21-04-2026, 06:41 PM
এদের মধ্যে মিলির সাথে আমার বন্ধুত্ব প্রথম গভীর হয়। আমি কিছুটা নিজেকে ঘুটিয়ে রাখলেও সে ছিল মিশুক,আমাকে ওর সাথে খোলামেলা করে নিয়েছিল খুব সহজে। তাকে নিয়ে এবার কিছু বলা যাক।
মিলির পুরো নাম ছিল মিলি আক্তার। বয়স ১৯। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষ। তার জন্ম ঢাকার পুরনো শহরে, একটা ছোট্ট দোতলা বাড়িতে। বাবা মারা গিয়েছিলেন যখন সে মাত্র ৯ বছরের। বাবা ছিলেন কলেজ শিক্ষক — শান্ত, নরম স্বভাবের মানুষ। তার মৃত্যুর পর মিলির জীবনটা যেন একটা অসমাপ্ত গল্পের মতো হয়ে গিয়েছিল। মা একা সব সামলাতেন। মা ছিলেন গৃহিণী, কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর ছোটখাটো একটা সেলাইয়ের কাজ শুরু করেছিলেন বাড়িতে বসে। সেই টাকায় মিলির পড়াশোনা চলত।
মিলি ছোটবেলা থেকেই খুব চুপচাপ ছিল। কলেজে সবাই তাকে “নরম মেয়ে” বলে ডাকত। তার লম্বা কুচকুচে কালো চুল কোমর ছুঁয়ে নামত। ফর্সা গায়ের রং ছিল যেন দুধে গোলাপি আলতা মেশানো। চোখ দুটো বড় বড়, পাতলা ভুরু, নাক সোজা, ঠোঁট পুরু কিন্তু নরম। হাসলে বাঁ গালে ছোট্ট একটা টোল পড়ত। শরীরটা ছিল স্লিম কিন্তু স্বাভাবিকভাবে ভরাট — পাতলা কোমর, গোলাকার নিতম্ব, লম্বা পা। কিন্তু সে কখনো নিজেকে সুন্দর বলে মনে করত না। বাবার মৃত্যুর পর সে নিজেকে একটা “দায়িত্ব” মনে করত — মায়ের একমাত্র সন্তান, তাকে দেখতে হবে। তাই সে পড়াশোনায় খুব মনোযোগী ছিল। রাত জেগে পড়ত, মায়ের সাথে রান্না করত, বাড়ির কাজ করত।
তার শখ ছিল বই পড়া। বিশেষ করে রোমান্টিক উপন্যাস আর কবিতা। ঘরের এক কোণে একটা ছোট্ট তাক ছিল — সেখানে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, হুমায়ূন আহমেদের বই সাজানো। সে প্রায়ই বলত, “বই পড়লে মনে হয় আমি একা নই।” তার আরেকটা শখ ছিল ছবি আঁকা। ছোট ছোট স্কেচবুকে সে ফুল, পাখি, আর কখনো কখনো একটা অচেনা ছেলের মুখ আঁকত — কিন্তু কাউকে দেখাত না।
মায়ের সাথে তার সম্পর্ক ছিল খুব গভীর কিন্তু কষ্টের। মা প্রায়ই বলতেন, “তোর বাবা থাকলে তোকে এত কষ্ট করতে হতো না।” এই কথাগুলো মিলির বুকে চাপা দিত। সে কখনো কাঁদত না সামনে, কিন্তু রাতে বিছানায় শুয়ে চুপচাপ চোখের জল ফেলত। তার একটা বড় ভয় ছিল — ভবিষ্যতে কী হবে? পড়াশোনা শেষ করে চাকরি পাবে তো? মাকে একা ফেলে যেতে পারবে না। এই ভয়টা তাকে সবসময় চেপে রাখত।
কলেজে আসার পর তার জীবনটা একটু বদলাতে শুরু করেছিল। প্রথম দিনই সে আমাকে দেখেছিল। সেই বেঞ্চে বসে বই উল্টাতে উল্টাতে সে হেসে বলেছিল, “বসবে?” সেই থেকে আমাদের গ্রুপ তৈরি হল। মিলি ছিল গ্রুপের সবচেয়ে নরম সদস্য। সে কখনো জোরে হাসত না, কিন্তু তার হাসিতে সবাইকে টেনে নিত। ক্লাসে সে সবার নোট সংগ্রহ করত। আমার নোট যদি ভালো না হয়, সে নিজের নোটটা কপি করে দিত। “তোর জন্য করলাম,” বলে হাসত।
সন্ধ্যায় লাইব্রেরির পিছনে বা ক্যান্টিনে আমরা বসতাম। সে তার মায়ের কথা বলত। “মা আজ আবার বলছিল, তোর বিয়ে দিয়ে দেই। আমি বললাম, মা পড়াশোনা শেষ করি।” আমি শুধু শুনতাম। কখনো বলতাম, “তুমি যা চাও, তাই করবে। আমি আছি।” সে চোখ তুলে তাকাত। তার বড় বড় চোখে একটা কৃতজ্ঞতা ফুটে উঠত। “তুই ছাড়া আর কাউকে এসব বলি না রাহাত। তুই আমার সত্যিকারের বন্ধু।”
একদিন সে আমাকে তার বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিল। ছোট্ট বাড়ি, দোতলায় তার ঘর। ঘরটা ছিল খুব সাজানো — দেওয়ালে তার আঁকা ছবি, টেবিলে বইয়ের স্তূপ। মা চা দিয়ে গিয়েছিলেন। মা আমাকে দেখে হেসে বলেছিলেন, “মিলি তোমার কথা অনেক বলে। বলে তুমি খুব ভালো ছেলে।” মিলি লজ্জায় মাথা নিচু করেছিল। আমরা তার ঘরে বসে পড়াশোনা করেছিলাম। সে তার শৈশবের গল্প বলেছিল — বাবার সাথে কীভাবে পার্কে যেত, বাবা কীভাবে তাকে কবিতা শোনাত। কথা বলতে বলতে তার চোখে জল চিকচিক করেছিল। আমি কিছু বলিনি, শুধু পাশে বসে ছিলাম। সেই দিন থেকে তার বিশ্বাস আরও গভীর হয়েছিল।
সে প্রায়ই বলত, “তুই আমার জীবনের প্রথম বন্ধু যার কাছে আমি সব খুলে বলতে পারি।” আমরা গ্রুপে থাকলেও সে আলাদা করে আমার সাথে কথা বলত। কখনো ফোন করে বলত, “আজ মন খারাপ, একটু কথা বলবি?” আমি বলতাম, “অবশ্যই।” আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলতাম। সে তার স্বপ্নের কথা বলত — ইংরেজিতে মাস্টার্স করে শিক্ষক হবে, মাকে নিয়ে একটা ভালো বাড়িতে থাকবে। আমি তার স্বপ্নে সাথ দিতাম।
এভাবে ধীরে ধীরে মিলির সাথে আমার বন্ধুত্বটা একটা গভীর শেকড় গেড়ে বসেছিল। সে আমাকে তার জীবনের সব ছোট ছোট কথা বলত — কোন জামাটা পছন্দ করে না, কোন খাবার খেতে ভালো লাগে, কোন সিনেমা দেখলে কাঁদে। আমিও তাকে আমার ছোট ছোট কথা বলতাম। সে শুনত, হাসত, পরামর্শ দিত। আমরা ছয়জনের গ্রুপে থাকলেও মিলি ছিল আমার প্রথম বন্ধু। তার সাথে কথা বললে মনে হতো পৃথিবীটা একটু নরম হয়ে যায়।
সে কখনো আমাকে “রাহাত ভাই” বলে ডাকত না। শুধু “রাহাত” বলত। আর কখনো কখনো “তুই” বলে খুনসুটি করত। “তুই তো আমাদের মেয়ে বন্ধু!” বলে হাসত। আমাকে নিয়ে মজা করত, কিন্তু সেই মজার মাঝেও একটা গভীর বিশ্বাস ছিল।
এই ছিল মিলি। নরম, দায়িত্বশীল, একাকী কিন্তু হাসিমুখে সব লুকিয়ে রাখা একটা মেয়ে। আর আমি ছিলাম তার প্রথম সত্যিকারের বন্ধু।
মিলির পুরো নাম ছিল মিলি আক্তার। বয়স ১৯। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষ। তার জন্ম ঢাকার পুরনো শহরে, একটা ছোট্ট দোতলা বাড়িতে। বাবা মারা গিয়েছিলেন যখন সে মাত্র ৯ বছরের। বাবা ছিলেন কলেজ শিক্ষক — শান্ত, নরম স্বভাবের মানুষ। তার মৃত্যুর পর মিলির জীবনটা যেন একটা অসমাপ্ত গল্পের মতো হয়ে গিয়েছিল। মা একা সব সামলাতেন। মা ছিলেন গৃহিণী, কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর ছোটখাটো একটা সেলাইয়ের কাজ শুরু করেছিলেন বাড়িতে বসে। সেই টাকায় মিলির পড়াশোনা চলত।
মিলি ছোটবেলা থেকেই খুব চুপচাপ ছিল। কলেজে সবাই তাকে “নরম মেয়ে” বলে ডাকত। তার লম্বা কুচকুচে কালো চুল কোমর ছুঁয়ে নামত। ফর্সা গায়ের রং ছিল যেন দুধে গোলাপি আলতা মেশানো। চোখ দুটো বড় বড়, পাতলা ভুরু, নাক সোজা, ঠোঁট পুরু কিন্তু নরম। হাসলে বাঁ গালে ছোট্ট একটা টোল পড়ত। শরীরটা ছিল স্লিম কিন্তু স্বাভাবিকভাবে ভরাট — পাতলা কোমর, গোলাকার নিতম্ব, লম্বা পা। কিন্তু সে কখনো নিজেকে সুন্দর বলে মনে করত না। বাবার মৃত্যুর পর সে নিজেকে একটা “দায়িত্ব” মনে করত — মায়ের একমাত্র সন্তান, তাকে দেখতে হবে। তাই সে পড়াশোনায় খুব মনোযোগী ছিল। রাত জেগে পড়ত, মায়ের সাথে রান্না করত, বাড়ির কাজ করত।
তার শখ ছিল বই পড়া। বিশেষ করে রোমান্টিক উপন্যাস আর কবিতা। ঘরের এক কোণে একটা ছোট্ট তাক ছিল — সেখানে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, হুমায়ূন আহমেদের বই সাজানো। সে প্রায়ই বলত, “বই পড়লে মনে হয় আমি একা নই।” তার আরেকটা শখ ছিল ছবি আঁকা। ছোট ছোট স্কেচবুকে সে ফুল, পাখি, আর কখনো কখনো একটা অচেনা ছেলের মুখ আঁকত — কিন্তু কাউকে দেখাত না।
মায়ের সাথে তার সম্পর্ক ছিল খুব গভীর কিন্তু কষ্টের। মা প্রায়ই বলতেন, “তোর বাবা থাকলে তোকে এত কষ্ট করতে হতো না।” এই কথাগুলো মিলির বুকে চাপা দিত। সে কখনো কাঁদত না সামনে, কিন্তু রাতে বিছানায় শুয়ে চুপচাপ চোখের জল ফেলত। তার একটা বড় ভয় ছিল — ভবিষ্যতে কী হবে? পড়াশোনা শেষ করে চাকরি পাবে তো? মাকে একা ফেলে যেতে পারবে না। এই ভয়টা তাকে সবসময় চেপে রাখত।
কলেজে আসার পর তার জীবনটা একটু বদলাতে শুরু করেছিল। প্রথম দিনই সে আমাকে দেখেছিল। সেই বেঞ্চে বসে বই উল্টাতে উল্টাতে সে হেসে বলেছিল, “বসবে?” সেই থেকে আমাদের গ্রুপ তৈরি হল। মিলি ছিল গ্রুপের সবচেয়ে নরম সদস্য। সে কখনো জোরে হাসত না, কিন্তু তার হাসিতে সবাইকে টেনে নিত। ক্লাসে সে সবার নোট সংগ্রহ করত। আমার নোট যদি ভালো না হয়, সে নিজের নোটটা কপি করে দিত। “তোর জন্য করলাম,” বলে হাসত।
সন্ধ্যায় লাইব্রেরির পিছনে বা ক্যান্টিনে আমরা বসতাম। সে তার মায়ের কথা বলত। “মা আজ আবার বলছিল, তোর বিয়ে দিয়ে দেই। আমি বললাম, মা পড়াশোনা শেষ করি।” আমি শুধু শুনতাম। কখনো বলতাম, “তুমি যা চাও, তাই করবে। আমি আছি।” সে চোখ তুলে তাকাত। তার বড় বড় চোখে একটা কৃতজ্ঞতা ফুটে উঠত। “তুই ছাড়া আর কাউকে এসব বলি না রাহাত। তুই আমার সত্যিকারের বন্ধু।”
একদিন সে আমাকে তার বাড়িতে নিয়ে গিয়েছিল। ছোট্ট বাড়ি, দোতলায় তার ঘর। ঘরটা ছিল খুব সাজানো — দেওয়ালে তার আঁকা ছবি, টেবিলে বইয়ের স্তূপ। মা চা দিয়ে গিয়েছিলেন। মা আমাকে দেখে হেসে বলেছিলেন, “মিলি তোমার কথা অনেক বলে। বলে তুমি খুব ভালো ছেলে।” মিলি লজ্জায় মাথা নিচু করেছিল। আমরা তার ঘরে বসে পড়াশোনা করেছিলাম। সে তার শৈশবের গল্প বলেছিল — বাবার সাথে কীভাবে পার্কে যেত, বাবা কীভাবে তাকে কবিতা শোনাত। কথা বলতে বলতে তার চোখে জল চিকচিক করেছিল। আমি কিছু বলিনি, শুধু পাশে বসে ছিলাম। সেই দিন থেকে তার বিশ্বাস আরও গভীর হয়েছিল।
সে প্রায়ই বলত, “তুই আমার জীবনের প্রথম বন্ধু যার কাছে আমি সব খুলে বলতে পারি।” আমরা গ্রুপে থাকলেও সে আলাদা করে আমার সাথে কথা বলত। কখনো ফোন করে বলত, “আজ মন খারাপ, একটু কথা বলবি?” আমি বলতাম, “অবশ্যই।” আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলতাম। সে তার স্বপ্নের কথা বলত — ইংরেজিতে মাস্টার্স করে শিক্ষক হবে, মাকে নিয়ে একটা ভালো বাড়িতে থাকবে। আমি তার স্বপ্নে সাথ দিতাম।
এভাবে ধীরে ধীরে মিলির সাথে আমার বন্ধুত্বটা একটা গভীর শেকড় গেড়ে বসেছিল। সে আমাকে তার জীবনের সব ছোট ছোট কথা বলত — কোন জামাটা পছন্দ করে না, কোন খাবার খেতে ভালো লাগে, কোন সিনেমা দেখলে কাঁদে। আমিও তাকে আমার ছোট ছোট কথা বলতাম। সে শুনত, হাসত, পরামর্শ দিত। আমরা ছয়জনের গ্রুপে থাকলেও মিলি ছিল আমার প্রথম বন্ধু। তার সাথে কথা বললে মনে হতো পৃথিবীটা একটু নরম হয়ে যায়।
সে কখনো আমাকে “রাহাত ভাই” বলে ডাকত না। শুধু “রাহাত” বলত। আর কখনো কখনো “তুই” বলে খুনসুটি করত। “তুই তো আমাদের মেয়ে বন্ধু!” বলে হাসত। আমাকে নিয়ে মজা করত, কিন্তু সেই মজার মাঝেও একটা গভীর বিশ্বাস ছিল।
এই ছিল মিলি। নরম, দায়িত্বশীল, একাকী কিন্তু হাসিমুখে সব লুকিয়ে রাখা একটা মেয়ে। আর আমি ছিলাম তার প্রথম সত্যিকারের বন্ধু।


![[+]](https://xossipy.com/themes/sharepoint/collapse_collapsed.png)