Thread Rating:
  • 8 Vote(s) - 3 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
সাজু ভাই- সিরিজ নম্বর -০৩(গল্প:- সরি আব্বাজান)( সমাপ্ত গল্প)
#12
পর্বঃ- ০৬

তৌহিদকে খুন করে লিমন পালিয়ে গেছে এটা ছড়িয়ে গেছে মুহূর্তেই। থানায় খবর দেওয়া হয়েছে মেসের মধ্যের সকল সদস্য জড়সড় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সকলের মনে একটা আতঙ্ক, কিন্তু খুনটা যে লিমন করেছে সেটা নিয়ে অনেকের মনে যেন সন্দেহ সৃষ্টি হচ্ছে। 

যেহেতু লিমন নিখোঁজ, তাছাড়া তাকে আসতে বা যেতে কেউ দেখেনি তাহলে কীভাবে লিমন এসে খুন করেছে? তাছাড়া তমালের সঙ্গে মাগরিবের পরে তৌহিদের খানিকটা ঝগড়া হয়েছে। তৌহিদ কিছু টাকা পাবে তমালের কাছে, সেই টাকার জন্য একটু কথা কাটাকাটি। তমাল এমনিতেই একটু উশৃংখল টাইপের ছেলে, গাজা-টাজা খায় আবার স্থানীয় কিছু বাজে ছেলেদের সঙ্গে আড্ডা দেয়। 

পুলিশ আসার পরে যখন জিজ্ঞেসাবাদ করা হয় তখন সবাই তমালের কথাটা বলে। কিন্তু পরক্ষণে যখন রক্তমাখা গেঞ্জিটা মাহিম পুলিশের সামনে দেখিয়ে দেয় তখন মোটামুটি চুপ করে সবাই। 

" পুলিশ তমালকে বললো, তোমরা কি নিশ্চিত যে ওই ছেলেটা লিমনই ছিল? "

" হ্যাঁ স্যার, রুমের মধ্যে গান বাজছিল, আমরা সামান্য কৌতুহল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম। তার একটু পরেই দরজা খুলে লিমন বের হলো, আমাদের দেখে স্বাভাবিক ভাবেই বললো যে তৌহিদ অসুস্থ তাই সে ডাক্তারের কাছে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা রুমে ঢুকে যখন দেখি তৌহিদের লাশটা পরে আছে তখন রাস্তায় নেমে কোথাও দেখিনি। " 

" লিমন রক্তমাখা গেঞ্জি রেখে গেল কেন? পরনে কি কিছু ছিল? "

" স্যার লিমনও তো এই রুমে থাকতো আর রুমে তার অনেক কাপড়চোপড় আছে। রক্তমাখা গেঞ্জি পরিবর্তন করে ফ্রেশ একটা পরে গেছে হয়তো, যেন কিছু বুঝতে না পারি। "

" লিমনের সঙ্গে তৌহিদের সম্পর্ক কেমন ছিল? মানে বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয়েছে নাকি মনকষাকষি? "

" স্যার.. খুব ভালো বন্ধু ছিল ওরা, যেদিন রাতে লিমনের মা-বাবা খুন হয়েছে সেদিন সেই গভীর রাতে তৌহিদ সঙ্গে গেছে। "

" লিমনের মা-বাবা কীভাবে মারা গেছে? "

" শুনেছি খুন করা হয়েছে, কিন্তু কারা জড়িত বা কিসের জন্য তা জানি না। "

" ঠিক আছে, আমরা লাশ নিয়ে যাচ্ছি, যেকোনো সময় যেকোনো মুহূর্তে আসতে পারি। মেসের কোন সদস্য খুলনা থেকে বের হবে না, পরবর্তী নির্দেশ দেওয়া পর্যন্ত মেসে থাকবে। 

★★

সাজু ভাই তাদের স্থানীয় বাজারে গিয়ে সিমকার্ড রিপ্লেস করে এনেছে। জরুরি প্রয়োজনে নাম্বার চালু রাখা একান্ত জরুরি, রাজু তাকে বলেছে যে সকল সিম নাকি রিপ্লেস করা যায় তাদের বাজারে তাই রিপ্লেস করে এনেছে। 

বাড়িতে ফিরে দাদার মোবাইলে নিজের সিম লাগিয়ে নিল, তার দাদার কাছেও এন্ড্রয়েড ফোন কারণ সাজুর বাবার সঙ্গে ও সাজুর সঙ্গে সবসময় ভিডিও কলে কথা হতো। 

সিম চালু করে সে অপেক্ষা করতে লাগলো, যদি তৌহিদ আবারও কল দেয়? তবে তখন ছিল রাত এগারোটার মতো, ততক্ষণে তৌহিদ খুন হয়ে গেছে কিন্তু সাজু জানে না। 

ডিনার করে বিছানায় শুয়ে কবিতার সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছে করছিল, আর তাই মুখস্থ নাম্বারটা ডায়াল করলো। 

