17-12-2022, 11:00 PM
দ্বিপঞ্চাশৎ অধ্যায়
পলি বলছিল বলেই নেট সার্চ করতে বেশ কয়েকজনের নাম পেলেন।তার মধ্যে ড.কাঞ্জিলালও আছেন।মহিলা বলেই ফোন করেছিলেন।
সাইকিয়াট্রিস্টেরও এত চাহিদা।ছুটির দিনে এ মাসে কোনো দিন পাওয়া যাবে না।দেশটা কি পাগলে ভরে গেল?বাধ্য হয়ে এইদিন নিতে হল।বেলা একটা সময় দিয়েছে।দীপশিখার আজ কলেজ যাওয়া হবে না। অনেক ডাক্তার তো হল তাহলে পাগলের ডাক্তারই বা বাকী থাকে কেন।
তাড়াতাড়ি স্নান সেরে নিলেন দীপশিখা।
ডাক্তার দেখাতে গেলে স্টেথো দিয়ে দেখেন চোখের পাতা জিভ দেখেন প্রেশার চেক করেন তারপর সমস্যা কি কথা বলে প্রেসক্রিপশন লিখে দেন।কিন্তু মনের ডাক্তার কিভাবে রোগী দেখেন কোনো ধারণা নেই।এমসির ননদকে কিভাবে দেখেছিল শুক্লাকে জিজ্ঞেস করলে হয়তো জানা যেতো।যাক গে যেভাবে দেখে দেখুক মহিলা ডাক্তার অসুবিধে কি।কিছু না হোক একটা অভিজ্ঞতা তো হবে।মনকে বুঝ দিলেন দীপশিখা।খালি খালি কলেজ কামাই হয়ে গেল এই যা।
খাওয়া শেষ করে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্রসাধন করতে করতে প্রতিবিম্বের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকেন।বোঝার চেষ্টা করেন তাকে কি এ্যাবনরম্যাল মনে হচ্ছে।নিজের মনেই হাসলেন।কলেজে অনেকে বলেছে শরীরের কথা কিন্তু অসংলগ্ন কথা বলেন এমন কেউ বলেনি।তিনি সাইকিয়াট্রিস্ট দেখাবেন কাউকে বলেন নি কোনোদিন বলবেনও না।
মৌলালী হতে ট্রামে চেপে বসলেন।কাজের দিন দুপুর বেলা বাস ট্রামে তেমন ভীড় নেই।কয়েকটা সিট ফাকা জানলার ধারে বসে বাইরে তাকিয়ে থাকেন।কলেজে গেলে লেকচার সহকর্মীদের সঙ্গে একটু কথাবার্তা।তারপর একেবারে একা কথা বলার কেউ নেই।অবসর নেবার পর কিভাবে কাটবে ভেবে শিহরিত হন।কণ্ডাক্টরের কথায় দ্রুত নেমে পড়লেন।ট্রাম বাদিকে বাক নিল দীপশিখা ডানদিকে পার্কস্ট্রিটে ঢোকার মুখে ড.কাঞ্জিলালের চেম্বারে ঢুকে পড়লেন।কয়েকজন অপেক্ষা করছেন।দীপশিখা বসে রুমাল দিয়ে মুখ মুছতে যাবেন ডাক পড়ল,দীপশিখা মিত্র।
ঘড়ি দেখলেন প্রায় একটা উঠে ভিতরে ঢুকলেন।চেয়ারে বসে স্মিত মুখ স্বাস্থ্যবতী মধ্য বয়স্কা মহিলা।ইনি সম্ভবত ড কাঞ্জিলাল।দীপশিখা সামনের চেয়ারে বসতেই ড.কাঞ্জিলাল বললেন,বলুন মিস মিত্র আপনার সমস্যা।
সমস্যা কি বলবেন ভেবে পান না।এক্টু ইতস্তত করে দীপশিখা বললেন,একজন বললেন আপনাকে দেখাবার কথা--তাই।
সমস্যা জানলে আমার কাছে আসবেন কেন?হেসে বললেন কাঞ্জিলাল।
দীপশিখাও হাসলেন।
বাড়ীতে কে কে আছেন?
কেউ নেই আমি একা থাকি।
স্বামী সন্তান তারা কোথায় থাকেন?
আমার কোনো সন্তান নেই।
হু-উ-উম।ঠোট ফুলিয়ে ঘাড় নাড়তে নাড়তে ভাবতে থাকেন কাঞ্জিলাল।একসময় নিজের মনে বলতে থাকেন,পরিবারগুলো ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে আজ এক নতুন সমস্যা তৈরী হয়েছে নিঃসঙ্গতা।
দীপশিখা বিরক্ত এখানে কি গল্প করতে এসেছেন।
ড.কাঞ্জিলাল ডাকলেন,মিস ডলি?
পাশের দরজা দিয়ে নার্সের পোশাকে একটি মেয়ে বেরিয়ে আসতে ড.কাঞ্জিলাল বললেন,একে নিয়ে যাও।যান মিস মিত্র ওর সঙ্গে যান।
আবার কোথায় যেতে হবে?সেখানে আবার কে দেখবেন কে জানে।অনিচ্ছে সত্বেও দীপশিখা উঠে মিস ডলির সঙ্গে গেলেন।একটা ঘরে ন গিয়ে দেখলেন ফাকা ঘর একপাশে বেশ বড় একটা টেবিল।ডলি বলল,ম্যাম আপনি এখানে শুয়ে পড়ুন।
দীপশিখা উঠে টেবিলের উপর শুয়ে পড়তে লাইট নিভে গেল।মৃদু রঙীন আলোয় তৈরী হল স্বপ্নালু পরিবেশ।মিস ডলি চলে গেল।বুঝতে পারছেন না কি ব্যাপার দীপশিখা কি করবেন?বাইরে অনেকে আছে সেজন্য ভাবছেন না।
একটু পরেই ড.কাঞ্জিলাল ঢুকলেন।কাছে এসে ঝুকে তার মুখের উপর মুখ এনে বললেন,আমার চোখের দিকে তাকান।
ড.কাঞ্জিলাল দু-হাতে কপালের দু-পাশে রগ চেপে ধরে বললেন,সোজা তাকান।
দীপশিখার চোখের পাতা ভারী হয়ে এল।মনে হচ্ছে ধীরে ধীরে গভীর অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছেন।
মিস মিত্র আপনি কি করেন?
ক-ল-এজে প-ড়া-ই ...অধ্যা-প-না।কথা জড়িয়ে যাচ্ছে।
একের পর এক প্রশ্ন দীপশিখার মুখ থেকে আপনা হতে উত্তর বেরিয়ে যাচ্ছে।
সুখ প্লেজারে গিয়ে জানতে পারল আজ তাকে বাইপাশের ধারে এক হোটেলে ফরেনারকে সারভিস দিতে হবে।ভদ্রমহিলা কাজের সূত্রে বোস্টন হতে ভারতে এসেছেন।কাছে হাবি নেই সেজন্য প্লেজারের শরণাপন্ন হয়েছেন।সুখর বেশ পুরুষালি চেহারা ইংরেজিতে কথা বলতে হবে বলে সুখকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।ঠিকানা এবং কোড নম্বর নিয়ে সুখ বেরিয়ে পড়ল।ফরেনারদের স্লিম ফিগার হয়।ওরা খুব আপ্যায়ন করে শুনেছে নিজে আগে কখনো ফরেনারদের সার্ভিস দেয় নি।অন্যান্যদের পিছনে যেমন প্রচ্ছন্ন বেদনাদায়ক অতীত থাকে ফরেনারদের ঠিক তেমন নয়।আর পাঁচটা গেমের মত ফাকিং ইজ অলসো এ্যান এনজয়মেণ্ট।পরস্পরের মধ্যে একটা ফাইটিং এ্যাটিচুড থাকে।
ড কাঞ্জিলাল বেরিয়ে যেতে ঘরের লাইট আগের মত জ্বলে উঠল।মিস ডলি তুড়ি মেরে ডাকতে চোখ মেলে তাকালেন দীপশিখা।ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে বললেন,আমি কোথায়?
আপনি ড.কাঞ্জিলালকে দেখাতে এসেছেন।
আবছা আবছা মনে পড়তে থাকে দীপশিখা বললেন, দেখানো হয়ে গেছে?
হ্যা একটু বসুন।উনি আপনার সঙ্গে একটু কথা বলবেন।
দিপশিখা চেম্বারে ঢুকতে ড.কাঞ্জিলাল বললেন,বসুন মিস মিত্র।
দীপশিখা সামনের চেয়ারে বসতে ড.কাঞ্জিলাল বললেন,আচ্ছা মিস মিত্র কমল কে?
ঐ স্কাউণ্ড্রেল সম্পর্কে আমি কিছু বলতে চাই না।
ঠিক আছে।যখন ও চলে গেল--।
চলে যায়নি আমি তাড়িয়ে দিয়েছি।
যাই হোক আপনি তো আবার বিয়ে করতে পারতেন।
ঠোটে ঠোট চেপে কয়েক মুহূর্ত ভাবলেন দিপশিখা তারপর বললেন,একথা আমাকে অনেকেই বলেছিল। সত্যি কথা বলতে কি বিয়ে সম্পর্কে আমার মনে একটা হেট্ট্রেট এসে গেছিল।
আপনি কলেজে পড়ান আপনাকে বলা আমার ধৃষ্টতা।একজনকে দিয়ে সব পুরুষকে বিচার করা কি ঠিক?ড.মিত্রও তো একজন পুরুষ আপনি তাকেও কি এই পর্যায়ে ফেলবেন?
ড.মিত্র?
আপনার দাদার কথা বলছি।
দীপশিখার ভ্রু কুচকে যায় জিজ্ঞেস করেন,উনি আমার দাদা কে বলল?
একটু আগে আলোচনায় আপনিই বলেছেন।
দীপশিখার সব তালগোল পাকিয়ে যায়।ড.কাঞ্জিলাল বলতে থাকেন,একটা গাছের চাহিদানুযায়ী নিয়মিত সার জল দিতে হয়।চাহিদা পূরন না হলে গাছ বাচে না।গাছ কেন মানুষের কথাই ধরুন,মানুষ স্বভাবতই ভাল।কিন্তু যখন তার চাহিদা পূরন না হয় নানা বিপরীত প্রতিক্রিয়া হতে থাকে।চোর চুরি করে অভাব পূরণের জন্য।অভাবে স্বভাব নষ্ট কথাটা শুনেছেন নিশ্চয়?
আপনি ঠিক কি বলতে চাইছেন বুঝলাম না।
অন্যের উপর রাগ করে কেন নিজেকে কষ্ট দিচ্ছেন?জীবনকে উপভোগ করুন দেখবেন জীবনে স্বাচ্ছন্দ ফিরে আসবে।
দীপশিখা হতবাক হয়ে চেয়ে থাকে।
ড.কাঞ্জিলাল ড্রয়ার টেনে একটা কার্ড বের করে কি লিখলেন তারপর বললেন,ডাক্তার হিসেবে নয় একজন বন্ধুর মত বলছি,কার্ডটা এগিয়ে দিয়ে বললেন,এই নম্বরে ফোন করুন।ওরা আপনাকে সর্বতোভাবে সাহচর্য দিয়ে সাহায্য করবে।
সাহচর্য কথাটায় দীপশিখা চমকে উঠলেন বললেন,ডাক্তার হয়ে আপনি এসব কি বলছেন?
এটা আমার সাজেশন।গ্রহণ করবেন কিনা সেটা আপনার বিবেচ্য।আপনার সামাজিক একটা সম্মান আছে আমি জানি এটা অত্যন্ত বিশ্বস্থ প্রতিষ্ঠান। অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি এদের সহায়তা নিয়ে থাকে।
দীপশিখা উঠে দাঁড়িয়ে বললেন,আপনার ফিজ?
