14-06-2024, 10:42 PM
পর্ব-০৫
উচ্চ শিক্ষায় লাভের উদ্দেশ্যে লাভের উদ্দেশ্য আজ দেশ ছেড়ে যেতে হচ্ছে। এটি বাবার ই সিদ্ধান্ত। সবাইকে ছেড়ে যেতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। তবুও যেতে তো হবেই।
সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে নুরের জন্য। বার বার ওর কান্না মাখা মায়াবী মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠছে। আজ যখন আসছিলাম তখন আমায় শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কতই না কান্না করছিল।
যাকে কখনো কেউ কান্না করতে দেখেনি। আজ তার কান্নায় সমস্ত বাসা যেন বার বার কেঁপে কেঁপে উঠছিল যেন। শুধু বার বার বলেছিল আমি যেন কোথাও না যাই।
কিন্তু আজ ওর কথা শোনার মত কেউ ছিল না। তাছাড়া উচ্চ শিক্ষার নাম করে আমাকে যে ওর থেকে দুরে রাখার জন্যই পাঠানো হচ্ছো।
সে কথা কি নুর কখনো বুঝবে। বুঝবেই বা কি করে, ওর ঐটুকুন মাথায় এসব কি আর ভাবার সময় আছে। না নেই। হয়তো কখনোই আসবে না।
_______________
বিলেতে আসার আজ কেটে গেছে কয়েক টি মাস। নুরকে দেখতে খুব করে ইচ্ছে করছে। চাইলেই ফোনে দেখা সম্ভব ওকে। কিন্তু তাতে কি চোখে শান্তি মিলে।
সব সময় ওকে মিস করি। মিস করি ওর বাচ্চামি সভাব গুলো, মিস করি ওর করা দুষ্টুমিকে তার থেকে বেশি মিস করি আস্ত নুরটাকেই।
_____________
- নুর
হ্যালো
কথা বলছো না কেন
- হুম
- আমার সাথে কথা বলবি না
- কি বলব
- কেমন আছো
- অনেক ভালোই আছি
কথাটি বলতে না বলতেই কান্না জুড়ে দিল নুর। যখন থেকে এখানে এসেছি এ যেন ওর নিত্যদিনের কাজ। এত করে বলি কান্না না করতে। তবুও কান্না করবেই।
যাকে সবসময় হাসি খুশি রাখতাম। আজ সে আমার অনুপস্থিতিতে চোখের জল ফেলতে একটু ভাবে না।
- নুর কান্না বন্ধ কর
- তুমি ফিরে আসো ভাইয়া। কত দিন হয়ে গেল তোমাকে দেখি না। শুধু একবার এসে যাও। আবার না হয় ফিরে যেও। কখনো আর আসতে বলব না।
- এটা হয় না। আর একটু অপেক্ষা কর ঠিক ফিরে আসব।
_______________
- নিলা আসতে এত লেট করলে যে কোনো সমস্যা হয়নি তো আসতে
নিলা পার্কের ভিতর তাদের দেখা করার স্থানে আসতেই নিশান ওকে উক্ত কথাটি বলে উঠে
- আর বলিও না। তুমি তো জানোই হৃদ বিলেতে গেছে। হৃদ যখন ছিল কোন সমস্যাই ছিল না। এখন হৃদ নেই হয়েছে আমার জ্বালা।
নুর সারাদিন ঠিক মত না খেয়ে বিছানায় পরে থাকে। বড় বাবা বাসায় থাকলে কোনো সমস্যা নেই। যখনই অফিসের কাছে বেরবেন ওমনি মেয়ে মাথায় উঠে বসে পরে।
মা বড় মাও কিছুইতেই ওকে খাওয়াতে পারে না। আমি কত ভাবে বুঝিয়ে সুজিয়ে খাওয়াই আমিই জানি। কিন্তু আজ সব কিছু একদম বিগড়ে গেছে।
মেয়ে কিছুতেই খাবে না। কত ঝানাই পানাই দিয়ে খাওয়ালাম ওকে। একদম গায়ের ঘাম ছুটিয়ে দিছলো আমার।
- এখন ওসব বাদ দাও।
- হুম
- কখন এসেছো
- বেশি সময় হয়নি। এই হবে হয়তো পাঁচ মিনিট।
- আমিতো ভেবেছিলাম আজ আসতে অনেক লেট করেছি। কিন্তু না একদম ঠিক সময়ই এসেছি।
- হুম। ভাগ্যিস রিক্সা পেতে লেট হয়েছে নাহলে অপেক্ষা করতে হতো আমার
অভিমানের সুরে নিলা বলল
- আমি লেট করলে তুমি চলে যেতে বলে মনে হচ্ছে
- এ কথা আমি কখন বললাম
- বল নি ঠিকই। কিন্তু আমি সবই বুঝি। আগের মত বাচ্চাটি নেই আমি
- কে বলেছে তুমি বাচ্চা নেই এখন।
- আমিই বলছি অন্য কাউকে কেন বলতে হবে।
নিলার নাকে আঙুল দিয়ে টেনে বললাম
- তুমি এখনো সেই সতেরো বছর বয়সী নিলার মতই রয়েছো। যে আমার উপর অভিমানের পাহাড় চুড়া বানিয়ে ফেলে আমি আমার ভালোবাসা দিয়ে সে চুড়াকে দুমরে মুচড়ে শেষ করে দিই।
বুনন করি আমার ভালোবাসার তাজ মহল। ভালোবাসি নিলা। সেই প্রথম দিনের ন্যায়।
- আমিও ভালোবাশি।
চলবে********
ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
গল্পের ভিতরে থাকা জীবন বিন্যাস থেকে বাস্তব জীবন অনেক বেশিই সুন্দর। তাই জীবন কে উপভোগ করুন।


![[+]](https://xossipy.com/themes/sharepoint/collapse_collapsed.png)