফিরে পেল আবিদ। নোমান পরিস্থিতিটা এক নজরে দেখে নিল। তারপর হাসিমুখে এগিয়ে এল।
“কী হয়েছে এখানে?”
হিজড়াগুলো ঘুরে তাকাল। নোমানকে দেখে একটু থতমত খেল। লম্বাটা বলল,
“কিছু না ভাই। এই ছেলেটার কাছে একটু পয়সা চাইছিলাম। এতে রাগ করছে।”
নোমান আবিদের দিকে একবার তাকাল। আবিদের মুখ লজ্জায় ও রাগে লাল। তারপর হিজড়াদের দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলল,
“আচ্ছা। কত লাগবে?”
লম্বাটা একটু অবাক হয়ে বলল,
“দুইশো টাকা দিলেই হয় ভাই।”
নোমান পকেট থেকে একশো টাকার একটা নোট বের করে দিল।
“নাও। এখন যাও। আর কাউকে জ্বালাতন কোরো না।”
হিজড়াগুলো একশ টাকার নোট দেখে খুশি হল। তবে লম্বাটা নোমানের দিকে তাকিয়ে বলল,
“আমরা তো ২০০ টাকা চাইছিলাম”
নোমান বলে,
“আমরা ছাত্র মানুষ ভাই। ২০০ টাকা অনেক টাকা। আজকে ১০০ টাকা নাও, পরে চাকরি পাইলে বেশি টাকা নিয়ে নিও রাস্তায় ধইরা।” এই বলে হাসি দেয় নোমান।
নোমানের হাসিতে তাল মিলায় হিজড়া চারজন। ছোট জন আবিদ কে বলে,
“দেখ সোনা, এই ছেলেটা কত ভালো। সুন্দরও। তোর মতো কিপটে না। তুই শিখ। এমন ছেলে হও। আর ব্যবহার কত ভাল”
লম্বাজন বলল,
“সত্যি। এই ভাইয়ের মতো হলে কেউ রাগ করত না।”
তারা হাসতে হাসতে সরে গেল। একজন পেছন ফিরে আবার বলল,
“ভাই তুমি ভালো থেকো। আশীর্বাদ রইল। তুই ভাল মেয়ে পাবি।” আর আবিদের দিকে তাকিয়ে বলল,
“এইভাবে কিপটামি করলে আর খারাপ ব্যবহার করলে তুই মেয়ে পাবি না। হিজড়ার অভিশাপ কিন্তু বড় অভিশাপ।”
নোমান কিছু বলল না। শুধু মাথা নাড়ল। তারপর আবিদের দিকে তাকাল।
আবিদ দাঁড়িয়েছিল। মাথা নিচু করে। কান দুটো এখনো লাল। সে মুখ তুলে নোমানের দিকে তাকাল। গলায় স্বর কম।
“ধন্যবাদ। তুমি না আসলে... জানি না কী হতো ভাই।”
নোমান কাঁধ ঝাঁকাল। আবিদের কাধে হাত দিয়ে আশ্বাস দিল,
“কিছু না। এসব হয়। চল, একটু সামনে যাই।”
তারা পাশাপাশি হাঁটতে শুরু করল। আবিদ কথা বলছিল না। মনে মনে সেই কথাগুলো ঘুরছিল। “কিপটে”, “পুরুষমানুষ সেজেছো”, “ভেতরে অন্যরকম”। হিজড়াগুলোর হাসি তার কানে বাজছিল। লজ্জায় বুকটা কেমন করে উঠছিল। নোমান তার পাশে হাঁটছে। শান্ত। কোনো প্রশ্ন করছে না। কোনো মজাও করছে না। এটাই আবিদের আরও লজ্জা বাড়াচ্ছিল।
একটু পর নোমান বলল,
“তুমি বাসায় যাচ্ছ?”
