পর্ব ১
রাতের শেষ অংশটুকু সবসময় অদ্ভুত। এটা পুরো রাতও না, আবার সকালও না। মানুষের ভেতরের যে কথাগুলো দিনের বেলায় মুখ খুঁজে পায় না, সেগুলো এই সময়ে মাথা তোলে।
নীলা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। ঘরের বাতি নিভানো। শুধু বাইরে হালকা ফ্যাকাশে আলো। তার চোখে ঘুম নেই। বহুদিন ধরেই নেই। মা মারা যাওয়ার পর থেকেই তার ঘুম পাতলা হয়ে গেছে। ছোটবেলায় সে ভয় পেত অন্ধকারকে। এখন সে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকে স্বেচ্ছায়। কারণ অন্ধকার বিচার করে না।
তার বাবা পাশের ঘরে শুয়ে। তার ঘুম শব্দ করে না, কিন্তু নিঃশ্বাস ভারী। বয়স বাড়লে মানুষ শব্দ না করে ক্লান্ত হয়। নীলার মাথায় আজ একটা অদ্ভুত চাপ। তিনদিন ধরে রাফিকে ঠিকমতো দেখা হয়নি। ছাদে দাঁড়ানোও কমে গেছে। নীলা জানে, রাফির ইন্টারভিউ ছিল, এখন তো নীলার সামনে আসতেও রাফি ভয় পায়। এটাও জানে—এই ভয়কে সে কাউকে দেখায় না।
হঠাৎ খুব হালকা একটা শব্দ হলো পেছনের দিক থেকে। এমন শব্দ, যা নিশ্চিত না হলে মানুষ উপেক্ষা করে। নীলা শুনেছিল কি?
হয়তো শুনেছিল। কিন্তু মানুষের ভেতরে যখন অন্য শব্দ বেশি জোরে বাজে, বাইরের শব্দ তখন দূরে সরে যায়। পেছনের গলিতে একটা ছায়া নড়ল। লোহার গ্রিলের গায়ে চাপা ঘষা। তারপর খুব ছোট একটা ভাঙার শব্দ। কেউ ভেতরে ঢুকছে।
আব্দুল কাদেরের ঘুম ভাঙলো ভোরের একটু আগে। তার একটা অভ্যাস আছে—সকালে উঠে আলমারি দেখে নেন। যেন কোনো অদৃশ্য ভয় তাকে তাড়া করে। আলমারিটা তার কাছে শুধু কাঠ আর লোহার জিনিস না। সেখানে তার জীবনের হিসাব থাকে। জমির দলিল, ব্যাংকের কাগজ, আর একটা ফাইল—যেটা তিনি কাউকে দেখান না। আজ আলমারির দরজাটা পুরো বন্ধ ছিল না। তিনি প্রথমে ভাবলেন, ভুলে গেছেন।
হাত বাড়িয়ে ঠেলতেই দরজাটা হেলে পড়ল। ভাঙা কাঠের শব্দ হলো।
ভেতরের জিনিস এলোমেলো। যেন আলমারি না তার বুকের ভেতরটা ফাঁকা হয়ে গেছে।
“সব শেষ!”
এই চিৎকারে পাড়ার সকাল বদলে গেল।
শিউলি আপা জানালা খুলে তাকালেন। তার চোখে কৌতূহল আগে আসে, সহানুভূতি পরে। তিনি চিৎকার করে খবর দিলেন। খবর ছড়াতে সময় লাগে না, কারণ মানুষের ভেতরে গল্পের জন্য জায়গা সবসময় থাকে। ভিড় জমতে লাগল। কেউ লুঙ্গি সামলাচ্ছে, কেউ চশমা খুঁজছে, কেউ ফোন হাতে নিয়ে ভিডিও করতে চাইছে কিন্তু সাহস পাচ্ছে না। নীলা সিঁড়ির ধাপে দাঁড়িয়ে। তার মাথার ভেতর অদ্ভুত শান্তি। হয়তো ধাক্কা এত বড় যে কান্না আসছে না।
শুধু নীলা জানে ওর চোখ ভিড়ের মধ্যে কাউকে খুঁজছে।
"রাফি।"
রাফি যখন এল, তার হাঁটার ভেতর একটা অপরাধবোধ ছিল। কেন ছিল—সে নিজেও জানে না। যেন কোনো অঘটনের সময় উপস্থিত না থাকলে সে নিজেকে ক্ষমা করতে পারে না। তাদের চোখ মিলল। এই মিলনে হাজার কথা ছিল।
“তুমি ঠিক আছো তো?”
