18-06-2026, 07:26 AM
অধ্যায় ৩ : মাঠের বিকেল
শীতের দুপুরের একটা আলাদা স্বভাব আছে।
গরমকালের মতো তীব্র রোদ নয়, আবার বর্ষার মতো মেঘলা আকাশও নয়।
কাশীপুরে দুপুর গড়াতে না গড়াতেই গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ত।
কেউ জমিতে।
কেউ বাজারে।
কেউ বা ঘরের বারান্দায় বসে রোদ পোহাত।
রতনের অবশ্য দুপুরের খাওয়া শেষ হলেই একটাই চিন্তা।
মাঠ।
প্রতিমা খেতে বসে বললেন,
— আজকে কিন্তু বিকেলে ফিরেই পড়তে বসবি।
রতন মাথা নেড়ে সম্মতি দিল।
যদিও দুজনেই জানত, কথাটা শুধু মুখের কথা।
কারণ বিকেল মানেই মাঠ।
আর মাঠ মানেই বন্ধুদের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফুটবল।
খাওয়া শেষ করেই সে ব্যাগ ছুড়ে রেখে বেরিয়ে গেল।
প্রতিমা বারান্দা থেকে চিৎকার করে বললেন,
— অন্ধকার হওয়ার আগে ফিরিস!
— হ্যাঁ মা!
দৌড়তে দৌড়তেই উত্তর দিল রতন।
⸻
কাশীপুরের মাঠটা গ্রামের গর্ব।
বর্ষায় সেখানে জল জমে যায় বটে, কিন্তু শীত আর গরমে গ্রামের সব ছেলেপুলের প্রাণকেন্দ্র হয়ে ওঠে জায়গাটা।
বিকেল হলেই একে একে সবাই জড়ো হয়।
সেদিনও তার ব্যতিক্রম হলো না।
রতন পৌঁছাতেই পল্টু বলল,
— এই যে মহারাজ এলেন!
— চুপ কর।
— আজ আবার দেরি করেছিস।
— মা ধরে বসেছিল।
— কাকিমা ঠিকই করে।
সবাই হেসে উঠল।
পল্টু দলের সবচেয়ে দুষ্টু ছেলে।
তার মুখে সবসময় কিছু না কিছু মন্তব্য থাকবেই।
পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল বাপন।
মজবুত চেহারা।
দৌড়ালে তাকে ধরা মুশকিল।
পড়াশোনায় মন নেই, কিন্তু মাঠে নামলে সবাই তাকে নিজেদের দলে নিতে চায়।
কার্তিক একটু আলাদা।
সে খেলাধুলা করে, কিন্তু গ্রামের বয়স্কদের গল্পও মন দিয়ে শোনে।
কে কোথায় কী বলল, সব খবর তার জানা।
আর শিবু…
সে সবচেয়ে চুপচাপ।
কেউ ঝগড়া করলে সবার আগে থামানোর চেষ্টা করে।
পাঁচজনের বন্ধুত্বটা পুরো গ্রামে পরিচিত।
একজন ছাড়া অন্য কাউকে খুব কমই দেখা যায়।
⸻
খেলা শুরু হতেই মাঠ জমে উঠল।
কেউ খালি পায়ে খেলছে।
কেউ পুরোনো ক্যানভাস জুতো পরে এসেছে।
চিৎকার, হাসাহাসি, ঝগড়া—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত প্রাণচাঞ্চল্য।
দূরে কয়েকজন বয়স্ক মানুষ দাঁড়িয়ে খেলা দেখছিল।
তাদের মধ্যে ভোলা ঘোষও ছিলেন।
মাঝে মাঝে ছেলেদের দেখে মাথা নাড়ছিলেন।
যেন নিজের ছোটবেলার দিনগুলো মনে পড়ছে।
একপাশে কয়েকজন ছোট ছেলে মার্বেল খেলছিল।
আরও দূরে কয়েকজন গরু চরাচ্ছিল।
পুরো মাঠটাই যেন গ্রামের একটা আলাদা জগৎ।
⸻
খেলা শেষ হতে হতে সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়েছে।
আকাশে কমলা রঙ ছড়িয়ে গেছে।
ছেলেরা হাঁপাতে হাঁপাতে মাঠের মাঝখানে বসে পড়ল।
বাপন বলল,
— বড় হয়ে আমি কলকাতা যাব।
পল্টু হেসে বলল,
— তুই আগে ক্লাস এইট পাস কর।
সবাই আবার হেসে উঠল।
রতন ঘাসের ওপর শুয়ে আকাশের দিকে তাকাল।
কিছু সাদা বক উড়ে যাচ্ছে।
দূরে ধোঁয়া উঠছে কোনো বাড়ির রান্নাঘর থেকে।
মন্দিরের ঘণ্টা এখনও বাজেনি, কিন্তু সন্ধ্যা যে খুব দূরে নয়, সেটা বোঝা যাচ্ছে।
কার্তিক হঠাৎ বলল,
— জানিস, দাদু বলছিল ছোটবেলায় এই মাঠটা নাকি আরও বড় ছিল।
— তাই নাকি?
— হ্যাঁ।
— তারপর?
— তারপর আর কিছু না।
বলেই সে চুপ করে গেল।
পল্টু সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল,
— তোর দাদুর গল্প শুরু হলে আর শেষ হয় না।
আবার হাসির রোল উঠল।
কথাটা সেখানেই শেষ হয়ে গেল।
কিন্তু কার্তিকের মনে পড়ল, দাদু আরেকটা কথাও বলেছিলেন।
মাঠ নিয়ে।
পুরোনো একটা কথা।
যেটা তিনি শেষ পর্যন্ত বলেননি।
কারণ জিজ্ঞেস করতেই দাদু শুধু বলেছিলেন—
“ওসব পুরোনো কথা। জানার দরকার নেই।”
কার্তিক তখন আর চাপ দেয়নি।
কিন্তু আজ হঠাৎ কথাটা তার মনে পড়ে গেল।
⸻
সন্ধ্যার আগে সবাই বাড়ির পথে হাঁটা দিল।
দূরে শিবমন্দিরের ঘণ্টা বেজে উঠেছে।
এক এক করে মাঠ ফাঁকা হয়ে আসছে।
কাশীপুর আবার রাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
শীতের দুপুরের একটা আলাদা স্বভাব আছে।
গরমকালের মতো তীব্র রোদ নয়, আবার বর্ষার মতো মেঘলা আকাশও নয়।
কাশীপুরে দুপুর গড়াতে না গড়াতেই গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ত।
কেউ জমিতে।
কেউ বাজারে।
কেউ বা ঘরের বারান্দায় বসে রোদ পোহাত।
রতনের অবশ্য দুপুরের খাওয়া শেষ হলেই একটাই চিন্তা।
মাঠ।
প্রতিমা খেতে বসে বললেন,
— আজকে কিন্তু বিকেলে ফিরেই পড়তে বসবি।
রতন মাথা নেড়ে সম্মতি দিল।
যদিও দুজনেই জানত, কথাটা শুধু মুখের কথা।
কারণ বিকেল মানেই মাঠ।
আর মাঠ মানেই বন্ধুদের সঙ্গে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফুটবল।
খাওয়া শেষ করেই সে ব্যাগ ছুড়ে রেখে বেরিয়ে গেল।
প্রতিমা বারান্দা থেকে চিৎকার করে বললেন,
— অন্ধকার হওয়ার আগে ফিরিস!
— হ্যাঁ মা!
দৌড়তে দৌড়তেই উত্তর দিল রতন।
⸻
কাশীপুরের মাঠটা গ্রামের গর্ব।
বর্ষায় সেখানে জল জমে যায় বটে, কিন্তু শীত আর গরমে গ্রামের সব ছেলেপুলের প্রাণকেন্দ্র হয়ে ওঠে জায়গাটা।
বিকেল হলেই একে একে সবাই জড়ো হয়।
সেদিনও তার ব্যতিক্রম হলো না।
রতন পৌঁছাতেই পল্টু বলল,
— এই যে মহারাজ এলেন!
— চুপ কর।
— আজ আবার দেরি করেছিস।
— মা ধরে বসেছিল।
— কাকিমা ঠিকই করে।
সবাই হেসে উঠল।
পল্টু দলের সবচেয়ে দুষ্টু ছেলে।
তার মুখে সবসময় কিছু না কিছু মন্তব্য থাকবেই।
পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল বাপন।
মজবুত চেহারা।
দৌড়ালে তাকে ধরা মুশকিল।
পড়াশোনায় মন নেই, কিন্তু মাঠে নামলে সবাই তাকে নিজেদের দলে নিতে চায়।
কার্তিক একটু আলাদা।
সে খেলাধুলা করে, কিন্তু গ্রামের বয়স্কদের গল্পও মন দিয়ে শোনে।
কে কোথায় কী বলল, সব খবর তার জানা।
আর শিবু…
সে সবচেয়ে চুপচাপ।
কেউ ঝগড়া করলে সবার আগে থামানোর চেষ্টা করে।
পাঁচজনের বন্ধুত্বটা পুরো গ্রামে পরিচিত।
একজন ছাড়া অন্য কাউকে খুব কমই দেখা যায়।
⸻
খেলা শুরু হতেই মাঠ জমে উঠল।
কেউ খালি পায়ে খেলছে।
কেউ পুরোনো ক্যানভাস জুতো পরে এসেছে।
চিৎকার, হাসাহাসি, ঝগড়া—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত প্রাণচাঞ্চল্য।
দূরে কয়েকজন বয়স্ক মানুষ দাঁড়িয়ে খেলা দেখছিল।
তাদের মধ্যে ভোলা ঘোষও ছিলেন।
মাঝে মাঝে ছেলেদের দেখে মাথা নাড়ছিলেন।
যেন নিজের ছোটবেলার দিনগুলো মনে পড়ছে।
একপাশে কয়েকজন ছোট ছেলে মার্বেল খেলছিল।
আরও দূরে কয়েকজন গরু চরাচ্ছিল।
পুরো মাঠটাই যেন গ্রামের একটা আলাদা জগৎ।
⸻
খেলা শেষ হতে হতে সূর্য পশ্চিমে হেলে পড়েছে।
আকাশে কমলা রঙ ছড়িয়ে গেছে।
ছেলেরা হাঁপাতে হাঁপাতে মাঠের মাঝখানে বসে পড়ল।
বাপন বলল,
— বড় হয়ে আমি কলকাতা যাব।
পল্টু হেসে বলল,
— তুই আগে ক্লাস এইট পাস কর।
সবাই আবার হেসে উঠল।
রতন ঘাসের ওপর শুয়ে আকাশের দিকে তাকাল।
কিছু সাদা বক উড়ে যাচ্ছে।
দূরে ধোঁয়া উঠছে কোনো বাড়ির রান্নাঘর থেকে।
মন্দিরের ঘণ্টা এখনও বাজেনি, কিন্তু সন্ধ্যা যে খুব দূরে নয়, সেটা বোঝা যাচ্ছে।
কার্তিক হঠাৎ বলল,
— জানিস, দাদু বলছিল ছোটবেলায় এই মাঠটা নাকি আরও বড় ছিল।
— তাই নাকি?
— হ্যাঁ।
— তারপর?
— তারপর আর কিছু না।
বলেই সে চুপ করে গেল।
পল্টু সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠল,
— তোর দাদুর গল্প শুরু হলে আর শেষ হয় না।
আবার হাসির রোল উঠল।
কথাটা সেখানেই শেষ হয়ে গেল।
কিন্তু কার্তিকের মনে পড়ল, দাদু আরেকটা কথাও বলেছিলেন।
মাঠ নিয়ে।
পুরোনো একটা কথা।
যেটা তিনি শেষ পর্যন্ত বলেননি।
কারণ জিজ্ঞেস করতেই দাদু শুধু বলেছিলেন—
“ওসব পুরোনো কথা। জানার দরকার নেই।”
কার্তিক তখন আর চাপ দেয়নি।
কিন্তু আজ হঠাৎ কথাটা তার মনে পড়ে গেল।
⸻
সন্ধ্যার আগে সবাই বাড়ির পথে হাঁটা দিল।
দূরে শিবমন্দিরের ঘণ্টা বেজে উঠেছে।
এক এক করে মাঠ ফাঁকা হয়ে আসছে।
কাশীপুর আবার রাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে।


![[+]](https://xossipy.com/themes/sharepoint/collapse_collapsed.png)