Thread Rating:
  • 13 Vote(s) - 3.08 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
Adultery ছায়ার আড়ালে আগুন-Erotic Thriller [Part-4: অন্তিম যুদ্ধ]
#89
গল্প: "ছায়ার আড়ালে আগুন" (পার্ট-৪: অন্তিম যুদ্ধ)


সপ্তষট্তিতম পরিচ্ছেদ: মিতালি সেনের রাজনৈতিক প্ল্যানিং


রুবিনা বেগমের মৃত্যুর পর মিতালি সেন আর সময় নষ্ট করেননি। আবগারী দফতর এবং মহিলা উইং দুটোই এখন তাঁর হাতে। এই দুই জায়গা একসঙ্গে পাওয়ার অর্থ তিনি খুব ভালো করে বুঝতেন। মহিলা উইং মানে সংগঠনের ভিতরের প্রভাব। আর আবগারী মানে টাকা, তথ্য এবং নিয়ন্ত্রণ। রুবিনার মৃত্যু তাঁকে একটা বিরল সুযোগ এনে দিয়েছে। এখন সেই সুযোগকে পাকাপোক্ত করাই তাঁর একমাত্র কাজ।

সেই সন্ধ্যায় মিতালি নিজের বাড়ির উপরের ঘরে একা বসেছিলেন। টেবিলের উপর কয়েকটা ফাইল ছড়ানো। তিনি একটা ফাইল খুলে দেখছিলেন, তারপর বন্ধ করে আরেকটা খুলছিলেন। সিগারেটের ধোঁয়া ঘরের বাতাসে ভাসছিল। মনে মনে তিনি হিসেব কষছিলেন।

আবগারী দফতর নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা স্পষ্ট ছিল। প্রথমেই দফতরের ভেতরটা নিজের লোক দিয়ে ভরে ফেলতে হবে। রুবিনার সময় যাদের সুবিধা হয়েছিল, যাদের উপর রুবিনার আস্থা ছিল, তাদের সরিয়ে দিতে হবে। বদলি, বাধ্যতামূলক ছুটি কিংবা ডিপার্টমেন্টাল অ্যাকশন— যেভাবেই হোক তাদের সরিয়ে নতুন অফিসার বসাতে হবে। এমন লোক বসাতে হবে যারা শুধু তাঁর কথা শুনবে। এতে দফতরের ভেতরের তথ্য সরাসরি তাঁর কাছে আসবে। কোন সিন্ডিকেট কত টাকা দেয়, কোন অফিসার কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখে, কোন এলাকায় কতটা মদ ও মাদক চলাচল করে— সবকিছুর খবর তিনি রাখতে পারবেন। তথ্য মানেই ক্ষমতা। আর আবগারী দফতরের তথ্য মানে দ্বিগুণ ক্ষমতা। এর পাশাপাশি রুবিনার আমলের অনিয়মগুলোও খুঁজে বের করতে হবে। তিনি যদি সেগুলো নিয়ন্ত্রিতভাবে বের করতে পারেন, তাহলে একদিকে নিজেকে সংস্কারক হিসেবে দেখাতে পারবেন, অন্যদিকে সেই তথ্য অস্ত্র হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে। প্রয়োজনে কাউকে চাপে রাখা যাবে।

মহিলা উইং নিয়ে তাঁর ভাবনা আরও দীর্ঘমেয়াদি ছিল। শুধু মিটিং আর মিছিল দিয়ে উইং চলবে না। জেলায় জেলায় নিজের বিশ্বস্ত মহিলা নেত্রীদের বসাতে হবে। এমন নেত্রী যারা তাঁর কথা শুনবে, তাঁর স্বার্থ দেখবে। মহিলা ভোটারদের মধ্যে তাঁর ভাবমূর্তি আরও মজবুত করতে হবে। একই সঙ্গে পার্টির ভেতরে কেউ যেন তাঁর বিরুদ্ধে গলা তুলতে না পারে— সেই ব্যবস্থাও গড়ে তুলতে হবে। মহিলা উইংকে তিনি একটা চাপের হাতিয়ার বানাতে চেয়েছিলেন। প্রয়োজনে রাস্তায় নামানো যাবে, প্রয়োজনে পার্টি হাইকমান্ডের উপরও চাপ তৈরি করা যাবে।

আর অংশুমানকে নিয়েও তার অনেক হিসেব রয়েছে। ছেলে হলেও রাজনীতিতে আলাদা হিসেব চলে— মিতালি এ কথা ভুলে যাননি। রুবিনার মৃত্যুর পর অনেকের মুখে অংশুমানের নাম উঠছে। কেউ কেউ ফিসফিস করে বলছে, রুবিনার মৃত্যুতে অংশুমানেরই লাভ হয়েছে। মিতালি চান না এই আলোচনা বড়ো আকার ধারণ করুক। তাই অংশুমানকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। পুরোপুরি দূরে সরিয়ে দিলে সে বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। আবার আগের মতো ঢালাও স্বাধীনতা দিলেও সমস্যা। তাই মাঝামাঝি রাস্তাই ভালো। অংশুমানকে কাজে লাগাতে হবে, কিন্তু বেপরোয়া হতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে তাঁর মাধ্যমে কিছু কাজ করানো যাবে, যা সরাসরি মিতালির নামে আসবে না। আবার যখন প্রয়োজন হবে, অংশুমানকেই সামনে রেখে নিজেকে পেছনে সরিয়ে নেওয়া যাবে।

মিতালি সিগারেটের শেষ টান দিয়ে নিভিয়ে দিলেন। জানালার বাইরে শহরের আলো জ্বলে উঠেছে। তিনি জানতেন, ক্ষমতা এসেছে। এবার সেই ক্ষমতাকে এমনভাবে গাঁথতে হবে যাতে কেউ সহজে কেড়ে নিতে না পারে। আবগারী দিয়ে তথ্য ও টাকা, মহিলা উইং দিয়ে সংগঠন ও চাপ, আর অংশুমানকে দিয়ে প্রয়োজনমতো কাজ— এই তিনটে মিলিয়েই তিনি নিজের জায়গা আরও মজবুত করবেন। রুবিনার মৃত্যু একটা সুযোগ এনে দিয়েছে। মিতালি সেন সেই সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নন।
[+] 2 users Like indonetguru's post
Like Reply


Messages In This Thread
RE: ছায়ার আড়ালে আগুন-Erotic Thriller [Part-4: অন্তিম যুদ্ধ] - by indonetguru - 12-08-2026, 08:51 PM



Users browsing this thread: 1 Guest(s)