26-04-2026, 12:01 AM
পর্ব ১৩
হাসপাতালের ইমার্জেন্সি গেট।
গাড়ি থামতেই রাতুল, রিয়া আর আরজুদা বেগম হুড়মুড় করে নামল। আরজুদা বেগমের পা কাঁপছে, রিয়া তাকে ধরে আছে। তিনজনের চোখে-মুখে আতঙ্ক।
ভেতরে ঢুকেই আরজুদা বেগম রিসেপশনের নার্সের দিকে ছুটে গেলেন। গলা দিয়ে কথা বের হচ্ছে না, কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। “আমার... আমার স্বামী... রহমান... কোথায় আমার স্বামী?”
রাতুল সামলে নিয়ে নার্সকে জিজ্ঞেস করল, “সিস্টার, রহমান নামে কোনো পেশেন্ট কি ভর্তি হয়েছেন? একটু আগে ফোন এসেছিল, আইসিইউতে আছে বলল।”
নার্স কম্পিউটারে চেক করে শান্ত গলায় বলল, “জি, রহমান মিয়া। দোতলায়, ২০৮ নম্বর কেবিন। আপনারা যান।”
‘দোতলা’ শব্দটা শুনেই তিনজন সিঁড়ির দিকে দৌড় দিল। লিফটের জন্য অপেক্ষা করার সময় নেই।
২০৮ নম্বর কেবিনের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই তিনজনের পৃথিবী থমকে গেল।
সাদা বিছানায় শোয়া একটা নিথর দেহ। মুখটা সাদা কাপড় দিয়ে ঢাকা। পাশে মনিটরটা নীরব, লাল রেখাটা সোজা হয়ে আছে।
আরজুদা বেগম “না...” বলে একটা অস্ফুট চিৎকার করে রিয়ার গায়ে ঢলে পড়লেন। রিয়া নিজেও দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না। রাতুল শক্ত করে তার কাঁধ চেপে ধরল।
ঠিক তখনই একজন ডাক্তার ভেতরে ঢুকলেন। তিনজনের মুখের দিকে তাকিয়ে ভারী গলায় বললেন, “I am so sorry. We tried our best. উনি হেভি ডোজ নিয়েছিলেন। ওভারডোজ। উনার বয়স আর শরীর... এই ধরনের ড্রাগস সহ্য করতে পারেনি। কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়ে গেছে।”
‘ড্রাগস’ শব্দটা কানে যেতেই আরজুদা বেগম বুক চাপড়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন। “ওগো... তুমি এসব কী করতে গেলে? আমাকে একা ফেলে...”
রিয়ার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। বাবা... ড্রাগস... ওভারডোজ? এটা কীভাবে সম্ভব?
কেবিনের বাতাস ভারী হয়ে ওঠার মুহূর্তেই দরজায় দুজন পুলিশ অফিসার এসে দাঁড়াল। তাদের মাঝখানে হাতকড়া পরা অবস্থায় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে হরিশ।
একজন অফিসার সামনে এগিয়ে এসে রিয়ার দিকে তাকালেন, “আপনি রিয়া? রহমান মিয়ার মেয়ে?”
রিয়া ঘোরের মধ্যে মাথা নাড়ল।
অফিসার হরিশের দিকে ইশারা করে বললেন, “আপনার বাবা মারা যাওয়ার সময় উনার সাথেই ছিলেন। আমরা অনেক দিন ধরে এই লোকটাকে খুঁজছি। লোকাল মাদক ব্যবসায়ী। এর আগেও একজনের মৃত্যু হয়েছে ওর সাপ্লাই করা ড্রাগসে। আজ হাতেনাতে ধরেছি।”
কথাগুলো শুনে রিয়ার মাথায় রক্ত উঠে গেল। চোখের সামনে ভেসে উঠল কাল রাতের ছাদের দৃশ্য, হরিশের নোংরা চুমু, দুপুরে সোফায় বসে বলা জঘন্য কথাগুলো, আর বাবাকে নিয়ে তার শয়তানি প্ল্যান।
সব রাগ, ঘৃণা, শোক একসাথে বিস্ফোরিত হলো। রিয়া বিদ্যুৎবেগে ছুটে গিয়ে হরিশের সামনে দাঁড়াল। আর কিছু না ভেবে সর্বশক্তি দিয়ে কষিয়ে একটা চড় মারল হরিশের গালে।
ঠাস!
পুরো কেবিন কেঁপে উঠল শব্দে।
“আপনার জন্য! হ্যাঁ, শুধু আপনার জন্য আমার বাবা মারা গেছে! আপনি একটা খুনি! এই মুখ আর কোনোদিন আমাকে দেখাবেন না!” রিয়া চিৎকার করে কাঁদতে লাগল।
হরিশ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। গালে পাঁচ আঙুলের দাগ বসে গেছে। সে একটা কথাও বলল না। কোনো প্রতিবাদ, কোনো অজুহাত—কিছুই না। শুধু মেঝের দিকে তাকিয়ে রইল।
পুলিশ অফিসাররা হরিশের হাত ধরে টেনে বাইরে নিয়ে গেল। “চলুন। আপনার খেলা শেষ।”
হরিশকে নিয়ে যাওয়ার পর রিয়া যেন একেবারে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। সে হাঁটু গেড়ে ফ্লোরে বসে পড়ল।
রাতুল ছুটে এসে তাকে দুহাতে বুকের মধ্যে টেনে নিল। রিয়া রাতুলের শার্ট খামচে ধরে বাচ্চাদের মতো ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল। তার কান্নায় মিশে আছে বাবাকে হারানোর শোক, হরিশের প্রতি তীব্র ঘৃণা, আর নিজের পেটের বাচ্চাটার ভবিষ্যৎ নিয়ে এক অজানা আতঙ্ক।
আরজুদা বেগম স্বামীর নিথর দেহের পাশে বসে আছেন। তার চোখের পানি শুকিয়ে গেছে, শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছেন সাদা কাপড়টার দিকে।
কেবিনের ভেতর শুধু তিনজন মানুষের নিঃশব্দ হাহাকার।
হাসপাতালের ইমার্জেন্সি গেট।
গাড়ি থামতেই রাতুল, রিয়া আর আরজুদা বেগম হুড়মুড় করে নামল। আরজুদা বেগমের পা কাঁপছে, রিয়া তাকে ধরে আছে। তিনজনের চোখে-মুখে আতঙ্ক।
ভেতরে ঢুকেই আরজুদা বেগম রিসেপশনের নার্সের দিকে ছুটে গেলেন। গলা দিয়ে কথা বের হচ্ছে না, কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। “আমার... আমার স্বামী... রহমান... কোথায় আমার স্বামী?”
রাতুল সামলে নিয়ে নার্সকে জিজ্ঞেস করল, “সিস্টার, রহমান নামে কোনো পেশেন্ট কি ভর্তি হয়েছেন? একটু আগে ফোন এসেছিল, আইসিইউতে আছে বলল।”
নার্স কম্পিউটারে চেক করে শান্ত গলায় বলল, “জি, রহমান মিয়া। দোতলায়, ২০৮ নম্বর কেবিন। আপনারা যান।”
‘দোতলা’ শব্দটা শুনেই তিনজন সিঁড়ির দিকে দৌড় দিল। লিফটের জন্য অপেক্ষা করার সময় নেই।
২০৮ নম্বর কেবিনের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই তিনজনের পৃথিবী থমকে গেল।
সাদা বিছানায় শোয়া একটা নিথর দেহ। মুখটা সাদা কাপড় দিয়ে ঢাকা। পাশে মনিটরটা নীরব, লাল রেখাটা সোজা হয়ে আছে।
আরজুদা বেগম “না...” বলে একটা অস্ফুট চিৎকার করে রিয়ার গায়ে ঢলে পড়লেন। রিয়া নিজেও দাঁড়িয়ে থাকতে পারছে না। রাতুল শক্ত করে তার কাঁধ চেপে ধরল।
ঠিক তখনই একজন ডাক্তার ভেতরে ঢুকলেন। তিনজনের মুখের দিকে তাকিয়ে ভারী গলায় বললেন, “I am so sorry. We tried our best. উনি হেভি ডোজ নিয়েছিলেন। ওভারডোজ। উনার বয়স আর শরীর... এই ধরনের ড্রাগস সহ্য করতে পারেনি। কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়ে গেছে।”
‘ড্রাগস’ শব্দটা কানে যেতেই আরজুদা বেগম বুক চাপড়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন। “ওগো... তুমি এসব কী করতে গেলে? আমাকে একা ফেলে...”
রিয়ার পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। বাবা... ড্রাগস... ওভারডোজ? এটা কীভাবে সম্ভব?
কেবিনের বাতাস ভারী হয়ে ওঠার মুহূর্তেই দরজায় দুজন পুলিশ অফিসার এসে দাঁড়াল। তাদের মাঝখানে হাতকড়া পরা অবস্থায় মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে হরিশ।
একজন অফিসার সামনে এগিয়ে এসে রিয়ার দিকে তাকালেন, “আপনি রিয়া? রহমান মিয়ার মেয়ে?”
রিয়া ঘোরের মধ্যে মাথা নাড়ল।
অফিসার হরিশের দিকে ইশারা করে বললেন, “আপনার বাবা মারা যাওয়ার সময় উনার সাথেই ছিলেন। আমরা অনেক দিন ধরে এই লোকটাকে খুঁজছি। লোকাল মাদক ব্যবসায়ী। এর আগেও একজনের মৃত্যু হয়েছে ওর সাপ্লাই করা ড্রাগসে। আজ হাতেনাতে ধরেছি।”
কথাগুলো শুনে রিয়ার মাথায় রক্ত উঠে গেল। চোখের সামনে ভেসে উঠল কাল রাতের ছাদের দৃশ্য, হরিশের নোংরা চুমু, দুপুরে সোফায় বসে বলা জঘন্য কথাগুলো, আর বাবাকে নিয়ে তার শয়তানি প্ল্যান।
সব রাগ, ঘৃণা, শোক একসাথে বিস্ফোরিত হলো। রিয়া বিদ্যুৎবেগে ছুটে গিয়ে হরিশের সামনে দাঁড়াল। আর কিছু না ভেবে সর্বশক্তি দিয়ে কষিয়ে একটা চড় মারল হরিশের গালে।
ঠাস!
পুরো কেবিন কেঁপে উঠল শব্দে।
“আপনার জন্য! হ্যাঁ, শুধু আপনার জন্য আমার বাবা মারা গেছে! আপনি একটা খুনি! এই মুখ আর কোনোদিন আমাকে দেখাবেন না!” রিয়া চিৎকার করে কাঁদতে লাগল।
হরিশ মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল। গালে পাঁচ আঙুলের দাগ বসে গেছে। সে একটা কথাও বলল না। কোনো প্রতিবাদ, কোনো অজুহাত—কিছুই না। শুধু মেঝের দিকে তাকিয়ে রইল।
পুলিশ অফিসাররা হরিশের হাত ধরে টেনে বাইরে নিয়ে গেল। “চলুন। আপনার খেলা শেষ।”
হরিশকে নিয়ে যাওয়ার পর রিয়া যেন একেবারে ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেল। সে হাঁটু গেড়ে ফ্লোরে বসে পড়ল।
রাতুল ছুটে এসে তাকে দুহাতে বুকের মধ্যে টেনে নিল। রিয়া রাতুলের শার্ট খামচে ধরে বাচ্চাদের মতো ফুঁপিয়ে কাঁদতে লাগল। তার কান্নায় মিশে আছে বাবাকে হারানোর শোক, হরিশের প্রতি তীব্র ঘৃণা, আর নিজের পেটের বাচ্চাটার ভবিষ্যৎ নিয়ে এক অজানা আতঙ্ক।
আরজুদা বেগম স্বামীর নিথর দেহের পাশে বসে আছেন। তার চোখের পানি শুকিয়ে গেছে, শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছেন সাদা কাপড়টার দিকে।
কেবিনের ভেতর শুধু তিনজন মানুষের নিঃশব্দ হাহাকার।


![[+]](https://xossipy.com/themes/sharepoint/collapse_collapsed.png)