Thread Rating:
  • 5 Vote(s) - 3.2 Average
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
Adultery ২টি ছাদ ও কয়েকটি বিকেল...
#1
Star 
পর্ব ১
রাতের শেষ অংশটুকু সবসময় অদ্ভুত। এটা পুরো রাতও না, আবার সকালও না। মানুষের ভেতরের যে কথাগুলো দিনের বেলায় মুখ খুঁজে পায় না, সেগুলো এই সময়ে মাথা তোলে।
নীলা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। ঘরের বাতি নিভানো। শুধু বাইরে হালকা ফ্যাকাশে আলো। তার চোখে ঘুম নেই। বহুদিন ধরেই নেই। মা মারা যাওয়ার পর থেকেই তার ঘুম পাতলা হয়ে গেছে। ছোটবেলায় সে ভয় পেত অন্ধকারকে। এখন সে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকে স্বেচ্ছায়। কারণ অন্ধকার বিচার করে না।
তার বাবা পাশের ঘরে শুয়ে। তার ঘুম শব্দ করে না, কিন্তু নিঃশ্বাস ভারী। বয়স বাড়লে মানুষ শব্দ না করে ক্লান্ত হয়। নীলার মাথায় আজ একটা অদ্ভুত চাপ। তিনদিন ধরে রাফিকে ঠিকমতো দেখা হয়নি। ছাদে দাঁড়ানোও কমে গেছে। নীলা জানে, রাফির ইন্টারভিউ ছিল, এখন তো নীলার সামনে আসতেও রাফি ভয় পায়। এটাও জানে—এই ভয়কে সে কাউকে দেখায় না।

হঠাৎ খুব হালকা একটা শব্দ হলো পেছনের দিক থেকে। এমন শব্দ, যা নিশ্চিত না হলে মানুষ উপেক্ষা করে। নীলা শুনেছিল কি?
হয়তো শুনেছিল। কিন্তু মানুষের ভেতরে যখন অন্য শব্দ বেশি জোরে বাজে, বাইরের শব্দ তখন দূরে সরে যায়। পেছনের গলিতে একটা ছায়া নড়ল। লোহার গ্রিলের গায়ে চাপা ঘষা। তারপর খুব ছোট একটা ভাঙার শব্দ। কেউ ভেতরে ঢুকছে।

আব্দুল কাদেরের ঘুম ভাঙলো ভোরের একটু আগে। তার একটা অভ্যাস আছে—সকালে উঠে আলমারি দেখে নেন। যেন কোনো অদৃশ্য ভয় তাকে তাড়া করে। আলমারিটা তার কাছে শুধু কাঠ আর লোহার জিনিস না। সেখানে তার জীবনের হিসাব থাকে। জমির দলিল, ব্যাংকের কাগজ, আর একটা ফাইল—যেটা তিনি কাউকে দেখান না। আজ আলমারির দরজাটা পুরো বন্ধ ছিল না। তিনি প্রথমে ভাবলেন, ভুলে গেছেন।
হাত বাড়িয়ে ঠেলতেই দরজাটা হেলে পড়ল। ভাঙা কাঠের শব্দ হলো।
ভেতরের জিনিস এলোমেলো। যেন আলমারি না তার বুকের ভেতরটা ফাঁকা হয়ে গেছে।

“সব শেষ!”
এই চিৎকারে পাড়ার সকাল বদলে গেল।
শিউলি আপা জানালা খুলে তাকালেন। তার চোখে কৌতূহল আগে আসে, সহানুভূতি পরে। তিনি চিৎকার করে খবর দিলেন। খবর ছড়াতে সময় লাগে না, কারণ মানুষের ভেতরে গল্পের জন্য জায়গা সবসময় থাকে। ভিড় জমতে লাগল। কেউ লুঙ্গি সামলাচ্ছে, কেউ চশমা খুঁজছে, কেউ ফোন হাতে নিয়ে ভিডিও করতে চাইছে কিন্তু সাহস পাচ্ছে না। নীলা সিঁড়ির ধাপে দাঁড়িয়ে। তার মাথার ভেতর অদ্ভুত শান্তি। হয়তো ধাক্কা এত বড় যে কান্না আসছে না।
শুধু নীলা জানে ওর চোখ ভিড়ের মধ্যে কাউকে খুঁজছে।
"রাফি।"

