23-06-2026, 04:42 AM
শেষ পর্ব
৬ বছর পর...
সন্ধ্যার আলোয় গ্রামের রাস্তা লালচে হয়ে উঠেছে। হরিশ আর গনেশ মাছ ধরে ফিরছিল। দুজনেরই লুঙ্গি কোমরে, গায়ে কাদা, খালি গা। অনেক বছরের পরিশ্রমে তাদের শরীর আরও শক্ত হয়েছে, কিন্তু চোখে এখনো সেই পুরনো অন্ধকার ছায়া লেগে আছে।
মতলব মিয়ার দোকানের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল তারা। মতলব দোকান থেকে বেরিয়ে চেঁচিয়ে ডাকল,
“ওই হরিশ! গনেশ! দাঁড়াও দাঁড়াও।”
হরিশ ঘুরে তাকাল,
“কী গো মতলব মিয়া? ডাক দিলে যে?”
মতলব বলল,
“ওই যে দেখ, বড় গাড়ি নিয়ে এক মেমসাব তোদের খুঁজছে। কে উনি? গ্রামের কেউ নাকি?”
হরিশ আর গনেশ অবাক হয়ে সামনে তাকাল। একটা ঝকঝকে কালো গাড়ি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। জানালার কাচ নামতেই ভিতর থেকে একজন নারী বেরিয়ে এল।
সুন্দরী, পরিপূর্ণ, আত্মবিশ্বাসী। ফর্সা গায়ের রং, লম্বা চুল, পরনে নীল চুমকি বসানো শারি। রিয়া।
গনেশ ফিসফিস করে বলল,
“রিয়া…”
রিয়া গাড়ি থেকে নেমে সামনে এগিয়ে এল। তার চেহারায় সময়ের ছাপ পড়েছে, কিন্তু সেই ছাপ তাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তখন কার রিয়া, আর এখনকার রিয়ার মধ্যে অনেক পার্থক্য, এখন রিয়াকে পরিপূর্ণ লাগছে। বয়স ৩০ এর কাছাকাছি।
“বাহ, দেখি মনে আছি তাহলে। আমি ভেবেছিলাম তোমরা হয়তো আমাকে পুরোপুরি ভুলেই গেছ।”
হরিশের গলা শুকিয়ে গিয়েছিল। সে কোনোমতে বলল,
“তুমি… এখানে কী করে?”
রিয়া হালকা হেসে বলল,
“কী করে মানে? তোমরা তোমাদের ছেলেদের দেখতে যাও না, তাই আমিই নিয়ে এসেছি।”
সে গাড়ির দিকে ঘুরে ডাকল,
“অর্ক… তাছিন… নামো।”
গাড়ি থেকে নামল দুটি ছেলে। বড়টি ৭ বছরের অর্ক — হরিশের চোখ, হরিশের গড়ন। ছোটটি ৫ বছরের তাছিন — গনেশের মতো চোখ, কিন্তু রিয়ার হাসি।
রিয়া ছেলেদের কাঁধে হাত রেখে বলল,
“এই হলো তোমাদের হরিশ দাদু আর গনেশ দাদু। যাদের কথা তোমাদের বলেছিলাম।”
হরিশ অর্কের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তার চোখে পানি চলে এল। গনেশ তাছিনের দিকে তাকিয়ে একদম স্থবির হয়ে গেল। দুজনেরই গলা আটকে গিয়েছিল।
রিয়া ছেলেদের বলল,
“তোমরা গাড়িতে বসো। আমি দাদুদের নিয়ে আসছি।”
ছেলেরা চলে যাওয়ার পর রিয়া হরিশ আর গনেশের দিকে তাকাল।
গনেশ জিজ্ঞাসা করল,
“রাতুল কোথায়?”
রিয়া শান্ত গলায় বলল,
“ও বিদেশে গেছে। দু’মাস পর আসবে। ছেলেদের কলেজ বন্ধ, তাই ভাবলাম গ্রামে নিয়ে আসি। ওদের বাবার গ্রাম দেখুক।”
হরিশ চুপ করে ছিল। তার চোখ এখনো অর্কের দিকে।
রিয়া হালকা হেসে বলল,
“আচ্ছা, আমি চলে যাই তাহলে। মনে হচ্ছে তোমাদের ঘরে তুলবে না।”
সে ঘুরে যেতেই হরিশ দ্রুত এগিয়ে এল। তার ময়লা, কাদা-মাখা শরীর নিয়েই সে রিয়াকে কোলে তুলে নিল।
রিয়া চমকে উঠে বলল,
“আরে! কী করছ? ছেলেরা দেখবে!”
হরিশ তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“কোথায় যাবে দেখে নিব।”
গনেশ পেছনে দাঁড়িয়ে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছিল।
রিয়া হরিশের বুকে মাথা রেখে হাসল। তার চোখে পানি, কিন্তু এবার সেটা আনন্দের।
৬ বছর পর… তিনজনের জীবন আবার নতুন করে শুরু হলো। হয়তো পাপে, হয়তো ভালোবাসায়, হয়তো দুটোই মিলিয়ে।
**সমাপ্ত**
৬ বছর পর...
