17-06-2026, 11:40 PM
(This post was last modified: 18-06-2026, 09:00 PM by indonetguru. Edited 2 times in total. Edited 2 times in total.)
গল্প: "ছায়ার আড়ালে আগুন" (পার্ট-৩: অন্ধকারের অধীশ্বর)
চুয়ান্নতম পরিচ্ছেদ: নতুন দায়িত্ব
সন্ধ্যা সাতটা বেজে গিয়েছিল যখন রুবিনা বেগম তার ফ্ল্যাটে ফিরলেন। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষ করে সরাসরি বাড়ি আসার পথে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে দুটোতেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। রাজভবনের আনুষ্ঠানিকতা, ক্যামেরার ঝলকানি, মুখ্যমন্ত্রীর সাথে হাত মেলানো, আর সাংবাদিকদের প্রশ্নের ঝড় — সবকিছু মিলিয়ে তাঁর মাথায় এখনো একটা ভারী চাপ অনুভূত হচ্ছিল।
গাড়ি থেকে নেমে তিনি ধীর পায়ে লিফটে উঠলেন। শাড়ির আঁচলটা একপাশে সরে গিয়েছিল, চুলের খোঁপাটাও একটু আলগা হয়ে এসেছে। দিনভরের মেকআপটা এখন আর তেমন ঝকঝকে ছিল না। লিফটের আয়নায় নিজেকে দেখে তিনি একবার চোখ সরিয়ে নিলেন।
‘এখন থেকে সবকিছু বদলে যাবে,’ তিনি নিজেকে বললেন। ‘একটা ভুল হলেই সব শেষ।’
ফ্ল্যাটের দরজা খুলে ভিতরে ঢুকতেই তিনি দেখলেন, অংশুমান ইতিমধ্যে এসে বসে আছে। সে লিভিং রুমের সোফায় একপাশে হেলান দিয়ে বসে মোবাইলে কিছু দেখছিল। রুবিনাকে দেখে সে মোবাইলটা নামিয়ে রাখল এবং উঠে দাঁড়াল।
রুবিনা শাড়ি ঠিক করে সোফায় এসে বসলেন। অংশুমান চুপ করে তাঁর দিকে তাকিয়ে রইল। কয়েক সেকেন্ড কেউ কথা বলল না। ঘরের ভিতরটা শান্ত ছিল, শুধু এয়ার কন্ডিশনারের হালকা শব্দ শোনা যাচ্ছিল।
“কেমন লাগলো প্রথম দিন?” অংশুমান শেষ পর্যন্ত জিজ্ঞেস করল। তার গলায় কোনো আবেগ ছিল না। শুধু একটা শান্ত, পর্যবেক্ষণমূলক স্বর।
রুবিনা একটু ক্লান্ত গলায় বললেন, “চাপ আছে। দুটো দপ্তর একসাথে নেওয়ার পর ফাইলের পরিমাণ অনেক বেশি। আবগারী দফতরের লাইসেন্স, ট্যাক্স আর ডিস্ট্রিবিউশন সংক্রান্ত ফাইলগুলো দেখেই মাথা ঘুরে যাচ্ছে। আর দুর্নীতি দমন মন্ত্রকের গোপন রিপোর্টগুলো তো আলাদা মাথাব্যথা। প্রতিদিন এতগুলো ফাইল পড়তে হবে, এটা আমি আগে ভাবিনি।”
অংশুমান চুপ করে শুনল। তারপর সে সরাসরি মূল কথায় চলে এল।
“এখন আমাদের ড্রাগের ব্যবসা নিয়ে কথা বলতে হবে,” অংশুমান বলল।
রুবিনা তার দিকে তাকালেন। তাঁর চোখে স্পষ্ট অস্বস্তি দেখা গেল। তিনি একটু সোজা হয়ে বসলেন।
