(৮৭)
বিচের উপর দিকে কসমেটিকস এর দোকানে গেলাম জিজ্ঞেস করতে স্নান করার কোনো পোশাকের ব্যবস্থা আছে কিনা।
“ভাইজান, এখানে স্নান করার জন্য কোনো পোশাক কিনে পাওয়া যাবে?
পকেটের ফোন বেজে উঠলো?
আব্বা ফোন করেছে।
“আসসালামু আলাইকুম আব্বা। ভালো আছেন?”
“বেটা, আমি।”
“মা? কেমন আছো?”
“ভালো নাই রে বেটা। তোমার আব্বাকে ডাক্তারের কাছে এনেছি। বুকে খুব ব্যাথা কাল থেকে। বলছিলো খিল ধরে আছে। ডাক্তার অনেক রিপোর্ট দিয়েছেরে আব্বা। ১২হাজার টাকা। অত টাকা তো আনিনি। তাই তোমাকে ফোন দিলাম।”
কানে ফোন ধরেই আছি। চোখে পানি এসে গেছে। কেদে দিব বোধায়।
“মা, তোমরা কোন ক্লিনিকে আছো?”
“মডার্ণ ক্লিনিক।”
“মা তুমি ১০মিনিট অপেক্ষা করো।”
দোকান্দারকে জিজ্ঞেস করলাম এখানে কোনো এটিএম বুথ আছে কিনা। সে বললো, নাই।
দেশের বাসার প্রাইমারি কলেজের এক বন্ধু, নাম রবীন। ফোন লাগালাম তাকে।
“হ্যালো বন্ধু, আমি রাব্বীল।”
“রাব্বীল দোস্ত, মনে পড়েছে এই বন্ধুকে রে?”
“বন্ধু বিপদ। জলদি উপকার কর।”
“বল কি হইসে।”
“এখনি ১৫হাজার টাকা নিয়ে মডার্ণ ক্লিনিকে যাবি। ওখানে আম্মা আছে। আম্মাকে দিবি। আর আব্বা অসুস্থ্য তুই রিপর্ট গুলি করার ব্যবস্থা করে দিবি। আমি ৩০ মিনিটের মধ্যে তোর বিকাশে টাকা পাঠাচ্ছি।”
“আংকেলের কি হইসে?”
“অসুস্থ্য। প্লিজ বন্ধু জলদি যা।”
“আচ্ছা।ফোন রাখ।”
আমি দৌড়িয়ে অনুদির কাছে গেলাম। চোখের পানি বন্ধ হচ্ছেনা।অনুদির হাত ধরে চললাম বিচ থেকে।
“রাব্বীল, কি হইসে? কান্না করছো কেন? অনুদি আমাকে দেখে ভয় পাইসে। হইসেটা কি!!
“আব্বা অসুস্থ্য। টাকা পাঠাতে হবে। জলদি রিসোর্স চলো। ওখানে এটিএম বুথ আছে।”
আর কোনো কথা নাই। চোখ দিয়ে অনর্গল জল পরেই যাচ্ছে।
“কান্না করোনা। উপর ওয়ালা সুস্থ্য করে দিবেন।”
১৫মিনিটের মাথায় রবীনের ফোন।
“দোস্ত, আন্টিকে দিলাম টাকা।”
এবার সত্তিই কান্না এসে গেছে।
“অনেক্ক ধন্যবাদ বন্ধু। বন্ধু তুমি একটু আব্বার কাছে থাকো।”
“ওকে চিন্তা করোনা। আমি দেখছি।”
রিসোর্টের কাযে এসে গেছি। এটিএম বুথ থেকে ২০হাজার টাকা তুললাম। রবীনের নাম্বারে পুরো টাকাটাই বিকাশ করলাম।
ফোন লাগালাম তাকে।
“বন্ধু, এখন আব্বা কেমন আছে?”
“আংকেল শুয়ে আছে। বুকে ব্যাথা আছে। আমি রিপর্টের কাছে।”
“বন্ধু, তোমাকে কিছু টাকা দিলাম বিকাশে। কিছু দরকার পড়লে একটু দেইখো প্লিজ।”
“আরেহ পাগল এত অনুরোধ করতে হবে নাকি? তোমার আব্বা মানে আমার আব্বা নয় কি? তুমি চিন্তা করোনা। আমি আছি এখানে।”
বন্ধুরে, তুই আমার কলিজার টুকরা ভাই। লাভ ইউ।
“আচ্ছা তুমি রিপর্টে কি হচ্ছে বলিও।”
অনুদি আমার পাশে। এখনো হাত ধরে আছে। আমি যেখানেই যাচ্ছি হাত ধরে হাটছে।
অনুদিকে বললাম, “অনু, চলো রুমে যাই। পরে বের হবো।”
রিসোর্ট ম্যানেজার খাতায় ফেরতের সিগনেচার করতে গিয়ে চোখে পড়লো, কৌশিক দা রা ১ ঘন্ঠা আগেই রুমে এসে গেছে। সিগনেচার করেই অনুদিকে নিয়ে রুমের দিকে হাটা ধরলাম।


![[+]](https://xossipy.com/themes/sharepoint/collapse_collapsed.png)