Thread Rating:
  • 63 Vote(s) - 2.24 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
WRITER'S SPECIAL রূপগড় কলেজের ইংরেজি শিক্ষিকা রূপসা চক্রবর্তী
নতুন পর্ব কবে আসবে তারিখ বলে দিলে সকল পাঠকের জন্য সুবিধা হতো নইলে বারবার গল্পের জন্য সাইটে আসতে হবেনা কারোর।
banana :
Never Give Up banana 
[+] 1 user Likes Sayim Mahmud's post
Like Reply
Do not mention / post any under age /rape content. If found Please use REPORT button.
(22-09-2026, 03:42 PM)Sayim Mahmud Wrote: নতুন পর্ব কবে আসবে তারিখ বলে দিলে সকল পাঠকের জন্য সুবিধা হতো নইলে বারবার গল্পের জন্য সাইটে আসতে হবেনা কারোর।

Right
[+] 1 user Likes Bro123's post
Like Reply
এত তাড়া দিয়ে না। এই রকম তাড়া দিলে বা চাপ দিয়ে লেখক এর মনে কষ্ট পাবে। এই কারণে অনেক লেখক হারিয়ে ফেলেছি আমরা
[+] 3 users Like Raj Pal's post
Like Reply
Friday তে দিবো
[+] 1 user Likes Coolraj1000's post
Like Reply
Update ajjj hobe to
Like Reply
আজ কয়টায় আসবে?
Like Reply
গল্প কখন আসবে?
banana :
Never Give Up banana 
Like Reply
আজকে আপডেট আসবে কি
Like Reply
আমাকে এটা জানাবেন কেউ এটা কী জনরার গল্প কাকোল্ড নাকি অ্যাডাল্ট্রি?
Like Reply
আপডেট কি আজকে হবে না?
Like Reply
চেষ্টা করছি দেবার but picture গুলো ready হয়নি
Like Reply
(26-09-2026, 12:22 AM)Coolraj1000 Wrote: চেষ্টা করছি দেবার but picture গুলো ready হয়নি

kon AI a kivabe banan picture gulo??
Like Reply
পিকচার তেমন গুরুত্বপুর্ন না,,,লেখা হইলে দিয়ে দেন
Like Reply
সুমিত বাবুর সেই পরিচিত  গলা কান পর্যন্ত পৌঁছাতেই রূপসার যেন বহুদিনের শুকনো মরুভূমিতে এক ফোঁটা বৃষ্টির জল পড়ার মতো স্বস্তি হলো। খড়কুটো আঁকড়ে ধরার মতো একটা তীব্র বাঁচার আকুতি তাঁর চোখে ভেসে উঠল। তাঁর ফর্সা মুখটা কিছুটা জীবিত হয়ে উঠল। তিনি দ্রুত পায়ে সুমিত বাবুর দিকে কয়েক পা এগিয়ে এসে কেঁদে ফেলার উপক্রম হয়ে বললেন, “সুমিত বাবু! আপনি এখানে... সত্যি বলছি, ভগবান আপনাকে এই মুহূর্তে এখানে পাঠিয়ে আমার একটা বড় রক্ষা করলেন! আমি একটা খুব বিপদে পড়েছি... মারাত্মক বিপদে পড়েছি, সুমিত বাবু!”


সুমিত বাবু রূপসার মুখের ওপর ফুটে ওঠা সেই গভীর আতঙ্ক, চোখের কোণে জমে থাকা জল আর ঠোঁটের থরথর কম্পন দেখে একমুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেলেন। তাঁর পেশাদার আইনজীবী মন তৎক্ষণাৎ বুঝতে পারল যে ঘটনা সাধারণ নয়। তিনি দ্রুত ও উদ্বিগ্ন গলায় জিজ্ঞেস করলেন, “বিপদ মানে? কী হয়েছে বলুন তো দেখি রূপসা দেবী? কোনো আইনি সমস্যা? কোনো বিপদে পড়েছেন আপনারা?”
ঠিক সেই মুহূর্তেই একটা কর্কশ ও বেপরোয়া অসভ্য গলার আওয়াজ ভেসে এল। খিকখিক করে হেসে উঠল কনস্টেবল নরেশ । সে তার খাকি শার্টের কলারটা টান দিয়ে ঠিক করতে করতে, অত্যন্ত অবজ্ঞার সুরে সুমিত বাবুর দিকে তাকিয়ে বলে উঠল, “আরে সুমিত বাবু! আপনি শহরের নামী উকিল মানুষ, কেস তো আপনার জানারই কথা! আপনার এই চেনা ম্যাডামের মহার্ঘ্য সুপুত্র গতকাল বিকেলে আমার একমাত্র ছেলের মাথা ফাটিয়ে রক্তগঙ্গা বইয়ে দিয়েছে! হাসপাতালে আমার ছেলে বাবলুর কপালে চার-চারটে সেলাই পড়েছে, বুঝলেন? এখন উকিল  সাথে নিয়ে এলেও কোনো লাভ হবে না! নরেশ এই কেস জাস্ট তুলবে না মানে তুলবে না!”
নরেশের এই ধৃষ্টতাপূর্ণ ও ঔদ্ধত্যভরা কথা শুনে সুমিত বাবু এক মুহূর্তের জন্য থমকে গেলেন। তিনি চোখ তুলে ভালো করে দেখলেন এই খাকি পোশাক পরা কুৎসিত চেহারার কনস্টেবলটাকে। তারপর তিনি রূপসার দিকে তাকিয়ে দেখলেন তাঁর ফর্সা গাল বেয়ে নেমে আসা ক্লান্তির ছাপ।


একজন পেশাদার ও পোড়খাওয়া ফৌজদারি আইনজীবী হিসেবে সুমিত বাবুর রক্তে তখন আইনি গাম্ভীর্য আর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠল। তিনি নরেশের দিকে এক পলক তাকিয়ে অত্যন্ত শক্ত, শীতল ও ধমকের সুরে বলে উঠলেন, “নরেশ সিকদার , আপনি থানায় কনস্টেবল হতে পারেন, কিন্তু তাই বলে একজন সম্মানিত শিক্ষিকার সামনে দাঁড়িয়ে এভাবে কথা বলার ধৃষ্টতা আপনাকে কে দিল? মারামারি তো দুই পক্ষ থেকেই হতে পারে, একটা ছেলে আরেকটা ছেলেকে মেরেছে বলে সেটা নিয়ে এত বাড়াবাড়ি করার কী আছে? আইনের পথে গেলে কি এর কোনো আপোষের রাস্তা থাকে না? আপনার এত বড় স্পর্ধা যে আপনি একজন শিক্ষিকার সাথে কথা বলতে এরকম ভাষা ব্যবহার করছেন?”
নরেশ এবার সুমিত বাবুর মুখের ওপর মুখ বাড়িয়ে আরও একটু বাঁকা হাসল। সে বলল, “আপোষ? নরেশের অভিধানে আপোষ শব্দটা নেই, উকিল বাবু! কোর্টে গিয়ে লড়ার হলে আমি হাই কোর্ট পর্যন্ত লড়ব। আমার ছেলের রক্ত ঝরেছে, তার বদলা রক্ত দিয়েই নেব! জাস্ট মুখের কথায়  কেস তুলে নেবো , অত সহজ নয়!”


সুমিত বাবু বুঝতে পারলেন এই মাথা মোটা, কুৎসিত লোকটার সাথে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কথা বাড়িয়ে কোনো লাভ নেই। লোকটা অন্ধের মতো জিদ ধরে বসে আছে। তিনি আর নরেশের দিকে এক সেকেন্ডও তাকালেন না। তিনি অত্যন্ত স্নেহের সাথে, সুর নরম করে রূপসার কাঁধে নিজের হাত রেখে সান্ত্বনার সুরে বললেন, “রূপসা দেবী, আপনি একদম ঘাবড়াবেন না। মন শক্ত রাখুন। থানার বাইরে এভাবে দাঁড়িয়ে কথা বলা ঠিক হচ্ছে না। আপনি আমার সাথে থানার ভেতরে চলুন। আমার চেনা থানার ভেতরে একজন খুব ভালো, সৎ অফিসার আছেন—এসআই প্রদীপ্ত চৌধুরী। উনি আমার খুব ভালো বন্ধু মানুষ। তাছাড়া উনি আপনাদের কলেজ রূপগড় হাই কলেজের ম্যানেজিং কমিটির মিটিংয়ে দু-একবার আসার কারণে আপনাকে খুব ভালো করেই চেনেন ও সম্মান করেন। চলুন, ওনার সাথে বসা যাক, উনি দেখলে একটা আইনি ও মানবিক সমাধান বের হবেই।“
রূপসা একটুখানি আশা দেখতে পেলেন। তিনি যেন অথই জলে একটা শক্ত ডাল খুঁজে পেয়েছেন। তিনি কাঁপাকাঁপা গলায় শুধু বললেন, “চলুন সুমিত বাবু... আপনি যেমন বলবেন, আমি তেমনই করব।“


এই বলে সুমিত বাবু রূপসাকে নিজের সুরক্ষায় নিয়ে থানার মূল ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলেন। থানার ভেতরে তখন কনস্টেবল ও পিওনদের ছোটখাটো ছোটাছুটি চলছে। বাতাসে পুরনো ফাইলের গন্ধ আর বারুদের মতো টানটান উত্তেজনা। সুমিত বাবু রূপসাকে নিজের ঠিক পাশেই রেখে সোজা এগিয়ে গেলেন ইনভেস্টিগেশন উইং বা তদন্ত বিভাগের বিশেষ কেবিনের দিকে।
সেই কেবিনের বাইরে নেমপ্লেটে স্পষ্ট খোদাই করা আছে—‘এসআই প্রদীপ্ত চৌধুরী’। প্রদীপ্তবাবু বয়সে তরুণ, অত্যন্ত সৎ, মার্জিত, সুশিক্ষিত এবং আধুনিক মনস্ক একজন পুলিশ অফিসার। রূপগড় হাই কলেজের সাথে তাঁর প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক যোগাযোগের কারণে তিনি রূপসা চক্রবর্তীকে একজন অত্যন্ত মার্জিত, রুচিসম্পন্ন ও শ্রদ্ধেয় শিক্ষিকা হিসেবে  চেনেন এবং মনে প্রাণে সম্মান করেন।
সুমিত বাবু কেবিনের দরজায় হালকা নক করে দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করলেন। পেছন পেছন থরথর পায়ে ভেতরে ঢুকলেন রূপসা চক্রবর্তী। কেবিনের ভেতরের শীতল এসি হাওয়া আর প্রদীপ্ত বাবুর গম্ভীর অথচ ভদ্র মুখাবয়ব দেখে রূপসার বুক থেকে যেন কয়েক মণ ওজনের পাথর একটু হলেও সরে গেল।


প্রদীপ্তবাবু নিজের চেয়ারে বসে একটা কেসের ফাইল দেখছিলেন। হঠাৎ সুমিত বাবু ও রূপসাকে একসাথে সামনে এসে দাঁড়াতে দেখে তিনি সটান চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন। তাঁর চোখে মুখে এক দারুণ বিস্ময়।
“আরে রূপসা ম্যাডাম! আপনি এই থানায়? আর সুমিত বাবু আপনিও?” প্রদীপ্তবাবু অত্যন্ত সমাদর করে বললেন, “আসুন, বসুন এই চেয়ারগুলোতে। হঠাৎ সকালবেলা আপনাদের এখানে আসার কারণ?”
রূপসা আর নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না। তিনি চেয়ারে বসে প্রদীপ্তবাবুর চোখের দিকে তাকিয়ে ভাঙা গলায় সমস্ত ঘটনাটা খুলে বললেন—কীভাবে বাবলু ক্লাসে তাঁকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করেছিল, আর সেই ক্ষোভে রাজ কীভাবে মাথা ঠিক রাখতে না পেরে এই ভুল করে ফেলেছে। আর এখন কনস্টেবল নরেশ কীভাবে থানা ও আইনের ভয় দেখিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য উন্মাদ হয়ে উঠেছে।
সবকিছু শোনার পর এসআই প্রদীপ্তবাবুর মুখটা গম্ভীর হয়ে গেল। তিনি টেবিলের ওপর হাত রেখে অত্যন্ত দুঃখিত ও ক্ষুব্ধ সুরে বললেন, “এ কী বলছেন ম্যাডাম! নরেশের ছেলে বাবলুর এত বড় স্পর্ধা  যে একজন শিক্ষিকাকে নিয়ে এমন নোংরা কথা বলে? আর নরেশ এত বড় বাড়াবাড়ি করছে? আমি এখনই নরেশকে ডাকছি রুমের মধ্যে! সে আমার সাব-অর্ডিনেট হয়ে এত বড় সাহস কোথায় পায় যে একজন শিক্ষিকাকে এভাবে ব্ল্যাকমেল করবে?”


প্রদীপ্তবাবু আর এক মুহূর্তও দেরি না করে দরজার বাইরে থাকা চৌকিদারকে ডেকে নরেশকে তৎক্ষণাৎ তাঁর কেবিনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিলেন।
ঠিক মিনিট পাঁচেক পরে থানার ভারী কাঠের দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করল কনস্টেবল নরেশ। তার খাকি ইউনিফর্মটা আগের মতোই একটু এলোমেলো, মুখের  দাড়িতে জট পাকানো, আর ঠোঁটের কোণে একটা চতুর ও বেপরোয়া হাসি। সে প্রদীপ্তবাবুর কেবিনে ঢুকেই রূপসা ও সুমিত বাবুকে একসঙ্গে বসা দেখল, কিন্তু তার চোখের চাউনিতে বিন্দুমাত্র ভয়ের লেশমাত্র ছিল না; বরং একটা অদ্ভুত দম্ভ ও বিকৃত অহংকার স্পষ্ট ফুটে উঠল।
প্রদীপ্তবাবু নরেশকে দেখা মাত্রই চেহারায় কাঠিন্য এনে চড়া গলায় বলে উঠলেন, “নরেশ ! তোমার মাথায় কি বুদ্ধি একদম গুবলেট হয়ে গেছে? তুমি কার বিরুদ্ধে কেস নিয়ে এত লাফালাফি করছ জানো? ইনি রূপসা ম্যাডাম—আমাদের শহরের রূপগড় হাই কলেজের সম্মানিত শিক্ষিকা! আর তোমার ওই বখাটে ছেলে ক্লাসের মধ্যে যা করেছে, তার জন্য তো তোমার ছেলেকে জুভেনাইল হোমে পাঠানো উচিত ছিল! তুমি উল্টে ম্যাডামের নামে থানায় এফআইআর করছ? কেস তুলে নাও বলছি এখুনি!”
প্রদীপ্তবাবুর এই ধমক শুনেও নরেশ একটুও দমলো না। সে তার উসকোখুসকো দাড়ি হাত দিয়ে একটু চুলকে, বাঁকা ও কুৎসিত হাসি  প্রদীপ্তবাবুর টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।


খুব ঠান্ডা ও শ্লেষভরা গলায় নরেশ বলল, “স্যার, আপনি আমার বস, আপনার প্রতি আমার পুরো সম্মান আছে। কিন্তু আইন তো আর কলেজ বা স্যারের সার্টিফিকেট দেখে চলে না! ম্যাডামের ছেলে আমার ছেলের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে, হাসপাতালে সেলাই পড়েছে—তার মেডিকেল রিপোর্ট আমার পকেটে আছে। এখন আপনি নরেশের বুক চিরে ওই কেস কেউ তুলে নিতে পারবে না! আইন আইনের পথে চলবে। কলেজের রেপুটেড শিক্ষিকা হয়েছে তো কী হয়েছে? আইন কি সবার জন্য এক নয়?”
নরেশের এই মুখের ওপর জবাব দেওয়া ধৃষ্টতা দেখে প্রদীপ্তবাবু রাগে লাল হয়ে তেড়ে গেলেন। তিনি টেবিল চাপড়ে বললেন, “চুপ একদম কাসেম! তোমার মুখে বড় বড় আইন শোভা পায় না! আমি বলছি কেস তুলতে হবে, মানে তুলতে হবে!”



পাশে বসা সুমিত বাবু এতক্ষণ চুপ করে সব শুনছিলেন। তিনি এতদিন ধরে শহরের হাজারটা অপরাধী ও জটিল মামলা নিজের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে লড়েছেন। মানুষের মনস্তত্ত্ব এবং আইনি ফাঁকফোকর তাঁর হাতের তালুর মতো চেনা। তিনি নিজের সিট থেকে অত্যন্ত শান্ত ও মার্জিত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে পড়লেন। তাঁর মুখে কোনো উত্তেজনার বা রাগের চিহ্নমাত্র ছিল না; বরং তাঁর চোখে ছিল এক অদ্ভুত ঠান্ডা ও তীক্ষ্ণ আইনি ধার।
সুমিত বাবু দু পা এগিয়ে এসে প্রদীপ্তবাবুকে হাত দিয়ে একটু শান্ত হওয়ার ইশারা করলেন। তারপর তিনি নিজের চশমাটা নাক থেকে একটু নামিয়ে সরাসরি নরেশের চোখের দিকে তাকিয়ে এক মারণাস্ত্রের মতো শান্ত গলায় বলে উঠলেন, “নরেশ , অনেক তো চিলচিৎকার হলো। এবার একটু কান খুলে আমার কথাগুলো শোনো। তুমি গরিব কনস্টেবল হতে পারো, কিন্তু তোমার মাথাটা একটুও পরিষ্কার নয়। তুমি ভাবছ এই কেস কোর্টে তুললে তুমি জিতে যাবে? তা অত সহজ নয় ভাই!”
নরেশ একটু কুঁচকে গিয়ে বাঁকা চোখে সুমিত বাবুর দিকে তাকিয়ে ব্যঙ্গের সুরে বলল, “কেন, উকিল বাবু? কোর্টে কি জাজ সাহেব আমার ছেলের ফেটে যাওয়া মাথার মেডিকেল রিপোর্ট দেখতে পাবেন না?”


সুমিত বাবু মৃদু হাসলেন। সেই হাসির ভেতরে এমন এক ভয়ংকর আইনি মারপ্যাঁচ লুকানো ছিল, যা নরেশের পায়ের নিচের মাটি মুহূর্তের মধ্যে ধসিয়ে দিতে পারে। সুমিত বাবু অত্যন্ত স্পষ্ট ও চড়া গলায় বললেন, “মেডিকেল রিপোর্ট নিশ্চয়ই থাকবে, নরেশ। কিন্তু সেই রিপোর্টের আগে আদালতের বিচারক যখন জানতে চাইবেন যে এই মারামারির মূল সূত্রপাত কোথায় হয়েছিল, তখন কী বলবে? তোমার ছেলে বাবলু কলেজ চলাকালীন ক্লাসের মধ্যে একজন সম্মানিত শিক্ষিকাকে— তাঁর শরীর নিয়ে কী কুরুচিকর, অশ্লীল ও নোংরা মন্তব্য করেছিল, সেই স্টেটমেন্ট যখন ক্লাসের বাকি ছাত্ররা জজ সাহেবের সামনে গিয়ে দিয়ে আসবে, তখন তোমার ছেলের সেই ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট কোথায় থাকবে বল তো?”
নরেশের মুখের সেই চওড়া বেপরোয়া হাসিটা এই কথা শোনার পর একমুহূর্তের জন্য থমকে গেল। তার কালো ঠোঁট দুটো একটু ফাঁক হয়ে গেল।


সুমিত বাবু থামলেন না। তিনি আরও এক পা এগিয়ে এসে নরেশের কানের কাছে ফিসফিস করে কিন্তু অত্যন্ত জোরালো ভাষায় বলতে লাগলেন, “শুধু তাই নয়, নরেশ ! রূপসা দেবীর পক্ষে কাউন্টার কেস হিসেবে আমি নিজে সওয়াল করব। বাবলুর বিরুদ্ধে Sexual Harassment, শ্লীলতাহানি এবং ম্যালিসিয়াস ডিফেমেশন অর্থাৎ পরিকল্পিতভাবে মানহানির অপরাধের একটা শক্তপোক্ত মামলা ঠুকে দেব। জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের বিচারে তোমার ছেলে তো জেলের রেখা দেখবেই, উপরন্তু কলেজের ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশনের কারণে তার পড়াশোনাও চিরতরে শেষ হয়ে যাবে। আর তুমি? তুমি একজন পুলিশ কনস্টেবল হয়ে নিজের ডিপার্টমেন্টের নিয়ম ভেঙে একজন শিক্ষিকাকে ব্ল্যাকমেল করার অপরাধে সাসপেন্ড তো হবেই, জেলের ভাতও তোমার কপালে পাক্কা লেখা থাকবে! এখন বলো, এই কেস টেনেটুনে কোর্ট অব্দি নিয়ে যাওয়ার সাহস তোমার সত্যি আছে কি না!”


সুমিত বাবুর এই নিখুঁত, আইনি ও মোক্ষম ধমকটা খাওয়ার পর নরেশের পুরো শরীর যেন একটা অদৃশ্য ধাক্কা খেল। সে এতক্ষণ ধরে ভেবেছিল যে সে পুলিশ ডিপার্টমেন্টের লোক হওয়ায় তার পালাই ভারী। কিন্তু সুমিত বাবু যেভাবে পুরো মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে সরাসরি বাবলুর ক্যারেক্টার এবং নরেশের নিজের চাকরি ও মানসম্মানের ওপর খাঁড়া ঝুলিয়ে দিলেন, তাতে নরেশের মুখের সমস্ত রক্ত মুহূর্তের মধ্যে নেমে গেল। তার সেই কুচকুচে কালো মুখটা হঠাৎ করেই কেমন যেন ফ্যাকাশে ও থমথমে হয়ে গেল। সে বুঝতে পারল, এই উকিল যদি সত্যি সত্যি কাউন্টার কেস করে দেয়, তবে তার ঘরের ভেতরের মানসম্মান, তার চাকরি—সবকিছু চিরতরে ধুলোয় মিশে যাবে।
কেবিনের ভেতরে তখন পিনপতন নীরবতা। প্রদীপ্তবাবু গভীর চোখে তাকিয়ে রইলেন সুমিত বাবুর এই অসাধারণ আইনি চালের দিকে। আর কোণায় বসে থাকা রূপসা চক্রবর্তীর বুকটা তখন আশ্বাসের ছোঁয়ায় একটু হালকা হলো। তাঁর ধবধবে ফর্সা মুখে তখন একটা স্বস্তির ক্ষীণ রেখা ফুটে উঠেছে।


কিন্তু নরেশের সেই ভিতরের পশুত্ব ও জেদ এত সহজে দমার পাত্র ছিল না। সে সাময়িক ধাক্কা সামলে নিয়ে আবার নিজের চোয়াল শক্ত করল। তার কুচকুচে কালো চোখের ভেতরে জ্বলে উঠল এক অন্ধ, পৈশাচিক জিঘাংসার আগুন। সে তার ঘামে ভেজা উসকোখুসকো দাড়িটা হাত দিয়ে সজোরে ডলে নিয়ে প্রদীপ্তবাবুর টেবিলের ওপর ঝুঁকে পড়ে একদম ফিসফিসে, রূক্ষ ও গা হিম করা গলায় বলে উঠল—
“উকিল বাবু! আপনি অনেক বড় বড় আইনের ধারা শোনালেন আমাকে। কাউন্টার কেস, জেল, সাসপেনশন—সবকিছুর ভয় দেখিয়ে আমার মুখ বন্ধ করতে চাইছেন তো? কিন্তু আপনি ভুলে যাচ্ছেন, নরেশ কেবল একজন পুলিশ কনস্টেবল নয়, নরেশ একজন বাপও বটে! আমার ছেলের মাথা ফেটে রক্ত ঝরেছে, সে ব্যথায় রাতে ছটফট করছে—এই প্রতিশোধ আমি আইনি ফাইলে সই করে মুছতে দেব না! আইন আদালত আপনাদের কাছেই থাক, আমার একটাই কথা—রক্তের বদলে রক্ত! ওই রাজকে যদি আমি তিলে তিলে শেষ করতে না পারি, যদি তার এই অহংকারী মায়ের চোখের সামনে তাকে শাস্তি না দিই, তবে আমার নাম নরেশ নয়! আপনারা যা করার করুন, আমি কেস তুলব না মানে তুলব না!”
নরেশের মুখ থেকে এই চূড়ান্ত হুমকি শোনার পর কেবিনের ভেতরের পরিবেশটা আরও বেশি উত্তপ্ত ও বিপজ্জনক হয়ে উঠল। রূপসা আবার আঁকড়ে ধরে নিজের সিটের হাতলটা কাঁপতে লাগলেন, কারণ তিনি বুঝতে পেরেছেন যে এই বুনো জানোয়ারকে আইন দিয়ে হয়তো সামলানো যাবে, কিন্তু তার বুকের ভেতরের সেই অন্ধ জিঘাংসার আগুন নেভানো অত সহজ নয়!

পরের part ভীষণ উত্তেজক হতে চলেছে। Like comment ও star রেটিং দিয়ে সাথে থাকবেন। ধন্যবাদ।
[+] 9 users Like Coolraj1000's post
Like Reply
Uffff matatikkk
[+] 1 user Likes Farz@123's post
Like Reply
আগামী পার্ট এর অপেক্ষায় রইলাম
[+] 1 user Likes Sadiyaxyz's post
Like Reply
এবার মনে হচ্ছে নরেশ আসল শর্তটা রাখতে চলেছে।
banana :
Never Give Up banana 
Like Reply
fire build up, may be sobai chudbe
next part kobe sir?
Like Reply
(26-09-2026, 01:58 PM)abcde@12345 Wrote: fire build up, may be sobai chudbe
next part kobe sir?

আমার মনে হচ্ছে এখানে শালা কেস তোলার জন্য একটা শর্ত রাখবে। রুপসাকে ভোগ করার জন্য। সেখান থেকেই গল্প সেক্র সিন আসবে। আবার আমার মত ভুল হতেও পারে।
banana :
Never Give Up banana 
[+] 1 user Likes Sayim Mahmud's post
Like Reply
Heating up and update soon, it's completely different story.
Like Reply




Users browsing this thread: