Thread Rating:
  • 9 Vote(s) - 2.78 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
Romance কাজল নদী Written By Tumi_je_amar
#2
প্রথম পরিচ্ছদ - উদাসী হাওয়া
(#০১)

মানসী উদাস হয়ে আকাশের চাঁদ দেখছিল। ওর মনে পড়ছিল সেদিন কলেজে ওর সাথে বাকি ছেলে মেয়েরা, যাদের ও বন্ধু বলে জানতো তারা কিভাবে ওর সাথে কথা বলছিল। 

মানসী চার বোন আর তিন ভাইয়ের মধ্যে সব থেকে ছোটো। ছোটো ছেলে বা মেয়েরা সাধারণত সব থেকে আদরের হয়। কিন্তু যে বাড়ীতে আটটা ছেলে মেয়ে সেখানে মনে হয় সেরকম হয় না। তাই মানসী শুধু আরেকটা মেয়ে ছিল। ওর মায়ের বিয়ের হয়েছিল অনেক ছোটো বয়সে। তারপর ২৫ বছর ধরে উনি ওনার স্বামীকে ছেলে মেয়ে উপহার দিয়ে গিয়েছেন। ওর বাবা বাংলাদেশ থেকে এসে শিয়ালদহ অঞ্চলে ৩০ টাকা দিয়ে দুটো ঘর ভাড়া করে থাকতেন, প্রেস আর কাগজের ব্যবসা করতেন। ওনার জীবনে একটাই লক্ষ ছিল কিভাবে পয়সা উপার্জন করা যায়। উনি বড় ছেলের বিয়ে দিয়েছেন এক বিশাল বড়লোকের মেয়ে সুলগ্নার সাথে। সেই বিয়েতে বেলঘরিয়াতে ১০ কাঠা জায়গা সহ বেশ বড় একটা বাড়ি পেয়েছেন। তাই ওনারা সপরিবারে শিয়ালদা ছেড়ে ওই বেলঘড়িয়ার বাড়িতেই থাকেন। মানসী তখন এইটে পড়ত। কলেজে পড়তে পড়তেই ওর আরও দুই দিদির বিয়ে হয়ে যায়। প্রত্যেকের একটা বা দুটো করে বাচ্চাও হয়ে গিয়েছিল। 

এখন মানসী প্রথম বর্ষ বাংলা অনার্সের ছাত্রী। ওর খুব ইচ্ছা ছিল সায়েন্স নিয়ে পড়বে কিন্তু ওর বড়দা রাজী হননি। কারন সায়েন্স পড়ানোর খরচ অনেক বেশী। সুলগ্না বৌদি অনেক বোঝানর চেষ্টা করেছিল কিন্তু বড়দা মেনে নেন নি। দুবছর আগে মানসী মাধ্যমিক ৮২% নম্বর নিয়ে পাস করলে বড়দা আর সুলগ্না বৌদির মধ্যে কথা হয়েছিল।

- তুমি কি চাও না তোমার বোন কিছু করে নিজের পায়ে দাঁড়াক ?

- তুমি কি ভেবেছ সায়েন্স পড়ালেই দাঁড়িয়ে যাবে ?

- তাও সায়েন্স পরলে সুযোগ অনেক বেশী।

- কিন্তু সায়েন্স পড়ালে মাসের খরচ একটু বেশী, টিউশনি দিতে হবে, আবার উচ্চ মাধমিক পাস করলে ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চাইবে। অত খরচ করতে পারব না আমি।

- তোমাকে খরচ করতে হবে না। তোমার বোন আমারও বোন। আমার টাকা থেকে খরচ করে অকে পড়াবো ও যা পড়তে চায়।

- দেখো তোমার বাবা তোমাকে আমার হাতে তুলে দিয়েছেন, তাই তোমার সব দায়িত্ব আমার। সেখানে তোমার টাকা আর আমার টাকার মধ্যে কোন তফাৎ নেই।

- তার মানে কি আমি আমার ইচ্ছা মত কিছুই করতে পারব না ?

- তোমার ইচ্ছাতেই তো সব হয়। শুধু আমার সন্মতি দরকার হয়। এই সবই তো তোমার।

এরপরে সুলগ্না বৌদি আর কিছু বলেনি। সুলগ্না বৌদি বড়লোকের মেয়ে হলেও ওনার মধ্যে কোন অহঙ্কার ছিল না। উনি সবাইকে সাথে নিয়ে চলতেন। ছোট বড় ভেদাভেদ করতেন না। অন্যদিকে বড়দা বাইরে থেকে দেখাতেন উনি সবার সাথে আছেন কিন্তু এটাও বুঝিয়ে দিতেন যে উনি সব থেকে বড়। ওনার বিরুদ্ধে কেউ কিছু করলে উনি সেটা মেনে নেবেন না। উনি সবাইকে এটাও বুঝিয়ে দিতেন যে ওনার অনেক পয়সা (আসলে ওনার বৌয়ের পয়সা)। 

মানসীর বাবা শুধুই ব্যবসা দেখতেন আর চিন্তা করতেন কিভাবে আরও পয়সা বানান যায়। তাই বড়দা যা যা করতেন উনি তাকে সমর্থন করতেন। দুজনের উদ্দেশ্য একই ছিল। মানসীর মা ছিলেন একদম শরত চন্দ্রের উপন্যাসের গ্রামের মায়ের মতন। শুধু উনি শহরে থাকতেন। রান্না করা, সবাইকে খাওয়ানো আর সবার স্বাস্থের কথা ছাড়া আর কিছু চিন্তা করতেন না। মানসীর দুই অবিবাহিত দাদা উচ্চ মাধমিক কোনোরকমে পাশ করার পর ওর বাবার ব্যবসা দেখত। মানসীর অবিবাহিতা দিদিও প্রায় সেইরকম। পড়াশুনাও করেনি, কোন কাজও করে না। নামে মাত্র গান শেখে। 

যাই হোক এতক্ষন মানসীর বাড়ির সবার পরিচয় দেওয়া হল। এবার আমাদের গল্পে ফেরা যাক। সেদিন যখন কলেজে গিয়েছিল মানসী তখন সেই দিন তা অন্য সব দিনের মতই সাধারন একটা দিন ছিল। কিন্তু এখন আর মানসীর তা মনে হচ্ছে না।

""পৃথিবীটা রঙ্গমঞ্চ আমরা সবাই অভিনেতা"" !! Sad

[+] 1 user Likes Kolir kesto's post
Like Reply


Messages In This Thread
RE: কাজল নদী Written By Tumi_je_amar - by Kolir kesto - 02-07-2020, 12:12 AM



Users browsing this thread: