Thread Rating:
  • 10 Vote(s) - 3 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
Erotic Horror কাশীপুরের কান্ড
#39
অধ্যায় ৩৩ : নামের ছায়া

কলেজ ছুটি হওয়ার পর রতন, সিবু, গোপাল আর আরও দু-একজন একসঙ্গে গ্রামের দিকে ফিরছিল।

বিকেলের আলো তখন নরম হয়ে এসেছে।

ধান কাটা হয়ে যাওয়া জমির ওপর দিয়ে হাওয়া বয়ে যাচ্ছে।

⸻

ছেলেগুলো নিজেদের মধ্যে গল্প করছে।

কেউ ক্রিকেট নিয়ে।

কেউ কলেজের নতুন শিক্ষক নিয়ে।

⸻

কিন্তু রতন আজ একটু চুপ।

⸻

সে হাঁটছে ঠিকই।

কিন্তু তার মন যেন অন্য কোথাও।

⸻

রাস্তার ধারে একটা পুরোনো বটের চারা দেখে হঠাৎ তার মাথার ভেতর কেমন যেন ঝাঁকুনি লাগল।

⸻

একটা নাম।

⸻

একটা বহু পুরোনো নাম।

⸻

মনে হলো নামটা সে বহুবার শুনেছে।

⸻

অথচ কখনও শোনেনি।

⸻

তার ঠোঁট নড়ল।

খুব আস্তে।

⸻

— নিরঞ্জ…

⸻

পাশ থেকে সিবু শুনে ফেলল।

⸻

— কী বললি?

⸻

রতন চমকে উঠল।

⸻

— কই? কিছু না তো।

⸻

— না না, কিছু একটা বললি।

⸻

গোপালও তাকাল।

⸻

— কার নাম রে?

⸻

রতনের বুকের ভেতর ধক করে উঠল।

⸻

কারণ সে নিজেই জানে না কেন শব্দটা মুখে এসেছিল।

⸻

— আরে কিছু না। ভুল শুনেছিস।

⸻

সে দ্রুত হাঁটতে শুরু করল।

⸻

বন্ধুরা কিছুক্ষণ খোঁচাখুঁচি করল।

তারপর অন্য প্রসঙ্গে চলে গেল।

⸻

কিন্তু রতনের কপালে তখন হালকা ঘাম।

⸻

শীতের বিকেলে।

⸻

সন্ধ্যা নামার আগেই সে বাড়ি ফিরল।

⸻

প্রতিমা রান্নাঘরে।

⸻

রমাপদ এখনও ফেরেননি।

⸻

সবকিছু আগের মতো।

⸻

তবু রতনের ভেতরে কোথাও যেন আরেকটা নীরব উপস্থিতি জেগে আছে।

⸻

রাত।

⸻

সবাই ঘুমিয়ে।

⸻

চাঁদের আলো জানলার ফাঁক দিয়ে ঘরে ঢুকেছে।

⸻

রতনের চোখ বন্ধ।

⸻

কিন্তু তার ভেতরে অন্য এক জাগরণ।

⸻

স্বপ্ন নয়।

⸻

আবার পুরো জাগরণও নয়।

⸻

এক অদ্ভুত মাঝামাঝি অবস্থা।

⸻

সেখানে সে নিজেকে দেখতে পেল গ্রামের ওপর দিয়ে তাকিয়ে থাকতে।

⸻

মাঠ।

⸻

পুকুর।

⸻

মন্দির।

⸻

নতুন টিনের ছাউনি দেওয়া কয়েকটা বাড়ি।

⸻

ইলেকট্রিকের খুঁটি।

⸻

দূরে মোবাইল টাওয়ারের আলো।

⸻

সবকিছু সে দেখছে।

⸻

কিন্তু রতনের চোখ দিয়ে নয়।

⸻

আর সেই অদৃশ্য দৃষ্টির মধ্যে একটা শীতল কৌতূহল।

⸻

“অনেক বদলে গেছে…”

⸻

“তবু মানুষ একই রয়ে গেছে।”

⸻

একটা নিঃশব্দ অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ল।

⸻

যেন বহু বছর পরে কেউ নিজের পুরোনো জায়গায় ফিরে এসেছে।

⸻

আর চারপাশটা পরীক্ষা করে দেখছে।

⸻

কে বেঁচে আছে।

⸻

কী বদলেছে।

⸻

কী ভেঙেছে।

⸻

আর কী এখনও আগের মতো আছে।

⸻

দূরে গ্রামের মন্দিরের ঘণ্টা বাজল।

⸻

সেই শব্দ শুনে অন্ধকারের ভেতরে যেন এক মুহূর্তের জন্য একটা তীক্ষ্ণ হাসি ফুটে উঠল।

⸻

সেটা আনন্দের হাসি নয়।

⸻

বিদ্রূপেরও নয়।

⸻

বরং এমন এক হাসি, যা দেখে মনে হয়—

কেউ খুব ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করছে।

⸻

খুব দীর্ঘ সময় ধরে।

⸻

আর এখন মনে করছে—

অপেক্ষার শেষটা হয়তো আর বেশি দূরে নয়।

⸻

সকালে ঘুম ভাঙার পর রতনের কিছুই মনে রইল না।

⸻

শুধু জানলার বাইরে তাকিয়ে তার হঠাৎ মনে হলো—

গ্রামটাকে সে যেন নতুন করে দেখছে।

⸻

আর অনেক দূরে, কুয়াশার আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকা বটগাছটার দিকে তাকিয়ে তার অকারণ মনে হলো—

ওখানে কিছু একটা এখনও জেগে আছে।
Like Reply


Messages In This Thread
RE: কাশীপুরের কান্ড - by Toxic boy - 19-06-2026, 01:04 PM



Users browsing this thread: 1 Guest(s)