07-07-2020, 11:44 AM
(#০৩)
২২-শে এপ্রিল হোটেল কেনিলওয়ারথ এর বেসমেন্টে একটা হল ঘর প্রচুর আলো দিয়ে সাজানো হয়েছে। মাঝখানে একটা ছাদনা তলাও বানানো হয়েছে। স্বপন মানসীকে একটা হালকা লাল বেনারসী কিনে দিয়েছে। নীহারিকা ভাস্করকে একটা শেরওয়ানী দিয়েছে। প্রায় সবাই এসে গিয়েছে। লেখা আর দীপ্তি ওদের মা কে নিয়ে এসেছে। সৃজা আর মানব এসেছে। শ্রদ্ধা জামাইবাবুও এসেছে। মাসী আর ভূষণ বাবু এসেছে। নীহারিকা মানসীকে নিয়ে হলে আসে। স্বপন ম্যারেজ রেজিস্ট্রার কে নিয়ে আসে।
স্বপন মানসীকে বলে যে মানসীর বিয়ে করা নিয়ে যে স্বপ্ন ছিল তার যতটা পুরন করা সম্ভব সেটা করার চেষ্টা করেছে। মানসী ধীরে ধীরে বলে, “তুমি আমার সব স্বপ্নই পুরন করে দিয়েছ বন্ধু।”
সবার শুভেচ্ছা আর আশীর্বাদের মধ্যে মানসী আর ভাস্কর ছাদনা তলায় আসে। ভাস্করের হয়ে ভূষণ বাবু আর স্বপনের মেয়ে সাক্ষী হবে। তখন স্বপনের মেয়ের বয়েস ২১ হয়ে গেছে আর ভাস্কর ওর মাস্টারমশায় ছিল। মানসীর হয়ে স্বপন আর মাসী সাক্ষী হবে। হাতে ঠাণ্ডা পানীয় নিয়ে সবাই অপেক্ষা করছে। হাতে মালা নিয়ে নীহারিকা আর কস্তূরী অপেক্ষা করছে সই করার পরে মালা বদল করানোর জন্যে।
এমন সময় চারজন পুলিশ নিয়ে বড়দা হলে ঢোকেন। একজন পুলিশ অফিসার গম্ভীর স্বরে বিয়ে বন্ধ করতে বলে।
স্বপন এগিয়ে এসে বিয়ে বন্ধ করতে বলার কারন জিজ্ঞাসা করে। শ্রদ্ধা জামাইবাবু স্বপনের পাশে দাঁড়ান কিন্তু কোন কথা বলেন না। পুলিশ অফিসার বড়দাকে দেখিয়ে জানান যে উনি অভিযোগ করেছেন যে ওনার বোন মানসীকে কিডন্যাপ করে ভাস্কর জোর কোরে বিয়ে করছে।
স্বপন মানসীকে ডাকে।
স্বপন – ওনাকে জিজ্ঞাসা করুন এই মেয়েটিই ওনার বোন কি না ?
পুলিশ – এই মেয়েটি আপনার বোন ?
বড়দা – হ্যাঁ, এই আমার বোন মানসী
স্বপন – এবার মানসীকে জিজ্ঞাসা করুন ও কার কথায় বিয়ে করতে এসেছে
পুলিশ – আপনি কি নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করছেন না কারো প্ররোচনায় বিয়ে করছেন ?
মানসী – আমি মানসী, ৪৯ বছর বয়েস, সাবালিকা হয়ে গিয়েছি অনেক বছর আগে। আর এই বিয়ে আমি আমার ইচ্ছায় করছি। এই যে এই ভাস্করের সাথে বিয়ে করছি।
স্বপন – এই যে এখানে ওই বড়দার আর মানসীর মা আছেন, ওনাকে জিজ্ঞাসা করুন ওনার মত আছে কিনা এই বিয়েতে।
পুলিশ – একটা ৪৯ বছরের মেয়ের জন্যে তার কোন অভিবাবকের অনুমতি দরকার হয় না।
স্বপন – তাও তো ওর দাদার কথায় আপনারা এসেছেন
পুলিশ – কেউ যদি থানায় গিয়ে কোন রিপোর্ট করে, আমরা আসতেই পারি।
স্বপন – খুব ভাল কথা, এসেই যখন পরেছেন তখন ওই বড়দার মায়ের মত জেনে যান।
মানসীর মা এসে পুলিশ অফিসার কে বলেন যে এই বিয়ে ওনার অনুমতি নিয়েই হচ্ছে আর ওনার বড় ছেলের মাথায় কোন গণ্ডগোল আছে তাই একটা সুস্থ সম্পর্ক নিয়ে এইসব উটকো ঝামেলা করছে।
বড়দা – না না অফিসার ওই ছেলেটি এই সবাইকে বোকা বানাচ্ছে
স্বপন – এই ম্যারেজ রেজিস্ট্রার কে জিজ্ঞাসা করুন, এরা কবে বিবাহের নোটিশ দিয়েছেন
রেজিস্ট্রার – অফিসার, এরা ৩০ দিনেরও বেশী আগে নোটিশ দিয়েছে আর সেই সুবাদে ৩০ দিন আগের আনন্দবাজারে বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়েছে। ওনার যদি আপত্তি থাকতো ওনার সেই বিজ্ঞাপনের বিপক্ষে আবেদন করা উচিত ছিল।
অফিসার – আমি দুঃখিত আপনাদের এই শুভ অনুষ্ঠানে বাধা দেবার জন্যে। আপনারা বিয়ের কাজ চালু করতে পারেন।
বড়দা – আপনারা বুঝতে পারছেন না কত বড় সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে মেয়েটার।
অফিসার – আপনি তো আচ্ছা লোক মশায় ! বোনকে ৪৯ বছর বয়েস পর্যন্ত বিয়ে না দিয়ে ঘরে রেখে দিয়েছিলেন কিসের ধান্দায় কে জানে। আপনাকে দেখে তো ভদ্রলোক বলেই মনে হয়। কিন্তু আপনার মনে এইরকম নোংরা উদ্দেশ্য কেন ! আর যদি বেশী কিছু বলেন তখন আমরা আপনাকে পুলিশকে ভুল তথ্য দেবার অপরাধে গ্রেপ্তার করবো।
ততক্ষনে হোটেলের ম্যানেজার এসে গিয়েছেন। উনিও বড়দাকে বেশ কড়া করে তক্ষুনি চলে যেতে বলেন, না হলে ওনাদের মত হোটেলে অকারণে পুলিশ আনার জন্যে মানহানির মামলা করবেন, আর তার ক্ষতি পুরন ১০ লক্ষ্য টাকার কম হবে না।
দশ লক্ষ টাকার কথা শুনেই বড়দা কারো সাথে কোন কথা না বলে পালিয়ে যান। পুলিশ অফিসারও সবার কাছে আর একবার ক্ষমা চেয়ে ওনার দল নিয়ে চলে যান। ওরা চলে গেলে স্বপন সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করে। আর ওই রাতে বড়দার কাজ নিয়ে কোন আলোচনা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করে।
২২-শে এপ্রিল হোটেল কেনিলওয়ারথ এর বেসমেন্টে একটা হল ঘর প্রচুর আলো দিয়ে সাজানো হয়েছে। মাঝখানে একটা ছাদনা তলাও বানানো হয়েছে। স্বপন মানসীকে একটা হালকা লাল বেনারসী কিনে দিয়েছে। নীহারিকা ভাস্করকে একটা শেরওয়ানী দিয়েছে। প্রায় সবাই এসে গিয়েছে। লেখা আর দীপ্তি ওদের মা কে নিয়ে এসেছে। সৃজা আর মানব এসেছে। শ্রদ্ধা জামাইবাবুও এসেছে। মাসী আর ভূষণ বাবু এসেছে। নীহারিকা মানসীকে নিয়ে হলে আসে। স্বপন ম্যারেজ রেজিস্ট্রার কে নিয়ে আসে।
স্বপন মানসীকে বলে যে মানসীর বিয়ে করা নিয়ে যে স্বপ্ন ছিল তার যতটা পুরন করা সম্ভব সেটা করার চেষ্টা করেছে। মানসী ধীরে ধীরে বলে, “তুমি আমার সব স্বপ্নই পুরন করে দিয়েছ বন্ধু।”
সবার শুভেচ্ছা আর আশীর্বাদের মধ্যে মানসী আর ভাস্কর ছাদনা তলায় আসে। ভাস্করের হয়ে ভূষণ বাবু আর স্বপনের মেয়ে সাক্ষী হবে। তখন স্বপনের মেয়ের বয়েস ২১ হয়ে গেছে আর ভাস্কর ওর মাস্টারমশায় ছিল। মানসীর হয়ে স্বপন আর মাসী সাক্ষী হবে। হাতে ঠাণ্ডা পানীয় নিয়ে সবাই অপেক্ষা করছে। হাতে মালা নিয়ে নীহারিকা আর কস্তূরী অপেক্ষা করছে সই করার পরে মালা বদল করানোর জন্যে।
এমন সময় চারজন পুলিশ নিয়ে বড়দা হলে ঢোকেন। একজন পুলিশ অফিসার গম্ভীর স্বরে বিয়ে বন্ধ করতে বলে।
স্বপন এগিয়ে এসে বিয়ে বন্ধ করতে বলার কারন জিজ্ঞাসা করে। শ্রদ্ধা জামাইবাবু স্বপনের পাশে দাঁড়ান কিন্তু কোন কথা বলেন না। পুলিশ অফিসার বড়দাকে দেখিয়ে জানান যে উনি অভিযোগ করেছেন যে ওনার বোন মানসীকে কিডন্যাপ করে ভাস্কর জোর কোরে বিয়ে করছে।
স্বপন মানসীকে ডাকে।
স্বপন – ওনাকে জিজ্ঞাসা করুন এই মেয়েটিই ওনার বোন কি না ?
পুলিশ – এই মেয়েটি আপনার বোন ?
বড়দা – হ্যাঁ, এই আমার বোন মানসী
স্বপন – এবার মানসীকে জিজ্ঞাসা করুন ও কার কথায় বিয়ে করতে এসেছে
পুলিশ – আপনি কি নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করছেন না কারো প্ররোচনায় বিয়ে করছেন ?
মানসী – আমি মানসী, ৪৯ বছর বয়েস, সাবালিকা হয়ে গিয়েছি অনেক বছর আগে। আর এই বিয়ে আমি আমার ইচ্ছায় করছি। এই যে এই ভাস্করের সাথে বিয়ে করছি।
স্বপন – এই যে এখানে ওই বড়দার আর মানসীর মা আছেন, ওনাকে জিজ্ঞাসা করুন ওনার মত আছে কিনা এই বিয়েতে।
পুলিশ – একটা ৪৯ বছরের মেয়ের জন্যে তার কোন অভিবাবকের অনুমতি দরকার হয় না।
স্বপন – তাও তো ওর দাদার কথায় আপনারা এসেছেন
পুলিশ – কেউ যদি থানায় গিয়ে কোন রিপোর্ট করে, আমরা আসতেই পারি।
স্বপন – খুব ভাল কথা, এসেই যখন পরেছেন তখন ওই বড়দার মায়ের মত জেনে যান।
মানসীর মা এসে পুলিশ অফিসার কে বলেন যে এই বিয়ে ওনার অনুমতি নিয়েই হচ্ছে আর ওনার বড় ছেলের মাথায় কোন গণ্ডগোল আছে তাই একটা সুস্থ সম্পর্ক নিয়ে এইসব উটকো ঝামেলা করছে।
বড়দা – না না অফিসার ওই ছেলেটি এই সবাইকে বোকা বানাচ্ছে
স্বপন – এই ম্যারেজ রেজিস্ট্রার কে জিজ্ঞাসা করুন, এরা কবে বিবাহের নোটিশ দিয়েছেন
রেজিস্ট্রার – অফিসার, এরা ৩০ দিনেরও বেশী আগে নোটিশ দিয়েছে আর সেই সুবাদে ৩০ দিন আগের আনন্দবাজারে বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়েছে। ওনার যদি আপত্তি থাকতো ওনার সেই বিজ্ঞাপনের বিপক্ষে আবেদন করা উচিত ছিল।
অফিসার – আমি দুঃখিত আপনাদের এই শুভ অনুষ্ঠানে বাধা দেবার জন্যে। আপনারা বিয়ের কাজ চালু করতে পারেন।
বড়দা – আপনারা বুঝতে পারছেন না কত বড় সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে মেয়েটার।
অফিসার – আপনি তো আচ্ছা লোক মশায় ! বোনকে ৪৯ বছর বয়েস পর্যন্ত বিয়ে না দিয়ে ঘরে রেখে দিয়েছিলেন কিসের ধান্দায় কে জানে। আপনাকে দেখে তো ভদ্রলোক বলেই মনে হয়। কিন্তু আপনার মনে এইরকম নোংরা উদ্দেশ্য কেন ! আর যদি বেশী কিছু বলেন তখন আমরা আপনাকে পুলিশকে ভুল তথ্য দেবার অপরাধে গ্রেপ্তার করবো।
ততক্ষনে হোটেলের ম্যানেজার এসে গিয়েছেন। উনিও বড়দাকে বেশ কড়া করে তক্ষুনি চলে যেতে বলেন, না হলে ওনাদের মত হোটেলে অকারণে পুলিশ আনার জন্যে মানহানির মামলা করবেন, আর তার ক্ষতি পুরন ১০ লক্ষ্য টাকার কম হবে না।
দশ লক্ষ টাকার কথা শুনেই বড়দা কারো সাথে কোন কথা না বলে পালিয়ে যান। পুলিশ অফিসারও সবার কাছে আর একবার ক্ষমা চেয়ে ওনার দল নিয়ে চলে যান। ওরা চলে গেলে স্বপন সবার কাছে দুঃখ প্রকাশ করে। আর ওই রাতে বড়দার কাজ নিয়ে কোন আলোচনা থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করে।
""পৃথিবীটা রঙ্গমঞ্চ আমরা সবাই অভিনেতা"" !!