বাইরে কাউণ্টারে দিয়ে দেবেন।ওখান থেকে আপনার প্রেসক্রিপশনও পেয়ে যাবেন।
দীপশিখা কার্ডটা মুঠোয় চেপে ধরে চেম্বার হতে বেরিয়ে গেলেন।ভেবে অবাক লাগে একজন মহিলা হয়ে এমন সাজেশন কিভাবে দিলেন।
ট্রামে উঠে ভাবতে থাকেন এই ডাক্তার এমসির ননদকে সুস্থ করে তুলেছেন।চোখের সামনে প্রেসক্রিপশন খুলে দেখে ভাবতে থাকেন,এই ওষুধ খাবেন কিনা।
পলি বলছিল বলেই নেট সার্চ করতে বেশ কয়েকজনের নাম পেলেন।তার মধ্যে ড.কাঞ্জিলালও আছেন।মহিলা বলেই ফোন করেছিলেন।
সাইকিয়াট্রিস্টেরও এত চাহিদা।ছুটির দিনে এ মাসে কোনো দিন পাওয়া যাবে না।দেশটা কি পাগলে ভরে গেল?বাধ্য হয়ে এইদিন নিতে হল।বেলা একটা সময় দিয়েছে।দীপশিখার আজ কলেজ যাওয়া হবে না। অনেক ডাক্তার তো হল তাহলে পাগলের ডাক্তারই বা বাকী থাকে কেন।
তাড়াতাড়ি স্নান সেরে নিলেন দীপশিখা।
ডাক্তার দেখাতে গেলে স্টেথো দিয়ে দেখেন চোখের পাতা জিভ দেখেন প্রেশার চেক করেন তারপর সমস্যা কি কথা বলে প্রেসক্রিপশন লিখে দেন।কিন্তু মনের ডাক্তার কিভাবে রোগী দেখেন কোনো ধারণা নেই।এমসির ননদকে কিভাবে দেখেছিল শুক্লাকে জিজ্ঞেস করলে হয়তো জানা যেতো।যাক গে যেভাবে দেখে দেখুক মহিলা ডাক্তার অসুবিধে কি।কিছু না হোক একটা অভিজ্ঞতা তো হবে।মনকে বুঝ দিলেন দীপশিখা।খালি খালি কলেজ কামাই হয়ে গেল এই যা।
খাওয়া শেষ করে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্রসাধন করতে করতে প্রতিবিম্বের দিকে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকেন।বোঝার চেষ্টা করেন তাকে কি এ্যাবনরম্যাল মনে হচ্ছে।নিজের মনেই হাসলেন।কলেজে অনেকে বলেছে শরীরের কথা কিন্তু অসংলগ্ন কথা বলেন এমন কেউ বলেনি।তিনি সাইকিয়াট্রিস্ট দেখাবেন কাউকে বলেন নি কোনোদিন বলবেনও না।
মৌলালী হতে ট্রামে চেপে বসলেন।কাজের দিন দুপুর বেলা বাস ট্রামে তেমন ভীড় নেই।কয়েকটা সিট ফাকা জানলার ধারে বসে বাইরে তাকিয়ে থাকেন।কলেজে গেলে লেকচার সহকর্মীদের সঙ্গে একটু কথাবার্তা।তারপর একেবারে একা কথা বলার কেউ নেই।অবসর নেবার পর কিভাবে কাটবে ভেবে শিহরিত হন।কণ্ডাক্টরের কথায় দ্রুত নেমে পড়লেন।ট্রাম বাদিকে বাক নিল দীপশিখা ডানদিকে পার্কস্ট্রিটে ঢোকার মুখে ড.কাঞ্জিলালের চেম্বারে ঢুকে পড়লেন।কয়েকজন অপেক্ষা করছেন।দীপশিখা বসে রুমাল দিয়ে মুখ মুছতে যাবেন ডাক পড়ল,দীপশিখা মিত্র।
ঘড়ি দেখলেন প্রায় একটা উঠে ভিতরে ঢুকলেন।চেয়ারে বসে স্মিত মুখ স্বাস্থ্যবতী মধ্য বয়স্কা মহিলা।ইনি সম্ভবত ড কাঞ্জিলাল।দীপশিখা সামনের চেয়ারে বসতেই ড.কাঞ্জিলাল বললেন,বলুন মিস মিত্র আপনার সমস্যা।
সমস্যা কি বলবেন ভেবে পান না।এক্টু ইতস্তত করে দীপশিখা বললেন,একজন বললেন আপনাকে দেখাবার কথা--তাই।
সমস্যা জানলে আমার কাছে আসবেন কেন?হেসে বললেন কাঞ্জিলাল।
দীপশিখাও হাসলেন।
বাড়ীতে কে কে আছেন?
কেউ নেই আমি একা থাকি।
স্বামী সন্তান তারা কোথায় থাকেন?
আমার কোনো সন্তান নেই।
হু-উ-উম।ঠোট ফুলিয়ে ঘাড় নাড়তে নাড়তে ভাবতে থাকেন কাঞ্জিলাল।একসময় নিজের মনে বলতে থাকেন,পরিবারগুলো ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে আজ এক নতুন সমস্যা তৈরী হয়েছে নিঃসঙ্গতা।
দীপশিখা বিরক্ত এখানে কি গল্প করতে এসেছেন।
ড.কাঞ্জিলাল ডাকলেন,মিস ডলি?
পাশের দরজা দিয়ে নার্সের পোশাকে একটি মেয়ে বেরিয়ে আসতে ড.কাঞ্জিলাল বললেন,একে নিয়ে যাও।যান মিস মিত্র ওর সঙ্গে যান।
আবার কোথায় যেতে হবে?সেখানে আবার কে দেখবেন কে জানে।অনিচ্ছে সত্বেও দীপশিখা উঠে মিস ডলির সঙ্গে গেলেন।একটা ঘরে ন গিয়ে দেখলেন ফাকা ঘর একপাশে বেশ বড় একটা টেবিল।ডলি বলল,ম্যাম আপনি এখানে শুয়ে পড়ুন।
দীপশিখা উঠে টেবিলের উপর শুয়ে পড়তে লাইট নিভে গেল।মৃদু রঙীন আলোয় তৈরী হল স্বপ্নালু পরিবেশ।মিস ডলি চলে গেল।বুঝতে পারছেন না কি ব্যাপার দীপশিখা কি করবেন?বাইরে অনেকে আছে সেজন্য ভাবছেন না।
একটু পরেই ড.কাঞ্জিলাল ঢুকলেন।কাছে এসে ঝুকে তার মুখের উপর মুখ এনে বললেন,আমার চোখের দিকে তাকান।
ড.কাঞ্জিলাল দু-হাতে কপালের দু-পাশে রগ চেপে ধরে বললেন,সোজা তাকান।
দীপশিখার চোখের পাতা ভারী হয়ে এল।মনে হচ্ছে ধীরে ধীরে গভীর অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছেন।
মিস মিত্র আপনি কি করেন?
ক-ল-এজে প-ড়া-ই ...অধ্যা-প-না।কথা জড়িয়ে যাচ্ছে।
একের পর এক প্রশ্ন দীপশিখার মুখ থেকে আপনা হতে উত্তর বেরিয়ে যাচ্ছে।
সুখ প্লেজারে গিয়ে জানতে পারল আজ তাকে বাইপাশের ধারে এক হোটেলে ফরেনারকে সারভিস দিতে হবে।ভদ্রমহিলা কাজের সূত্রে বোস্টন হতে ভারতে এসেছেন।কাছে হাবি নেই সেজন্য প্লেজারের শরণাপন্ন হয়েছেন।সুখর বেশ পুরুষালি চেহারা ইংরেজিতে কথা বলতে হবে বলে সুখকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।ঠিকানা এবং কোড নম্বর নিয়ে সুখ বেরিয়ে পড়ল।ফরেনারদের স্লিম ফিগার হয়।ওরা খুব আপ্যায়ন করে শুনেছে নিজে আগে কখনো ফরেনারদের সার্ভিস দেয় নি।অন্যান্যদের পিছনে যেমন প্রচ্ছন্ন বেদনাদায়ক অতীত থাকে ফরেনারদের ঠিক তেমন নয়।আর পাঁচটা গেমের মত ফাকিং ইজ অলসো এ্যান এনজয়মেণ্ট।পরস্পরের মধ্যে একটা ফাইটিং এ্যাটিচুড থাকে।
ড কাঞ্জিলাল বেরিয়ে যেতে ঘরের লাইট আগের মত জ্বলে উঠল।মিস ডলি তুড়ি মেরে ডাকতে চোখ মেলে তাকালেন দীপশিখা।ধড়ফড়িয়ে উঠে বসে বললেন,আমি কোথায়?
আপনি ড.কাঞ্জিলালকে দেখাতে এসেছেন।
আবছা আবছা মনে পড়তে থাকে দীপশিখা বললেন, দেখানো হয়ে গেছে?
