13-04-2026, 06:36 PM
আমার নাম রাজ সরকার। বয়স বিশ। আমি আমাদের শহরের সবচেয়ে নামকরা কলেজে অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি। আমি আমার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। তাই ছোটবেলা থেকেই তাদের কাছে আমি অত্যন্ত আদরের। বিশেষ করে মায়ের কাছে।
আমার বাবার নাম দেব সরকার। বয়স ৪৫। একজন সফল আইটি ইঞ্জিনিয়ার এবং বিজনেসম্যান। তার নিজস্ব একটা আইটি ফার্ম আছে। কাজের চাপে তিনি প্রায়ই ব্যস্ত থাকেন। কয়েকদিন আগে তিনি একটা বড় প্রজেক্ট নিয়ে দেশের বাইরে চলে গেছেন। সেখানে তাকে প্রায় এক বছর থাকতে হবে। বাবা চলে যাওয়ার পর বাড়িতে এখন শুধু আমি আর মা।
আমার মায়ের নাম শিলা সরকার। তার বয়স ৩৮ বছর। কিন্তু তার চেহারা দেখে কেউই বিশ্বাস করবে না যে তিনি একজন বিশ বছরের ছেলের মা। মা নিয়মিত ঘরোয়া ব্যায়াম করেন, সুষম ডায়েট মেনে চলেন। ফলে মা এই বয়সেও যথেষ্ট আকর্ষণীয় ও আবেদনময়ী দেখতে।
মায়ের গায়ের রং দুধে-আলতায় মেশানো ফর্সা। লম্বা কালো চুল, পাতলা ঠোঁট, আর বড় বড় চোখ। কিন্তু সবচেয়ে যা মাকে অসম্ভব সেক্সি করে তোলে তা হলো তার শরীরের গড়ন। বিশাল সাইজের গোলাকার দুধ জোড়া যা সবসময়ই টাইট ব্লাউজের ভিতরে দুলতে থাকে। আর তার পাছাটা বিশাল, থলথলে ও নরম যা হাঁটার সময় দুইদিকে দুলে দুলে ওঠে।
মাসখানেক আগে মা আমাদের কলেজেই অংকের প্রফেসর হিসেবে যোগ দিয়েছেন। আগে তিনি শহরের বাইরের একটা কলেজে পড়াতেন। কিন্তু যখন আমি এই কলেজে চান্স পেলাম তখন থেকেই মা চেষ্টা করছিলেন এখানে চলে আসার। বাবার রাজনৈতিক যোগাযোগের সুবাদে আমাদের কলেজের অংকের শিক্ষক অসুস্থ হয়ে চাকরি ছাড়ার পর মা এই পদটি পেয়ে যান এবং গত মাস থেকেই কলেজে যোগদান করেন।
শিক্ষিকা হিসেবে মা দুই ধরনের স্বভাবের। যারা পড়াশোনায় মনোযোগী তাদের সাথে তিনি খুবই নরম ও সহানুভূতিশীল আর যারা বখাটে প্রকৃতির তাদের প্রতি মা বেশ কড়া ও চরম স্বভাবের। কিন্তু কলেজে যোগ দেওয়ার পর থেকেই মায়ের সৌন্দর্য আর শারীরিক আকর্ষণ সবার মধ্যে একটা ঝড় তুলে দিয়েছে।
মা সাধারণত শাড়ির সাথে ম্যাচিং স্লিভলেস ব্লাউজ পরে কলেজে যান। শাড়ীতে মাকে যথেষ্ট সেক্সি লাগে। তার আবেদনময়ী চেহারা, আকর্ষণীয় শরীর, ভারী দুধ আর দুলকানো পাছা দেখে ছাত্র থেকে শুরু করে পুরুষ শিক্ষক সবাই যেন মাতাল হয়ে গেছে। মাত্র এক মাসেই মা কলেজের সবার নজরের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন। পিছনে পিছনে ছেলেরা তাকে দুধবতী, পাছাবতী ও মাগী চেহারার ম্যাডাম” ইত্যাদি গুপ্ত নামে ডাকা শুরু করেছে
আমার ক্লাসের বন্ধুরাও মায়ের ব্যাপারে কামুক মন্তব্য করতে ছাড়ে না। যদিও আমার সামনে তারা সেগুলো লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে। তবু আমি সব বুঝতে পারি। এতে আমার মনে একটা জ্বালা অনুভব হয়। ছোটবেলা থেকেই মায়ের এই অতিরিক্ত সৌন্দর্যের কারণে সবার নজর পড়তে দেখেছি। তাই এখন অনেকটা সয়ে গেছে। কিন্তু এখন নিজের বয়সী ছেলেদের কামুক দৃষ্টি দেখলে আর আগের মতো সহজে মেনে নিতে পারি না।
মা এসব বুঝতে পারেন কি না জানি না। তিনি সবসময় স্বাভাবিক, হাসিখুশি ও পজিটিভ মানসিকতায় থাকেন। আর যদি বুঝেও থাকেন তাহলে তার মত আধুনিক মনোভাবের নারী স্বাভাবিক ভাবেই এসব নিয়ে তোয়াক্কা করবে না।
তবে শিক্ষিকা হিসেবে মা সত্যিই পারফেকশনিস্ট। তার পড়ানোর ধরন অসাধারণ। জটিল অংকের বিষয়গুলো তিনি এমন সহজ ও সুন্দর করে বুঝিয়ে দেন যে, যে কেউ সহজেই আয়ত্ত করে ফেলে। মাত্র এক মাসেই তিনি সব ছাত্রদের কাছ থেকে প্রচুর প্রশংসা পেয়েছেন। যারা আগে অংকে খারাপ করত তারাও এখন আশার আলো দেখতে শুরু করেছে।
তারপরেও অংকে কয়েকজনের অবস্থান খুবই বাজে। গত দুইদিন আগে মা একটা ক্লাস টেস্ট নিয়েছিলো। তাতে কয়েকজন বাদে সবাই ভালো করেছিল। যারা খারাপ করেছিল মা তাদের কাছে সঠিক কারণ জানতে চেয়েছিল যে আসলে অংকে তাদের মূল সমস্যাটা কি।
তো সবারই একটা কমন কারণ ছিল যে সঠিক গাইডলাইনের অভাব। তাই প্রিন্সিপাল স্যারের সাথে আলোচনা করে মা বাছায় করা কিছু ছাত্রদের কলেজ শেষে এক্সট্রা কোচিং করানোর সিদ্ধান্ত নেই। এখানে শুধুমাত্র অংকে দূর্বলরাই অংশগ্রহণ করতে পারবে। তো মায়ের এই এক্সট্রা কোচিং এর বিষয়টা আমার একদমই পছন্দ হয়েছিল না। তাই বাড়ীতে ফিরে এই নিয়ে মায়ের সাথে আলোচনা করতেই মা জানাল যে- দেখ রাজ ওরা সত্যিই অংকে খুব পিছিয়ে আছে..আমি যদি একটু সময় দিয়ে ওদের গাইড করি তাহলে ওদের অনেক উপকার হবে..কলেজ শেষে মাত্র এক ঘণ্টাই তো লাগবে..এক ঘন্টায় যদি ওরা উপকৃত হয় তাহলে দোষের কি।
মায়ের পজেটিভ ভাবনাতে আর কোন কথা বলার উপায় থাকলো না। তবে ভয় একটাই যে মা যাদের এক্সট্রা ক্লাস করাবেন তারা কেউই খুব একটা সুবিধার না। সবকটা বখাটে। তো আজকে মা একটা কলাপাতা কালারের সুতির শাড়ীর সাথে ম্যাচিং স্লিভলেস পরেছে। মাকে অসম্ভব লাস্যময়ী লাগছিল। আজ থেকেই মায়ের সাথে সমস্ত বখাটেদের এক্সট্রা ক্লাস শুরু হবে। না জানি ওরা সবগুলো একসাথে বসে মায়ের দিকে কেমন নজর দিবে আর কি কি আলোচনা করবে।
তো কলেজে পৌঁছাতে দেখলাম সবার কামুক ভরা নজর মায়ের উপর পড়তে লাগলো। তারপর মা যখন ক্লাসে এলেন তখন আমার পিছনের সিটে বসা নীল রায় চৌধুরী ফিসফিসিয়ে বললো- উফফ ম্যাডামকে আজ যা লাগছে না..পুরোই দেশি নীল ছবির নায়িকা।
নীলের একথা শুনে তার দুই সহযোগী নারায়ন দাস ও জয় বিশ্বাস হো হো করে হেসে উঠলো। তা ফিসফিসানি টা আমার কানে আসতেই আমি কড়া নজরে ওদের দিকে তাকাতেই ওরা উপর দিকে মুখ করে এমন ভান করলো যে ওরা কিছুই বলে নি। পুরো কলেজের অধিকাংশ ছাত্ররাই ওদের তিনজনের থেকে দূরত্ব বজায় রাখে। ওদের মত বখাটে আর গুন্ডা প্রকৃতির ছাত্র এই কলেজে আর কেউ নেই। নীলের বাবা এখানকার লোকাল এমপি হওয়ায় কেউ তার সাথে পাঙ্গা নিতে চাই না।
তো মা তার ক্লাস শেষ করেই একটা চিরকুট বের করে সেখানে থাকা কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাদের দাঁড়াতে বললো। তাদের ভিতর নীল, নারায়ন ও জয়ও ছিল। তো তারা দাঁড়াতেই মা তাদের উদ্দেশ্য বললো- এই ক্লাসে সবথেকে তোমাদের অংকের ফলাফল খুব বাজে..তাই প্রিন্সিপাল স্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে প্রতিদিন কলেজ শেষে তোদের এক্সট্রা এক ঘন্টার ক্লাস নিবো..তোদের যার যা সমস্যা যেগুলো বুঝতে কষ্ট হয় সব আমাকে সেখানে খুলে বলবি..এতে করে তোদের শেখানো আমার জন্য সহজ হবে।
নীল তখন বলে উঠলো- ম্যাডাম কিছু বলতে পারি?
মা- হ্যা অবশ্যই।
নীল- তা ম্যাডাম এক্সট্রা ক্লাস তো এই কারণেই নিবেন যে আমরা যেনো অংকের দূর্বলতা কাটাতে পারি?
মা- হ্যা।
নীল- আমার মনে হয় না ম্যাডাম এতে কোনো ফল পাওয়া যাবে..কারণ আগের শিক্ষকও কিন্তু দূর্বলতা কাটানোর জন্য এক্সট্রা ক্লাস শুরু করেছিল..কিন্তু তিনি এক্সট্রা কোন পরিশ্রম না করে ক্লাসে যেরকম পড়াতো সেখানেও ঠিক তেমনই ছিল..যার ফলে নরমাল ক্লাস আর এক্সট্রা ক্লাসে আমরা কোনো পার্থক্য পেয়েছিলাম না।
নীলের কথাতে বাকি যারা দাঁড়িয়ে ছিল তারাও হ্যা হ্যা বলে সমর্থন দিতে লাগলো। মা তখন বললেন- তোর নাম তো নীল তাইনা?
নীল- জ্বি ম্যাডাম।
মা- দেখ তোদের কথা শুনে মনে হচ্ছে তোদের শেখার ইচ্ছে আছে..তোদের আগের স্যার কেমন ছিল সেটা জানি না..তবে এটুকু গ্যারান্টি দিতে পারি যে আমি কোচিং এ তোদের সব সমস্যাগুলো সমাধান করার চেষ্টা করবো..কয়েকটা দিন কোচিং এ এসে পর্যবেক্ষণ কর..যদি কোনো উন্নতি না করাতে পারি তোদের.. তাহলে আমি আমার শিক্ষকতা পেশাটা ছেড়ে দিব।
নীল- এ কি বলছেন ম্যাডাম..এই এক মাসে যতটুকু আপনার কাছ থেকে শিখেছি তাতে বলা বাহুল্য যে আপনি আগের শিক্ষকের থেকে হাজারগুণে বেটার..তাই আমাদের এটুকু বিশ্বাস রয়েছে যে আপনার কোচিং এ নিশ্চিত আমরা আমাদের দূর্বলতা কাটাতে পারব।
মা- এইতো গুড বয়ের মতো কথা..তাহলে আজ থেকে ক্লাস শেষে প্রতিদিন এক ঘন্টা করে সবাই থাকবি।
এটা বলেই মা ক্লাস শেষ করে চলে গেলেন। নীলের এরকম কনফিডেন্স হয়ে কথা বলাতে মনে হলো সে সত্যি অংকে দূর্বলতা কাটাতে চাই। তবে যেদিন থেকে মা এখানে যোগদান করেছে সেদিন থেকে তার মায়ের প্রতি কামুক নজর ও পেছনে পেছনে বিদ্রুপ মন্তব্যে তার প্রতি সন্দেহর সৃষ্টি হয়।
তো ক্লাস ব্রেকে সবাই এদিক ওদিক আড্ডা মারছিলাম। আমি তখন আমার দুইজন ক্লাসমেটের সাথে গল্প করতে করতে ক্লাসরুমের পিছন দিকে আসতেই দেখলাম নীল, জয় আর নারায়নকে হেসে হেসে গল্প করছে। ওদের কিছু কথা আমার কানে আসলো। তবে ওরা আমাকে খেয়াল করে নি যে আমি ওদের আশেপাশেই আছি। কারণ আমাদের আশেপাশে আরো অনেকেই ছিল।
তো প্রথমে জয়ের কথা কানে এলো। সে বললো- কিন্তু ভাই পারবি তো?
ওরা কি নিয়ে কথা বলছে বুঝতে পারলাম না। জয়ের কথার উত্তরে নারায়ন বললো- আরে পারবে না কেন? দেখলি না কিভাবে নীল ক্লাসরুমে সবার মধ্য থেকে ম্যাডামের নজর নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিয়েছিল।
নারায়ণের কথা শুনে আর বুঝতে বাকি রইলো না যে তারা আমার শিক্ষিকা মাকে নিয়েই আলোচনা করছে। তো নীল তখন বলে উঠলো- দেখিস নি কলেজে থাকাকালীন নিশা ম্যাডামকে নিয়ে কিভাবে খেলেছিলাম..এবার পালা শিলা ম্যাডামের।
নারায়ন- কিন্তু ভাই সেটা সাধারণ কলেজ ছিল আর এটা দেশের সবথেকে সুনামধন্য কলেজ আর শিলা ম্যাডাম কিন্তু নিশা ম্যাডামের মত সাধারণ কোন মহিলা না..একাধারে তিনি একজন শহরের সবথেকে ধনী পরিবারের মহিলা আর উচ্চশিক্ষাতা..তাছাড়া আমাদের বয়সী তার একটা ছেলেও রয়েছে..এত সহজে মনে হয় না শিলা ম্যাডাম পটবে।
নীল- কথাগুলো ঠিক বলেছিস..কিন্তু অতিরিক্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে যে জিনিস পাওয়া যায় সেটার মজাই আলাদা..শিলা ম্যাডামকে পেতে হলে ধৈর্য ও পরিশ্রম করা লাগবে..অযথা উত্তেজনার বশে কিছু করা যাবে না।
জয়- তবে দোস্ত আমার কিন্তু তর সয়ছে না..কবে যে শীলা ম্যাডামকে নিয়ে খেলব।
নারায়ন- হবে রে শালা ধৈর্য ধর..নীল থাকতে সমস্যা কিসের আমাদের।
ওদের তিনজনের কথা শুনে আমার পায়ের তল থেকে মাটি সরে যাওয়া মত অবস্থা হলো। এই বয়সে ওরা ওদের ক্লাসমেটের মাকে নোংরা পরিকল্পনা করছে। এত সাহস ওদের। মনে হলো এক্ষুনি গিয়ে তিনজনকে ইচ্ছেমত পিটাই। কিন্তু অনেক কষ্টে নিজেকে সামলালাম। কারণ ওরা যতই পরিকল্পনা করুক না কেন, ওদের বয়সী ছেলের দ্বারা মাকে পটানো অসম্ভব। মা শুধুমাত্র বাবাকেই মন প্রাণ উজাড় করে ভালবাসে। অনেক লোকই মাকে পটানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু কখনো মা সেটাকে সফল হতে দেই নি।
তো বাকি ক্লাসগুলো করে কলেজ ছুটি হতেই মা আমাকে বাড়ী চলে যেতে বললো। কিন্তু আমি জিদ ধরলাম যে আমি মায়ের সাথেই একসাথে যাব। মা তখন বললেন- অযথা জিদ ধরিস না বাবু..আমার এক ঘন্টা সময় লাগবে কোচিং শেষ করতে..এই এক ঘন্টা তুই কি করবি?
আমি- আমিও না হয় তোমাদের সাথেই ক্লাস করি।
মা- একদম না..ওখানে ব্রিলিয়ান্ট কেউ থাকুক আমি চাই না..ওটা শুধু দূর্বলদের জন্য।
আমি- তাহলে আমি কলেজের বাইরে অপেক্ষা করছি।
মা- একদম না..এতক্ষণ ধরে অযথা অপেক্ষা করার কোন প্রয়োজন নেই..তুই সোজা বাড়ী যা..আমি কোচিং শেষ করেই চলে আসবো।
আমি আর কথা বাড়াতে পারলাম না। তৎক্ষনাৎ সোজা বাড়ী ফিরে গেলাম। প্রায় দেড় ঘন্টা পর মা ও বাড়ী ফিরলো। মাকে তার প্রথমদিনের কোচিং এর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতেই তিনি জানালেন যে, প্রথমদিনের অভিজ্ঞতা বেশ ভালো..সবার শেখার খুব ইচ্ছে..এতদিন সঠিক গাইডলাইন পায় নি বলে তারা অংকে দূর্বল..তবে এখন মা তার স্টাইলে সবাইকে পড়িয়ে অংকে পাকা করে দিবে।
মা হয়তো বুঝতে পারে নি যে তারা পড়াশোনার থেকে মায়ের প্রতি বেশি ইন্টারেস্টেড। মাকে ইমপ্রেসের জন্যই তারা পড়ার ভান ধরছে। তারপরও এই বাহানাতে যদি তারা কিছু শেখে এতে মা অনেক খুশি হবে আর মা খুশি মানে আমি খুশি।
এভাবেই সপ্তাহ খানেক কেটে গেল। মা কোচিং এ তাদের সুন্দর করে সব বুঝিয়ে দিত আর সবাই যেটা বুঝতো না সেটা নিয়ে মন খুলে মাকে প্রশ্ন করতো। যেটা তারা ক্লাসরুমে করতে পারতো না। তো এই সপ্তাহখানেকে অনেকে অংকে কিছুটা দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠে। বিশেষ করে নীল, জয় আর নারায়ন। কয়েকজনের কাছে শুনেছি তারা নাকি কোচিং এ বেশ মনোযগী আর এতে করে সবার থেকে মায়ের নজর তাদের দিকে একটু বেশি। তাদের শেখার উৎসাহ দেখে মা ও নাকি তাদের উপর বেশ খুশি। যেটা ক্লাসরুমেও প্রমাণ পায়।
তা দুইদিন আগে মা তার কোচিং এর ছেলেদের একটা টেস্ট নিয়ে আজ ক্লাসরুমে সবার সামনে সেই টেস্টের রেজাল্ট ঘোষণা করলো। সবাই অংকে মোটামুটি ভালোই করেছে। তবে নীল, জয় আর নারায়ন অন্যদের থেকে বেশি ভালো করায় মা তাদের সংবর্ধনা জানাল আর আরো উন্নতি করার জন্য উৎসাহ দিলো।
পরেরদিন কলেজে সাপ্তাহিক ছুটি ছিল। তাই সকাল বেলা নাস্তা করে মা ও আমি মার্কেটে গেলাম বাজার করতে। মা একটা নীল জর্জেট শাড়ীর সাথে ফুল স্লিভ ম্যাচিং ব্লাউজ পরে ছিল। তো কেনাকাটা করার পর বাজারের ভিতর নীলকে দেখতে পেলাম। নীল কে দেখেই মা নিজে থেকেই তাকে ডেকে নিলো। নীল এসে মাকে "নমস্কার" জানাতেই মা হাসিমুখে বললেন- বাজার করতে এসেছিস?
নীল- জি ম্যাডাম..আসলে আমি টাটকা সবজী খেতে পছন্দ করি..তাই ছুটির দিন সকালে বাজারে এসে বেছে বেছে সবজী নিয়ে যায়।
মা- ভালো তো..সবজী খেলে বুদ্ধি বাড়ে..তা বেশি বেশি সবুজ সবজী খাবি।
নীল- জ্বি ম্যাডাম ঠিক বলেছেন।
তারপর সে নিচে চোখ মায়ের হাতের দিকে তাকিয়ে বললো- তা ম্যাডাম আপনিও তো দেখছি অনেক সবজী নিয়েছেন..আপনারাও নিশ্চয়ই সবজী অনেক পছন্দ।
মা হাসতে হাসতে বললেন- হ্যা ঠিকই ধরেছিস..সবজি ছাড়া আমার একদমই চলে না।
নীল কোনো কথা না বলে একইভাবে মায়ের হাতের দিকে তাকিয়ে রইলো। আমিও তখন সেদিকে তাকাতেই বুঝতে পারলাম তার চোখটা আসলে মায়ের হাতা থাকা সবজির দিকে না। মায়ের পেট থেকে শাড়ীর কিছু অংশ সরে মায়ের গভীর নাভীটা উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। নীল সবজি দেখার বাহানাতে সেখানেই তাকিয়ে রয়েছে। নীলের নোংরা নজর বুঝতে পেরে শরীরটা জ্বলে গেল। কিন্তু মা এসবের কিছুই টের পেলো না।
মা তখন বললেন- তা ছুটি বলে কি পড়াশোনাতে গাফিলতি হচ্ছে না তো?
মায়ের কথায় সে চোখ তুলে মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বললো- না না ম্যাডাম..সকালে উঠেই কাল কোচিং এ যেই অংকগুলো করিয়েছিলেন সেগুলো প্রাকটিস করছিলাম।
মা- ওহ গুড বয়..তা অংকের পাশাপাশি কিন্তু অন্য বিষয়গুলো নিয়েও ঘাটাঘাটি করবি..যেন কেউ বলতে না পারে যে শিলা ম্যাডাম এসে সবাইকে শুধু অংকের প্রতিই দিওয়ানা বানিয়ে দিয়েছে।
নীল- না না ম্যাডাম এমন কিছু না..আমি সব বিষয়গুলো নিয়ে চর্চা করি।
মা- তা অনেক ভালো লাগলো তোর পড়াশোনার উৎসাহ দেখে..তা তোর সাথের দুইজন কোথায়?
নীল- ওরা ওদের বাড়ীতে পড়াশোনা করছে।
মা- গুড..তোরা তিন বন্ধুই গুড বয়..তাহলে কাল কলেজে দেখা হবে।
এই বলে আমরা সামনের দিকে হাঁটা শুরু করতেই নীল বললো- ম্যাডাম।
মা আবার পিছন ফিরে বললেন- হ্যা বল।
নীল- আসলে ম্যাডাম কিভাবে বলবো..যদি রাগ করেন?
মা- তোদের তো আগেই বলেছি আমি অন্য শিক্ষকদের মত না..পড়াশোনার ব্যাপারে আমাকে বন্ধু ভেবে যে কোন প্রশ্ন হাজার বার করতে পারিস..তাতে রাগ করবো না।
নীল- আসলে ম্যাডাম আপনার পার্সোনাল মোবাইল নাম্বারটা প্রয়োজন।
নীলের সরাসরি মায়ের মোবাইল নাম্বার চাওয়াতে আমি ও মা দুইজনই খুব অবাক হলাম। তার সাহস আছে বলতে হবে। মা তখন একটু কপাট রাগ দেখিয়ে বললেন- কেনো রে দুষ্ট আমার নাম্বার কেনো প্রয়োজন? আমি আমার ব্যাক্তিগত নাম্বার কাউকে শেয়ার করি না।
নীল- খারাপ ভাববেন না ম্যাডাম..আসলে আমি অংকে খুবই দূর্বল সেটা তো জানেনই..তবে আসার পর আপনার কাছে কোচিং করে ধীরে ধীরে উন্নতি করছি..সারাদিন রাত আপনার শেখানো অংকগুলো প্রাকটিস করি বোঝার চেষ্টা করি..মাঝে মাঝে কিছু জিনিস বুঝতে অসুবিধা হয়..তখন তো আর আপনি থাকেন না আর কলেজে যেতে যেতে জিনিসটা মনেও থাকে না..তাই যদি ফোন নাম্বারটা পেতাম তাহলে যখনই কোনো বিষয় বুঝতে সমস্যা হতো তাহলে সাথে সাথে আপনার কাছে ফোন করে জেতে নিতাম।
মা- দেখ নীল তোর কথায় লজিক তো আছে..কিন্তু এভাবে আমি নিজের পরিবার ছাড়া কাউকে নিজের ব্যাক্তিগত নাম্বার শেয়ার করি না।
নীল- ম্যাডাম বুঝতে পারছি আপনার সমস্যা..কিন্তু আমি তো রাজের বয়সী..আপনার ছেলের মতোই..আমাকে বিশ্বাস করতে পারেন আর প্রমিজ করছি সবসময় আপনাকে বিরক্ত করবো না..যখনই খুব বেশি সমস্যাতে পড়বো তখনই আপনাকে একটা মেসেজ দিবো।
নীলের কথা শুনে মা একটু চুপচাপ ভাবতে লাগলো। হয়তো মা দোটানায় রয়েছে। তারপর মা বললেন- তোর অংকে দূর্বলতা কাটানোর উৎসাহ দেখে বেশ ভালো লাগছে..তাই তোকে নিজের ব্যাক্তিগত নাম্বার দিচ্ছি..খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া মেসেজ দিবি না।
তারপর হাসতে হাসতে নীলের কান মুড়ি দিয়ে বললেন- আর কাউকে যদি আমার নাম্বার শেয়ার করিস তাহলে তোর খবর আছে।
এসব বলেই মা তার ব্যাক্তিগত নাম্বার নীলকে দিয়ে আমাকে নিয়ে বাড়ী চলে এলো। মায়ের এভাবে নাম্বার দেওয়া আমার পছন্দ হলো না। তাই মাকে জিজ্ঞেস করলাম- মা এত সহজে ওকে নাম্বারটা কেন দিতে গেলে?
মা- চিন্তা করিস না..কোনো সমস্যা হবে না..ছেলেটার পড়াশোনার প্রতি খুব ঝোঁক..শুধুমাত্র সঠিক গাইডলাইনের অভাবে সে দুর্বল রয়ে গেছে..আমার মাধ্যমে যদি সে তার দুর্বলতা কাটাতে পারে তাহলে আমি একজন শিক্ষিকা হিসাবে সার্থক।
মায়ের জায়গায় মা ঠিক থাকলেও নীলের মনে যে অন্য ফন্দি সেটা আমি সেদিন তাদের কথপোকথন শুনেই বুঝেছি। তো পরেরদিন থেকে টানা কয়েকদিন ধরে প্রতিদিন রাতে মায়ের মোবাইল চেক করা শুরু করলাম। মাঝে মাঝে যেমন দু একদিন পরপর রাতের বেলা কোনো অংক না বুঝলে নীল সেটার ছবি তুলে মাকে পাঠাতো আর মা ভয়েস দিয়ে সেগুলো বুঝিয়ে দিত।
এছাড়া ওদের কোনো বাড়তি কথা হতো না। তো আমার মনে হচ্ছিল নীল সত্যি হয়তো তার পড়াশোনা নিয়ে বেশ সিরিয়াস। সে হয়তো আর মায়ের দিকে খারাপ নজর দেই না। তবে প্রতিদিন ক্লাসে মা অন্য সব ছাত্রদের থেকে নীলদেরই বেশি প্রাধান্য দিত। তারা এটা বুঝতে পারছে কি না, না পারলে কোথায় সমস্যা হচ্ছে বারবার তাদের দিকেই এমনভাবেই খেয়াল রাখতো আবার অন্যদের মুখে শুনতাম কোচিং এও নাকি মা অন্য সবার থেকে নীলদের খুব কেয়ার করতো। কিন্তু মাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে সে এড়িয়ে যেতো আর বলতো তার কাছে সবাই মানুষ।
হয়তো অন্য সবার থেকে নীলের ভিতরের কনফিডেন্স মাকে আকর্ষিত করেছিল। তো এসব নিয়ে আর তত ভাবতাম না। মায়ের আদলে যদি কেউ উন্নতি করতে পারে তাহলে সবাট জন্যই বিষয়টা বেশ ভালো। তাছাড়া আস্তে ধীরে নীলরাও আমার সাথে ভাব জমানোর চেষ্টা করতো। কিন্তু আমি খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া তাদের সাথে মিশতাম না।
তো দেখতে দেখতে আমাদের মিডটার্মের পরীক্ষা দিন এগোতে লাগলো। তাই মা কলেজ শেষ করে এক ঘন্টার বদৌলতে দুই ঘন্টা করে আর সাপ্তাহিক ছুটির দিন সকালেও কোচিং করানোর সিদ্ধান্ত নিল। এতে কিছু ছাত্ররা দ্বিমত জানালে মা সাফ সাফ জানিয়ে দিলো, যার ইচ্ছে হবে সে দুই ঘন্টা কোচিং করবে আর যার ইচ্ছে হবে না সে এক ঘন্টা করবে এবং সাপ্তাহিক ছুটির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম..যার ইচ্ছে হবে না তার আসার দরকার নেই।
তো তারপর থেকে মা কলেজ শেষে দুই ঘন্টা করে কোচিং করাতে লাগলো আর সাপ্তাহিক ছুটির দিন তো মা তিন-চার ঘন্টা করে কোচিং করাতো আর কোচিং শেষ করে এসে মা খুব ক্লান্ত থাকতো। তাই একই বাড়ীতে থেকেও মা আমার সাথে খুব একটা সময় কাটাতে পারতো না।
এমনই একদিন সাপ্তাহিক ছুটির আগের রাত্রে মা ঘুমানোর পর তার মোবাইলটা হাতে নিয়ে ঘরের আলো নিভিয়ে স্ক্রিনের আলোয় মায়ের চ্যাট লিস্ট খুলতেই চোখটা আটকে গেল। নীলের নামের পাশে একটা ছোট্ট লাল ডট। গত কয়েকদিনে তাদের অনেকগুলো মেসেজ।
প্রথমটা ছিল সেই রাতে, যেদিন মা কোচিং-এর সময় দুই ঘণ্টা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তো প্রথম মেসেজটা নীলই করেছিল।
নীল: কি করছেন ম্যাডাম?
মা: এইতো কাজকর্ম সেরে ফ্রেশ হয়ে শুলাম..তা তুই কী করছিস?
নীল: আমি তো আপনার দেওয়া অংকগুলোই প্র্যাকটিস করছি.. কিন্তু একটা জিনিস বুঝতে পারছি না..একটু দেখিয়ে দিতে পারবেন?
তারপর মা একটা ভয়েস নোট পাঠিয়েছিলো। আমি সেটা চালিয়ে শুনলাম। মা খুবই নরম ও আদুরে গলায় ভয়েসে বলেছিলো- দেখ নীল এই অংকে তোকে প্রথমে এভাবে ভেঙে নিতে হবে… তারপর এই অংশটা… বুঝলি?
