08-11-2021, 03:40 PM
গণদেবতা :
নির্বাণ রোজই সন্ধ্যে বেলা 6:05 এর হাওড়া বর্ধমান ফাস্ট ধরে । নিশীথ , অশোকদা , তমালি, বিজয়া , সুজয় আর পবিত্র এরা সব একই কম্পার্টমেন্ট-এর যাত্রী । প্রত্যেক দিন কেউ না কেউ আগে এসে জায়গাটা রেখে দেয় । ইঞ্জিন কম্পার্টমেন্ট এদের ফেভারিটে পরে । লোকাল-এর ভিড় চামড়া কেটে নেয়ার মতো । কিন্তু নিত্য যাত্রী হওয়ার সুবাদে এই ট্রেন তাদের খুব সুবিধা করে দেয় । 1 ঘন্টার এই রোজ কার ট্রেন জার্নি এদের সবার বিভীশিখা মনে হয় । কত লোকে কত অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে প্রত্যেক দিন । চলে আড্ডা, হাসি , গান, আলোচনা, তুখোড় বুদ্ধিমত্তা , তাস পেটা, আবার ভুরিভোজ ও । এটাই এদের দ্বিতীয় সংসার । এর মধ্যে চলে সম্পর্কের টানা পড়েন , পরকীয়া , আর জটিল সম্পর্কের বিস্তারবাদ ও । লোকে এই দল টার নাম দিয়েছে গণ দেবতা । কারণ গণদেবতার যাত্রীদের একবার নিশীথ তুলোধোনা করেছিল শেওড়াফুলি স্টেশন-এ ।
এদের মধ্যে অশোকদা 54 বছরের প্রবীণ ব্যাংক কর্মচারী , তার একমাত্র কন্যা IT ইঞ্জিনিয়ার বেঙ্গালুরু-তে কর্মরতা । আর তার বিয়ের চিন্তাই অশোকবাবুর প্রধান আলোচ্য বিষয় । মেয়ের বিয়ের কথা উঠলে তিনি আর ধৈর্য রাখতে পারেন না । নিশীথ সব সময় অশোক বাবু কে এর জন্য বিরক্ত করে , বিশেষ করে যখন কোনো বিষয় আলোচনার না থাকে । এভাবেই রোজ জমে ওঠে এদের রোজনামচা ।
নির্বাণ ঠিক কি করে এটা কেউ বোঝে না , উচ্চশিক্ষিত হলেও নিজের কাজের কথাটা কাওকে সে বোঝাতে পারে না । সবাই এই টুকু বোঝে যে, সে কোনো বড়ো সংস্থায় শেয়ার হোল্ডিং আর অ্যাসেট সিকিউরিটি ম্যানেজার এর পদে কাজ করে ।
নিশীথ নামি টুর এন্ড ট্রাভেলস এর কাজ করে । অবিবাহিত , আর অনেক দিন ধরেই বিজয়া কে বাগে আনার চেষ্টা করেছে , কিন্তু পারে নি এখনো । বিজয়া হাওড়া তে প্রত্যন্ত কোনো গ্রামে প্রাইমারি কলেজ-এ কাজ করে । সে শিক্ষিতা কিন্তু তার বাবা নেই, মা আর ভাইকে নিয়ে সংসার । নিশীথের প্রতি যে তার দুর্বলতা নেই এমন নয় কিন্তু নিজের দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেকে একটু বেঁধে রেখেছে গন্ডির মধ্যে । আর নিশীথ ভালো আর ভদ্র ছেলে বলেই বিজয়া কে এখনো জোর দেয় নি সে ভাবে । দুজনেই তাদের 30 এর দরজায় সবে পা দিয়েছে । বিজয়া নির্বাণ কে দাদা বলে ডাকে ।
তমালি একটা কলেজে প্রফেসর , চিরকালই গম্ভীর কিন্তু নিজেকে এই গ্রুপের সাথে এডজাস্ট করে নিয়েছে । তার সংসার আছে , স্বামী ভিলাই এ কাজ করেন প্রতি মাসে যাতায়াত করেন দুবার , আর একমাত্র ছেলে চন্দননগরের কোনো এক কনভেন্ট-এ পড়াশুনা করে । বেশ সচ্ছল পরিবার হবার সুবাদে ট্রেনের যাবতীয় খরচের মোটা স্পন্সরশিপটা নির্বাণ তমালির থেকে আদায় করে নিয়েছে । সুজয় আর পবিত্র এদের সবার থেকে আলাদা ।
সুজয় আর পবিত্র আসলে দুই যমজ ভাই । এরা আইডেন্টিক্যাল টুইন্স । দুজনকে দেখতেও এক । অনেক সময় ট্রেনের অনেক যাত্রী এদের বুঝতে পারে না । কিন্তু বেশ কিছু দিন ধরে নির্বানের সাথে যাওয়া আসা করতে করতে এই গ্রুপের নির্ভেজাল সদস্য হয়ে দাঁড়িয়েছে । দুজনেই PHD এর স্টুডেন্ট , আর গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া এর স্টাইফেন্ড পায় , কাজ করে সাহা ইন্সটিটিউট অফ নিউক্লেয়ার -এ । এদের একজন অর্থাৎ সুজয় খুব মুখচোরা , হাসিও সুজয়ের মার্জিত , নিপাট ভদ্র বলা চলে । আর পবিত্র একটু বেশি কথা বলে , খুব উজ্জ্বল ওর ভবিষ্যৎ মনে হয় । সব কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স ওর মুখের আগায়, আর গানে অসম্ভব নকল করার দক্ষতা , যদিও সে গান শেখেনি কিন্তু যেকোনো গান গেয়ে ফেলতে পারে নিখুঁত ভাবে ।
নির্বাণ রোজই সন্ধ্যে বেলা 6:05 এর হাওড়া বর্ধমান ফাস্ট ধরে । নিশীথ , অশোকদা , তমালি, বিজয়া , সুজয় আর পবিত্র এরা সব একই কম্পার্টমেন্ট-এর যাত্রী । প্রত্যেক দিন কেউ না কেউ আগে এসে জায়গাটা রেখে দেয় । ইঞ্জিন কম্পার্টমেন্ট এদের ফেভারিটে পরে । লোকাল-এর ভিড় চামড়া কেটে নেয়ার মতো । কিন্তু নিত্য যাত্রী হওয়ার সুবাদে এই ট্রেন তাদের খুব সুবিধা করে দেয় । 1 ঘন্টার এই রোজ কার ট্রেন জার্নি এদের সবার বিভীশিখা মনে হয় । কত লোকে কত অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে প্রত্যেক দিন । চলে আড্ডা, হাসি , গান, আলোচনা, তুখোড় বুদ্ধিমত্তা , তাস পেটা, আবার ভুরিভোজ ও । এটাই এদের দ্বিতীয় সংসার । এর মধ্যে চলে সম্পর্কের টানা পড়েন , পরকীয়া , আর জটিল সম্পর্কের বিস্তারবাদ ও । লোকে এই দল টার নাম দিয়েছে গণ দেবতা । কারণ গণদেবতার যাত্রীদের একবার নিশীথ তুলোধোনা করেছিল শেওড়াফুলি স্টেশন-এ ।
এদের মধ্যে অশোকদা 54 বছরের প্রবীণ ব্যাংক কর্মচারী , তার একমাত্র কন্যা IT ইঞ্জিনিয়ার বেঙ্গালুরু-তে কর্মরতা । আর তার বিয়ের চিন্তাই অশোকবাবুর প্রধান আলোচ্য বিষয় । মেয়ের বিয়ের কথা উঠলে তিনি আর ধৈর্য রাখতে পারেন না । নিশীথ সব সময় অশোক বাবু কে এর জন্য বিরক্ত করে , বিশেষ করে যখন কোনো বিষয় আলোচনার না থাকে । এভাবেই রোজ জমে ওঠে এদের রোজনামচা ।
নির্বাণ ঠিক কি করে এটা কেউ বোঝে না , উচ্চশিক্ষিত হলেও নিজের কাজের কথাটা কাওকে সে বোঝাতে পারে না । সবাই এই টুকু বোঝে যে, সে কোনো বড়ো সংস্থায় শেয়ার হোল্ডিং আর অ্যাসেট সিকিউরিটি ম্যানেজার এর পদে কাজ করে ।
নিশীথ নামি টুর এন্ড ট্রাভেলস এর কাজ করে । অবিবাহিত , আর অনেক দিন ধরেই বিজয়া কে বাগে আনার চেষ্টা করেছে , কিন্তু পারে নি এখনো । বিজয়া হাওড়া তে প্রত্যন্ত কোনো গ্রামে প্রাইমারি কলেজ-এ কাজ করে । সে শিক্ষিতা কিন্তু তার বাবা নেই, মা আর ভাইকে নিয়ে সংসার । নিশীথের প্রতি যে তার দুর্বলতা নেই এমন নয় কিন্তু নিজের দায়িত্ব পালনের জন্য নিজেকে একটু বেঁধে রেখেছে গন্ডির মধ্যে । আর নিশীথ ভালো আর ভদ্র ছেলে বলেই বিজয়া কে এখনো জোর দেয় নি সে ভাবে । দুজনেই তাদের 30 এর দরজায় সবে পা দিয়েছে । বিজয়া নির্বাণ কে দাদা বলে ডাকে ।
তমালি একটা কলেজে প্রফেসর , চিরকালই গম্ভীর কিন্তু নিজেকে এই গ্রুপের সাথে এডজাস্ট করে নিয়েছে । তার সংসার আছে , স্বামী ভিলাই এ কাজ করেন প্রতি মাসে যাতায়াত করেন দুবার , আর একমাত্র ছেলে চন্দননগরের কোনো এক কনভেন্ট-এ পড়াশুনা করে । বেশ সচ্ছল পরিবার হবার সুবাদে ট্রেনের যাবতীয় খরচের মোটা স্পন্সরশিপটা নির্বাণ তমালির থেকে আদায় করে নিয়েছে । সুজয় আর পবিত্র এদের সবার থেকে আলাদা ।
সুজয় আর পবিত্র আসলে দুই যমজ ভাই । এরা আইডেন্টিক্যাল টুইন্স । দুজনকে দেখতেও এক । অনেক সময় ট্রেনের অনেক যাত্রী এদের বুঝতে পারে না । কিন্তু বেশ কিছু দিন ধরে নির্বানের সাথে যাওয়া আসা করতে করতে এই গ্রুপের নির্ভেজাল সদস্য হয়ে দাঁড়িয়েছে । দুজনেই PHD এর স্টুডেন্ট , আর গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া এর স্টাইফেন্ড পায় , কাজ করে সাহা ইন্সটিটিউট অফ নিউক্লেয়ার -এ । এদের একজন অর্থাৎ সুজয় খুব মুখচোরা , হাসিও সুজয়ের মার্জিত , নিপাট ভদ্র বলা চলে । আর পবিত্র একটু বেশি কথা বলে , খুব উজ্জ্বল ওর ভবিষ্যৎ মনে হয় । সব কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স ওর মুখের আগায়, আর গানে অসম্ভব নকল করার দক্ষতা , যদিও সে গান শেখেনি কিন্তু যেকোনো গান গেয়ে ফেলতে পারে নিখুঁত ভাবে ।