Thread Rating:
  • 7 Vote(s) - 3.29 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
Erotic Horror কাশীপুরের কান্ড
#8
অধ্যায় ৮ : হারিকেনের আলো

লোডশেডিং শেষ হতে হতে অনেক রাত হয়ে গিয়েছিল।

ততক্ষণে রতনের চোখে ঘুম নেমে এসেছে।

প্রতিমা মশারি টাঙিয়ে দিয়েছেন।

ঘরের এক কোণে হারিকেনটা এখনও জ্বলছে।

কেরোসিনের গন্ধ হালকা করে ভেসে বেড়াচ্ছে।

— ঘুমিয়ে পড়।

প্রতিমা বললেন।

— হুম।

— আবার গল্পের বই নিয়ে বসিস না যেন।

— না।

প্রতিমা জানতেন, “না” কথাটার ওপর খুব বেশি ভরসা করা যায় না।

তবু হেসে হারিকেনটা একটু নামিয়ে রাখলেন।



ভোরে রতনের ঘুম ভাঙল পরিচিত একটা শব্দে।

ঠক।

ঠক।

ঠক।

প্রথমে বুঝতে পারল না।

তারপর মনে পড়ল।

প্রতিমা শিলনোড়ায় মশলা বাটছেন।

শীতের সকালে প্রায়ই এই শব্দে তার ঘুম ভাঙে।

মশারির ভেতর থেকে সে দেখল জানলার ফাঁক দিয়ে হালকা আলো ঢুকছে।

উঠোনে একটা কাক নেমেছে।

দূরে মোরগ ডাকছে।

আর রান্নাঘর থেকে ধোঁয়া উঠছে।

এইসব জিনিস এত পরিচিত যে আলাদা করে খেয়ালই করা হয় না।

তবু এগুলো ছাড়া সকালটাকে কল্পনা করাও যায় না।



রমাপদ তখন বারান্দায় বসে।

চোখে চশমা।

হাতে খবরের কাগজ।

পাশে ধোঁয়া ওঠা চায়ের কাপ।

চা খেতে খেতে মাঝে মাঝে তিনি রাস্তার দিকে তাকাচ্ছেন।

এই সময়টায় গ্রামের লোকজন কাজে বেরোয়।

কেউ সাইকেলে।

কেউ হেঁটে।

কেউ গরু নিয়ে।

যাকে দেখেন, তাকেই মাথা নেড়ে সম্ভাষণ জানান।

— নমস্কার মাস্টারমশাই।

— নমস্কার।

— কলেজে যাচ্ছেন?

— হ্যাঁ।

এইসব ছোট ছোট কথোপকথন প্রায় প্রতিদিনই হয়।



রতন উঠেই প্রথমে টিউবওয়েলের কাছে গেল।

শীতের জল।

হাত দিলেই শরীর কেঁপে ওঠে।

— উঃ!

সে হাত সরিয়ে নিল।

পাশ থেকে প্রতিমা বলে উঠলেন,

— কী হলো?

— বরফের মতো ঠান্ডা!

— শীতে জল গরম হবে নাকি?

প্রতিমার গলায় হাসি।

রতন মুখ বাঁকিয়ে আবার জল ঢালল।



কলেজের দিনটা বিশেষ কিছু নয়।

কিন্তু ফেরার পথে সে আর পল্টু নরুর দোকানের সামনে দাঁড়াল।

নরু তখন বিস্কুটের কৌটো সাজাচ্ছে।

— কাকা, একটা লজেন্স দাও তো।

— পয়সা আছে?

— কাল দেব।

— তোর সেই কাল কোনোদিন আসে না।

দোকানে বসে থাকা ভোলা ঘোষ হেসে ফেললেন।

— এই ছেলেটাকে খাতায় লিখে রাখ নরু।

— খাতা ভরে গেছে।

সবাই হেসে উঠল।



সন্ধ্যার সময় রমাপদ ফিরলেন একটু ক্লান্ত মুখে।

কলেজে পরীক্ষার খাতা দেখা চলছে।

তিনি খাওয়া শেষ করেই খাতা নিয়ে বসলেন।

লাল কালি দিয়ে নম্বর দিচ্ছেন।

মাঝে মাঝে ভুরু কুঁচকে যাচ্ছে।

কোনো ছাত্র একই ভুল বারবার করেছে।

প্রতিমা উল বুনছেন।

রতন বই খুলে বসেছে বটে, কিন্তু মন বারবার অন্যদিকে চলে যাচ্ছে।

হঠাৎ সে বলল,

— বাবা?

— হুম?

— তুমি ছোটবেলায় কোথায় খেলতে?

রমাপদ খাতা থেকে চোখ তুললেন।

— এই গ্রামেই।

— এই মাঠে?

— হ্যাঁ।

— তখনও কি সবাই এখানে খেলত?

— খেলত তো।

— মাঠটা কি আগে অন্যরকম ছিল?

প্রশ্নটা শুনে রমাপদ কয়েক সেকেন্ড থেমে গেলেন।

খুব অল্প সময়।

কিন্তু রতনের নজর এড়াল না।

তারপর তিনি স্বাভাবিক গলায় বললেন,

— কিছুটা।

— কীভাবে?

— অনেক বেশি খোলা ছিল। কম ঘরবাড়ি ছিল তখন।

রতন মাথা নাড়ল।

উত্তরটা স্বাভাবিক।

খুবই স্বাভাবিক।

তবু কেন জানি না, তার মনে হলো বাবার থেমে যাওয়ার সেই কয়েক সেকেন্ড যেন একটু বেশি লম্বা ছিল।

ঠিক তখনই বাইরে কোথাও একটা কুকুর অকারণে ডেকে উঠল।

একবার।

দু’বার।

তারপর আবার সব শান্ত।

হারিকেনের আলোয় ঘরটা আগের মতোই রইল।

কিন্তু রতনের মনে প্রশ্নটা রয়ে গেল।

মাঠটা কি সত্যিই শুধু “আরও খোলা” ছিল?

নাকি আর কিছু?
[+] 2 users Like Toxic boy's post
Like Reply


Messages In This Thread
RE: কাশীপুরের কান্ড - by Toxic boy - 18-06-2026, 07:33 AM



Users browsing this thread: 1 Guest(s)