সন্ধ্যার আলোয় গ্রামের রাস্তা লালচে হয়ে উঠেছে। হরিশ আর গনেশ মাছ ধরে ফিরছিল। দুজনেরই লুঙ্গি কোমরে, গায়ে কাদা, খালি গা। অনেক বছরের পরিশ্রমে তাদের শরীর আরও শক্ত হয়েছে, কিন্তু চোখে এখনো সেই পুরনো অন্ধকার ছায়া লেগে আছে।
মতলব মিয়ার দোকানের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল তারা। মতলব দোকান থেকে বেরিয়ে চেঁচিয়ে ডাকল,
“ওই হরিশ! গনেশ! দাঁড়াও দাঁড়াও।”
হরিশ ঘুরে তাকাল,
“কী গো মতলব মিয়া? ডাক দিলে যে?”
মতলব বলল,
“ওই যে দেখ, বড় গাড়ি নিয়ে এক মেমসাব তোদের খুঁজছে। কে উনি? গ্রামের কেউ নাকি?”
হরিশ আর গনেশ অবাক হয়ে সামনে তাকাল। একটা ঝকঝকে কালো গাড়ি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। জানালার কাচ নামতেই ভিতর থেকে একজন নারী বেরিয়ে এল।
সুন্দরী, পরিপূর্ণ, আত্মবিশ্বাসী। ফর্সা গায়ের রং, লম্বা চুল, পরনে নীল চুমকি বসানো শারি। রিয়া।
গনেশ ফিসফিস করে বলল,
“রিয়া…”
রিয়া গাড়ি থেকে নেমে সামনে এগিয়ে এল। তার চেহারায় সময়ের ছাপ পড়েছে, কিন্তু সেই ছাপ তাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তখন কার রিয়া, আর এখনকার রিয়ার মধ্যে অনেক পার্থক্য, এখন রিয়াকে পরিপূর্ণ লাগছে। বয়স ৩০ এর কাছাকাছি।
“বাহ, দেখি মনে আছি তাহলে। আমি ভেবেছিলাম তোমরা হয়তো আমাকে পুরোপুরি ভুলেই গেছ।”
হরিশের গলা শুকিয়ে গিয়েছিল। সে কোনোমতে বলল,
“তুমি… এখানে কী করে?”
রিয়া হালকা হেসে বলল,
“কী করে মানে? তোমরা তোমাদের ছেলেদের দেখতে যাও না, তাই আমিই নিয়ে এসেছি।”
সে গাড়ির দিকে ঘুরে ডাকল,
“অর্ক… তাছিন… নামো।”
গাড়ি থেকে নামল দুটি ছেলে। বড়টি ৭ বছরের অর্ক — হরিশের চোখ, হরিশের গড়ন। ছোটটি ৫ বছরের তাছিন — গনেশের মতো চোখ, কিন্তু রিয়ার হাসি।
রিয়া ছেলেদের কাঁধে হাত রেখে বলল,
“এই হলো তোমাদের হরিশ দাদু আর গনেশ দাদু। যাদের কথা তোমাদের বলেছিলাম।”
হরিশ অর্কের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তার চোখে পানি চলে এল। গনেশ তাছিনের দিকে তাকিয়ে একদম স্থবির হয়ে গেল। দুজনেরই গলা আটকে গিয়েছিল।
রিয়া ছেলেদের বলল,
“তোমরা গাড়িতে বসো। আমি দাদুদের নিয়ে আসছি।”
ছেলেরা চলে যাওয়ার পর রিয়া হরিশ আর গনেশের দিকে তাকাল।
গনেশ জিজ্ঞাসা করল,
“রাতুল কোথায়?”
রিয়া শান্ত গলায় বলল,
“ও বিদেশে গেছে। দু’মাস পর আসবে। ছেলেদের কলেজ বন্ধ, তাই ভাবলাম গ্রামে নিয়ে আসি। ওদের বাবার গ্রাম দেখুক।”
হরিশ চুপ করে ছিল। তার চোখ এখনো অর্কের দিকে।
রিয়া হালকা হেসে বলল,
“আচ্ছা, আমি চলে যাই তাহলে। মনে হচ্ছে তোমাদের ঘরে তুলবে না।”
সে ঘুরে যেতেই হরিশ দ্রুত এগিয়ে এল। তার ময়লা, কাদা-মাখা শরীর নিয়েই সে রিয়াকে কোলে তুলে নিল।
রিয়া চমকে উঠে বলল,
“আরে! কী করছ? ছেলেরা দেখবে!”
হরিশ তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল,
“কোথায় যাবে দেখে নিব।”
গনেশ পেছনে দাঁড়িয়ে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছিল।
রিয়া হরিশের বুকে মাথা রেখে হাসল। তার চোখে পানি, কিন্তু এবার সেটা আনন্দের।
৬ বছর পর… তিনজনের জীবন আবার নতুন করে শুরু হলো। হয়তো পাপে, হয়তো ভালোবাসায়, হয়তো দুটোই মিলিয়ে।
**সমাপ্ত**


![[+]](https://xossipy.com/themes/sharepoint/collapse_collapsed.png)