Thread Rating:
  • 46 Vote(s) - 2.83 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
সত্তা
(29-09-2022, 01:28 AM)nadiafarmi Wrote: আর ২-৩ পেইজ বাকি যা আমার কাছে নেই গল্পটা ৯৯.২০ % শেষ। এখানে সমাপ্ত ঘোষণা করছি ।
বাকি অংশ ততটুকু মনে আছে এদের কিছু সংসারিক সুখি মূহুর্তের কাহিনী ।
 সমাপ্ত.

Ami Post Korbo
Like Reply
Do not mention / post any under age /rape content. If found Please use REPORT button.
পঞ্চম পর্বঃ চোরাবালি
 
সোয়েব তার বাংলোর সামনে বাগানে পাতা চেয়ারে বসে ছিল, পাশে তার স্ত্রীপড়ন্ত বিকেলে ঝিরিঝিরি বাতাস বইছে তার সাথে আসছে গোলাপের মিষ্টি মধুর গন্ধ, সাথে আছে ঘরে ফিরে আসা পাখিদের কিচিরমিচির ডাকএমন একটি সময় যেকোন নবদম্পতির জন্য রোমান্টিক হতে বাধ্যকিন্তু পাশে স্ত্রীকে পেয়েও সোয়েব মগ্ন আছে একটি ইংরেজি থ্রিলার উপন্যাস নিয়েসুমির খুব বিরক্ত লাগছিল, সপ্তাহে এই একটি দিনই তো একটু কাছে পায় স্বামীকে, সেই দিনও কিনা সোয়েব বসে যায় তার বইপত্র নিয়েপত্রিকার বিনোদন পাতায় চোখ বুলাতে বুলাতে স্বামীকে আড়চোখে দেখে সুমিসুমি কথা বলার একটি স্কোপ খুঁজতে থাকে, ও মনে করে সোয়েব খুন খারাপি, রক্তারক্তি ছাড়া কোন টপিকেই ইন্টারেস্ট পায়নাঅবশ্য সোয়েবের পেশাটাও তেমনই, সে পুলিশে কাজ করে, এসিসট্যান্ট সুপারিন্টেনডেন্ট অব পুলিশ
"এই তুমি আজকের পত্রিকা পড়েছ?" সুমি বলে
"হুম" বই থেকে চোখ না সরিয়েই জবাব দেয় সোয়েব
"এই খবরটা পড়েছ? এইযে, 'অপহরণের উনচল্লিশ দিন পর অপহৃতা তরুণী উদ্ধার, অপহরণকারী পার্বত্য অঞ্চলের ত্রাস ডাকু কিবরিয়া গ্রেফতার।' একই ঘটনা প্রথম পাতায় আরেকটি কলামে এসেছে
'কয়েকজন যুবকের বীরত্বপুর্ণ অভিযান ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে তরুণী উদ্ধার।' এই খবরটা নিয়ে অনলাইনে খুব তোলপাড় হচ্ছে" সুমি বলে
"এরকম খবর তো হরহামেশাই আসে পত্রিকায়, এখানে ইন্টারেস্টিং কি পেলে?" সোয়েব বলে
"তুমি আসলে খবরটা পড়োই নি, তাই এরকম বলছেআমি পড়ছি তুমি শোন।" বলে সুমি খবরটা পড়তে শুরু করে
"গত শনিবার বান্দরবন জেলার রুমা উপজেলা থেকে সাদিয়া আক্তার নামে এক তরুণী গৃহবধূ উদ্ধার এবং অপহরনকারী কুখ্যাত ডাকু কিবরিয়া পুলিশ কর্তৃক গ্রেফতার হয়এর আগে নয়ই জুলাই কক্সবাজারে সী সেল হোটেলে হামলা চালিয়ে সাদিয়াকে অপহরণ করে নিয়ে যায় ডাকু কিবরিয়াতবে ঘটনাটির সুত্রপাত হয় প্রায় দশ বছর আগে, যখন সাদিয়ার বাবা আমিনুজ্জামান শাহরিয়ার কবির খান নামের পনেরো বছর বয়সী এক এতিম ছেলেকে আশ্রয় দেনকবিরের বাবা মাসুদ খান ছিলেন আমিনুজ্জামানের বন্ধুএক কার এক্সিডেন্টে কবির তার পরিবার হারিয়েছিলআমিনুজ্জামান ও তার স্ত্রী শিরিন বেগম কবিরকে তাদের সন্তানের সমান আদর দিয়েই লালন পালন করেনকবির মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ম্যানেজমেন্টে দ্বিতীয় বর্ষে পড়তো, তখন সে সাদিয়াকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়সাদিয়া তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং সজল আহমেদকে বিয়ে করেনএতে কবির রাগে ক্ষোভে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়
চট্টগ্রামে গিয়ে সে একটি ডাকাত দলে যোগ দেয় কিবরিয়া নামে, এবং এক বছরের মধ্যেই সে ডাকাত দলের দলপতিতে পরিণত হয়কথিত আছে কবির ওরফে কিবরিয়া তার দলের দলপতি কাদেরকে একবার মৃত্যুর মুখ থেকে বাঁচিয়েছিলসেই থেকে কিবরিয়া তার স্নেহভাজন ছিল এবং পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে মারা যাবার আগে কাদের কিবরিয়াকে দলপতি ঘোষনা করেএরপর আরো চারটি বছর কেটে যায়, এর মধ্যে কিবরিয়া ও তার ডাকু দল পার্বত্য চট্টগ্রামের ত্রাসে পরিণত হয়গ্রামকে গ্রাম লুটপাট, হত্যা ;., চালায় তারা অথচ পুলিশ তাদের নাগালই পায় নাকিবরিয়া যখন জানতে পারে যে সাদিয়া তার স্বামীর সাথে কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছে তখন সে তার দলবল নিয়ে হামলা চালায় তাদের হোটেলে, সজল ও তার বন্ধু সাইমন্ড রহমানকে মারধর করে গুরুতর আঘাত করে সাদিয়াকে অপহরন করে নিয়ে যায়
স্ত্রীকে হারিয়ে সজল মানসিকভাবে বিদ্ধস্ত হয়ে পড়েশুধু পুলিশের ওপর নির্ভর না থেকে সাইমন তার কিছু বন্ধুদের নিয়ে খুঁজতে থাকে, এবং এক মাসের নিরন্তর চেষ্টার পর খুঁজে পায় তারা কিবরিয়ার আস্তানাকিন্তু তারা ধরা পড়ে যায় কিবরিয়ার লোকদের কাছেপলাশ হাসান ও মুহিত তালুকদার আহত অবস্থায় পালিয়ে আসতে পারলেও সাইমন ও রকিবকে নৃশংস ভাবে হত্যা করে কিবরিয়া ও তার লোকেরাএরপর ধরা পড়ার ভয়ে পালিয়ে যাবার সময় কিবরিয়া পুলিশের কাছে ধরা পড়েতার কাছে থেকে পুলিশ দুটি রাইফেল ও দশ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছেসাদিয়া আক্তার ওরফে স্নিগ্ধা এখন এইড হসপিটালে চিকিৎসারত আছেন, বিগত একটি মাস তিনি ;., এবং তুমুল শারিরীক ও মানষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেনডক্টর শাহনাজ আক্তার বলেন ভিক্টিমের দেহে ;.,ের আলামত পাওয়া গেছে এবং তিনি অন্তঃসত্ত্বাতবে ভিক্টিমের শারিরীক অসুস্থতার চেয়ে মানসিক আঘাতটি অনেক বেশী গুরুতর।"
এই পর্যন্ত পরে সুমি থেমে যায়তারপর বলে "আরে এই ধর্ষক ডাকাতটাকে না মিরপুর থানায় চালান করে দিয়েছেএটা তো তোমার আওতাধীন।"
"হুমতবে এখন পর্যন্ত ওর ফাইলটা দেখা হয়নি।" সোয়েব বলে
Like Reply
"কি হল, কি ভাবছো?" সোয়েবকে চুপ মেরে থাকতে দেখে সুমি বলে
"ভাবছি, আমাদের দেশের সাংবাদিকরা আজকাল হিন্দি সিনেমা খুব বেশি দেখছেএকেবারে হিন্দি সিনেমার প্লট, "শোলে টু" নাম দেয়া যায়।" সোয়েব বলে
"তুমি কি বলতে চাইছো? এ সবই মিথ্যা, বানোয়াট?" তীক্ষ্ণ কন্ঠে বলে সুমি
"আমি তা বলছি নাকিন্তু আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, মিডিয়া সবসময় যেকোন ঘটনাকে রংচং মাখিয়ে প্রচার করেএই যেমন বলেছে যে কবির ডাকাত দলে যোগ দিল আর দলপতিকে বাঁচিয়ে হুট করে নিজে দলপতি হয়ে গেলএরকমটা শুধু সিনেমাতেই সম্ভব, বাস্তবে নয়এ কি নিজেই ডাকু কিবরিয়া নাকি কিবরিয়া বাহিনীর নবীন কোন সদস্য সে ব্যাপারে এখনো আমরা নিশ্চিত নইডাকু কিবরিয়ার কোন ফোটো পুলিশের কাছে নেই, একটা স্কেচ আছে, কিন্তু তা থেকেও নিশ্চিত হওয়া যায় নাআর সাইমন্ড রহমান, শিল্পপতি জিল্লুর রহমান ছেলে, যাকে তোমরা হিরো বানিয়ে ফেলেছোখুব ভাল করে চিনি ওকেবড়লোকের বখে যাওয়া ছেলে, সারাদিন নারী, মদ আর ইয়াবা নিয়ে থাকেএকবার তো মাতাল হয়ে গাড়ি চালাতে গিয়ে এক রিকশাকে ধাক্কা দিয়ে দিয়েছিল, উল্টে রিকশাচালককে বন্ধুরা মিলে মারধোর করেছিল আমি ওদেরকে এরেস্ট করেছিলাম, অবশ্য সাথে সাথেই ছেড়ে দিতে হয়েছে।" সোয়েব বলে
"কেউ মাতাল হয়ে গাড়ি চালায় বলে সে যে কোন ভাল কাজ করতে পারে না তা জানলে কিভাবে তুমি? আর সে কিবরিয়া হোক বা না হোক, নিজের শৈশব কৈশোরের সাথিকে যে এমন নিষ্ঠুরভাব রেপ করতে পারে সে আর যাই হোক মানুষ নয়, নরপিশাচ সে।" সুমি বলে
"হুমএমন কেস আমি বহু দেখেছিআসলে মানুষের ভালবাসা যত দৃঢ় হয়, সেই ভালবাসা যখন ঘৃণা বা ক্রোধে রুপান্তরিত হয় তখন সেই ঘৃণা বা ক্রোধও ততোটাই ভয়ংকর হয়।" সোয়েব বলে
"যাও! ভালবাসা কখনো ঘৃণায় বা ক্রোধে রুপান্তরিত হয় নাকি!" উড়িয়ে দেবার ভঙ্গিতে বলে সুমি
"আমি এমন কতো কেস দেখেছি! সিলেটে এক গৃহবধু পরকিয়া প্রেমে মজে প্রেমিকের সাথে মিলে তার স্বামী ও সন্তানকে হত্যা করেঅথচ সেই মহিলা প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করেছিলকেসটা আমি সলভ করেছিলাম।" সোয়েব বলে
"ওটা ভালবাসা ছিলোই নাশুধু মোহ ছিল, মোহ উড়ে গেলেই ঘৃণা শুরু হয়ে যায়।" সুমি বলে
"তাহলে ভালবাসা কি? আমাকে একটু শিখিয়ে দাওনা।" বলে সুমির হাত ধরে টেনে কোলে বসিয়ে জড়িয়ে নেয় সোয়েব
"আচ্ছা ঠিক আছেলিসন ওয়ান- ভালবাসা মানেই সেক্স নয়লিসন টু - কাউকে ভালোবাসতে শেখানো যায়না, নিজে নিজের মতো করে ভালবাসতে হয়।" স্বামীর কোলে বসে ফিসফিস করে বলে সুমি
 
"তাহলে সেক্সের কি কোন প্রয়োজন নেই?" সোয়েব বলে
"প্রয়োজন আছে, তবে ততোটা নয়ভালবাসা হল ভাত তরকারির মতো, যা নাহলে চলেই না, সেক্স হল চাটনির মতো, যা না হলেও চলে, কিন্তু থাকলে তা ভালবাসাকে আরো মধুর করে তোলে।" সুমি বলে
"আমার খুব চাটনি খেতে ইচ্ছা করছে যে?" বলে সোয়েব সুমিকে আরো নিবিড়ভাবে জড়িয়ে নেয়, ফর্সা নিটোল গালে চুমু দিতে থাকে
"এই কি করছো ছাড়ো, কেউ দেখে ফেলবে উম..." কথা শেষ করতে না দিয়ে সোয়েব ওর ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরে চুমু দিতে থাকে
"কে দেখবে? কেউ নেই এখানে।" বলে সোয়েব ওর সালোয়ার কামিজটা দু হাতে টেনে খুলে ফেলে ব্রার কাপগুলো নামিয়ে এনে বের করে আনে কদবেল আকৃতির দুটি ফর্সা স্তন, ওর ছিপছিপে দেহের সাথে খুবই সামঞ্জস্যপুর্নসোয়েব হামলে পড়ে ওর বুকে, একটি স্তনের খয়েরি বোঁটা বৃন্তসহ চুষতে থাকেঅন্য স্তনটি মুঠোর মাঝে নিয়ে টিপতে থাকেহঠাত দীপার ভরাট স্তনগুলোর কথা মনে পরে যায় সোয়েবের, সেই স্তনগুলোতে মুখ ডুবিয়ে দেয়ার মাঝে একরকম সুখ ছিল, আবার সুমির ছোট ছোট গোলাকার স্তনগুলোকে মুখে পুরে নিয়ে কামড়ে দেয়ার মাঝে অন্যরকম সুখ
সোয়েব যতোটা সম্ভব বড় হা করে স্তনটির প্রায় পুরোটা মুখে ঢুকিয়ে নেয়, মাড়ি দিয়ে হালকা হালকা কামড়ে দিতে থাকে সোয়েবমুখ ভর্তি নরম তুলতুলে মাংস কখনো হালকা কামড় দিতে দিতে ভাবছিল দিপার কথাদিপা সোয়েবের কলেজ জীবনের প্রেমিকাখুব ভালবাসতো ওকে, চেয়েছিল বিয়ে করতেকিন্ত সেই বহুল প্রচলিত সমস্য, ষোল পেরোতে না পেরোতেই মেয়েদের বিয়ের তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়, আর ত্রিশের আগে ছেলেরা বিয়ের কথা চিন্তাও করতে পারে নাঅবশ্য দীপা পালিয়েই বিয়ে করতে চেয়েছিল, সোয়েবেরই সাহস হয়নি
"সেসব ভেবে আর লাভ নেই," মনে মনে বলে সোয়েবসুমির স্তন ভক্ষনের দিকেই মন দেয় সোয়েব, পালা করে দুটো স্তনই চুষে কামড়ে একাকার করে দিতে থাকেনিজের বুকে স্বামীর এমন উগ্র আক্রমণ খুব ভাল লাগে সুমির, ওর মাথাটা দুহাতে খামচে ধরে থাকে ও মুখে শিতকার দিতে থাকে
হঠাত সোয়েব স্ত্রীকে কোলে নিয়ে উঠে দাড়ায় ও হেঁটে যেতে থাকে ঘরের দিকেসুমি দুহাতে ওর স্বামীর ঘাড় জড়িয়ে ধরে ঝুলে ঝুলে যেতে থাকেছয় ফুট দুই ইঞ্চি লম্বা সুঠাম দেহের অধিকারী সোয়েবের পক্ষে সুমির পাতলা ছিপছিপে দেহটিকে তুলে নিয়ে সারাদিন হেঁটে বেড়ানোও সম্ভব
সোয়েব বেডরুমে না গিয়ে বরং ডাইনিংরুমে গিয়ে টেবিলের ওপর বসিয়ে দেয় সুমিকেপেন্টি সমেত টেনে খুলে ফেলে সুমির পরনের পায়জামা, হালকা রেশমি বালে ভরা যো উপত্যকা নজরে আসেসোয়েব ওর দু পা দুদিকে সরিয়ে দিয়ে উন্মোচন করে লাল টুকটুকে যোনী চেরাসোয়েব ওর একটি আঙুল যোনির ছোট্ট সংকীর্ন ফুটোয় ঢুকিয়ে দিয়ে বুঝতে পারে যে ওর লিঙ্গটা ঢোকানোর জন্য যথেষ্ট ভিজে যায়নিসোয়েব ওর মুখ ডুবে দেয় যোনী চেরায়, ক্লিটটাকে দু' আঙুলে ডলতে ডলতে চুষতে থাকে যোনীছিদ্র অনবরতসুমি শিতকার দিতে দিতে সোয়েবের মাথাটা খামছে চেপে ধরে
কিছুক্ষন পর সোয়েব উঠে দাড়ায়, নিজের শার্টটা খুলে, প্যান্টটা খুলতে যেতেই ওর মোবাইলটা বেজে ওঠেমিরপুর থানার ওসির ফোন, সোয়েব রিসিভ করে
"হ্যালো স্যার, আমি মইনুল।"
"হ্যাঁ চিনতে পেরেছিবলুন।" সোয়েব বলে
"ডিসিপি স্যার আসছেন থানায়।"
"কোন ডিসিপি? আর কখন আসছেন?" সোয়েব জিজ্ঞাসা করে
"ডিসিপি নুরুল হুদাএখনি আসছেন, আমাকে একটু আগেই কল করে জানিয়েছেন।" মইনুল বলে
"কেন আসছেন সে ব্যাপারে কিছু জানিয়েছেন?"
"না স্যার।"
"ঠিক আছেআমি আসছি।" বলে সোয়েব ফোন কেটে দেয়
"কি গো যেতে হবে?" সুমি দীর্ঘশ্বাস লুকিয়ে বলে
"যাও, তাড়াতাড়ি ফিরবে কিন্তু।" সোয়েবকে চুপ থাকতে দেখে বলে সুমি
সোয়েব চটপট ইউনিফর্ম পরে নিয়ে সার্ভিস জিপটা নিয়ে বেরিয়ে যায়রাস্তায় প্রচুর জ্যাম থাকায় দশ মিনিটের রাস্তা এক ঘন্টা লেগে যায়ছুটির দিন এতো জ্যাম থাকার কথা ছিলনা, কিন্তু রাস্তা মেরামতের কাজ চলায় হঠাত এমন জ্যাম লেগে গেছেসোয়েব মিরপুর থানার সামনে এসে দুটি প্রাইভেট কার দেখতে পায়, সোয়েব একটিকে চেনে, ডিসিপি সাহেবেরথানায় ঢুকে কনস্টেবলদের জিজ্ঞাসা করে সোয়েব, তারা জানায় যে ডিসিপি সাহেব আধা ঘন্টা আগেই এসেছেনতিনি এবং সাথে একজন গেস্ট ভেতরে স্পেশাল সেলে গেছে যেখানে নতুন আসামীকে রাখা হয়েছেসোয়েব সেলটিতে গিয়ে দেখে সাদা সুট পরা একজন মধ্যবয়সী মোটাসোটা লোক হাতে লাঠি নিয়ে বেঁধে রাখা আসামী কবির ওরফে কিবরিয়াকে জোরে জোরে পেটাচ্ছে আর গালাগালি দিচ্ছেসারা ঘর লাঠির বাড়ির ধুপধাপ শব্দ, আর্তনাদ আর গালাগালিতে ভরে উঠছেওসি মইনুল আর ডিসিপি নুরুল হুদা খানিকটা তফাতে দাড়িয়ে তামাশা দেখছেআসামীদের টরচার করার জন্য পুলিশদের বিশেষ ট্রেনিং দেয়া হয়, পুলিশরা সাধারনত এমন যায়গায় আঘাত করেনা যাতে আসামীর মৃত্যু হতে পারেকিন্তু এই লোকটির তেমন কোন ট্রেনিং নেই, বিশেষ করে যেভাবে সে লাঠি দিয়ে বুকে আঘাত করছে তাতে যেকোন সময় বুকের হাড় ভেঙে আসামী মারা যেতে পারে
সোয়েব এগিয়ে গিয়ে সেলুট দেয় ডিসিপিকেতারপর ফিসফিস করে বলে "এভাবে চলতে থাকলে আসামী মারা যেতে পারেআসামী মারা গেলে এর দায়ভার কে নেবে স্যার?"
Like Reply
(10-08-2026, 01:21 PM)MHR Sexy Wrote: @ddey333 বা @Nefartiti এই গল্পের শেষ অংশটুকু যার কাছেই থাকুক না কেন, পোস্ট করুন দয়া করে। গল্পটা পড়তে খুব ভালো লাগছে, শেষটা না জানলে অসম্পূর্ণতা থেকে যাবে।

Continue
Like Reply
নুরুল হুদা অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সোয়েবের দিকেঅধীনস্ত কেউ যে এভাবে কথা বলতে পারে তার সাথে তা বিশ্বাস হতে চায় না, কিন্তু মুখে কিছু বলে নাএগিয়ে যায় লোকটার দিকে
"আরে বদরুল সাহেব, আপনি তো ঘেমে ধুয়ে যাচ্ছেনচলুন একটু রিল্যাক্স করি।" নুরুল হুদা বলে
"না, ডিসিপি সাহেবএই বাস্টার্ডটাকে যমের বাড়ি না পাঠিয়ে আমি দম নিব না।" বলে আবার লাঠি দিয়ে সপাটে বাড়ি দিতে থাকে কবিরের বুকে আর পিঠে
"রিল্যাক্স বদরুল সাহেবআপনার ব্লাড প্রেসার বেড়ে যাবে তোআমার অফিসাররা আছে কি করতে?" বলে হাত বাড়িয়ে লাঠিটা নেয় তারপর মইনুলের হাতে লাঠিটা দেয়মইনুল ওদেরকে দেখিয়ে দেখিয়ে পেটাতে থাকে কবিরকেডিসিপি আর বদরুল সেল থেকে বেরিয়ে যেতেই সোয়েব খেঁকিয়ে ওঠে "স্টপ ইট মইনুলআসামী মরে গেলে তার দায়ভার কে নেবে? না ডিসিপি সাহেব, না আমিদায় পড়বে তোমার ওপরতারপর পোস্টিং খাগড়াছরি কিংবা সুন্দরবনযেতে চাও?"
"সরি স্যার।" মইনুল বলে
"খোল ওকে।"
একটি নলাকার পিলারের সাথে বাঁধা ছিল কবিরসে অবস্থাতেই অজ্ঞান হয়ে গেছে সে
 
কবিরকে চেয়ারে বসিয়ে মুখে পানির ঝাপটা দিয়ে জ্ঞান ফিরিয়ে আনে মইনুল
"পানি..." অস্ফুট স্বরে বলে কবির
সোয়েব গ্লাসে পানি ভরে কবিরের হাতে দেয়কবির এক ঢোঁকে পুরোটা খেয়ে নেয়
"রিমান্ড পাশ করিয়েছো মইনুল?" সোয়েব জিজ্ঞাসা করে ময়নুলকে
"জি স্যারদশ দিনের চেয়েছিলাম, কোর্ট সাত দিনের দিয়েছে।" মইনুল বলে
"বাইরের লোককে কখনই আসামীদের ওপর হাত ওঠাতে দিবে না।"
"জি স্যার, কিন্তু যদি ওপরওয়ালারা বলেন তো আমি কি করতে পারি স্যার?"
"ওপরওয়ালাদের বলবে তারা যেন লিখিত নির্দেশ দেন।" সোয়েব বলে
"জি স্যার।"
"এখন যেতে পারোআমি একটু পর যাবো।" সোয়েব বলে
"জি স্যার" বলে সেলুট দিয়ে মইনুল চলে যায়
সোয়েব এবার কবিরের দিকে লক্ষ করে, উস্কোখুস্কো চুল, মুখভর্তি খোঁচাখোঁচা দাড়িওর দিকেই তাকিয়ে আছে, কিন্তু দৃষ্টিতে শুন্যতাবয়স কতোই বা হবে, পঁচিশ কিংবা ছাব্বিশ হবেএই ছেলেটাই সেই পার্বত্য চট্টগ্রামের ত্রাস কিবরিয়া ডাকাত, বিশ্বাস হতে চায় নাকিন্তু সোয়েব তার অভিজ্ঞতা থেকে জানে অনেক ঘাঘু অপরাধীদেরও নিষ্পাপ চেহারা থাকতে পারে
 
"কি নাম তোর?" সোয়েব জিজ্ঞাসা করে
"কবির।"
"পুরো নাম বল।"
"শাহরিয়ার কবির খান।" বলতে গিয়ে ব্যাথায় কাতরিয়া ওঠে কবির
"বয়স কতো?"
"পঁচিশ বছর সাত মাস ছাব্বিশ দিন।" একমুহর্ত থেমে বলে কবির
"এই বয়সেই ত্রিশ পাহাড়ি গ্রাম আর পঞ্চাশ বাস লুট, ষাটজন অপহরণ, চল্লিশ রেপ আর পঁয়ত্রিশ খুনচমতকার ট্র্যাক রেকর্ড তোর।" ঠোঁটের কোনায় ধুর্ত হাসি রেখে বলে সোয়েব
"সবকিছু যদি জেনেই গিয়ে থাকেন তখন কেন অযথা জিজ্ঞাসাবাদ করছেন স্যার? আপনিও কি ওসি সাহেবের মতো দোষ স্বীকার করে নেয়ার জন্য মারধোর করবেন?"
"চুপ শালা কুকুরের বাচ্চা, আমাকে রাগাবি নাআমি সহজে কাওকে মারি না, কিন্তু যে আমাকে লাঠি ধরতে বাধ্য করে সে যতদিন বেঁচে থাকে দিনে দুইবার আমার নাম জপে, রাতে শোয়ার সময় আর সকাল ঘুম থেকে ওঠার সময়।" সোয়েব রেগে বলে
"আমি এমনিতেও আপনার কথা চিরদিন স্মরণ রাখব স্যাররাস্তায় পড়ে থেকে ধুঁকে ধুঁকে মরতে থাকা কোন কুকুর যদি পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া কোন পথচারীর চোখে ঘৃণার বদলে করুণা দেখতে পায় তবে হয়তো সেই পথচারীকে মৃত্যুর আগের মুহুর্ত অব্দি মনে রাখে।"
"তোর জন্য আমার কোন সহানুভুতি নেইআমি শুধু আমার কর্তব্য করেছি।" শীতল কন্ঠে বলে সোয়েব
"নিজের কর্তব্যটাই বা কতোজন করে স্যার?" কবির বলে
সোয়েব কিছুক্ষণ নিরব থাকে, তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে দেখতে থাকে কবিরকে
"আচ্ছা ঠিক আছে, তুইই বলহঠাত করে কেন উধাও হয়ে গেলি? কোথায় গেলি, কোথায় কোথায় ছিলি এতোদিন।" সোয়েব বলে
কবির চেয়ারে হেলান দিয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে বলতে থাকে সেই সময়ের পরিস্থিতি, ওর হারিয়ে যাওয়া, এরপর কবিরের ভবঘুরে জীবনআচানক স্নিগ্ধার সাথে দেখা হওয়া, স্নিগ্ধাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়া ও স্বপ্নময় দিনগুলো তারপর হঠাত দুঃস্বপ্নের সেই দিনটি অতঃপর ওদের ধরা পড়ে যাওয়াসোয়েব শুনতে শুনতে নোট করতে থাকে
"তার মানে তুই ধোয়া তুলসী পাতা, তোর কোন দোষ নেইসবই তোর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র?" সোয়েব বলে
"আমি তা বলছি নাআমি দুটি খুনের সাথে জড়িত, যার একটি আমার নিজ হাতে হয়েছে যদিও তা আত্মরক্ষার্থে।" কবির বলে
"আমি নিজে তোর দেয়া তথ্যগুলো যাচাই করবযদি সত্যিই নির্দোষ হয়ে থাকিস তবে তোর ভয় নেই।" সোয়েব বলে
সোয়েবের বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত এগারোটা বেজে যায়বাসায় ফিরে সোয়েব আবারো ডায়েরিটা খুলে দেখে, এতে কবিরের উল্লেখ করা বিভিন্ন ব্যাক্তির নাম আর ঠিকানা রয়েছেহতে পারে কবির যা বলেছে তার পুরোটাই বানানো, কিন্তু যদি সত্য হয়ে থাকে তবে এক বিশাল অনর্থ ঘটতে যাচ্ছে, এমন কিছু ঘটতে কিছুতেই দেয়া যায় নাসোয়েব সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল কালকেই তদন্তে বেরিয়ে পড়বে
"এই, কি গো খাবে না? কতো দেরি করে ফিরলে, এখন আবার কাজ নিয়ে বসে পড়লে যে?" সুমি বলে
"না গো, খেতে ইচ্ছা করছে নাতুমি খেয়ে নাও না লক্ষিটি?" সোয়েব বলে
"তোমাকে ছাড়া খেয়েছি কখনো?" বলে সুমি অন্য ঘরে চলে যায়
সোয়েব তখন এসপি গৌতম রায়কে কল করে
"হ্যালো স্যার, ঘুমিয়ে পড়েছিলেন নাকি? ডিস্টার্ব করলাম?" সোয়েব বলে
"না সোয়েববলো।" গৌতম বলে
"আসলে স্যার, আমার সপ্তাহ খানেকের ছুটি প্রয়োজন।"
"বউকে নিয়ে কোথাও বেড়াতে যাবে নাকি?"
"জি স্যার, শশুর বাড়ি থেকে একটু ঘুরে আসতাম।" সোয়েব বলে
"বেশ, বেশ, যাও তাহলে, চিন্তা কোরোনা আমি এ দিকটা সামলে নেব।"
"থ্যাংক ইউ স্যার।" বলে ফোন কেটে দেয় সোয়েব
Like Reply




Users browsing this thread: