03-06-2026, 06:57 AM
(This post was last modified: 13-06-2026, 01:57 AM by indonetguru. Edited 3 times in total. Edited 3 times in total.)
গল্প: "ছায়ার আড়ালে আগুন" (পার্ট-৩: অন্ধকারের অধীশ্বর)
সপ্তদশ পরিচ্ছেদ: প্রচারের শুরু
পরের দিন সকাল থেকেই টালিগঞ্জ ও বেহালা এলাকায় তৎপরতা শুরু হয়ে গেল। অংশুমান সকাল নয়টার মধ্যে বিন্দুবালার বাংলোয় পৌঁছে গিয়েছিল। বিন্দুমাসী তাকে দেখে সন্তুষ্ট হাসি দিয়ে বলেছিলেন, “আজ থেকে তুই আমার প্রচারের ক্যাপ্টেন।”
অংশুমানের তত্ত্বাবধানে মাইকিং ও পোস্টারিংয়ের কাজ জোরকদমে শুরু হয়ে গেল।
তিনটে খোলা জিপে মাইক লাগানো হয়েছে।
প্রত্যেক জিপে দুজন করে ছেলে। তারা পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে চিৎকার করে বলছে:
“গণ একতা পার্টির পক্ষ থেকে মা বিন্দুবালা দেবী আপনাদের সেবা করতে এসেছেন! ভোট দিন মায়ের নামে! ঢোল বাজছে… জাগো বেহালা, জাগো টালিগঞ্জ!”
পোস্টারিংয়ের কাজও চলছে সমানতালে। দেওয়াল, বৈদ্যুতিক পোস্ট, এমনকি কিছু দোকানের সামনের শেডেও লাগানো হচ্ছে বড় বড় পোস্টার। পোস্টারে বিন্দুবালার বিশাল ছবি — মুখে হাসি, কপালে বড়সড় খয়েরী টীপ, হাতে রুদ্রাক্ষের মালা। নিচে লেখা:
“মা বিন্দুবালা দেবী — আপনার সেবায়, আপনার পাশে। গণ একতা পার্টি। সিম্বল: ঢোল”
অংশুমান একটা স্করপিওর পাশে দাঁড়িয়ে সব তদারকি করছিল। তার মুখ গম্ভীর। পুলিশের ইউনিফর্ম না পরলেও তার উপস্থিতি দেখে স্থানীয় লোকজন বুঝতে পারছিল — এটা সাধারণ প্রচার নয়।
অন্যদিকে, বেহালার বিভিন্ন বস্তি ও নিম্নবিত্ত এলাকায় মনোজ, রমেশ ও মন্টু বাড়ি বাড়ি ঘুরে ফান্ড কালেক্ট করা শুরু করেছে।
মনোজ একটা পুরনো বাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করছে,
“মা বিন্দুবালার জন্য চাঁদা দিন! পাঁচ টাকা, দশ টাকা, যা পারেন। মা আপনাদের ভালো রাখবেন!”
অনেক বাড়িতে লোকজন ভয়ে ভয়ে টাকা দিচ্ছে। কেউ কেউ দরজা খুলে বলছে, “ভাই, আমাদের তো খেতে পাই না, চাঁদা দেব কী?”
রমেশ তখন হাসি মুখে বলছে, “মায়ের আশীর্বাদ পেলে সব ঠিক হয়ে যাবে। না দিলে কিন্তু পরে সমস্যা হতে পারে।”
মন্টু একটু বেশি আগ্রাসী। সে একটা চায়ের দোকানদারের কাছে গিয়ে বলল,
“দাদা, দিন পাঁচশো টাকা। মা বলেছে, যারা সাহায্য করবে তাদের ব্যবসা ভালো চলবে।”
একই সময়ে, কালু তার দলবল নিয়ে বড় বড় ব্যবসায়ীদের অফিসে ঘুরছে।
প্রথমে গেলেন একজন মার্বেল ব্যবসায়ীর কাছে। কালু হাসি মুখে বলল,
“স্যার, মা বিন্দুবালা নির্দল লড়ছেন। আপনাদের মতো সম্মানী ব্যবসায়ীদের সাহায্য চাই। পঞ্চাশ হাজার দিলে মা খুব খুশি হবেন।”
ব্যবসায়ী প্রথমে ইতস্তত করলে কালু হাসি মুখে বলল,
“স্যার, আপনার গোডাউনে তো প্রায়ই পুলিশ আসে। মা বললে সেসব সমস্যা অনেক কমে যাবে।”
ব্যবসায়ী মুখ শুকিয়ে টাকা দিয়ে দিলেন।
কালু পরের টার্গেটে যাওয়ার আগে তার সঙ্গীকে বলল,
“যারা টাকা দিতে চায় না, তাদের নাম লিখে রাখ। পরে দেখা যাবে।”
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে।
অংশুমান গাড়িতে বসে সবকিছু মনিটর করছে। তার মোবাইলে রুবিনার মেসেজ এসেছে — “কি করছো?”
আর অন্যদিকে বিন্দুবালার ফোন — "সন্ধ্যেবেলা একবার আমার বাড়িতে আয়, প্রচার কতদুর এগোলো তাই নিয়ে কথা হবে।”
সপ্তদশ পরিচ্ছেদ: প্রচারের শুরু
পরের দিন সকাল থেকেই টালিগঞ্জ ও বেহালা এলাকায় তৎপরতা শুরু হয়ে গেল। অংশুমান সকাল নয়টার মধ্যে বিন্দুবালার বাংলোয় পৌঁছে গিয়েছিল। বিন্দুমাসী তাকে দেখে সন্তুষ্ট হাসি দিয়ে বলেছিলেন, “আজ থেকে তুই আমার প্রচারের ক্যাপ্টেন।”
অংশুমানের তত্ত্বাবধানে মাইকিং ও পোস্টারিংয়ের কাজ জোরকদমে শুরু হয়ে গেল।
তিনটে খোলা জিপে মাইক লাগানো হয়েছে।
প্রত্যেক জিপে দুজন করে ছেলে। তারা পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে চিৎকার করে বলছে:
“গণ একতা পার্টির পক্ষ থেকে মা বিন্দুবালা দেবী আপনাদের সেবা করতে এসেছেন! ভোট দিন মায়ের নামে! ঢোল বাজছে… জাগো বেহালা, জাগো টালিগঞ্জ!”
পোস্টারিংয়ের কাজও চলছে সমানতালে। দেওয়াল, বৈদ্যুতিক পোস্ট, এমনকি কিছু দোকানের সামনের শেডেও লাগানো হচ্ছে বড় বড় পোস্টার। পোস্টারে বিন্দুবালার বিশাল ছবি — মুখে হাসি, কপালে বড়সড় খয়েরী টীপ, হাতে রুদ্রাক্ষের মালা। নিচে লেখা:
“মা বিন্দুবালা দেবী — আপনার সেবায়, আপনার পাশে। গণ একতা পার্টি। সিম্বল: ঢোল”
অংশুমান একটা স্করপিওর পাশে দাঁড়িয়ে সব তদারকি করছিল। তার মুখ গম্ভীর। পুলিশের ইউনিফর্ম না পরলেও তার উপস্থিতি দেখে স্থানীয় লোকজন বুঝতে পারছিল — এটা সাধারণ প্রচার নয়।
অন্যদিকে, বেহালার বিভিন্ন বস্তি ও নিম্নবিত্ত এলাকায় মনোজ, রমেশ ও মন্টু বাড়ি বাড়ি ঘুরে ফান্ড কালেক্ট করা শুরু করেছে।
মনোজ একটা পুরনো বাড়ির দরজায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করছে,
“মা বিন্দুবালার জন্য চাঁদা দিন! পাঁচ টাকা, দশ টাকা, যা পারেন। মা আপনাদের ভালো রাখবেন!”
অনেক বাড়িতে লোকজন ভয়ে ভয়ে টাকা দিচ্ছে। কেউ কেউ দরজা খুলে বলছে, “ভাই, আমাদের তো খেতে পাই না, চাঁদা দেব কী?”
রমেশ তখন হাসি মুখে বলছে, “মায়ের আশীর্বাদ পেলে সব ঠিক হয়ে যাবে। না দিলে কিন্তু পরে সমস্যা হতে পারে।”
মন্টু একটু বেশি আগ্রাসী। সে একটা চায়ের দোকানদারের কাছে গিয়ে বলল,
“দাদা, দিন পাঁচশো টাকা। মা বলেছে, যারা সাহায্য করবে তাদের ব্যবসা ভালো চলবে।”
একই সময়ে, কালু তার দলবল নিয়ে বড় বড় ব্যবসায়ীদের অফিসে ঘুরছে।
প্রথমে গেলেন একজন মার্বেল ব্যবসায়ীর কাছে। কালু হাসি মুখে বলল,
“স্যার, মা বিন্দুবালা নির্দল লড়ছেন। আপনাদের মতো সম্মানী ব্যবসায়ীদের সাহায্য চাই। পঞ্চাশ হাজার দিলে মা খুব খুশি হবেন।”
ব্যবসায়ী প্রথমে ইতস্তত করলে কালু হাসি মুখে বলল,
“স্যার, আপনার গোডাউনে তো প্রায়ই পুলিশ আসে। মা বললে সেসব সমস্যা অনেক কমে যাবে।”
ব্যবসায়ী মুখ শুকিয়ে টাকা দিয়ে দিলেন।
কালু পরের টার্গেটে যাওয়ার আগে তার সঙ্গীকে বলল,
“যারা টাকা দিতে চায় না, তাদের নাম লিখে রাখ। পরে দেখা যাবে।”
বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামছে।
অংশুমান গাড়িতে বসে সবকিছু মনিটর করছে। তার মোবাইলে রুবিনার মেসেজ এসেছে — “কি করছো?”
আর অন্যদিকে বিন্দুবালার ফোন — "সন্ধ্যেবেলা একবার আমার বাড়িতে আয়, প্রচার কতদুর এগোলো তাই নিয়ে কথা হবে।”


![[+]](https://xossipy.com/themes/sharepoint/collapse_collapsed.png)