(১৮)
এখন রাত ১০টা বাজে। দুই ঘন্টা যাবত টিভির রুমে ফোন নিয়ে বসে আছি। এই বুঝি ওরা ফোন দিচ্ছে। কিন্তু না। বুঝলাম সারাদিন এই অফিস ঐ অফিস দৌড়াদৌড়ি। কিন্তু রাতেও কি অফিস খুলা থাকে? তাহলে রাতে তো একবার ফোন দিতে পারে। নাকি?
আমার খুব কান্না পাচ্ছে। বিশেষ করে মায়ের উপর রাগ হচ্ছে। রাব্বীল পুরুষ মানুষ, যদিও কাজে ব্যাস্ত, কিন্তু আম্মু তো আমায় একবার ফোন দিতে পারে!
আমি জীবনেও একা বাসায় থাকিনি। তাও এখন আবার রাতে। সারা বাসার লাইট অন করে রেখেছি। অনেক্ষণ ধরে বাথরুম চাপ দিসে, যায়না, ভয়ে। পোলার বাপকেও মেসেজ দিচ্ছি। কোনো রেস্পন্স নাই।
আমার কলেজ বান্ধবি নাইনাকে একবার ফোন দিই। তার সাথে কথা বলেই সময় কাটাই। টিভিতেও মন শান্ত হচ্ছেনা।
“হ্যালো নাইনা? আমি মিম বলছি।”
“তুই আমার নাম্বার কোথায় পেলি?”
“আগে থেকেই তো আছে আমার কাছে।”
“তা তোর এখন কি খবর বল। কলেজ তো বাদ দিয়ে দিয়েছিস। ভাইয়ার শোক থেকে বেরোতে পারলি? অন্তত কলেজ আই। সবার সাথে মিশ। দেখবি ভালো লাগবে।”
“তুই কিভাবে জানলি তোর ভাইয়ার ব্যাপার?”
“কেন? কলেজের সবাই জানে।”
কি সর্বনাশ! এখন সবাইকে কিভাবে বলবো আমার স্বামি বেচে আছে। কেউ তাকে কিডনাফ করেছিলো। শুনলেই তো মানুষ হাসবে। আর নাইনাকেই বা কি বলবো?
“.........”
“কি রে, চুপে গেলি কেন? কেমন আছিস?”
আমি এখন কি উত্তর দিব বুঝতে পাচ্ছিনা। মনে হচ্ছে ফোনটা করেই ভুল করে ফেলেছি। আর কথা বলতেও ভাল্লাগছেনা। কান্না পাচ্ছে খুব।
“নাইনা, থাক রে, পরে কথা বলছি।”
“কেন কি হ……….”
ওর আর কোনো কথাই শুনলাম না। ফোন কেটে দিলাম। আমার আর কলেজ যাওয়া হবেনা। কলেজের সবাই জানে আমার স্বামি মারা গেছে। আবার এও যদি জানে স্বামি আবার বেচে আছে, সবাই এই নিয়ে হাসাহাসি করবে। আমি জীবনেও আর কলেজ যাবোনা।
খুব কান্না পাচ্ছে আমার।
পোলার বাপকে আবার একটা মেসেজ দিলাম–----আরাফাত তুমি কি খুব বিজি?
কোনো উত্তর নাই। আম্মুকে ফোন দিলাম। ওদের বাসায় ডেকে নিব। দরকার নাই বাড়ির ঝামেলা মিটানো। আমি একা থাকতে পারবোনা। আমার খুব খারাপ লাগছে। কান্না পাচ্ছে।
আম্মুকে ফোন দিলাম। ফোন বন্ধ। মানে????
আম্মুর ফোন বন্ধ কেন? আমার ভয় আরো বেড়ে গেলো।
তড়িৎ রাব্বীলকে ফোন দিলাম। ফোন বাজছে। প্লিজ স্বামি ফোন ধরো জলদি। আমি আর একা বাসায় থাকতে পাচ্ছিনা। খুব ভয় লাগছে।
ফোন বাজছে। ফোন ধরছেনা। কিন্তু কেন?
ফোন বেজে বেজে কেটে গেলো। ধরলোনা।
আবার ফোন দিলাম। এদিকে আবার বুকে কাপুনি শুরু হয়ে গেছে। কি হচ্ছে এসব আমার সাথে?
