Thread Rating:
  • 9 Vote(s) - 2.78 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
Romance কাজল নদী Written By Tumi_je_amar
#58
(#০৪)


এরপর প্ল্যান মতই বিয়ে হয়। প্রথমে রেজিস্ট্রার মানসী আর ভাস্করকে দিয়ে শপথ গ্রহন করান। তারপর বাকি সবাইকে দিয়ে সই করান। স্বপন জিজ্ঞাসা করে যে শুধু চার জনের সই থাকলেই তো হয়। রেজিস্ট্রার বলেন যেহেতু ওই দাদা কোন ঝামেলা করতে পারে তাই এতো লোকের সই থাকলে আর কোন আইনি সমস্যা থাকবে না। 


এরপর ছাদনা তলায় দাঁড়িয়ে দুজনে শুভদৃষ্টি করে আর মালা বদল করে আর মাঝখানে ছোট্ট আগুন জ্বালিয়ে তার চারপাশে একে অন্যের হাত ধরে সাতবার ঘোরে। বাকি সবাই চারপাশ থেকে ওদের ওপর ফুল ছড়িয়ে দেয়। মিউজিক সিস্টেমে “মালা বদল হবে এই রাতে” গানটাও বাজান হয়। মানসী আর ভাস্কর এসে মাকে প্রনাম করে। মাসী আর ভূষণ বাবুকেও দুজনেই প্রনাম করে। 


তারপর মানসী এসে স্বপনকে জড়িয়ে ধরে। কান্না ভরা গলায় বলে, “তোমার জন্যে আমি এতদিনে বিয়ে করতে পারলাম।”


স্বপন – আমি খুব খুশী হয়েছি আজকে তোমায় দেখে।


দীপ্তি – আজ সত্যি সত্যি রাঙ্গাদিদি বড় হয়ে গেছে। আমরা ভাবতেই পারিনা যে রাঙ্গাদি এই ভাবে কথা বলবে।


ভাস্কর – আমিও স্বপনদা আর বাকি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।


শ্রদ্ধা জামাইবাবু – তোমাদের কাউকে করো ওপর কৃতজ্ঞ থাকতে হবে না। আমরা সবাই খুশী। আমাদের সবার শুভেচ্ছা আর বড়দের আশীর্বাদ তোমাদের সাথে আছে। তোমরা সুখী হও। 


এরপর রাত্রের খাবার খেয়ে যে যার বাড়ি ফিরে যায়। স্বপন আর নিহারিকা, মানসী আর ভাস্করকে নিয়ে ভাস্করের বাড়ি পৌঁছে দেয়। ভাস্করের মা মানসীকে বরণ করেন। উনি খুশী না দুঃখিত সেটা ওনার মুখ দেখে বোঝা যায় না। স্বপন বোঝে ভাস্কর আর ওর মায়ের মধ্যে কিছু একটা সমস্যা আছে। কিন্তু সেই সময় কিছু বলে না। 


স্বপন আর নিহারিকা যাবার সময় মানসী বলে, “আমার স্বপ্নের থেকেও সুন্দর ভাবে আমাদের বিয়ে হল।”


পরদিন সকালে বড়দা ওখানকার দুই পার্টি অফিসেই যান আর ওনার বোনের বিয়ে নিয়ে পার্টি থেকে কিছু করানোর চেষ্টা করতে। যেহেতু বড়দা ওখানকার ব্যবসায়ী সমিতি আর অন্য কিছু সংস্থার সাথে জড়িত ছিলেন তাই দুই পার্টিতেই ওনার অনেক জানাশোনা। কিন্তু দুই পার্টিই পরিস্কার বলে দেয় ওই বয়েসের ছেলে মেয়ে নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করলে কোন পার্টি বা কোন আইন তাতে বাধা দিতে পারে না। আমার মনে হয় এরপর উনি এলাকার কিছু “দাদা” টাইপের লোকের সাথেও কথা বলেছিলেন, কিন্তু সেখানেও কিছু করতে পারেন নি। 


ওনার আপত্তির একটাই কারন ছিল আর সেই কারন হল মানসীর টাকা আর পার্লার। মানসী যদি বিয়ে না করে বাড়িতেই থাকতো তবে কোন না কোনদিন বড়দা ওর কাছ থেকে টাকা গুলো নিয়ে নিতেন। আর বিয়ের পরে উনি ওই টাকায় কোন নজর দিতেই পারবেন না সেটাই ওনার কষ্টের প্রধান কারন।

বুধবার সকালে সৃজা আর দীপ্তি মানসীর বেসির ভাগ জামা কাপড় আর জিনিস পত্র নিয়ে যায় মাসীর বাড়িতে। 


বড়দা – এইসব নিয়ে কোথায় যাচ্ছ


সৃজা – রাঙ্গাপির জিনিস রাঙ্গাপিকে দিতে যাচ্ছি


বড়দা – কে বলেছে তোমাদের এই কাজ করতে ?


সৃজা – কেউ বলেনি। আমি নিজের ইচ্ছায় করছি


দীপ্তি – এই সব রাঙ্গাদির জিনিস, তাই ওর কাছেই থাকা উচিত


বড়দা – তোমারও খুব সাহস বেরে গেছে দেখছি, আমার মুখের ওপর কথা বলছ


সৃজা – কেউ তোমার মুখের ওপর কথা বলছে না। আমি ভেবে পাচ্ছি না তুমি কেন এই ঝামেলা করছ


ব্রততী – আমি তোমাকে আগেও বলেছি এই সব মেনে নিতে। তোমার জন্যে আমি ওর বিয়েতে গেলাম না। তুমি ভাই দুটোকেও যেতে দিলে না। আর কি চাও তুমি ?


বড়দা – আমি কি চাই সেটা তুমি বা তোমরা বুঝবে না।


ব্রততী – আর কেউ বুঝুক বা না বুঝুক আমি সব বুঝতে পারছি। আর তুমি যদি নিজের সন্মান রাখতে চাও সে নিয়ে কোন কথা বল না। 


সৃজা আর দীপ্তি আর কোন কথা না বলে মাসীর বাড়ি চলে যায়। দুপুরের পরে নিহারিকা ওদের দুজনের সাথে গিয়ে মানসীর নতুন ঘর ফুল দিয়ে সাজিয়ে দেয়। মাসী খুব খুশী। মাসীর মনে আনন্দের খই ফুটছে। যেন ঘরে নিজের মেয়ে জামাই আসবে। আমরা আমাদের নিজের লোকজনের কাছ থেকে অনেক কিছু আশা করি। যখন তাদের থেকে কিছু পাই না তখন দুঃখ হয়। আর অজানা অচেনা কারো থেকে যদি একটুও কিছু পাই আমাদের খুব বেশী আনন্দ হয়, কারন সেই খুশী অযাচিত ও অপ্রত্যাশিত। 


মাসীর কাছেও এই মানসী আর ভাস্কর এক বছর আগে কেউ ছিল না। মাসী মানসিক ভাবে প্রস্তুত ছিলে জীবনের বাকি কটা দিন একা একাই কাটাবেন। সেখানে একটা মেয়ে জামাই পেয়ে গিয়েছেন। ওনার তো আনন্দ হবেই। উনি যদি স্বার্থপরের মত ভাবতেন আমার ঘরে ওদের কেন থাকতে দেবো, তবে কিন্তু এই আনন্দ পেতেন না। আমরা সবাই অকারণে জীবনের এই ভাল দিকটা না ভেবে প্রতিপদে স্বার্থপর হয়ে যাই আর নিজেই নিজের দুঃখের কারন হই। 


মানসী আর ভাস্করের কাছেও ব্যাপারটা একই রকমের। ওদের কাছেও মাসীর এই সাহায্য অপ্রত্যাশিত। ওরাও ভাবতে পারতো আমাদের খরচে মাসীর ঘর কেন সাজাবো। মানসী স্বপনকেও বলেনি যে মাসীর ঘরকে বাসযোগ্য করতে ওকে কত টাকা খরচ করতে হয়েছে। ও কোন কিছু না ভেবে, নিজের মাসী আর নিজের বাড়ি ভেবেই খরচ করেছে। 


স্বপন বুধবার সন্ধ্যে বেলায় গিয়ে মানসী আর ভাস্করকে ওদের নিজের ঘরে নিয়ে আসে। ঘর দেখে দুকনেই কোন কথা বলতে পারে না। 


মানসী – তুমি আর কত আনন্দ দেবে আমাকে ?


স্বপন – আমি এর কিছুই করিনি। যা করার এই সৃজা, দীপ্তি আর নিহারিকা করেছে।


সৃজা – না রাঙ্গাপি তোমার জিনিসপত্র আমি আর কাকি এনেছি। ফুল দিয়ে ঘর সাজানোর বুদ্ধি এই পিসের।


মানসী – আমি কি বুঝি না কে কি করতে পারে আমার জন্য।


স্বপন – আমি আমার সবথেকে প্রিয় বন্ধুর জন্যে এটুকু ভাববো না!


ভাস্কর – দাদা হতে পারে আপনি বন্ধুর জন্যে ভেবেছেন। কিন্তু একজন বাবার দায়িত্ব পালন করেছেন।


স্বপন আর নিহারিকা মাসীর হাতে মানসী আর ভাস্করকে দিয়ে বাড়ি ফিরে আসে। সেই রাত থেকে ওদের দুজনের নতুন জীবন শুরু হয়।




পরিশিষ্ট


আজ দুবছরের একটু বেশী হল ওদের বিয়ে হবার। সুখেই আছে। বড়দা আর কোন ঝামেলা করেনি। বিয়ের কিছুদিন পরে মানসী ভাস্করকে নিয়ে মায়ের সাথে দেখা করতে গিয়েছিল। বড়দা ওদের সাথে কথাও বলেছেন। ভাস্কর কথা বললেও মানসী যতটা সম্ভব দাদাকে এড়িয়ে গিয়েছে। 


স্বপন ওদের কে বলেছে একটা ছেলে বা মেয়ে দত্তক নিতে। ওরা একটা কালো মেয়ে দত্তক নিতে চায়। সেই নিয়ে মাদার টেরেসার সংস্থায় কথাও বলেছে। আর দু এক মাসের মধ্যেই মেয়ে পেয়ে যাবে। 


মাসী ওনার দোকানে জায়গাটা মানসী আর ভাস্করের নামে লিখে দিয়েছেন। ভাস্কর ওখানে রেস্টুরান্ট বানাচ্ছে। মাসীর ছেলে এখনও আসেনি। 


আসুন আমরা সবাই প্রার্থনা করি যেন মানসী আর ভাস্কর বাকি জীবনটা সুখে শান্তিতে কাটিয়ে দিতে পারে।


*********সমাপ্ত*********

""পৃথিবীটা রঙ্গমঞ্চ আমরা সবাই অভিনেতা"" !! Sad

[+] 2 users Like Kolir kesto's post
Like Reply


Messages In This Thread
RE: কাজল নদী Written By Tumi_je_amar - by Kolir kesto - 07-07-2020, 11:46 AM



Users browsing this thread: