07-01-2023, 05:00 PM
(24-10-2021, 09:50 PM)Jupiter10 Wrote: মন্দিরের একটু সামনে মুখোমুখি বাম দিকে একটা আর্টিফ্যাক্ট এর দোকান। সেখানেই নানান রকমের পোড়ামাড়ির মূর্তি রয়েছে। ছোটবড় বিভিন্ন আকৃতির কান খাড়া করে দাঁড়িয়ে থাকা ঘোড়ার মূর্তি। সুমিত্রা দুটো এক বিদ্যা সাইজের ঘোড়ার দাম জিজ্ঞেস করে।সুমিত্রার দামদর করার কুশলতা দেখে এই বিষয়ে আত্মীয়মহলে আমার খ্যাতি ও আমার বরের সম্ভ্রম পূর্ণ ব্যবহারের কথা মনে পড়ে যায়। কিছু কেনাকাটা করতে গেলে উনি আমাকেই এগিয়ে দেন।
দোকানদার বলে, “আজ্ঞে ওই দুটো ঘুরার দাম তিনশো টাকা বটে দিদিমণি”।
দাম শুনে সুমিত্রার ভ্রু কপালে উঠে যায়। সে অবাক হয়ে বলে, “কি যে বলেন না দাদাবাবু! মাটির মূর্তির দাম কি এতো হয়?”
“ইগুলার দাম তো এমনই হয় দিদিমণি! কলকাতার বাবুরা তো আরও বেশি দাম দিয়ে কিনে লিয়ে যায়”।
মা আর দোকানদারের কথা শুনে পাশে দাঁড়িয়ে থেকে সঞ্জয় মুচকি মুচকি হাসে।
সে দেখে মা ওই দুটো মূর্তি খুব ভালো ভাবে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছে। মায়ের পছন্দ হয়েছে বোধয়। সেরকম হলে সে ওই দাম দিয়েই কিনে নেবে, যদি দোকানদার নিজের অবস্থানে অনড় থাকে তো।
বেশ কিছুক্ষণ ভালো করে দেখার পর সুমিত্রা বলে, “বড্ড বেশি দাম নিয়ে নিচ্ছেন দাদাবাবু”।
দোকানদার বলে, “দুটো দেড়শ টাকা করে লাইগবে দিদিমণি”।
“থাক তাহলে অন্য দোকানে গিয়ে দেখি”, জবাব দেয় সুমিত্রা।
মায়ের কথা শুনে সঞ্জয় তার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।
দোকানদার আবার বলে,“আপনি কত দিবেন বলেন কেনে”।
সুমিত্রা বলে, “ এই দুটো তে আমি একশো টাকা দেবো। পঞ্চাশ পঞ্চাশ করে। তাও বোধয় বেশি দেওয়া হয়ে যাবে”।
মায়ের দাম শুনে এবার সঞ্জয়ের কপালে চোখ উঠে যাবার পালা! হাসি চেপে রাখে সে।
দোকানদারও ক্ষণিক অবাক হয়ে তাকায় তারপর বলে, “অতো কমে পাইরবক নাই দিদিমণি”।
সুমিত্রা বলে, “তাহলে চললাম অন্য দোকানে”।
সুমিত্রার কথা শুনে দোকানদার একটু ব্যস্ত ভাব নিয়ে বলে, “ আচ্ছা দুইশ টাকা দিবেন দিদিমণি”।
সুমিত্রা বলে, “ না ওটাও অনেক হয়েছে যাচ্ছে”।
ওদের কথোপকথনের মধ্যে সঞ্জয় এগিয়ে আসে।
“কি করছো মা? এতো কমে কি কেউ জিনিস দেয়?”
“তুই চুপ করে থাক। দামদর করা শিখে নে মায়ের কাছে থেকে”।
সুমিত্রা ঘোড়ার মূর্তি দুটো দোকানদারের কাছে নিয়ে গিয়ে বলে, “ একশো কুড়ি! এর বেশি আমি একটি টাকাও দিতে পারবো না”।
দোকানদার খানিক একমনে ভাববার পর, “আচ্ছা ঠিক আছে দিদিমণি তাই দেন। সুকাল সুকাল বওনির টাইম! আপনাকে ফেরায়া দিয়া লাভ নাই। তাই দেন”।
সুমিত্রার মুখে সন্তুষ্টির হাসি। সঞ্জয়ও অবাক হয়।
দোকান থেকে বেরিয়ে , “যদিও আমি এগুলোর সঠিক দাম জানিনা মা। তবে তুমি যথেষ্ঠ কম দামে পেলে ওই গুলো”।
“আরে না রে। পোড়া মাটির জিনিসের এতো দাম হওয়ার কথা নয়। কলকাতার মানুষ বেশি দামে কেনে বলেই দাম বেড়ে যায় এখানকার জিনিসপত্রের”।
“তাই বলে এতো কম মা?”
“তুই এখনও বাজার করতে শিখলি না বাবু! এমন করলে মাসের পুরো টাকাই তুই বাজারে দিয়ে আসবি, শেষে হাতে কিছুই থাকবে না বুঝলি বোকাছেলে”।
মায়ের কথা শুনে সঞ্জয় হাসে।


![[+]](https://xossipy.com/themes/sharepoint/collapse_collapsed.png)