“আমি আছি।”
“সব ঠিক হয়ে যাবে। চিন্তা করো না”
“জানি না।”
কাদের সাহেব ফাইল খুঁজছেন।
“সবুজ ফাইলটা… এখানে ছিল…” এই ফাইলের কথা কেউ জানে না। এই ফাইলের ভেতরে ছিল তার স্ত্রীর লেখা কয়েকটা চিঠি। তাদের প্রেমের সময়কার। তিনি কখনও সেগুলো ফেলে দেননি। আজ মনে হলো—অতীতও কি চুরি হয়ে যায়? পুলিশ এলো। প্রশ্ন করলো। সন্দেহ জানতে চাইল। এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে কাদের সাহেব বুঝলেন—বিশ্বাস মানে কী ভঙ্গুর জিনিস।
তিনি বললেন, “আমাদের কারও সাথে শত্রুতা নাই।”
কিন্তু তার চোখ এক মুহূর্তের জন্য পাড়ার মানুষের ওপর ঘুরে গেল। মানুষের ভিড় মানেই সম্ভাব্য বিশ্বাসঘাতকতার তালিকা। রহিম চাচা একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার চোখে বিচার কম, পর্যবেক্ষণ বেশি। তার পাশে বাপ্পি দাঁড়িয়ে। বাপ্পির হাত দুটো পকেটে ঢোকানো। তার চোখ নিচু। রহিম চাচা লক্ষ্য করলেন—ছেলেটা আজ চুপচাপ। কিন্তু তিনি কিছু বললেন না। কারণ তিনি জানেন, কিছু নীরবতা জোর করে ভাঙলে শব্দ বের হয় না, কান্না বের হয়। ভিড় ছড়িয়ে গেলে পাড়ার ভেতরে গুঞ্জন রয়ে গেল। শিউলি আপা বললেন, “ভেতরের লোক।” হাশেম কাকু বললেন, “বাইরের।” মিজান স্যার সমাজ নিয়ে বক্তৃতা দিলেন। প্রতিটা মানুষ নিজের মতামত দিয়ে স্বস্তি পেল। কারণ মতামত মানে নিরাপত্তা...
রাফির ইন্টারভিউ ছিল। সে যায়নি। তার মা জিজ্ঞেস করলে সে চোখ নামিয়ে বলল, “আজ মন ছিল না।” মা চুপ করে গেলেন। তিনি জানেন—এই ছেলের মন আর বাস্তবতা একসাথে হাঁটে না। তিনি মাঝে মাঝে ভাবেন, ছেলেকে বেশি স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন কি না।
সন্ধ্যায় নীলা ছাদে উঠল। আকাশে হালকা কমলা রঙ। চুরি হওয়া বাড়ির ওপরও সূর্য একইভাবে আলো ফেলে—এই নির্লিপ্ততায় তার কষ্ট হয়। রাফি পাশের ছাদে দাঁড়াল।
কিছুক্ষণ দুজনেই চুপ।
“তুমি ঠিক আছো?” রাফি জিজ্ঞেস করল।
নীলা উত্তর দিল না সঙ্গে সঙ্গে।—ঠিক থাকা মানে কী? যদি ভেতরে অস্থিরতা থাকে, তবু বাইরে শান্ত থাকি—তাহলে কি ঠিক? শুধু বলল-“আমি জানি না।”
রাফি হঠাৎ বলল, “আমি চাকরি পেলে সব বদলে যাবে।”
এই বাক্যে তার ভেতরের অসহায়তা ছিল। রাফি মনে করে, চাকরি মানেই সম্মান। সম্মান মানেই সাহস ।আর সাহস মানেই নীলাকে নিজের বলা।
নীলা- “সব?”
রাফি থেমে গেল। সব বদলানো যায় না। কিছু জিনিস শুধু সহ্য করা যায়।
রাতে কাদের সাহেব একা বসে রইলেন। ভাঙা আলমারি সামনে। তার মনে হলো, এই পাড়া আর আগের মতো নিরাপদ না। তার মেয়েকে তিনি কেমন ভবিষ্যৎ দিতে পারবেন? তার নিজের প্রেমের বিয়ে ছিল। কিন্তু জীবনের চাপে সেই প্রেম শুকিয়ে গেছে। তিনি চান না মেয়ের জীবন অনিশ্চিত হোক। কিন্তু তিনি এটাও জানেন না—অতিরিক্ত নিরাপত্তা মানুষকে শ্বাসরুদ্ধ করে।
ওদিকে চা দোকানের পেছনে বাপ্পি একা বসে আছে। তার পকেটে ছোট একটা সোনার চেইন। সে সেটা বের করে আলোতে ধরল। তার চোখে জল নেই। কারণ তার কাছে এটা চুরি না—প্রয়োজন। তার মা তিনদিন ধরে জ্বরে। ডাক্তার বলেছে ওষুধ লাগবে। সে ফিসফিস করে বলল, “আমি খারাপ না।” এই বাক্য সে নিজেকেই বলছে। পাড়ার বাতি একে একে নিভে যায়। সবাই ভাবে দিন শেষ।
কিন্তু আসলে আজ একটা ফাঁক তৈরি হয়েছে। বিশ্বাসের ফাঁক। ভবিষ্যতের ফাঁক। দুজন মানুষের মাঝের নীরবতার ফাঁক। এই ফাঁকের ভেতর দিয়েই গল্প ঢুকবে। আর কেউ এখনও বুঝতে পারছে না সবচেয়ে বড় ভাঙন আলমারিতে না, মানুষের ভেতরে শুরু হয়েছে।
রাতের শেষ অংশটুকু সবসময় অদ্ভুত। এটা পুরো রাতও না, আবার সকালও না। মানুষের ভেতরের যে কথাগুলো দিনের বেলায় মুখ খুঁজে পায় না, সেগুলো এই সময়ে মাথা তোলে।
নীলা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। ঘরের বাতি নিভানো। শুধু বাইরে হালকা ফ্যাকাশে আলো। তার চোখে ঘুম নেই। বহুদিন ধরেই নেই। মা মারা যাওয়ার পর থেকেই তার ঘুম পাতলা হয়ে গেছে। ছোটবেলায় সে ভয় পেত অন্ধকারকে। এখন সে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকে স্বেচ্ছায়। কারণ অন্ধকার বিচার করে না।
তার বাবা পাশের ঘরে শুয়ে। তার ঘুম শব্দ করে না, কিন্তু নিঃশ্বাস ভারী। বয়স বাড়লে মানুষ শব্দ না করে ক্লান্ত হয়। নীলার মাথায় আজ একটা অদ্ভুত চাপ। তিনদিন ধরে রাফিকে ঠিকমতো দেখা হয়নি। ছাদে দাঁড়ানোও কমে গেছে। নীলা জানে, রাফির ইন্টারভিউ ছিল, এখন তো নীলার সামনে আসতেও রাফি ভয় পায়। এটাও জানে—এই ভয়কে সে কাউকে দেখায় না।
হঠাৎ খুব হালকা একটা শব্দ হলো পেছনের দিক থেকে। এমন শব্দ, যা নিশ্চিত না হলে মানুষ উপেক্ষা করে। নীলা শুনেছিল কি?
হয়তো শুনেছিল। কিন্তু মানুষের ভেতরে যখন অন্য শব্দ বেশি জোরে বাজে, বাইরের শব্দ তখন দূরে সরে যায়। পেছনের গলিতে একটা ছায়া নড়ল। লোহার গ্রিলের গায়ে চাপা ঘষা। তারপর খুব ছোট একটা ভাঙার শব্দ। কেউ ভেতরে ঢুকছে।
আব্দুল কাদেরের ঘুম ভাঙলো ভোরের একটু আগে। তার একটা অভ্যাস আছে—সকালে উঠে আলমারি দেখে নেন। যেন কোনো অদৃশ্য ভয় তাকে তাড়া করে। আলমারিটা তার কাছে শুধু কাঠ আর লোহার জিনিস না। সেখানে তার জীবনের হিসাব থাকে। জমির দলিল, ব্যাংকের কাগজ, আর একটা ফাইল—যেটা তিনি কাউকে দেখান না। আজ আলমারির দরজাটা পুরো বন্ধ ছিল না। তিনি প্রথমে ভাবলেন, ভুলে গেছেন।
হাত বাড়িয়ে ঠেলতেই দরজাটা হেলে পড়ল। ভাঙা কাঠের শব্দ হলো।
ভেতরের জিনিস এলোমেলো। যেন আলমারি না তার বুকের ভেতরটা ফাঁকা হয়ে গেছে।
“সব শেষ!”
এই চিৎকারে পাড়ার সকাল বদলে গেল।
শিউলি আপা জানালা খুলে তাকালেন। তার চোখে কৌতূহল আগে আসে, সহানুভূতি পরে। তিনি চিৎকার করে খবর দিলেন। খবর ছড়াতে সময় লাগে না, কারণ মানুষের ভেতরে গল্পের জন্য জায়গা সবসময় থাকে। ভিড় জমতে লাগল। কেউ লুঙ্গি সামলাচ্ছে, কেউ চশমা খুঁজছে, কেউ ফোন হাতে নিয়ে ভিডিও করতে চাইছে কিন্তু সাহস পাচ্ছে না। নীলা সিঁড়ির ধাপে দাঁড়িয়ে। তার মাথার ভেতর অদ্ভুত শান্তি। হয়তো ধাক্কা এত বড় যে কান্না আসছে না।
শুধু নীলা জানে ওর চোখ ভিড়ের মধ্যে কাউকে খুঁজছে।
"রাফি।"
রাফি যখন এল, তার হাঁটার ভেতর একটা অপরাধবোধ ছিল। কেন ছিল—সে নিজেও জানে না। যেন কোনো অঘটনের সময় উপস্থিত না থাকলে সে নিজেকে ক্ষমা করতে পারে না। তাদের চোখ মিলল। এই মিলনে হাজার কথা ছিল।
“তুমি ঠিক আছো তো?”
