19-06-2026, 01:16 PM
বন্ধ দরজার ওপারে
বাইরে তখন উত্তুরে হাওয়ার দাপট আরও বেড়েছে। মেঘলা আকাশের কারণে সকালের আলোটাও কেমন যেন ম্লান, কুয়াশা আর মেঘ মিলে কাশীপুরের বুকে একটা থমথমে অন্ধকার তৈরি করে রেখেছে। শিবু বারান্দা থেকে গামছাটা কাঁধে তুলে নিয়ে উঠোনের কোণে কুয়োর দিকে এগিয়ে গেল।
⸻
কুয়োপাড়ের পাশে বালতিতে জল তোলা ছিল। ঝুমা কাকিমা ছেলেকে একা একা কুয়ো থেকে জল তুলতে সবসময় বারণ করতেন—কখন কী বিপদ ঘটে যায় বলা তো যায় না! তাই জল দরকার পড়লে কাকিমাই আগে থেকে তুলে রাখতেন। আজ ঠান্ডা হাওয়াটা বেশ জোরালো দিচ্ছে দেখে শিবু ভাবল গায়ে-মাথায় ভালো করে সর্ষের তেল মেখে স্নান করবে।
⸻
সে বালতির পাশে বসে হাত-পায়ে সাবান ঘষতে শুরু করল। মাটির নিচের ঠান্ডা জলটা মগে করে প্রথম গায়ে ঢালতেই তার শরীরটা শীতে কেঁপে উঠল। কোনো রকমে দাঁতে দাঁত চেপে সে হাত-পায়ে সাবান ঘষে জল ঢালল, তারপর মুখে হালকা সাবান মাখতে শুরু করল। ঠিক তখনই, ভেতরের ঘর থেকে একটা অত্যন্ত হালকা, অস্পষ্ট শব্দ ভেসে এলো। কেমন যেন এক নারীর অবরুদ্ধ কণ্ঠের গোঙানি—"আআআহ..."। শব্দটা পরমুহূর্তেই আবার মিলিয়ে গেল। শিবু ভাবল হয়তো মায়ের কাশির শব্দ, সে তেমন কান না দিয়ে নিজের স্নানে মন দিল।
⸻
এইভাবে একে একে গায়ে-মাথায় জল ঢেলে, সাবান ধুয়ে শেষ করতে প্রায় বিশ মিনিটের বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে গেল। শিবু এবার গামছা দিয়ে গা মুছে বাটি থেকে তেল নিয়ে মাথায় দিল। তারপর দুই হাতের তালুতে তেল নিয়ে বুকে, পিঠে ভালো করে মাখতে লাগল। ঠিক এই সময়, ঘরের ভেতর থেকে আবার সেই মেয়েলি কণ্ঠের শব্দ ভেসে এল, এবার আগের চেয়ে একটু স্পষ্ট—"আহহহহ..."।
⸻
শিবুর কানে এবার আওয়াজটা বেশ স্পষ্ট ঠেকল। সে তেল মাখা শেষ করে কুয়োপাড়ের সেই বড় পাথরটার পাশে রাখা বালতির দিকে গেল। মগে করে এক মগ জল নিয়ে নিজের পায়ে ঢেলে ভালো করে ধুয়ে নিল, তারপর ডানহাতে একটু জল নিয়ে মাথায় আর বুকে জলের ছিটে দিল। স্নান শেষ করে সে ধীর পায়ে ঘরের দিকে হাঁটতে শুরু করল।
⸻
বারান্দায় এসে শিবু চারপাশটা দেখল। কাঠের তক্তাটা ফাঁকা পড়ে আছে, সেখানে কেউ নেই। রতন কোন দিকে গেল? আর মা-ই বা কোথায়? শিবুর সামনেই দুটো ঘর—একটা তার নিজের, আর পাশেরটা বাবা-মায়ের। বাবা-মায়ের শোওয়ার ঘরটা সকালবেলা সবসময় খোলাই থাকে, মা তো এই ঘর থেকেই সকালে কতবার বের হন। শিবুর স্পষ্ট মনে আছে, সকালে ঘরটা খোলাই ছিল।
⸻
তাহলে এখন দরজাটা হুট করে বন্ধ কেন?
⸻
শিবু বারান্দায় দাঁড়িয়েই চেঁচিয়ে ডাকল,
— মা! ও মা! রতন, কোথায় গেলি রে?
কোথাও কোনো শব্দ নেই। কারও গলার আওয়াজ পাওয়া গেল না। পুরো বাড়িটা যেন এক অতল নিস্তব্ধতায় ডুবে আছে। শিবু একটু অবাক হয়ে সেই বন্ধ দরজার কাছে এগিয়ে গেল। দরজায় হাত দিয়ে দেখল—না, দরজাটা ভেতর থেকে খিল তুলে বন্ধ করা।
⸻
সে এবার একটু থমকে দাঁড়িয়ে, নিজের ডানহাত দিয়ে কাঠের দরজার ওপর আস্তে আস্তে থাপড়াতে লাগল। দরজায় ধাক্কা দিতে দিতে সে আবার ডাকল,
— মা... ও মা! মা, দরজাটা খোলো! কী করছ ভেতরে? এই রতন! মা... কী গো মা... দরজাটা খোলো না!
⸻
কিন্তু ওপার থেকে কোনো উত্তর এল না। কিছুক্ষণের জন্য পুরো পরিবেশটা আবার নিথর, নিস্তব্ধ হয়ে রইল।
বাইরে তখন উত্তুরে হাওয়ার দাপট আরও বেড়েছে। মেঘলা আকাশের কারণে সকালের আলোটাও কেমন যেন ম্লান, কুয়াশা আর মেঘ মিলে কাশীপুরের বুকে একটা থমথমে অন্ধকার তৈরি করে রেখেছে। শিবু বারান্দা থেকে গামছাটা কাঁধে তুলে নিয়ে উঠোনের কোণে কুয়োর দিকে এগিয়ে গেল।
⸻
কুয়োপাড়ের পাশে বালতিতে জল তোলা ছিল। ঝুমা কাকিমা ছেলেকে একা একা কুয়ো থেকে জল তুলতে সবসময় বারণ করতেন—কখন কী বিপদ ঘটে যায় বলা তো যায় না! তাই জল দরকার পড়লে কাকিমাই আগে থেকে তুলে রাখতেন। আজ ঠান্ডা হাওয়াটা বেশ জোরালো দিচ্ছে দেখে শিবু ভাবল গায়ে-মাথায় ভালো করে সর্ষের তেল মেখে স্নান করবে।
⸻
সে বালতির পাশে বসে হাত-পায়ে সাবান ঘষতে শুরু করল। মাটির নিচের ঠান্ডা জলটা মগে করে প্রথম গায়ে ঢালতেই তার শরীরটা শীতে কেঁপে উঠল। কোনো রকমে দাঁতে দাঁত চেপে সে হাত-পায়ে সাবান ঘষে জল ঢালল, তারপর মুখে হালকা সাবান মাখতে শুরু করল। ঠিক তখনই, ভেতরের ঘর থেকে একটা অত্যন্ত হালকা, অস্পষ্ট শব্দ ভেসে এলো। কেমন যেন এক নারীর অবরুদ্ধ কণ্ঠের গোঙানি—"আআআহ..."। শব্দটা পরমুহূর্তেই আবার মিলিয়ে গেল। শিবু ভাবল হয়তো মায়ের কাশির শব্দ, সে তেমন কান না দিয়ে নিজের স্নানে মন দিল।
⸻
এইভাবে একে একে গায়ে-মাথায় জল ঢেলে, সাবান ধুয়ে শেষ করতে প্রায় বিশ মিনিটের বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে গেল। শিবু এবার গামছা দিয়ে গা মুছে বাটি থেকে তেল নিয়ে মাথায় দিল। তারপর দুই হাতের তালুতে তেল নিয়ে বুকে, পিঠে ভালো করে মাখতে লাগল। ঠিক এই সময়, ঘরের ভেতর থেকে আবার সেই মেয়েলি কণ্ঠের শব্দ ভেসে এল, এবার আগের চেয়ে একটু স্পষ্ট—"আহহহহ..."।
⸻
শিবুর কানে এবার আওয়াজটা বেশ স্পষ্ট ঠেকল। সে তেল মাখা শেষ করে কুয়োপাড়ের সেই বড় পাথরটার পাশে রাখা বালতির দিকে গেল। মগে করে এক মগ জল নিয়ে নিজের পায়ে ঢেলে ভালো করে ধুয়ে নিল, তারপর ডানহাতে একটু জল নিয়ে মাথায় আর বুকে জলের ছিটে দিল। স্নান শেষ করে সে ধীর পায়ে ঘরের দিকে হাঁটতে শুরু করল।
⸻
বারান্দায় এসে শিবু চারপাশটা দেখল। কাঠের তক্তাটা ফাঁকা পড়ে আছে, সেখানে কেউ নেই। রতন কোন দিকে গেল? আর মা-ই বা কোথায়? শিবুর সামনেই দুটো ঘর—একটা তার নিজের, আর পাশেরটা বাবা-মায়ের। বাবা-মায়ের শোওয়ার ঘরটা সকালবেলা সবসময় খোলাই থাকে, মা তো এই ঘর থেকেই সকালে কতবার বের হন। শিবুর স্পষ্ট মনে আছে, সকালে ঘরটা খোলাই ছিল।
⸻
তাহলে এখন দরজাটা হুট করে বন্ধ কেন?
⸻
শিবু বারান্দায় দাঁড়িয়েই চেঁচিয়ে ডাকল,
— মা! ও মা! রতন, কোথায় গেলি রে?
কোথাও কোনো শব্দ নেই। কারও গলার আওয়াজ পাওয়া গেল না। পুরো বাড়িটা যেন এক অতল নিস্তব্ধতায় ডুবে আছে। শিবু একটু অবাক হয়ে সেই বন্ধ দরজার কাছে এগিয়ে গেল। দরজায় হাত দিয়ে দেখল—না, দরজাটা ভেতর থেকে খিল তুলে বন্ধ করা।
⸻
সে এবার একটু থমকে দাঁড়িয়ে, নিজের ডানহাত দিয়ে কাঠের দরজার ওপর আস্তে আস্তে থাপড়াতে লাগল। দরজায় ধাক্কা দিতে দিতে সে আবার ডাকল,
— মা... ও মা! মা, দরজাটা খোলো! কী করছ ভেতরে? এই রতন! মা... কী গো মা... দরজাটা খোলো না!
⸻
কিন্তু ওপার থেকে কোনো উত্তর এল না। কিছুক্ষণের জন্য পুরো পরিবেশটা আবার নিথর, নিস্তব্ধ হয়ে রইল।



![[+]](https://xossipy.com/themes/sharepoint/collapse_collapsed.png)