এবারো ফোন ধরলোনা।
আবার দিলাম। ৩ বার, ৪বার, ৫বার, ৬ বার……২০বার টানা ফোন দিলাম। ফোন ধরছেনা। আমার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। পানি খাওয়া দরকার। নয়তো দম বন্ধ হয়ে মারাই যাবো।
এক গ্লাস পানি খেলাম। রুমে গেলাম। সোজা বেডে সুয়ে গেলাম। শরীর অজ্ঞান হবে মনে হচ্ছে। রাব্বীল না থাকাতে ৪ বার আমাকে মেডিক্যালে ভর্তি হতে হয়েছে। ৩বারই অসুধ খেয়ে মরতে গেছিলাম। শেষবার এমনিতেও না খেয়ে থেকে থেকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম।
আবার মনে হচ্ছে সেম অবস্থা হতে যাচ্ছে আমার। সেন্সলেশ হয়ে যাবো না তো! আল্লাহ আল্লাহ করছি। আল্লাহ এমনটা যাতে না হয়। নয়তো আমি শেষ। বাসায় কেউ নেই।
ফোন হঠাত কেপে উঠলো। মেসেজ এসেছে।
bdhome.com থেকে রিপা আপু মেসেজ দিয়েছে–---- “কেমন আছো মিম আপু?”
আহহ বাচা গেলো। কেউ একজন তো পাইসি কথা বলার।
“আপু, আপনার ফোন নাম্বার দেওয়া যাবে?”
আমার এখন কথা বলা দরকার। মেসেজ লিখতে পারবোনা।
রিপা আপু সাথে সাথে আমাকে উনার নাম্বার দিলো।
নাম্বারটা ফোনে তুলেই তাকে ফোন দিলাম।
আমার কথা বের হচ্ছেনা। ওদিকে আপু ফোন রিসিভ করে হ্যালো হ্যালো করেই যাচ্ছে।
আমি জোর করে কোনো মতে বলমাম, “আপু আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।”
“ওমা কি বলছো তুমি? কেন কি হয়েছে তোমার? পাশে কেউ নাই? কাউকে ডাকো? পানি খাও। ফোনটা কাউকে দাও তো!”
আমি শুনছি। কিন্তু মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছেনা। বুঝতে পাচ্ছি, ঐদিকে আপু চিল্লাফাল্লা শুরু করে দিয়েছে।
“আপু কি হয়েছে তোমার। আমি পুলিশকে ফোন দিব? কেউ তোমায় কিছু করছে? কিছু তো বলো আপু?”
“আয়ায়ায়ায়ায়ায়াপু, আয়ায়ামি অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছি।”
“আপু তোমার ঠিকানা বলো। আমরা আসছি। তুমি পানি খাও। শান্ত হও আপু। তোমার কিচ্ছুই হবেনা। তোমার ঠিকানা বলো আমরা আসছি। নয়তো পুলিশ পাঠাচ্ছি। তোমার ঠিকানা বলো।”
“পুপুউউউলিশ লাগবেনা আপু। আমার বাসায় কেউ নাই। সবাই বাবাবাইরে গেছে। একা একায়ায়ায়া ভয়েএএ এমন হচ্ছে।”
“আমি আসবো? তুমি কোনো এড়িয়াই থাকো বলো তো? ঠিকানা দাও।”
আমার মাথায় কোনো কাজ করছেনা। আল্লাহ আল্লাহ করছি যেন অজ্ঞান না হয়ে যাই।
রিপা আপুকে আমার বাসার ঠিকানা দিয়ে দিলাম।
আপু বললো, তুমি পানি খাও, আমি ২০ মিনিটের মধ্যেও আসছি। এসে ফোন দিব তখন বাইরে আসিও কস্ট করো। আর নয়তো ফোন কাটিওনা। ফোনেই থাকো। আমি আসছি। তোমার কিচ্ছুই হবেনা আপু। আমি আসছি।
আমি বালিশে মাথা দিয়ে কানের উপর ফোনটা রেখে কাত হয়ে সুয়ে আছি। শরিরে যেন শক্তি পাচ্ছিনা। রিপা আপু আসুক। পাশে অন্তত কেউ একজন দরকার। নয়তো আমাকে কালকেই কবরে পাবে সবাই।
আপু ফোনে এটা সেটা কি যেন বলেই যাচ্ছে। পাশে বোধাই অন্য কেউ আছে। আমার কানে সব কথা ঢুকলেও মানসিক অবস্থা এমন যে তা ক্যাচ করতে পাচ্ছিনা। জোর করে নিজেকে আটকিয়ে রেখেছি যাতে অজ্ঞান না হয়ে যায়।
এইভাবে কত সময় গেছে জানিনা।
আমার ফোনের ভাইব্রেশনে বুঝতে পারলাম। ফোন আবার কাপছে। ফোন কখন যে কেটে গেছে জানিনা।
রিপা আপুর ফোন।
“আপু, আমি তোমার ঠিকানাই। একটু বাইরে আসো কস্ট করে।”
আমি টলতে টলতে বাইরে গেলাম। গেট খুলে দেখি একটা বাইক দাঁড়িয়ে। পাশে একজন দেখতে শর্ট করে একজন মেয়ে * পড়ে আছে। মেয়েটিই আমার দিকে আসলো। বললো, হাই,আমি রিপা। তুমি কি মিম?
আমি কোনো মতে পরিচয় করিয়ে বললাম, ভেতরে আসুন।
লোকটিও আসলো ভেতরে। মাথায় হেলমেট তাই বুঝতে পারছিনা বয়স কেমন বা সে কে।
গেইটের ভেতরে বাইক রাখলো। বাসার ভেতরে নিয়ে আসলাম। রিপা আপু আমার হাত ধরে আছে।
ভেতরে আসলেই রিপা আপু পরিচয় করালো, “এই হচ্ছে আমার স্বামি। আলামিন।”
আমি উনার দিকে তাকালাম। প্রথম দেখলাম। বেশ লম্বা। গায়ের রঙ শ্যাম। নাক চওড়া।
“আপু তোমার রুম কোনটা বলো, আমিই নিয়ে যাচ্ছি।” রিপা আপু আমার হাত ধরে বললেন।
আপুর ব্যবহার আমাকে মুগ্ধ করলো। আমি আমার রুমের দিকে ইশারা করলাম। আর সাথে সাথেই রিপা আপুর কাধে মাথা হেলিয়ে জ্ঞান হারালাম।
এখন রাত ১০টা বাজে। দুই ঘন্টা যাবত টিভির রুমে ফোন নিয়ে বসে আছি। এই বুঝি ওরা ফোন দিচ্ছে। কিন্তু না। বুঝলাম সারাদিন এই অফিস ঐ অফিস দৌড়াদৌড়ি। কিন্তু রাতেও কি অফিস খুলা থাকে? তাহলে রাতে তো একবার ফোন দিতে পারে। নাকি?
আমার খুব কান্না পাচ্ছে। বিশেষ করে মায়ের উপর রাগ হচ্ছে। রাব্বীল পুরুষ মানুষ, যদিও কাজে ব্যাস্ত, কিন্তু আম্মু তো আমায় একবার ফোন দিতে পারে!
আমি জীবনেও একা বাসায় থাকিনি। তাও এখন আবার রাতে। সারা বাসার লাইট অন করে রেখেছি। অনেক্ষণ ধরে বাথরুম চাপ দিসে, যায়না, ভয়ে। পোলার বাপকেও মেসেজ দিচ্ছি। কোনো রেস্পন্স নাই।
আমার কলেজ বান্ধবি নাইনাকে একবার ফোন দিই। তার সাথে কথা বলেই সময় কাটাই। টিভিতেও মন শান্ত হচ্ছেনা।
“হ্যালো নাইনা? আমি মিম বলছি।”
“তুই আমার নাম্বার কোথায় পেলি?”
“আগে থেকেই তো আছে আমার কাছে।”
“তা তোর এখন কি খবর বল। কলেজ তো বাদ দিয়ে দিয়েছিস। ভাইয়ার শোক থেকে বেরোতে পারলি? অন্তত কলেজ আই। সবার সাথে মিশ। দেখবি ভালো লাগবে।”
“তুই কিভাবে জানলি তোর ভাইয়ার ব্যাপার?”
“কেন? কলেজের সবাই জানে।”
কি সর্বনাশ! এখন সবাইকে কিভাবে বলবো আমার স্বামি বেচে আছে। কেউ তাকে কিডনাফ করেছিলো। শুনলেই তো মানুষ হাসবে। আর নাইনাকেই বা কি বলবো?
“.........”
“কি রে, চুপে গেলি কেন? কেমন আছিস?”
আমি এখন কি উত্তর দিব বুঝতে পাচ্ছিনা। মনে হচ্ছে ফোনটা করেই ভুল করে ফেলেছি। আর কথা বলতেও ভাল্লাগছেনা। কান্না পাচ্ছে খুব।
“নাইনা, থাক রে, পরে কথা বলছি।”
“কেন কি হ……….”
ওর আর কোনো কথাই শুনলাম না। ফোন কেটে দিলাম। আমার আর কলেজ যাওয়া হবেনা। কলেজের সবাই জানে আমার স্বামি মারা গেছে। আবার এও যদি জানে স্বামি আবার বেচে আছে, সবাই এই নিয়ে হাসাহাসি করবে। আমি জীবনেও আর কলেজ যাবোনা।
খুব কান্না পাচ্ছে আমার।
পোলার বাপকে আবার একটা মেসেজ দিলাম–----আরাফাত তুমি কি খুব বিজি?
কোনো উত্তর নাই। আম্মুকে ফোন দিলাম। ওদের বাসায় ডেকে নিব। দরকার নাই বাড়ির ঝামেলা মিটানো। আমি একা থাকতে পারবোনা। আমার খুব খারাপ লাগছে। কান্না পাচ্ছে।
আম্মুকে ফোন দিলাম। ফোন বন্ধ। মানে????
আম্মুর ফোন বন্ধ কেন? আমার ভয় আরো বেড়ে গেলো।
তড়িৎ রাব্বীলকে ফোন দিলাম। ফোন বাজছে। প্লিজ স্বামি ফোন ধরো জলদি। আমি আর একা বাসায় থাকতে পাচ্ছিনা। খুব ভয় লাগছে।
ফোন বাজছে। ফোন ধরছেনা। কিন্তু কেন?
ফোন বেজে বেজে কেটে গেলো। ধরলোনা।
আবার ফোন দিলাম। এদিকে আবার বুকে কাপুনি শুরু হয়ে গেছে। কি হচ্ছে এসব আমার সাথে?
এবারো ফোন ধরলোনা।
আবার দিলাম। ৩ বার, ৪বার, ৫বার, ৬ বার……২০বার টানা ফোন দিলাম। ফোন ধরছেনা। আমার নিশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে। পানি খাওয়া দরকার। নয়তো দম বন্ধ হয়ে মারাই যাবো।
এক গ্লাস পানি খেলাম। রুমে গেলাম। সোজা বেডে সুয়ে গেলাম। শরীর অজ্ঞান হবে মনে হচ্ছে। রাব্বীল না থাকাতে ৪ বার আমাকে মেডিক্যালে ভর্তি হতে হয়েছে। ৩বারই অসুধ খেয়ে মরতে গেছিলাম। শেষবার এমনিতেও না খেয়ে থেকে থেকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলাম।
আবার মনে হচ্ছে সেম অবস্থা হতে যাচ্ছে আমার। সেন্সলেশ হয়ে যাবো না তো! আল্লাহ আল্লাহ করছি। আল্লাহ এমনটা যাতে না হয়। নয়তো আমি শেষ। বাসায় কেউ নেই।
ফোন হঠাত কেপে উঠলো। মেসেজ এসেছে।
bdhome.com থেকে রিপা আপু মেসেজ দিয়েছে–---- “কেমন আছো মিম আপু?”
আহহ বাচা গেলো। কেউ একজন তো পাইসি কথা বলার।
“আপু, আপনার ফোন নাম্বার দেওয়া যাবে?”
আমার এখন কথা বলা দরকার। মেসেজ লিখতে পারবোনা।
রিপা আপু সাথে সাথে আমাকে উনার নাম্বার দিলো।
নাম্বারটা ফোনে তুলেই তাকে ফোন দিলাম।
আমার কথা বের হচ্ছেনা। ওদিকে আপু ফোন রিসিভ করে হ্যালো হ্যালো করেই যাচ্ছে।
আমি জোর করে কোনো মতে বলমাম, “আপু আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।”
“ওমা কি বলছো তুমি? কেন কি হয়েছে তোমার? পাশে কেউ নাই? কাউকে ডাকো? পানি খাও। ফোনটা কাউকে দাও তো!”
