(১১৫)
আমি আর মিম রুমে বসে আছি। গল্প করছি দুপুরের কি কি আইটেম রান্না করা যায় সে বিষয়ে। বিয়ের পর আজ প্রথম আব্বা মা আমার শ্বশুর বাড়ি আসলো। গত কাল সন্ধায় মামার বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে সারা রাত লেগেছে ঢাকা পৌছতে।
বিদায় মুহুর্তে মামা যে কথা বলেছে সেটার চিন্তায় আমার খাবার বন্ধ হয়ে গেছে।
–-----”বেটা, চিন্তা করোনা। তোমাদের পরিবারের উপর যে বা যারা এমন আচরণ করেছে, আর নির্দোষ তোমাকে যেভাবে ওরা অত্যাচার করেছে, আমি ওদের দুনিয়া ছাড়া করবো অতী শিঘ্রয়। ৩৫ লাখ টাকা নিসে ওরা। মনে রেখো, এই টাকা ওদের হজম করতে দিবোনা। আমার পোর্টে একটু ঝামেলা চলছে। ঝামেলা শেষ হলেই ঢাকা আসছি। আর চিন্তা করোনা তোমরা। নিশ্চিন্তে থাকবা।”
মামার এমন থ্রেট শুনে আমার আব্বা মায়ের ও আক্কেল গুরুম। কারণ তারাও তো জানে আসল কাহিনিটা কি!
বিকাল বেলা জুয়েল ভাই আমাকে কয়েকটা ভিডিও দিয়ে বলেছিলো, “আমরা আসবো তোমাদের বাসায়। শিঘ্রয়। আমি না যেতে পারলেও মাহিকে পাঠাবো। তুমি একটু দেইখো ব্যাপারটা।”
“কি হলো, কি এমন চিন্তা করছো বলো তো?” বউ এর কথায় হুস ফিরলো আমার। আমি সত্যিই অসুস্থ্য হয়ে পড়বো। আমার মাথা কোনো সময়ের জন্যেও হালকা থাকছেনা।
“ফ্রিজে ইলিশ নাই?”
“আছে। শুধুই ইলিশ রাধবো?”
“ইলিশ রাধো। আমি বাজার যায়। দেখি কি কিনা যায়।”
বের হতে যাবো, মিম বললো, “তোমার কাছে টাকা আছে? নয়তো আমার কাছে কিছু আছে নিয়ে যাও।”
“পাগলি, আমার ইনকামের সব টাকাই তো একাউন্টেই পড়ে আছে। তোমরা কি আমায় খরচ করতে দাও?”
সত্যি, আমার প্রায় ৪৫ হাজার মত প্রতি মাসে ইনকাম। শাশুড়ির কথা হলো, বেটা তুমি তোমার টাকা এই পরিবারে খরচ করার দরকার নাই। তোমার শ্বশুর যা রেখে গেছে তাতেই চলে যাবে। তুমি তোমার টাকা তোমাদের ভবিষ্যতের জন্য জমা করো।”
এরপর আমার একাউন্টের কোনো টাকাই তেমন তুলিনা।
“তবুও ঐটা একাউন্টে আছে। পকেটে তো নাই। আমার কাছে আছে নিয়ে যাও।”
মিমকে কাছে টানলাম। গালে হাত দিয়ে মুখটা সামনে আনলাম। মিম বড়বড় চোখ করে তাকাচ্ছে। বললাম, “আমাদের যখন বেবি হবে তখন বেবির জন্য প্রথম খেলনা কিনবা তোমার এই টাকা দিয়ে। তোমার কাছে যা আছে তা কাছেই রেখে দাও।”
মিম একটা মুচকি হাসলো। বললো, “লাভ ইউ স্বামি।”
“চলো বাইরে গিয়ে দেখি ওরা কি করে।”
রুম থেকে বেরোলাম। আব্বা মা আর শাশুড়ি ৩জন টিভির রুমে বসে গল্প করছে। আমাকে দেখে আব্বা আমায় ডাকলো, “বেটা এদিকে আসো।”
গেলাম।
“বেটা, শুনলাম তোমার কাজের ল্যাপটপ নষ্ট হয়ে গেছে? তোমার চাচ্চুকে ফোন দিয়ে যা টাকা লাগবে তোমার একাউন্টে নিয়ে নিও। দিয়ে একটা ল্যাপটপ কিনে নিও। আমি আগে জানলে আমিই কিনে নিয়ে আসতাম।”
আমার বাপ, প্রচুর চালাক মানুষ। পরিস্থিতি কেমনে সামাল দিতে হয় বুঝে গেছে।
আমি যাস্ট “আচ্ছা আব্বা” বলেই বের হয়ে গেলাম।
আবিরকে ফোন দিলাম।
“দোস্ত কেমন আছিস?”
