06-11-2025, 03:47 PM
(This post was last modified: 22-11-2025, 06:28 PM by strangerwomen. Edited 5 times in total. Edited 5 times in total.)
পাঁচ
তারপর মা বলে -ছেলে মেয়ে দুটোকে নিয়েই যত ঝামেলা ,ওরা বড় হচ্ছেতো, আমাদের বিয়ের পর ওদের কে নিয়ে কি যে করবো তাই ভাবছি । কাকু বলে -তোমার যেটা ঠিক লাগে সেটাই করবে । মা বলে -যেটা ঠিক লাগে মানে? কাকু বলে -যদি রাখতে চাও তাহলে রাখ , আর যদি ছাড়তে চাও তো ছেড়ে দাও । মা কাকুর কথায় একটু অবাক হয় , বলে -ছেড়ে দাও মানে । কাকু মুচকি হেঁসে বলে -যদি না লাগে তাহলে আর রেখে কি হবে ? বিয়ের পর আমরা তো অনেকগুলো বাচ্চা বানাবোই । মা হেঁসে বলে -তুমি যা শুরু করেছো আজকাল তাতে বিয়ের আগেই না বাচ্চা বানিয়ে ফেলি আমরা । কাকু হাঁসে । তারপর বলে -আজকাল অবশ্য অনেক বিধবা মায়েরাই দ্বিতীয় বিয়ের পর প্ৰথম পক্ষের বাচ্চা সঙ্গে রাখতে চায়না , শুধু শুধু ঝামেলা নিতে কেই বা চায় । বিয়ের পর এনজয় টেনজয় করতে অসুবিধে হয় । মা বলে -হ্যাঁ। অনেক বিধবাই তো ওই জন্য বাচ্চামাচ্চা ফেলে পরপুরুষের সাথে পালায় । কিন্তু সাধারনত ওই সব বস্তি বাড়ির লোয়ার ক্লাস বিধবা মায়েরা বা ঝি ক্লাসের বিধবা মায়েরা করে । কাকু বলে -না না, শুধু ঝি ক্লাসের কেন এখন সব ক্লাসের বিধবা মায়েরাই আজকাল এরকম করছে । এখন এসব ট্রেন্ড হয়ে গেছে । স্বামী মরে গেলে প্রথম পক্ষের ছেলে মেয়েদের পোষা মানে তো শুধু শুধু খরচা বাড়ানো তাইনা ? আর সাথে দায়িত্ত্ব কম নয়, এছাড়া দ্বিতীয় পক্ষের ছেলে মেয়ে হলে তাদের বড় করার খরচাও তো আছে, দায়িত্ত্ব ও আছে । আজকালকার দিনে ছেলে মেয়ে বড় করার অনেক খরচ আর ঝামেলা যে । আগেকার দিনের বাবা মায়েরা তো একগাদা জন্ম দিয়েই খালাস ছিল , ছেলে মেয়ে কি ভাবে বড় হচ্ছে সেসব নিয়ে কোন চিন্তা তাদের ছিলনা । নামও রাখতো দায়সাড়া ভাবে , আমার এক পিসি তার সাত নম্বর ছেলের নাম রেখে ছিল "পচা"।
মা শুনে হাঁসে । কাকু বলে -আর আজকালকার ছেলেমেয়েরাও তো তেমন, যে মা বিধবা হওয়ার পর, আর বিয়ে না করে, অনেক কষ্টে সিস্টে ছেলে মানুষ করেছে, সেই মা বুড়ি হয়ে গেলে, বৌ এর কথায় তার দায়িত্ত্ব না নিয়ে তাকে বৃদ্ধাবাসে রেখে আসে । বাড়ি বাড়ি তো এরকম হচ্ছে আজকাল, ফলে আজকালকার মারাও চালাক হয়ে গেছে ।
যারা উচ্চবিত্ত, যাদের অনেক টাকা পয়সা আছে তারা অনেক সময় প্রথম পক্ষের বাচ্চাদের বোর্ডিংএ রেখে দেয় । বছরে দু বার ছুটিতে বাড়ি এসে কদিন থাকলে আর অসুবিধে কি ? সারা বছর প্রথম পক্ষের ছেলে মেয়ে সামলানোর ঝামেলা তো আর নেই । প্রাইভেসিও বজায় থাকে , এনজয় টেনজয় করতে কোন অসুবিধে হয় না । আর যারা মদ্ধবিত্ত, যাদের হাতে অত টাকা পয়সা নেই , তারা দ্বিতীয় বিয়ের পর ঝাড়া হাতপা হতে চাইলে , হয় কোন আন্তীয় স্বজন, মানে যাদের বাচ্চা হয়নি, বাচ্চার দরকার, তাদের দিয়ে দেয় বা কোন অনাথ আশ্রমে ছেড়ে দিয়ে দায়মুক্ত হয়ে আসে আসে । মা বলে -হুম ।
কাকু বলে -আজকাল সকলেই চালাক হয়ে গেছে , বৌ মরে গেছে যাদের, তারা সংবাদপত্রে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য কিরকম বিজ্ঞাপন দেয় দেখনা , হেডিং দেয়, “””পত্নী চাই !!! ডিভোর্সি বা নিঃসন্তান বিধবা হলেও চলবে“”” । মা হাঁসে, বলে - হ্যাঁ আমিও দেখেছি সেটা, স্বামী মারা যাওয়ার পর মাঝে মাঝে সংবাদপত্র উল্টে পাল্টে দেখতাম কি রকম পাত্রী চাইছে এখন লোকেরা ।
কাকু বলে -আজকাল তো অনেকে আবার লিখছে "”নির্ঝঞ্ঝাট বিধবা হলেও চলবে”” । মানে মহিলার আগের পক্ষের বাচ্চা থাকলেও ক্ষতি নেই কিন্তু বিয়ের পর সেই বাচ্চা সঙ্গে রাখা যাবে না । মা বলে -ঠিকই করে , প্রেম করে তো আর বিয়ে নয় যে একে অপরকে জেনে বুঝে কথা বলে তারপর বিয়ে হচ্ছে, সংবাদপত্র বিজ্ঞাপন দিয়ে বিয়ে মানে তো সমন্ধ করে বিয়ে হয় । তাহলে প্রথম পক্ষের বাচ্চার দায়িত্ত্ব দ্বিতীয় পক্ষের স্বামী নেবেই কেন , বিয়ে করলে কর, না করলে কোরনা ।
আচ্ছা তপনদা -ধর যারা খুব গরিব, এরকম বিধবা মারা কি করে । কাকু হেঁসে বলে - যে যেভাবে হাটাতে পারে হাটায় । শুনবে অনেকে কি করে ? তাহলে শোন, আমার দিদি তো শহরে থাকে , ওর বাড়িতে যে ঘর ধোয়ামোছা আর বাসন মাজার মাসিটা কাজ করে , সে তো রিসেন্টলি দ্বিতীয় বিয়ে করলো । মাসিটার প্রথম পক্ষের স্বামীটা তিন বছর আগে মরে গেছিল । ওর প্রথম পক্ষের মেয়েটা খুব ছোট , এখনো ভাল করে কথা বলতে শেখেনি । কি করছে জান মাসিটা? একদিন মেয়েকে নিয়ে অনেক দূরের একটা জায়গায় মেলা দেখাতে নিয়ে গিয়ে ভিড়ের মধ্যে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে এসেছে ।
মা বলে -এবাবা সেকি গো? এই ভাবে তাড়ালো ? কাকু বলে -আমার দিদি মাসিটাকে বলে -তুমি কি পাগল নাকি গো , এইভাবে ছেড়ে দিলে ছোট্ট মেয়েটাকে । কাজের মাসিটা বলে - কি করবো বৌদি, আমার দ্বিতীয় স্বামীটা তো সেরকম কিছু রোজগার পাতি করে না, দিন আনতে পান্তা ফুরোয় আমাদের , মেয়েটাকে পোষার ক্ষমতা নেই আমাদের । আর আমার স্বামীরও একদম ইচ্ছে ছিলনা আগের পক্ষের বাচ্চা রাখার । এদিকে বিয়ের আট মাসের মধ্যেই পেটে আর একটা এসে গেছে আমার । আমরা কায়দা করে একটা ক্লিনিক থেকে টেস্টও করিয়ে নিয়েছি, এবার আর মেয়ে নয়, ছেলেই আসছে । কি করবো বল বৌদি? যে আসছে তার ভবিষ্যতের কথাটাও তো চিন্তা করতে হবে । আমার দিদি বলে -তাই বলে তুই এরকম করবি , আরে অনেকেরই তো বাচ্চা