নীলের উত্তর এসেছিলো প্রায় তিন মিনিট পর।
নীল: ম্যাডাম আপনার গলাটা শুনে মনে হচ্ছে খুব ক্লান্ত..অযথা আপনাকে বিরক্ত করলাম..খুব লজ্জা লাগছে।
মা হাসির ইমুজি দিয়ে লিখেছিলেন- লজ্জা পাস কেন? শিক্ষকের কাজই তো এটা..তবে হ্যাঁ একটু ক্লান্ত লাগছে..সারাদিন কলেজ..তারপর দুই ঘণ্টা কোচিং… শরীরটা আর মানছে না।
নীল: তাহলে একটু রেস্ট নিন ম্যাডাম..তবে আপনার গলাটা শুনলে কেমন যেন শান্তি লাগে।
মা: ? দুষ্ট ছেলে একটা..ফালতু জিমিস চিন্তা না করে পড়াশোনাতে মন দে।
নীল: সত্যি বলছি ম্যাডাম আর ক্লাসে যখন হাসেন তখন পুরো ক্লাসরুমটা যেন আলোকিত হয়ে যায়।
মায়ের পরের মেসেজটা শুধু একটা ইমোজি- ?
তারপর থেকে কথা আরও একটু একটু করে বদলাতে শুরু করেছে।
তার পরের দিন রাত ০৯:৪৫-এ নীল লিখেছে- ম্যাডাম আজ কোচিং-এ যখন আপনি আমার পাশে দাঁড়িয়ে অংক দেখাচ্ছিলেন…তখন আপনার পারফিউমের গন্ধে মাতাল হয়ে যাচ্ছিলাম..কি পারফিউম ব্যাবহার করেন ম্যাডাম?
মা- নীল এসব কী বলছিস? লজ্জা করে না?
নীল: সরি ম্যাডাম.. কিন্তু সত্যি বলছি..তাছাড়া আপনাকে এত সুন্দর লাগছিল যে চোখ সরাতে পারছিলাম না.. আপনি রাগ করবেন না প্লিজ..যেটা সত্যি সেটাই বললাম।
মা কিছুক্ষণ পর লিখলো- এভাবে বলবি না..আমি তোর শিক্ষিকা আর তোর মায়ের বয়সী।
নীল- জানি ম্যাডাম.. কিন্তু আপনাকে দেখলে কেউ বলবে না যে আপনার একটা বিশ বছরের ছেলে আছে..মনে হয় কলেজ গার্ল।
মা- যা এখন ঘুমা..কাল ক্লাস আছে আর আমি hot ice নামের লেডিস পারফিউম ব্যাবহার করি। তো এভাবেই আরো কয়েকদিনের চ্যাট পড়লাম তাতে নীল বারংবার মায়ের সৌন্দর্য, পড়ানো সব কিছুর প্রশংসা করতো। মা তা প্রশংসা গুলো শুনে কখনো খুশি হতো,কখনো হাস্যকর ভাবে বকা দিত আবার কখনো লজ্জার ইমুজি দিত।
তো পড়তে পড়তে কিছুক্ষণ আগে করা তাদের চ্যাটে নজর পড়লো। আজকে সন্ধ্যা বেলা মা-ই নিজে থেকে মেসেজ দিয়েছে- কি রে কি করিস? তা কাল আসবি তো কোচিং-এ।
নীল- হ্যা মাডাম কেন না।
মা- তোদের তো আবার ছুটির দিনে পড়তে খুব কষ্ট হয়ে যায়।
নীল- কোথায় ম্যাডাম? কেউ না থাকলে আমরা তিনজন অবশ্যই থাকবো।
মা- গুড..ঠিক সময়ে চলে আসিস।
নীল-ওকে ম্যাডাম..তবে একটা অনুরোধ আছে।
মা- কী অনুরোধ?
নীল: কাল আপনাকে আমাকে বাইকে করে কোচিং এ নিয়ে যাব আবার কোচিং শেষে বাইকে করে বাড়ী পৌঁছে দিব।
মা- ? নীল এইবার কিন্তু বাড়াবাড়ি হচ্ছে..মনে রাখিস যতই তোদের সাথে ফ্রী হয় না কেনো, লিমিট ক্রস করলে কিন্তু রেহাই পাবি না।
নীল- আপনি কিছু না বুঝেই শুধু রেগে যান ম্যাডাম.. ? আসলে আমি তো আপনার ভালোর জন্যই বলছি.. কাল সাপ্তাহিক ছুটির দিন..তবুও আমাদের তিন-চার ঘণ্টা ধরে পড়াবেন..কালকের দিনটা তো আপনার নিজেরও ছুটির দিন..পরিবারের সাথে সময় কাটানোর দিন..সেটা ছেড়ে আপনি শুধু আমাদের জন্য সময় দিচ্ছেন..আমার খুব খারাপ লাগে ম্যাডাম..আপনি আমার মায়ের বয়সী..আপনাকে দেখলে মনে হয় আমার নিজের মা-ই যেন পড়াচ্ছেন..আপনার এত ত্যাগ দেখে মনটা ভারী হয়ে যায়..আমি তো শুধু একটু প্রতিদান দিতে চাই..বাইকে করে নিয়ে গেলে আর এনে দিলে আপনার শরীরটাও একটু কম ক্লান্ত হবে আর আমার মনেও শান্তি লাগবে যে আপনার জন্য অন্তত এটুকু করতে পারলাম.. প্লিজ ম্যাডাম আমাকে নিজের ছেলের মতো মনে করে এই অনুরোধটুকু রাখুন।
মা প্রায় মিনিট পাঁচেক পরে রিপ্লাই দিয়েছিলেন। হয়তো মা কোন কাজে গেছিলেন বা নীলের বলা কথাগুলো মন দিয়ে ভাবছিলেন।
তো পাঁচ মিনিট পর মা রিপ্লাই দিলেন- নীল বোঝার চেষ্টা কর আমি তোদের শিক্ষিকা..রাজ যদি দেখে যে তার বন্ধুর বাইকে করে আমি কোচিং যাচ্ছি তাহলে সে কি ভাববে বল তো আর লোকজন দেখলেও কি মনে করবে?
নীল- ম্যাডাম লোকে কী ভাববে সেটা নিয়ে চিন্তা করবেন না প্লিজ আর রাজ কিছুই জানতে পারবে না..আপনি বাড়ী থেকে বের হয়ে সামনের রাস্তার মোড় পর্যন্ত হেঁটে আসবেন..তারপর আপনাকে সেখান থেকে উঠিয়ে নিয়ে যাব আর আসার সময়ও একই জায়গায় ছেড়ে দিবো..প্লিজ ম্যাডাম আর না করবেন না।
মা- ? নীল তুই খুব চালাক হয়ে গেছিস আর একদম নাছোড়বান্দা..তা এভাবে ইমোশনালী কতজন ম্যাডামকে বাইকে তুলেছিস।
নীল- ম্যাডাম চালাকি না আর সত্যি কথা বলছি এর আগে কোনো ম্যাডামকে বাইকে তোলা তো দূরের কথা.. ঠিক মত কথায় বলি নি.. তবে এখন আপনার মতো শিক্ষিকা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার..আপনি যেভাবে নিজের কষ্টের কথা চিন্তা না করে আমাদের জন্য খাটছেন তাতে আমাদেরও আপনার প্রতি কিছু কর্তব্য রয়েছে..আপনিই আমার জীবনের প্রথম শিক্ষক যে আমার ভিতরের কনফিডেন্স টাকে বাস্তবে বের করে নিয়ে আসতে পেরেছে..অন্য শিক্ষকরা তো আমাদের মত দূর্বল ছাত্রদের দিকে চোখ তুলেও তাকায় না..তাইতো আমিও আপনার সেই প্রতিদান হিসেবে আপনার কষ্ট কম করার চেষ্টা করছি।
মা- বাহ বেশ মধু ঝরানো কথা শিখেছিস তো..তো বাস্তব হিসেবে তোর অনুরোধ রাখা একদমই সম্ভব না।
নীল- ম্যাডাম ম্যাডাম প্লিজ..হাত জোড় করছি শুধুমাত্র একদিনেরই তো ব্যাপার।
মা- আচ্ছা আচ্ছা থাম এবার..ঘাড়ত্যাড়া একটা..ঠিক আছে শুধুমাত্র কালকের দিনের জন্য তোর বাইকে উঠবো..দেখবো তুই কেমন চালক হয়েছিস।
নীল- একবার সুযোগ দিয়েই তো দেখেন ম্যাডাম..কিরকম চালক আমি সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাবেন..সেফটি পরিয়ে এমনভাবে চালাবো আপনি খুশি হয়ে যাবেন।
নীলের এই কথাগুলোর যে অন্য অর্থ রয়েছে সেটা আমি স্পষ্ট বুঝলেও, মা বিন্দুমাত্র তার ডাবল অর্থের কথার মানে ধরতে পারলো না।
মা তার কথার উত্তরে রিপ্লাই দিয়ে বললেন- মানে কি সব বলছিস? কিসের সেফটি আর কি বা হাড়ে হাড়ে টের পাবো?