হ্যা একটু বসুন।উনি আপনার সঙ্গে একটু কথা বলবেন।
দিপশিখা চেম্বারে ঢুকতে ড.কাঞ্জিলাল বললেন,বসুন মিস মিত্র।
দীপশিখা সামনের চেয়ারে বসতে ড.কাঞ্জিলাল বললেন,আচ্ছা মিস মিত্র কমল কে?
ঐ স্কাউণ্ড্রেল সম্পর্কে আমি কিছু বলতে চাই না।
ঠিক আছে।যখন ও চলে গেল--।
চলে যায়নি আমি তাড়িয়ে দিয়েছি।
যাই হোক আপনি তো আবার বিয়ে করতে পারতেন।
ঠোটে ঠোট চেপে কয়েক মুহূর্ত ভাবলেন দিপশিখা তারপর বললেন,একথা আমাকে অনেকেই বলেছিল। সত্যি কথা বলতে কি বিয়ে সম্পর্কে আমার মনে একটা হেট্ট্রেট এসে গেছিল।
আপনি কলেজে পড়ান আপনাকে বলা আমার ধৃষ্টতা।একজনকে দিয়ে সব পুরুষকে বিচার করা কি ঠিক?ড.মিত্রও তো একজন পুরুষ আপনি তাকেও কি এই পর্যায়ে ফেলবেন?
ড.মিত্র?
আপনার দাদার কথা বলছি।
দীপশিখার ভ্রু কুচকে যায় জিজ্ঞেস করেন,উনি আমার দাদা কে বলল?
একটু আগে আলোচনায় আপনিই বলেছেন।
দীপশিখার সব তালগোল পাকিয়ে যায়।ড.কাঞ্জিলাল বলতে থাকেন,একটা গাছের চাহিদানুযায়ী নিয়মিত সার জল দিতে হয়।চাহিদা পূরন না হলে গাছ বাচে না।গাছ কেন মানুষের কথাই ধরুন,মানুষ স্বভাবতই ভাল।কিন্তু যখন তার চাহিদা পূরন না হয় নানা বিপরীত প্রতিক্রিয়া হতে থাকে।চোর চুরি করে অভাব পূরণের জন্য।অভাবে স্বভাব নষ্ট কথাটা শুনেছেন নিশ্চয়?
আপনি ঠিক কি বলতে চাইছেন বুঝলাম না।
অন্যের উপর রাগ করে কেন নিজেকে কষ্ট দিচ্ছেন?জীবনকে উপভোগ করুন দেখবেন জীবনে স্বাচ্ছন্দ ফিরে আসবে।
দীপশিখা হতবাক হয়ে চেয়ে থাকে।
ড.কাঞ্জিলাল ড্রয়ার টেনে একটা কার্ড বের করে কি লিখলেন তারপর বললেন,ডাক্তার হিসেবে নয় একজন বন্ধুর মত বলছি,কার্ডটা এগিয়ে দিয়ে বললেন,এই নম্বরে ফোন করুন।ওরা আপনাকে সর্বতোভাবে সাহচর্য দিয়ে সাহায্য করবে।
সাহচর্য কথাটায় দীপশিখা চমকে উঠলেন বললেন,ডাক্তার হয়ে আপনি এসব কি বলছেন?
এটা আমার সাজেশন।গ্রহণ করবেন কিনা সেটা আপনার বিবেচ্য।আপনার সামাজিক একটা সম্মান আছে আমি জানি এটা অত্যন্ত বিশ্বস্থ প্রতিষ্ঠান। অনেক গণ্যমান্য ব্যক্তি এদের সহায়তা নিয়ে থাকে।
দীপশিখা উঠে দাঁড়িয়ে বললেন,আপনার ফিজ?
বাইরে কাউণ্টারে দিয়ে দেবেন।ওখান থেকে আপনার প্রেসক্রিপশনও পেয়ে যাবেন।
দীপশিখা কার্ডটা মুঠোয় চেপে ধরে চেম্বার হতে বেরিয়ে গেলেন।ভেবে অবাক লাগে একজন মহিলা হয়ে এমন সাজেশন কিভাবে দিলেন।
ট্রামে উঠে ভাবতে থাকেন এই ডাক্তার এমসির ননদকে সুস্থ করে তুলেছেন।চোখের সামনে প্রেসক্রিপশন খুলে দেখে ভাবতে থাকেন,এই ওষুধ খাবেন কিনা।