Thread Rating:
  • 41 Vote(s) - 3.66 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
Adultery বিপদের বন্ধু
#1
গল্প: বিপদের বন্ধু

অধ্যায় ১: বিশ্বাস থেকে অবিশ্বাস
ঢাকার ধানমন্ডির এক শান্ত, অভিজাত এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল ডুপ্লেক্স বাড়িটার সামনে আজ অস্বাভাবিক ভিড়। বাড়ির গেইট খোলা, ভেতরে কর্মচারীদের ফিসফাস, আর বারান্দায় দাঁড়িয়ে কিছু আত্মীয়-স্বজন। যেন কোনো অঘটন ঘটেছে।
ড্রয়িংরুমে দাঁড়িয়ে আছেন সফিক ইসলাম। বয়স ৬৬ হলেও তার কণ্ঠে এখনো সেই কঠোরতা, চোখে ব্যবসায়িক দৃঢ়তা। কিন্তু আজ তার চোখে অন্য কিছু—রাগ, হতাশা, আর এক ধরনের বিশ্বাসভঙ্গের তীব্র আঘাত।
তার সামনে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে রহমত মিয়া।
“তুই এটা করতে পারলি, রহমত?”—সফিকের গলা কাঁপছে, কিন্তু তাতে রাগের আগুন স্পষ্ট।
রহমত মাথা নিচু করে বলল, “বড় সাহেব, আমি কসম করে বলতেছি, আমি কিছু করি নাই…”
“চুপ!”—একটা বজ্রপাতের মতো শব্দ বের হলো সফিকের মুখ থেকে।
“আমারে ডাকবি না! আমি তোকে ভাই বানাইছি, নিজের লোক বানাইছি… আর তুই!”
চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো একে অপরের দিকে তাকাচ্ছে। কেউ বিশ্বাস করতে পারছে না—এই রহমত মিয়া, যে এই বাড়ির সাথে ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে জড়িয়ে, তাকে আজ এভাবে অপমান করা হচ্ছে!
রহমতের চোখে পানি চলে এসেছে। কিন্তু সে কিছু বলছে না। শুধু দাঁড়িয়ে আছে, যেন সব অভিযোগ চুপচাপ নিজের ভেতরে গিলে নিচ্ছে।
রিনা বেগম ধীরে ধীরে এগিয়ে এলেন।
“এইভাবে সবার সামনে কথা বলছ কেন? আগে বসে—”
“তুমি চুপ থাকো, রিনা!”—সফিক থামিয়ে দিলেন তাকে।
“তোমার আদরেই আজ এরা মাথায় উঠছে!”
ঘরের ভেতরের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠল।
সাব্বির পাশেই দাঁড়িয়ে, চুপচাপ সব দেখছে। তার মুখে অস্বস্তি, কিন্তু সে কিছু বলছে না। আর রাহা—সে গভীরভাবে তাকিয়ে আছে রহমতের দিকে। তার চোখে কৌতূহল, সন্দেহ… আর একটু মায়া।
রহমত ধীরে ধীরে বলল,
“আপনি যদি মনে করেন আমি দোষী… আমি এখনই চলে যামু।”
সফিক ঠান্ডা গলায় বললেন,
“চলে যাবি? এত সহজে?”
তারপর টেবিলের উপর থাকা একটা ফাইল ছুঁড়ে মারলেন রহমতের দিকে।
“এইগুলা দেখ! সব হিসাব! লাখ লাখ টাকা গায়েব! আর সব জায়গায় আমার সিল নকল, যা শুধু আমি বাদে তোর কাছে থাকত !”
রহমত কাঁপা হাতে ফাইলটা ধরল। চোখ বুলাল, কিন্তু তার চেহারায় শুধু অবাক ভাব।
“এইগুলা আমি জানি বড় সাহেব…”—তার গলায় কান্না জমে উঠেছে।
“মিথ্যা বলবি না!”—সফিক চিৎকার করে উঠলেন।
“আমি তোকে মানুষ বানাইছি! তোর মা এই বাড়িতে কাজ করত, আমি তাকে নিজের মায়ের মতো সম্মান দিছি! আর তুই সেই ঋণ এভাবে শোধ করলি?”
এই কথাগুলো শুনে রহমতের চোখ দিয়ে অঝোরে পানি পড়তে লাগল।
সে নিচু গলায় বলল,
“আপনার কাছে আমি আজীবন ঋণী… কিন্তু আমি বিশ্বাসঘাতক না…”
ঘরের ভেতর নিস্তব্ধতা নেমে এল।
রাহা ধীরে ধীরে সাব্বিরের দিকে তাকাল। চোখের ভাষায় কিছু একটা বলতে চাইল, কিন্তু থেমে গেল।
এই ঘটনার আসল রহস্য বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে—দুই মাস আগে।

(দুই মাস আগে)
সাব্বির (২৮) সফিক 'র একমাত্র ছেলে। প্রায় ছয় বছর আগে সে লন্ডনে যায় এমবিএ পড়তে। সেখানেই পরিচয় হয় রাহার (২৫) সঙ্গে। রাহা ছোটবেলা থেকেই বিদেশে বড় হয়েছে; তার বাবা ইংল্যান্ডের নাগরিক। পরিচয় থেকে ধীরে ধীরে সম্পর্ক, আর সেই সম্পর্কই একসময় বিয়েতে গড়ায়। তাদের সংসারে আসে একটি কন্যাসন্তান—রাফা (৪), যে তাদের জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দ।
বিয়ের পর রাহার ইচ্ছাতেই সাব্বির দেশে না ফিরে ইংল্যান্ডেই চাকরি শুরু করে। স্থির, গুছানো একটি জীবন গড়ে উঠছিল সেখানে। কিন্তু সফিক 'র ইচ্ছা ছিল ভিন্ন—তিনি চেয়েছিলেন, তার একমাত্র ছেলে দেশে ফিরে পারিবারিক ব্যবসার হাল ধরুক।
অনেক বোঝাপড়া ও আলোচনার পর অবশেষে রাহার পরিবার রাজি হয়। ধীরে ধীরে রাহাও নিজের আপত্তি সরিয়ে নেয়। নতুন এক সিদ্ধান্ত নিয়ে, নতুন এক অনিশ্চয়তা বুকে নিয়ে—তারা ফিরে আসার প্রস্তুতি নেয় নিজের শিকড়ে, বাংলাদেশে।
লন্ডনের ঠান্ডা, কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল। সাব্বির তার ব্যাগ গোছাচ্ছে। পাশে দাঁড়িয়ে রাহা, একটু চিন্তিত।
“তুমি নিশ্চিত? বাংলাদেশে গেলে সব ঠিক থাকবে?”—রাহা জিজ্ঞেস করল।
সাব্বির হালকা হাসল,
“বাবা তো অনেকদিন ধরেই চাইত আমি ফিরি। এবার সময় হয়েছে।”
রাহা জানালার বাইরে তাকাল।
“আমি কখনো ওখানে থাকি নাই… সবকিছু নতুন হবে।”
সাব্বির এগিয়ে এসে তার হাত ধরল।
“আমি আছি, রাহা। আর আমার পরিবার… তারা তোমাকে ভালোবাসবে।”
কিছুক্ষণ চুপ থেকে রাহা মাথা নাড়ল।
“ঠিক আছে… আমরা যাই।”
ঢাকা বিমানবন্দর।
গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন সফিক ইসলাম ও রিনা বেগম। চোখে আনন্দের ঝিলিক।
সাব্বির বের হতেই রিনা বেগম ছেলেকে জড়িয়ে ধরলেন।
“আমার ছেলে! কত দিন পর!”
সফিক এগিয়ে এসে বললেন,
“এবার কিন্তু আর ছাড়ছি না তোকে।”
রাহা একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিল, কোলে ছোট্ট রাফা।
রিনা বেগম এগিয়ে এসে রাফাকে কোলে নিলেন।
“এইটা আমার নাতনি?”
রাফা মিষ্টি করে হাসল।
ঘরের পরিবেশ মুহূর্তেই আনন্দে ভরে উঠল।
পরবর্তী কয়েকদিন ছিল উৎসবের মতো।
বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন আসছে, সবাই নতুন বউ আর নাতনিকে দেখতে আসছে।
রহমত মিয়া সবকিছু সামলাচ্ছে—কখনো গাড়ি নিয়ে যাচ্ছে, কখনো বাজার করছে।
রাহা একদিন লক্ষ্য করল, সবাই রহমতকে আলাদা সম্মান দেয়।
সে সাব্বিরকে জিজ্ঞেস করল,
“এই লোকটা কে?”
সাব্বির হেসে বলল,
“ও শুধু ড্রাইভার না… আমাদের পরিবারের অংশ। বাবা ওকে ছোট ভাইয়ের মতো দেখে।”

রাহা মাথা নাড়ল, কিন্তু তার চোখে একটা পর্যবেক্ষণ ছিল।
এক সপ্তাহ পর সাব্বির অফিসে যাওয়া শুরু করল।
সফিক ইসলাম তার বিশাল ব্যবসা ধীরে ধীরে ছেলের হাতে তুলে দিচ্ছেন।
গার্মেন্টস, ইমপোর্ট-এক্সপোর্ট—সবকিছুতেই সাব্বিরকে নিয়ে যাচ্ছেন।
রাহাও মাঝে মাঝে সাথে যায়।
একদিন অফিসে বসে রাহা কিছু কাগজ দেখছিল।
হঠাৎ তার চোখ আটকে গেল একটা ফাইলে।
“সাব্বির, এটা দেখো তো…”—সে ডাকল।
সাব্বির এগিয়ে এসে ফাইলটা দেখল।
“কী হয়েছে?”
রাহা ভ্রু কুঁচকে বলল,
“এই ট্রানজ্যাকশনগুলো… একটু অদ্ভুত না?”

সাব্বির খেয়াল করল—কিছু পেমেন্টের হিসাব মিলছে না।
“হয়তো অ্যাকাউন্টসের ভুল…”—সে বলল।
রাহা মাথা নাড়ল,
“একটা ভুল হলে বুঝতাম… কিন্তু বারবার হচ্ছে।”
সাব্বির একটু সিরিয়াস হলো।
“তুমি কী বলতে চাও?”

রাহা নিচু গলায় বলল,
“কেউ টাকা সরাচ্ছে।”

ঘরের ভেতর হঠাৎ যেন ঠান্ডা বাতাস বইল।

সাব্বির কিছুক্ষণ চুপ থেকে বলল,
“বাবাকে বলব?”
রাহা দ্রুত বলল,
“না। এখন না।”
“কেন?”
“কারণ উনি প্রমাণ চাইবেন। আর আমরা এখনো নিশ্চিত না।”

সাব্বির মাথা নাড়ল।
“তাহলে কী করব?”

রাহার চোখে দৃঢ়তা দেখা গেল।
“আমরা নিজেরাই খুঁজে বের করব।”
সেই দিন থেকেই শুরু হলো তাদের তদন্ত।

ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ডেলিভারি রিপোর্ট, সাপ্লাই চেইন—সবকিছু তারা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল।

রাত জেগে কাজ করছে তারা।

একদিন রাতে রাহা বলল,
“এই সিল গুলো দেখেছ?”

সাব্বির তাকাল।
“হ্যাঁ… একটু কেমন ভিন্ন।”

রাহা ধীরে বলল,
“সব সন্দেহজনক ট্রানজ্যাকশনে এই ভিন্ন সিল কেন…”

সাব্বির চুপ হয়ে গেল।
“তুমি কি ভাবছ… বাবা আর রহমত কাকা বাদে এ সিল কারো কাছে থাকে না?”—তার গলায় অবিশ্বাস।

রাহা সরাসরি উত্তর দিল না।
“আমি নিশ্চিত না… কিন্তু সব কিছু ওর দিকেই ইঙ্গিত করছে।”

সাব্বির গভীর নিঃশ্বাস নিল।
“এটা যদি সত্যি হয়…”

রাহা তার দিকে তাকাল,
“তাহলে তোমার বাবার সবচেয়ে বিশ্বাসের মানুষই তাকে ঠকাচ্ছে।”

ঘরের বাতাস ভারী হয়ে উঠল।


কিন্তু রাহার চোখে তখনো একটা দ্বিধা ছিল।
সে মনে মনে ভাবছিল—
“সব কিছু এত সহজ হতে পারে না…”

(বর্তমান সময়ে ফিরে আসা…)

ড্রয়িংরুমে এখনো দাঁড়িয়ে রহমত মিয়া।
তার চোখে পানি, কিন্তু কণ্ঠে একটাই কথা—

“আমি দোষী না, বড় সাহেব…”

আর রাহা—সে চুপচাপ তাকিয়ে আছে।
তার মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরছে—
“যদি রহমত সত্যি নির্দোষ হয়… তাহলে আসল অপরাধী কে?”

[+] 6 users Like Mr. X2002's post
Like Reply
Do not mention / post any under age /rape content. If found Please use REPORT button.


Messages In This Thread
বিপদের বন্ধু - by Mr. X2002 - 18-03-2026, 03:04 PM
RE: বিপদের বন্ধু - by Kasif - 19-03-2026, 03:14 PM
RE: বিপদের বন্ধু - by Esha. - 19-03-2026, 08:29 PM
RE: বিপদের বন্ধু - by Bimal - 20-03-2026, 09:49 AM
RE: বিপদের বন্ধু - by Veer - Yesterday, 05:41 AM



Users browsing this thread: chodn_khanki, Fahima89, xmamla, 19 Guest(s)