05-06-2026, 04:54 PM
(This post was last modified: 20-06-2026, 12:45 PM by kumdev. Edited 1 time in total. Edited 1 time in total.)
একষট্টিতম পরিচ্ছেদ
জানলা দিয়ে উকি দিচ্ছে ভোরের আলো।ঘুম ভাঙ্গতে ইলিনা ব্রাউন চোখ মেলে তাকায়।পাশে নিঃসাড়ে ঘুমোচ্ছে আনু।কাল রাতের ঘটনা ছবির মতো ভেসে উঠল।বেশ দরদ দিয়ে যত্ন নিয়ে করেছে।পেটে হাত বোলায়,তার কি গর্ভসঞ্চার হয়েছে?অনেকটা বেরোয় আনুর।উপচে চাদরে পড়েছে।এক চিলতে হাসি খেলে যায় ঠোটে।হাতড়ে লুঙ্গি কুর্তা হাতে নিয়ে বিছানা থেকে নেমে বাথরুমে গেল।
কমোড সেরে শাওয়ারের নীচে কিছুক্ষণ দাড়িয়ে চোখ বুজে উপভোগ করে।শরীরের অস্থিসন্ধিতে সাবান ঘষতে থাকে।আর কদিন পরে আনুকে দিল্লী যেতে হবে।জানিনা ঈশ্বরের কি অভিপ্রায়।মনে পড়ল টাকা দিতে হবে,চেক বইটা সঙ্গে নিয়ে যাবে।ওদিকে একটা ব্যবস্থা হলে সকালে এত তাড়াহুড়া করতে হবে না।ছুটির দিন ছাড়া দুজনে একসঙ্গে বসে খাওয়া হয়না।একসঙ্গে দু-জনে বেরিয়ে এদিক-ওদিক ঘুরবে তার উপায় নেই।
ঘুম ভাঙ্গতে আরণ্যক আড়মোড়া ভেঙ্গে পাশ ফিরে দেখল পাশে ইলু নেই।রান্নাঘর থেকে শব্দ আসছে।ওকে আবার কলেজ যেতে হবে।ইলুটার কোনো ক্লান্তি নেই।খারাপ লাগে ইলুর জন্য কিছু করতে পারছে না।অবশ্য সব জেনেশুনেই ইলু বিয়ে করেছে।তার দিক থেকে আপত্তির কোনো প্রশ্ন ছিল না তবে একটা সঙ্কোচ ছিল।কলেজের অধ্যাপিকা সে কিছুই করেনা।আবার মুখের উপর না বলতেও পারেনি।
ইলুর সংস্পর্শে এসে নিজেকে নতুন করে চিনেছে।
উঠে পড়েছো?নেও চা নেও।চায়ের কাপ আর এক গেলাস জল কাধে চাদর নিয়ে ঢুকে ইলিনা বলল।
ইলু তুমি ভালো আছো তো?
মানে?
না কাল এত ধকল গেল।কি জানো উত্তেজনার সময় কি বলব--পরে আমার খুব খারাপ লেগেছে।
ওহ মাই গড,হু হ্যাভ আই ফলেন ইন উইথ?ওকে কে বোঝাবে। ইলিনা ভাবে মুখে বলে,তোমাকে দিল্লী যেতে হবে এখন সেটা ভাবো।নীচে নামো চাদরটা বদলাতে হবে।
চাদর তো পরিষ্কার আছে।
তোমাকে যা বলছি তাই করো।আমাকে তো বেরোতে হবে।
ঠিক আছে তুমি যাও চাদরটা আমাকে দাও।
চাদরটা আনুকে দিয়ে ইলিনা বেরিয়ে গেল।
আনুর জন্য খাবার ঢাকা দিয়ে ইলিনা খেতে বসে গেল।আনুর কথাগুলো নিয়ে মনেমনে নাড়াচাড়া করে।ভালো স্বামী পেয়েছে।চাকরিটা যদি পায়ও কিভাবে করবে ভেবে চিন্তা হয়।বুদ্ধি কম তা বলা যায়না।প্রখর আত্মমর্যাদা বোধ। অন্য কাজের কথা ভাবতে হবে।খাওয়া সেরে ব্যাগ গুছিয়ে চেক বইটা ব্যাগে ভরে নিল।ফোন বাজতে টেবিলের উপর থেকে ফোনটা তুলে নিল।এখন আবার কে ফোন করল?স্ক্রিনে দেখল সুপমা,কপালে ভাজ পড়ে।এতদিন পরে সুপমা,কি ব্যাপার?কানে লাগিয়ে বলল,হ্যালো?
আমি সুপমা।
হ্যা বুঝেছি,বাড়ীর সব খবর ভালো তো?
হ্যা ভালো।তুই এখন কোথায়?রাস্তায় না বাড়ীতে?
বাড়ীতে।
আজ কলেজ নেই?
এইতো এখনই বেরবো।
তোর বর বেরিয়ে গেছে?
আনু কোথাও বেরোয় না,বাড়ীতেই থাকে।ইলিনা বিরক্ত হয়।
বেরোয় না?মানে এখনো কোনো কাজ পায়নি?
আর কিছু বলবি?
তোর জন্য আমার খুব কষ্ট হয়।এত লেখাপড়া করলি কলেজে পড়াচ্ছিস আর রূপের কথা কি বলব,পুটির বাপ এক পলক দেখেই ফিদা।আমি বলেছি ওদিকে নজর দিওনা,ও কিন্তু ক্যারাটে জানে।
ইলিনার ঠোটে হাসি নিজের রূপের প্রশংসা খারাপ লাগে না।
আচ্ছা লিনা চাকরি নেই বাকরি নেই মা-বাপ মরা অনাথ একটা ছেলে--কি দেখে তুই ওকে বিয়ে করলি?
আনুর মধ্যে কি আছে সেটা বুঝলে তোর-আমার মধ্যে পার্থক্য থাকতো না। কথাটা মনে এলেও বলেনা।
এমন বিয়ে করলি মুখ ফুটে কাউক বলতেও পারিস না।
তুই তো সে জন্য আছিস।
আমি?আমি আবার কি করলাম?
সোমা মুখার্জিকে তুই বলিস নি?
সোমা আবার কে?
তোদের গ্রামে গেছিল--
ও মিসেস মুখার্জি?আমি কি করে জানব বল মিসেস মুখার্জী তোদের কলেজে পড়ায়--
যাক বাদ দে,তুই আর কিছু বলবি?
ও হ্যা আসল কথাই বলা হয়নি।তোর বর আগে এক দোকান খবর কাগজ বিক্রী করতো টাকাপয়সা বেশী দিতোনা। রাজী থাকলে বলিস পুটির বাবাকে বলে দোকানে যদি-- টাকা আরও বেশী দেবে--বিশ্বাসী লোক আজকাল পাওয়া মুষ্কিল--
ঠিক আছে ওকে বলব--রাখছি?
এই শোন তোর বরের চেহারাটা কিন্তু বিন্দাস।মেশিনটা কেমন রে-
এবার রাখছি---রাবিশ।
এই তোর বরের নম্বরটা দিবি?
কেন কি হবে?
বুঝিয়ে বলতাম--
আমি বলে দেব।ইলিনা বলল,শোন সুপমা তুই বেকার অনাথ অনেক কথা বললি।আনু এখন আর অনাথ নয়,আমি আছি।আর বেকার?তুই জানিস না ড্যাড আমাকে কত টাকা দিয়ে গেছে।চাকরি না করলেও ভাতের অভাব হতো না।তুই বললি কি দেখে বিয়ে করলাম?বিশ্বাস কর টাকা পয়সা রূপ যৌবন নয় আমি একটা মানুষ খুজছিলাম, মনে হয় আনুর মধ্যে তাকে পেয়ে গেছি--রাখছি।ইলিনা াফোন কেটে দিল।ওয়েস্টেজ অফ টাইম।
স্টাডিতে গিয়ে উকি দিল।মনে হয় ঘুমিয়ে পড়েছে।রাতে ভাল ঘুম হয়নি,কেমন নিঃসাড়ে পড়ে আছে।মেশিন কেমন?মেশিন দেখলে তোমাকে আর দেখতে হতো না।বাজে সময় নষ্ট হল।
দরজা খুলে বেরিয়ে দেখল কয়েকটা অচেনা ছেলে দাড়িয়ে।ইলিনা দরজা বন্ধ করে ঘুরে জিজ্ঞেস করল,হোয়াটস দা ম্যাটার?
ছেলেগুলো সিড়ির দিকে তাকিয়ে আমতা-আমতা করে বলল,কামিং কামিং....।
সিড়ি দিয়ে একটা ভীড় উঠে আসছে।তার মধ্যে বেশ কিছু চেনা মুখ।এখানকার পার্টির নেতাও আছে। ইলিনা বুঝতে পারে আজ কলেজে লেট হবেই।গুণ্ডাটা উঠে পড়লে ঝামেলা।
ভীড় ওকে ছেকে ধরে এখানে এসব চলবে না এসব করতে হলে অন্য পাড়ায় যান এটা ভদ্রলোকের পাড়া শিক্ষিত হয়ে ছি ছি নানা কটু মন্তব্য করতে থাকে।ইলিনা বুঝতে পারেে না কি বলছে এরা অসহায় বোধ করে বলে,হোয়াট ইজ দিস?
সতীনাথ বাবু সন্তোষ মাইতিকে বললেন,দাদা আপনি কথা বলুন।
সন্তোষ মাইতি হাত তুলে বললেন,এ্যাই তোরা থামবি।
একটি ছেলে সন্তোষবাবুকে ফিসফিস করে বলল, কালাবাবু আসবে?
ওকে নীচে থাকতে বল,দরকার হলে ডাকব।ছেলেটি চলে গেল।
সন্তোষমাইতি বললেন,শুনুন ম্যাডাম আপনার বিরুদ্ধে কদিন ধরে অনেক কমপ্লেন জমা পড়েছে--
কি কমপ্লেইন?
সেসব এত লোকের মধ্যে বলতে চাইনা তবে একতরফা শুনে কোনো সিদ্ধান্ত করা সঠিক হবেনা--
সেজন্য দলবল নিয়ে একজন মহিলার ফ্লাটে চলে এলেন?
সন্তোষ মাইতি ভীড়ে চোখ বুলিয়ে নিয়ে ইলিনার কাছ ঘেষে মৃদুস্বরে বললেন,আপনি চাইলে রাতে আমি একা এসে আলোচনা করতে পারি?
দরকার নেই যা বলার এখানেই বলুন।
সন্তোষ মাইতি বিরক্ত হয়ে বললেন,তাহলে ঘর তল্লাশী করা ছাড়া উপায় নেই।
তল্লাসী মানে?আপনারা কারা,ইচ্ছে কারো ঘরে ঢুকে তল্লাশী করতে পারেন--দেশে আইন কানুন নেই--
ম্যাম আপনার ঘরে যখন লোক নেই তাহলেে কেন আপত্তি করছেন বুঝলাম না।সতীনাথবাবু ুবললেন।
লোক নেই কখন বললাম?
বলেন নি?সতীনাথবাবুর চোখ মুখ উদ্ভাসিত বললেন,অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করছেন লোক নেন--
শাট আপ!লোক নেন মানে?ঘরে আমার হাজব্যাণ্ড আছে--
সন্তোষ মইিতি হাত তুলে সতীনাথকে থামিয়ে বললেন,হাজবেণ্ড আছে তারমানে নিশীথ ফিরেছে?একথা আগে বললে--
হু ইজ নিশীথ?ওর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই--
আপনার সঙ্গে বিয়ে হয়নি?
কথা হয়েছিল ফর্মালি বিয়ে হয়নি।
এইযে বললেন হাজব্যাণ্ড--
ইলিনার ধৈর্যচ্যুতি ঘটে বিরক্ত হয়ে বলে,এনাফ ইজ এনাফ।আমাকে নিয়ে সমস্যা ওকে আই উইল লিভ ইয়োর লোকালিটি।ইলিনা দ্রুত সিড়ি দিয়ে নেমে গেল।
সন্তোষবাবুর আরো কথা বলার ছিল।দোতলায় নেমে সতীনাথ বললেন,দাদা আমি আসি আমাকে বেরোতে হবে।সবাই নীচে নেমে এল।কালাবাবু এগিয়ে এসে বলল,দাদা কি হল?মেমসাহেব দেখলাম হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে গেল।
ঠিক আছে চল,বলছি।
ধারণা ছিল লোকজন দেখে ঘাবড়ে যাবে তার কোনো লক্ষণ নজরে পড়ল না।মহিলা বলে কিছু বলা গেলনা।সন্তোষ মাইতি কিছুটা বিপর্যস্ত।অর্থ বা অন্য কোনোভাবে রফা করবে তার সুযোগই দিল না।আগে কখনো এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়নি।আর লোকজন নয় এরপর পুলিশ নিয়ে যাবেন।দেখি তল্লাশী কি ভাবে আটকায়।
বালীব্রিজ পেরোবার সময় গঙ্গার ঠাণ্ডা হাওয়া চোখেমুখে কোমল স্পর্শ বুলিয়ে দিয়ে যায়।ইলিনা ব্রাউনের মনটা অস্থির।গুণ্ডাকে নিয়ে চিন্তার শেষ নেই।কদিন পর ইণ্টারভিউ এর মধ্যে কিছু একটা হয়ে গেলে মুষ্কিল।ইলিনা ফোন বের করে বাটন টিপে কানে লাগায়।রিং হচ্ছে তবু ধরছে না কেউ।এই ভয়টাই পেয়েছিল।ইলিনার চোখ ঝাপ্সা হয়ে এল।তাহলে কি ফিরে যাবে?নীচে গুণ্ডাগুলোকে দেখেছে।কি করবে বুঝতে পারে না।তীব্রগতিতে ছুটে চলেছে বাস।এই তো ফোন করেছে আগ্রহ নিয়ে ফোন বের কর দেখল প্রোমোটার,ফোন না ধরে ফোন ব্যাগে ভরে রাখল।কলেজ যাবার দরকার নেই ফিরে যাবে ঠিক করল।এতক্ষণে কতকাণ্ড হয়ে গেছে কে জানে।আরেকবার ফোন করা যাক। বাটন টিপে কানে লাগায় ফোন বাজছে।কেউ ধরছে না।যা ভেবেছে তাই।কণ্ডাকটর হাক পাড়ছে,কলেজ-কলেজ।
অন্যদের সঙ্গে ইলিনাও নামার জন্য উঠে দাড়ালো।
বাস থেকে নেমে ফেরার জন্য রাস্তা পার হয়ে বিপরীত দিকের বাস স্টপেজে গিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে।বাসের দেখা নেই।কেন যে আজ কলেজে আসতে গেল।আরেকবার ফোন করবে?করেই বা কি হবে,ফোন কি আর আনুর কাছে আছে।কিন্তু যার কাছেই সাড়া দিতে কি হয়েছে।সাতপাঁচ ভেবে আবার ফোন করল।
ও পাশ থেকে সাড়া এল,হ্যালো?
আনু সব ঠিক আছে তো,কোনো গোলমাল হয়নি তো--
কিসের গোলমাল?
তুমি ফোন ধরছো না কেন?
আমি স্নানে গেছিলাম।ইলু আমাকে বলো কিসের গোলমাল?তুমি ঠিক আছো তো?
আমার কিছু হয়নি তুমি চিন্তা কোরোনা।
চিন্তা কোরোনা বললে হবে,তুমি কোথায়?
কোথায় আবার কলেজে।
ইলু আমায় কিছু গোপন করছো না তো?
কি গোপন করব যত আজেবাজে চিন্তা।
আজেবাজে নয় তোমায় না দেখা অবধি শান্তি পাবো না।
ঠিক আছে তাড়াতাড়ি ফিরব।ইলিনা ফোন কেটে দিল।ঘাম দিয়ে যেন জ্বর ছাড়লো। আজ আর কলেজ যেতে ইচ্ছে করছে না।অনেক দেরী হয়ে গেছে।প্রোমোটারের সঙ্গে কথা বলা দরকার,টাকা চেয়েছিল।ইলুকে না দেখে শান্তি পাবে না।সত্যমিথ্যা যাইহোক শুনতে ভাল লাগে।উইলিয়াম কেরী রোডের দিকে হাটতে শুরু করে।
জানলা দিয়ে উকি দিচ্ছে ভোরের আলো।ঘুম ভাঙ্গতে ইলিনা ব্রাউন চোখ মেলে তাকায়।পাশে নিঃসাড়ে ঘুমোচ্ছে আনু।কাল রাতের ঘটনা ছবির মতো ভেসে উঠল।বেশ দরদ দিয়ে যত্ন নিয়ে করেছে।পেটে হাত বোলায়,তার কি গর্ভসঞ্চার হয়েছে?অনেকটা বেরোয় আনুর।উপচে চাদরে পড়েছে।এক চিলতে হাসি খেলে যায় ঠোটে।হাতড়ে লুঙ্গি কুর্তা হাতে নিয়ে বিছানা থেকে নেমে বাথরুমে গেল।
কমোড সেরে শাওয়ারের নীচে কিছুক্ষণ দাড়িয়ে চোখ বুজে উপভোগ করে।শরীরের অস্থিসন্ধিতে সাবান ঘষতে থাকে।আর কদিন পরে আনুকে দিল্লী যেতে হবে।জানিনা ঈশ্বরের কি অভিপ্রায়।মনে পড়ল টাকা দিতে হবে,চেক বইটা সঙ্গে নিয়ে যাবে।ওদিকে একটা ব্যবস্থা হলে সকালে এত তাড়াহুড়া করতে হবে না।ছুটির দিন ছাড়া দুজনে একসঙ্গে বসে খাওয়া হয়না।একসঙ্গে দু-জনে বেরিয়ে এদিক-ওদিক ঘুরবে তার উপায় নেই।
ঘুম ভাঙ্গতে আরণ্যক আড়মোড়া ভেঙ্গে পাশ ফিরে দেখল পাশে ইলু নেই।রান্নাঘর থেকে শব্দ আসছে।ওকে আবার কলেজ যেতে হবে।ইলুটার কোনো ক্লান্তি নেই।খারাপ লাগে ইলুর জন্য কিছু করতে পারছে না।অবশ্য সব জেনেশুনেই ইলু বিয়ে করেছে।তার দিক থেকে আপত্তির কোনো প্রশ্ন ছিল না তবে একটা সঙ্কোচ ছিল।কলেজের অধ্যাপিকা সে কিছুই করেনা।আবার মুখের উপর না বলতেও পারেনি।
ইলুর সংস্পর্শে এসে নিজেকে নতুন করে চিনেছে।
উঠে পড়েছো?নেও চা নেও।চায়ের কাপ আর এক গেলাস জল কাধে চাদর নিয়ে ঢুকে ইলিনা বলল।
ইলু তুমি ভালো আছো তো?
মানে?
না কাল এত ধকল গেল।কি জানো উত্তেজনার সময় কি বলব--পরে আমার খুব খারাপ লেগেছে।
ওহ মাই গড,হু হ্যাভ আই ফলেন ইন উইথ?ওকে কে বোঝাবে। ইলিনা ভাবে মুখে বলে,তোমাকে দিল্লী যেতে হবে এখন সেটা ভাবো।নীচে নামো চাদরটা বদলাতে হবে।
চাদর তো পরিষ্কার আছে।
তোমাকে যা বলছি তাই করো।আমাকে তো বেরোতে হবে।
ঠিক আছে তুমি যাও চাদরটা আমাকে দাও।
চাদরটা আনুকে দিয়ে ইলিনা বেরিয়ে গেল।
আনুর জন্য খাবার ঢাকা দিয়ে ইলিনা খেতে বসে গেল।আনুর কথাগুলো নিয়ে মনেমনে নাড়াচাড়া করে।ভালো স্বামী পেয়েছে।চাকরিটা যদি পায়ও কিভাবে করবে ভেবে চিন্তা হয়।বুদ্ধি কম তা বলা যায়না।প্রখর আত্মমর্যাদা বোধ। অন্য কাজের কথা ভাবতে হবে।খাওয়া সেরে ব্যাগ গুছিয়ে চেক বইটা ব্যাগে ভরে নিল।ফোন বাজতে টেবিলের উপর থেকে ফোনটা তুলে নিল।এখন আবার কে ফোন করল?স্ক্রিনে দেখল সুপমা,কপালে ভাজ পড়ে।এতদিন পরে সুপমা,কি ব্যাপার?কানে লাগিয়ে বলল,হ্যালো?
আমি সুপমা।
হ্যা বুঝেছি,বাড়ীর সব খবর ভালো তো?
হ্যা ভালো।তুই এখন কোথায়?রাস্তায় না বাড়ীতে?
বাড়ীতে।
আজ কলেজ নেই?
এইতো এখনই বেরবো।
তোর বর বেরিয়ে গেছে?
আনু কোথাও বেরোয় না,বাড়ীতেই থাকে।ইলিনা বিরক্ত হয়।
বেরোয় না?মানে এখনো কোনো কাজ পায়নি?
আর কিছু বলবি?
তোর জন্য আমার খুব কষ্ট হয়।এত লেখাপড়া করলি কলেজে পড়াচ্ছিস আর রূপের কথা কি বলব,পুটির বাপ এক পলক দেখেই ফিদা।আমি বলেছি ওদিকে নজর দিওনা,ও কিন্তু ক্যারাটে জানে।
ইলিনার ঠোটে হাসি নিজের রূপের প্রশংসা খারাপ লাগে না।
আচ্ছা লিনা চাকরি নেই বাকরি নেই মা-বাপ মরা অনাথ একটা ছেলে--কি দেখে তুই ওকে বিয়ে করলি?
আনুর মধ্যে কি আছে সেটা বুঝলে তোর-আমার মধ্যে পার্থক্য থাকতো না। কথাটা মনে এলেও বলেনা।
এমন বিয়ে করলি মুখ ফুটে কাউক বলতেও পারিস না।
তুই তো সে জন্য আছিস।
আমি?আমি আবার কি করলাম?
সোমা মুখার্জিকে তুই বলিস নি?
সোমা আবার কে?
তোদের গ্রামে গেছিল--
ও মিসেস মুখার্জি?আমি কি করে জানব বল মিসেস মুখার্জী তোদের কলেজে পড়ায়--
যাক বাদ দে,তুই আর কিছু বলবি?
ও হ্যা আসল কথাই বলা হয়নি।তোর বর আগে এক দোকান খবর কাগজ বিক্রী করতো টাকাপয়সা বেশী দিতোনা। রাজী থাকলে বলিস পুটির বাবাকে বলে দোকানে যদি-- টাকা আরও বেশী দেবে--বিশ্বাসী লোক আজকাল পাওয়া মুষ্কিল--
ঠিক আছে ওকে বলব--রাখছি?
এই শোন তোর বরের চেহারাটা কিন্তু বিন্দাস।মেশিনটা কেমন রে-
এবার রাখছি---রাবিশ।
এই তোর বরের নম্বরটা দিবি?
কেন কি হবে?
বুঝিয়ে বলতাম--
আমি বলে দেব।ইলিনা বলল,শোন সুপমা তুই বেকার অনাথ অনেক কথা বললি।আনু এখন আর অনাথ নয়,আমি আছি।আর বেকার?তুই জানিস না ড্যাড আমাকে কত টাকা দিয়ে গেছে।চাকরি না করলেও ভাতের অভাব হতো না।তুই বললি কি দেখে বিয়ে করলাম?বিশ্বাস কর টাকা পয়সা রূপ যৌবন নয় আমি একটা মানুষ খুজছিলাম, মনে হয় আনুর মধ্যে তাকে পেয়ে গেছি--রাখছি।ইলিনা াফোন কেটে দিল।ওয়েস্টেজ অফ টাইম।
স্টাডিতে গিয়ে উকি দিল।মনে হয় ঘুমিয়ে পড়েছে।রাতে ভাল ঘুম হয়নি,কেমন নিঃসাড়ে পড়ে আছে।মেশিন কেমন?মেশিন দেখলে তোমাকে আর দেখতে হতো না।বাজে সময় নষ্ট হল।
দরজা খুলে বেরিয়ে দেখল কয়েকটা অচেনা ছেলে দাড়িয়ে।ইলিনা দরজা বন্ধ করে ঘুরে জিজ্ঞেস করল,হোয়াটস দা ম্যাটার?
ছেলেগুলো সিড়ির দিকে তাকিয়ে আমতা-আমতা করে বলল,কামিং কামিং....।
সিড়ি দিয়ে একটা ভীড় উঠে আসছে।তার মধ্যে বেশ কিছু চেনা মুখ।এখানকার পার্টির নেতাও আছে। ইলিনা বুঝতে পারে আজ কলেজে লেট হবেই।গুণ্ডাটা উঠে পড়লে ঝামেলা।
ভীড় ওকে ছেকে ধরে এখানে এসব চলবে না এসব করতে হলে অন্য পাড়ায় যান এটা ভদ্রলোকের পাড়া শিক্ষিত হয়ে ছি ছি নানা কটু মন্তব্য করতে থাকে।ইলিনা বুঝতে পারেে না কি বলছে এরা অসহায় বোধ করে বলে,হোয়াট ইজ দিস?
সতীনাথ বাবু সন্তোষ মাইতিকে বললেন,দাদা আপনি কথা বলুন।
সন্তোষ মাইতি হাত তুলে বললেন,এ্যাই তোরা থামবি।
একটি ছেলে সন্তোষবাবুকে ফিসফিস করে বলল, কালাবাবু আসবে?
ওকে নীচে থাকতে বল,দরকার হলে ডাকব।ছেলেটি চলে গেল।
সন্তোষমাইতি বললেন,শুনুন ম্যাডাম আপনার বিরুদ্ধে কদিন ধরে অনেক কমপ্লেন জমা পড়েছে--
কি কমপ্লেইন?
সেসব এত লোকের মধ্যে বলতে চাইনা তবে একতরফা শুনে কোনো সিদ্ধান্ত করা সঠিক হবেনা--
সেজন্য দলবল নিয়ে একজন মহিলার ফ্লাটে চলে এলেন?
সন্তোষ মাইতি ভীড়ে চোখ বুলিয়ে নিয়ে ইলিনার কাছ ঘেষে মৃদুস্বরে বললেন,আপনি চাইলে রাতে আমি একা এসে আলোচনা করতে পারি?
দরকার নেই যা বলার এখানেই বলুন।
সন্তোষ মাইতি বিরক্ত হয়ে বললেন,তাহলে ঘর তল্লাশী করা ছাড়া উপায় নেই।
তল্লাসী মানে?আপনারা কারা,ইচ্ছে কারো ঘরে ঢুকে তল্লাশী করতে পারেন--দেশে আইন কানুন নেই--
ম্যাম আপনার ঘরে যখন লোক নেই তাহলেে কেন আপত্তি করছেন বুঝলাম না।সতীনাথবাবু ুবললেন।
লোক নেই কখন বললাম?
বলেন নি?সতীনাথবাবুর চোখ মুখ উদ্ভাসিত বললেন,অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করছেন লোক নেন--
শাট আপ!লোক নেন মানে?ঘরে আমার হাজব্যাণ্ড আছে--
সন্তোষ মইিতি হাত তুলে সতীনাথকে থামিয়ে বললেন,হাজবেণ্ড আছে তারমানে নিশীথ ফিরেছে?একথা আগে বললে--
হু ইজ নিশীথ?ওর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই--
আপনার সঙ্গে বিয়ে হয়নি?
কথা হয়েছিল ফর্মালি বিয়ে হয়নি।
এইযে বললেন হাজব্যাণ্ড--
ইলিনার ধৈর্যচ্যুতি ঘটে বিরক্ত হয়ে বলে,এনাফ ইজ এনাফ।আমাকে নিয়ে সমস্যা ওকে আই উইল লিভ ইয়োর লোকালিটি।ইলিনা দ্রুত সিড়ি দিয়ে নেমে গেল।
সন্তোষবাবুর আরো কথা বলার ছিল।দোতলায় নেমে সতীনাথ বললেন,দাদা আমি আসি আমাকে বেরোতে হবে।সবাই নীচে নেমে এল।কালাবাবু এগিয়ে এসে বলল,দাদা কি হল?মেমসাহেব দেখলাম হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে গেল।
ঠিক আছে চল,বলছি।
ধারণা ছিল লোকজন দেখে ঘাবড়ে যাবে তার কোনো লক্ষণ নজরে পড়ল না।মহিলা বলে কিছু বলা গেলনা।সন্তোষ মাইতি কিছুটা বিপর্যস্ত।অর্থ বা অন্য কোনোভাবে রফা করবে তার সুযোগই দিল না।আগে কখনো এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়নি।আর লোকজন নয় এরপর পুলিশ নিয়ে যাবেন।দেখি তল্লাশী কি ভাবে আটকায়।
বালীব্রিজ পেরোবার সময় গঙ্গার ঠাণ্ডা হাওয়া চোখেমুখে কোমল স্পর্শ বুলিয়ে দিয়ে যায়।ইলিনা ব্রাউনের মনটা অস্থির।গুণ্ডাকে নিয়ে চিন্তার শেষ নেই।কদিন পর ইণ্টারভিউ এর মধ্যে কিছু একটা হয়ে গেলে মুষ্কিল।ইলিনা ফোন বের করে বাটন টিপে কানে লাগায়।রিং হচ্ছে তবু ধরছে না কেউ।এই ভয়টাই পেয়েছিল।ইলিনার চোখ ঝাপ্সা হয়ে এল।তাহলে কি ফিরে যাবে?নীচে গুণ্ডাগুলোকে দেখেছে।কি করবে বুঝতে পারে না।তীব্রগতিতে ছুটে চলেছে বাস।এই তো ফোন করেছে আগ্রহ নিয়ে ফোন বের কর দেখল প্রোমোটার,ফোন না ধরে ফোন ব্যাগে ভরে রাখল।কলেজ যাবার দরকার নেই ফিরে যাবে ঠিক করল।এতক্ষণে কতকাণ্ড হয়ে গেছে কে জানে।আরেকবার ফোন করা যাক। বাটন টিপে কানে লাগায় ফোন বাজছে।কেউ ধরছে না।যা ভেবেছে তাই।কণ্ডাকটর হাক পাড়ছে,কলেজ-কলেজ।
অন্যদের সঙ্গে ইলিনাও নামার জন্য উঠে দাড়ালো।
বাস থেকে নেমে ফেরার জন্য রাস্তা পার হয়ে বিপরীত দিকের বাস স্টপেজে গিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে।বাসের দেখা নেই।কেন যে আজ কলেজে আসতে গেল।আরেকবার ফোন করবে?করেই বা কি হবে,ফোন কি আর আনুর কাছে আছে।কিন্তু যার কাছেই সাড়া দিতে কি হয়েছে।সাতপাঁচ ভেবে আবার ফোন করল।
ও পাশ থেকে সাড়া এল,হ্যালো?
আনু সব ঠিক আছে তো,কোনো গোলমাল হয়নি তো--
কিসের গোলমাল?
তুমি ফোন ধরছো না কেন?
আমি স্নানে গেছিলাম।ইলু আমাকে বলো কিসের গোলমাল?তুমি ঠিক আছো তো?
আমার কিছু হয়নি তুমি চিন্তা কোরোনা।
চিন্তা কোরোনা বললে হবে,তুমি কোথায়?
কোথায় আবার কলেজে।
ইলু আমায় কিছু গোপন করছো না তো?
কি গোপন করব যত আজেবাজে চিন্তা।
আজেবাজে নয় তোমায় না দেখা অবধি শান্তি পাবো না।
ঠিক আছে তাড়াতাড়ি ফিরব।ইলিনা ফোন কেটে দিল।ঘাম দিয়ে যেন জ্বর ছাড়লো। আজ আর কলেজ যেতে ইচ্ছে করছে না।অনেক দেরী হয়ে গেছে।প্রোমোটারের সঙ্গে কথা বলা দরকার,টাকা চেয়েছিল।ইলুকে না দেখে শান্তি পাবে না।সত্যমিথ্যা যাইহোক শুনতে ভাল লাগে।উইলিয়াম কেরী রোডের দিকে হাটতে শুরু করে।


![[+]](https://xossipy.com/themes/sharepoint/collapse_collapsed.png)