হয়না, সেরকম একটা কাউকে খুঁজে দিয়ে দিলে পারতিস ? তো মাসি বলে -আমরা অনেককে জিগ্গেস করেছিলাম বৌদি , মেয়ে কেউ নেবেনা , ছেলে হলে হয়তো ব্যাবস্থা হয়ে যেত । দিদি বলে -এসব জানতে পারলে তো পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে তো তোকে ? মাসিটা বলে -জানি বৌদি , একটু রিক্স নিয়েই করলাম, তবে কিছু হবে না বৌদি, আমার বরের মাথায় খুব বুদ্ধি ,ও আমাকে বলেছে তোমার মেয়েতো ভালকরে কথা বলতে পারেনা এখনো, ঠিকানা বলতে পারবেনা কাউকে ।
মা শুনে বলে -এবাবা ছিঃ ছিঃ , কি কান্ড, এরকম কি করা যায় নাকি । আজকাল কি যে হচ্ছে ? কাকু বলে -আজকাল কেন এসব অনেকদিন থেকেই হচ্ছে । অনেকেই মহিলাই তো সদ্য জন্মানো অবৈধ বাচ্চা ডাস্টবিনে গিয়ে ফেলে আসে । কেউ কেউ তো হসপিটালেই ফেলে পালায় , কেউ আবার মন্দিরের দরজায় ফেলে দেয় ।
মা বলে -সত্যি , কি কান্ড দেখ, অনেকে আছে যাদের অনেক চেষ্টা করেও বাচ্চা হয়না , আবার এদিকে অনেকের বাচ্চা হয় , কিন্তু প্রথম স্বামী মরে গেছে বলে যে দ্বিতীয় বিয়ে করবে , সেটাও প্রথম পক্ষের বাচ্চার জন্য শান্তিতে করতে পারেনা ।
কাকু বলে -লোকের কথা ছাড় , তুমি এখন ঠিক কর কি করবে । আমাদের বিয়ের পর ওই দুটো কে রাখবে না ছাড়বে । মা বলে -তুমি কি বল ? কাকু বলে -তোমার স্বামীর তো সেরকম বিশেষ আন্তীয়স্বজন কেউ নেই কাছাকাছি । মা বলে -না, আমার শাশুড়িও এখন ,বিহারে ওর বোনের বাড়ি আছে , ওখানেই থাকবে । কাকু বলে -ভালোই তো হল, কেউ কিছু বলারও নেই | তাহলে আর রেখে কি করবে , ছেড়ে দাও না। মা বলে -সেটা আমিও ভাবছি , কিন্তু ওদের হাটাবো কি করে ? কাকু বলে - কিছু একটা বুদ্ধি লাগাতে হবে । দাঁড়াও আমি দেখছি । তুমি যখন আজ বলেই দিলে যে ওদের আর নেবে না , তখন আমাদের বিয়ের আগে একটা কিছু ব্যবস্থা আমি যেভাবেই হোক করবো । মা বলে -হ্যাঁ তপনদা তুমি একটা কিছু ব্যবস্থা কর । আমি আবার বিয়ে করবো বলে ওদের তো আর রাস্তায় ছেড়ে দিতে পারিনা । কাকু হাঁসতে হাঁসতে বলে তোমার ছেলেকে তো এখন আমরা রাস্তায় নামিয়ে দিয়েই এলাম আমরা । মা হেসে ফেলে কাকুর কথা শুনে ।
কাকু একটু ভেবে বলে -আমার দিদিরই তো বাচ্চা কাচ্চা হয়নি , এদিকে জামাইবাবুও তো গত বছর খুব কম বয়েসে মারা গেল, ফলে আর বাচ্চা কাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা নেই । তাহলে ভাবছি দিদিকেই বলবো , ও মনে হয় দুজনকেই নিয়ে নেবে । ওর বাচ্চা নেওয়ার খুব শখ ছিল । অনাথ আশ্রম থেকে বাচ্চা নেওয়া অনেক ঝামেলার , অনেক নিয়ম কানুন মানতে হয় , আবার সবাইকে দেয়ও না । দিদির তো স্বামী মারা গেছে , ওকে তো দেবেই না ।
মা বলে -হ্যাঁ তাহলে তো ভালোই হয় , লোকজনকে বলা যাবে যে কলকাতায় রেখে পড়াশুনো করাচ্ছি । কাকু বলে -ঠিক আছে তাহলে তাই হবে । তুমি কিন্তু তোমার ছেলে মেয়েদের এখন থেকে আর তেমন আদর মাদর করো না , ওতে মায়া বেড়ে যায় ,পরে ছাড়তে অসুবিধে হবে । মা বলে -হ্যাঁ এটা অবশ্য ঠিক বলেছো । কাকু বলে -পরে আবার আমাকে দোষ দেবেনা তো বৌদি, যে তোমার জন্যই ওদের কে ছাড়তে হল । মা বলে -না রে বাবা , আমি তো নিজেই বললাম তোমার সাথে বিয়ে গেলে ওদের আর লাগবেনা আমার । কাকু বলে -ঠিক তো ? একদম ফাইনাল তো ? মা বলে -হ্যাঁ হ্যাঁ ফাইনাল , যে পয়দা করেছে সেই যখন আর বেঁচে নেই , তখন ঝুট ঝামেলা রেখে আর কি লাভ । তা ছাড়া দেখ স্বামী বেঁচে থাকলে তো ঠিকমত আদর ভালবাসা দিয়েই বড় করতাম আমি ওদের, মানে যে রকম সকলে করে আরকি । স্বামীটা ফট করে খুন হয়ে গেল সেটা কি আমার দোষ । এখন ওদের বোঝা বয়ে আমি কি করবো , যাদের বাচ্চা হচ্ছে না , বাচ্চার দরকার তাদের কাছে দিয়ে দিলে বরং অনেক বেশি ভালবাসা পাবে , অনেক আদোরে বড় হবে । কাকু বলে -ঠিক , যতদিন তোমার স্বামী বেঁচে ছিল ততদিন তুমি তো সব কর্তব্যই করেছো । মা বলে -হ্যাঁ, সব করেছি , বিশ্বাস কর খুব আদরে রেখেছিলাম ওদের আর স্বামী বেঁচে থাকলে রাখতামও । তাছাড়া আমার স্বামী যদি অনেক টাকা পয়সা রেখে যেত , তাহলে কি আর ওদের এমনভাবে ছেড়ে দিতে হত? ভাল বোর্ডিংএ দিয়ে টিয়ে দিতাম । স্বামী তো কিছুই প্রায় রেখে যায়নি । আমার তাহলে চলবে কি করে বল ? আমাকে তো কাউকে একটা বিয়ে টিয়ে করে সেটেল্ড হতে হবে তো নাকি ? কাকু বলে -হ্যাঁ ঠিকই তো । আর তুমি কি করবে ? যতদিন তোমার স্বামী বেঁচে ছিল তুমিই তো সবই করেছো যা অন্য মায়েরা করে । মা বলে -হ্যাঁ গো, বাচ্চা বেলাতেই তো ছেলে মেয়েদের মাকে বেশি লাগে , আমি তো ওই সময়ে যতটা পেরেছি আদর ভালবাসা দিয়ে, দিন রাত মাই খাইয়ে খাইয়ে, আগলে রেখে রেখে ওদের তো মোটামুটি বড় করেই দিলাম । আর কি করবো ? এখনো মেয়েটা কোনদিন রাতে ঘুমোতে না চাইলে চুমু দিয়ে দিয়ে ঘুম পারাই ওকে তুমি জান ? আর ছেলেটা এত বড় হয়ে গেছে তাও কোনদিন রাগ টাগ করলে বাবা বাছা করে গায়ে পিঠে হাত বুলিয়ে দিয়ে রাগ ভাঙ্গাই, চুমুও টুমুও দি এখনো । আর কি করবো ? কাকু বলে -ব্যাস তাহলে আবার কি , এবার ঝেড়ে ফেল । মা বলে হ্যাঁ হ্যাঁ , এইবার ঝেড়ে ফেলবো , অনেক হয়েছে আর নয় । তুমি যখন আমার জীবনে এসেই গেছ তখন আর কাউকে আমি ডরাই না । এবার থেকে শুধু তোমার বাচ্চা আমার মাই খাবে , আমার আদর পাবে । কাকু হেসে আদর করে মায়ের গাল টিপে দেয় । মা বলে -ঠিক বলছিনা বল ?আর কি করবো , আমারো তো ভবিষৎ আছে নাকি । বাকিটা ওদের ভাগ্য | নাও এস এবার বাকি কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করি আমরা, অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে ।