রাফি যখন এল, তার হাঁটার ভেতর একটা অপরাধবোধ ছিল। কেন ছিল—সে নিজেও জানে না। যেন কোনো অঘটনের সময় উপস্থিত না থাকলে সে নিজেকে ক্ষমা করতে পারে না। তাদের চোখ মিলল। এই মিলনে হাজার কথা ছিল।
“তুমি ঠিক আছো তো?”
“আমি আছি।”
“সব ঠিক হয়ে যাবে। চিন্তা করো না”
“জানি না।”

কাদের সাহেব ফাইল খুঁজছেন।
“সবুজ ফাইলটা… এখানে ছিল…” এই ফাইলের কথা কেউ জানে না। এই ফাইলের ভেতরে ছিল তার স্ত্রীর লেখা কয়েকটা চিঠি। তাদের প্রেমের সময়কার। তিনি কখনও সেগুলো ফেলে দেননি। আজ মনে হলো—অতীতও কি চুরি হয়ে যায়? পুলিশ এলো। প্রশ্ন করলো। সন্দেহ জানতে চাইল। এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে কাদের সাহেব বুঝলেন—বিশ্বাস মানে কী ভঙ্গুর জিনিস।
তিনি বললেন, “আমাদের কারও সাথে শত্রুতা নাই।”
কিন্তু তার চোখ এক মুহূর্তের জন্য পাড়ার মানুষের ওপর ঘুরে গেল। মানুষের ভিড় মানেই সম্ভাব্য বিশ্বাসঘাতকতার তালিকা। রহিম চাচা একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার চোখে বিচার কম, পর্যবেক্ষণ বেশি। তার পাশে বাপ্পি দাঁড়িয়ে। বাপ্পির হাত দুটো পকেটে ঢোকানো। তার চোখ নিচু। রহিম চাচা লক্ষ্য করলেন—ছেলেটা আজ চুপচাপ। কিন্তু তিনি কিছু বললেন না। কারণ তিনি জানেন, কিছু নীরবতা জোর করে ভাঙলে শব্দ বের হয় না, কান্না বের হয়। ভিড় ছড়িয়ে গেলে পাড়ার ভেতরে গুঞ্জন রয়ে গেল। শিউলি আপা বললেন, “ভেতরের লোক।” হাশেম কাকু বললেন, “বাইরের।” মিজান স্যার সমাজ নিয়ে বক্তৃতা দিলেন। প্রতিটা মানুষ নিজের মতামত দিয়ে স্বস্তি পেল। কারণ মতামত মানে নিরাপত্তা...

রাফির ইন্টারভিউ ছিল। সে যায়নি। তার মা জিজ্ঞেস করলে সে চোখ নামিয়ে বলল, “আজ মন ছিল না।” মা চুপ করে গেলেন। তিনি জানেন—এই ছেলের মন আর বাস্তবতা একসাথে হাঁটে না। তিনি মাঝে মাঝে ভাবেন, ছেলেকে বেশি স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন কি না।

সন্ধ্যায় নীলা ছাদে উঠল। আকাশে হালকা কমলা রঙ। চুরি হওয়া বাড়ির ওপরও সূর্য একইভাবে আলো ফেলে—এই নির্লিপ্ততায় তার কষ্ট হয়। রাফি পাশের ছাদে দাঁড়াল।
কিছুক্ষণ দুজনেই চুপ।
“তুমি ঠিক আছো?” রাফি জিজ্ঞেস করল।
নীলা উত্তর দিল না সঙ্গে সঙ্গে।—ঠিক থাকা মানে কী? যদি ভেতরে অস্থিরতা থাকে, তবু বাইরে শান্ত থাকি—তাহলে কি ঠিক? শুধু বলল-“আমি জানি না।”
রাফি হঠাৎ বলল, “আমি চাকরি পেলে সব বদলে যাবে।”
এই বাক্যে তার ভেতরের অসহায়তা ছিল। রাফি মনে করে, চাকরি মানেই সম্মান। সম্মান মানেই সাহস ।আর সাহস মানেই নীলাকে নিজের বলা।
নীলা- “সব?”
রাফি থেমে গেল। সব বদলানো যায় না। কিছু জিনিস শুধু সহ্য করা যায়।

রাতে কাদের সাহেব একা বসে রইলেন। ভাঙা আলমারি সামনে। তার মনে হলো, এই পাড়া আর আগের মতো নিরাপদ না। তার মেয়েকে তিনি কেমন ভবিষ্যৎ দিতে পারবেন? তার নিজের প্রেমের বিয়ে ছিল। কিন্তু জীবনের চাপে সেই প্রেম শুকিয়ে গেছে। তিনি চান না মেয়ের জীবন অনিশ্চিত হোক। কিন্তু তিনি এটাও জানেন না—অতিরিক্ত নিরাপত্তা মানুষকে শ্বাসরুদ্ধ করে।


ওদিকে চা দোকানের পেছনে বাপ্পি একা বসে আছে। তার পকেটে ছোট একটা সোনার চেইন। সে সেটা বের করে আলোতে ধরল। তার চোখে জল নেই। কারণ তার কাছে এটা চুরি না—প্রয়োজন। তার মা তিনদিন ধরে জ্বরে। ডাক্তার বলেছে ওষুধ লাগবে। সে ফিসফিস করে বলল, “আমি খারাপ না।” এই বাক্য সে নিজেকেই বলছে। পাড়ার বাতি একে একে নিভে যায়। সবাই ভাবে দিন শেষ।

কিন্তু আসলে আজ একটা ফাঁক তৈরি হয়েছে। বিশ্বাসের ফাঁক। ভবিষ্যতের ফাঁক। দুজন মানুষের মাঝের নীরবতার ফাঁক। এই ফাঁকের ভেতর দিয়েই গল্প ঢুকবে। আর কেউ এখনও বুঝতে পারছে না সবচেয়ে বড় ভাঙন আলমারিতে না, মানুষের ভেতরে শুরু হয়েছে।
একজন বড় মিথ্যাবাদী, একজন বড় জাদুকরও
[+] 4 users Like Dead people's post
Like Reply
Do not mention / post any under age /rape content. If found Please use REPORT button.
#2
Excellent start
Like Reply
#3
বাহ্ খুব সুন্দর starting  Blue-heart Blue-heart লাইক আর রেপু দিয়ে সঙ্গে রইলাম

[Image: Shocked-Open-Asianpiedstarling-size-restricted.gif]

Like Reply
#4
একটা পুরনো গল্প old xossip এ পড়েছিলাম। এক জমিদারের পুত্র তার জমিদার পিতা থেকে দূরে আদিবাসীদের গ্রামে বেড়াতে যায়। সেখানে ফুলিয়া নামক এক বয়স্কা সাঁওতাল রমণীর সাথে যুবকের পরিচয় ও প্রণয় ঘটে। ফুলিয়ার আদিম বন্য রূপে আকৃষ্ট হয়ে যুবক তার প্রেমে পড়ে, এবং লোকচক্ষু এড়িয়ে জঙ্গলে গিয়ে সঙ্গম করে। ফুলিয়ার মাতাল বর বুধিয়ার নালিশে সাঁওতাল গ্রামবাসীরা দু'জনকে ধরে বিয়ে দেয়। কিন্তু গ্রামের জ্যেষ্ঠ বুড়ীমা শর্ত দেয় - তাদেরকে মারাং বুরু দেবতাকে তুষ্ট করতে হবে, সেজন্য বোঙ্গা দেবতার মন্দিরে যৌন উত্তেজক হাঁড়িয়া মদ, বন্য শূকরের মাংস, আর পাঁঠার মাংস‌ খেয়ে রাতভর ওরা এনাল সেক্সের মাধ্যমে বাসর উদযাপন করে। ফুলিয়া তার যুবক নাগরকে বাবু সম্বোধন করে, বাড়াকে নুড়া ডাকে, সাঁওতালী‌ আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে .. দুর্দান্ত এক গল্প ছিল। প্লিজ কেউ খুঁজে দিন।
Like Reply
#5
Waiting for next update... Great start
Like Reply
#6
Good Starting
Like Reply
#7
Star 
পর্ব ২
চুরির ঘটনার পর পাড়ার বাতাস কখনও আগের মতো স্বাভাবিক হলো না। বাইরে তাকালে মনে হয় সব আগের মতো—চা দোকানে ভিড়, মুদি দোকানের কাঁচের জানালায় ঝলক, বিকেলের ছাদে কাপড় শুকানো। কিন্তু মানুষের চোখে এক ধরণের হিসাব ঢুকে গেছে। কেউ কারও বাড়িতে ঢোকার সময় একটু খেয়াল করে, কেউ হাসে, কিন্তু মনে মনে ভাবে—এটা কি সত্যি হাসি, নাকি শুধু ভান। এই অদৃশ্য হিসাবের মধ্যে নীলা সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে। ছোটবেলায় সে ছিল কথা বলার মানুষ, হাসির মানুষ, কখনও কাঁদতেও দ্বিধা হতো না। মা মারা যাওয়ার পর তার হাসি ধীরে ধীরে কমে গেছে। কাঁদতে গিয়ে মনে হয়, চোখের জল পড়ে না—অভ্যাস হয়ে গেছে।

নীলা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়েছে, অথচ সে জানে আকাশ তার কথাগুলো শুনবে না। ভোরের আলো আসার আগে আকাশ সবসময় ধূসর, আকাশের দিকে তাকালেই মনে হয়, কোন জায়গায় সময় থেমে গেছে। তার বুকের ভেতর অদ্ভুত চাপ, যেন সব কিছু ধীরে ধীরে ভেঙে যাচ্ছে, কিন্তু কেউ তা দেখছে না। রাফি তিনদিন ধরে দেখা হয়নি। ইন্টারভিউর কথা মনে আছে, ফোন আসেনি। সে নিজেই ফোন করতে সাহস পায় না, কারণ স্পষ্ট “না” শুনতে ভয় পায়। ভয় একটা অদৃশ্য ছায়া, যা তাকে ছাদে দাঁড় করায়, বারান্দায় দাঁড় করায়, নিজেকে একাকী অনুভব করতে বাধ্য করে।

তার বাবা, সাদেক সাহেব, এখনও প্রতিদিন সকালে পত্রিকা পড়েন। ব্যাংকে কাজ করতেন এক সময়, হিসাবরক্ষক ছিলেন। এখন অবসরপ্রাপ্ত। প্রতিদিন পত্রিকা পড়ে চাকরির বিজ্ঞাপন ঘিরে রাখেন, কিন্তু ছেলেকে বলেন না—“এইটায় আবেদন কর।” ভেতরে ভাঙা একটি গ্লাসের মতো। ছেলের স্বপ্নকে জোরে চাপ দিতে চান না, কিন্তু ভিতরে ভেঙে যাচ্ছে। পাড়ায় চুরি হয়েছে—তাও শুধু আলমারির নয়। বিশ্বাসও চুরি হয়েছে।


চা দোকানেই রহিম চাচা বসে আছেন। আজকাল বাপ্পি কম কথা বলে। চোখে অপরাধবোধ, কিন্তু এখনও তার হাতে আছে ছোট্ট সোনার চেইন। মা অসুস্থ। বাপ্পি জানে—ধরা পড়লে সমস্যা। কিন্তু এখন সময় আছে। রহিম চাচা বুঝতে পারছেন। মানুষের ভাঙা শব্দ সবসময় শব্দের মধ্যে থাকে না। অনেক সময় মানুষ ভাঙে নীরবভাবে, নিজের ভেতরে।

এদিকে ছোট কাকা গ্রাম থেকে এসেছে। হঠাৎ আগমন পাড়ার মধ্যে হাহাকার তৈরি করছে। সে বলল, “একটা ভালো সম্বন্ধ আছে। ছেলেটা ব্যাংকে চাকরি করছে। এখনই কথা বললে ভালো।” কাদের সাহেব চুপ করে শুনলেন। মাথায় হিসাব চলছে। ব্যাংকের চাকরি মানে স্থায়িত্ব, স্থায়িত্ব মানে নিরাপত্তা। ভেতরের শান্তি নেই, কিন্তু অস্থিরতাও শুয়ে নেই। নীলা ঘরে চুপচাপ। বুকের ভেতর ব্যথা। জানে, তার জীবনের উপর কথা হচ্ছে, কিন্তু তাকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে না।
নীলা ডায়েরি খুলল। লিখতে পারল না। শুধু কলম ধরে রাখল। শব্দগুলো লিখে ফেলার আগেই হারিয়ে যাচ্ছে। বাইরে বাতাস বইছে, ভেতরের চুপচাপ শব্দ ভেঙে পড়ছে না। বুকের অদ্ভুত অস্থিরতা। মনে হচ্ছে, যা হারানো হয়েছে তা শুধুই জিনিস নয়, বিশ্বাস, নিরাপত্তা, স্বপ্ন—সব মিলিয়ে একটা ফাঁকা জায়গা তৈরি করেছে।

রাত হলে নীলা সাদা সালোয়ার পরে আয়নার সামনে দাঁড়াল। নিজের মুখ দেখল,  কোথাও যেন একটা ফাটল আছে। ছাদে এলো সাইফ। ভদ্র, শান্ত। খুব মেপে কথা বলে। “আপনি কী পড়েন?” সে জিজ্ঞেস করল।
নীলা - “বাংলা।”
“ভালো। সাহিত্য মানুষকে গভীর করে।” নীলার মনে হলো—সে কি সত্যিই বোঝে?
কিছুক্ষণ পরে সবাই একা বসে আছে। সাইফ বলল, “আমি খুব সাধারণ জীবন চাই। ঝামেলা পছন্দ করি না।”
নীলা জিজ্ঞেস করল, “ঝামেলা মানে?”
সে হেসে বলল, “অপ্রয়োজনীয় আবেগ।” বাতাসে ঝুলে থাকা বাক্য।

নীলার মনে হলো, তার আবেগ কি অপ্রয়োজনীয়? সে কিছু বলল না।
রাফি খবরটা শুনে ছাদে উঠল। নীলা এলো না। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে সে নিচে নেমে গেল। রাতে বাবার ঘরে ঢুকল। বাবা পত্রিকা পড়ছিলেন। “বাবা,” সে বলল, “চাকরি পেলে কি সব ঠিক হয়ে যায়?” বাবা চশমা খুলে তাকালেন। “সব না। কিন্তু অনেক কিছু সহজ হয়।”
এই উত্তর অর্ধেক। অর্ধেকের ভেতর দুশ্চিন্তা। 
কাদের সাহেব রাতের অন্ধকারে একা। ভাঙা আলমারির দিকে তাকিয়ে। জানেন—পাড়ায় চুরি হয়েছে, মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা আছে। অতিরিক্ত নিরাপত্তা মেয়ের জীবন শ্বাসরুদ্ধ করতে পারে।

নীলা বারান্দায় দাঁড়িয়ে। আকাশে চাঁদ নেই। মনে হলো—সে যেন দুই দিক থেকে টানছে। একদিকে প্রেম, একদিকে নিরাপত্তা। জানে না কোনটা বেছে নিলে কম ভাঙবে। বাতাস স্থির, কিন্তু ভেতরের বাতাস বইছে। অপূর্ণ অপেক্ষা চাপা আতঙ্ক।
পাড়ার অন্য প্রান্তে হাসেম কাকু বসে। পাড়ার ঘটনাগুলো একদম খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন। তার চোখে গোপন খবর পড়ে, কিন্তু মুখে কিছু আসে না। জানে—ভয়ের শুরু, আগের মতো নয়, মানুষের ভেতরে।
রাত্রি গভীর। দোকান বন্ধ। পাড়ার অন্ধকার। তবে বাতাসে শব্দ। কখনও চুপচাপ, কখনও হালকা কন্ঠ। রাস্তায় কারও পদচাপ, কোথাও একটি দরজার চিল। এই শব্দগুলোর ভেতর মানুষ নিজের ভেতরের গল্পে ডুবে।
রাফি একা বসে ছাদে। মনে মনে ভাবছে—চাকরি, নীলা, বিশ্বাস, নিরাপত্তা। তার ভেতরে সব মিলিয়ে একটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। মনে হচ্ছে, একটি ভুল পদক্ষেপ পুরো জীবনকে ভেঙে দিতে পারে।
নীলা ঘরে। তার চোখে নিঃশব্দ কষ্ট। মনে হয়, জীবনের সব সম্ভাব্য আশা একটি ঝুঁকির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। বুকের ভেতর চাপ। মনে হয়, যদি কেউ জানতে চায়, সে বলতে পারবে না।

ছোট কাকার কথার আওয়াজ এখনও বাতাসে। “এটা ভালো সম্বন্ধ। স্থায়িত্ব।” কিন্তু নীলা জানে, স্থায়িত্বের সঙ্গে প্রেম কখনও একসাথে চলে না।


চা দোকানের পেছনে বাপ্পি বসে। চোখে অপরাধবোধ। পকেটে সোনার চেইন। মনে হচ্ছে, যা হচ্ছে, তার সবই অদৃশ্য।
পাড়ায় বাতি একে একে নিভে যায়। মানুষ ঘরে ফিরে যায়। কিন্তু ভিতরে বাতাস বইছে। ধীরে ধীরে। গভীরভাবে। অপূর্ণ।
এই ফাঁক আর শান্ত নয়। দুজনের ভেতরের ফাঁক, পাড়ার ফাঁক, ভবিষ্যতের ফাঁক—সব মিলেছে। কেউ এখনও বুঝতে পারছে না—এই নীরবতার ভেতরেই আসল ভাঙন তৈরি হচ্ছে।
একজন বড় মিথ্যাবাদী, একজন বড় জাদুকরও
[+] 2 users Like Dead people's post
Like Reply
#8
Bhalo cholche... Waiting for next update
Like Reply
#9
Darun
Like Reply




Users browsing this thread: 2 Guest(s)