আমি শুনছি। কিন্তু মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছেনা। বুঝতে পাচ্ছি, ঐদিকে আপু চিল্লাফাল্লা শুরু করে দিয়েছে।
“আপু কি হয়েছে তোমার। আমি পুলিশকে ফোন দিব? কেউ তোমায় কিছু করছে? কিছু তো বলো আপু?”
“আয়ায়ায়ায়ায়ায়াপু, আয়ায়ামি অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছি।”
“আপু তোমার ঠিকানা বলো। আমরা আসছি। তুমি পানি খাও। শান্ত হও আপু। তোমার কিচ্ছুই হবেনা। তোমার ঠিকানা বলো আমরা আসছি। নয়তো পুলিশ পাঠাচ্ছি। তোমার ঠিকানা বলো।”
“পুপুউউউলিশ লাগবেনা আপু। আমার বাসায় কেউ নাই। সবাই বাবাবাইরে গেছে। একা একায়ায়ায়া ভয়েএএ এমন হচ্ছে।”
“আমি আসবো? তুমি কোনো এড়িয়াই থাকো বলো তো? ঠিকানা দাও।”
আমার মাথায় কোনো কাজ করছেনা। আল্লাহ আল্লাহ করছি যেন অজ্ঞান না হয়ে যাই।
রিপা আপুকে আমার বাসার ঠিকানা দিয়ে দিলাম।
আপু বললো, তুমি পানি খাও, আমি ২০ মিনিটের মধ্যেও আসছি। এসে ফোন দিব তখন বাইরে আসিও কস্ট করো। আর নয়তো ফোন কাটিওনা। ফোনেই থাকো। আমি আসছি। তোমার কিচ্ছুই হবেনা আপু। আমি আসছি।
আমি বালিশে মাথা দিয়ে কানের উপর ফোনটা রেখে কাত হয়ে সুয়ে আছি। শরিরে যেন শক্তি পাচ্ছিনা। রিপা আপু আসুক। পাশে অন্তত কেউ একজন দরকার। নয়তো আমাকে কালকেই কবরে পাবে সবাই।
আপু ফোনে এটা সেটা কি যেন বলেই যাচ্ছে। পাশে বোধাই অন্য কেউ আছে। আমার কানে সব কথা ঢুকলেও মানসিক অবস্থা এমন যে তা ক্যাচ করতে পাচ্ছিনা। জোর করে নিজেকে আটকিয়ে রেখেছি যাতে অজ্ঞান না হয়ে যায়।
এইভাবে কত সময় গেছে জানিনা।
আমার ফোনের ভাইব্রেশনে বুঝতে পারলাম। ফোন আবার কাপছে। ফোন কখন যে কেটে গেছে জানিনা।
রিপা আপুর ফোন।
“আপু, আমি তোমার ঠিকানাই। একটু বাইরে আসো কস্ট করে।”
আমি টলতে টলতে বাইরে গেলাম। গেট খুলে দেখি একটা বাইক দাঁড়িয়ে। পাশে একজন দেখতে শর্ট করে একজন মেয়ে * পড়ে আছে। মেয়েটিই আমার দিকে আসলো। বললো, হাই,আমি রিপা। তুমি কি মিম?
আমি কোনো মতে পরিচয় করিয়ে বললাম, ভেতরে আসুন।
লোকটিও আসলো ভেতরে। মাথায় হেলমেট তাই বুঝতে পারছিনা বয়স কেমন বা সে কে।
গেইটের ভেতরে বাইক রাখলো। বাসার ভেতরে নিয়ে আসলাম। রিপা আপু আমার হাত ধরে আছে।
ভেতরে আসলেই রিপা আপু পরিচয় করালো, “এই হচ্ছে আমার স্বামি। আলামিন।”
আমি উনার দিকে তাকালাম। প্রথম দেখলাম। বেশ লম্বা। গায়ের রঙ শ্যাম। নাক চওড়া।
“আপু তোমার রুম কোনটা বলো, আমিই নিয়ে যাচ্ছি।” রিপা আপু আমার হাত ধরে বললেন।
আপুর ব্যবহার আমাকে মুগ্ধ করলো। আমি আমার রুমের দিকে ইশারা করলাম। আর সাথে সাথেই রিপা আপুর কাধে মাথা হেলিয়ে জ্ঞান হারালাম।


![[+]](https://xossipy.com/themes/sharepoint/collapse_collapsed.png)