Thread Rating:
  • 7 Vote(s) - 3.29 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
Erotic Horror কাশীপুরের কান্ড
#9
অধ্যায় ৯ : একেবারে সাধারণ একটা দিন

সকালে কলেজ যাওয়ার সময় রতনের জুতোর ফিতে আবার খুলে গিয়েছিল।

এটা প্রায়ই হয়।

রাস্তার মাঝখানেই বসে ফিতে বাঁধতে হলো।

পল্টু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বলল,

— তোর জুতোটার বয়স আমার ঠাকুরদার চেয়েও বেশি।

— চুপ কর।

— সত্যি বলছি।

বাপন একটা শুকনো ঢেলা তুলে পল্টুর দিকে ছুড়ে মারল।

ঢেলাটা অবশ্য অনেক আগেই মাটিতে পড়ে গেল।

তবু পল্টু এমনভাবে সরে গেল যেন ইট ছোঁড়া হয়েছে।

— মারবি নাকি?

— লাগেইনি তো।

— লাগলে?

— তাহলেও কিছু হতো না।

দুজনের খুনসুটি শুরু হতেই কার্তিক বিরক্ত মুখে বলল,

— তোরা রোজ একই জিনিস নিয়ে ঝগড়া করিস কী করে?



কলেজ থেকে ফেরার সময় রাস্তার ধারে একটা ছাগল বাঁধন খুলে বেরিয়ে এসেছিল।

ছোট্ট একটা কালো ছাগল।

সে দিব্যি রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে শুকনো পাতা খাচ্ছিল।

পেছন থেকে একজন সাইকেলওয়ালা এসে প্রায় ধাক্কা মেরে ফেলছিল।

— এই এই এই!

লোকটা কোনোমতে সাইকেল সামলাল।

ছাগলটা নির্বিকার।

মাথা নিচু করে পাতা খেতেই থাকল।

পল্টু এত জোরে হেসে উঠল যে তার নিজেরই কাশি শুরু হয়ে গেল।



বাড়ি ফিরে রতন দেখল প্রতিমা রোদে বড়ি শুকোতে দিয়েছেন।

উঠোনের একপাশে পুরোনো একটা চাটাই পাতা।

তার ওপর সারি সারি বড়ি।

প্রতিমা সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলেন,

— সাবধানে হাঁটিস।

— কেন?

— পা দিয়ে চেপে দিবি।

রতন নিচে তাকিয়ে দেখল, সত্যিই আর এক পা এগোলেই কয়েকটা বড়ি শেষ।

সে তাড়াতাড়ি সরে গেল।

প্রতিমা মাথা নাড়লেন।

— সবসময় আকাশের দিকে তাকিয়ে হাঁটলে হবে?



রমাপদ সেদিন একটু আগে ফিরেছিলেন।

সাইকেলটা বারান্দার দেওয়ালে ঠেকিয়ে রাখতেই একটা শুকনো পাতা তার কাঁধে এসে পড়ল।

তিনি পাতাটা নামিয়ে মাটিতে ফেললেন।

তারপর ব্যাগ খুলে খাতাগুলো বের করলেন।

একটা খাতার কোণা ভাঁজ হয়ে গেছে।

তিনি বিরক্ত মুখে সেটা সোজা করতে লাগলেন।

এই সময় প্রতিমা ভেতর থেকে বললেন,

— চা দেব?

— দাও।

— চিনি কম?

— আগের মতোই।

এই কথোপকথনটা এতবার হয়েছে যে দুজনের কারও আর ভাবতে হয় না।



বিকেলে মাঠে যাওয়ার পথে রতন রাস্তার ধারে একটা ছোট পাথর দেখতে পেল।

কথা বলতে বলতে সে পাথরটাকে পা দিয়ে ঠেলে দিল।

কয়েক কদম পরে আবার।

তারপর আবার।

পাথরটা রাস্তার ধুলোয় গড়াতে গড়াতে এগোতে লাগল।

পল্টু জিজ্ঞেস করল,

— কী করছিস?

— কিছু না।

— তাহলে পাথরটাকে এত কষ্ট দিচ্ছিস কেন?

রতন হেসে ফেলল।

পাথরটা এবার রাস্তার ধারের ঘাসে ঢুকে হারিয়ে গেল।



সেদিন মাঠে পৌঁছে তারা দেখল নরুর ছোট ছেলে বাবাই একটা পুরোনো টায়ার গড়িয়ে খেলছে।

টায়ারটা একদিকে হেলে যাচ্ছিল।

সে আবার সোজা করছিল।

আবার গড়াচ্ছিল।

আবার হেলে যাচ্ছিল।

তবু তার উৎসাহ কমছিল না।

মাঠের ধারে দুটো শালিক ঝগড়া করছিল।

কিছু দূরে একটা কুকুর গা এলিয়ে রোদ পোহাচ্ছিল।

সবকিছু এত সাধারণ, এত চেনা যে কেউ সেদিকে আলাদা করে তাকাত না।



সন্ধ্যায় খাওয়ার পর প্রতিমা লক্ষ্য করলেন রান্নাঘরের কোণে রাখা চালের ডিব্বার ঢাকনাটা খোলা।

— রতন!

— কী?

— তুই খুলেছিস?

— না তো।

— ইঁদুর আবার ঢুকেছে মনে হয়।

তিনি ঢাকনা লাগিয়ে দিলেন।

তারপর ঝাঁট নিয়ে কোণটা একটু পরিষ্কার করলেন।

এমন ঘটনা নতুন কিছু নয়।

গ্রামের প্রায় সব বাড়িতেই হয়।

তবু প্রতিবারই বিরক্ত লাগে।



রাতে শুতে যাওয়ার আগে রতন জানলার ফাঁক দিয়ে বাইরে তাকাল।

দূরে কোথাও একটা আলো জ্বলছে।

সম্ভবত কারও উঠোনে।

একটা পোকা এসে জানলার কাঠে ধাক্কা খেল।

টুপ।

আবার উড়ে গেল।

ঘরের ভেতর প্রতিমা মশারি গুঁজে দিচ্ছেন।

রমাপদ কাশি দিলেন একবার।

তারপর চশমা খুলে খাটের পাশে রাখলেন।

সবকিছুই স্বাভাবিক।

একেবারে সাধারণ একটা দিন।
[+] 2 users Like Toxic boy's post
Like Reply


Messages In This Thread
RE: কাশীপুরের কান্ড - by Toxic boy - 18-06-2026, 07:34 AM



Users browsing this thread: 1 Guest(s)