26-08-2022, 09:39 PM
(26-08-2022, 08:49 AM)Ankit Roy Wrote: বারবার "অসাধারণ" লিখে আপনার কলমকে ছোটো করবো না জুপিদা,আপনি নিজেও জানেন আপনার গল্পদুটোর উৎকর্ষতা কতোখানি!!
"দেবোশিক"- এর খুনসুটি প্রাণ ভরে উপভোগ করেছি এই পর্বে।তবে যে দুটি বিষয় আমার মনকে বেশি ছুঁয়ে গেছে সেটা হলো---
১.অনুপমের কাছে দেবশ্রীর নিজেকে সমর্পণ করা।বেড়াতে গিয়ে অনুপমের হাতে আস্থার হাত আর কাঁধে মাথা রেখে অনুপমের দোদুল্যমান মনটাকে শান্ত ও নিশ্চন্ত করেছিলো শুধুমাত্র ওই কথাটি বলে-- "এখনো আপনার মনেহয় আমি আপনাকে ভালোবাসি না!"
২.বাঙালির চিরাচরিত কন্যা বিদায় পর্ব,যা আপনার লেখনীর গুণে একটা মাধুর্যপূর্ণ ব্যথায় বুকটা ভরিয়ে দেয়।এই ব্যথাতেও সুখ আছে।
কিন্তু আমার মনটা ব্যথিত হয়েছে অনুপমের জন্য।কোথাও যেন আমার অবচেতন মনে ওই মানুষটার জন্য কিছুটা বিষাদের সুর।মানুষটা দেবশ্রীর অতীত না জেনেই তাকে ভালোবেসেছে,এখনো বাসে।কিন্তু দেবশ্রী তাকে ভালোবেসেছে কি?নাকি অনির্বাণকে ভোলার জন্য অনুপম শুধু অবলম্বন মাত্র!!!ভালোবেসেছে সেটা স্পষ্ট...কারণ কৌশিকের কাছে নিজেই স্বীকার করেছে "দেবশ্রী মজুমদারও অনুপম মুখার্জির প্রেমে পড়েছে"। প্রেমই যদি থাকবে তাহলে ছেলের সাথে এই শারীরিক খেলাটা কি শুধুমাত্র কৌশিকের চরিত্রে অনির্বাণের প্রতিফলনের ফল!!!
শুনেছিলাম নারী একটা সময়ে শুধুমাত্র একজনকেই মনটা দেয়,যাকে দেয় তাকেই দেহ দেয়।কিন্তু দেবশ্রীর ক্ষেত্রে সব উল্টোপাল্টা হয়ে গেলো।দোষ আমি দেবশ্রীর দেবোনা...শুধুমাত্র জুপিদাকে বলবো, আমরা দেবোশিকের উদ্দামতা পড়ার জন্যই উদগ্রীব কিন্তু সেই উদ্দামতার পেছনের যুক্তিটা সুমিত্রার ক্ষেত্রে যতোটা খুঁজে পেয়েছিলাম এক্ষেত্রে ততোটা পাচ্ছি না। আপনার যেকোনো গল্পে বাস্তবতার প্রতিফলন দেখতে পাই।অনুপমের চরিত্রটা এতো ভালো না আঁকলেও পারতেন দাদা(মাতাল বা চরিত্রহীন হলেই বা কি ক্ষতি হতো)অথবা অনুপমের সাথে কাটানো এতো মুহুর্তের উল্লেখ না করলেও পারতেন...অনুপমের সাথে দেবশ্রী দ্বিচারিতা করছে অন্তত এই ধারনাটা মনে আসতো না।
যাইহোক একান্তই নিজের মনের কথা তুলে ধরলাম।ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা করবেন সবাই।
কৌশিকের বাবার প্রসঙ্গে বলবো সে ওই যে দেবশ্রীকে প্রথমবার দেখেই প্রেমে পড়ে গিয়েছিলো। সেই প্রেম আজও অবধি বিদ্যমান। সে স্ত্রী ছাড়া আর কাউকেই চেনে নি। ভালোবাসে নি।
দেবশ্রী অনির্বাণের বিকল্প হিসাবে অনুপমের প্রেমে অনুপম অনির্বাণের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। অনির্বাণ উগ্র প্রকৃতির। অনুপম শান্ত। দেবশ্রী অনুপমের নিষ্ঠা দেখে প্রেমে পড়েছিলো। কিন্তু অনির্বাণের ক্ষেত্রে সে এতো ভাবনা চিন্তা করে নি।
দেবশ্রী অনুপমকে ভালোবাসে কি? উত্তর হবে হ্যাঁ অবশ্যই ভালোবাসে। সেই সঙ্গে অনুপমকে কিছুটা নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টাও করে।
দেবশ্রীর অতীত ঘাঁটলে দেখতে পাওয়া যাবে সে আদরের একমাত্র কন্যা। ফলে সে ভাগ করে নেওয়া জিনিসটা অতটা শেখে নি। তাই নিজের নদদের সঙ্গেও খুব একটা মিল নেই। দেবশ্রী অনেকটা কৌশিকের দিদার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।
দেবশ্রী যদি কৌশিকের সঙ্গে শারীরিক খেলায় মেতে ওঠে তাহলে কি অনুপমের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে? উত্তর হবে কখনই না। কারণ অনুপম যতটাই কাছের তততাই কাছের কৌশিক। সে যদি তার ভালবাসায় ঢলে পড়ে তাতেও তাকে বিশ্বাস ঘাতক বলা যাবে না কখনই।
যদি সে পর পুরুষের সঙ্গে মেতে উঠত তাহলে বিষয়টা আলাদা হতো।
এখানে কিন্তু সুমিত্রা এবং দেবশ্রীর মধ্যে বিস্তর ফারাক আছে। তাদের অতীত বর্তমানের জীবন যাপন সম্পূর্ণ আলাদা। সুতরাং তুলনা নিরর্থক। ওই একই নিয়ম সঞ্জয় এবং কৌশিকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সঞ্জয় সরল। কিন্তু কৌশিক দুষ্টু।
সুমিত্রা সঞ্জয়কে একটা ব্যাল্যান্সের মধ্যে তৈরি করেছে। সঞ্জয় জানে সুমিত্রা তখনই ভালোবাসবে যখন সে তার যোগ্যতা অর্জন করবে। কিন্তু দেবশ্রী কৌশিককে এতটাই ভালোবাসা দিয়েছে যে তার দোষেও অন্ধ সে। কৌশিকের যা আছে তার জন্মগত কারণে। কিন্তু সঞ্জয়ের সুমিত্রা দ্বারা তৈরি করা প্রত্যকটা ক্ষণের পরিশ্রমের ফলে।
অনুপমকে যদি চরিত্রহীন মাতাল দেখানো হত তাহলে গল্প নিজের বাস্তবতা হারাতো।
প্রত্যেক চরিত্রহীন এবং মাতালের নিজস্ব গল্প আছে। এখানে অনুপমের জীবনে এমন কিছুর অভাব হয়নি যে সে মাতাল চরিত্রহীন হয়ে পড়বে।
এছাড়াও কোন প্রশ্ন থাকলে জানাবেন। :) কারণ এই মন্তব্য গুলোই লেখককে ভাবায়। তার লেখাকে উন্নত করে।
অশেষ ধন্যবাদ অঙ্কিত ভাই।


![[+]](https://xossipy.com/themes/sharepoint/collapse_collapsed.png)