19-06-2026, 01:28 AM
অধ্যায় ১৮ : সীমার ওপারে
পরদিন বিকেলে আকাশটা অদ্ভুত পরিষ্কার ছিল।
শীতের রোদ।
হালকা বাতাস।
সবকিছু স্বাভাবিক।
এতটাই স্বাভাবিক যে রতনের নিজের কাছেই আগের রাতের সিদ্ধান্তটা একটু বোকামি মনে হচ্ছিল।
তবু সে সিদ্ধান্ত বদলাল না।
⸻
খেলা শেষ হতে হতে আলো ফিকে হতে শুরু করেছে।
পল্টু বলল,
— তো?
রতন বুঝল প্রশ্নটা কী নিয়ে।
— যাচ্ছি।
— সত্যি?
— হ্যাঁ।
⸻
কার্তিক সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— আরে বাদ দে।
— কেন?
— ভালো লাগছে না।
— তুই আসিস না।
— আমি যাবও না।
⸻
শেষ পর্যন্ত রতন একাই হাঁটতে শুরু করল।
প্রথমে মাঠের পরিচিত অংশ।
যেখানে রোজ খেলে।
তারপর আরও সামনে।
যেখানে সাধারণত যাওয়ার দরকার পড়ে না।
⸻
পেছন থেকে বন্ধুদের গলা ভেসে আসছিল।
তারপর ধীরে ধীরে সেটাও ক্ষীণ হয়ে গেল।
⸻
কিছুক্ষণ পর রতন বুঝল—
চারপাশ অস্বাভাবিক চুপচাপ।
একেবারে নিস্তব্ধ নয়।
কিন্তু গ্রামের স্বাভাবিক শব্দগুলো নেই।
না মানুষের কথা।
না গরুর ঘণ্টা।
না হাঁসের ডাক।
⸻
সে থামল।
চারদিকে তাকাল।
কিছুই নেই।
⸻
আরও কয়েক কদম এগোতেই সে প্রথম গাছটাকে দেখল।
বিরাট।
আলো কমে আসায় পুরোটা বোঝা যাচ্ছে না।
শুধু ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে আছে।
⸻
রতনের বুকের ভেতর হালকা কাঁপন উঠল।
ভয়?
হয়তো।
হয়তো না।
⸻
সে নিজেকে বলল,
— কিছু না।
⸻
ঠিক তখনই বাতাস এল।
কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার—
চারপাশের শুকনো ঘাস নড়ল।
দূরের ঝোপ নড়ল।
কিন্তু তার সামনে ঝুলে থাকা কয়েকটা শিকড় স্থির রইল।
একটুও নড়ল না।
⸻
রতন কপাল কুঁচকাল।
এক সেকেন্ড।
দুই সেকেন্ড।
⸻
তারপর হঠাৎ তার মনে হলো—
সে যেন এখানে আগে এসেছে।
⸻
ভাবনাটা এত অদ্ভুত ছিল যে সে নিজেই চমকে উঠল।
সে তো কখনও আসেনি।
তাহলে এমন মনে হচ্ছে কেন?
⸻
মাথার ভেতর যেন ক্ষণিকের জন্য একটা ছবি জ্বলে উঠল।
আগুন।
ধোঁয়া।
কারও বসে থাকা ছায়া।
⸻
তারপরই সব উধাও।
⸻
রতন হাঁফ ছাড়ল।
মনে হলো মাথা ঘুরছে।
খুব সামান্য।
⸻
সে আর দাঁড়াল না।
দ্রুত পায়ে ফিরে চলল।
⸻
ফেরার সময় একবারও পেছনে তাকাল না।
কিন্তু কেন জানি বারবার মনে হচ্ছিল—
পেছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে।
দেখছে।
অপেক্ষা করছে।
⸻
সেই রাতে রতন জ্বরে পড়ল না।
অসুস্থও হলো না।
সব স্বাভাবিক।
⸻
তবু রাতের খাবার খেতে বসে প্রতিমা একবার বললেন,
— কী হয়েছে তোর?
— কিছু না।
— চুপচাপ কেন?
— এমনি।
⸻
রমাপদও একবার তাকালেন।
কিছু বললেন না।
⸻
আর গভীর রাতে…
রতনের ঘুম ভেঙে গেল।
হঠাৎ।
কোনো কারণ ছাড়াই।
⸻
ঘরের ভেতর অন্ধকার।
পাশে মা-বাবার ঘুমন্ত নিঃশ্বাসের শব্দ।
সব ঠিক আছে।
⸻
তবু সে কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে শুয়ে রইল।
কারণ তার মনে হচ্ছিল—
সে কোনো স্বপ্ন দেখছিল।
খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা স্বপ্ন।
⸻
কিন্তু কী স্বপ্ন?
সে মনে করতে পারল না।
একটাও না।
⸻
শুধু একটা অনুভূতি রয়ে গেল।
যেন ঘুমের মধ্যে কেউ তার কানের কাছে খুব আস্তে একটা কথা বলেছিল।
একটা নাম।
অথবা একটা ডাক।
পরদিন বিকেলে আকাশটা অদ্ভুত পরিষ্কার ছিল।
শীতের রোদ।
হালকা বাতাস।
সবকিছু স্বাভাবিক।
এতটাই স্বাভাবিক যে রতনের নিজের কাছেই আগের রাতের সিদ্ধান্তটা একটু বোকামি মনে হচ্ছিল।
তবু সে সিদ্ধান্ত বদলাল না।
⸻
খেলা শেষ হতে হতে আলো ফিকে হতে শুরু করেছে।
পল্টু বলল,
— তো?
রতন বুঝল প্রশ্নটা কী নিয়ে।
— যাচ্ছি।
— সত্যি?
— হ্যাঁ।
⸻
কার্তিক সঙ্গে সঙ্গে বলল,
— আরে বাদ দে।
— কেন?
— ভালো লাগছে না।
— তুই আসিস না।
— আমি যাবও না।
⸻
শেষ পর্যন্ত রতন একাই হাঁটতে শুরু করল।
প্রথমে মাঠের পরিচিত অংশ।
যেখানে রোজ খেলে।
তারপর আরও সামনে।
যেখানে সাধারণত যাওয়ার দরকার পড়ে না।
⸻
পেছন থেকে বন্ধুদের গলা ভেসে আসছিল।
তারপর ধীরে ধীরে সেটাও ক্ষীণ হয়ে গেল।
⸻
কিছুক্ষণ পর রতন বুঝল—
চারপাশ অস্বাভাবিক চুপচাপ।
একেবারে নিস্তব্ধ নয়।
কিন্তু গ্রামের স্বাভাবিক শব্দগুলো নেই।
না মানুষের কথা।
না গরুর ঘণ্টা।
না হাঁসের ডাক।
⸻
সে থামল।
চারদিকে তাকাল।
কিছুই নেই।
⸻
আরও কয়েক কদম এগোতেই সে প্রথম গাছটাকে দেখল।
বিরাট।
আলো কমে আসায় পুরোটা বোঝা যাচ্ছে না।
শুধু ছায়ার মতো দাঁড়িয়ে আছে।
⸻
রতনের বুকের ভেতর হালকা কাঁপন উঠল।
ভয়?
হয়তো।
হয়তো না।
⸻
সে নিজেকে বলল,
— কিছু না।
⸻
ঠিক তখনই বাতাস এল।
কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার—
চারপাশের শুকনো ঘাস নড়ল।
দূরের ঝোপ নড়ল।
কিন্তু তার সামনে ঝুলে থাকা কয়েকটা শিকড় স্থির রইল।
একটুও নড়ল না।
⸻
রতন কপাল কুঁচকাল।
এক সেকেন্ড।
দুই সেকেন্ড।
⸻
তারপর হঠাৎ তার মনে হলো—
সে যেন এখানে আগে এসেছে।
⸻
ভাবনাটা এত অদ্ভুত ছিল যে সে নিজেই চমকে উঠল।
সে তো কখনও আসেনি।
তাহলে এমন মনে হচ্ছে কেন?
⸻
মাথার ভেতর যেন ক্ষণিকের জন্য একটা ছবি জ্বলে উঠল।
আগুন।
ধোঁয়া।
কারও বসে থাকা ছায়া।
⸻
তারপরই সব উধাও।
⸻
রতন হাঁফ ছাড়ল।
মনে হলো মাথা ঘুরছে।
খুব সামান্য।
⸻
সে আর দাঁড়াল না।
দ্রুত পায়ে ফিরে চলল।
⸻
ফেরার সময় একবারও পেছনে তাকাল না।
কিন্তু কেন জানি বারবার মনে হচ্ছিল—
পেছনে কেউ দাঁড়িয়ে আছে।
দেখছে।
অপেক্ষা করছে।
⸻
সেই রাতে রতন জ্বরে পড়ল না।
অসুস্থও হলো না।
সব স্বাভাবিক।
⸻
তবু রাতের খাবার খেতে বসে প্রতিমা একবার বললেন,
— কী হয়েছে তোর?
— কিছু না।
— চুপচাপ কেন?
— এমনি।
⸻
রমাপদও একবার তাকালেন।
কিছু বললেন না।
⸻
আর গভীর রাতে…
রতনের ঘুম ভেঙে গেল।
হঠাৎ।
কোনো কারণ ছাড়াই।
⸻
ঘরের ভেতর অন্ধকার।
পাশে মা-বাবার ঘুমন্ত নিঃশ্বাসের শব্দ।
সব ঠিক আছে।
⸻
তবু সে কয়েক সেকেন্ড স্থির হয়ে শুয়ে রইল।
কারণ তার মনে হচ্ছিল—
সে কোনো স্বপ্ন দেখছিল।
খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা স্বপ্ন।
⸻
কিন্তু কী স্বপ্ন?
সে মনে করতে পারল না।
একটাও না।
⸻
শুধু একটা অনুভূতি রয়ে গেল।
যেন ঘুমের মধ্যে কেউ তার কানের কাছে খুব আস্তে একটা কথা বলেছিল।
একটা নাম।
অথবা একটা ডাক।


![[+]](https://xossipy.com/themes/sharepoint/collapse_collapsed.png)