19-06-2026, 01:14 PM
কুয়াশার ওপারে তৃষ্ণা
শীতের ভোরের সেই ম্লান আলোটা যখন শিবুদের তুলসীতলায় এসে পড়ল, তখন চারপাশের বাতাস যেন অন্য দিনের চেয়ে একটু বেশি ভারী ছিল। আজ ভোর থেকেই রতনের চোখের চাউনিটা কেমন যেন বদলে গেছে, কিন্তু গ্রামের চেনা কোলাহলে সেটা কারও চোখে পড়েনি। পড়ার কথাও নয়। তেরো বছরের একটা ছেলের মাথায় সকালে আর কী চিন্তা থাকতে পারে—হয়তো নতুন বল কেনা, না হয় রবিবারের ম্যাচের হিসাব।
⸻
রতন আজ বেশ আগেই স্নান সেরে কলেজের ইউনিফর্ম পরে তৈরি হয়ে গিয়েছিল। ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে সে সোজা চলে এল শিবুদের বাড়ির উঠোনের দরজায়।
⸻
তখন উঠোনের মুখে দাঁড়িয়ে ঝাঁট দিচ্ছিলেন ঝুমা কাকিমা। গত দু-দিন ধরে তাঁর শরীরটা একেবারেই ভালো যাচ্ছিল না, হঠাৎ করে এক রাতের তীব্র জ্বরে তিনি বিছানায় পড়ে গিয়েছিলেন। নকুল কবিরাজমশাইয়ের শেকড়-বাকড়ের ওষুধে জ্বরটা কাল রাত থেকে কমলেও শরীর এখনও বেশ দুর্বল। কিন্তু সংসারী মানুষের বসার উপায় নেই, দু-দিন ধরে পাশের বাড়ির সুলেখা ঘোষ এসে রান্নাবান্না করে দিয়ে গেছেন, আরাম করতে বলে গেছেন। আজ একটু ভালো লাগতেই ঝুমা কাকিমা আবার ঘরের কাজে হাত দিয়েছেন। সকালে শিবুর বাবা বিপ্লব কাকা ইতিমধ্যেই সাইকেলের ক্যারিয়ারে সবজির বস্তা বেঁধে বাজারের দিকে রওনা হয়ে গেছেন।
⸻
শিবু তখন বারান্দায় বসে কাঁসার গ্লাসে চা খাচ্ছিল আর এক হাতে রুটি ছিঁড়ছিল। রতনকে গেটের মুখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ঝুমা কাকিমা হাতের ঝাঁটাটা একটু থামিয়ে, ডানহাতে সেটা ধরে হেসে বললেন,
— আরে রতন! আজ যে বড় অনেক জলদি এসে গেছিস রে?
⸻
রতন কোনো উত্তর দিল না। সে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল ঝুমা কাকিমার দিকে। কাকিমা আজ একটা আকাশী রঙের শাড়ি পরেছেন, যাতে ছোট ছোট তারার ডিজাইন করা, আর সাথে একটা বেগুনী রঙের ব্লাউজ। সেই শাড়ি আর ব্লাউজের বাঁধনে ঢাকা থাকা কাকিমার ভরাট শরীর আর উঁচিয়ে থাকা স্তনজোড়ার ওপর রতনের চোখ দুটো যেন আঠার মতো লেপ্টে রইল। সে এক পলকও চোখ সরাচ্ছিল না। রতন ছোট ছেলে, মাস্টারমশাইয়ের শান্ত সুবোধ সন্তান—তাই ঝুমা কাকিমা ওই চাউনির পেছনের পৈশাচিক ক্ষুধাটাকে ধরতে পারলেন না, নিছকই এক বাচ্চার অন্যমনস্কতা ভেবে উড়িয়ে দিলেন।
⸻
বারান্দা থেকে শিবু চায়ের গ্লাসে চুমুক দিতে দিতেই চেঁচিয়ে উঠল,
— আরে কী রে রতন? গেটের মুখে দাঁড়িয়েই রইলি? আয়, ভেতরে এসে বোস!
⸻
ঝুমা কাকিমাও একটু হেসে একপাশে সরে দাঁড়িয়ে রতনকে ভেতরে আসার পথ করে দিলেন। রতনের ওপর থেকে সেই অশুভ তান্ত্রিকের মায়াটা এক পলকের জন্য সরল, সে শিবুর দিকে তাকিয়ে খুব স্বাভাবিক চেনা গলায় বলল,
— হ্যাঁ রে, আজ সকালে একটু সকাল সকাল ঘুম ভেঙে গিয়েছিল। তাই ভাবলাম তাড়াতাড়ি চলে যাই, কলেজে গিয়ে আজ ক্লাস শুরুর আগে একটু খেলার সময় পাওয়া যাবে।
⸻
শিবু হেসে রুটিটা চায়ের ভেতর ডুবিয়ে মুখে পুরে বলল,
— আরে কিন্তু পল্টু, বাপনরা তো কেউ এখনও স্নানই করেনি বোধহয়! তুই একটু বোস, আমি এই চা-টুকু খেয়েই ঝটপট স্নানটা করে কলেজের জামাটা পরে নিচ্ছি। তারপর দুজনে মিলে রাস্তায় সবাইকে ডেকে আজ কলেজের মাঠে আগে ছোঁয়াছুঁয়ি খেলব, বুঝলি? তুই বোস একটু।
⸻
রতন ব্যাগটা কাঁধ থেকে নামাতে নামাতে বলল,
— আমি বরং তোর ভেতরের ঘরটাতেই গিয়ে বসছি রে শিবু। বাইরে বেশ ঠান্ডা বাতাস দিচ্ছে।
⸻
শিবু গ্লাসটা নামিয়ে রেখে বলল,
— হ্যাঁ হ্যাঁ, যা, ভেতরে গিয়ে বোস। আমি এই এলাম বলে!
⸻
ঝুমা কাকিমা উঠোন ঝাঁট দেওয়া শেষ করে হাতের ঝাঁটাটা বারান্দার দেওয়ালে ঠেস দিয়ে রেখে দিলেন। তারপর সামনে রাখা জলের বালতি থেকে এক ঘটি জল নিয়ে হাত দুটো ধুতে গেলেন। কিন্তু ঠিক তখনই, সেই ঠান্ডা জলের ছোঁয়া চামড়ায় লাগতেই ঝুমা কাকিমার ভেতরের চেতনাটা কেমন যেন অসাড় হয়ে উঠল।
⸻
তাঁর মনে হলো ঘরের ভেতর থেকে খুব চেনা, অথচ এক গভীর গম্ভীর কণ্ঠস্বর তাঁকে ডাকছে। না, কোনো শব্দ কানে আসছে না, কিন্তু এক অমোঘ বশীকরণ মন্ত্রের টান তাঁর শিরদাঁড়া বেয়ে মগজে গিয়ে ধাক্কা মারল। ঝুমা কাকিমা আর নিজের মধ্যে রইলেন না, তাঁর চোখ দুটো খোলা রইল কিন্তু চোখের মণি দুটো এক লহমায় ফ্যাকাশে আর নিষ্প্রাণ হয়ে গেল।
⸻
তিনি বারান্দার দিকে না তাকিয়েই, এক যান্ত্রিক পুতুলের মতো শিবুর উদ্দেশ্যে বললেন,
— শিবু... তুই চা খেয়ে তাড়াতাড়ি স্নানটা করে নে বাবা। আমি... আমি একটু ভেতরের ঘরের দিকটায় যাচ্ছি...
⸻
ঝুমা কাকিমা ধীর পায়ে, অবশ শরীরে ভেতরের সেই অন্ধকার ঘরটার দিকে পা বাড়ালেন। আর বারান্দায় বসে শিবু তখন শেষ রুটির টুকরোটা মুখে দিয়ে গামছাটা কাঁধে ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, সে বুঝতেই পারল না যে তার চোখের সামনেই তার মায়ের চেতনা আজ এক অদৃশ্য শৃঙ্খলে বন্দি হয়ে অন্ধকারের দিকে হেঁটে চলে গেল।
শীতের ভোরের সেই ম্লান আলোটা যখন শিবুদের তুলসীতলায় এসে পড়ল, তখন চারপাশের বাতাস যেন অন্য দিনের চেয়ে একটু বেশি ভারী ছিল। আজ ভোর থেকেই রতনের চোখের চাউনিটা কেমন যেন বদলে গেছে, কিন্তু গ্রামের চেনা কোলাহলে সেটা কারও চোখে পড়েনি। পড়ার কথাও নয়। তেরো বছরের একটা ছেলের মাথায় সকালে আর কী চিন্তা থাকতে পারে—হয়তো নতুন বল কেনা, না হয় রবিবারের ম্যাচের হিসাব।
⸻
রতন আজ বেশ আগেই স্নান সেরে কলেজের ইউনিফর্ম পরে তৈরি হয়ে গিয়েছিল। ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে সে সোজা চলে এল শিবুদের বাড়ির উঠোনের দরজায়।
⸻
তখন উঠোনের মুখে দাঁড়িয়ে ঝাঁট দিচ্ছিলেন ঝুমা কাকিমা। গত দু-দিন ধরে তাঁর শরীরটা একেবারেই ভালো যাচ্ছিল না, হঠাৎ করে এক রাতের তীব্র জ্বরে তিনি বিছানায় পড়ে গিয়েছিলেন। নকুল কবিরাজমশাইয়ের শেকড়-বাকড়ের ওষুধে জ্বরটা কাল রাত থেকে কমলেও শরীর এখনও বেশ দুর্বল। কিন্তু সংসারী মানুষের বসার উপায় নেই, দু-দিন ধরে পাশের বাড়ির সুলেখা ঘোষ এসে রান্নাবান্না করে দিয়ে গেছেন, আরাম করতে বলে গেছেন। আজ একটু ভালো লাগতেই ঝুমা কাকিমা আবার ঘরের কাজে হাত দিয়েছেন। সকালে শিবুর বাবা বিপ্লব কাকা ইতিমধ্যেই সাইকেলের ক্যারিয়ারে সবজির বস্তা বেঁধে বাজারের দিকে রওনা হয়ে গেছেন।
⸻
শিবু তখন বারান্দায় বসে কাঁসার গ্লাসে চা খাচ্ছিল আর এক হাতে রুটি ছিঁড়ছিল। রতনকে গেটের মুখে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ঝুমা কাকিমা হাতের ঝাঁটাটা একটু থামিয়ে, ডানহাতে সেটা ধরে হেসে বললেন,
— আরে রতন! আজ যে বড় অনেক জলদি এসে গেছিস রে?
⸻
রতন কোনো উত্তর দিল না। সে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইল ঝুমা কাকিমার দিকে। কাকিমা আজ একটা আকাশী রঙের শাড়ি পরেছেন, যাতে ছোট ছোট তারার ডিজাইন করা, আর সাথে একটা বেগুনী রঙের ব্লাউজ। সেই শাড়ি আর ব্লাউজের বাঁধনে ঢাকা থাকা কাকিমার ভরাট শরীর আর উঁচিয়ে থাকা স্তনজোড়ার ওপর রতনের চোখ দুটো যেন আঠার মতো লেপ্টে রইল। সে এক পলকও চোখ সরাচ্ছিল না। রতন ছোট ছেলে, মাস্টারমশাইয়ের শান্ত সুবোধ সন্তান—তাই ঝুমা কাকিমা ওই চাউনির পেছনের পৈশাচিক ক্ষুধাটাকে ধরতে পারলেন না, নিছকই এক বাচ্চার অন্যমনস্কতা ভেবে উড়িয়ে দিলেন।
⸻
বারান্দা থেকে শিবু চায়ের গ্লাসে চুমুক দিতে দিতেই চেঁচিয়ে উঠল,
— আরে কী রে রতন? গেটের মুখে দাঁড়িয়েই রইলি? আয়, ভেতরে এসে বোস!
⸻
ঝুমা কাকিমাও একটু হেসে একপাশে সরে দাঁড়িয়ে রতনকে ভেতরে আসার পথ করে দিলেন। রতনের ওপর থেকে সেই অশুভ তান্ত্রিকের মায়াটা এক পলকের জন্য সরল, সে শিবুর দিকে তাকিয়ে খুব স্বাভাবিক চেনা গলায় বলল,
— হ্যাঁ রে, আজ সকালে একটু সকাল সকাল ঘুম ভেঙে গিয়েছিল। তাই ভাবলাম তাড়াতাড়ি চলে যাই, কলেজে গিয়ে আজ ক্লাস শুরুর আগে একটু খেলার সময় পাওয়া যাবে।
⸻
শিবু হেসে রুটিটা চায়ের ভেতর ডুবিয়ে মুখে পুরে বলল,
— আরে কিন্তু পল্টু, বাপনরা তো কেউ এখনও স্নানই করেনি বোধহয়! তুই একটু বোস, আমি এই চা-টুকু খেয়েই ঝটপট স্নানটা করে কলেজের জামাটা পরে নিচ্ছি। তারপর দুজনে মিলে রাস্তায় সবাইকে ডেকে আজ কলেজের মাঠে আগে ছোঁয়াছুঁয়ি খেলব, বুঝলি? তুই বোস একটু।
⸻
রতন ব্যাগটা কাঁধ থেকে নামাতে নামাতে বলল,
— আমি বরং তোর ভেতরের ঘরটাতেই গিয়ে বসছি রে শিবু। বাইরে বেশ ঠান্ডা বাতাস দিচ্ছে।
⸻
শিবু গ্লাসটা নামিয়ে রেখে বলল,
— হ্যাঁ হ্যাঁ, যা, ভেতরে গিয়ে বোস। আমি এই এলাম বলে!
⸻
ঝুমা কাকিমা উঠোন ঝাঁট দেওয়া শেষ করে হাতের ঝাঁটাটা বারান্দার দেওয়ালে ঠেস দিয়ে রেখে দিলেন। তারপর সামনে রাখা জলের বালতি থেকে এক ঘটি জল নিয়ে হাত দুটো ধুতে গেলেন। কিন্তু ঠিক তখনই, সেই ঠান্ডা জলের ছোঁয়া চামড়ায় লাগতেই ঝুমা কাকিমার ভেতরের চেতনাটা কেমন যেন অসাড় হয়ে উঠল।
⸻
তাঁর মনে হলো ঘরের ভেতর থেকে খুব চেনা, অথচ এক গভীর গম্ভীর কণ্ঠস্বর তাঁকে ডাকছে। না, কোনো শব্দ কানে আসছে না, কিন্তু এক অমোঘ বশীকরণ মন্ত্রের টান তাঁর শিরদাঁড়া বেয়ে মগজে গিয়ে ধাক্কা মারল। ঝুমা কাকিমা আর নিজের মধ্যে রইলেন না, তাঁর চোখ দুটো খোলা রইল কিন্তু চোখের মণি দুটো এক লহমায় ফ্যাকাশে আর নিষ্প্রাণ হয়ে গেল।
⸻
তিনি বারান্দার দিকে না তাকিয়েই, এক যান্ত্রিক পুতুলের মতো শিবুর উদ্দেশ্যে বললেন,
— শিবু... তুই চা খেয়ে তাড়াতাড়ি স্নানটা করে নে বাবা। আমি... আমি একটু ভেতরের ঘরের দিকটায় যাচ্ছি...
⸻
ঝুমা কাকিমা ধীর পায়ে, অবশ শরীরে ভেতরের সেই অন্ধকার ঘরটার দিকে পা বাড়ালেন। আর বারান্দায় বসে শিবু তখন শেষ রুটির টুকরোটা মুখে দিয়ে গামছাটা কাঁধে ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, সে বুঝতেই পারল না যে তার চোখের সামনেই তার মায়ের চেতনা আজ এক অদৃশ্য শৃঙ্খলে বন্দি হয়ে অন্ধকারের দিকে হেঁটে চলে গেল।


![[+]](https://xossipy.com/themes/sharepoint/collapse_collapsed.png)