“ফোন দিলি? ঢাকা চলে এসেছিস নাকি?”
“হ্যা রে। এক কাজ করতো। ল্যাপটপটা ক্যাম্পাসে নিয়ে আয়। কাল থেকেই কাজ করতে হবে। ছুটি শেষ।”
মামুন ভাই এর থেকে ইমার্জেন্সি ৪দিনের ছুটি নিয়েছিলাম।বাসা থেকে যখন আবিরের ওখানে যাই, গিয়েই আগে একটা ল্যাপটপ কিনে ওখানে বসেই কাজ সেরে নিতাম। যা কিছুই হয়ে যাক, কাজের কোনো ব্যাঘাত ঘটতে দিইনি। কাজটা আমার জন্য অনেক বড় এক নেয়ামত।
৭বছর মেয়াদের একটা প্রোজেক্ট। ৯মাস চলছে।
*******++*********
“তোর বাড়ির আস্পাসের লোকজন তোকে দেখে জিজ্ঞেস করলোনা যে, তুই মারা গেছিলিস, বেচে আসলি কেমনে?” আবির আমাকে দেখেই হাসতে হাসতে জিজ্ঞেস করলো।
আমি ক্যাম্পাসে করিম মামার চা-স্টলে বসে ছিলাম। মাত্রই আবির আসলো। সৈকত নাদিম কেও দেখেছি। ওরা আসছে।
“এই যে হেলমেট আছে না?” পাশে থাকা বাইকের হেলমেট দেখিয়ে বললাম।
“কিন্তু এই হেলমেট দিয়ে আর কত দিন?”
“এটা নিয়ে ভাবছিনা আপাতত। কেউ জিজ্ঞেস করলে বলে দিবো অপহরণ হয়েছিলাম। ভাবছি অন্য ব্যাপার নিয়ে।”
“সেটা কি?”
“ওরা আসুক। বলছি। তোদের কথা বল। রিকতা কেমন আছে?”
“আলহামদুলিল্লাহ ভালোই আছে। ক্যাম্পাসে আসতে চাচ্ছিলো। থাব্রা থুব্রা রেখে আসলাম। হা হা হা।”
“হা হা হা। নিয়েই চলে আসতিস। যাগ, কাল পরশুর মধ্যে একবার নিয়ে আই। বাইরে ডিনার করি।”
“বাদ দে ওর কথা। তোর টাকার কি করবি? এতো টাকা বাসায় রেখে ঘুম আসছে না তো। সারাক্ষণ ই ভয়ে ভয়ে থাকি।”
“কিসের ভয় রে দোস্ত! ওয়েট সেটার ব্যবস্থা করছি।”
৫মিনিটের মধ্যেই নাদিম সৈকত দুজনেই আসলো। ওরা আমাকে দেখে হাজারো প্রশ্ন। মামার বাড়ি যাবার পর কিভাবে কি হলো, কোনো সমস্যা হলো কিনা ইত্যাদি!
প্রাথমিক গল্প সেরে সবার মাঝে একটা প্রস্তাব উত্থাপন করলাম—- “দোস্ত, শুন, আমি চাচ্ছি আমার এই টাকা দিয়ে আমরা সবাই কোনো ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করি। কেমন হবে?”
শুনার পর নাদিমের কৌতুহল সবচেয়ে বেশি।
সে বলে, “দারুন হবে বন্ধু।”
আমি আবির আর সৈকতের দিকে তাকিয়ে বললাম, “তোদের মত?”
সৈকত বললো, “কিন্তু করতে চাচ্ছিস টা কি?”
“আইডিয়া বের কর।” আমি বললাম।
আবির বললো, “এই মুলধনে অনেক কিছুই করা সম্ভব।”
আমি বললাম, “কোনো স্পেশিয়াল আইডিয়া?”
“ভাবতে হবে।” আবির বললো।
সবাই চুপে গেলো। নতুন ব্যাপার মাথায় ঢুকসে সবার। কৌতুহল কাজ করছে সবার। বুঝতে পাচ্ছি। এছারা পড়া সবার প্রায় শেষ। কিন্তু ওরা ৩জনেই বেকার। আমিই রিমুটিং কিছু একটা তাও করি। এমন অবস্থায় ওদের কাছে এমন প্রস্তাব দেওয়া ওদের জন্য বেশ সোনার হরিণের মতই।
এছারা আমার আর কোনো উপায় ছিলোনা। এই টাকা না পারবো নিজ একাউন্টে ঢুকাতে, না পারবো কাউকে দেখাতে। সন্দেহ থেকে ফেসে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাই বিজনেশের নামে কিছু একটা করা শুরু করি, দেন আসতে ধিরে সবাই জানবে আমরা বিজনেশ করছি।
যদিও টাকা আদায়ের কাজটা খুব সুক্ষ্ম ভাবেই করা হয়েছে। পালিয়ে থাকা ৪০ দিনে আমরা বহু প্লান করসি। নাদিমকে দিয়ে এমন একজন রিক্সাক্সালককে খুজসি যাকে বিশাল এক টাকার লোভ দেখিয়ে, অভিনয় করে সেই রিক্সাচালকের সিম সহ ফোন কিনার যোগ্য ঠিক করি। নাদিমকে দুইদিন লাগসে মাত্র। ১০হাজার টাকার লোভ দেখিয়ে, নিজে ঢাকা শহরে পথ হারিয়ে দিয়েছে বলে, রিক্সাচালকের থেকে একটা বাটম ফোন, সিম সহ কিনে নেই।
সেই সিম দিয়েই মামাকে ফোন করে টাকা প্রস্তাব দেওয়া হয়। আমরা জানতাম মামা, পরবর্তীতে ব্যাপারটা নিয়ে ঘাটাঘাটি করলে সর্বপ্রথম সিম নাম্বার থেকে তথ্য বের করার চেস্টা করবে।
“আমি একটা আইডিয়া পাইসি। বলবো?” নাদিম প্রথম মুখ খুললো।
আমি বললাম, “বল।”
“এক কাজ করলে কেমন হয়। আমাদের আস্পাশের সব ভাড়াটিয়ায় হয় স্টুডেন্ট, নয়তো চাকরিজীবি। ফ্যামিলি নাই বললেই চলে। আমরা যদি ‘'হোম ডেলিভেরি মিলের(খাবারের)” ব্যবস্থা করি। কেমন হবে?”
নাদিমের আইডিয়াকে এক লাফে লুফে নিলো আবির। সাথে সাথেই বলে উঠলো, “একদম দারুন হবে বন্ধু। তোদের ভাবিও মাঝে মাঝেই এই কথা বলতো। কিন্তু আমাদের মুলধণের কারনের বাস্তবায়ন হয়নি।”
আমি বললাম, “সত্যিই নাকি? তাহলে তো এখন কাজে লাগানোই যাই। মাহিকেও আমাদের পার্টনারশীপে নিয়ে নিব। একজন মেয়ে মানুষ তো লাগবেই।”
সৈকত এতক্ষণ চুপচাপ শুনছিলো। মুখ খুললো অবশেষে। বললো, “আইডিয়া খারাপ না। করলে ভালই প্রফিট আসবে।”, “উদ্যোগ নিলে মন্দ হবেনা। এই কাজে প্রচুর লাভ। জেলা পর্যায়ে আমার বাড়ির পাশেই এক কাপল এই কাজ করে। বাসায় গেলে ভাইটির সাথে গল্প হয়। এতে তার ভালই প্রফিট আসে নাকি বলে।”
“তাহলে সেটাই বাস্তবায়ণ করি, আমরা। কি বলিস সবাই?” আমি সবার উদ্দেশ্যে বললাম।
সবাই সম্মতি দিলো। আমি ওদেরকে এই নিয়ে নেক্সট প্লান কি কি হবে,কিভাবে শুরু করা যায়, কোথায় করা যায় ইত্যাদি নিয়ে প্লান করতে বললাম। আর এও বললাম, আমার বাসায় আব্বা মা এসেছে। আমাকে এখনি বাসায় যেতে হবে। পারলে বিকালে তোদের সাথে আবার মিট করবো। নয়তো কাল। তোরা ভাবা শুরু করো। আর রিকতাকেও বলে দিস, সেও থাকবে আমাদের উদ্যোগে।”
আমি শর্টকাটে সেরে বাসায় চলে আসলাম। বাসাই মানুষ। এছাড়াও বাসার পরিস্থিতি আসতে ধিরে সামাল দিত দিবে। যথারীতি মাথায় হেলমেট পড়ে বাসায় ঢুকলাম। বাড়ির সামনের দোকানদার মামা যদিও বারবার দেখছিলো। তিনি চিনেও হয়তো নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পাচ্ছেন না, নয়তো আমাকে ভুল দেখছেন।
বাড়ির কলিং দিতেই শাশুড়ি দরজা খুললো। উনাকে তরিতরকারির ব্যাগটা ধরিয়ে ভেতরে বাইকটা রাখলাম।
জিজ্ঞেস করলাম, “ওরা সবাই কই?”
“তোমার আব্বু ঘুমাচ্ছে বেটা। আর মিম তোমার আম্মাকে নিয়ে ছাদে গেছে।”
উফফফস, কেউ নেই কথাটা শুনেই তল পেটে মোচর দিয়ে উঠলো যেন।
“আম্মা?” উনি আমার ডাক পেয়ে দাড়ালেন। হাতে ব্যাগ। রান্না ঘরের দিকে যাচ্ছিলেন।
“বলো বেটা।”
“আম্মা, সারা রাস্তা বাইকে চালাতে সমস্যা হচ্ছিলো।”
উনি আমার কথার মাথামুন্ডো কিছুই বুঝলেন না। বললেন, “কিসের সমস্যা বেটা?”
আমি বাড়ার দিকে আঙ্গুলের ইশারার দিয়ে দেখালাম। উনি সোজা প্যান্টের দিকে তাকালেন।
“আজ রাতেই ডাক্তার দেখানোর ব্যবস্থা করো বেটা।”
“আর ওরা সবাই? জেনে যাবে যে।”
“কেউ জানবেনা। তুমি আজ রাতেই ডাক্তার দেখিয়ে আসো।”
“আম্মা, আমি একা যাবো কেমনে? এটা তো সাধারণ কোনো অসুখ না আম্মা। এক যাওয়া ঠিক হবেনা।”
“তাহলে বেটা? মিমকেও তো বলতে চাচ্ছোনা।”
“নাহ। মিম জেনে গেলে খুব কস্ট পাবে। আমি চাইনা তাকে কস্ট দিতে।”
“তাহলে আমাকে নিয়ে গেলে হবে?”
উফফফফসসস শাশুড়ি আম্মা, এটাই তো চাই।
“আপনি গেলে বাসায় কি বাহানা দিবেন?”
“বললো, আমার একটা কাজে বাইরে যাচ্ছি। ইমার্জেনসি।”
“আচ্ছা আম্মা।”
“তুমি যাও বেটা। চেঞ্জ হয়ে গোসল সেরে নাও। আমি রান্নাটা সেরে নিই।”
“আচ্ছা আম্মা।”
“ফুলেথাকা বাড়া নিয়ে রুমে আসলাম। পোশাক খুলেই লুঙিটা পড়ে ঘারে গামছা দিয়ে বের হলাম। সিরি বেয়ে ছাদে উঠলেই মিম আর আম্মার গল্পের কণ্ঠ শুনতে পেলাম। আর উঠলাম না। সিড়ির ঘরের কাছ থেকেই আবার ফিরে আসলাম। শাশুড়ি কই?
উনি এখনো রান্না ঘরে। সেদিকেই চললাম। উনি আমাকে দেখে লজ্জাই মুখ আবার ফিরিয়ে নিলেন। আমাকে খালি গায়ে কম ই দেখেছেন তিনি। দেখেন ই বলা চলে। উনার কাছাকাছি গিয়ে প্রশ্ন করলাম, “আম্মা, আমার ভাবতেই লজ্জা করছে তো।”
“কিসের বেটা?”
“এই যে, ডাক্তারের কাছে যাবো, কিভাবেই বলবো এসব কথা। ডাক্তারেরা আবার হাজারো প্রশ্ন করেন। আমি কিন্তু বলতে পারবোনা আম্মা। আপনিই সব বলবেন।”
“হি হি হি। তুমি এখনো ছোট্টটিই আছো বেটা। বিয়েসাদি করে ফেলেছো,অথচ এখনো কত লজ্জা পাও।”
উনি মাংস বেসিনে ধুচ্ছেন আর কথা বলছেন। আমি সাইড থেকে উনাকে দেখছি। উনিও যেন আমার সাথে এসব নিয়ে গল্প করতে লজ্জা পাচ্ছেন সেটাও বুঝতে পাচ্ছি। তবে ভালোই লাগছে এসব নিয়ে উনার সাথে গল্প করতে। ভেতরে একটা এক্সাইটমেন্ট কাজ করছে। এই বুঝি নতুন কিছু অনুভুতির সাথে সাক্ষাত হচ্ছে, এই বুঝি মনের ভেতরের দুস্টুমি গুলো উকি দিচ্ছে ইত্যাদি।
“আম্মা, ছেলেটা মায়েদের কাছে কখনো কি বড় হয়? সারাজীবন পিচ্চিই থাকে।”
“বুঝেছি। যাও বেটা গোসল করে নাও। আমি রান্নার কাজটা শেষ করি।”
“উনি এভাবে, এখানে কথা বলতে অসস্থি বোধ করছেন, বুঝতে পাচ্ছি। আমি আর ঘাটলাম না। রান্না রুম থেকে বেরিয়ে গেলাম। সোজা বাথরুমে। গোসল করতে হবে।
আমি আর মিম রুমে বসে আছি। গল্প করছি দুপুরের কি কি আইটেম রান্না করা যায় সে বিষয়ে। বিয়ের পর আজ প্রথম আব্বা মা আমার শ্বশুর বাড়ি আসলো। গত কাল সন্ধায় মামার বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে সারা রাত লেগেছে ঢাকা পৌছতে।
বিদায় মুহুর্তে মামা যে কথা বলেছে সেটার চিন্তায় আমার খাবার বন্ধ হয়ে গেছে।
–-----”বেটা, চিন্তা করোনা। তোমাদের পরিবারের উপর যে বা যারা এমন আচরণ করেছে, আর নির্দোষ তোমাকে যেভাবে ওরা অত্যাচার করেছে, আমি ওদের দুনিয়া ছাড়া করবো অতী শিঘ্রয়। ৩৫ লাখ টাকা নিসে ওরা। মনে রেখো, এই টাকা ওদের হজম করতে দিবোনা। আমার পোর্টে একটু ঝামেলা চলছে। ঝামেলা শেষ হলেই ঢাকা আসছি। আর চিন্তা করোনা তোমরা। নিশ্চিন্তে থাকবা।”
মামার এমন থ্রেট শুনে আমার আব্বা মায়ের ও আক্কেল গুরুম। কারণ তারাও তো জানে আসল কাহিনিটা কি!
বিকাল বেলা জুয়েল ভাই আমাকে কয়েকটা ভিডিও দিয়ে বলেছিলো, “আমরা আসবো তোমাদের বাসায়। শিঘ্রয়। আমি না যেতে পারলেও মাহিকে পাঠাবো। তুমি একটু দেইখো ব্যাপারটা।”
“কি হলো, কি এমন চিন্তা করছো বলো তো?” বউ এর কথায় হুস ফিরলো আমার। আমি সত্যিই অসুস্থ্য হয়ে পড়বো। আমার মাথা কোনো সময়ের জন্যেও হালকা থাকছেনা।
“ফ্রিজে ইলিশ নাই?”
“আছে। শুধুই ইলিশ রাধবো?”
“ইলিশ রাধো। আমি বাজার যায়। দেখি কি কিনা যায়।”
বের হতে যাবো, মিম বললো, “তোমার কাছে টাকা আছে? নয়তো আমার কাছে কিছু আছে নিয়ে যাও।”
“পাগলি, আমার ইনকামের সব টাকাই তো একাউন্টেই পড়ে আছে। তোমরা কি আমায় খরচ করতে দাও?”
সত্যি, আমার প্রায় ৪৫ হাজার মত প্রতি মাসে ইনকাম। শাশুড়ির কথা হলো, বেটা তুমি তোমার টাকা এই পরিবারে খরচ করার দরকার নাই। তোমার শ্বশুর যা রেখে গেছে তাতেই চলে যাবে। তুমি তোমার টাকা তোমাদের ভবিষ্যতের জন্য জমা করো।”
এরপর আমার একাউন্টের কোনো টাকাই তেমন তুলিনা।
“তবুও ঐটা একাউন্টে আছে। পকেটে তো নাই। আমার কাছে আছে নিয়ে যাও।”
মিমকে কাছে টানলাম। গালে হাত দিয়ে মুখটা সামনে আনলাম। মিম বড়বড় চোখ করে তাকাচ্ছে। বললাম, “আমাদের যখন বেবি হবে তখন বেবির জন্য প্রথম খেলনা কিনবা তোমার এই টাকা দিয়ে। তোমার কাছে যা আছে তা কাছেই রেখে দাও।”
মিম একটা মুচকি হাসলো। বললো, “লাভ ইউ স্বামি।”
“চলো বাইরে গিয়ে দেখি ওরা কি করে।”
রুম থেকে বেরোলাম। আব্বা মা আর শাশুড়ি ৩জন টিভির রুমে বসে গল্প করছে। আমাকে দেখে আব্বা আমায় ডাকলো, “বেটা এদিকে আসো।”
গেলাম।
“বেটা, শুনলাম তোমার কাজের ল্যাপটপ নষ্ট হয়ে গেছে? তোমার চাচ্চুকে ফোন দিয়ে যা টাকা লাগবে তোমার একাউন্টে নিয়ে নিও। দিয়ে একটা ল্যাপটপ কিনে নিও। আমি আগে জানলে আমিই কিনে নিয়ে আসতাম।”
আমার বাপ, প্রচুর চালাক মানুষ। পরিস্থিতি কেমনে সামাল দিতে হয় বুঝে গেছে।
আমি যাস্ট “আচ্ছা আব্বা” বলেই বের হয়ে গেলাম।
আবিরকে ফোন দিলাম।
“দোস্ত কেমন আছিস?”
“ফোন দিলি? ঢাকা চলে এসেছিস নাকি?”
“হ্যা রে। এক কাজ করতো। ল্যাপটপটা ক্যাম্পাসে নিয়ে আয়। কাল থেকেই কাজ করতে হবে। ছুটি শেষ।”
মামুন ভাই এর থেকে ইমার্জেন্সি ৪দিনের ছুটি নিয়েছিলাম।বাসা থেকে যখন আবিরের ওখানে যাই, গিয়েই আগে একটা ল্যাপটপ কিনে ওখানে বসেই কাজ সেরে নিতাম। যা কিছুই হয়ে যাক, কাজের কোনো ব্যাঘাত ঘটতে দিইনি। কাজটা আমার জন্য অনেক বড় এক নেয়ামত।
৭বছর মেয়াদের একটা প্রোজেক্ট। ৯মাস চলছে।
*******++*********
“তোর বাড়ির আস্পাসের লোকজন তোকে দেখে জিজ্ঞেস করলোনা যে, তুই মারা গেছিলিস, বেচে আসলি কেমনে?” আবির আমাকে দেখেই হাসতে হাসতে জিজ্ঞেস করলো।
আমি ক্যাম্পাসে করিম মামার চা-স্টলে বসে ছিলাম। মাত্রই আবির আসলো। সৈকত নাদিম কেও দেখেছি। ওরা আসছে।
“এই যে হেলমেট আছে না?” পাশে থাকা বাইকের হেলমেট দেখিয়ে বললাম।
“কিন্তু এই হেলমেট দিয়ে আর কত দিন?”
“এটা নিয়ে ভাবছিনা আপাতত। কেউ জিজ্ঞেস করলে বলে দিবো অপহরণ হয়েছিলাম। ভাবছি অন্য ব্যাপার নিয়ে।”
“সেটা কি?”
“ওরা আসুক। বলছি। তোদের কথা বল। রিকতা কেমন আছে?”
“আলহামদুলিল্লাহ ভালোই আছে। ক্যাম্পাসে আসতে চাচ্ছিলো। থাব্রা থুব্রা রেখে আসলাম। হা হা হা।”
“হা হা হা। নিয়েই চলে আসতিস। যাগ, কাল পরশুর মধ্যে একবার নিয়ে আই। বাইরে ডিনার করি।”
“বাদ দে ওর কথা। তোর টাকার কি করবি? এতো টাকা বাসায় রেখে ঘুম আসছে না তো। সারাক্ষণ ই ভয়ে ভয়ে থাকি।”
“কিসের ভয় রে দোস্ত! ওয়েট সেটার ব্যবস্থা করছি।”
৫মিনিটের মধ্যেই নাদিম সৈকত দুজনেই আসলো। ওরা আমাকে দেখে হাজারো প্রশ্ন। মামার বাড়ি যাবার পর কিভাবে কি হলো, কোনো সমস্যা হলো কিনা ইত্যাদি!
প্রাথমিক গল্প সেরে সবার মাঝে একটা প্রস্তাব উত্থাপন করলাম—- “দোস্ত, শুন, আমি চাচ্ছি আমার এই টাকা দিয়ে আমরা সবাই কোনো ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করি। কেমন হবে?”
শুনার পর নাদিমের কৌতুহল সবচেয়ে বেশি।
সে বলে, “দারুন হবে বন্ধু।”
আমি আবির আর সৈকতের দিকে তাকিয়ে বললাম, “তোদের মত?”
সৈকত বললো, “কিন্তু করতে চাচ্ছিস টা কি?”
“আইডিয়া বের কর।” আমি বললাম।
আবির বললো, “এই মুলধনে অনেক কিছুই করা সম্ভব।”
আমি বললাম, “কোনো স্পেশিয়াল আইডিয়া?”
“ভাবতে হবে।” আবির বললো।
সবাই চুপে গেলো। নতুন ব্যাপার মাথায় ঢুকসে সবার। কৌতুহল কাজ করছে সবার। বুঝতে পাচ্ছি। এছারা পড়া সবার প্রায় শেষ। কিন্তু ওরা ৩জনেই বেকার। আমিই রিমুটিং কিছু একটা তাও করি। এমন অবস্থায় ওদের কাছে এমন প্রস্তাব দেওয়া ওদের জন্য বেশ সোনার হরিণের মতই।
এছারা আমার আর কোনো উপায় ছিলোনা। এই টাকা না পারবো নিজ একাউন্টে ঢুকাতে, না পারবো কাউকে দেখাতে। সন্দেহ থেকে ফেসে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাই বিজনেশের নামে কিছু একটা করা শুরু করি, দেন আসতে ধিরে সবাই জানবে আমরা বিজনেশ করছি।
যদিও টাকা আদায়ের কাজটা খুব সুক্ষ্ম ভাবেই করা হয়েছে। পালিয়ে থাকা ৪০ দিনে আমরা বহু প্লান করসি। নাদিমকে দিয়ে এমন একজন রিক্সাক্সালককে খুজসি যাকে বিশাল এক টাকার লোভ দেখিয়ে, অভিনয় করে সেই রিক্সাচালকের সিম সহ ফোন কিনার যোগ্য ঠিক করি। নাদিমকে দুইদিন লাগসে মাত্র। ১০হাজার টাকার লোভ দেখিয়ে, নিজে ঢাকা শহরে পথ হারিয়ে দিয়েছে বলে, রিক্সাচালকের থেকে একটা বাটম ফোন, সিম সহ কিনে নেই।
সেই সিম দিয়েই মামাকে ফোন করে টাকা প্রস্তাব দেওয়া হয়। আমরা জানতাম মামা, পরবর্তীতে ব্যাপারটা নিয়ে ঘাটাঘাটি করলে সর্বপ্রথম সিম নাম্বার থেকে তথ্য বের করার চেস্টা করবে।
“আমি একটা আইডিয়া পাইসি। বলবো?” নাদিম প্রথম মুখ খুললো।
আমি বললাম, “বল।”
“এক কাজ করলে কেমন হয়। আমাদের আস্পাশের সব ভাড়াটিয়ায় হয় স্টুডেন্ট, নয়তো চাকরিজীবি। ফ্যামিলি নাই বললেই চলে। আমরা যদি ‘'হোম ডেলিভেরি মিলের(খাবারের)” ব্যবস্থা করি। কেমন হবে?”
নাদিমের আইডিয়াকে এক লাফে লুফে নিলো আবির। সাথে সাথেই বলে উঠলো, “একদম দারুন হবে বন্ধু। তোদের ভাবিও মাঝে মাঝেই এই কথা বলতো। কিন্তু আমাদের মুলধণের কারনের বাস্তবায়ন হয়নি।”
আমি বললাম, “সত্যিই নাকি? তাহলে তো এখন কাজে লাগানোই যাই। মাহিকেও আমাদের পার্টনারশীপে নিয়ে নিব। একজন মেয়ে মানুষ তো লাগবেই।”
সৈকত এতক্ষণ চুপচাপ শুনছিলো। মুখ খুললো অবশেষে। বললো, “আইডিয়া খারাপ না। করলে ভালই প্রফিট আসবে।”, “উদ্যোগ নিলে মন্দ হবেনা। এই কাজে প্রচুর লাভ। জেলা পর্যায়ে আমার বাড়ির পাশেই এক কাপল এই কাজ করে। বাসায় গেলে ভাইটির সাথে গল্প হয়। এতে তার ভালই প্রফিট আসে নাকি বলে।”
“তাহলে সেটাই বাস্তবায়ণ করি, আমরা। কি বলিস সবাই?” আমি সবার উদ্দেশ্যে বললাম।
সবাই সম্মতি দিলো। আমি ওদেরকে এই নিয়ে নেক্সট প্লান কি কি হবে,কিভাবে শুরু করা যায়, কোথায় করা যায় ইত্যাদি নিয়ে প্লান করতে বললাম। আর এও বললাম, আমার বাসায় আব্বা মা এসেছে। আমাকে এখনি বাসায় যেতে হবে। পারলে বিকালে তোদের সাথে আবার মিট করবো। নয়তো কাল। তোরা ভাবা শুরু করো। আর রিকতাকেও বলে দিস, সেও থাকবে আমাদের উদ্যোগে।”
আমি শর্টকাটে সেরে বাসায় চলে আসলাম। বাসাই মানুষ। এছাড়াও বাসার পরিস্থিতি আসতে ধিরে সামাল দিত দিবে। যথারীতি মাথায় হেলমেট পড়ে বাসায় ঢুকলাম। বাড়ির সামনের দোকানদার মামা যদিও বারবার দেখছিলো। তিনি চিনেও হয়তো নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পাচ্ছেন না, নয়তো আমাকে ভুল দেখছেন।
বাড়ির কলিং দিতেই শাশুড়ি দরজা খুললো। উনাকে তরিতরকারির ব্যাগটা ধরিয়ে ভেতরে বাইকটা রাখলাম।
জিজ্ঞেস করলাম, “ওরা সবাই কই?”
“তোমার আব্বু ঘুমাচ্ছে বেটা। আর মিম তোমার আম্মাকে নিয়ে ছাদে গেছে।”
উফফফস, কেউ নেই কথাটা শুনেই তল পেটে মোচর দিয়ে উঠলো যেন।
“আম্মা?” উনি আমার ডাক পেয়ে দাড়ালেন। হাতে ব্যাগ। রান্না ঘরের দিকে যাচ্ছিলেন।
“বলো বেটা।”
“আম্মা, সারা রাস্তা বাইকে চালাতে সমস্যা হচ্ছিলো।”
উনি আমার কথার মাথামুন্ডো কিছুই বুঝলেন না। বললেন, “কিসের সমস্যা বেটা?”
আমি বাড়ার দিকে আঙ্গুলের ইশারার দিয়ে দেখালাম। উনি সোজা প্যান্টের দিকে তাকালেন।
“আজ রাতেই ডাক্তার দেখানোর ব্যবস্থা করো বেটা।”
“আর ওরা সবাই? জেনে যাবে যে।”
“কেউ জানবেনা। তুমি আজ রাতেই ডাক্তার দেখিয়ে আসো।”
“আম্মা, আমি একা যাবো কেমনে? এটা তো সাধারণ কোনো অসুখ না আম্মা। এক যাওয়া ঠিক হবেনা।”
“তাহলে বেটা? মিমকেও তো বলতে চাচ্ছোনা।”
“নাহ। মিম জেনে গেলে খুব কস্ট পাবে। আমি চাইনা তাকে কস্ট দিতে।”
“তাহলে আমাকে নিয়ে গেলে হবে?”
উফফফফসসস শাশুড়ি আম্মা, এটাই তো চাই।
“আপনি গেলে বাসায় কি বাহানা দিবেন?”
“বললো, আমার একটা কাজে বাইরে যাচ্ছি। ইমার্জেনসি।”
“আচ্ছা আম্মা।”
“তুমি যাও বেটা। চেঞ্জ হয়ে গোসল সেরে নাও। আমি রান্নাটা সেরে নিই।”
“আচ্ছা আম্মা।”
“ফুলেথাকা বাড়া নিয়ে রুমে আসলাম। পোশাক খুলেই লুঙিটা পড়ে ঘারে গামছা দিয়ে বের হলাম। সিরি বেয়ে ছাদে উঠলেই মিম আর আম্মার গল্পের কণ্ঠ শুনতে পেলাম। আর উঠলাম না। সিড়ির ঘরের কাছ থেকেই আবার ফিরে আসলাম। শাশুড়ি কই?
উনি এখনো রান্না ঘরে। সেদিকেই চললাম। উনি আমাকে দেখে লজ্জাই মুখ আবার ফিরিয়ে নিলেন। আমাকে খালি গায়ে কম ই দেখেছেন তিনি। দেখেন ই বলা চলে। উনার কাছাকাছি গিয়ে প্রশ্ন করলাম, “আম্মা, আমার ভাবতেই লজ্জা করছে তো।”
“কিসের বেটা?”
“এই যে, ডাক্তারের কাছে যাবো, কিভাবেই বলবো এসব কথা। ডাক্তারেরা আবার হাজারো প্রশ্ন করেন। আমি কিন্তু বলতে পারবোনা আম্মা। আপনিই সব বলবেন।”
“হি হি হি। তুমি এখনো ছোট্টটিই আছো বেটা। বিয়েসাদি করে ফেলেছো,অথচ এখনো কত লজ্জা পাও।”
উনি মাংস বেসিনে ধুচ্ছেন আর কথা বলছেন। আমি সাইড থেকে উনাকে দেখছি। উনিও যেন আমার সাথে এসব নিয়ে গল্প করতে লজ্জা পাচ্ছেন সেটাও বুঝতে পাচ্ছি। তবে ভালোই লাগছে এসব নিয়ে উনার সাথে গল্প করতে। ভেতরে একটা এক্সাইটমেন্ট কাজ করছে। এই বুঝি নতুন কিছু অনুভুতির সাথে সাক্ষাত হচ্ছে, এই বুঝি মনের ভেতরের দুস্টুমি গুলো উকি দিচ্ছে ইত্যাদি।
“আম্মা, ছেলেটা মায়েদের কাছে কখনো কি বড় হয়? সারাজীবন পিচ্চিই থাকে।”
“বুঝেছি। যাও বেটা গোসল করে নাও। আমি রান্নার কাজটা শেষ করি।”
“উনি এভাবে, এখানে কথা বলতে অসস্থি বোধ করছেন, বুঝতে পাচ্ছি। আমি আর ঘাটলাম না। রান্না রুম থেকে বেরিয়ে গেলাম। সোজা বাথরুমে। গোসল করতে হবে।


![[+]](https://xossipy.com/themes/sharepoint/collapse_collapsed.png)