Thread Rating:
  • 391 Vote(s) - 3.7 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
দেবশ্রী - এক স্বর্গীয় অনুভূতি
                                                                     II II

 
 
 
পরেরদিন সকাল বেলা মায়ের পাত্তা পেলাম নানিজের কাজে ব্যস্ত ছিলেন বোধয়আমি মুখ ধুয়ে ছাদের উপরে পায়চারি করছিলাম চা খেতে খেতেমাকে একটি বার মাত্র চোখে দেখার জন্য মন উসখুস করছিলো
সময় তখন প্রায় সাড়ে দশটার কাছাকাছিআমাদের সুইফট গাড়িটা দেখলাম বাড়ির সামনের পাঁচিলের কাছে এসে দাঁড়ালোবাবা এতো সকাল সকাল! মনে মনে বললামআমি দৌড়ে গিয়ে ঘরের মুখ্য দরজা দিয়ে বেরিয়ে বাবার কাছে ছুটে এলাম
বাবা কারের দরজা বন্ধ করে আমার দিকে ঘুরে তাকাল, “ঠিক আছিস তো বাবু? তোর মা কোথায়?”
আমি মুখ নামিয়ে বললাম, “আমি ঠিক আছি বাবামা নিজের কাজে ব্যস্ত আছে
বাবা কার থেকে একগাদা ফল মিষ্টির ব্যাগ বের করে সেগুলো হাতে নিয়ে ঘরে প্রবেশ করলো
ভেতরে এসে দিদা, বাবাকে দেখে খুশি হলেনএমন মুহূর্তে মা কোথা থেকে হাজির হলবাবার দিকে একবার রাগী চাহনি দিয়ে মুচকি হাসল, “গতকাল কোন অসুবিধা হয়নি তো গো? আর আজ কখন বেরিয়েছিলে? একবার ফোন করে তো জানাতে পারতে?”
মায়ের বহুল প্রশ্নে বাবা কুপোকাতএদিকে আবার আমি তাঁদের মধ্যে তৃতীয় ব্যক্তি হয়ে উঠলামমা আমার দিকে বড়বড় চোখ করে তাকিয়ে অন্য দিকে চলে গেলো
 
চা পানের পর প্রায় সাড়ে বারোটা নাগাদ বাবার সঙ্গে আমার দেখা হলআমি ছাদেই বসে ছিলাম
বাবা সিঁড়ি দিয়ে উঠল
আমি বললাম, “তুমি তো বলেছিলে দাদাইয়ের শ্রাদ্ধ্য -এর সময় আসবে? কিন্তু আজকে এতো সকালে কেন এলে বাবা?”
বাবা বলল, “কাল অফিস গিয়েছিলামতোর দাদাইয়ের মারা যাওয়ার কথাটা বললাম তাঁদেরআরও কিছুদিন সময় চেয়ে নিলামআর এমন করে এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজে দায়িত্ব না নিলে সবাই খারাপ ভাববে আমায় বাবু
আমি হুম বলে মাথা নাড়ালাম
বাবা বলল, “এই ঘরের জামাই আমিশ্বশুরের শ্রাদ্ধ্য কার্যে অনুপস্থিত থাকলে সবাই আঙুল তুলবে তার উপর তোর মা একমাত্র কন্যা পরে তোর মাই আমাকে কথা শোনাবে
আমি বললাম, “হ্যাঁ তা ঠিক বাবা তুমি ঠিকই করেছো তুমি আর স্বরূপ মামা এই কাজের দায়িত্ব নিলে বেশি ভালো হয়
বাবা ছাদের চারিদিকে ঘুরে ঘুরে দেখছিল তারপর আমায় বলল, “সকালে আসার সময় স্নানটা করা হয়নি বাবু চল আজ কুয়োর জলে চান করবো 
আমরা নীচে চলে এলাম বাবা গামছা পরে বাইরে বেরিয়ে এলেন পেছন দিকে কুয়োর চারপাশে গোল করে ঘেরা সিমেন্টের বাঁধানো চাতালের ধারে বাবু হয়ে বসে বাবা বলল, “কই কুয়ো থেকে বালতি করে জল তুলে আমার মাথায় ঢাল দেখি
আমি তাঁর কথা মতো কপিকলে দড়ি পরিয়ে বালতি করে জল তুলে তাঁর মাথায় ঢেলে দিলাম গায়ে জল লাগতেই বাবা খানিকটা লাফিয়ে উঠে বললেন, “আহা কুয়োর টাটকা জল গায়ে পড়তেই কি স্বস্তি এই জল কিন্তু কলকাতা মিউনিসিপ্যালিটির বাসি ট্যাঙ্কের জলের থেকে অনেক গুণে ভালো গায়ে নিয়েই সেটা বোঝা যায় শরীর মন তরতাজা হয়ে উঠল রে ঢাল ঢাল আরও ঢাল
আমি কুয়ো থেকে জল তুলে বাবার গায়ে ঢেলে দিচ্ছিলাম আর বাবা স্নানের আনন্দ নিচ্ছিল
আমি বললাম, “বাবা এখানে কেমন বাথরুম গুলো ঘরের বাইরে তাই না? ঘরের মধ্যে বাথরুম থাকলে ভালো হতো না?”
বাবা নিজের গা ডলতে ডলতে বলল, “ভারতীয় বাস্তুশাস্ত্র নিয়মে শৌচাগার মুখ্য ঘরের বাইরে করতে হয় বাবু মানে ওগুলো এক ছাদের তলায় হলে চলবে না
ওহ আচ্ছা তাই নাকি বাবা?”
হুম”, বাবা দুহাত দিয়ে গা ঘষ ছিল, “আগে মানুষ শৌচ কর্ম বাড়ির অনেক দূরে গিয়ে করতো মুক্ত প্রাঙ্গণে তারপর হল বাড়ির নিকটে এখন শোবার ঘরের মধ্যে দুই দিন পর হয়তো বলবে বিছানার উপরেই একখানা কমোড বানিয়ে দাও বাবা হাসল
আমিও হাসলাম, “খোলা প্রাঙ্গণে বল বাবা?”
হ্যাঁ বিলিতি নিয়মে আহার হবে সবার সামনে কিন্তু শৌচ হবে গোপনে কিন্তু আমাদের নিয়ম হল উল্টো আহার হবে গোপনে পরিশুদ্ধ স্থানে কিন্তু শৌচ হবে মুক্ত গগণে
আমরা দুজন আবার হাসলাম
আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, “আচ্ছা বাবা দাদাই রা এই বাড়িটা দুতলা কেন বানান নি?”
বাবা একবার ছাদের দিকে তাকিয়ে বলল, “ঘরের পাশে কৃষ্ণ মন্দির টা দেখেছিস? দেখবি ওর সিঁড়ি টাই এই ঘরের প্রায় ছাদের সমান সমান তাই হয়তো দুতলা বানান নি ঠাকুরকে পায়ের নীচে রাখা হয়ে যাবে বলে
আমি বললাম, “হ্যাঁ এবার বুঝলাম বাবা
বাবা আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “থামলি কেন? ঢাল আরও জল ঢাল আমার খুব ভালো লাগছে কুয়োর উষ্ণ জল গায়ে নিতে বাড়িতে এই জল পেতে গেলে গিজার অন করতে হয় কিন্তু এখানে প্রাকৃতিক বুঝলি”
আমি মৃদু হাসলাম
বাবার মাথায় জল ঢালতে ঢালতে আমার গতকাল মায়ের কথা গুলো মনে পড়লো হঠাৎ মুখ ফসকে বেরিয়ে গেলো, “আচ্ছা বাবা! তুমি মাকে ভালোবাসো?”
বাবা একটু গম্ভীর হয়ে উত্তর দিলো, “না বাসার কি আছে?”
আমি বললাম, “না মানে গতকাল মা তোমায় নিয়ে অনেক অভিযোগ করছিলো বলছিলো নাকি দাদাইয়ের মারা যাওয়ার পেছনে তুমিই দায়ী ইত্যাদি তোমার উপর মা রেগেও ছিল প্রচণ্ড
আমার কথা গুলো শুনে বাবা গা মাজা বন্ধ করে দিলো তারপর বলল, “জানিস বাবু আমি যখন ছোট ছিলাম, প্রচুর দুষ্টু ছিলাম সারাদিন দিন দস্যিপনা করে ঘুরে বেড়াতাম লোকের ঘরে আম,জাম পেড়ে বেড়াতাম আর লোক তোর ঠাকুমাকে এসে নালিশ করতো তোর ঠাকুমাকে আমি একদম ভয় করতাম না তবে তোর ঠাকুর দা কে করতাম তিনি সকালে অফিস গেলে গোটা দিন আমি শয়তানি করে ঘুরে বেড়াতাম তা দেখে তোর ঠাকুমা মানে আমার মা আমাকে মাঝে মাঝে রেগে গিয়ে বলতেন দেখবি তোর জীবনে এমন এক মেয়ে আসবে যে তোকে উপযুক্ত শাসন করবে এমন মেয়ের সঙ্গে তোর বিয়ে দেবো যার ভয়ে তুই জড়সড় থাকবি আমার ওকে তো পছন্দ ছিল না!! তোর ঠাকুমাই জোর করে আমার সঙ্গে তোর মার বিয়ে দেন”  
 
মনে মনে বললাম, “আঙ্গুর ফল এখন টক হয়ে গেলো তবে দুঃখ হচ্ছিলো বাবাকে কথা গুলো লাগিয়ে খামাকা তাঁর মন খারাপ করিয়ে দিলাম
আমি বললাম, “তবে মা যে বলে তুমি নাকি মার প্রেমে পাগল ছিলে
বাবা ক্ষিপ্ত গলা করে বলে উঠল, “ওই সব বাজে কথা আমি কখনই ওর প্রেমে পাগল ছিলাম না  
 
 
 
 
 
                                                                      II II
 
 
 
বাবার স্নান করার পর স্বরূপ মামা এসেছিলেন তাঁরা দুজনে একসঙ্গে কোথায় যেন বেরিয়ে পড়লেন ঘরে ভিড়ের মধ্যে আমার চোখ দুটো মাকে খুঁজছিল ভাগ্য ক্রমে দেখাও হল মার তীক্ষ্ণ চক্ষু আমার উপর পড়েছিলো রান্নাঘরে আমার জন্য ভাত এবং আলু সেদ্ধ বেড়ে দিচ্ছিল আমি তাঁর দিকে ভয়ার্ত নজরে চেয়েছিলাম
মা গলা গম্ভীর করে আমার দিকে চাইল, “গত রাতে কি করছিলি? হ্যাঁ?”
আমি ভয় পেয়ে গেলাম, “কই কিছুই না তো
মা প্রশ্ন করলো, “দুধ বের হচ্ছিলো? মার বাট থেকে?”
আমি আড়ষ্ট গলায় বললাম, “কই না তো
মা ভ্রু কুঁচকালো, “আরএকটা কি যেন বলেছিস তুই? আমার মনে আছে এখন মন মেজাজ ভালো নেইতাই কিছু বলছি না বাড়ি গিয়ে তোর ব্যবস্থা করা হবে    
মা আবার আমাকে ভয় দেখাল
এই নে মেঝেতে বসে এখানেই খেয়ে নে
 
 
দশ দিন পর দাদাইয়ের শ্রাদ্ধ সম্পন্ন করে আমরা বাড়ি ফিরে এসে ছিলাম বহু দিন ছুটিতে থাকায় বাবার কাজের চাপ খুব বেড়ে গিয়েছিল তাই তাঁকে একটু বেশি সময় ধরে সাইটে থাকতে হচ্ছিলো বাড়িতে শুধু আমি আর মা




Like Reply


Messages In This Thread
RE: দেবশ্রী - এক স্বর্গীয় অনুভূতি - by Jupiter10 - 13-02-2022, 10:52 PM



Users browsing this thread: Rahat123, 12 Guest(s)