19-06-2026, 01:02 PM
অধ্যায় ৩২ : কলেজের দিন
রতন, সিবু আর বাকিরা কলেজের গেট পেরিয়ে ভেতরে ঢুকল।
সকালের রোদ তখন পুরোপুরি চড়ে বসেনি।
কলেজের মাঠে কয়েকটা ছেলে এখনও দৌড়াদৌড়ি করছে।
কেউ ক্রিকেট ব্যাট হাতে।
কেউ মার্বেল নিয়ে ব্যস্ত।
⸻
বাইরে থেকে সবকিছু একেবারে স্বাভাবিক।
⸻
কিন্তু রতনের বুকের ভেতর আজ সকাল থেকে একটা চাপা অস্বস্তি।
⸻
ঠিক ভয় নয়।
⸻
আবার স্বস্তিও নয়।
⸻
যেন কেউ খুব আস্তে তার কানের কাছে দাঁড়িয়ে আছে।
কিন্তু কথা বলছে না।
শুধু অপেক্ষা করছে।
⸻
— কী রে?
সিবুর ডাক শুনে চমকে উঠল রতন।
⸻
— কোথায় হারিয়ে গেলি?
⸻
— কোথাও না।
⸻
— আজকাল তোকে কেমন কেমন লাগে।
⸻
রতন হেসে উড়িয়ে দিল।
⸻
কিন্তু তার নিজেরও মনে হচ্ছিল, কথাটা পুরো মিথ্যে নয়।
⸻
প্রথম পিরিয়ড বাংলা।
দ্বিতীয় পিরিয়ড ইতিহাস।
⸻
ইতিহাস ক্লাসে শিক্ষক যখন পুরোনো বাংলার কথা বলছিলেন, রতনের মন হঠাৎ অন্যদিকে চলে গেল।
⸻
খাতার কোণে অজান্তেই সে কিছু আঁকতে শুরু করল।
⸻
একটা বৃত্ত।
⸻
তার চারপাশে আরও কয়েকটা দাগ।
⸻
তারপর কয়েকটা অদ্ভুত চিহ্ন।
⸻
সে খেয়ালই করেনি।
⸻
ঘণ্টা পড়ার পর সিবু খাতা টেনে নিয়ে বলল—
— এ আবার কী এঁকেছিস?
⸻
রতন তাকিয়ে থমকে গেল।
⸻
কারণ সে নিজেও জানে না।
⸻
চিহ্নগুলো তার কাছে অচেনা।
⸻
তবু…
কোথায় যেন দেখেছে বলে মনে হচ্ছে।
⸻
খুব দূরের কোনো স্মৃতির মতো।
⸻
কিন্তু সেই স্মৃতি তার নিজের না।
⸻
তার বুকের ভেতর আবার সেই চাপা অস্বস্তি।
⸻
সে তাড়াতাড়ি পাতাটা ছিঁড়ে ফেলল।
⸻
— আরে ছিঁড়লি কেন?
⸻
— এমনি।
⸻
সিবু কাঁধ ঝাঁকাল।
⸻
বিষয়টা নিয়ে আর ভাবল না।
⸻
কিন্তু রতনের হাত তখনও সামান্য কাঁপছে।
⸻
টিফিনের সময় সবাই মাঠে বেরিয়ে গেল।
⸻
কলেজের পিছনদিকে একটা পুরোনো ঘর আছে।
⸻
অনেক বছর ধরে বন্ধ।
⸻
জানলার কাঠ পচে গেছে।
⸻
দেওয়ালের চুন খসে পড়েছে।
⸻
সাধারণত কেউ ওদিকে যায় না।
⸻
রতনও কখনও যায়নি।
⸻
তবু আজ…
তার চোখ বারবার সেদিকেই চলে যাচ্ছে।
⸻
যেন কেউ ডাকছে।
⸻
খুব আস্তে।
⸻
খুব দূর থেকে।
⸻
সে নিজেও বুঝতে পারল না কখন মাঠ ছেড়ে কয়েক পা এগিয়ে গেছে।
⸻
পুরোনো ঘরটার সামনে এসে দাঁড়াতেই তার শরীর দিয়ে কাঁটা বয়ে গেল।
⸻
দরজা বন্ধ।
⸻
তালা ঝুলছে।
⸻
তবু মনে হলো…
ভেতরে কেউ আছে।
⸻
কেউ দাঁড়িয়ে।
⸻
অপেক্ষা করছে।
⸻
ঠিক তখনই পিছন থেকে সিবুর গলা।
⸻
— রে! এখানে কী করছিস?
⸻
রতন যেন ঘোর থেকে ফিরে এল।
⸻
— কিছু না।
⸻
— চল।
⸻
সে আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না।
⸻
সেদিন বাড়ি ফেরার আগে শেষ ঘণ্টা বাজল।
⸻
সবাই বই গুছিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।
⸻
রতনও খাতা ব্যাগে ঢোকাচ্ছিল।
⸻
হঠাৎ তার চোখ গিয়ে পড়ল ডেস্কের ওপর।
⸻
কাঠের ওপর পুরোনো খোদাই।
⸻
অনেক দিনের।
⸻
হয়তো কোনো ছাত্র কেটেছিল।
⸻
সাধারণ একটা দাগ হওয়ার কথা।
⸻
কিন্তু রতন স্থির হয়ে গেল।
⸻
কারণ দাগটা অদ্ভুতভাবে তার খাতায় আঁকা চিহ্নটার মতো।
⸻
একই রকম।
⸻
প্রায় হুবহু।
⸻
তার বুকের ভেতর ঠান্ডা একটা অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ল।
⸻
সে হাত বাড়িয়ে দাগটাকে ছুঁতে গেল।
⸻
আর ঠিক সেই মুহূর্তে—
তার মাথার ভেতর একটা ঝলক।
⸻
এক সেকেন্ড।
⸻
তারও কম।
⸻
অন্ধকার।
⸻
আগুনের আলো।
⸻
আর একটা কণ্ঠস্বর।
⸻
খুব নিচু।
⸻
খুব পুরোনো।
⸻
“মনে পড়ছে?”
⸻
রতন হাত সরিয়ে নিল।
⸻
শ্বাস দ্রুত হয়ে গেছে।
⸻
চারপাশে তাকাল।
⸻
ক্লাসরুম ফাঁকা।
⸻
কেউ নেই।
⸻
তবু মনে হলো…
সে একা নয়।
⸻
একদম একা নয়।
⸻
সেই সন্ধ্যায় যখন রতন বাড়ি ফিরছিল, আকাশের রং ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসছিল।
⸻
আর বহু দূরে…
বটগাছটার দিকে তাকালে মনে হতো সব আগের মতোই আছে।
⸻
কিন্তু অদৃশ্য কোথাও…
একটা কু-প্রভাব নীরবে আরও একটু গভীরে শিকড় ছড়িয়ে দিল।
রতন, সিবু আর বাকিরা কলেজের গেট পেরিয়ে ভেতরে ঢুকল।
সকালের রোদ তখন পুরোপুরি চড়ে বসেনি।
কলেজের মাঠে কয়েকটা ছেলে এখনও দৌড়াদৌড়ি করছে।
কেউ ক্রিকেট ব্যাট হাতে।
কেউ মার্বেল নিয়ে ব্যস্ত।
⸻
বাইরে থেকে সবকিছু একেবারে স্বাভাবিক।
⸻
কিন্তু রতনের বুকের ভেতর আজ সকাল থেকে একটা চাপা অস্বস্তি।
⸻
ঠিক ভয় নয়।
⸻
আবার স্বস্তিও নয়।
⸻
যেন কেউ খুব আস্তে তার কানের কাছে দাঁড়িয়ে আছে।
কিন্তু কথা বলছে না।
শুধু অপেক্ষা করছে।
⸻
— কী রে?
সিবুর ডাক শুনে চমকে উঠল রতন।
⸻
— কোথায় হারিয়ে গেলি?
⸻
— কোথাও না।
⸻
— আজকাল তোকে কেমন কেমন লাগে।
⸻
রতন হেসে উড়িয়ে দিল।
⸻
কিন্তু তার নিজেরও মনে হচ্ছিল, কথাটা পুরো মিথ্যে নয়।
⸻
প্রথম পিরিয়ড বাংলা।
দ্বিতীয় পিরিয়ড ইতিহাস।
⸻
ইতিহাস ক্লাসে শিক্ষক যখন পুরোনো বাংলার কথা বলছিলেন, রতনের মন হঠাৎ অন্যদিকে চলে গেল।
⸻
খাতার কোণে অজান্তেই সে কিছু আঁকতে শুরু করল।
⸻
একটা বৃত্ত।
⸻
তার চারপাশে আরও কয়েকটা দাগ।
⸻
তারপর কয়েকটা অদ্ভুত চিহ্ন।
⸻
সে খেয়ালই করেনি।
⸻
ঘণ্টা পড়ার পর সিবু খাতা টেনে নিয়ে বলল—
— এ আবার কী এঁকেছিস?