( চলবে )
তারপর মা বলে -ছেলে মেয়ে দুটোকে নিয়েই যত ঝামেলা ,ওরা বড় হচ্ছেতো, আমাদের বিয়ের পর ওদের কে নিয়ে কি যে করবো তাই ভাবছি । কাকু বলে -তোমার যেটা ঠিক লাগে সেটাই করবে । মা বলে -যেটা ঠিক লাগে মানে? কাকু বলে -যদি রাখতে চাও তাহলে রাখ , আর যদি ছাড়তে চাও তো ছেড়ে দাও । মা কাকুর কথায় একটু অবাক হয় , বলে -ছেড়ে দাও মানে । কাকু মুচকি হেঁসে বলে -যদি না লাগে তাহলে আর রেখে কি হবে ? বিয়ের পর আমরা তো অনেকগুলো বাচ্চা বানাবোই । মা হেঁসে বলে -তুমি যা শুরু করেছো আজকাল তাতে বিয়ের আগেই না বাচ্চা বানিয়ে ফেলি আমরা । কাকু হাঁসে । তারপর বলে -আজকাল অবশ্য অনেক বিধবা মায়েরাই দ্বিতীয় বিয়ের পর প্ৰথম পক্ষের বাচ্চা সঙ্গে রাখতে চায়না , শুধু শুধু ঝামেলা নিতে কেই বা চায় । বিয়ের পর এনজয় টেনজয় করতে অসুবিধে হয় । মা বলে -হ্যাঁ। অনেক বিধবাই তো ওই জন্য বাচ্চামাচ্চা ফেলে পরপুরুষের সাথে পালায় । কিন্তু সাধারনত ওই সব বস্তি বাড়ির লোয়ার ক্লাস বিধবা মায়েরা বা ঝি ক্লাসের বিধবা মায়েরা করে । কাকু বলে -না না, শুধু ঝি ক্লাসের কেন এখন সব ক্লাসের বিধবা মায়েরাই আজকাল এরকম করছে । এখন এসব ট্রেন্ড হয়ে গেছে । স্বামী মরে গেলে প্রথম পক্ষের ছেলে মেয়েদের পোষা মানে তো শুধু শুধু খরচা বাড়ানো তাইনা ? আর সাথে দায়িত্ত্ব কম নয়, এছাড়া দ্বিতীয় পক্ষের ছেলে মেয়ে হলে তাদের বড় করার খরচাও তো আছে, দায়িত্ত্ব ও আছে । আজকালকার দিনে ছেলে মেয়ে বড় করার অনেক খরচ আর ঝামেলা যে । আগেকার দিনের বাবা মায়েরা তো একগাদা জন্ম দিয়েই খালাস ছিল , ছেলে মেয়ে কি ভাবে বড় হচ্ছে সেসব নিয়ে কোন চিন্তা তাদের ছিলনা । নামও রাখতো দায়সাড়া ভাবে , আমার এক পিসি তার সাত নম্বর ছেলের নাম রেখে ছিল "পচা"।
মা শুনে হাঁসে । কাকু বলে -আর আজকালকার ছেলেমেয়েরাও তো তেমন, যে মা বিধবা হওয়ার পর, আর বিয়ে না করে, অনেক কষ্টে সিস্টে ছেলে মানুষ করেছে, সেই মা বুড়ি হয়ে গেলে, বৌ এর কথায় তার দায়িত্ত্ব না নিয়ে তাকে বৃদ্ধাবাসে রেখে আসে । বাড়ি বাড়ি তো এরকম হচ্ছে আজকাল, ফলে আজকালকার মারাও চালাক হয়ে গেছে ।
যারা উচ্চবিত্ত, যাদের অনেক টাকা পয়সা আছে তারা অনেক সময় প্রথম পক্ষের বাচ্চাদের বোর্ডিংএ রেখে দেয় । বছরে দু বার ছুটিতে বাড়ি এসে কদিন থাকলে আর অসুবিধে কি ? সারা বছর প্রথম পক্ষের ছেলে মেয়ে সামলানোর ঝামেলা তো আর নেই । প্রাইভেসিও বজায় থাকে , এনজয় টেনজয় করতে কোন অসুবিধে হয় না । আর যারা মদ্ধবিত্ত, যাদের হাতে অত টাকা পয়সা নেই , তারা দ্বিতীয় বিয়ের পর ঝাড়া হাতপা হতে চাইলে , হয় কোন আন্তীয় স্বজন, মানে যাদের বাচ্চা হয়নি, বাচ্চার দরকার, তাদের দিয়ে দেয় বা কোন অনাথ আশ্রমে ছেড়ে দিয়ে দায়মুক্ত হয়ে আসে আসে । মা বলে -হুম ।
কাকু বলে -আজকাল সকলেই চালাক হয়ে গেছে , বৌ মরে গেছে যাদের, তারা সংবাদপত্রে দ্বিতীয় বিয়ের জন্য কিরকম বিজ্ঞাপন দেয় দেখনা , হেডিং দেয়, “””পত্নী চাই !!! ডিভোর্সি বা নিঃসন্তান বিধবা হলেও চলবে“”” । মা হাঁসে, বলে - হ্যাঁ আমিও দেখেছি সেটা, স্বামী মারা যাওয়ার পর মাঝে মাঝে সংবাদপত্র উল্টে পাল্টে দেখতাম কি রকম পাত্রী চাইছে এখন লোকেরা ।
কাকু বলে -আজকাল তো অনেকে আবার লিখছে "”নির্ঝঞ্ঝাট বিধবা হলেও চলবে”” । মানে মহিলার আগের পক্ষের বাচ্চা থাকলেও ক্ষতি নেই কিন্তু বিয়ের পর সেই বাচ্চা সঙ্গে রাখা যাবে না । মা বলে -ঠিকই করে , প্রেম করে তো আর বিয়ে নয় যে একে অপরকে জেনে বুঝে কথা বলে তারপর বিয়ে হচ্ছে, সংবাদপত্র বিজ্ঞাপন দিয়ে বিয়ে মানে তো সমন্ধ করে বিয়ে হয় । তাহলে প্রথম পক্ষের বাচ্চার দায়িত্ত্ব দ্বিতীয় পক্ষের স্বামী নেবেই কেন , বিয়ে করলে কর, না করলে কোরনা ।
আচ্ছা তপনদা -ধর যারা খুব গরিব, এরকম বিধবা মারা কি করে । কাকু হেঁসে বলে - যে যেভাবে হাটাতে পারে হাটায় । শুনবে অনেকে কি করে ? তাহলে শোন, আমার দিদি তো শহরে থাকে , ওর বাড়িতে যে ঘর ধোয়ামোছা আর বাসন মাজার মাসিটা কাজ করে , সে তো রিসেন্টলি দ্বিতীয় বিয়ে করলো । মাসিটার প্রথম পক্ষের স্বামীটা তিন বছর আগে মরে গেছিল । ওর প্রথম পক্ষের মেয়েটা খুব ছোট , এখনো ভাল করে কথা বলতে শেখেনি । কি করছে জান মাসিটা? একদিন মেয়েকে নিয়ে অনেক দূরের একটা জায়গায় মেলা দেখাতে নিয়ে গিয়ে ভিড়ের মধ্যে ছেড়ে দিয়ে পালিয়ে এসেছে ।
মা বলে -এবাবা সেকি গো? এই ভাবে তাড়ালো ? কাকু বলে -আমার দিদি মাসিটাকে বলে -তুমি কি পাগল নাকি গো , এইভাবে ছেড়ে দিলে ছোট্ট মেয়েটাকে । কাজের মাসিটা বলে - কি করবো বৌদি, আমার দ্বিতীয় স্বামীটা তো সেরকম কিছু রোজগার পাতি করে না, দিন আনতে পান্তা ফুরোয় আমাদের , মেয়েটাকে পোষার ক্ষমতা নেই আমাদের । আর আমার স্বামীরও একদম ইচ্ছে ছিলনা আগের পক্ষের বাচ্চা রাখার । এদিকে বিয়ের আট মাসের মধ্যেই পেটে আর একটা এসে গেছে আমার । আমরা কায়দা করে একটা ক্লিনিক থেকে টেস্টও করিয়ে নিয়েছি, এবার আর মেয়ে নয়, ছেলেই আসছে । কি করবো বল বৌদি? যে আসছে তার ভবিষ্যতের কথাটাও তো চিন্তা করতে হবে । আমার দিদি বলে -তাই বলে তুই এরকম করবি , আরে অনেকেরই তো বাচ্চা হয়না, সেরকম একটা কাউকে খুঁজে দিয়ে দিলে পারতিস ? তো মাসি বলে -আমরা অনেককে জিগ্গেস করেছিলাম বৌদি , মেয়ে কেউ নেবেনা , ছেলে হলে হয়তো ব্যাবস্থা হয়ে যেত । দিদি বলে -এসব জানতে পারলে তো পুলিশ ধরে নিয়ে যাবে তো তোকে ? মাসিটা বলে -জানি বৌদি , একটু রিক্স নিয়েই করলাম, তবে কিছু হবে না বৌদি, আমার বরের মাথায় খুব বুদ্ধি ,ও আমাকে বলেছে তোমার মেয়েতো ভালকরে কথা বলতে পারেনা এখনো, ঠিকানা বলতে পারবেনা কাউকে ।