আবিদ মাথা নাড়ল।
“হ্যাঁ।”
“তাহলে ঠিক আছে। আমি অন্য দিকে যাব।”
আবিদ থেমে দাঁড়াল।
“আবারও ধন্যবাদ। সত্যিই। আজকে তুমি না থাকলে বিপদে পড়তাম।”
নোমান হাসল। হালকা।
“থাক। কোনো ব্যাপার না। আমরা বন্ধু মানুষ। আর বন্ধু কে বন্ধু হেল্প না করলে কে করবে বল।” এত সহজে বন্ধু বলায় আবিদ অবাক হলো তবে খুশি হলো। ছোট বেলা থেকে আবিদ সহজে বন্ধু বানাতে পারে না। তাই এত সহজে কেউ তাকে বন্ধু বলছে এতে খুশি হল। আবিদের ইতস্তত দেখে নোমান বলল,
“চিন্তা করো না। রাস্তায় এমন দুই একবার হিজড়াদের পাল্লায় পরে নি খুব কম মানুষ আছে। ভেবো না।”
আবিদ বলল,
“ আমি ভড়কে গিয়েছিলাম। তুমি কেমন শান্ত ভাবে সব হ্যান্ডেল করলে।”
নোমান একটু হেসে বলল,
“ আরে ওদের ভয় পাবার কিছু নেই। ওরাও মানুষ। সহজে কোথায় কাজ পায় না। তাই এইসব করে খেতে হয়।”
আবিদ নোমানের হিজড়াদের প্রতি সহানুভূতি দেখে অবাক হয়। নোমান কে যতটা শ্যালো ভেবেছিল তার থেকে অন্যরকম নোমান। সেদিনের ইরান যুদ্ধের আলোচনা আজকের হিজড়াদের হ্যান্ডল করা আবার ঠিক তার পরে তাদের প্রতি সহানূভূতি। মনে মনে ভাবে ডোন্ট জাজ এ বুক বাই ইটস কভার।
আবিদ এইবার পকেট থেকে একশ টাকা বের করে নোমান কে দিতে যায়। নোমান না না করে। বলে এরপর আরেকদিন ক্যাম্পাসে ওকে লাঞ্চ খাবাতে হবে। আর সেদিন আরেক দফা আড্ডা হবে। আবিদ জোর করে তবু টাকা নিতে নারাজ নোমান। আবিদের অসস্তি দেখে নোমান বলে ধরে নাও এইটা আমাদের বন্ধুত্বের প্রথম বিনিয়োগ। পরে তুমি খাওয়াবা আমাকে। শোধ হয়ে যাবে। হেসে উঠে দুইজন। নোমান বলে ওকে যেত হবে। আবিদ বলে আজকের ঘটনাটা কাউকে বলো না। আবিদের ইতস্তত বোধ দেখে নোমান বুঝে আবিদ এখনো লজ্জা কাটাতে পারে নি। নোমান বলে চিন্তা করো না। ইউর সিক্রেট ইজ সেফ উইথ মি।
তারপর সে অন্য দিকে ঘুরে হাঁটতে শুরু করল। আবিদ তাকে যেতে দেখল। মনে মনে একটা কৃতজ্ঞতা জমা হয়ে রইল। কিন্তু তার সাথে মিশে ছিল লজ্জা। তীব্র লজ্জা। হিজড়াগুলো তাকে টিজ করেছে। তার পুরুষত্ব নিয়ে কথা বলেছে। আর নোমান সেটা দেখেছে। এটা সে কাউকে বলতে পারবে না।
রাত সাড়ে দশটা। বুশরার ফোন এল। আবিদ বিছানায় শুয়ে ফোন ধরল।
“আজকের দিন কেমন কাটল?” বুশরা জিজ্ঞেস করল।
আবিদ একটু চুপ থেকে বলল,
“স্বাভাবিক। ক্লাস হয়েছে। একটু পড়াশোনা করেছি।”
বুশরা বলল,
“কিছু হয়েছে আজকে? বলার মতো কিছু?”
আবিদের বুকে একটা চাপ অনুভব হলো। হিজড়াগুলোর মুখ চোখের সামনে ভেসে উঠল। নোমানের মুখও। সে গলা পরিষ্কার করে বলল,
“না। কিছু না। সব ঠিক আছে।”
বুশরা একটু চুপ করে থাকল। তারপর বলল,
“ঠিক আছে। তুই ক্লান্ত মনে হচ্ছে। ঘুমা।”
আবিদ বলল,
“তুইও ঘুমা।”
কল কেটে গেল। আবিদ ফোনটা বালিশের পাশে রাখল। ছাদের দিকে তাকিয়ে রইল। মনে মনে নোমানের কথা ঘুরছিল। সে টাকা দিয়ে পরিস্থিতি সামলেছে। কোনো হট্টগোল করেনি। কোনো অপমান করেনি। শুধু একশ টাকা দিয়ে সব শেষ করেছে। আর হিজড়াগুলো তাকে প্রশংসা করে গেছে। আবিদকে কিপটে বলেছে।
আবিদের মনে হলো, সে নোমানের কাছে ছোট হয়ে গেছে। লজ্জায়। অথচ নোমান তাকে বিপদ থেকে বের করে এনেছে। এই কৃতজ্ঞতাটা সে কাউকে বলতে পারবে না। বুশরাকেও না। কারণ বলতে গেলে পুরো ঘটনাটা বলতে হবে। আর সেটা বললে তার নিজেরই লজ্জা বাড়বে। সে চোখ বন্ধ করল। মনে মনে শুধু একটা কথা বলল, নোমানকে ধন্যবাদ। সত্যিই ধন্যবাদ। কিন্তু এ কথা সে কারো কাছে উচ্চারণ করবে না।
সন্ধ্যা নেমে এসেছে। আকাশটা ধূসর। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাইরে, ক্যাম্পাস থেকে একটু দূরে একটা সড়কের মোড়ে আলো কম। গাড়ি কম চলছে। আবিদ একা হাঁটছিল। হাতে ফোন। বাসায় যাওয়ার কথা। মাথায় পড়াশোনার চিন্তা। আজকের ক্লাসগুলো মনে মনে গুছিয়ে নিচ্ছিল।
হঠাৎ সামনে থেকে কয়েকজন এসে দাঁড়াল। চারজন। ছিনতাইকারী? নাহ। হিজড়া। ছিনতাইকারী হলে যেন আর বেশি খুশি হত আবিদ। রাস্তায় হিজড়াদের নিয়ে ওর এক ধরনের ভীতি আছে। একবার ওর এক বন্ধু কে নাকি অন্ডকোষ ধরে চাপ দিয়েছিল সবার সামনে। এরপর সেই বন্ধুর নাম হয়ে গিয়েছিল হিজড়া। সেই পুরাতন শোনা কাহিনী মনে পড়ে শীতল একটা স্রোত বয়ে গেল এর মেরুদন্ড দিয়ে। হিজড়াদের একজন লম্বা, চিকন গলার স্বর। চিকন গলার স্বরে জিজ্ঞেস করলো, কিরে ভয় পেলি নাকি বাপের ব্যাটা। অন্যরা হেসে উঠল। আরেকজন ছোটখাটো, মুখে ভাঙা হাসি। সে হাত তালি দিয়ে বলল ছেলেটা সুন্দর আছে। বাকি দুজন পাশে দাঁড়িয়ে, তারা হাসল। আবিদকে ঘিরে দাড়িয়েছে সবাই। ভড়কে গেছে আবিদ। চারজনের দুইজন শাড়ি পড়া আর দুইজন শার্ট প্যান্ট পড়া। তবে সবার মাথায় লম্বা বেণি করা। আবিদ নির্বিবাদি ভদ্রলোক। সহজে মানুষের সাথে কথা কাটাকাটি হবে এমন ঘটনায় জড়ায় না। আজকে হঠাত করে রাস্তার মাঝে হিজড়াদের সামনে পড়ে যাবায় একদম হকচকিয়ে গেছে। কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না। আর আবিদের নিরুত্তর ভাব ভংগি চারজন কে রাগিয়ে দিল। হিজড়ারা সমাজের মানুষের অবহেলা পেয়ে পেয়ে বড় হয়ে উঠেছে। তাই মানুষের অবহেলা তাদের সবচেয়ে বেশি রাগিয়ে দেয়।
লম্বা জন এগিয়ে এসে বলল,
“কী রে সোনা? একা একা যাচ্ছিস? আমাদের একটু দে কিছু। পয়সা দে।”
আবিদ থেমে গেল। চোখ তুলে তাকাল। অস্বস্তি হলো। সে একটু সরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করল।
“আমার কাছে এখন তেমন কিছু নেই।” একটু তোতলাচ্ছে আবিদ।
ছোটখাটজন হেসে উঠল। হাত বাড়িয়ে আবিদের হাত ধরল।
“নেই মানে? পকেটে তো ফোন আছে। আর তোর মুখ দেখেই মনে হয় টাকা আছে। দে না একটু। আমরা গরিব মানুষ। কি নরম হাত রে তোর। ধরলে আর ছাড়তে ইচ্ছা করে না। পয়সা না দিলে কি প্রেম দিবি?” হাসির রোল উঠল গ্রুপে।
আরেকজন পেছন থেকে এসে কাঁধে হাত রেখে প্রায় জড়িয়ে ধরল আবিদ কে। আবিদের শরীর শক্ত হয়ে গেল। সরে যাবার চেষ্টা করল। তবে টের পেলে ওর থেকে শক্তি অনেক বেশি যে জড়িয়ে ধরেছে তার।
“আমাকে ছেড়ে দাও। আমার কাছে কিছু নেই।” একটু গলা চড়িয়ে নিজের কথায় জোর প্রকাশের চেষ্টা করে আবিদ। তবে গলা কাপছে। কাপা কাপা গলায় বলা জোরে কথা ঠিক কতৃত্ব প্রকাশ করে না বরং ভিতরের ভয়টা প্রকাশ করে।
লম্বাটা আরও কাছে এসে গলায় সুর চাড়িয়ে বলল,
“রেগে গেলি নাকি রে ব্যাটা? এত রাগ কেন সোনা? তোর মতো সুন্দর ছেলেদের তো আমরা ভালোবাসি। একটু হাস না। হাস। পয়সা দিলে আমরা আশীর্বাদ করব। সুন্দর বউ হবে তোর”
জড়িয়ে যে ছিল সে আরও কাছে ঘেঁষে এল। একজন আবিদের বুকের দিকে হাত বাড়াল। আরেকজন তার হাত ধরে টানল। আবিদের মুখ লাল হয়ে গেল। একসাথে ভয় আর রাগ হবার অনুভূতি এই প্রথম ওর।
“আমাকে টাচ করো না! সরে যাও!”
হিজড়াগুলো হেসে উঠল। জোরে।
“ও মাইরি! রেগে গেছে দেখ। পুরুষমানুষ সেজেছো কিন্তু গলা কাঁপছে। এত কিপটে কেন? দুইশো টাকা দিলেই তো হয়। না দিলে আমরা তোর সাথেই যাব। আজকে তোর বাসায় থাকাব আর ফূর্তি করব”
একজন আবার তার হাত ধরল। কাঁধে হাত রেখেছে যে সে বলল,
“এত ছটফট করছিস কেন রে ছেলে? একটু নরম হ না। তোর মতো ছেলেদের আমরা চিনি। ভেতরে অন্যরকম হয়।”
আবিদের কান পর্যন্ত লাল হয়ে গেল। সে জোরে হাত ছাড়িয়ে নিল। কথা বলতে গিয়ে গলা বসে গেল।
“আমি পুলিশ ডাকব।”
হিজড়াগুলো আরও হাসল।
“ডাক না। আমরা তো কিছু করিনি। শুধু পয়সা চেয়েছি। তুই এত রাগ করছো কেন? লজ্জা পাচ্ছিস নাকি?” পুলিশ ডাকার কথায় আর আবিদের কাজকর্মে মজা পেয়ে গেছে চারজন। রাস্তায় যে এক দুইজন পথচারী যাচ্ছে তারা আবিদ আর চারজন কে এড়িয়ে চলে যাচ্ছে। কেউ ঝামেলায় পড়তে চায় না।
রাস্তার উলটো দিকে একটা চায়ের দোকানের সামনে বসে ছিল নোমান। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলো। রাফি, তানভীর ওর সাথে গল্প করছিল। কাজ আছে বলে ওরা উঠে গেল। নোমান উঠে যেত তবে কি মনে করে একটা সিগারেট ধরালো। খুব বেশি সিগারেট খায় নোমান এমন না। তবে বিকাল বাস্কেটবল শেষে আড্ডা দিয়ে একটা সিগারেট ধরালে একটা শান্তি লাগে। এটা না খেলে বুঝানো যাবে না। সামনেই ওর রায়াল এনফিল্ড বাইকটা পার্ক করা। পরিবারের ছোট সন্তান বলে যা চায় তাই পাবার অভ্যাস নোমানের। তাই মা একটু গাই গুই করলেও বাবা আর বাসার বাকিদের কারণে মায়ের কথা টিকল না। নোমানের বাবার কথা হচ্ছে ছেলেরা একটু ড্যাশিং না হলে কিভাবে হবে। সিগারেট খেতে খেতে রাস্তার উলটা দিকে চোখ পড়ে। একটা ছেলে কে চারজন হিজড়া ঘিরে দাড়িয়েছে। হাসল নোমান। বেচারা। টাকা খসবে তার উপর একটু টিজ খাবে। সিগারেটে টান দিতে দিতে ঘটনা দেখছিল দূর থেকে। ছেলেটার গায়ে হিজড়ারা হাত দিতে একদম সিউড়ে যাচ্ছে ছেলেটা। মাথা নাড়ল নোমান। এইসব দেখলে হিজড়ারা ক্ষেপে যায় জানে নোমান। খুব স্বাভাবিক হয়ে কথা চালাতে হয়। দরকার হলে কিছু টাকা দিতে হয়। কথার মাঝে ছেলেটার মুখ একবার তার দিকে হলো। আরে এটা আবিদ না? ঐদিন আড্ডা দিয়ে ভাল লেগেছিল ছেলেটাকে। যদিও তার পুরো বিপরীত তবে ভাল ছেলে। নোমান সব সময় সব ধরনের মানুষের সাথে পরিচয় রাখতে পছন্দ করে। তার উপর কথায় কথায় বুঝা গিয়েছিল ভাল ছাত্র আবিদ কিন্তু সেটা নিয়ে কথায় কোন রকম অহংকার ছিল না। তাই ছেলেটাকে ভাল নজরে দেখেছে নোমান। সিগারেটটা ফেলে দেয় রাস্তায় নোমান। চায়ের দোকানের দিকে তাকিয়ে বলে, মামা বাইকটার দিকে একটু নজর রাইখো। আমি আসতেছি পাচ মিনিট। এই বলে ব্যস্ত রাস্তা পের হয়।
আবিদ রাস্তার মাঝে হিজড়াদের আচরণে একদম হতচকিত হয়ে গেছে। কি বলবে বুঝতে পারছে না। যে দুই একটা কথা বলছে সেগুলো নিয়ে এমন ভাবে হাসি ঠাট্টা করছে যাতে আর বিব্রত হয়ে যাচ্ছে আবিদ। এমন সময় রাস্তার অন্য দিক থেকে কেউ এসে দাঁড়াল। নোমান। হাতে ফোন। চোখে একটা শান্ত ভাব। যত অল্প পরিচিত হোক না কেন এই সময় একটা পরিচিত মুখ সামনে দেখে যেন জীবন ফিরে পেল আবিদ। নোমান পরিস্থিতিটা এক নজরে দেখে নিল। তারপর হাসিমুখে এগিয়ে এল।
“কী হয়েছে এখানে?”
হিজড়াগুলো ঘুরে তাকাল। নোমানকে দেখে একটু থতমত খেল। লম্বাটা বলল,
“কিছু না ভাই। এই ছেলেটার কাছে একটু পয়সা চাইছিলাম। এতে রাগ করছে।”
নোমান আবিদের দিকে একবার তাকাল। আবিদের মুখ লজ্জায় ও রাগে লাল। তারপর হিজড়াদের দিকে তাকিয়ে নরম গলায় বলল,
“আচ্ছা। কত লাগবে?”
লম্বাটা একটু অবাক হয়ে বলল,
“দুইশো টাকা দিলেই হয় ভাই।”
নোমান পকেট থেকে একশো টাকার একটা নোট বের করে দিল।
“নাও। এখন যাও। আর কাউকে জ্বালাতন কোরো না।”
হিজড়াগুলো একশ টাকার নোট দেখে খুশি হল। তবে লম্বাটা নোমানের দিকে তাকিয়ে বলল,
“আমরা তো ২০০ টাকা চাইছিলাম”
নোমান বলে,
“আমরা ছাত্র মানুষ ভাই। ২০০ টাকা অনেক টাকা। আজকে ১০০ টাকা নাও, পরে চাকরি পাইলে বেশি টাকা নিয়ে নিও রাস্তায় ধইরা।” এই বলে হাসি দেয় নোমান।
নোমানের হাসিতে তাল মিলায় হিজড়া চারজন। ছোট জন আবিদ কে বলে,
“দেখ সোনা, এই ছেলেটা কত ভালো। সুন্দরও। তোর মতো কিপটে না। তুই শিখ। এমন ছেলে হও। আর ব্যবহার কত ভাল”
লম্বাজন বলল,
“সত্যি। এই ভাইয়ের মতো হলে কেউ রাগ করত না।”
তারা হাসতে হাসতে সরে গেল। একজন পেছন ফিরে আবার বলল,
“ভাই তুমি ভালো থেকো। আশীর্বাদ রইল। তুই ভাল মেয়ে পাবি।” আর আবিদের দিকে তাকিয়ে বলল,
“এইভাবে কিপটামি করলে আর খারাপ ব্যবহার করলে তুই মেয়ে পাবি না। হিজড়ার অভিশাপ কিন্তু বড় অভিশাপ।”
নোমান কিছু বলল না। শুধু মাথা নাড়ল। তারপর আবিদের দিকে তাকাল।
আবিদ দাঁড়িয়েছিল। মাথা নিচু করে। কান দুটো এখনো লাল। সে মুখ তুলে নোমানের দিকে তাকাল। গলায় স্বর কম।
“ধন্যবাদ। তুমি না আসলে... জানি না কী হতো ভাই।”
নোমান কাঁধ ঝাঁকাল। আবিদের কাধে হাত দিয়ে আশ্বাস দিল,
“কিছু না। এসব হয়। চল, একটু সামনে যাই।”
তারা পাশাপাশি হাঁটতে শুরু করল। আবিদ কথা বলছিল না। মনে মনে সেই কথাগুলো ঘুরছিল। “কিপটে”, “পুরুষমানুষ সেজেছো”, “ভেতরে অন্যরকম”। হিজড়াগুলোর হাসি তার কানে বাজছিল। লজ্জায় বুকটা কেমন করে উঠছিল। নোমান তার পাশে হাঁটছে। শান্ত। কোনো প্রশ্ন করছে না। কোনো মজাও করছে না। এটাই আবিদের আরও লজ্জা বাড়াচ্ছিল।
একটু পর নোমান বলল,
“তুমি বাসায় যাচ্ছ?”
আবিদ মাথা নাড়ল।
“হ্যাঁ।”
“তাহলে ঠিক আছে। আমি অন্য দিকে যাব।”
আবিদ থেমে দাঁড়াল।
“আবারও ধন্যবাদ। সত্যিই। আজকে তুমি না থাকলে বিপদে পড়তাম।”
নোমান হাসল। হালকা।
“থাক। কোনো ব্যাপার না। আমরা বন্ধু মানুষ। আর বন্ধু কে বন্ধু হেল্প না করলে কে করবে বল।” এত সহজে বন্ধু বলায় আবিদ অবাক হলো তবে খুশি হলো। ছোট বেলা থেকে আবিদ সহজে বন্ধু বানাতে পারে না। তাই এত সহজে কেউ তাকে বন্ধু বলছে এতে খুশি হল। আবিদের ইতস্তত দেখে নোমান বলল,
“চিন্তা করো না। রাস্তায় এমন দুই একবার হিজড়াদের পাল্লায় পরে নি খুব কম মানুষ আছে। ভেবো না।”
আবিদ বলল,
“ আমি ভড়কে গিয়েছিলাম। তুমি কেমন শান্ত ভাবে সব হ্যান্ডেল করলে।”
নোমান একটু হেসে বলল,
“ আরে ওদের ভয় পাবার কিছু নেই। ওরাও মানুষ। সহজে কোথায় কাজ পায় না। তাই এইসব করে খেতে হয়।”
আবিদ নোমানের হিজড়াদের প্রতি সহানুভূতি দেখে অবাক হয়। নোমান কে যতটা শ্যালো ভেবেছিল তার থেকে অন্যরকম নোমান। সেদিনের ইরান যুদ্ধের আলোচনা আজকের হিজড়াদের হ্যান্ডল করা আবার ঠিক তার পরে তাদের প্রতি সহানূভূতি। মনে মনে ভাবে ডোন্ট জাজ এ বুক বাই ইটস কভার।
আবিদ এইবার পকেট থেকে একশ টাকা বের করে নোমান কে দিতে যায়। নোমান না না করে। বলে এরপর আরেকদিন ক্যাম্পাসে ওকে লাঞ্চ খাবাতে হবে। আর সেদিন আরেক দফা আড্ডা হবে। আবিদ জোর করে তবু টাকা নিতে নারাজ নোমান। আবিদের অসস্তি দেখে নোমান বলে ধরে নাও এইটা আমাদের বন্ধুত্বের প্রথম বিনিয়োগ। পরে তুমি খাওয়াবা আমাকে। শোধ হয়ে যাবে। হেসে উঠে দুইজন। নোমান বলে ওকে যেত হবে। আবিদ বলে আজকের ঘটনাটা কাউকে বলো না। আবিদের ইতস্তত বোধ দেখে নোমান বুঝে আবিদ এখনো লজ্জা কাটাতে পারে নি। নোমান বলে চিন্তা করো না। ইউর সিক্রেট ইজ সেফ উইথ মি।
তারপর সে অন্য দিকে ঘুরে হাঁটতে শুরু করল। আবিদ তাকে যেতে দেখল। মনে মনে একটা কৃতজ্ঞতা জমা হয়ে রইল। কিন্তু তার সাথে মিশে ছিল লজ্জা। তীব্র লজ্জা। হিজড়াগুলো তাকে টিজ করেছে। তার পুরুষত্ব নিয়ে কথা বলেছে। আর নোমান সেটা দেখেছে। এটা সে কাউকে বলতে পারবে না।
রাত সাড়ে দশটা। বুশরার ফোন এল। আবিদ বিছানায় শুয়ে ফোন ধরল।
“আজকের দিন কেমন কাটল?” বুশরা জিজ্ঞেস করল।
আবিদ একটু চুপ থেকে বলল,
“স্বাভাবিক। ক্লাস হয়েছে। একটু পড়াশোনা করেছি।”
বুশরা বলল,
“কিছু হয়েছে আজকে? বলার মতো কিছু?”
আবিদের বুকে একটা চাপ অনুভব হলো। হিজড়াগুলোর মুখ চোখের সামনে ভেসে উঠল। নোমানের মুখও। সে গলা পরিষ্কার করে বলল,
“না। কিছু না। সব ঠিক আছে।”
বুশরা একটু চুপ করে থাকল। তারপর বলল,
“ঠিক আছে। তুই ক্লান্ত মনে হচ্ছে। ঘুমা।”
আবিদ বলল,
“তুইও ঘুমা।”
কল কেটে গেল। আবিদ ফোনটা বালিশের পাশে রাখল। ছাদের দিকে তাকিয়ে রইল। মনে মনে নোমানের কথা ঘুরছিল। সে টাকা দিয়ে পরিস্থিতি সামলেছে। কোনো হট্টগোল করেনি। কোনো অপমান করেনি। শুধু একশ টাকা দিয়ে সব শেষ করেছে। আর হিজড়াগুলো তাকে প্রশংসা করে গেছে। আবিদকে কিপটে বলেছে।
আবিদের মনে হলো, সে নোমানের কাছে ছোট হয়ে গেছে। লজ্জায়। অথচ নোমান তাকে বিপদ থেকে বের করে এনেছে। এই কৃতজ্ঞতাটা সে কাউকে বলতে পারবে না। বুশরাকেও না। কারণ বলতে গেলে পুরো ঘটনাটা বলতে হবে। আর সেটা বললে তার নিজেরই লজ্জা বাড়বে। সে চোখ বন্ধ করল। মনে মনে শুধু একটা কথা বলল, নোমানকে ধন্যবাদ। সত্যিই ধন্যবাদ। কিন্তু এ কথা সে কারো কাছে উচ্চারণ করবে না।



![[+]](https://xossipy.com/themes/sharepoint/collapse_collapsed.png)