⸻
রতন তাকিয়ে থমকে গেল।
⸻
কারণ সে নিজেও জানে না।
⸻
চিহ্নগুলো তার কাছে অচেনা।
⸻
তবু…
কোথায় যেন দেখেছে বলে মনে হচ্ছে।
⸻
খুব দূরের কোনো স্মৃতির মতো।
⸻
কিন্তু সেই স্মৃতি তার নিজের না।
⸻
তার বুকের ভেতর আবার সেই চাপা অস্বস্তি।
⸻
সে তাড়াতাড়ি পাতাটা ছিঁড়ে ফেলল।
⸻
— আরে ছিঁড়লি কেন?
⸻
— এমনি।
⸻
সিবু কাঁধ ঝাঁকাল।
⸻
বিষয়টা নিয়ে আর ভাবল না।
⸻
কিন্তু রতনের হাত তখনও সামান্য কাঁপছে।
⸻
টিফিনের সময় সবাই মাঠে বেরিয়ে গেল।
⸻
কলেজের পিছনদিকে একটা পুরোনো ঘর আছে।
⸻
অনেক বছর ধরে বন্ধ।
⸻
জানলার কাঠ পচে গেছে।
⸻
দেওয়ালের চুন খসে পড়েছে।
⸻
সাধারণত কেউ ওদিকে যায় না।
⸻
রতনও কখনও যায়নি।
⸻
তবু আজ…
তার চোখ বারবার সেদিকেই চলে যাচ্ছে।
⸻
যেন কেউ ডাকছে।
⸻
খুব আস্তে।
⸻
খুব দূর থেকে।
⸻
সে নিজেও বুঝতে পারল না কখন মাঠ ছেড়ে কয়েক পা এগিয়ে গেছে।
⸻
পুরোনো ঘরটার সামনে এসে দাঁড়াতেই তার শরীর দিয়ে কাঁটা বয়ে গেল।
⸻
দরজা বন্ধ।
⸻
তালা ঝুলছে।
⸻
তবু মনে হলো…
ভেতরে কেউ আছে।
⸻
কেউ দাঁড়িয়ে।
⸻
অপেক্ষা করছে।
⸻
ঠিক তখনই পিছন থেকে সিবুর গলা।
⸻
— রে! এখানে কী করছিস?
⸻
রতন যেন ঘোর থেকে ফিরে এল।
⸻
— কিছু না।
⸻
— চল।
⸻
সে আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না।
⸻
সেদিন বাড়ি ফেরার আগে শেষ ঘণ্টা বাজল।
⸻
সবাই বই গুছিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে।
⸻
রতনও খাতা ব্যাগে ঢোকাচ্ছিল।
⸻
হঠাৎ তার চোখ গিয়ে পড়ল ডেস্কের ওপর।
⸻
কাঠের ওপর পুরোনো খোদাই।
⸻
অনেক দিনের।
⸻
হয়তো কোনো ছাত্র কেটেছিল।
⸻
সাধারণ একটা দাগ হওয়ার কথা।
⸻
কিন্তু রতন স্থির হয়ে গেল।
⸻
কারণ দাগটা অদ্ভুতভাবে তার খাতায় আঁকা চিহ্নটার মতো।
⸻
একই রকম।
⸻
প্রায় হুবহু।
⸻
তার বুকের ভেতর ঠান্ডা একটা অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ল।
⸻
সে হাত বাড়িয়ে দাগটাকে ছুঁতে গেল।
⸻
আর ঠিক সেই মুহূর্তে—
তার মাথার ভেতর একটা ঝলক।
⸻
এক সেকেন্ড।
⸻
তারও কম।
⸻
অন্ধকার।
⸻
আগুনের আলো।
⸻
আর একটা কণ্ঠস্বর।
⸻
খুব নিচু।
⸻
খুব পুরোনো।
⸻
“মনে পড়ছে?”
⸻
রতন হাত সরিয়ে নিল।
⸻
শ্বাস দ্রুত হয়ে গেছে।
⸻
চারপাশে তাকাল।
⸻
ক্লাসরুম ফাঁকা।
⸻
কেউ নেই।
⸻
তবু মনে হলো…
সে একা নয়।
⸻
একদম একা নয়।
⸻
সেই সন্ধ্যায় যখন রতন বাড়ি ফিরছিল, আকাশের রং ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে আসছিল।
⸻
আর বহু দূরে…
বটগাছটার দিকে তাকালে মনে হতো সব আগের মতোই আছে।
⸻
কিন্তু অদৃশ্য কোথাও…
একটা কু-প্রভাব নীরবে আরও একটু গভীরে শিকড় ছড়িয়ে দিল।


![[+]](https://xossipy.com/themes/sharepoint/collapse_collapsed.png)