" কবিতা রিসিভ করে বললো, যে মানুষটা বাড়িতে গিয়েই সঙ্গে সঙ্গে কল দেবার কথা সে আজকে কল দিল। তারমানে কি মাত্র বাড়িতে গেছে? "

" তুমিও তো খবর নিলে না, অসুস্থ শরীর নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসলাম। একটা কল দিয়ে তো জিজ্ঞেস করলে না, কেমন আছেন সাজু ভাই? "

" আমি যে কারো উপর মেলা মেলা অভিমান করে আছি, সেটা বোঝার ক্ষমতা কি তার আছে? "

" অসুস্থ মানুষের উপর রাগ করতে নেই, কারণ হুট করে মরে গেলে আফসোস করতে হবে। "

" একদম মুখ ভেঙ্গে দেবো। "

" কেন? মানুষ মরতে পারে না? "

" তুমি আমাকে বিয়ে করবে তারপর আমরা দুজন একসঙ্গে সংসার করবো, আমাদের বাচ্চা হবে, তারপর দুজনেই মারা যাবো। "

" মৃত্যু কি কখনো সংবাদ দিয়ে আসে? "

" তবুও মানুষ কিন্তু স্বপ্ন আর আশায় বেঁচে থাকতে চায়, তাই না সাজু? "

" আমার শরীর সত্যি সত্যি খুব খারাপ, কিন্তু এমন একটা মামলায় জড়িয়ে গেলাম যে অসমাপ্ত রেখে কোথাও যাওয়া যাবে না। "

" বেঁচে থাকলে এমন অসংখ্য মামলার রহস্য বের করতে পারবে, তুমি কিন্তু আমার নিষেধ করা সত্ত্বেও ওই মামলায় জড়িয়ে গেছ। আর সেজন্যই কিন্তু তোমার প্রতি আমার অসংখ্য অভিমান আর মনের মধ্যে কষ্ট। "

" কষ্ট কেন? "

" এখনো আমার কোন কথার গুরুত্ব তোমার কাছে নেই তাই কষ্ট লাগে। "

" তুমি তো ভালো করে জানো যে আমি তোমাকে কতটা সময় দেই। "

" জানি, সেটা আমার পরম সৌভাগ্য। হতভাগা এই কবিতার জীবনে তোমার মতো মানুষের ভালবাসা পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের। "

" পৃথিবী বড্ড অদ্ভুত কবিতা, যে মানুষটা অনেক সাধনা করে তার প্রিয় মানুষটাকে চার, আল্লাহ সেই মানুষটাকে তাকে দেয় না। নিষ্ঠুর পৃথিবী যেন আজকাল আর কারো কষ্ট বোঝে না, একজনের ভালবাসা নিয়ে যায় অন্য কেউ। "

" তুমি আমাকে সারাজীবন একসঙ্গে রাখবে তো? শুধু তোমার হয়ে থাকতে চাই। "

" যদি কোনদিন বিয়ে নাও করি তবুও তোমাকে আমার মনের মধ্যে রাখবো আজীবন। আর যদি বিয়ে হয়ে যায় তাহলে তো স্বপ্ন পূরণ হবে, তাহলে তো সমস্যা নেই। "

" এখনো আমাকে যদির মধ্যে থাকতে হবে? "

" কথার কথা বললাম। "

" খেয়েছ রাতে? "

" হ্যাঁ, তুমি? "

" না খাবো একটু পরে। সন্ধ্যার পরে ঘুমিয়েছিলাম আর একটু আগে ঘুম থেকে উঠে এশার নামাজ পড়লাম তাই দেরি হচ্ছে। "

দুজনের মধ্যেই কথা চলে অজস্র, সবকিছু হয়ত আমাদের জানার দরকার নেই তাই আপাতত তাদের কথোপকথন বন্ধ রাখলাম। 

দেড় ঘন্টা কথা শেষ করে সাজু অনলাইনে গেল, বেশ কিছু মেসেজ জমা আছে। সেই মেসেজের ভিড়ে লিমনের আইডি দিয়ে মেসেজ দেখে সাজু অবাক হয়ে গেল। 

লিমন লিখেছে:- 
সাজু ভাই, 
আসসালামু আলাইকুম, আর কেমন আছেন সাজু ভাই? আমি আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। এই কিছুক্ষণ আগে আপনার নাম্বারে কল দিলাম কিন্তু নাম্বার বন্ধ। আমি এখন ভৈরব নদীর তীরে সেই চরেরহাট এলাকায় রাতের উত্তাল ঢেউ খেলানো শব্দের কাছে দাঁড়িয়ে আছি। একটু আগে তৌহিদ কে খুন করে এলাম, হয়তো সামনে আরও বেশি বাড়তে পারে। আগের দুটো খুন আমি করিনি তবু আমাকে ফাঁসানো হয়েছে, তৌহিদ আমার সঙ্গে বেঈমানী করেছে সাজু ভাই। আপনি কখনো সেই চিরকুট পেয়ে বিশ্বাস করবেন না, কারণ আমি যাদের খুন করবো তাদের কথা আপনাকেই শুধু জানাবো। কখনো চিরকুট লিখবো না। 

|

কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে রইল সাজু, সামান্য কিছু সময় মোবাইলের স্ক্রিনে তাকিয়ে মাথাব্যথা শুরু করেছে। কিন্তু তৌহিদ খুন হয়েছে সেটা তাকে খুব ব্যথিত করছে, কিছু কিছু যায়গায় কল দিতে হবে কিন্তু কারো নাম্বার নেই। 

তৌহিদ নাকি বেঈমানী করেছে, গতকাল বিকেলে তার সঙ্গে কথা বলতে বলতে মোবাইল পানিতে পরে গেছিল। তৌহিদ তাকে কিছু একটা বলার চেষ্টা করেছিল কিন্তু বলতে পারে নাই। সে হয়তো বুঝতে পেরেছিল তাকে খুন করা হবে তাই একদম শেষ মুহূর্তে স্মরণ করেছিল। 

কিন্তু সেই বেঈমানীটা কি...? 
কিসের জন্য তাকে খুন হতে হয়েছে..? 

★★

গল্পটা নিয়মিত সবার আগে পড়তে আমার এই পেইজেরই সঙ্গে থাকুন। 
পেইজ মোঃ সাইফুল ইসলাম সজীব 

★★

খুব সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে ফজরের নামাজ পড়ে বাড়ির সামনে হাঁটছিল সাজু। মোবাইলে যদি কারো কল আসে সেই অপেক্ষায় আছে কিন্তু কোই কেউ তো কল দিচ্ছে না। অন্তত পারভেজ নিশ্চয়ই কল দেবে কারণ তৌহিদ খুন হয়েছে। 

সাড়ে সাতটার দিকে নাস্তা করার একটু পরেই একটা অপরিচিত নাম্বার দিয়ে কল এসেছে। সাজু প্রথমে নাম্বার চেনার চেষ্টা করছে কারণ এমন হতে পারে যে আগে চিনতো। কিন্তু না.. চিনে না। 

" সাজু ভাই বললো, আসসালামু আলাইকুম। "

" একটা মেয়ে অপরপ্রান্তে বললো, ওয়া আলাইকুম আসসালাম, আপনি কি সাজু ভাই? "

" জ্বি আমি সাজু, কিন্তু তোমাকে ঠিক... "

" ভাইয়া আমার নাম 'সোহাগি' আমাকে আপনি চিনবেন না, তবে আমি আপনাকে কিছুটা চিনি। "

" ওহ্ আচ্ছা। "

" সাজু ভাই আমি একটা জরুরি কথা বলতে কল করেছি আপনার কাছে। "

" হ্যাঁ বলো। " 

" আপনি লিমনকে তো চিনেন? কিছুদিন আগে যার মা-বাবা খুন হয়েছে আর সে নিজেও এখন খুন করে পলাতক। "

" হ্যাঁ চিনি, কিন্তু... "

" আমি লিমনের গার্লফ্রেন্ড, আমরা দুজনেই দুজনকে পছন্দ করি। লিমনের মা-বাবা আমার আর ওর সম্পর্ক জানতেন,। "

" আচ্ছা। "

" আপনি কি আমাদের গ্রামে আজকে আসতে পারবেন? একটু জরুরি কাজ আছে। "

" কি কাজ? "

" আপনাকে একটা জিনিস দিতে চাই, যেটা নিয়ে খুব টেনশনে আছি আমি। "

" কি জিনিস? "

" একটা স্বর্নের পুতুল, লিমনের বাবা আমাকে দিয়েছিল খুন হবার দুদিন আগে। "

" কি....? সেই পুতুল তোমার কাছে? "

" হ্যাঁ ভাই, পৃথিবীতে আমি ছাড়া কেউ জানে না, লিমনের বাবা জানতো কিন্তু তিনি তো পৃথিবীতে নেই এখন। "

" সেটা তুমি আমার কাছে দেবে? "

" হ্যাঁ, কারণ এটার জন্য খুব সমস্যা হচ্ছে। "

" ঠিক আছে আমি আজকের মধ্যে তোমার সঙ্গে দেখা করতে আসবো। "

" মেলা মেলা ধন্যবাদ সাজু ভাই। "

কল কেটে দিয়ে সাজু গভীর চিন্তার মধ্যে ডুবে যাচ্ছে, সোহাগি নামের মেয়েটা সত্যি বলছে? নাকি তাকে ফাঁসানোর জন্য কেউ কিছু প্ল্যান করেছে? 

....

 
Like Reply


Messages In This Thread
RE: সাজু ভাই- সিরিজ নম্বর -০৩(গল্প:- সরি আব্বাজান)( সমাপ্ত গল্প) - by Bangla Golpo - 18-11-2025, 08:44 PM



Users browsing this thread: 1 Guest(s)