মা শুনে বলে -এবাবা ছিঃ ছিঃ , কি কান্ড, এরকম কি করা যায় নাকি । আজকাল কি যে হচ্ছে ? কাকু বলে -আজকাল কেন এসব অনেকদিন থেকেই হচ্ছে । অনেকেই মহিলাই তো সদ্য জন্মানো অবৈধ বাচ্চা ডাস্টবিনে গিয়ে ফেলে আসে । কেউ কেউ তো হসপিটালেই ফেলে পালায় , কেউ আবার মন্দিরের দরজায় ফেলে দেয় ।
মা বলে -সত্যি , কি কান্ড দেখ, অনেকে আছে যাদের অনেক চেষ্টা করেও বাচ্চা হয়না , আবার এদিকে অনেকের বাচ্চা হয় , কিন্তু প্রথম স্বামী মরে গেছে বলে যে দ্বিতীয় বিয়ে করবে , সেটাও প্রথম পক্ষের বাচ্চার জন্য শান্তিতে করতে পারেনা ।
কাকু বলে -লোকের কথা ছাড় , তুমি এখন ঠিক কর কি করবে । আমাদের বিয়ের পর ওই দুটো কে রাখবে না ছাড়বে । মা বলে -তুমি কি বল ? কাকু বলে -তোমার স্বামীর তো সেরকম বিশেষ আন্তীয়স্বজন কেউ নেই কাছাকাছি । মা বলে -না, আমার শাশুড়িও এখন ,বিহারে ওর বোনের বাড়ি আছে , ওখানেই থাকবে । কাকু বলে -ভালোই তো হল, কেউ কিছু বলারও নেই | তাহলে আর রেখে কি করবে , ছেড়ে দাও না। মা বলে -সেটা আমিও ভাবছি , কিন্তু ওদের হাটাবো কি করে ? কাকু বলে - কিছু একটা বুদ্ধি লাগাতে হবে । দাঁড়াও আমি দেখছি । তুমি যখন আজ বলেই দিলে যে ওদের আর নেবে না , তখন আমাদের বিয়ের আগে একটা কিছু ব্যবস্থা আমি যেভাবেই হোক করবো । মা বলে -হ্যাঁ তপনদা তুমি একটা কিছু ব্যবস্থা কর । আমি আবার বিয়ে করবো বলে ওদের তো আর রাস্তায় ছেড়ে দিতে পারিনা । কাকু হাঁসতে হাঁসতে বলে তোমার ছেলেকে তো এখন আমরা রাস্তায় নামিয়ে দিয়েই এলাম আমরা । মা হেসে ফেলে কাকুর কথা শুনে ।
কাকু একটু ভেবে বলে -আমার দিদিরই তো বাচ্চা কাচ্চা হয়নি , এদিকে জামাইবাবুও তো গত বছর খুব কম বয়েসে মারা গেল, ফলে আর বাচ্চা কাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা নেই । তাহলে ভাবছি দিদিকেই বলবো , ও মনে হয় দুজনকেই নিয়ে নেবে । ওর বাচ্চা নেওয়ার খুব শখ ছিল । অনাথ আশ্রম থেকে বাচ্চা নেওয়া অনেক ঝামেলার , অনেক নিয়ম কানুন মানতে হয় , আবার সবাইকে দেয়ও না । দিদির তো স্বামী মারা গেছে , ওকে তো দেবেই না ।
মা বলে -হ্যাঁ তাহলে তো ভালোই হয় , লোকজনকে বলা যাবে যে কলকাতায় রেখে পড়াশুনো করাচ্ছি । কাকু বলে -ঠিক আছে তাহলে তাই হবে । তুমি কিন্তু তোমার ছেলে মেয়েদের এখন থেকে আর তেমন আদর মাদর করো না , ওতে মায়া বেড়ে যায় ,পরে ছাড়তে অসুবিধে হবে । মা বলে -হ্যাঁ এটা অবশ্য ঠিক বলেছো । কাকু বলে -পরে আবার আমাকে দোষ দেবেনা তো বৌদি, যে তোমার জন্যই ওদের কে ছাড়তে হল । মা বলে -না রে বাবা , আমি তো নিজেই বললাম তোমার সাথে বিয়ে গেলে ওদের আর লাগবেনা আমার । কাকু বলে -ঠিক তো ? একদম ফাইনাল তো ? মা বলে -হ্যাঁ হ্যাঁ ফাইনাল , যে পয়দা করেছে সেই যখন আর বেঁচে নেই , তখন ঝুট ঝামেলা রেখে আর কি লাভ । তা ছাড়া দেখ স্বামী বেঁচে থাকলে তো ঠিকমত আদর ভালবাসা দিয়েই বড় করতাম আমি ওদের, মানে যে রকম সকলে করে আরকি । স্বামীটা ফট করে খুন হয়ে গেল সেটা কি আমার দোষ । এখন ওদের বোঝা বয়ে আমি কি করবো , যাদের বাচ্চা হচ্ছে না , বাচ্চার দরকার তাদের কাছে দিয়ে দিলে বরং অনেক বেশি ভালবাসা পাবে , অনেক আদোরে বড় হবে । কাকু বলে -ঠিক , যতদিন তোমার স্বামী বেঁচে ছিল ততদিন তুমি তো সব কর্তব্যই করেছো । মা বলে -হ্যাঁ, সব করেছি , বিশ্বাস কর খুব আদরে রেখেছিলাম ওদের আর স্বামী বেঁচে থাকলে রাখতামও । তাছাড়া আমার স্বামী যদি অনেক টাকা পয়সা রেখে যেত , তাহলে কি আর ওদের এমনভাবে ছেড়ে দিতে হত? ভাল বোর্ডিংএ দিয়ে টিয়ে দিতাম । স্বামী তো কিছুই প্রায় রেখে যায়নি । আমার তাহলে চলবে কি করে বল ? আমাকে তো কাউকে একটা বিয়ে টিয়ে করে সেটেল্ড হতে হবে তো নাকি ? কাকু বলে -হ্যাঁ ঠিকই তো । আর তুমি কি করবে ? যতদিন তোমার স্বামী বেঁচে ছিল তুমিই তো সবই করেছো যা অন্য মায়েরা করে । মা বলে -হ্যাঁ গো, বাচ্চা বেলাতেই তো ছেলে মেয়েদের মাকে বেশি লাগে , আমি তো ওই সময়ে যতটা পেরেছি আদর ভালবাসা দিয়ে, দিন রাত মাই খাইয়ে খাইয়ে, আগলে রেখে রেখে ওদের তো মোটামুটি বড় করেই দিলাম । আর কি করবো ? এখনো মেয়েটা কোনদিন রাতে ঘুমোতে না চাইলে চুমু দিয়ে দিয়ে ঘুম পারাই ওকে তুমি জান ? আর ছেলেটা এত বড় হয়ে গেছে তাও কোনদিন রাগ টাগ করলে বাবা বাছা করে গায়ে পিঠে হাত বুলিয়ে দিয়ে রাগ ভাঙ্গাই, চুমুও টুমুও দি এখনো । আর কি করবো ? কাকু বলে -ব্যাস তাহলে আবার কি , এবার ঝেড়ে ফেল । মা বলে হ্যাঁ হ্যাঁ , এইবার ঝেড়ে ফেলবো , অনেক হয়েছে আর নয় । তুমি যখন আমার জীবনে এসেই গেছ তখন আর কাউকে আমি ডরাই না । এবার থেকে শুধু তোমার বাচ্চা আমার মাই খাবে , আমার আদর পাবে । কাকু হেসে আদর করে মায়ের গাল টিপে দেয় । মা বলে -ঠিক বলছিনা বল ?আর কি করবো , আমারো তো ভবিষৎ আছে নাকি । বাকিটা ওদের ভাগ্য | নাও এস এবার বাকি কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করি আমরা, অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে ।
( চলবে )


![[+]](https://xossipy.com/themes/sharepoint/collapse_collapsed.png)