(১০১)
মায়াজাল
কেউ জানে না আমার কেন এমন হলো।
কেন আমার দিন কাটে না রাত কাটে না
রাত কাটে তো ভোর দেখি না
কেন আমার হাতের মাঝে হাত থাকে না;
কেউ জানে না।
নষ্ট রাখীর কষ্ট নিয়ে অতোটা পথ একলা এলাম
পেছন থেকে কেউ বলেনি করুণ পথিক
দুপুর রোদে গাছের নিচে একটু বসে জিরিয়ে নিও,
কেউ বলেনি ভালো থেকো সুখেই থেকো!
যুগল চোখে জলের ভাষায়, আসার সময় কেউ বলেনি
মাথার কসম আবার এসো।
জন্মাবধি ভেতরে এক রঙিন পাখি কেঁদেই গেলো
শুনলো না কেউ ধ্রুপদী ডাক,
চৈত্রাগুনে জ্বলে গেলো আমার বুকের গেরস্থালি
বললো না কেউ; তরুণ তাপস, এই নে চারু শীতল কলস।
লণ্ডভণ্ড হয়ে গেলাম তবু এলাম।
ক্যাসার তার শাবক নিয়ে যেমন করে বিপদ পেরোয়
আমিও ঠিক তেমনি করে সত্যতা আর শুদ্ধতাকে বুকে নিয়েই
দুঃসময়ে এতোটা পথ একলা এলাম স্পর্শহীন।
কেউ ডাকেনি তবু এলাম,
বলতে এলাম—
ভালোবাসি।
**********+++*********
প্রিয় স্বামি, কতদিন তোমার কোনো স্পর্শ পাইনা। তোমার মায়াবি চাহনি দেখিনা। তোমায় ভালোবাসি, কথাটি বলা আর হয়না। জানিনা তুমি কেমন আছো আমায় ছেরে।
আজ ৩৩দিন ৬ঘন্ঠা চলছে তুমি আমায় ছেরে ভিন্ন এক জগতে। যেখানে কেউ একবার গেলে আর ফিরে আসেনা। থাকেনা কোনো যোগাযোগ। তবুও প্রতি রাতেই ঘুমে আমি তোমায় দেখি। তুমি আর আমি কত্ত ঘুরছি। কত্ত আনন্দ করছি। কত্ত কত্ত ভালোবাসছি তোমায়!
আচ্ছা স্বামি, তুমি স্বপ্ন দেখোনা? খুউব জানতে মন চাই। জানতে মন চাই তুমি কেমন স্বপ্ন দেখো। আমার মতই, নাকি অন্য কিছু?
আচ্ছা স্বামি, তোমার কি মনে আছে, আমাদের বিয়ের দিন---তোমরা বরযাত্রী আমাদের বাসায় আসার পর আমি আম্মু বলে বলে তোমায় এক পলক দেখবো বলে পাগল করে দিয়েছিলাম। আমাদের বিয়ের আগেই আমি তোমায় দেখেছিলাম।
ইশ, কি সুন্দর লাগছিলো জানো স্বামি, শেরওয়ানিটা যেন তোমার জন্যই বানানো হয়ছিলো। তোমায় এক পলক দেখার পর আমি নিজেকে কত করে যে আটকিয়ে রাখছিলাম জানো! আর কিছুক্ষণ তোমার সামনে থাকলেই তোমায় জড়িয়ে ধরতাম। হি হি হি। ভাগ্যিস আমায় সেখান থেকে সরানো হয়েছিলো।
জানো স্বামি, তোমার এই শেরওয়ানিটা আমাদের রুমের দেওয়ালে টাঙিয়ে রাখসি। শুয়ে শুয়ে আমি তোমায় দেখি। তুমি চব্বিশ ঘণ্ঠাই আমার সামনে থাকো। প্রতিদিন নামাজ পর আমি তোমায় পায়ের কাছে গিয়ে তোমার দুয়া নিয়েই দিন শুরু করি।
তোমার শেষ দিনের লিখা ছোট্ট চিঠিটা নিয়েই আমি ঘুমাই। তুমি এক লাইনে লিখে গিয়েছিলে চিঠিটা। আচ্ছা স্বামি, আমার কেন যেন এখনো মনে হয়, তুমি অনেক কিছুই বলতে চেয়েছিলা চিঠিতে। কিন্তু বলোনি। কেন বলোনি স্বামি?
মানুষ যেযাই বলুক, তুমি এক্সিডেন্ট করেছো। কিন্তু আমার মন বলে, তুমি এক্সিডেন্ট হয়েছো। নিজ থেকেই হয়েছো। ঠিক না স্বামি?
এমন কেন করলা স্বামি? এই দুনিয়ায় তুমি ছাড়া যে আমার আর কেউ নেই, এটা জানতে না? তবুও কেন আমায় ছেরে চলে গেলে? একা ফেলে? নিষ্ঠুর এই দুনিয়ায়? স্বামি জানো, আমি যখনি তোমায় লিখতে বসি, হাতে একটা তোয়েলে থাকে, লিখা শেষ হতে হতে হাতের তোয়েলেটা ভিজে যাই। তোমার সাথে কাটানো ৩মাস আমি এক শক্ত মানব ছিলাম। মনে হতো আমার দুনিয়া আমার সাথেই আছে।
তুমিই ছিলে আমার দুনিয়া। আজ আমার দুনিয়া আমার সাথে নেই। এর চেয়ে নিদারুণ কষ্ট আর কিছুকি আছে? জানা নেই। জানো স্বামি, এই ৩৩দিনে কমসে কম ১০০বার তোমার কাছে যেতে চেয়েছি, তোমার শাশুড়ির কারনে যেতে পারিনি। ৪বার হস্পিতালে ভর্তি হয়েছি। তবুও তোমার কাছে যাওয়ার সৌভাগ্য হইনি আমার। ডাক্তারেরা জানেইনা যে, আমার সুখ কোথায়।
স্বামি আরেকটা কথা, গত কাল সেবহান আংকেল এসেছিলো তোমার এক্সিডেন্টের ব্যাপারে তথ্য নিয়ে।
যেই ট্রাকগাড়ি তোমার দেহ চূর্ণবিচূর্ণ করে ফেলে পালিয়েছিলো, সেই ট্রাক মালিকের তথ্য পাইসে নাকি! স্বামি বিশ্বাস করো, আমি আংকেলকে বলে দিয়েছি, ঐ মালিক, সাথে ট্রাকের ড্রাইভারকে যেদিন কোর্টে তুলা হবে সেদিন যেন আমায় সেখানে থাকতে দেওয়া হয়।
আমি কি প্লান করেছি জানো স্বামি, ভেবেছি, একটা চাকু নিয়ে যাবো সাথে, ঐ দুই জানুয়ারকে সামনে দেখলেই পেটে চাকু ফুটাই দিব।
অবশ্য আমি পিস্টুলের ব্যাবস্থা করছিলাম। কিন্তু পরিচিত কাউকে পাইনি যে আমাকে একটা পিস্তুলের ব্যবস্থা করে দিবে। তাই চাকুতেই কাজ সেরে নিব। ভালো হবেনা স্বামি? হ্যা, জানি তুমিও চাও আমি ঐ জানুয়াকে এমন কস্ট দিই যে তোমাকে এতো কস্ট দিয়ে দুনিয়া থেকে বিদায় করেসে। ময়না তদন্তে তোমার কোনো অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি গো স্বামি, এমন ভাবে তোমাকে ঐ জানুয়ারটা কস্ট দিয়ে পিস্ট করেছে।
স্বামি, সেবহান আংকেল কদিন থেকেই বারবার একটা জিনিস কৌশলে জানতে চাচ্ছেন যে, তোমার এক্সিডেন্টের আগে কিংবা পরে তুমি বাসাই এমন কোনো কিছু করেছো যা দৃষ্টিকটু! কিংবা কোনো আচরণ!
আমি তোমার ভাঙা ল্যাপটপ আর ভাঙা ফোনের কথা আংকেলকে বলিনি। আমি কি ভুল করেছি? আমি কেন এই কথা কাউকে বলিনি জানো?
তোমার বাসা থেকে তোমার খবর পেয়ে সবাই এসেছিলো। ওরা কিংবা পুলিশের লোক যদি জানতো যে, তুমি সেদিনি তোমার ল্যাপটপ আর ফোন ছাদে ভেঙে ফেলে গেছিলে, তাহলে সবাই আমাদের সন্দেহ করতো। কিংবা হাজারো প্রশ্ন করো। তাই এই দুইটা জিনিসের কথা কাউকেও বলিনি।
ঠিক করিনি স্বামি, বলো?
আচ্ছা স্বামি, একটা প্রশ্ন সেদিন থেকেই আমার মাথায়, এমনকি তোমার শাশুড়ির মাথায় ও ঘুরছে-----তুমি তোমার এক্সিডেন্টের দিন তোমার কাজের ল্যাপটপ আর সখের ফোনটা কেন ভেঙে ছাদে ফেলে গেছিলে? তুমি আমার জীবন থেকে হারিয়ে গেছো, কিন্তু মনের ভেতর হাজারো প্রশ্ন তৈরি করে চলে গেছো।
আচ্ছা স্বামি, আমি যখন তোমায় স্বপ্নে দেখি, স্বপ্নে কথা বলি, তখনই তো আমার প্রশ্নের উত্তর গুলি দিতে পারো। দাওনা কেন? নাকি আমার উপর কোনো কারণে রেগে আছো?
স্বামি থাকো, আজ আর কথা না। তোমার শাশুড়ি ডাকে। অসুধ খেতে হবে। অহ কিসের অসুধ? বলবোনা। হি হি হি। তখন তুমি রাগ করবে যে। ওকে স্বামি বাবাই। কাল আবার কথা হবে। উম্মমাহ। লাভ ইউ।


![[+]](https://xossipy.com/themes/sharepoint/collapse_collapsed.png)