Thread Rating:
  • 7 Vote(s) - 3.29 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
Erotic Horror কাশীপুরের কান্ড
#43
অধ্যায় ৩৭ : যে চোখে প্রাণীরা দেখে

শীতের সকাল কেটে দুপুর গড়িয়ে বিকেল।

কাশীপুর গ্রামের ওপর একটা অলস নীরবতা নেমে এসেছে।



কলেজ ছুটি হয়েছে কিছুক্ষণ আগে।



রতন একাই ফিরছে।



সিবু আজ মামার বাড়ি গেছে।

কার্তিকও অন্য পথে।



ধান কাটা হয়ে যাওয়া মাঠের পাশ দিয়ে মাটির সরু রাস্তা ধরে হাঁটছে সে।



হাওয়ায় শুকনো খড়ের গন্ধ।



দূরে কয়েকটা সাদা বক জমির ওপর দাঁড়িয়ে।



সবকিছু স্বাভাবিক।



অথচ আজ সারাদিন রতনের মনটা কেমন অস্থির।



কারণ ছাড়াই।



রাস্তার মোড় ঘুরতেই সে একটা কুকুরকে দেখতে পেল।



গ্রামেরই কুকুর।



হলদে-বাদামি রঙ।



চোখের নিচে পুরোনো একটা দাগ।



রতন তাকে আগেও দেখেছে।



কুকুরটাও সাধারণত মানুষ দেখলে লেজ নাড়ে।



কিন্তু আজ…

ঘটল অন্য কিছু।



কুকুরটা রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিল।



তারপর রতনকে দেখল।



এক সেকেন্ড।



দুই সেকেন্ড।



তিন সেকেন্ড।



হঠাৎ কুকুরটার শরীর শক্ত হয়ে গেল।



লেজ ধীরে ধীরে পায়ের ফাঁকে ঢুকে গেল।



কান দুটো মাথার সঙ্গে লেগে গেল।



চোখে অদ্ভুত আতঙ্ক।



যেন সে এমন কিছু দেখছে যা মানুষের চোখে ধরা পড়ে না।



রতন থেমে গেল।



— এই?



সে ডাক দিল।



কুকুরটা কুঁই কুঁই করে পিছিয়ে গেল।



আর তারপর…

এক ঝটকায় দৌড়ে পালাল।



যেন মৃত্যুকে দেখে ফেলেছে।



রতন কিছুক্ষণ স্থির দাঁড়িয়ে রইল।



বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা অনুভূতি।



কষ্ট নয়।



ভয়ও নয়।



বরং…

অচেনা এক পরিচিতি।



যেন এই দৃশ্য সে আগেও দেখেছে।



অনেকবার।



অনেক বছর আগে।



তার ঠোঁটের কোণে অজান্তেই একটা হাসি ফুটে উঠল।



খুব ক্ষীণ।



খুব ছোট।



তারপরই হাসিটা মিলিয়ে গেল।



রতন নিজেই বুঝতে পারল না কেন হাসল।



সে আবার হাঁটতে শুরু করল।



কিন্তু তার ভেতরের অন্ধকারে…

একটা স্মৃতি জেগে উঠেছিল।



একটা বহু পুরোনো স্মৃতি।



রাত্রি।



আগুনের আলো।



গাছের ছায়া।



আর কয়েকটা কুকুর।



তারা দূরে দাঁড়িয়ে কাঁপছে।



কারও সাহস হচ্ছে না কাছে আসার।



সেই স্মৃতির গভীর থেকে একটা ভাবনা ভেসে উঠল।



“ওরা আগে থেকেই বুঝত…”



“প্রাণীরা সবসময় আগে বুঝে।”



তারপর আবার অন্ধকার।



আবার নীরবতা।



সন্ধ্যার দিকে রতন বাড়ি পৌঁছল।



প্রতিমা উঠোনে ধোয়া কাপড় মেলছিলেন।



রমাপদ এখনও ফেরেননি।



সব আগের মতো।



তবু আজ রতনের মনে হচ্ছে—

কেউ যেন তাকে লক্ষ করছে।



কোথা থেকে?



সে জানে না।



সেই সময়…

গ্রামের অন্য প্রান্তে।



শিবমন্দিরের চাতালে বসেছিলেন হরিঠাকুমা।



হাতে জপমালা।



কিন্তু আজ তার মন জপে নেই।



সকালের পর থেকে বুকের ভেতর অকারণ একটা অস্বস্তি।



হঠাৎ মন্দিরের সামনে একটা কালো কুকুর এসে দাঁড়াল।



কুকুরটা কয়েক মুহূর্ত রাস্তার দিকে তাকিয়ে রইল।



তারপর ধীরে ধীরে কুঁই কুঁই শব্দ করল।



আর মন্দিরের সিঁড়ির নিচে শুয়ে পড়ল।



যেন আশ্রয় চাইছে।



হরিঠাকুমা কাঁপা হাতে কুকুরটার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।



তারপর খুব আস্তে বললেন—

“তুইও কি টের পাচ্ছিস রে?”



কুকুরটা মাথা তুলল না।



শুধু চোখ বন্ধ করল।



সেই রাত।



রতন ঘুমিয়ে।



বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে।



বাইরে কুয়াশা।



দূরে শেয়ালের ডাক।



আর গভীর অন্ধকারে…

কেউ একজন ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছে।



শক্তি এখনও অসম্পূর্ণ।



বন্ধন এখনও পুরো ভাঙেনি।



তবু আজকের ঘটনায় সে খুশি।



কারণ বহু বছর পরে আবার একবার নিশ্চিত হলো—



প্রাণীরা এখনও তাকে চিনতে পারে।



আর যেদিন মানুষও চিনতে শুরু করবে…

সেদিন হয়তো অনেক দেরি হয়ে যাবে।



বটগাছটার কালো ছায়া দূরে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে রইল।



কিন্তু তার শিকড়ের গভীরে…

কোথাও যেন অদৃশ্যভাবে আরেকটা বন্ধন একটু আলগা হয়ে গেল।
Like Reply


Messages In This Thread
RE: কাশীপুরের কান্ড - by Toxic boy - 19-06-2026, 01:09 PM



Users browsing this thread: 1 Guest(s)