“আমি চাই এই ব্যবসা বন্ধ করে দিতে,” রুবিনা স্পষ্ট গলায় বললেন। “এখন আমি মন্ত্রী। এই ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। একটা ভুল হলেই সব শেষ হয়ে যাবে। আমার ইমেজ, আমার পরিবার, সবকিছু।”
অংশুমান হালকা হেসে বলল, “ঝুঁকিপূর্ণ তো বটেই। কিন্তু সুযোগও অনেক বেড়েছে। তুমি এখন আবগারী দফতরের মন্ত্রী। দুর্নীতি দমন মন্ত্রকও তোমার হাতে। এর চেয়ে ভালো কভার আর কী হতে পারে? যদি কখনো কোনো সমস্যা হয়, তাহলে আমরা অনেক কিছু ম্যানেজ করতে পারব।”
রুবিনা চোখ সংকীর্ণ করে বললেন, “তুমি বুঝতে পারছ না অংশু। আমি এখন পাবলিক ফিগার। আমার নাম জড়িয়ে গেলে শুধু রাজনৈতিক ক্ষতি হবে না, আইনি সমস্যাও হতে পারে। একটা স্ক্যান্ডাল হলেই সব শেষ।”
অংশুমান গম্ভীর হয়ে বলল, “আমি বলছি না যে তুমি সরাসরি চালাবে। তুমি তো সময়ও পাবে না। আমি বলছি, আমি এর দায়িত্ব নেব। তুমি শুধু অনুমতি দাও।”
রুবিনা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইলেন। তাঁর মুখে একটা দ্বিধা স্পষ্ট হয়ে উঠল। তিনি জানতেন, অংশুমান সহজে ছাড়বে না।
“আমি রাজি নই,” রুবিনা শেষ পর্যন্ত বললেন। “এই ব্যবসা এখন থেকে বন্ধ করতে হবে।”
অংশুমান তার দিকে স্থির চোখে তাকিয়ে রইল। তার চোখে কোনো রাগ ছিল না, শুধু একটা শান্ত দৃঢ়তা।
“তুমি রাজি হও বা না হও,” অংশুমান বলল, “ব্যবসা চলবে। কারণ এখন এটা বন্ধ করলে আমাদের অনেক পুরনো হিসেব-নিকেশ ঝুলে থাকবে। আর সেগুলো যদি কোনোভাবে বেরিয়ে আসে, তাহলে তোমার মন্ত্রিত্বের চেয়েও বড় সমস্যা হবে।”
রুবিনা তার কথা শুনে বুঝতে পারলেন যে অংশুমান ইতিমধ্যেই সবকিছু হিসেব করে ফেলেছে। তিনি একটু ক্লান্ত গলায় বললেন, “ঠিক আছে। কিন্তু একটা শর্ত আছে।”
অংশুমান চুপ করে শুনল।
রুবিনা বললেন, “কোনো বিলিং, কোনো ডকুমেন্ট, কোনো লেনদেনে — আমার নাম বা তোমার নাম থাকবে না। একদম না। যদি কখনো কোনো সমস্যা হয়, তাহলে আমার ইমেজ এবং তোমার চাকরি — দুটোই শেষ হয়ে যাবে। আমি এই ঝুঁকি নিতে পারব না।”
অংশুমান মাথা নেড়ে বলল, “ঠিক আছে। আমি বুঝতে পারছি।”
রুবিনা আরও একটু জোর দিয়ে বললেন, “আমি সিরিয়াস অংশু। কোনোভাবেই আমাদের নাম জড়াতে দেওয়া যাবে না। একটা ভুল হলেই সব শেষ।”
অংশুমান একটু হেসে বলল, “আমি জানি। তুমি চিন্তা করো না।”
রুবিনা তার দিকে তাকিয়ে বললেন, “তাহলে কীভাবে চালাবে? তুমি তো সরাসরি সবকিছু দেখতে পারবে না। তোমার নিজের চাকরি আছে।”
অংশুমান বলল, “আমার মাথায় একটা বিকল্প আছে।”
রুবিনা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “কী বিকল্প?”
অংশুমান উঠে দাঁড়াল। সে রুবিনার দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল,
“কাল বিকেলে বলব।”
রুবিনা তার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তাঁর চোখে স্পষ্ট অস্বস্তি এবং সন্দেহ ছিল। তিনি বুঝতে পারছিলেন না যে অংশুমান আসলে কী ভাবছে।
অংশুমান আর কিছু না বলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
রুবিনা জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন। বাইরে অন্ধকার নেমে আসছিল। তিনি ভাবলেন, অংশুমান যে “বিকল্প” এর কথা বলছে, সেটা আসলে কতটা নিরাপদ — সেটা তিনি এখনো জানেন না।
কিন্তু তিনি এটাও জানতেন যে, অংশুমান যখন কিছু বলে “কাল বলব”, তখন সেটা সাধারণত সহজ কোনো সমাধান হয় না।
রুবিনা চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস নিলেন। তাঁর মনে হচ্ছিল, তিনি এমন একটা জায়গায় পা রেখেছেন, যেখান থেকে ফিরে আসা আর সহজ হবে না।
চুয়ান্নতম পরিচ্ছেদ: নতুন দায়িত্ব
সন্ধ্যা সাতটা বেজে গিয়েছিল যখন রুবিনা বেগম তার ফ্ল্যাটে ফিরলেন। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শেষ করে সরাসরি বাড়ি আসার পথে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে দুটোতেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। রাজভবনের আনুষ্ঠানিকতা, ক্যামেরার ঝলকানি, মুখ্যমন্ত্রীর সাথে হাত মেলানো, আর সাংবাদিকদের প্রশ্নের ঝড় — সবকিছু মিলিয়ে তাঁর মাথায় এখনো একটা ভারী চাপ অনুভূত হচ্ছিল।
গাড়ি থেকে নেমে তিনি ধীর পায়ে লিফটে উঠলেন। শাড়ির আঁচলটা একপাশে সরে গিয়েছিল, চুলের খোঁপাটাও একটু আলগা হয়ে এসেছে। দিনভরের মেকআপটা এখন আর তেমন ঝকঝকে ছিল না। লিফটের আয়নায় নিজেকে দেখে তিনি একবার চোখ সরিয়ে নিলেন।
‘এখন থেকে সবকিছু বদলে যাবে,’ তিনি নিজেকে বললেন। ‘একটা ভুল হলেই সব শেষ।’
ফ্ল্যাটের দরজা খুলে ভিতরে ঢুকতেই তিনি দেখলেন, অংশুমান ইতিমধ্যে এসে বসে আছে। সে লিভিং রুমের সোফায় একপাশে হেলান দিয়ে বসে মোবাইলে কিছু দেখছিল। রুবিনাকে দেখে সে মোবাইলটা নামিয়ে রাখল এবং উঠে দাঁড়াল।
রুবিনা শাড়ি ঠিক করে সোফায় এসে বসলেন। অংশুমান চুপ করে তাঁর দিকে তাকিয়ে রইল। কয়েক সেকেন্ড কেউ কথা বলল না। ঘরের ভিতরটা শান্ত ছিল, শুধু এয়ার কন্ডিশনারের হালকা শব্দ শোনা যাচ্ছিল।
“কেমন লাগলো প্রথম দিন?” অংশুমান শেষ পর্যন্ত জিজ্ঞেস করল। তার গলায় কোনো আবেগ ছিল না। শুধু একটা শান্ত, পর্যবেক্ষণমূলক স্বর।
রুবিনা একটু ক্লান্ত গলায় বললেন, “চাপ আছে। দুটো দপ্তর একসাথে নেওয়ার পর ফাইলের পরিমাণ অনেক বেশি। আবগারী দফতরের লাইসেন্স, ট্যাক্স আর ডিস্ট্রিবিউশন সংক্রান্ত ফাইলগুলো দেখেই মাথা ঘুরে যাচ্ছে। আর দুর্নীতি দমন মন্ত্রকের গোপন রিপোর্টগুলো তো আলাদা মাথাব্যথা। প্রতিদিন এতগুলো ফাইল পড়তে হবে, এটা আমি আগে ভাবিনি।”
অংশুমান চুপ করে শুনল। তারপর সে সরাসরি মূল কথায় চলে এল।
“এখন আমাদের ড্রাগের ব্যবসা নিয়ে কথা বলতে হবে,” অংশুমান বলল।
রুবিনা তার দিকে তাকালেন। তাঁর চোখে স্পষ্ট অস্বস্তি দেখা গেল। তিনি একটু সোজা হয়ে বসলেন।
“আমি চাই এই ব্যবসা বন্ধ করে দিতে,” রুবিনা স্পষ্ট গলায় বললেন। “এখন আমি মন্ত্রী। এই ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। একটা ভুল হলেই সব শেষ হয়ে যাবে। আমার ইমেজ, আমার পরিবার, সবকিছু।”
অংশুমান হালকা হেসে বলল, “ঝুঁকিপূর্ণ তো বটেই। কিন্তু সুযোগও অনেক বেড়েছে। তুমি এখন আবগারী দফতরের মন্ত্রী। দুর্নীতি দমন মন্ত্রকও তোমার হাতে। এর চেয়ে ভালো কভার আর কী হতে পারে? যদি কখনো কোনো সমস্যা হয়, তাহলে আমরা অনেক কিছু ম্যানেজ করতে পারব।”
রুবিনা চোখ সংকীর্ণ করে বললেন, “তুমি বুঝতে পারছ না অংশু। আমি এখন পাবলিক ফিগার। আমার নাম জড়িয়ে গেলে শুধু রাজনৈতিক ক্ষতি হবে না, আইনি সমস্যাও হতে পারে। একটা স্ক্যান্ডাল হলেই সব শেষ।”
অংশুমান গম্ভীর হয়ে বলল, “আমি বলছি না যে তুমি সরাসরি চালাবে। তুমি তো সময়ও পাবে না। আমি বলছি, আমি এর দায়িত্ব নেব। তুমি শুধু অনুমতি দাও।”
রুবিনা কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইলেন। তাঁর মুখে একটা দ্বিধা স্পষ্ট হয়ে উঠল। তিনি জানতেন, অংশুমান সহজে ছাড়বে না।
“আমি রাজি নই,” রুবিনা শেষ পর্যন্ত বললেন। “এই ব্যবসা এখন থেকে বন্ধ করতে হবে।”
অংশুমান তার দিকে স্থির চোখে তাকিয়ে রইল। তার চোখে কোনো রাগ ছিল না, শুধু একটা শান্ত দৃঢ়তা।
“তুমি রাজি হও বা না হও,” অংশুমান বলল, “ব্যবসা চলবে। কারণ এখন এটা বন্ধ করলে আমাদের অনেক পুরনো হিসেব-নিকেশ ঝুলে থাকবে। আর সেগুলো যদি কোনোভাবে বেরিয়ে আসে, তাহলে তোমার মন্ত্রিত্বের চেয়েও বড় সমস্যা হবে।”
রুবিনা তার কথা শুনে বুঝতে পারলেন যে অংশুমান ইতিমধ্যেই সবকিছু হিসেব করে ফেলেছে। তিনি একটু ক্লান্ত গলায় বললেন, “ঠিক আছে। কিন্তু একটা শর্ত আছে।”
অংশুমান চুপ করে শুনল।
রুবিনা বললেন, “কোনো বিলিং, কোনো ডকুমেন্ট, কোনো লেনদেনে — আমার নাম বা তোমার নাম থাকবে না। একদম না। যদি কখনো কোনো সমস্যা হয়, তাহলে আমার ইমেজ এবং তোমার চাকরি — দুটোই শেষ হয়ে যাবে। আমি এই ঝুঁকি নিতে পারব না।”
অংশুমান মাথা নেড়ে বলল, “ঠিক আছে। আমি বুঝতে পারছি।”
রুবিনা আরও একটু জোর দিয়ে বললেন, “আমি সিরিয়াস অংশু। কোনোভাবেই আমাদের নাম জড়াতে দেওয়া যাবে না। একটা ভুল হলেই সব শেষ।”
অংশুমান একটু হেসে বলল, “আমি জানি। তুমি চিন্তা করো না।”
রুবিনা তার দিকে তাকিয়ে বললেন, “তাহলে কীভাবে চালাবে? তুমি তো সরাসরি সবকিছু দেখতে পারবে না। তোমার নিজের চাকরি আছে।”
অংশুমান বলল, “আমার মাথায় একটা বিকল্প আছে।”
রুবিনা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “কী বিকল্প?”
অংশুমান উঠে দাঁড়াল। সে রুবিনার দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল,
“কাল বিকেলে বলব।”
রুবিনা তার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তাঁর চোখে স্পষ্ট অস্বস্তি এবং সন্দেহ ছিল। তিনি বুঝতে পারছিলেন না যে অংশুমান আসলে কী ভাবছে।
অংশুমান আর কিছু না বলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
রুবিনা জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ালেন। বাইরে অন্ধকার নেমে আসছিল। তিনি ভাবলেন, অংশুমান যে “বিকল্প” এর কথা বলছে, সেটা আসলে কতটা নিরাপদ — সেটা তিনি এখনো জানেন না।
কিন্তু তিনি এটাও জানতেন যে, অংশুমান যখন কিছু বলে “কাল বলব”, তখন সেটা সাধারণত সহজ কোনো সমাধান হয় না।
রুবিনা চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস নিলেন। তাঁর মনে হচ্ছিল, তিনি এমন একটা জায়গায় পা রেখেছেন, যেখান থেকে ফিরে আসা আর সহজ হবে না।


![[+]](https://xossipy.com/themes/sharepoint/collapse_collapsed.png)