19-06-2026, 01:04 PM
অধ্যায় ৩৩ : নামের ছায়া
কলেজ ছুটি হওয়ার পর রতন, সিবু, গোপাল আর আরও দু-একজন একসঙ্গে গ্রামের দিকে ফিরছিল।
বিকেলের আলো তখন নরম হয়ে এসেছে।
ধান কাটা হয়ে যাওয়া জমির ওপর দিয়ে হাওয়া বয়ে যাচ্ছে।
⸻
ছেলেগুলো নিজেদের মধ্যে গল্প করছে।
কেউ ক্রিকেট নিয়ে।
কেউ কলেজের নতুন শিক্ষক নিয়ে।
⸻
কিন্তু রতন আজ একটু চুপ।
⸻
সে হাঁটছে ঠিকই।
কিন্তু তার মন যেন অন্য কোথাও।
⸻
রাস্তার ধারে একটা পুরোনো বটের চারা দেখে হঠাৎ তার মাথার ভেতর কেমন যেন ঝাঁকুনি লাগল।
⸻
একটা নাম।
⸻
একটা বহু পুরোনো নাম।
⸻
মনে হলো নামটা সে বহুবার শুনেছে।
⸻
অথচ কখনও শোনেনি।
⸻
তার ঠোঁট নড়ল।
খুব আস্তে।
⸻
— নিরঞ্জ…
⸻
পাশ থেকে সিবু শুনে ফেলল।
⸻
— কী বললি?
⸻
রতন চমকে উঠল।
⸻
— কই? কিছু না তো।
⸻
— না না, কিছু একটা বললি।
⸻
গোপালও তাকাল।
⸻
— কার নাম রে?
⸻
রতনের বুকের ভেতর ধক করে উঠল।
⸻
কারণ সে নিজেই জানে না কেন শব্দটা মুখে এসেছিল।
⸻
— আরে কিছু না। ভুল শুনেছিস।
⸻
সে দ্রুত হাঁটতে শুরু করল।
⸻
বন্ধুরা কিছুক্ষণ খোঁচাখুঁচি করল।
তারপর অন্য প্রসঙ্গে চলে গেল।
⸻
কিন্তু রতনের কপালে তখন হালকা ঘাম।
⸻
শীতের বিকেলে।
⸻
সন্ধ্যা নামার আগেই সে বাড়ি ফিরল।
⸻
প্রতিমা রান্নাঘরে।
⸻
রমাপদ এখনও ফেরেননি।
⸻
সবকিছু আগের মতো।
⸻
তবু রতনের ভেতরে কোথাও যেন আরেকটা নীরব উপস্থিতি জেগে আছে।
⸻
রাত।
⸻
সবাই ঘুমিয়ে।
⸻
চাঁদের আলো জানলার ফাঁক দিয়ে ঘরে ঢুকেছে।
⸻
রতনের চোখ বন্ধ।
⸻
কিন্তু তার ভেতরে অন্য এক জাগরণ।
⸻
স্বপ্ন নয়।
⸻
আবার পুরো জাগরণও নয়।
⸻
এক অদ্ভুত মাঝামাঝি অবস্থা।
⸻
সেখানে সে নিজেকে দেখতে পেল গ্রামের ওপর দিয়ে তাকিয়ে থাকতে।
⸻
মাঠ।
⸻
পুকুর।
⸻
মন্দির।
⸻
নতুন টিনের ছাউনি দেওয়া কয়েকটা বাড়ি।
⸻
ইলেকট্রিকের খুঁটি।
⸻
দূরে মোবাইল টাওয়ারের আলো।
⸻
সবকিছু সে দেখছে।
⸻
কিন্তু রতনের চোখ দিয়ে নয়।
⸻
আর সেই অদৃশ্য দৃষ্টির মধ্যে একটা শীতল কৌতূহল।
⸻
“অনেক বদলে গেছে…”
⸻
“তবু মানুষ একই রয়ে গেছে।”
⸻
একটা নিঃশব্দ অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ল।
⸻
যেন বহু বছর পরে কেউ নিজের পুরোনো জায়গায় ফিরে এসেছে।
⸻
আর চারপাশটা পরীক্ষা করে দেখছে।
⸻
কে বেঁচে আছে।
⸻
কী বদলেছে।
⸻
কী ভেঙেছে।
⸻
আর কী এখনও আগের মতো আছে।
⸻
দূরে গ্রামের মন্দিরের ঘণ্টা বাজল।
⸻
সেই শব্দ শুনে অন্ধকারের ভেতরে যেন এক মুহূর্তের জন্য একটা তীক্ষ্ণ হাসি ফুটে উঠল।
⸻
সেটা আনন্দের হাসি নয়।
⸻
বিদ্রূপেরও নয়।
⸻
বরং এমন এক হাসি, যা দেখে মনে হয়—
কেউ খুব ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছে।
⸻
খুব দীর্ঘ সময় ধরে।
⸻
আর এখন মনে করছে—
অপেক্ষার শেষটা হয়তো আর বেশি দূরে নয়।
⸻
সকালে ঘুম ভাঙার পর রতনের কিছুই মনে রইল না।
⸻
শুধু জানলার বাইরে তাকিয়ে তার হঠাৎ মনে হলো—
গ্রামটাকে সে যেন নতুন করে দেখছে।
⸻
আর অনেক দূরে, কুয়াশার আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা বটগাছটার দিকে তাকিয়ে তার অকারণ মনে হলো—
ওখানে কিছু একটা এখনও জেগে আছে।
কলেজ ছুটি হওয়ার পর রতন, সিবু, গোপাল আর আরও দু-একজন একসঙ্গে গ্রামের দিকে ফিরছিল।
বিকেলের আলো তখন নরম হয়ে এসেছে।
ধান কাটা হয়ে যাওয়া জমির ওপর দিয়ে হাওয়া বয়ে যাচ্ছে।
⸻
ছেলেগুলো নিজেদের মধ্যে গল্প করছে।
কেউ ক্রিকেট নিয়ে।
কেউ কলেজের নতুন শিক্ষক নিয়ে।
⸻
কিন্তু রতন আজ একটু চুপ।
⸻
সে হাঁটছে ঠিকই।
কিন্তু তার মন যেন অন্য কোথাও।
⸻
রাস্তার ধারে একটা পুরোনো বটের চারা দেখে হঠাৎ তার মাথার ভেতর কেমন যেন ঝাঁকুনি লাগল।
⸻
একটা নাম।
⸻
একটা বহু পুরোনো নাম।
⸻
মনে হলো নামটা সে বহুবার শুনেছে।
⸻
অথচ কখনও শোনেনি।
⸻
তার ঠোঁট নড়ল।
খুব আস্তে।
⸻
— নিরঞ্জ…
⸻
পাশ থেকে সিবু শুনে ফেলল।
⸻
— কী বললি?
⸻
রতন চমকে উঠল।
⸻
— কই? কিছু না তো।
⸻
— না না, কিছু একটা বললি।
⸻
গোপালও তাকাল।
⸻
— কার নাম রে?
⸻
রতনের বুকের ভেতর ধক করে উঠল।
⸻
কারণ সে নিজেই জানে না কেন শব্দটা মুখে এসেছিল।
⸻
— আরে কিছু না। ভুল শুনেছিস।
⸻
সে দ্রুত হাঁটতে শুরু করল।
⸻
বন্ধুরা কিছুক্ষণ খোঁচাখুঁচি করল।
তারপর অন্য প্রসঙ্গে চলে গেল।
⸻
কিন্তু রতনের কপালে তখন হালকা ঘাম।
⸻
শীতের বিকেলে।
⸻
সন্ধ্যা নামার আগেই সে বাড়ি ফিরল।
⸻
প্রতিমা রান্নাঘরে।
⸻
রমাপদ এখনও ফেরেননি।
⸻
সবকিছু আগের মতো।
⸻
তবু রতনের ভেতরে কোথাও যেন আরেকটা নীরব উপস্থিতি জেগে আছে।
⸻
রাত।
⸻
সবাই ঘুমিয়ে।
⸻
চাঁদের আলো জানলার ফাঁক দিয়ে ঘরে ঢুকেছে।
⸻
রতনের চোখ বন্ধ।
⸻
কিন্তু তার ভেতরে অন্য এক জাগরণ।
⸻
স্বপ্ন নয়।
⸻
আবার পুরো জাগরণও নয়।
⸻
এক অদ্ভুত মাঝামাঝি অবস্থা।
⸻
সেখানে সে নিজেকে দেখতে পেল গ্রামের ওপর দিয়ে তাকিয়ে থাকতে।
⸻
মাঠ।
⸻
পুকুর।
⸻
মন্দির।
⸻
নতুন টিনের ছাউনি দেওয়া কয়েকটা বাড়ি।
⸻
ইলেকট্রিকের খুঁটি।
⸻
দূরে মোবাইল টাওয়ারের আলো।
⸻
সবকিছু সে দেখছে।
⸻
কিন্তু রতনের চোখ দিয়ে নয়।
⸻
আর সেই অদৃশ্য দৃষ্টির মধ্যে একটা শীতল কৌতূহল।
⸻
“অনেক বদলে গেছে…”
⸻
“তবু মানুষ একই রয়ে গেছে।”
⸻
একটা নিঃশব্দ অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ল।
⸻
যেন বহু বছর পরে কেউ নিজের পুরোনো জায়গায় ফিরে এসেছে।
⸻
আর চারপাশটা পরীক্ষা করে দেখছে।
⸻
কে বেঁচে আছে।
⸻
কী বদলেছে।
⸻
কী ভেঙেছে।
⸻
আর কী এখনও আগের মতো আছে।
⸻
দূরে গ্রামের মন্দিরের ঘণ্টা বাজল।
⸻
সেই শব্দ শুনে অন্ধকারের ভেতরে যেন এক মুহূর্তের জন্য একটা তীক্ষ্ণ হাসি ফুটে উঠল।
⸻
সেটা আনন্দের হাসি নয়।
⸻
বিদ্রূপেরও নয়।
⸻
বরং এমন এক হাসি, যা দেখে মনে হয়—
কেউ খুব ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছে।
⸻
খুব দীর্ঘ সময় ধরে।
⸻
আর এখন মনে করছে—
অপেক্ষার শেষটা হয়তো আর বেশি দূরে নয়।
⸻
সকালে ঘুম ভাঙার পর রতনের কিছুই মনে রইল না।
⸻
শুধু জানলার বাইরে তাকিয়ে তার হঠাৎ মনে হলো—
গ্রামটাকে সে যেন নতুন করে দেখছে।
⸻
আর অনেক দূরে, কুয়াশার আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা বটগাছটার দিকে তাকিয়ে তার অকারণ মনে হলো—
ওখানে কিছু একটা এখনও জেগে আছে।


![[+]](https://xossipy.com/themes/sharepoint/collapse_collapsed.png)