Thread Rating:
  • 3 Vote(s) - 2.33 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
Adultery জুলাই আন্দোলন
#2
**জুলাই আন্দোলন**
**আপডেট ১: ৫ই আগস্ট**

৫ই আগস্ট।

সকাল থেকেই দেশের আকাশে যেন এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে এসেছিল। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। খবরটা ছড়িয়ে পড়তেই বাতাসে যেন আগুন ধরে গেল। বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা ক্ষোভ, অত্যাচার আর অপমানের আগুন এক নিমেষে ফেটে বেরিয়ে এল।

রাস্তায় রাস্তায় উন্মত্ত জনতা। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে একের পর এক হামলা শুরু হয়ে গেল। যারা গত পনেরো বছর ধরে ক্ষমতার ছায়ায় বড় বড় বাড়ি, গাড়ি, সম্পত্তি গড়ে তুলেছিল, আজ তাদেরই সেই সম্পদ আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে যাচ্ছিল। লাঠি, রড, ইট—যা হাতের কাছে পাওয়া যাচ্ছিল, তাই দিয়েই ভাঙচুর চলছিল। অনেকের বাড়ির সামনে জ্বলছিল আগুন। ধোঁয়ায় আকাশ কালো হয়ে উঠেছিল। চিৎকার, কান্না আর রাগের এক অদ্ভুত মিশ্রণে ভরে উঠেছিল পুরো দেশ।

যারা কাল পর্যন্তও “নেতা” বলে সম্মান পেত, আজ তারাই হয়ে উঠেছিল শিকার। কেউ পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছিল, কেউ বা বাড়ির ভিতর লুকিয়ে কাঁপছিল। ক্ষমতার স্বাদ যত মধুর ছিল, তার পতন ততটাই নিষ্ঠুর হয়ে উঠছিল।


টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকায় নবনির্বাচিত পৌর কমিশনার কুদ্দুস মিয়ার বড় ডুপ্লেক্স বাড়িটা এখন নীরব ও অন্ধকার। মাত্র কয়েকদিন আগেও যেখানে নেতা-কর্মীদের আনাগোনা, হাসি-গল্প আর রাজনৈতিক আলোচনা চলত, আজ সেখানে শুধু ভয় আর অনিশ্চয়তার ছায়া।

কুদ্দুস মিয়া অবৈধ টাকায় যে বিশাল সম্পদ গড়ে তুলেছিলেন, সেই বাড়ি, গাড়ি, জমি—সবকিছু এখন শূন্যের মতো মনে হচ্ছিল। তিনি নিজে আগেই পালিয়ে গিয়েছিলেন। এখন শুধু তার স্ত্রী রেহানা বেগম, ছেলে রাজীবের পরিবার আর দুটি নাতনি এই বাড়িতে আটকে পড়ে ছিল।

রাত প্রায় সাড়ে এগারোটা। মির্জাপুর রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে আলো কম। দূরে কোথাও থেকে ভেসে আসছে উত্তেজিত জনতার চিৎকার। রাজীব দাঁড়িয়ে আছে ট্রেনের দরজায়। তার চোখে অস্থিরতা, মুখে চিন্তার ভাঁজ।

সামনে দাঁড়িয়ে তার স্ত্রী চৈতি। বয়স প্রায় ২৬। সুন্দরী, শান্ত চেহারা। কিন্তু আজ তার চোখ দুটো লাল। কান্না চেপে রাখতে গিয়ে ঠোঁট কাঁপছে। তার পাশে রেহানা বেগম। বয়স্ক মহিলা অঝরে কাঁদছেন। দু’হাতে মুখ ঢেকে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছেন তিনি।

রাজীবের দুই মেয়ে—ঝুমু (৬) আর ঐশী (৩)—ঘুমিয়ে আছে বাড়িতে। তাদের এই দৃশ্য দেখানো হয়নি। রাজীব চায়নি তার মেয়েরা দেখুক বাবা পালিয়ে যাচ্ছে।

রাজীব প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা লোকনাথের দিকে তাকাল। লোকনাথ বাসার কাজের লোক। বিশাল শরীর, কালো কুচকুচে গায়ের রং, বয়স পঁয়ত্রিশ। তার পাশে দাঁড়িয়ে তার স্ত্রী সীমা—রং একইরকম কালো, চোখে উদ্বেগ। লোকনাথের সাথে সীমার বিয়ে হয়েছে মাত্র দু’বছর। এখনো তাদের কোনো সন্তান হয়নি। লাল পানির নেশার কারণে দুজনের মাঝে প্রায়ই ঝগড়া লেগে থাকে।

রাজীব লোকনাথের কাঁধে হাত রেখে নিচু গলায় বলল,
“আমি কয়েকদিনের জন্য লুকিয়ে থাকব। পরিবেশ একটু স্বাভাবিক হলে আবার ফিরে আসব। তুই আমার মা, বউ আর দুটো মেয়েকে দেখে রাখিস ভাই। কোনো বিপদ হলে আমাকে ফোন করবি।”

লোকনাথ মাথা নেড়ে গম্ভীর গলায় বলল,
“আচ্ছা ভাই। আপনি চিন্তা কইরেন না। আমি আছি।”

রাজীব চৈতির দিকে তাকাল। চৈতি কিছু বলতে পারছে না। শুধু চোখ দিয়ে তাকিয়ে আছে। তার চোখে ভয়, দুঃখ, রাগ—সব মিলেমিশে এক অদ্ভুত অনুভূতি। বাইরে থেকে সে শক্ত দেখালেও, ভেতরে ভেঙে পড়ছে সে। রাজীব তার হাতটা শক্ত করে চেপে ধরল একবার, তারপর ছাড়ল।

রেহানা বেগম আরও জোরে কেঁদে উঠলেন।
“বাবা রে… আমাকে ফেলে কই যাস তুই?”

রাজীব মায়ের মাথায় হাত বুলিয়ে বলল, “মা, কয়েকদিন পরেই ফিরব। তুমি শান্ত থেকো।”

তখনই ট্রেনটা হুইসেল দিয়ে ধীরে ধীরে ছুটতে শুরু করল।

রাজীব ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে থেকে হাত নাড়ল। তার চোখ দুটো চৈতি আর মায়ের দিকে আটকে আছে। ট্রেন যত দূরে যাচ্ছে, চৈতির অবয়ব ততই ঝাপসা হয়ে আসছে। প্ল্যাটফর্মের আলো, রেহানা বেগমের কান্না, লোকনাথের বিশাল কালো শরীর—সবকিছু ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসতে লাগল।

শেষ পর্যন্ত ট্রেনটা একটা বাঁক নিয়ে অন্ধকারে মিলিয়ে গেল।

চৈতি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার চোখের সামনে থেকে স্বামী অদৃশ্য হয়ে গেল। বুকের ভিতরটা যেন ফাঁকা হয়ে গেল এক নিমেষে।
[+] 5 users Like Mr. X2002's post
Like Reply


Messages In This Thread
RE: জুলাই আন্দোলন - by Mr. X2002 - Yesterday, 11:34 PM



Users browsing this thread: Little finger, Punit Kumar, 4 Guest(s)