19-06-2026, 01:10 PM
অধ্যায় ৩৮ : সকালের ছায়া
শীতের সকাল।
কাশীপুর গ্রামের ওপর তখনও হালকা কুয়াশার আস্তরণ।
⸻
মুখার্জী বাড়ির উঠোনে বসে রমাপদ সাইকেলের চেইনে তেল দিচ্ছেন।
⸻
আজ কলেজে যেতে হবে।
চেইনটা কয়েকদিন ধরেই শব্দ করছিল।
⸻
এক হাতে কাপড়।
অন্য হাতে তেলের শিশি।
⸻
মাঝে মাঝে প্যাডেল ঘুরিয়ে দেখে নিচ্ছেন সব ঠিকঠাক হচ্ছে কি না।
⸻
রান্নাঘরের উনুনে আগুন জ্বলছে।
⸻
প্রতিমা খুন্তি হাতে রান্না করছেন।
⸻
কড়াইয়ে তেল ছ্যাঁৎ ছ্যাঁৎ শব্দ করছে।
⸻
পাশে কাটা আলু।
ভেন্ডি।
পেঁয়াজ।
আদা-রসুন বাটা।
⸻
সকালের রান্নার ব্যস্ততা।
⸻
ঘরের মধ্যে ভাতের গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।
⸻
আজ অদ্ভুতভাবে রতন অনেক সকালেই উঠে পড়েছে।
⸻
সাধারণত প্রতিমাকে দুই-তিনবার ডাকতে হয়।
⸻
আজ তার দরকার হয়নি।
⸻
উঠোনের এক কোণে স্নানের জন্য জলভর্তি বালতি রাখা।
⸻
পাশে সাবান।
তেলের শিশি।
গামছা।
⸻
সবকিছু প্রস্তুত।
⸻
তবু রতন সেখানে যায়নি।
⸻
সে চুপচাপ উঠোনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে।
⸻
কী যেন ভাবছে।
⸻
কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।
⸻
প্রতিমা একবার তাকিয়ে হেসে বললেন,
— কী রে? আজ না ডাকতেই উঠে বসে আছিস?
⸻
কোন চিন্তায় ডুবে গেলি আবার?
⸻
রমাপদ চেইনে তেল দিতে দিতে বললেন,
— শরীর ঠিক আছে তো?
⸻
— কেমন যেন দেখাচ্ছে।
⸻
— দরকার হলে কবিরাজমশায়ের কাছে গিয়ে আয়।
⸻
রতন মাথা তুলল।
⸻
তার গলা পুরো স্বাভাবিক।
⸻
— না বাবা।
⸻
— শরীর ঠিকই আছে।
⸻
প্রতিমা হেসে বললেন,
— আজ বোধহয় খেলার চিন্তা।
⸻
— না হলে কালকের হারার শোধ নেবে ভেবে বসে আছে।
⸻
বলতে বলতে তিনি আবার খুন্তি নাড়তে লাগলেন।
⸻
কথাগুলো শুনে রতনও হালকা হাসল।
⸻
কিন্তু সেই হাসি চোখ পর্যন্ত পৌঁছাল না।
⸻
কিছুক্ষণ পরে সে ধীরে ধীরে ঘরের ভেতরের দিকে হাঁটতে লাগল।
⸻
দরজার কাছে গিয়ে হঠাৎ থেমে গেল।
⸻
একবার ঘাড় ঘুরিয়ে উঠোনের দিকে তাকাল।
⸻
রমাপদ তখনও সাইকেল নিয়ে ব্যস্ত।
⸻
প্রতিমা রান্নায়।
⸻
কারও চোখ তার দিকে নেই।
⸻
রতনের ঠোঁট খুব আস্তে নড়ল।
⸻
এত আস্তে যে শব্দ প্রায় শোনা যায় না।
⸻
কয়েকটা অস্পষ্ট শব্দ।
⸻
বিড়বিড়ানি।
⸻
তারপর সে ঘরের ভেতরে ঢুকে গেল।
⸻
ঠিক তখনই…
⸻
প্রতিমার হাতের খুন্তি থেমে গেল।
⸻
কেন থামল তিনি জানেন না।
⸻
হঠাৎ যেন মনে হলো—
ঘরের ভেতরে কিছু একটা কাজ বাকি আছে।
⸻
খুব জরুরি।
⸻
এখনই যেতে হবে।
⸻
তিনি ধীরে ধীরে কাঠের পিঁড়ি থেকে উঠে দাঁড়ালেন।
⸻
পাশে রাখা পেঁয়াজ, আদা-রসুন বাটা, লঙ্কা, জিরে বাটা সব সেখানেই রইল।
⸻
উনুনে আগুনও জ্বলছে।
⸻
তবু তিনি যেন অজান্তেই ঘরের দিকে পা বাড়ালেন।
⸻
রমাপদ একবার মুখ তুলে তাকালেন।
⸻
প্রতিমাকে ভেতরের দিকে যেতে দেখে বললেন,
— কী হলো?
⸻
কিছু লাগবে নাকি?
⸻
প্রতিমা উত্তর দিলেন না।
⸻
আসলে তিনি নিজেও জানতেন না কেন যাচ্ছেন।
⸻
শুধু মনে হচ্ছিল…
যেতে হবে।
⸻
একবার।
⸻
মাত্র একবার।
⸻
রমাপদ কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইলেন।
⸻
তারপর আবার সাইকেলের চেইন মুছতে শুরু করলেন।
⸻
ব্যাপারটা আর মাথায় রাখলেন না।
⸻
কিন্তু ঘরের অন্ধকার ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকা রতনের মুখে তখন এক অদ্ভুত স্থিরতা।
⸻
সে দরজার ফাঁক দিয়ে মায়ের এগিয়ে আসা দেখছিল।
⸻
আর তার বুকের গভীরে…
অন্য কারও চিন্তা ধীরে ধীরে জেগে উঠছিল।
⸻
“এখনও খুব দুর্বল…”
⸻
“তবু প্রভাব রয়ে গেছে…”
⸻
“আরও সময় চাই…”
⸻
বাইরে শীতের রোদ উঠছিল।
⸻
কাশীপুরের মানুষ তাদের দিনের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ছিল।
⸻
কেউ জানত না—
একটা অদৃশ্য কু-প্রভাব আজ আবার নিজের অস্তিত্বের ছোট্ট একটা প্রমাণ রেখে গেল।
শীতের সকাল।
কাশীপুর গ্রামের ওপর তখনও হালকা কুয়াশার আস্তরণ।
⸻
মুখার্জী বাড়ির উঠোনে বসে রমাপদ সাইকেলের চেইনে তেল দিচ্ছেন।
⸻
আজ কলেজে যেতে হবে।
চেইনটা কয়েকদিন ধরেই শব্দ করছিল।
⸻
এক হাতে কাপড়।
অন্য হাতে তেলের শিশি।
⸻
মাঝে মাঝে প্যাডেল ঘুরিয়ে দেখে নিচ্ছেন সব ঠিকঠাক হচ্ছে কি না।
⸻
রান্নাঘরের উনুনে আগুন জ্বলছে।
⸻
প্রতিমা খুন্তি হাতে রান্না করছেন।
⸻
কড়াইয়ে তেল ছ্যাঁৎ ছ্যাঁৎ শব্দ করছে।
⸻
পাশে কাটা আলু।
ভেন্ডি।
পেঁয়াজ।
আদা-রসুন বাটা।
⸻
সকালের রান্নার ব্যস্ততা।
⸻
ঘরের মধ্যে ভাতের গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে।
⸻
আজ অদ্ভুতভাবে রতন অনেক সকালেই উঠে পড়েছে।
⸻
সাধারণত প্রতিমাকে দুই-তিনবার ডাকতে হয়।
⸻
আজ তার দরকার হয়নি।
⸻
উঠোনের এক কোণে স্নানের জন্য জলভর্তি বালতি রাখা।
⸻
পাশে সাবান।
তেলের শিশি।
গামছা।
⸻
সবকিছু প্রস্তুত।
⸻
তবু রতন সেখানে যায়নি।
⸻
সে চুপচাপ উঠোনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে।
⸻
কী যেন ভাবছে।
⸻
কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।
⸻
প্রতিমা একবার তাকিয়ে হেসে বললেন,
— কী রে? আজ না ডাকতেই উঠে বসে আছিস?
⸻
কোন চিন্তায় ডুবে গেলি আবার?
⸻
রমাপদ চেইনে তেল দিতে দিতে বললেন,
— শরীর ঠিক আছে তো?
⸻
— কেমন যেন দেখাচ্ছে।
⸻
— দরকার হলে কবিরাজমশায়ের কাছে গিয়ে আয়।
⸻
রতন মাথা তুলল।
⸻
তার গলা পুরো স্বাভাবিক।
⸻
— না বাবা।
⸻
— শরীর ঠিকই আছে।
⸻
প্রতিমা হেসে বললেন,
— আজ বোধহয় খেলার চিন্তা।
⸻
— না হলে কালকের হারার শোধ নেবে ভেবে বসে আছে।
⸻
বলতে বলতে তিনি আবার খুন্তি নাড়তে লাগলেন।
⸻
কথাগুলো শুনে রতনও হালকা হাসল।
⸻
কিন্তু সেই হাসি চোখ পর্যন্ত পৌঁছাল না।
⸻
কিছুক্ষণ পরে সে ধীরে ধীরে ঘরের ভেতরের দিকে হাঁটতে লাগল।
⸻
দরজার কাছে গিয়ে হঠাৎ থেমে গেল।
⸻
একবার ঘাড় ঘুরিয়ে উঠোনের দিকে তাকাল।
⸻
রমাপদ তখনও সাইকেল নিয়ে ব্যস্ত।
⸻
প্রতিমা রান্নায়।
⸻
কারও চোখ তার দিকে নেই।
⸻
রতনের ঠোঁট খুব আস্তে নড়ল।
⸻
এত আস্তে যে শব্দ প্রায় শোনা যায় না।
⸻
কয়েকটা অস্পষ্ট শব্দ।
⸻
বিড়বিড়ানি।
⸻
তারপর সে ঘরের ভেতরে ঢুকে গেল।
⸻
ঠিক তখনই…
⸻
প্রতিমার হাতের খুন্তি থেমে গেল।
⸻
কেন থামল তিনি জানেন না।
⸻
হঠাৎ যেন মনে হলো—
ঘরের ভেতরে কিছু একটা কাজ বাকি আছে।
⸻
খুব জরুরি।
⸻
এখনই যেতে হবে।
⸻
তিনি ধীরে ধীরে কাঠের পিঁড়ি থেকে উঠে দাঁড়ালেন।
⸻
পাশে রাখা পেঁয়াজ, আদা-রসুন বাটা, লঙ্কা, জিরে বাটা সব সেখানেই রইল।
⸻
উনুনে আগুনও জ্বলছে।
⸻
তবু তিনি যেন অজান্তেই ঘরের দিকে পা বাড়ালেন।
⸻
রমাপদ একবার মুখ তুলে তাকালেন।
⸻
প্রতিমাকে ভেতরের দিকে যেতে দেখে বললেন,
— কী হলো?
⸻
কিছু লাগবে নাকি?
⸻
প্রতিমা উত্তর দিলেন না।
⸻
আসলে তিনি নিজেও জানতেন না কেন যাচ্ছেন।
⸻
শুধু মনে হচ্ছিল…
যেতে হবে।
⸻
একবার।
⸻
মাত্র একবার।
⸻
রমাপদ কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রইলেন।
⸻
তারপর আবার সাইকেলের চেইন মুছতে শুরু করলেন।
⸻
ব্যাপারটা আর মাথায় রাখলেন না।
⸻
কিন্তু ঘরের অন্ধকার ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকা রতনের মুখে তখন এক অদ্ভুত স্থিরতা।
⸻
সে দরজার ফাঁক দিয়ে মায়ের এগিয়ে আসা দেখছিল।
⸻
আর তার বুকের গভীরে…
অন্য কারও চিন্তা ধীরে ধীরে জেগে উঠছিল।
⸻
“এখনও খুব দুর্বল…”
⸻
“তবু প্রভাব রয়ে গেছে…”
⸻
“আরও সময় চাই…”
⸻
বাইরে শীতের রোদ উঠছিল।
⸻
কাশীপুরের মানুষ তাদের দিনের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ছিল।
⸻
কেউ জানত না—
একটা অদৃশ্য কু-প্রভাব আজ আবার নিজের অস্তিত্বের ছোট্ট একটা প্রমাণ রেখে গেল।


![[+]](https://xossipy.com/themes/sharepoint/collapse_collapsed.png)