নীল- ওই যে বললেন না যে আপনি দেখতে চান আমি কেমন ড্রাইভার..তাই ওই কথাগুলোর দ্বারা বোঝালাম যে সেফটি মানে মাথার উপর হেলমেট পরিয়ে এমন নিখুঁত ভাবে চালাবো যে আপনার বারবার আমার বাইকে উঠতে ইচ্ছে করবে।
মা- জ্বি না..শুধু কালকের দিনটা আর কখনো কিন্তু এমন অনুরোধ করবি না এবং কোনো ভাবে যেনো রাজ না জানে।
নীল- জো হুকম মিসেস শিলা ম্যাডাম।
মা- চুপ দুষ্ট..এইবার ঘুমা..সকাল আটটার ভিতর রাস্তার মোড়ে চলে আসিস..শুভ রাত্রি।
নীল- জি ম্যাডাম..শুভ রাত্রি..স্বপ্নে দেখা হবে।
মা শুধু একটা হাসির ইমোজি দিয়ে চ্যাট অফ করে দিলেন।
আমি ফোনটা রেখে দিলাম। আমার মাথাটা ঘুরছিল। নীলটা এমন ইমোশনাল কার্ড খেলেছেযে মায়ের ত্যাগ, মা-ছেলের সম্পর্ক, শ্রদ্ধা, প্রতিদান সব মিলিয়ে মাকে একেবারে গলে দিয়েছে। মা যেন ধীরে ধীরে নরম হয়ে যাচ্ছে। বাবা দেশের বাইরে যাওয়ার পর থেকে মা একটু একটু করে বদলে যাচ্ছে আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি।
আমার বাবার নাম দেব সরকার। বয়স ৪৫। একজন সফল আইটি ইঞ্জিনিয়ার এবং বিজনেসম্যান। তার নিজস্ব একটা আইটি ফার্ম আছে। কাজের চাপে তিনি প্রায়ই ব্যস্ত থাকেন। কয়েকদিন আগে তিনি একটা বড় প্রজেক্ট নিয়ে দেশের বাইরে চলে গেছেন। সেখানে তাকে প্রায় এক বছর থাকতে হবে। বাবা চলে যাওয়ার পর বাড়িতে এখন শুধু আমি আর মা।
আমার মায়ের নাম শিলা সরকার। তার বয়স ৩৮ বছর। কিন্তু তার চেহারা দেখে কেউই বিশ্বাস করবে না যে তিনি একজন বিশ বছরের ছেলের মা। মা নিয়মিত ঘরোয়া ব্যায়াম করেন, সুষম ডায়েট মেনে চলেন। ফলে মা এই বয়সেও যথেষ্ট আকর্ষণীয় ও আবেদনময়ী দেখতে।
মায়ের গায়ের রং দুধে-আলতায় মেশানো ফর্সা। লম্বা কালো চুল, পাতলা ঠোঁট, আর বড় বড় চোখ। কিন্তু সবচেয়ে যা মাকে অসম্ভব সেক্সি করে তোলে তা হলো তার শরীরের গড়ন। বিশাল সাইজের গোলাকার দুধ জোড়া যা সবসময়ই টাইট ব্লাউজের ভিতরে দুলতে থাকে। আর তার পাছাটা বিশাল, থলথলে ও নরম যা হাঁটার সময় দুইদিকে দুলে দুলে ওঠে।
মাসখানেক আগে মা আমাদের কলেজেই অংকের প্রফেসর হিসেবে যোগ দিয়েছেন। আগে তিনি শহরের বাইরের একটা কলেজে পড়াতেন। কিন্তু যখন আমি এই কলেজে চান্স পেলাম তখন থেকেই মা চেষ্টা করছিলেন এখানে চলে আসার। বাবার রাজনৈতিক যোগাযোগের সুবাদে আমাদের কলেজের অংকের শিক্ষক অসুস্থ হয়ে চাকরি ছাড়ার পর মা এই পদটি পেয়ে যান এবং গত মাস থেকেই কলেজে যোগদান করেন।
শিক্ষিকা হিসেবে মা দুই ধরনের স্বভাবের। যারা পড়াশোনায় মনোযোগী তাদের সাথে তিনি খুবই নরম ও সহানুভূতিশীল আর যারা বখাটে প্রকৃতির তাদের প্রতি মা বেশ কড়া ও চরম স্বভাবের। কিন্তু কলেজে যোগ দেওয়ার পর থেকেই মায়ের সৌন্দর্য আর শারীরিক আকর্ষণ সবার মধ্যে একটা ঝড় তুলে দিয়েছে।
মা সাধারণত শাড়ির সাথে ম্যাচিং স্লিভলেস ব্লাউজ পরে কলেজে যান। শাড়ীতে মাকে যথেষ্ট সেক্সি লাগে। তার আবেদনময়ী চেহারা, আকর্ষণীয় শরীর, ভারী দুধ আর দুলকানো পাছা দেখে ছাত্র থেকে শুরু করে পুরুষ শিক্ষক সবাই যেন মাতাল হয়ে গেছে। মাত্র এক মাসেই মা কলেজের সবার নজরের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন। পিছনে পিছনে ছেলেরা তাকে দুধবতী, পাছাবতী ও মাগী চেহারার ম্যাডাম” ইত্যাদি গুপ্ত নামে ডাকা শুরু করেছে
আমার ক্লাসের বন্ধুরাও মায়ের ব্যাপারে কামুক মন্তব্য করতে ছাড়ে না। যদিও আমার সামনে তারা সেগুলো লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করে। তবু আমি সব বুঝতে পারি। এতে আমার মনে একটা জ্বালা অনুভব হয়। ছোটবেলা থেকেই মায়ের এই অতিরিক্ত সৌন্দর্যের কারণে সবার নজর পড়তে দেখেছি। তাই এখন অনেকটা সয়ে গেছে। কিন্তু এখন নিজের বয়সী ছেলেদের কামুক দৃষ্টি দেখলে আর আগের মতো সহজে মেনে নিতে পারি না।
মা এসব বুঝতে পারেন কি না জানি না। তিনি সবসময় স্বাভাবিক, হাসিখুশি ও পজিটিভ মানসিকতায় থাকেন। আর যদি বুঝেও থাকেন তাহলে তার মত আধুনিক মনোভাবের নারী স্বাভাবিক ভাবেই এসব নিয়ে তোয়াক্কা করবে না।
তবে শিক্ষিকা হিসেবে মা সত্যিই পারফেকশনিস্ট। তার পড়ানোর ধরন অসাধারণ। জটিল অংকের বিষয়গুলো তিনি এমন সহজ ও সুন্দর করে বুঝিয়ে দেন যে, যে কেউ সহজেই আয়ত্ত করে ফেলে। মাত্র এক মাসেই তিনি সব ছাত্রদের কাছ থেকে প্রচুর প্রশংসা পেয়েছেন। যারা আগে অংকে খারাপ করত তারাও এখন আশার আলো দেখতে শুরু করেছে।
তারপরেও অংকে কয়েকজনের অবস্থান খুবই বাজে। গত দুইদিন আগে মা একটা ক্লাস টেস্ট নিয়েছিলো। তাতে কয়েকজন বাদে সবাই ভালো করেছিল। যারা খারাপ করেছিল মা তাদের কাছে সঠিক কারণ জানতে চেয়েছিল যে আসলে অংকে তাদের মূল সমস্যাটা কি।
তো সবারই একটা কমন কারণ ছিল যে সঠিক গাইডলাইনের অভাব। তাই প্রিন্সিপাল স্যারের সাথে আলোচনা করে মা বাছায় করা কিছু ছাত্রদের কলেজ শেষে এক্সট্রা কোচিং করানোর সিদ্ধান্ত নেই। এখানে শুধুমাত্র অংকে দূর্বলরাই অংশগ্রহণ করতে পারবে। তো মায়ের এই এক্সট্রা কোচিং এর বিষয়টা আমার একদমই পছন্দ হয়েছিল না। তাই বাড়ীতে ফিরে এই নিয়ে মায়ের সাথে আলোচনা করতেই মা জানাল যে- দেখ রাজ ওরা সত্যিই অংকে খুব পিছিয়ে আছে..আমি যদি একটু সময় দিয়ে ওদের গাইড করি তাহলে ওদের অনেক উপকার হবে..কলেজ শেষে মাত্র এক ঘণ্টাই তো লাগবে..এক ঘন্টায় যদি ওরা উপকৃত হয় তাহলে দোষের কি।
মায়ের পজেটিভ ভাবনাতে আর কোন কথা বলার উপায় থাকলো না। তবে ভয় একটাই যে মা যাদের এক্সট্রা ক্লাস করাবেন তারা কেউই খুব একটা সুবিধার না। সবকটা বখাটে। তো আজকে মা একটা কলাপাতা কালারের সুতির শাড়ীর সাথে ম্যাচিং স্লিভলেস পরেছে। মাকে অসম্ভব লাস্যময়ী লাগছিল। আজ থেকেই মায়ের সাথে সমস্ত বখাটেদের এক্সট্রা ক্লাস শুরু হবে। না জানি ওরা সবগুলো একসাথে বসে মায়ের দিকে কেমন নজর দিবে আর কি কি আলোচনা করবে।
তো কলেজে পৌঁছাতে দেখলাম সবার কামুক ভরা নজর মায়ের উপর পড়তে লাগলো। তারপর মা যখন ক্লাসে এলেন তখন আমার পিছনের সিটে বসা নীল রায় চৌধুরী ফিসফিসিয়ে বললো- উফফ ম্যাডামকে আজ যা লাগছে না..পুরোই দেশি নীল ছবির নায়িকা।
নীলের একথা শুনে তার দুই সহযোগী নারায়ন দাস ও জয় বিশ্বাস হো হো করে হেসে উঠলো। তা ফিসফিসানি টা আমার কানে আসতেই আমি কড়া নজরে ওদের দিকে তাকাতেই ওরা উপর দিকে মুখ করে এমন ভান করলো যে ওরা কিছুই বলে নি। পুরো কলেজের অধিকাংশ ছাত্ররাই ওদের তিনজনের থেকে দূরত্ব বজায় রাখে। ওদের মত বখাটে আর গুন্ডা প্রকৃতির ছাত্র এই কলেজে আর কেউ নেই। নীলের বাবা এখানকার লোকাল এমপি হওয়ায় কেউ তার সাথে পাঙ্গা নিতে চাই না।
তো মা তার ক্লাস শেষ করেই একটা চিরকুট বের করে সেখানে থাকা কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাদের দাঁড়াতে বললো। তাদের ভিতর নীল, নারায়ন ও জয়ও ছিল। তো তারা দাঁড়াতেই মা তাদের উদ্দেশ্য বললো- এই ক্লাসে সবথেকে তোমাদের অংকের ফলাফল খুব বাজে..তাই প্রিন্সিপাল স্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে প্রতিদিন কলেজ শেষে তোদের এক্সট্রা এক ঘন্টার ক্লাস নিবো..তোদের যার যা সমস্যা যেগুলো বুঝতে কষ্ট হয় সব আমাকে সেখানে খুলে বলবি..এতে করে তোদের শেখানো আমার জন্য সহজ হবে।
নীল তখন বলে উঠলো- ম্যাডাম কিছু বলতে পারি?
মা- হ্যা অবশ্যই।
নীল- তা ম্যাডাম এক্সট্রা ক্লাস তো এই কারণেই নিবেন যে আমরা যেনো অংকের দূর্বলতা কাটাতে পারি?
মা- হ্যা।
নীল- আমার মনে হয় না ম্যাডাম এতে কোনো ফল পাওয়া যাবে..কারণ আগের শিক্ষকও কিন্তু দূর্বলতা কাটানোর জন্য এক্সট্রা ক্লাস শুরু করেছিল..কিন্তু তিনি এক্সট্রা কোন পরিশ্রম না করে ক্লাসে যেরকম পড়াতো সেখানেও ঠিক তেমনই ছিল..যার ফলে নরমাল ক্লাস আর এক্সট্রা ক্লাসে আমরা কোনো পার্থক্য পেয়েছিলাম না।
নীলের কথাতে বাকি যারা দাঁড়িয়ে ছিল তারাও হ্যা হ্যা বলে সমর্থন দিতে লাগলো। মা তখন বললেন- তোর নাম তো নীল তাইনা?
নীল- জ্বি ম্যাডাম।
মা- দেখ তোদের কথা শুনে মনে হচ্ছে তোদের শেখার ইচ্ছে আছে..তোদের আগের স্যার কেমন ছিল সেটা জানি না..তবে এটুকু গ্যারান্টি দিতে পারি যে আমি কোচিং এ তোদের সব সমস্যাগুলো সমাধান করার চেষ্টা করবো..কয়েকটা দিন কোচিং এ এসে পর্যবেক্ষণ কর..যদি কোনো উন্নতি না করাতে পারি তোদের.. তাহলে আমি আমার শিক্ষকতা পেশাটা ছেড়ে দিব।
নীল- এ কি বলছেন ম্যাডাম..এই এক মাসে যতটুকু আপনার কাছ থেকে শিখেছি তাতে বলা বাহুল্য যে আপনি আগের শিক্ষকের থেকে হাজারগুণে বেটার..তাই আমাদের এটুকু বিশ্বাস রয়েছে যে আপনার কোচিং এ নিশ্চিত আমরা আমাদের দূর্বলতা কাটাতে পারব।
মা- এইতো গুড বয়ের মতো কথা..তাহলে আজ থেকে ক্লাস শেষে প্রতিদিন এক ঘন্টা করে সবাই থাকবি।
এটা বলেই মা ক্লাস শেষ করে চলে গেলেন। নীলের এরকম কনফিডেন্স হয়ে কথা বলাতে মনে হলো সে সত্যি অংকে দূর্বলতা কাটাতে চাই। তবে যেদিন থেকে মা এখানে যোগদান করেছে সেদিন থেকে তার মায়ের প্রতি কামুক নজর ও পেছনে পেছনে বিদ্রুপ মন্তব্যে তার প্রতি সন্দেহর সৃষ্টি হয়।
তো ক্লাস ব্রেকে সবাই এদিক ওদিক আড্ডা মারছিলাম। আমি তখন আমার দুইজন ক্লাসমেটের সাথে গল্প করতে করতে ক্লাসরুমের পিছন দিকে আসতেই দেখলাম নীল, জয় আর নারায়নকে হেসে হেসে গল্প করছে। ওদের কিছু কথা আমার কানে আসলো। তবে ওরা আমাকে খেয়াল করে নি যে আমি ওদের আশেপাশেই আছি। কারণ আমাদের আশেপাশে আরো অনেকেই ছিল।
তো প্রথমে জয়ের কথা কানে এলো। সে বললো- কিন্তু ভাই পারবি তো?
ওরা কি নিয়ে কথা বলছে বুঝতে পারলাম না। জয়ের কথার উত্তরে নারায়ন বললো- আরে পারবে না কেন? দেখলি না কিভাবে নীল ক্লাসরুমে সবার মধ্য থেকে ম্যাডামের নজর নিজের দিকে ঘুরিয়ে নিয়েছিল।
নারায়ণের কথা শুনে আর বুঝতে বাকি রইলো না যে তারা আমার শিক্ষিকা মাকে নিয়েই আলোচনা করছে। তো নীল তখন বলে উঠলো- দেখিস নি কলেজে থাকাকালীন নিশা ম্যাডামকে নিয়ে কিভাবে খেলেছিলাম..এবার পালা শিলা ম্যাডামের।
নারায়ন- কিন্তু ভাই সেটা সাধারণ কলেজ ছিল আর এটা দেশের সবথেকে সুনামধন্য কলেজ আর শিলা ম্যাডাম কিন্তু নিশা ম্যাডামের মত সাধারণ কোন মহিলা না..একাধারে তিনি একজন শহরের সবথেকে ধনী পরিবারের মহিলা আর উচ্চশিক্ষাতা..তাছাড়া আমাদের বয়সী তার একটা ছেলেও রয়েছে..এত সহজে মনে হয় না শিলা ম্যাডাম পটবে।
নীল- কথাগুলো ঠিক বলেছিস..কিন্তু অতিরিক্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে যে জিনিস পাওয়া যায় সেটার মজাই আলাদা..শিলা ম্যাডামকে পেতে হলে ধৈর্য ও পরিশ্রম করা লাগবে..অযথা উত্তেজনার বশে কিছু করা যাবে না।
জয়- তবে দোস্ত আমার কিন্তু তর সয়ছে না..কবে যে শীলা ম্যাডামকে নিয়ে খেলব।
নারায়ন- হবে রে শালা ধৈর্য ধর..নীল থাকতে সমস্যা কিসের আমাদের।
ওদের তিনজনের কথা শুনে আমার পায়ের তল থেকে মাটি সরে যাওয়া মত অবস্থা হলো। এই বয়সে ওরা ওদের ক্লাসমেটের মাকে নোংরা পরিকল্পনা করছে। এত সাহস ওদের। মনে হলো এক্ষুনি গিয়ে তিনজনকে ইচ্ছেমত পিটাই। কিন্তু অনেক কষ্টে নিজেকে সামলালাম। কারণ ওরা যতই পরিকল্পনা করুক না কেন, ওদের বয়সী ছেলের দ্বারা মাকে পটানো অসম্ভব। মা শুধুমাত্র বাবাকেই মন প্রাণ উজাড় করে ভালবাসে। অনেক লোকই মাকে পটানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু কখনো মা সেটাকে সফল হতে দেই নি।
তো বাকি ক্লাসগুলো করে কলেজ ছুটি হতেই মা আমাকে বাড়ী চলে যেতে বললো। কিন্তু আমি জিদ ধরলাম যে আমি মায়ের সাথেই একসাথে যাব। মা তখন বললেন- অযথা জিদ ধরিস না বাবু..আমার এক ঘন্টা সময় লাগবে কোচিং শেষ করতে..এই এক ঘন্টা তুই কি করবি?
আমি- আমিও না হয় তোমাদের সাথেই ক্লাস করি।
মা- একদম না..ওখানে ব্রিলিয়ান্ট কেউ থাকুক আমি চাই না..ওটা শুধু দূর্বলদের জন্য।
আমি- তাহলে আমি কলেজের বাইরে অপেক্ষা করছি।
মা- একদম না..এতক্ষণ ধরে অযথা অপেক্ষা করার কোন প্রয়োজন নেই..তুই সোজা বাড়ী যা..আমি কোচিং শেষ করেই চলে আসবো।
আমি আর কথা বাড়াতে পারলাম না। তৎক্ষনাৎ সোজা বাড়ী ফিরে গেলাম। প্রায় দেড় ঘন্টা পর মা ও বাড়ী ফিরলো। মাকে তার প্রথমদিনের কোচিং এর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতেই তিনি জানালেন যে, প্রথমদিনের অভিজ্ঞতা বেশ ভালো..সবার শেখার খুব ইচ্ছে..এতদিন সঠিক গাইডলাইন পায় নি বলে তারা অংকে দূর্বল..তবে এখন মা তার স্টাইলে সবাইকে পড়িয়ে অংকে পাকা করে দিবে।
মা হয়তো বুঝতে পারে নি যে তারা পড়াশোনার থেকে মায়ের প্রতি বেশি ইন্টারেস্টেড। মাকে ইমপ্রেসের জন্যই তারা পড়ার ভান ধরছে। তারপরও এই বাহানাতে যদি তারা কিছু শেখে এতে মা অনেক খুশি হবে আর মা খুশি মানে আমি খুশি।
এভাবেই সপ্তাহ খানেক কেটে গেল। মা কোচিং এ তাদের সুন্দর করে সব বুঝিয়ে দিত আর সবাই যেটা বুঝতো না সেটা নিয়ে মন খুলে মাকে প্রশ্ন করতো। যেটা তারা ক্লাসরুমে করতে পারতো না। তো এই সপ্তাহখানেকে অনেকে অংকে কিছুটা দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠে। বিশেষ করে নীল, জয় আর নারায়ন। কয়েকজনের কাছে শুনেছি তারা নাকি কোচিং এ বেশ মনোযগী আর এতে করে সবার থেকে মায়ের নজর তাদের দিকে একটু বেশি। তাদের শেখার উৎসাহ দেখে মা ও নাকি তাদের উপর বেশ খুশি। যেটা ক্লাসরুমেও প্রমাণ পায়।
তা দুইদিন আগে মা তার কোচিং এর ছেলেদের একটা টেস্ট নিয়ে আজ ক্লাসরুমে সবার সামনে সেই টেস্টের রেজাল্ট ঘোষণা করলো। সবাই অংকে মোটামুটি ভালোই করেছে। তবে নীল, জয় আর নারায়ন অন্যদের থেকে বেশি ভালো করায় মা তাদের সংবর্ধনা জানাল আর আরো উন্নতি করার জন্য উৎসাহ দিলো।
পরেরদিন কলেজে সাপ্তাহিক ছুটি ছিল। তাই সকাল বেলা নাস্তা করে মা ও আমি মার্কেটে গেলাম বাজার করতে। মা একটা নীল জর্জেট শাড়ীর সাথে ফুল স্লিভ ম্যাচিং ব্লাউজ পরে ছিল। তো কেনাকাটা করার পর বাজারের ভিতর নীলকে দেখতে পেলাম। নীল কে দেখেই মা নিজে থেকেই তাকে ডেকে নিলো। নীল এসে মাকে "নমস্কার" জানাতেই মা হাসিমুখে বললেন- বাজার করতে এসেছিস?
নীল- জি ম্যাডাম..আসলে আমি টাটকা সবজী খেতে পছন্দ করি..তাই ছুটির দিন সকালে বাজারে এসে বেছে বেছে সবজী নিয়ে যায়।
মা- ভালো তো..সবজী খেলে বুদ্ধি বাড়ে..তা বেশি বেশি সবুজ সবজী খাবি।
নীল- জ্বি ম্যাডাম ঠিক বলেছেন।
তারপর সে নিচে চোখ মায়ের হাতের দিকে তাকিয়ে বললো- তা ম্যাডাম আপনিও তো দেখছি অনেক সবজী নিয়েছেন..আপনারাও নিশ্চয়ই সবজী অনেক পছন্দ।
মা হাসতে হাসতে বললেন- হ্যা ঠিকই ধরেছিস..সবজি ছাড়া আমার একদমই চলে না।
নীল কোনো কথা না বলে একইভাবে মায়ের হাতের দিকে তাকিয়ে রইলো। আমিও তখন সেদিকে তাকাতেই বুঝতে পারলাম তার চোখটা আসলে মায়ের হাতা থাকা সবজির দিকে না। মায়ের পেট থেকে শাড়ীর কিছু অংশ সরে মায়ের গভীর নাভীটা উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে। নীল সবজি দেখার বাহানাতে সেখানেই তাকিয়ে রয়েছে। নীলের নোংরা নজর বুঝতে পেরে শরীরটা জ্বলে গেল। কিন্তু মা এসবের কিছুই টের পেলো না।
মা তখন বললেন- তা ছুটি বলে কি পড়াশোনাতে গাফিলতি হচ্ছে না তো?
মায়ের কথায় সে চোখ তুলে মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বললো- না না ম্যাডাম..সকালে উঠেই কাল কোচিং এ যেই অংকগুলো করিয়েছিলেন সেগুলো প্রাকটিস করছিলাম।
মা- ওহ গুড বয়..তা অংকের পাশাপাশি কিন্তু অন্য বিষয়গুলো নিয়েও ঘাটাঘাটি করবি..যেন কেউ বলতে না পারে যে শিলা ম্যাডাম এসে সবাইকে শুধু অংকের প্রতিই দিওয়ানা বানিয়ে দিয়েছে।
নীল- না না ম্যাডাম এমন কিছু না..আমি সব বিষয়গুলো নিয়ে চর্চা করি।
মা- তা অনেক ভালো লাগলো তোর পড়াশোনার উৎসাহ দেখে..তা তোর সাথের দুইজন কোথায়?
নীল- ওরা ওদের বাড়ীতে পড়াশোনা করছে।
মা- গুড..তোরা তিন বন্ধুই গুড বয়..তাহলে কাল কলেজে দেখা হবে।
এই বলে আমরা সামনের দিকে হাঁটা শুরু করতেই নীল বললো- ম্যাডাম।
মা আবার পিছন ফিরে বললেন- হ্যা বল।
নীল- আসলে ম্যাডাম কিভাবে বলবো..যদি রাগ করেন?
মা- তোদের তো আগেই বলেছি আমি অন্য শিক্ষকদের মত না..পড়াশোনার ব্যাপারে আমাকে বন্ধু ভেবে যে কোন প্রশ্ন হাজার বার করতে পারিস..তাতে রাগ করবো না।
নীল- আসলে ম্যাডাম আপনার পার্সোনাল মোবাইল নাম্বারটা প্রয়োজন।
নীলের সরাসরি মায়ের মোবাইল নাম্বার চাওয়াতে আমি ও মা দুইজনই খুব অবাক হলাম। তার সাহস আছে বলতে হবে। মা তখন একটু কপাট রাগ দেখিয়ে বললেন- কেনো রে দুষ্ট আমার নাম্বার কেনো প্রয়োজন? আমি আমার ব্যাক্তিগত নাম্বার কাউকে শেয়ার করি না।
নীল- খারাপ ভাববেন না ম্যাডাম..আসলে আমি অংকে খুবই দূর্বল সেটা তো জানেনই..তবে আসার পর আপনার কাছে কোচিং করে ধীরে ধীরে উন্নতি করছি..সারাদিন রাত আপনার শেখানো অংকগুলো প্রাকটিস করি বোঝার চেষ্টা করি..মাঝে মাঝে কিছু জিনিস বুঝতে অসুবিধা হয়..তখন তো আর আপনি থাকেন না আর কলেজে যেতে যেতে জিনিসটা মনেও থাকে না..তাই যদি ফোন নাম্বারটা পেতাম তাহলে যখনই কোনো বিষয় বুঝতে সমস্যা হতো তাহলে সাথে সাথে আপনার কাছে ফোন করে জেতে নিতাম।
মা- দেখ নীল তোর কথায় লজিক তো আছে..কিন্তু এভাবে আমি নিজের পরিবার ছাড়া কাউকে নিজের ব্যাক্তিগত নাম্বার শেয়ার করি না।
নীল- ম্যাডাম বুঝতে পারছি আপনার সমস্যা..কিন্তু আমি তো রাজের বয়সী..আপনার ছেলের মতোই..আমাকে বিশ্বাস করতে পারেন আর প্রমিজ করছি সবসময় আপনাকে বিরক্ত করবো না..যখনই খুব বেশি সমস্যাতে পড়বো তখনই আপনাকে একটা মেসেজ দিবো।
নীলের কথা শুনে মা একটু চুপচাপ ভাবতে লাগলো। হয়তো মা দোটানায় রয়েছে। তারপর মা বললেন- তোর অংকে দূর্বলতা কাটানোর উৎসাহ দেখে বেশ ভালো লাগছে..তাই তোকে নিজের ব্যাক্তিগত নাম্বার দিচ্ছি..খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া মেসেজ দিবি না।
তারপর হাসতে হাসতে নীলের কান মুড়ি দিয়ে বললেন- আর কাউকে যদি আমার নাম্বার শেয়ার করিস তাহলে তোর খবর আছে।
এসব বলেই মা তার ব্যাক্তিগত নাম্বার নীলকে দিয়ে আমাকে নিয়ে বাড়ী চলে এলো। মায়ের এভাবে নাম্বার দেওয়া আমার পছন্দ হলো না। তাই মাকে জিজ্ঞেস করলাম- মা এত সহজে ওকে নাম্বারটা কেন দিতে গেলে?
মা- চিন্তা করিস না..কোনো সমস্যা হবে না..ছেলেটার পড়াশোনার প্রতি খুব ঝোঁক..শুধুমাত্র সঠিক গাইডলাইনের অভাবে সে দুর্বল রয়ে গেছে..আমার মাধ্যমে যদি সে তার দুর্বলতা কাটাতে পারে তাহলে আমি একজন শিক্ষিকা হিসাবে সার্থক।
মায়ের জায়গায় মা ঠিক থাকলেও নীলের মনে যে অন্য ফন্দি সেটা আমি সেদিন তাদের কথপোকথন শুনেই বুঝেছি। তো পরেরদিন থেকে টানা কয়েকদিন ধরে প্রতিদিন রাতে মায়ের মোবাইল চেক করা শুরু করলাম। মাঝে মাঝে যেমন দু একদিন পরপর রাতের বেলা কোনো অংক না বুঝলে নীল সেটার ছবি তুলে মাকে পাঠাতো আর মা ভয়েস দিয়ে সেগুলো বুঝিয়ে দিত।
এছাড়া ওদের কোনো বাড়তি কথা হতো না। তো আমার মনে হচ্ছিল নীল সত্যি হয়তো তার পড়াশোনা নিয়ে বেশ সিরিয়াস। সে হয়তো আর মায়ের দিকে খারাপ নজর দেই না। তবে প্রতিদিন ক্লাসে মা অন্য সব ছাত্রদের থেকে নীলদেরই বেশি প্রাধান্য দিত। তারা এটা বুঝতে পারছে কি না, না পারলে কোথায় সমস্যা হচ্ছে বারবার তাদের দিকেই এমনভাবেই খেয়াল রাখতো আবার অন্যদের মুখে শুনতাম কোচিং এও নাকি মা অন্য সবার থেকে নীলদের খুব কেয়ার করতো। কিন্তু মাকে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে সে এড়িয়ে যেতো আর বলতো তার কাছে সবাই মানুষ।
হয়তো অন্য সবার থেকে নীলের ভিতরের কনফিডেন্স মাকে আকর্ষিত করেছিল। তো এসব নিয়ে আর তত ভাবতাম না। মায়ের আদলে যদি কেউ উন্নতি করতে পারে তাহলে সবাট জন্যই বিষয়টা বেশ ভালো। তাছাড়া আস্তে ধীরে নীলরাও আমার সাথে ভাব জমানোর চেষ্টা করতো। কিন্তু আমি খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া তাদের সাথে মিশতাম না।
তো দেখতে দেখতে আমাদের মিডটার্মের পরীক্ষা দিন এগোতে লাগলো। তাই মা কলেজ শেষ করে এক ঘন্টার বদৌলতে দুই ঘন্টা করে আর সাপ্তাহিক ছুটির দিন সকালেও কোচিং করানোর সিদ্ধান্ত নিল। এতে কিছু ছাত্ররা দ্বিমত জানালে মা সাফ সাফ জানিয়ে দিলো, যার ইচ্ছে হবে সে দুই ঘন্টা কোচিং করবে আর যার ইচ্ছে হবে না সে এক ঘন্টা করবে এবং সাপ্তাহিক ছুটির ক্ষেত্রেও একই নিয়ম..যার ইচ্ছে হবে না তার আসার দরকার নেই।
তো তারপর থেকে মা কলেজ শেষে দুই ঘন্টা করে কোচিং করাতে লাগলো আর সাপ্তাহিক ছুটির দিন তো মা তিন-চার ঘন্টা করে কোচিং করাতো আর কোচিং শেষ করে এসে মা খুব ক্লান্ত থাকতো। তাই একই বাড়ীতে থেকেও মা আমার সাথে খুব একটা সময় কাটাতে পারতো না।
এমনই একদিন সাপ্তাহিক ছুটির আগের রাত্রে মা ঘুমানোর পর তার মোবাইলটা হাতে নিয়ে ঘরের আলো নিভিয়ে স্ক্রিনের আলোয় মায়ের চ্যাট লিস্ট খুলতেই চোখটা আটকে গেল। নীলের নামের পাশে একটা ছোট্ট লাল ডট। গত কয়েকদিনে তাদের অনেকগুলো মেসেজ।
প্রথমটা ছিল সেই রাতে, যেদিন মা কোচিং-এর সময় দুই ঘণ্টা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তো প্রথম মেসেজটা নীলই করেছিল।
নীল: কি করছেন ম্যাডাম?
মা: এইতো কাজকর্ম সেরে ফ্রেশ হয়ে শুলাম..তা তুই কী করছিস?
নীল: আমি তো আপনার দেওয়া অংকগুলোই প্র্যাকটিস করছি.. কিন্তু একটা জিনিস বুঝতে পারছি না..একটু দেখিয়ে দিতে পারবেন?
তারপর মা একটা ভয়েস নোট পাঠিয়েছিলো। আমি সেটা চালিয়ে শুনলাম। মা খুবই নরম ও আদুরে গলায় ভয়েসে বলেছিলো- দেখ নীল এই অংকে তোকে প্রথমে এভাবে ভেঙে নিতে হবে… তারপর এই অংশটা… বুঝলি?
নীলের উত্তর এসেছিলো প্রায় তিন মিনিট পর।
নীল: ম্যাডাম আপনার গলাটা শুনে মনে হচ্ছে খুব ক্লান্ত..অযথা আপনাকে বিরক্ত করলাম..খুব লজ্জা লাগছে।
মা হাসির ইমুজি দিয়ে লিখেছিলেন- লজ্জা পাস কেন? শিক্ষকের কাজই তো এটা..তবে হ্যাঁ একটু ক্লান্ত লাগছে..সারাদিন কলেজ..তারপর দুই ঘণ্টা কোচিং… শরীরটা আর মানছে না।
নীল: তাহলে একটু রেস্ট নিন ম্যাডাম..তবে আপনার গলাটা শুনলে কেমন যেন শান্তি লাগে।
মা: ? দুষ্ট ছেলে একটা..ফালতু জিমিস চিন্তা না করে পড়াশোনাতে মন দে।
নীল: সত্যি বলছি ম্যাডাম আর ক্লাসে যখন হাসেন তখন পুরো ক্লাসরুমটা যেন আলোকিত হয়ে যায়।
মায়ের পরের মেসেজটা শুধু একটা ইমোজি- ?
তারপর থেকে কথা আরও একটু একটু করে বদলাতে শুরু করেছে।
তার পরের দিন রাত ০৯:৪৫-এ নীল লিখেছে- ম্যাডাম আজ কোচিং-এ যখন আপনি আমার পাশে দাঁড়িয়ে অংক দেখাচ্ছিলেন…তখন আপনার পারফিউমের গন্ধে মাতাল হয়ে যাচ্ছিলাম..কি পারফিউম ব্যাবহার করেন ম্যাডাম?
মা- নীল এসব কী বলছিস? লজ্জা করে না?
নীল: সরি ম্যাডাম.. কিন্তু সত্যি বলছি..তাছাড়া আপনাকে এত সুন্দর লাগছিল যে চোখ সরাতে পারছিলাম না.. আপনি রাগ করবেন না প্লিজ..যেটা সত্যি সেটাই বললাম।
মা কিছুক্ষণ পর লিখলো- এভাবে বলবি না..আমি তোর শিক্ষিকা আর তোর মায়ের বয়সী।
নীল- জানি ম্যাডাম.. কিন্তু আপনাকে দেখলে কেউ বলবে না যে আপনার একটা বিশ বছরের ছেলে আছে..মনে হয় কলেজ গার্ল।
মা- যা এখন ঘুমা..কাল ক্লাস আছে আর আমি hot ice নামের লেডিস পারফিউম ব্যাবহার করি। তো এভাবেই আরো কয়েকদিনের চ্যাট পড়লাম তাতে নীল বারংবার মায়ের সৌন্দর্য, পড়ানো সব কিছুর প্রশংসা করতো। মা তা প্রশংসা গুলো শুনে কখনো খুশি হতো,কখনো হাস্যকর ভাবে বকা দিত আবার কখনো লজ্জার ইমুজি দিত।
তো পড়তে পড়তে কিছুক্ষণ আগে করা তাদের চ্যাটে নজর পড়লো। আজকে সন্ধ্যা বেলা মা-ই নিজে থেকে মেসেজ দিয়েছে- কি রে কি করিস? তা কাল আসবি তো কোচিং-এ।
নীল- হ্যা মাডাম কেন না।
মা- তোদের তো আবার ছুটির দিনে পড়তে খুব কষ্ট হয়ে যায়।
নীল- কোথায় ম্যাডাম? কেউ না থাকলে আমরা তিনজন অবশ্যই থাকবো।
মা- গুড..ঠিক সময়ে চলে আসিস।
নীল-ওকে ম্যাডাম..তবে একটা অনুরোধ আছে।
মা- কী অনুরোধ?
নীল: কাল আপনাকে আমাকে বাইকে করে কোচিং এ নিয়ে যাব আবার কোচিং শেষে বাইকে করে বাড়ী পৌঁছে দিব।
মা- ? নীল এইবার কিন্তু বাড়াবাড়ি হচ্ছে..মনে রাখিস যতই তোদের সাথে ফ্রী হয় না কেনো, লিমিট ক্রস করলে কিন্তু রেহাই পাবি না।
নীল- আপনি কিছু না বুঝেই শুধু রেগে যান ম্যাডাম.. ? আসলে আমি তো আপনার ভালোর জন্যই বলছি.. কাল সাপ্তাহিক ছুটির দিন..তবুও আমাদের তিন-চার ঘণ্টা ধরে পড়াবেন..কালকের দিনটা তো আপনার নিজেরও ছুটির দিন..পরিবারের সাথে সময় কাটানোর দিন..সেটা ছেড়ে আপনি শুধু আমাদের জন্য সময় দিচ্ছেন..আমার খুব খারাপ লাগে ম্যাডাম..আপনি আমার মায়ের বয়সী..আপনাকে দেখলে মনে হয় আমার নিজের মা-ই যেন পড়াচ্ছেন..আপনার এত ত্যাগ দেখে মনটা ভারী হয়ে যায়..আমি তো শুধু একটু প্রতিদান দিতে চাই..বাইকে করে নিয়ে গেলে আর এনে দিলে আপনার শরীরটাও একটু কম ক্লান্ত হবে আর আমার মনেও শান্তি লাগবে যে আপনার জন্য অন্তত এটুকু করতে পারলাম.. প্লিজ ম্যাডাম আমাকে নিজের ছেলের মতো মনে করে এই অনুরোধটুকু রাখুন।
মা প্রায় মিনিট পাঁচেক পরে রিপ্লাই দিয়েছিলেন। হয়তো মা কোন কাজে গেছিলেন বা নীলের বলা কথাগুলো মন দিয়ে ভাবছিলেন।
তো পাঁচ মিনিট পর মা রিপ্লাই দিলেন- নীল বোঝার চেষ্টা কর আমি তোদের শিক্ষিকা..রাজ যদি দেখে যে তার বন্ধুর বাইকে করে আমি কোচিং যাচ্ছি তাহলে সে কি ভাববে বল তো আর লোকজন দেখলেও কি মনে করবে?
নীল- ম্যাডাম লোকে কী ভাববে সেটা নিয়ে চিন্তা করবেন না প্লিজ আর রাজ কিছুই জানতে পারবে না..আপনি বাড়ী থেকে বের হয়ে সামনের রাস্তার মোড় পর্যন্ত হেঁটে আসবেন..তারপর আপনাকে সেখান থেকে উঠিয়ে নিয়ে যাব আর আসার সময়ও একই জায়গায় ছেড়ে দিবো..প্লিজ ম্যাডাম আর না করবেন না।
মা- ? নীল তুই খুব চালাক হয়ে গেছিস আর একদম নাছোড়বান্দা..তা এভাবে ইমোশনালী কতজন ম্যাডামকে বাইকে তুলেছিস।
নীল- ম্যাডাম চালাকি না আর সত্যি কথা বলছি এর আগে কোনো ম্যাডামকে বাইকে তোলা তো দূরের কথা.. ঠিক মত কথায় বলি নি.. তবে এখন আপনার মতো শিক্ষিকা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার..আপনি যেভাবে নিজের কষ্টের কথা চিন্তা না করে আমাদের জন্য খাটছেন তাতে আমাদেরও আপনার প্রতি কিছু কর্তব্য রয়েছে..আপনিই আমার জীবনের প্রথম শিক্ষক যে আমার ভিতরের কনফিডেন্স টাকে বাস্তবে বের করে নিয়ে আসতে পেরেছে..অন্য শিক্ষকরা তো আমাদের মত দূর্বল ছাত্রদের দিকে চোখ তুলেও তাকায় না..তাইতো আমিও আপনার সেই প্রতিদান হিসেবে আপনার কষ্ট কম করার চেষ্টা করছি।
মা- বাহ বেশ মধু ঝরানো কথা শিখেছিস তো..তো বাস্তব হিসেবে তোর অনুরোধ রাখা একদমই সম্ভব না।
নীল- ম্যাডাম ম্যাডাম প্লিজ..হাত জোড় করছি শুধুমাত্র একদিনেরই তো ব্যাপার।
মা- আচ্ছা আচ্ছা থাম এবার..ঘাড়ত্যাড়া একটা..ঠিক আছে শুধুমাত্র কালকের দিনের জন্য তোর বাইকে উঠবো..দেখবো তুই কেমন চালক হয়েছিস।
নীল- একবার সুযোগ দিয়েই তো দেখেন ম্যাডাম..কিরকম চালক আমি সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাবেন..সেফটি পরিয়ে এমনভাবে চালাবো আপনি খুশি হয়ে যাবেন।
নীলের এই কথাগুলোর যে অন্য অর্থ রয়েছে সেটা আমি স্পষ্ট বুঝলেও, মা বিন্দুমাত্র তার ডাবল অর্থের কথার মানে ধরতে পারলো না।
মা তার কথার উত্তরে রিপ্লাই দিয়ে বললেন- মানে কি সব বলছিস? কিসের সেফটি আর কি বা হাড়ে হাড়ে টের পাবো?
নীল- ওই যে বললেন না যে আপনি দেখতে চান আমি কেমন ড্রাইভার..তাই ওই কথাগুলোর দ্বারা বোঝালাম যে সেফটি মানে মাথার উপর হেলমেট পরিয়ে এমন নিখুঁত ভাবে চালাবো যে আপনার বারবার আমার বাইকে উঠতে ইচ্ছে করবে।
মা- জ্বি না..শুধু কালকের দিনটা আর কখনো কিন্তু এমন অনুরোধ করবি না এবং কোনো ভাবে যেনো রাজ না জানে।
নীল- জো হুকম মিসেস শিলা ম্যাডাম।
মা- চুপ দুষ্ট..এইবার ঘুমা..সকাল আটটার ভিতর রাস্তার মোড়ে চলে আসিস..শুভ রাত্রি।
নীল- জি ম্যাডাম..শুভ রাত্রি..স্বপ্নে দেখা হবে।
মা শুধু একটা হাসির ইমোজি দিয়ে চ্যাট অফ করে দিলেন।
আমি ফোনটা রেখে দিলাম। আমার মাথাটা ঘুরছিল। নীলটা এমন ইমোশনাল কার্ড খেলেছেযে মায়ের ত্যাগ, মা-ছেলের সম্পর্ক, শ্রদ্ধা, প্রতিদান সব মিলিয়ে মাকে একেবারে গলে দিয়েছে। মা যেন ধীরে ধীরে নরম হয়ে যাচ্ছে। বাবা দেশের বাইরে যাওয়ার পর থেকে মা একটু একটু করে বদলে যাচ্ছে আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি।


![[+]](https://xossipy.com/themes/sharepoint/collapse_collapsed.png)
:
