07-06-2026, 01:03 AM
(This post was last modified: 09-06-2026, 12:47 AM by indonetguru. Edited 1 time in total. Edited 1 time in total.)
গল্প: "ছায়ার আড়ালে আগুন" (পার্ট-৩: অন্ধকারের অধীশ্বর)
সাঁইত্রিশতম পরিচ্ছেদ: সকালের চা ও কৌশল
সকাল সাড়ে আটটা। বিন্দুবালা দেবীর বাড়ির উপরের বারান্দায় চা-এর টেবিল সাজানো হয়েছে। সাদা টেবিল ক্লথের উপর গরম চা-এর পাত্র, বিস্কুট, নোনতা বিস্কুট, আর কয়েকটা কলা রাখা। সকালের নরম রোদ বারান্দায় এসে পড়েছে। হালকা বাতাস বইছে।
বিন্দুবালা দেবী একটা আরামদায়ক চেয়ারে বসে চা খাচ্ছেন। তাঁর পরনে একটা ঢিলেঢালা সবুজ শাড়ি, চুল খোলা, কপালে বড় লাল টিপ। তাঁর পাশে ব্রজদাসী সাদা শাড়ি পরে বসে আছেন। অংশুমানও টেবিলে বসেছে, তার চোখে সামান্য চিন্তার ছায়া।
কয়েক মুহূর্ত নীরবে চা খাওয়ার পর অংশুমান গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,
“মাসী, একটা জরুরি কথা বলব?”
বিন্দুবালা চায়ের কাপ নামিয়ে রেখে তার দিকে তাকালেন। তাঁর চোখে কৌতূহল।
“বল।”
অংশুমান চায়ের কাপ হাতে নিয়ে ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল,
“আমাদের এখন লোকবল আরও বাড়াতে হবে। শুধু কয়েকজন সাগরেদ দিয়ে ভোটের প্রচার চালানো যাবে না। মাঠে নামতে হবে, লোকজনকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে হবে। এর জন্য আসল সৈনিক দরকার।”
বিন্দুবালা মাথা নেড়ে বললেন,
“টাকা লাগলে বল। যত টাকা লাগে আমি দেব। মদ-মাংস-টাকা — যার যা লাগে, তাকে তাই দাও। লোক জোগাড় করো। যত খুশি খরচ করো।”
অংশুমান একটু হেসে বলল,
“টাকা ছড়ালেই মাতাল পাওয়াটা কোনো ব্যাপার নয় মাসী। কিন্তু আমাদের চাই ভোটে লড়ার আসল সৈনিক। যারা মাঠে নেমে কাজ করবে, যাদের ভয় দেখিয়ে লোকজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে, যারা প্রয়োজনে ঝুঁকি নিতে পারবে।”
তিনি একটু থেমে বিন্দুবালার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন,
“যদি শুনতে চাও তো একটা কথা বলি বিন্দুমাসী। আমার কাছে এরকম সৈনিক তৈরি আছে। তুমি যদি চাও তো আমি তাদের ব্যবস্থা করে দিতে পারি।”
বিন্দুবালা সোজা হয়ে বসে বললেন,
“এতে জিজ্ঞেস করার কি আছে? তোমার যা ভালো মনে হয় তাই করো। আমি তো তোমার উপরই ভরসা করছি।” -বিন্দুমাসী উত্তর দেয়।
অংশুমান মুচকি হাসল। চা শেষ করে সে উঠে গিয়ে ফোন বের করল। রুবিনা গ্যাংয়ের একজনের নাম্বার ডায়াল করে বলল,
“কথা হয়ে গিয়েছে। কাল থেকে ভোট অবধি তোমাদের এখানেই ডিউটি। সবাইকে বলে দাও। কেউ যেন না ফাঁকি দেয়।”
ফোন রেখে সে ফিরে এসে বসল।
বিন্দুবালা ব্রজদাসীর দিকে তাকিয়ে বললেন,
“তাহলে আজ নমিনেশন দিচ্ছিস তো?”
ব্রজদাসী খুশিতে মাথা নেড়ে বললেন, “হ্যাঁ, দিব। আমার অনেকদিনের ইচ্ছে পুরন এবার পুরন হবে।”
বিন্দুবালা চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে একটু থেমে বললেন,
“তোকে কিন্তু এভিডেভিড দিতে হবে। ভেবে দেখিস, তোর নামে আবার বৃন্দাবন পুলিশের কাছে চুরির FIR আছে কি না? যদি থাকে, তাহলে নমিনেশন বাতিল হয়ে যাবে।”
ব্রজদাসী হতভম্ব হয়ে গেলেন। তাঁর মুখের হাসি মিলিয়ে গেল। তিনি আমতা আমতা করে বললেন,
“হ্যাঁ রে বিন্দু… কি হবে যদি কেস হয় তো? আমি তো ভেবেছিলাম সব ঠিক আছে…”
অংশুমান শান্ত গলায় বলল,
“তোমাকে ওরা ধরে নিয়ে যেতে চলে আসবে। নমিনেশনের সময় পুলিশ চেক করবে।”
ব্রজদাসীর শুকিয়ে গেল। তিনি চিন্তিত স্বরে বললেন,
“হ্যাঁরে অংশু, আমার খুব ভয় করছে। এত টাকা খরচ করে যদি শেষে সব বরবাদ হয়…”
বিন্দুবালা একটু ভেবে বলল,
“যদি ভয় লাগে তো রানিকে সিটটা ছেড়ে দে। কি আছে? ও কি আমাদের পরিবারেরই অংশ নয়? ও জিতলে আমাদেরই লাভ।”
ব্রজদাসী আমতা আমতা করে বললেন,
“আচ্ছা… ঠিক আছে… তোরা যখন বলছিস তবে আমি নাহয় ভোটে দাঁড়াবো না। রানিই লড়ুক।”
বিন্দুবালা ও অংশুমান দুজনের চোখেই খুশির ঝলক দেখা গেল। দুজনেই চেয়েছিল রানি জিতুক। কিন্তু কেউ মুখে সেটা প্রকাশ করল না।
ব্রজদাসী একটু হতাশ হয়ে চুপ করে গেলেন। বিন্দুবালা চায়ের কাপ তুলে নিয়ে বললেন,
“তাহলে এটাই ঠিক হল। রানিকে প্রস্তুত করো।”
বারান্দায় চা খাওয়া শেষ হল। কিন্তু টেবিলের উপর একটা অদৃশ্য টেনশন রয়ে গেল।
সাঁইত্রিশতম পরিচ্ছেদ: সকালের চা ও কৌশল
সকাল সাড়ে আটটা। বিন্দুবালা দেবীর বাড়ির উপরের বারান্দায় চা-এর টেবিল সাজানো হয়েছে। সাদা টেবিল ক্লথের উপর গরম চা-এর পাত্র, বিস্কুট, নোনতা বিস্কুট, আর কয়েকটা কলা রাখা। সকালের নরম রোদ বারান্দায় এসে পড়েছে। হালকা বাতাস বইছে।
বিন্দুবালা দেবী একটা আরামদায়ক চেয়ারে বসে চা খাচ্ছেন। তাঁর পরনে একটা ঢিলেঢালা সবুজ শাড়ি, চুল খোলা, কপালে বড় লাল টিপ। তাঁর পাশে ব্রজদাসী সাদা শাড়ি পরে বসে আছেন। অংশুমানও টেবিলে বসেছে, তার চোখে সামান্য চিন্তার ছায়া।
কয়েক মুহূর্ত নীরবে চা খাওয়ার পর অংশুমান গলা খাঁকারি দিয়ে বলল,
“মাসী, একটা জরুরি কথা বলব?”
বিন্দুবালা চায়ের কাপ নামিয়ে রেখে তার দিকে তাকালেন। তাঁর চোখে কৌতূহল।
“বল।”
অংশুমান চায়ের কাপ হাতে নিয়ে ধীরে ধীরে বলতে শুরু করল,
“আমাদের এখন লোকবল আরও বাড়াতে হবে। শুধু কয়েকজন সাগরেদ দিয়ে ভোটের প্রচার চালানো যাবে না। মাঠে নামতে হবে, লোকজনকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে হবে। এর জন্য আসল সৈনিক দরকার।”
বিন্দুবালা মাথা নেড়ে বললেন,
“টাকা লাগলে বল। যত টাকা লাগে আমি দেব। মদ-মাংস-টাকা — যার যা লাগে, তাকে তাই দাও। লোক জোগাড় করো। যত খুশি খরচ করো।”
অংশুমান একটু হেসে বলল,
“টাকা ছড়ালেই মাতাল পাওয়াটা কোনো ব্যাপার নয় মাসী। কিন্তু আমাদের চাই ভোটে লড়ার আসল সৈনিক। যারা মাঠে নেমে কাজ করবে, যাদের ভয় দেখিয়ে লোকজনকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে, যারা প্রয়োজনে ঝুঁকি নিতে পারবে।”
তিনি একটু থেমে বিন্দুবালার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন,
“যদি শুনতে চাও তো একটা কথা বলি বিন্দুমাসী। আমার কাছে এরকম সৈনিক তৈরি আছে। তুমি যদি চাও তো আমি তাদের ব্যবস্থা করে দিতে পারি।”
বিন্দুবালা সোজা হয়ে বসে বললেন,
“এতে জিজ্ঞেস করার কি আছে? তোমার যা ভালো মনে হয় তাই করো। আমি তো তোমার উপরই ভরসা করছি।” -বিন্দুমাসী উত্তর দেয়।
অংশুমান মুচকি হাসল। চা শেষ করে সে উঠে গিয়ে ফোন বের করল। রুবিনা গ্যাংয়ের একজনের নাম্বার ডায়াল করে বলল,
“কথা হয়ে গিয়েছে। কাল থেকে ভোট অবধি তোমাদের এখানেই ডিউটি। সবাইকে বলে দাও। কেউ যেন না ফাঁকি দেয়।”
ফোন রেখে সে ফিরে এসে বসল।
বিন্দুবালা ব্রজদাসীর দিকে তাকিয়ে বললেন,
“তাহলে আজ নমিনেশন দিচ্ছিস তো?”
ব্রজদাসী খুশিতে মাথা নেড়ে বললেন, “হ্যাঁ, দিব। আমার অনেকদিনের ইচ্ছে পুরন এবার পুরন হবে।”
বিন্দুবালা চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে একটু থেমে বললেন,
“তোকে কিন্তু এভিডেভিড দিতে হবে। ভেবে দেখিস, তোর নামে আবার বৃন্দাবন পুলিশের কাছে চুরির FIR আছে কি না? যদি থাকে, তাহলে নমিনেশন বাতিল হয়ে যাবে।”
ব্রজদাসী হতভম্ব হয়ে গেলেন। তাঁর মুখের হাসি মিলিয়ে গেল। তিনি আমতা আমতা করে বললেন,
“হ্যাঁ রে বিন্দু… কি হবে যদি কেস হয় তো? আমি তো ভেবেছিলাম সব ঠিক আছে…”
অংশুমান শান্ত গলায় বলল,
“তোমাকে ওরা ধরে নিয়ে যেতে চলে আসবে। নমিনেশনের সময় পুলিশ চেক করবে।”
ব্রজদাসীর শুকিয়ে গেল। তিনি চিন্তিত স্বরে বললেন,
“হ্যাঁরে অংশু, আমার খুব ভয় করছে। এত টাকা খরচ করে যদি শেষে সব বরবাদ হয়…”
বিন্দুবালা একটু ভেবে বলল,
“যদি ভয় লাগে তো রানিকে সিটটা ছেড়ে দে। কি আছে? ও কি আমাদের পরিবারেরই অংশ নয়? ও জিতলে আমাদেরই লাভ।”
ব্রজদাসী আমতা আমতা করে বললেন,
“আচ্ছা… ঠিক আছে… তোরা যখন বলছিস তবে আমি নাহয় ভোটে দাঁড়াবো না। রানিই লড়ুক।”
বিন্দুবালা ও অংশুমান দুজনের চোখেই খুশির ঝলক দেখা গেল। দুজনেই চেয়েছিল রানি জিতুক। কিন্তু কেউ মুখে সেটা প্রকাশ করল না।
ব্রজদাসী একটু হতাশ হয়ে চুপ করে গেলেন। বিন্দুবালা চায়ের কাপ তুলে নিয়ে বললেন,
“তাহলে এটাই ঠিক হল। রানিকে প্রস্তুত করো।”
বারান্দায় চা খাওয়া শেষ হল। কিন্তু টেবিলের উপর একটা অদৃশ্য টেনশন রয়ে গেল।


![[+]](https://xossipy.com/themes/sharepoint/collapse_collapsed.png)