Thread Rating:
  • 10 Vote(s) - 3 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
Erotic Horror কাশীপুরের কান্ড
#22
ফ্ল্যাশব্যাক : হরিপদ মাস্টারের দাদুর গল্প

সেই রাতেও ঘুম আসছিল না হরিপদ মাস্টারের।

বিছানায় শুয়ে শুয়ে তিনি জানলার বাইরে তাকিয়ে ছিলেন।

কুয়াশা।

নিঃশব্দ অন্ধকার।

আর দূরে কোথাও কুকুরের ডাক।

⸻

তারপর হঠাৎ মনে পড়ে গেল বহু বছরের পুরোনো একটা কথা।

একটা গল্প।

না…

গল্প নয়।

তার দাদুর মুখে শোনা একটা ঘটনা।

⸻

তখন হরিপদ ছোট।

দশ-এগারো বছরের বেশি নয়।

শীতের রাতে দাদুর গা ঘেঁষে বসে থাকত।

আর দাদু মাঝে মাঝে পুরোনো দিনের কথা বলতেন।

⸻

সেইসব গল্পের মধ্যে একটা গল্প ছিল।

যে গল্পের শেষ পর্যন্ত তিনি কোনোদিন শুনতে পারেননি।

⸻

দাদু বলতেন—

“তুই যে বটগাছটা দেখিস না মাঠের ওদিকটায়…

ওটা সবসময় এমন ছিল না।”

⸻

তখনও কাশীপুর এত বড় হয়নি।

বাড়িঘর কম।

জঙ্গল বেশি।

⸻

একদিন এক লোক এল।

কোথা থেকে এসেছে কেউ জানে না।

⸻

লম্বা মানুষ।

শুকনো চেহারা।

জট বাঁধা চুল।

কাঁধ পর্যন্ত নেমে এসেছে।

চোখ দুটো অদ্ভুত।

কখনও স্থির।

কখনও অস্বাভাবিক উজ্জ্বল।

⸻

লোকটা নিজেকে সাধক বলত।

⸻

প্রথমদিকে গ্রামের মানুষ তাকে সম্মানই করত।

⸻

কেউ দুধ দিত।

কেউ ভাত।

কেউ শীতের রাতে চাদর।

⸻

লোকটা সবসময় হেসে কথা বলত।

ধীরে ধীরে।

ভদ্রভাবে।

⸻

আর অদ্ভুতভাবে গ্রামের মানুষের কিছু কিছু ব্যাপার আগে থেকেই বলে দিতে পারত।

⸻

কারও গরু হারাবে।

কারও ফসল নষ্ট হবে।

কারও বাড়িতে অসুখ আসবে।

⸻

সব না।

তবু কয়েকটা এত নিখুঁতভাবে মিলেছিল যে গ্রামের মানুষ অবাক হয়ে গিয়েছিল।

⸻

তারপর…

কিছু বদলাতে শুরু করল।

⸻

ধীরে।

খুব ধীরে।

⸻

কয়েকজন মহিলা তার নাম শুনলে মুখ গম্ভীর করে ফেলতেন।

⸻

কেউ কিছু বলতেন না।

কিন্তু অস্বস্তি ছিল।

⸻

কিছু একটা ঠিক ছিল না।

⸻

একদিন গ্রামের একজন বয়স্ক মহিলা বলেছিলেন—

“লোকটার চোখ ভালো না।”

⸻

কেউ গুরুত্ব দেয়নি।

⸻

তারপর আরও কয়েক মাস কেটে যায়।

⸻

হঠাৎ একদিন…

গ্রামের এক বিবাহিতা মহিলা নিখোঁজ হয়ে যান।

⸻

সারারাত খোঁজাখুঁজি।

⸻

ভোরের দিকে তাকে পাওয়া যায়।

গ্রামের বাইরে।

একটা ঝোপের কাছে।

⸻

তিনি তখনও কাঁপছিলেন।

⸻

চোখে আতঙ্ক।

⸻

লোকজন জিজ্ঞেস করেছিল—

— কী হয়েছিল?

⸻

তিনি উত্তর দেননি।

⸻

শুধু একবার বলেছিলেন—

“ওর চোখের দিকে তাকিয়ো না…”

⸻

তারপর আর কিছু বলেননি।

⸻

ঘটনার পরে পুরো গ্রাম অস্থির হয়ে উঠেছিল।

⸻

কিন্তু আসল ঘটনা ঘটল কয়েক সপ্তাহ পরে।

⸻

এক শীতের রাতে।

⸻

কুয়াশা নেমেছে।

⸻

বেশিরভাগ মানুষ ঘুমিয়ে।

⸻

ঠিক তখন গ্রামের কয়েকজন দূরে আগুনের আলো দেখতে পেল।

⸻

বটগাছের দিক থেকে।

⸻

প্রথমে ভাবল কেউ হয়তো আগুন জ্বালিয়েছে।

⸻

কিন্তু আলোটা স্বাভাবিক ছিল না।

⸻

স্থির না।

⸻

নাচছিল।

⸻

আর তার সঙ্গে ভেসে আসছিল মন্ত্রের মতো শব্দ।

⸻

নিচু।

⸻

অস্পষ্ট।

⸻

শুনলে শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়।

⸻

গ্রামের কয়েকজন সাহসী লোক এগিয়ে গেল।

⸻

তারা ভেবেছিল চোর।

অথবা ডাকাত।

⸻

কিন্তু কাছে গিয়ে…

তারা যা দেখেছিল…

সেটা নিয়ে পরে কেউ স্পষ্ট করে কথা বলতে চাইত না।

⸻

শুধু দাদু একবার বলেছিলেন—

“সেদিন ওর আসল মুখ বেরিয়ে এসেছিল।”

⸻

ছোট হরিপদ জিজ্ঞেস করেছিল—

— কী দেখেছিলে?

⸻

দাদু অনেকক্ষণ চুপ ছিলেন।

⸻

তারপর বলেছিলেন—

“সব জানতে নেই।”

⸻

সেই ঘটনার পর আর কেউ লোকটাকে সাধু বলত না।

⸻

তার নামও মানুষ মুখে আনত না।

⸻

খবর ছড়িয়ে পড়ল আশপাশের গ্রামে।

⸻

তারপর আরও দূরে।

⸻

অবশেষে কয়েক মাস পরে…

কাশী থেকে কয়েকজন তপস্বী এলেন।

⸻

সাধারণ মানুষ না।

⸻

বৃদ্ধ।

গম্ভীর।

⸻

তাদের একজন বটগাছটা দেখে অনেকক্ষণ চুপ করে ছিলেন।

⸻

তারপর বলেছিলেন—

“এখানে বহুদিন ধরে অশুভ সাধনা হয়েছে।”

⸻

আরেকজন মাটির দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন—

“যা জেগেছে, তাকে ধ্বংস করা যাবে না।

কেবল বেঁধে রাখা যাবে।”

⸻

তারপর শুরু হয়েছিল কয়েকদিনের এক অদ্ভুত আচার।

⸻

বটগাছের চারপাশে মাটি খোঁড়া হয়েছিল।

⸻

মন্ত্রপাঠ হয়েছিল।

⸻

লাল আর হলুদ সুতো টানা হয়েছিল।

⸻

খুঁটি পোঁতা হয়েছিল।

⸻

মাটির নিচে কিছু পুঁতে দেওয়া হয়েছিল।

⸻

সেই সময় গ্রামের কাউকে কাছে যেতে দেওয়া হয়নি।

⸻

শেষদিন সেই বৃদ্ধ তপস্বী গ্রামের মানুষদের বলেছিলেন—

“এই গণ্ডির ভেতরে কেউ যাবে না।”

⸻

— কেন?

লোকজন জিজ্ঞেস করেছিল।

⸻

বৃদ্ধ মানুষটা উত্তর দিয়েছিলেন—

“যে বন্দি আছে…

সে মুক্তি চাইবে।”

⸻

— আর যদি কেউ যায়?

⸻

বৃদ্ধ কিছুক্ষণ চুপ করে ছিলেন।

⸻

তারপর বলেছিলেন—

“তাহলে সে হয়তো পথ খুঁজে পাবে।”

⸻

এতটুকুই দাদু বলেছিলেন।

⸻

এরপর যতবার হরিপদ প্রশ্ন করেছে—

ততবারই দাদু চুপ করে গেছেন।

⸻

আর এখন…

এত বছর পরে…

অন্ধকার ঘরে বসে হরিপদ মাস্টারের মনে হচ্ছিল—

রতন কি সেই পথটাই খুলে ফেলেছে?

⸻

জানলার বাইরে কুয়াশা আরও ঘন হচ্ছিল।

⸻

আর বহু দূরে…

অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা সেই বিশাল বটগাছটা যেন নিঃশব্দে অপেক্ষা করছিল।
Like Reply


Messages In This Thread
RE: কাশীপুরের কান্ড - by Toxic boy - 19-06-2026, 01:34 AM



Users browsing this thread: 1 Guest(s)