13-12-2022, 01:13 PM
পঞ্চাশৎ অধ্যায়
ঘুমিয়ে পড়েছিল সুখ।চোখ খুলে দেখল দেওয়াল ঘড়িতে চারটে বাজে। ক্লায়েণ্ট সময় দিয়েছে পাঁচটার পর।পাঁচটার পর হয়তো বাড়ী ফাকা থাকবে। সকালে গিয়ে প্লেজার হতে ঠিকানা কোড নম্বর নিয়ে এসেছে।কাছেই বরানগরে যেতে হবে।বাথরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে তৈরী হয়ে নিল।একদিনে অভিজ্ঞতা কম হল না।ক্লায়েণ্ট বিধবা না সধবা বয়স কত কিছুই জানে না।পৌনে পাঁচটা নাগাদ বাসে চেপে বসল।
এই জীবনের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে কোনোদিন কল্পনাও করেনি।পূর্ব পাকিস্তান ছেড়ে গোপাল নগরে সেখান থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে স্রোতের শ্যাওলার মত ভাসতে ভাসতে চলেছে।কয়েক সপ্তাহের অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছেও অনেক কিছু।মানুষ কত বিচিত্র কারো সঙ্গেই ব্যক্তিগত কথাবার্তা কিছু না হলেও হাবেভাবে অনুভব করেছে তাদের জীবনে আছে প্রচ্ছন্ন এক ট্রাজেডি।কেউ সুখী নয়। নিজেদের বঞ্চনার বদলা নিতে তার উপর খবরদারি করে বিগত দিনের বঞ্চনার খামতি কিছুটা পুরণ করতে চায়।প্রথম প্রথম খারাপ লাগলেও সুখর এখন গা সওয়া হয়ে গেছে।এখন সে রীতিমত পেশাদার।কোথাও মানবিক ব্যবহার প্রত্যাশা করেনা।যে যা হুকুম করে নির্বিবাদে নীরবে পালন করে যায়।কন্ডাক্টরের হাক ডাকে সচেতন হয়ে বাস থেকে নেমে পড়ল।
বাস থেকে নেমে কিছুটা গিয়েই পাড়াটার হদিশ পেলেও নম্বর মিলিয়ে বাড়ীটা খুজে পায় না।বিশাল বিশাল চারতলা ফ্লাটবাড়ি, বাড়ীগুলো ক্রমানুসারে নেই।বাড়ীটার নাম ছন্দনীড়।second floor No 9 . ভেবেছিল কাউকে জিজ্ঞেস করবে না কিন্তু এভাবে কলুর বলদের মত কাহাতক ঘোরা যায়।ক্লায়েণ্ট হয়তো অস্থির হয়ে উঠেছে,গেলেই গালমন্দ শুরু করবে।সামনে একটা তেলেভাজার দোকানে গিয়ে জিজ্ঞেস করল,দাদা ছন্দনীড় ফ্লাট কোথায় বলতে পারবেন?
লুঙ্গি পরা গেঞ্জি গায়ে লোকটি ব্যাসন গুলছিল তার দিকে তাকিয়ে একনজর দেখে বলল,সোজা গিয়ে দেখবেন বাদিকে গলি।গলি দিয়ে ঢুকে তিনটে বাড়ীর পর একতলা বাড়ী তার পাশেই হলদে রঙের চারতলা ফ্লাট।
ধন্যবাদ দাদা।
সুখ দ্রুত হাটতে শুরু করল।গলির মুখে পৌছে দেখল ছোটোখাট একটা ভীড়।ভীড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে একজন মহিলা।ডানদিকে তাকাতে তাকাতে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়।আরে এইতো ছন্দনীড়।ফ্লাটের নীচেই জটলা।কৌতূহল বশত এগিয়ে গেল।ছেলেগুলো বলছে,ভাবীজী আমরা আপনাকে সম্মান করি--।বেচে থাকতে দাদা আমাদের ক্লাবে যেতো।আপনি একা থাকেন।এসব যা শুনছি বলুন সেকি ভাল?
সুখ ভীড়ের ফাক গলে ভিতরে ঢুকে সিড়ি দিয়ে তিনতলায় উঠে দেখল কাঠের দরজায় পিতলে লেখা 9.পকেট হতে রুমাল বের করে মুখ মুছে আলতো করে কলিং বেলে চাপ দিল।সুন্দর সঙ্গীতের সুর বাইরে থেকেও শোনা যাচ্ছে।কয়েক সেকেণ্ড পর থেমে গেল।কেউ দরজা খুললো না।কি ব্যাপার বাড়ীতে কেউ নেই নাকি?পাঁচটার পরে বলেছিল এখন প্রায় পৌনে ছটা বাজতে চলল।আরেকবার বেলে চাপ দিল।
কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে ধীরে ধীরে নীচে নেমে এল।নীচে তখনও ছেলেদের জটলা চলছে।সুখ পাস কাটিয়ে গলি থেকে বেরিয়ে গেল।কি করবে এখন?বড় রাস্তায় এসে বাস স্টপেজে দাঁড়িয়ে ভাবতে থাকে।মহিলা হয়তো কোথাও গেছেন পাঁচটার সময় ফেরার কথা।ট্রাফিক জ্যাম বা কোনো কারণে দেরী হয়ে গেছে।
আজ লাস্ট পিরিয়ডে ক্লাস ছিল।ক্লাস শেষ করে দীপশিখা বেরিয়ে দেখলেন স্টাফ রুমের বাইরে শুক্লা বোস।মেয়েটি অল্প বয়সে অধ্যাপনায় ঢুকেছে তাকে খুব সম্মান করে।কলেজের নানা খবর ওর কাছেই পায়। কাছে যেতে বলল,দীপুদি বাড়ী যাবে তো?
হ্যা যাবো।দাড়া ব্যাগটা নিয়ে আসি।
স্টাফ রুমে ঢুকে ব্যাগ গুছিয়ে দীপশিখা বেরিয়ে বললেন,তারপর রয়টার খবর কি?
খবর আর কি?ননদ বিদায়ের পর এমসি বেশ খুশি।
কি হয়েছিল ননদের?
কি জানি সব কথা তো বলে না।স্বামীকে সন্দেহ করতো--।
খালি খালি?
তা কি করে বলব?তবে শুনলাম ডাক্তার কাঞ্জিলালের তত্ত্বাবধানে থেকে একেবারে স্বাভাবিক হয়ে গেছে।
কাঞ্জিলাল কোথায় বসেন?
তোমার বাড়ীর কাছেই।মৌলালি থেকে পার্ক স্ট্রীটের দিকে মিনিট দশেক গেলেই ওর চেম্বার।তুমি নেট সার্চ করলেই সব পেয়ে যাবে।
শুক্লার উলটো দিকের স্টপেজে দাড়াবার কথা হলেও সে দীপশিখার সঙ্গে যেতে থাকে।দীপশিখা বললেন,তোর বিয়ের কি খবর?
সেকথা বলব বলেই তোমার সঙ্গে যাচ্ছি।
এতক্ষনে বুঝতে পারেন শুক্লা কেন তার জন্য অপেক্ষা করছিল।বাস আসতে দুজনেই উঠে পড়ল।
বাস থেকে নেমে তিনতলায় উঠে শুক্লাকে বসার ঘরে বসিয়ে পাখা চালিয়ে দিয়ে দীপশিখা বললেন,তুই একটু বোস।
শুক্লা আগেও এসেছে।সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে চারপাশ দেখতে থাকে।দীপশিখা চেঞ্জ করে বেরিয়ে এসে বললেন,চা খাবি তো?
খালি চা?
দীপশিখা হাসলেন।
দেখো দীপুদি কি সুন্দর চেহারা তোমার দেখে মনে হয় বুড়িয়ে গেছো।
বয়স হচ্ছে না?
বাজে কথা বোলো না তো।এখনো তোমাকে নায়িকার মত দেখতে।তোমার ফ্লাটটা দারুণ দক্ষিণ খোলা--।
আগে তো কলেজের কাছে বৈঠক খানায় থাকতাম।একটা ঘরে বই খাওয়া দাওয়া শোয়া সব।তখন তুই আসিস নি।অনেক আশায় কিনেছিলাম ফ্লাটটা।তুই বোস চা করে দুজনে গল্প করা যাবে।
অনেক আশায় কিনেছিলাম কথাটা শুক্লার কানে লাগে।সবটা না জানলেও কিছু কিছু শুনেছে।অবশ্য সবাই যা বলে সবটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।
ডিম পাউরুটি দিয়ে স্যান্ডুইচ করলেন।তারপর চায়ের জল চাপিয়ে দিলেন দীপশিখা।তার শরীর কি সত্যিই ভেঙ্গে যাচ্ছে।পলি বলছিল সাইকিয়াট্রিস্ট দেখাতে।ড কাঞ্জিলাল কাছেই বসেন দেখালে লাভ নাহোক ক্ষতি তো কিছু হবে না। দেখাই যাক না কি বলেন? কত টাকাই তো খরচ হচ্ছে তাছাড়া তার টাকা খাবেই বা কে?একবার নেট সার্চ করে দেখা যাক কন্ট্যাক্ট নম্বর পাওয়া য়ায় কিনা।
চা টোস্ট নিয়ে এসে টেবিলে রেখে বললেন,তাড়াতাড়ি যা পেরেছি করলাম।
শুক্লা বলল,ইটস এনাফ।হাত বাড়িয়ে একটা স্যাণ্ডউইচ তুলে নিল।খাওয়ার ভঙ্গি দেখে মনে হল বেচারির খুব ক্ষিধে পেয়ে গেছে।দীপশিখা উঠে ফ্রিজ থেকে দুটো মিষ্টি এনে প্লেটের উপর রাখলেন।
খাওয়া শেষ হলে দীপশিখা বললেন,তারপর বল কি বলতে এসেছিস?
একটু ভেবে শুক্লা বলল,আচ্ছা দীপুদি পাত্র হিসেবে তোমার কেমন ছেলে পছন্দ?
দ্যাখ শুক্লা আমি কারো মন রেখে কথা বলতে পারি না।
সেটা জানি বলেই তোমার কাছে এসেছি।
তুই অধ্যাপনা করিস ডাক্তার ইঞ্জিনীয়ার কিম্বা বড় সরকারী অফিসারকে তুই অগ্রাধিকার দিবি--।
তাহলে তোমাকে খুলে বলি।একটি ছেলে দেখতে খুব একটা ভাল নয় এমবিবিএস ডাক্তার চেষ্টা করছে এমএস করার।আমার সঙ্গে বাইরে আলাদা কথা বলতে চায়--।
আমি যা বুঝি দেখতে লাল্টু হলে পাড়ার লোকে বলবে দারুন।কিন্তু পাড়ার লোকের জন্য বিয়ে নয়।ডাক্তার হল নাকি ইঞ্জিনীয়ার সেটাও বড় কথা নয়।আসল কথা ছেলেটি তোর টেক কেয়ার করবে কিনা।তোর দুঃখ বেদনা খুশি আনন্দ ভাগ করে নেবে কিনা।তোর যা রোজগার তাতেই সংসার চলে যাবে।ছেলের কত বয়স দেখতে কেমন তার চেয়ে আমার কাছে ছেলেটি মানুষ হিসেবে কেমন?
তুমি বলছো ওর সঙ্গে দেখা করা যেতে পারে?
অবশ্যই পারে।তবে দেখার করার জায়গাটা যেন নিরাপদ হয়।
আমিও এটাই ভাবছিলাম।থ্যাঙ্ক ইউ দিদি--।
তুই আমার সহ কর্মী হলেও তোকে আমি নিজের বোনের মত ভাবি।
বোন হিসেবে তোমাকে একটা কথা বলব?
দীপশিখা চোখ তুলে তাকাতে শুক্লা বলল,তুমি অন্য একজন ডাক্তারকে দেখাও।
ঘুমিয়ে পড়েছিল সুখ।চোখ খুলে দেখল দেওয়াল ঘড়িতে চারটে বাজে। ক্লায়েণ্ট সময় দিয়েছে পাঁচটার পর।পাঁচটার পর হয়তো বাড়ী ফাকা থাকবে। সকালে গিয়ে প্লেজার হতে ঠিকানা কোড নম্বর নিয়ে এসেছে।কাছেই বরানগরে যেতে হবে।বাথরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে তৈরী হয়ে নিল।একদিনে অভিজ্ঞতা কম হল না।ক্লায়েণ্ট বিধবা না সধবা বয়স কত কিছুই জানে না।পৌনে পাঁচটা নাগাদ বাসে চেপে বসল।
এই জীবনের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে কোনোদিন কল্পনাও করেনি।পূর্ব পাকিস্তান ছেড়ে গোপাল নগরে সেখান থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে স্রোতের শ্যাওলার মত ভাসতে ভাসতে চলেছে।কয়েক সপ্তাহের অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছেও অনেক কিছু।মানুষ কত বিচিত্র কারো সঙ্গেই ব্যক্তিগত কথাবার্তা কিছু না হলেও হাবেভাবে অনুভব করেছে তাদের জীবনে আছে প্রচ্ছন্ন এক ট্রাজেডি।কেউ সুখী নয়। নিজেদের বঞ্চনার বদলা নিতে তার উপর খবরদারি করে বিগত দিনের বঞ্চনার খামতি কিছুটা পুরণ করতে চায়।প্রথম প্রথম খারাপ লাগলেও সুখর এখন গা সওয়া হয়ে গেছে।এখন সে রীতিমত পেশাদার।কোথাও মানবিক ব্যবহার প্রত্যাশা করেনা।যে যা হুকুম করে নির্বিবাদে নীরবে পালন করে যায়।কন্ডাক্টরের হাক ডাকে সচেতন হয়ে বাস থেকে নেমে পড়ল।
বাস থেকে নেমে কিছুটা গিয়েই পাড়াটার হদিশ পেলেও নম্বর মিলিয়ে বাড়ীটা খুজে পায় না।বিশাল বিশাল চারতলা ফ্লাটবাড়ি, বাড়ীগুলো ক্রমানুসারে নেই।বাড়ীটার নাম ছন্দনীড়।second floor No 9 . ভেবেছিল কাউকে জিজ্ঞেস করবে না কিন্তু এভাবে কলুর বলদের মত কাহাতক ঘোরা যায়।ক্লায়েণ্ট হয়তো অস্থির হয়ে উঠেছে,গেলেই গালমন্দ শুরু করবে।সামনে একটা তেলেভাজার দোকানে গিয়ে জিজ্ঞেস করল,দাদা ছন্দনীড় ফ্লাট কোথায় বলতে পারবেন?
লুঙ্গি পরা গেঞ্জি গায়ে লোকটি ব্যাসন গুলছিল তার দিকে তাকিয়ে একনজর দেখে বলল,সোজা গিয়ে দেখবেন বাদিকে গলি।গলি দিয়ে ঢুকে তিনটে বাড়ীর পর একতলা বাড়ী তার পাশেই হলদে রঙের চারতলা ফ্লাট।
ধন্যবাদ দাদা।
সুখ দ্রুত হাটতে শুরু করল।গলির মুখে পৌছে দেখল ছোটোখাট একটা ভীড়।ভীড়ের মাঝে দাঁড়িয়ে একজন মহিলা।ডানদিকে তাকাতে তাকাতে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়।আরে এইতো ছন্দনীড়।ফ্লাটের নীচেই জটলা।কৌতূহল বশত এগিয়ে গেল।ছেলেগুলো বলছে,ভাবীজী আমরা আপনাকে সম্মান করি--।বেচে থাকতে দাদা আমাদের ক্লাবে যেতো।আপনি একা থাকেন।এসব যা শুনছি বলুন সেকি ভাল?
সুখ ভীড়ের ফাক গলে ভিতরে ঢুকে সিড়ি দিয়ে তিনতলায় উঠে দেখল কাঠের দরজায় পিতলে লেখা 9.পকেট হতে রুমাল বের করে মুখ মুছে আলতো করে কলিং বেলে চাপ দিল।সুন্দর সঙ্গীতের সুর বাইরে থেকেও শোনা যাচ্ছে।কয়েক সেকেণ্ড পর থেমে গেল।কেউ দরজা খুললো না।কি ব্যাপার বাড়ীতে কেউ নেই নাকি?পাঁচটার পরে বলেছিল এখন প্রায় পৌনে ছটা বাজতে চলল।আরেকবার বেলে চাপ দিল।
কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে ধীরে ধীরে নীচে নেমে এল।নীচে তখনও ছেলেদের জটলা চলছে।সুখ পাস কাটিয়ে গলি থেকে বেরিয়ে গেল।কি করবে এখন?বড় রাস্তায় এসে বাস স্টপেজে দাঁড়িয়ে ভাবতে থাকে।মহিলা হয়তো কোথাও গেছেন পাঁচটার সময় ফেরার কথা।ট্রাফিক জ্যাম বা কোনো কারণে দেরী হয়ে গেছে।
আজ লাস্ট পিরিয়ডে ক্লাস ছিল।ক্লাস শেষ করে দীপশিখা বেরিয়ে দেখলেন স্টাফ রুমের বাইরে শুক্লা বোস।মেয়েটি অল্প বয়সে অধ্যাপনায় ঢুকেছে তাকে খুব সম্মান করে।কলেজের নানা খবর ওর কাছেই পায়। কাছে যেতে বলল,দীপুদি বাড়ী যাবে তো?
হ্যা যাবো।দাড়া ব্যাগটা নিয়ে আসি।
স্টাফ রুমে ঢুকে ব্যাগ গুছিয়ে দীপশিখা বেরিয়ে বললেন,তারপর রয়টার খবর কি?
খবর আর কি?ননদ বিদায়ের পর এমসি বেশ খুশি।
কি হয়েছিল ননদের?
কি জানি সব কথা তো বলে না।স্বামীকে সন্দেহ করতো--।
খালি খালি?
তা কি করে বলব?তবে শুনলাম ডাক্তার কাঞ্জিলালের তত্ত্বাবধানে থেকে একেবারে স্বাভাবিক হয়ে গেছে।
কাঞ্জিলাল কোথায় বসেন?
তোমার বাড়ীর কাছেই।মৌলালি থেকে পার্ক স্ট্রীটের দিকে মিনিট দশেক গেলেই ওর চেম্বার।তুমি নেট সার্চ করলেই সব পেয়ে যাবে।
শুক্লার উলটো দিকের স্টপেজে দাড়াবার কথা হলেও সে দীপশিখার সঙ্গে যেতে থাকে।দীপশিখা বললেন,তোর বিয়ের কি খবর?
সেকথা বলব বলেই তোমার সঙ্গে যাচ্ছি।
এতক্ষনে বুঝতে পারেন শুক্লা কেন তার জন্য অপেক্ষা করছিল।বাস আসতে দুজনেই উঠে পড়ল।
বাস থেকে নেমে তিনতলায় উঠে শুক্লাকে বসার ঘরে বসিয়ে পাখা চালিয়ে দিয়ে দীপশিখা বললেন,তুই একটু বোস।
শুক্লা আগেও এসেছে।সোফায় গা এলিয়ে দিয়ে চারপাশ দেখতে থাকে।দীপশিখা চেঞ্জ করে বেরিয়ে এসে বললেন,চা খাবি তো?
খালি চা?
দীপশিখা হাসলেন।
দেখো দীপুদি কি সুন্দর চেহারা তোমার দেখে মনে হয় বুড়িয়ে গেছো।
বয়স হচ্ছে না?
বাজে কথা বোলো না তো।এখনো তোমাকে নায়িকার মত দেখতে।তোমার ফ্লাটটা দারুণ দক্ষিণ খোলা--।
আগে তো কলেজের কাছে বৈঠক খানায় থাকতাম।একটা ঘরে বই খাওয়া দাওয়া শোয়া সব।তখন তুই আসিস নি।অনেক আশায় কিনেছিলাম ফ্লাটটা।তুই বোস চা করে দুজনে গল্প করা যাবে।
অনেক আশায় কিনেছিলাম কথাটা শুক্লার কানে লাগে।সবটা না জানলেও কিছু কিছু শুনেছে।অবশ্য সবাই যা বলে সবটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।
ডিম পাউরুটি দিয়ে স্যান্ডুইচ করলেন।তারপর চায়ের জল চাপিয়ে দিলেন দীপশিখা।তার শরীর কি সত্যিই ভেঙ্গে যাচ্ছে।পলি বলছিল সাইকিয়াট্রিস্ট দেখাতে।ড কাঞ্জিলাল কাছেই বসেন দেখালে লাভ নাহোক ক্ষতি তো কিছু হবে না। দেখাই যাক না কি বলেন? কত টাকাই তো খরচ হচ্ছে তাছাড়া তার টাকা খাবেই বা কে?একবার নেট সার্চ করে দেখা যাক কন্ট্যাক্ট নম্বর পাওয়া য়ায় কিনা।
চা টোস্ট নিয়ে এসে টেবিলে রেখে বললেন,তাড়াতাড়ি যা পেরেছি করলাম।
শুক্লা বলল,ইটস এনাফ।হাত বাড়িয়ে একটা স্যাণ্ডউইচ তুলে নিল।খাওয়ার ভঙ্গি দেখে মনে হল বেচারির খুব ক্ষিধে পেয়ে গেছে।দীপশিখা উঠে ফ্রিজ থেকে দুটো মিষ্টি এনে প্লেটের উপর রাখলেন।
খাওয়া শেষ হলে দীপশিখা বললেন,তারপর বল কি বলতে এসেছিস?
একটু ভেবে শুক্লা বলল,আচ্ছা দীপুদি পাত্র হিসেবে তোমার কেমন ছেলে পছন্দ?
দ্যাখ শুক্লা আমি কারো মন রেখে কথা বলতে পারি না।
সেটা জানি বলেই তোমার কাছে এসেছি।
তুই অধ্যাপনা করিস ডাক্তার ইঞ্জিনীয়ার কিম্বা বড় সরকারী অফিসারকে তুই অগ্রাধিকার দিবি--।
তাহলে তোমাকে খুলে বলি।একটি ছেলে দেখতে খুব একটা ভাল নয় এমবিবিএস ডাক্তার চেষ্টা করছে এমএস করার।আমার সঙ্গে বাইরে আলাদা কথা বলতে চায়--।
আমি যা বুঝি দেখতে লাল্টু হলে পাড়ার লোকে বলবে দারুন।কিন্তু পাড়ার লোকের জন্য বিয়ে নয়।ডাক্তার হল নাকি ইঞ্জিনীয়ার সেটাও বড় কথা নয়।আসল কথা ছেলেটি তোর টেক কেয়ার করবে কিনা।তোর দুঃখ বেদনা খুশি আনন্দ ভাগ করে নেবে কিনা।তোর যা রোজগার তাতেই সংসার চলে যাবে।ছেলের কত বয়স দেখতে কেমন তার চেয়ে আমার কাছে ছেলেটি মানুষ হিসেবে কেমন?
তুমি বলছো ওর সঙ্গে দেখা করা যেতে পারে?
অবশ্যই পারে।তবে দেখার করার জায়গাটা যেন নিরাপদ হয়।
আমিও এটাই ভাবছিলাম।থ্যাঙ্ক ইউ দিদি--।
তুই আমার সহ কর্মী হলেও তোকে আমি নিজের বোনের মত ভাবি।
বোন হিসেবে তোমাকে একটা কথা বলব?
দীপশিখা চোখ তুলে তাকাতে শুক্লা বলল,তুমি অন্য একজন ডাক্তারকে দেখাও।