08-09-2026, 06:02 PM
প্রথম পর্ব
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে।
বাজারের চারপাশে তখনও মানুষের ব্যস্ততা কমেনি। মাছের আড়তগুলোতে শেষ মুহূর্তের বেচাকেনা চলছে। কোথাও বরফ ভাঙার শব্দ, কোথাও মাছের ঝুড়ি টানার শব্দ, আবার কোথাও ব্যবসায়ীদের হিসাব-নিকাশের ব্যস্ততা।
আমি আমার গদির কাঠের চেয়ারে বসে খাতাটা সামনে মেলে ধরলাম।
বাবা মারা যাওয়ার পর এই মাছের ব্যবসাটাই আমার কাঁধে এসে পড়েছে। আগে ম্যানেজার ছিল তাকে বাদ দিয়েছি, বাবা মাড়া জাবার পরে জখন গদিতে জাই এবং হিসেব চাই তখন কোন হিসেব ঠিক মত দিতে পারেনি। প্রায় ৩০-৪০ লক্ষ টাকার ফ্যাড় ধরা পরেছে তাকে তখনি বাদ দিয়েছি। এখন নিজেই সব সামলাই ছোটবেলা থেকেই বাবাকে এই গদিতে বসতে দেখেছি। তখন ভাবিনি, একদিন আমাকেও ঠিক একই জায়গায় বসে হিসাব মেলাতে হবে।
খাতার পাতায় চোখ রাখলেও আজ কেন জানি মনটা হিসাবের মধ্যে ছিল না।
সকালে মাকে ঢাকায় বোনের বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছি।
আমার একমাত্র বোন। বয়সে আমার ৩ বছরের ছোট হলেও সংসারের দিক দিয়ে আমার চেয়ে অনেক এগিয়ে গেছে। বিয়ে হয়েছে ৫-৬ বছরের বেশি হবে। দুলাভাই (মিলন মল্লিক) আগে চাকরি করতো সরকারি মন্ত্রনালয়ে, ব্যাপক টাকা কামাইছে ১০ বছরে। সরকার পল্টি খাবার পরে কোন দিশা না পেয়ে ইতালি গিয়েছে বছর তিনেক হল। ইতালির নাগরিকত্ব নেয়ার ধান্দায় আছে, পেলেই বোনকে ওইখানে নিয়ে জাবে। ওদের একটা বাচ্চা আছে (আবরার)। দুলাভাই ইতালিতে থাকেন। তাই মা প্রায়ই বোনের কাছেই থাকেন বছরে হিসেব করলে প্রায় বছরের অর্ধেক সময়।
মিলন ইতালি জাবার পরে এই সমস্যাটা বেরেছে। মিলনের আবার মা বাবা নাই। ওর দুই বোন তাও বিবাহিত তাই তারাও এসে থাকতে পারে না, ওড়া জদি বাড়ি ছেড়ে চলে আশে তাহলে এলাকার নেতা ফেতাড়া বাড়ি ঘড়ের দখল নিতে পারে সেই ভয়ে। জদিও মিলনের ২ চাচা রাজনৈতিক দলের লোক তাই একটু নিশ্চিন্তে থাকতে পারছে। ওর বাড়িতে বোন ভয়ে ভয়ে থাকে মা গিয়ে থাকে ওর ওইখানে, আবার মাঝে মাঝে ওর বোনেরা এসে থাকে এভাবেই চলছে বোনটার জীবন।
আর আমি?
আমি এই গদির মানুষ।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাছের ব্যবসা। গদিতেই খাওয়া, গদিতেই ঘুম। মাঝে মাঝে মনে হয়, আমার আসল ঠিকানা বাড়ি নয়—এই গদিটাই।
আমি খাতার একটা পাতায় কলম ঠুকতে ঠুকতে হিসাব মিলাচ্ছিলাম।
“এই টাকাটা গেল কোথায়?”
নিজের মনেই কথাটা বললাম।
তারপর আবার হিসাব করতে শুরু করলাম।
কিছুক্ষণ পর খাতাটা বন্ধ করে মোবাইলটা হাতে নিলাম।
প্রথমেই বোনকে ফোন দিলাম।
দুইবার রিং হওয়ার পর ওপাশ থেকে বোন ফোন ধরল।
— হ্যালো ভাইয়া?
— মা পৌঁছেছে?
— হ্যাঁ, পৌঁছে গেছে। এই তো আমার পাশেই বসে আছে।
মায়ের কথা শুনে বুকটা একটু হালকা হলো।
— ঠিকমতো গেছে তো? রাস্তায় কোনো সমস্যা হয়নি?
বোন হেসে বলল,
— না ভাইয়া। তুমি মাকে নিয়ে এত চিন্তা করো কেন? মা তো আর ছোট বাচ্চা না।
— জানি। তারপরও...
কথাটা শেষ করলাম না।
ওপাশ থেকে মা বললেন,
— তুই খেয়েছিস?
আমি একটু হেসে বললাম,
— হ্যাঁ, খেয়েছি।
মা সঙ্গে সঙ্গে বুঝে গেলেন আমি মিথ্যা বলছি।
— মিথ্যা কথা বলিস না। তুই আবার গদিতে বসে শুকনা কিছু খেয়ে আছিস, তাই না?
আমি চুপ করে গেলাম।
বোন হেসে উঠল।
— দেখেছো মা, আমি বলেছিলাম না ভাইয়া একদিন গদিকেই বিয়ে করবে!
— চুপ কর তো!
আমি বিরক্ত হওয়ার ভান করলাম।
বোন আরও জোরে হাসতে লাগল।
— আচ্ছা ভাইয়া, রাখি। মা একটু পর খাবে।
— ঠিক আছে। মাকে খাইয়ে দিস।
— আচ্ছা।
ফোনটা কেটে দিলাম।
কিছুক্ষণ মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইলাম।
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে।
বাজারের চারপাশে তখনও মানুষের ব্যস্ততা কমেনি। মাছের আড়তগুলোতে শেষ মুহূর্তের বেচাকেনা চলছে। কোথাও বরফ ভাঙার শব্দ, কোথাও মাছের ঝুড়ি টানার শব্দ, আবার কোথাও ব্যবসায়ীদের হিসাব-নিকাশের ব্যস্ততা।
আমি আমার গদির কাঠের চেয়ারে বসে খাতাটা সামনে মেলে ধরলাম।
বাবা মারা যাওয়ার পর এই মাছের ব্যবসাটাই আমার কাঁধে এসে পড়েছে। আগে ম্যানেজার ছিল তাকে বাদ দিয়েছি, বাবা মাড়া জাবার পরে জখন গদিতে জাই এবং হিসেব চাই তখন কোন হিসেব ঠিক মত দিতে পারেনি। প্রায় ৩০-৪০ লক্ষ টাকার ফ্যাড় ধরা পরেছে তাকে তখনি বাদ দিয়েছি। এখন নিজেই সব সামলাই ছোটবেলা থেকেই বাবাকে এই গদিতে বসতে দেখেছি। তখন ভাবিনি, একদিন আমাকেও ঠিক একই জায়গায় বসে হিসাব মেলাতে হবে।
খাতার পাতায় চোখ রাখলেও আজ কেন জানি মনটা হিসাবের মধ্যে ছিল না।
সকালে মাকে ঢাকায় বোনের বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছি।
আমার একমাত্র বোন। বয়সে আমার ৩ বছরের ছোট হলেও সংসারের দিক দিয়ে আমার চেয়ে অনেক এগিয়ে গেছে। বিয়ে হয়েছে ৫-৬ বছরের বেশি হবে। দুলাভাই (মিলন মল্লিক) আগে চাকরি করতো সরকারি মন্ত্রনালয়ে, ব্যাপক টাকা কামাইছে ১০ বছরে। সরকার পল্টি খাবার পরে কোন দিশা না পেয়ে ইতালি গিয়েছে বছর তিনেক হল। ইতালির নাগরিকত্ব নেয়ার ধান্দায় আছে, পেলেই বোনকে ওইখানে নিয়ে জাবে। ওদের একটা বাচ্চা আছে (আবরার)। দুলাভাই ইতালিতে থাকেন। তাই মা প্রায়ই বোনের কাছেই থাকেন বছরে হিসেব করলে প্রায় বছরের অর্ধেক সময়।
মিলন ইতালি জাবার পরে এই সমস্যাটা বেরেছে। মিলনের আবার মা বাবা নাই। ওর দুই বোন তাও বিবাহিত তাই তারাও এসে থাকতে পারে না, ওড়া জদি বাড়ি ছেড়ে চলে আশে তাহলে এলাকার নেতা ফেতাড়া বাড়ি ঘড়ের দখল নিতে পারে সেই ভয়ে। জদিও মিলনের ২ চাচা রাজনৈতিক দলের লোক তাই একটু নিশ্চিন্তে থাকতে পারছে। ওর বাড়িতে বোন ভয়ে ভয়ে থাকে মা গিয়ে থাকে ওর ওইখানে, আবার মাঝে মাঝে ওর বোনেরা এসে থাকে এভাবেই চলছে বোনটার জীবন।
আর আমি?
আমি এই গদির মানুষ।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মাছের ব্যবসা। গদিতেই খাওয়া, গদিতেই ঘুম। মাঝে মাঝে মনে হয়, আমার আসল ঠিকানা বাড়ি নয়—এই গদিটাই।
আমি খাতার একটা পাতায় কলম ঠুকতে ঠুকতে হিসাব মিলাচ্ছিলাম।
“এই টাকাটা গেল কোথায়?”
নিজের মনেই কথাটা বললাম।
তারপর আবার হিসাব করতে শুরু করলাম।
কিছুক্ষণ পর খাতাটা বন্ধ করে মোবাইলটা হাতে নিলাম।
প্রথমেই বোনকে ফোন দিলাম।
দুইবার রিং হওয়ার পর ওপাশ থেকে বোন ফোন ধরল।
— হ্যালো ভাইয়া?
— মা পৌঁছেছে?
— হ্যাঁ, পৌঁছে গেছে। এই তো আমার পাশেই বসে আছে।
মায়ের কথা শুনে বুকটা একটু হালকা হলো।
— ঠিকমতো গেছে তো? রাস্তায় কোনো সমস্যা হয়নি?
বোন হেসে বলল,
— না ভাইয়া। তুমি মাকে নিয়ে এত চিন্তা করো কেন? মা তো আর ছোট বাচ্চা না।
— জানি। তারপরও...
কথাটা শেষ করলাম না।
ওপাশ থেকে মা বললেন,
— তুই খেয়েছিস?
আমি একটু হেসে বললাম,
— হ্যাঁ, খেয়েছি।
মা সঙ্গে সঙ্গে বুঝে গেলেন আমি মিথ্যা বলছি।
— মিথ্যা কথা বলিস না। তুই আবার গদিতে বসে শুকনা কিছু খেয়ে আছিস, তাই না?
আমি চুপ করে গেলাম।
বোন হেসে উঠল।
— দেখেছো মা, আমি বলেছিলাম না ভাইয়া একদিন গদিকেই বিয়ে করবে!
— চুপ কর তো!
আমি বিরক্ত হওয়ার ভান করলাম।
বোন আরও জোরে হাসতে লাগল।
— আচ্ছা ভাইয়া, রাখি। মা একটু পর খাবে।
— ঠিক আছে। মাকে খাইয়ে দিস।
— আচ্ছা।
ফোনটা কেটে দিলাম।
কিছুক্ষণ মোবাইলের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে রইলাম।


![[+]](https://xossipy.com/themes/sharepoint/collapse_collapsed.png)