“আমি আছি।”
“সব ঠিক হয়ে যাবে। চিন্তা করো না”
“জানি না।”
কাদের সাহেব ফাইল খুঁজছেন।
“সবুজ ফাইলটা… এখানে ছিল…” এই ফাইলের কথা কেউ জানে না। এই ফাইলের ভেতরে ছিল তার স্ত্রীর লেখা কয়েকটা চিঠি। তাদের প্রেমের সময়কার। তিনি কখনও সেগুলো ফেলে দেননি। আজ মনে হলো—অতীতও কি চুরি হয়ে যায়? পুলিশ এলো। প্রশ্ন করলো। সন্দেহ জানতে চাইল। এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে কাদের সাহেব বুঝলেন—বিশ্বাস মানে কী ভঙ্গুর জিনিস।
তিনি বললেন, “আমাদের কারও সাথে শত্রুতা নাই।”
কিন্তু তার চোখ এক মুহূর্তের জন্য পাড়ার মানুষের ওপর ঘুরে গেল। মানুষের ভিড় মানেই সম্ভাব্য বিশ্বাসঘাতকতার তালিকা। রহিম চাচা একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার চোখে বিচার কম, পর্যবেক্ষণ বেশি। তার পাশে বাপ্পি দাঁড়িয়ে। বাপ্পির হাত দুটো পকেটে ঢোকানো। তার চোখ নিচু। রহিম চাচা লক্ষ্য করলেন—ছেলেটা আজ চুপচাপ। কিন্তু তিনি কিছু বললেন না। কারণ তিনি জানেন, কিছু নীরবতা জোর করে ভাঙলে শব্দ বের হয় না, কান্না বের হয়। ভিড় ছড়িয়ে গেলে পাড়ার ভেতরে গুঞ্জন রয়ে গেল। শিউলি আপা বললেন, “ভেতরের লোক।” হাশেম কাকু বললেন, “বাইরের।” মিজান স্যার সমাজ নিয়ে বক্তৃতা দিলেন। প্রতিটা মানুষ নিজের মতামত দিয়ে স্বস্তি পেল। কারণ মতামত মানে নিরাপত্তা...
রাফির ইন্টারভিউ ছিল। সে যায়নি। তার মা জিজ্ঞেস করলে সে চোখ নামিয়ে বলল, “আজ মন ছিল না।” মা চুপ করে গেলেন। তিনি জানেন—এই ছেলের মন আর বাস্তবতা একসাথে হাঁটে না। তিনি মাঝে মাঝে ভাবেন, ছেলেকে বেশি স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন কি না।
সন্ধ্যায় নীলা ছাদে উঠল। আকাশে হালকা কমলা রঙ। চুরি হওয়া বাড়ির ওপরও সূর্য একইভাবে আলো ফেলে—এই নির্লিপ্ততায় তার কষ্ট হয়। রাফি পাশের ছাদে দাঁড়াল।
কিছুক্ষণ দুজনেই চুপ।
“তুমি ঠিক আছো?” রাফি জিজ্ঞেস করল।
নীলা উত্তর দিল না সঙ্গে সঙ্গে।—ঠিক থাকা মানে কী? যদি ভেতরে অস্থিরতা থাকে, তবু বাইরে শান্ত থাকি—তাহলে কি ঠিক? শুধু বলল-“আমি জানি না।”
রাফি হঠাৎ বলল, “আমি চাকরি পেলে সব বদলে যাবে।”
এই বাক্যে তার ভেতরের অসহায়তা ছিল। রাফি মনে করে, চাকরি মানেই সম্মান। সম্মান মানেই সাহস ।আর সাহস মানেই নীলাকে নিজের বলা।
নীলা- “সব?”
রাফি থেমে গেল। সব বদলানো যায় না। কিছু জিনিস শুধু সহ্য করা যায়।
রাতে কাদের সাহেব একা বসে রইলেন। ভাঙা আলমারি সামনে। তার মনে হলো, এই পাড়া আর আগের মতো নিরাপদ না। তার মেয়েকে তিনি কেমন ভবিষ্যৎ দিতে পারবেন? তার নিজের প্রেমের বিয়ে ছিল। কিন্তু জীবনের চাপে সেই প্রেম শুকিয়ে গেছে। তিনি চান না মেয়ের জীবন অনিশ্চিত হোক। কিন্তু তিনি এটাও জানেন না—অতিরিক্ত নিরাপত্তা মানুষকে শ্বাসরুদ্ধ করে।
ওদিকে চা দোকানের পেছনে বাপ্পি একা বসে আছে। তার পকেটে ছোট একটা সোনার চেইন। সে সেটা বের করে আলোতে ধরল। তার চোখে জল নেই। কারণ তার কাছে এটা চুরি না—প্রয়োজন। তার মা তিনদিন ধরে জ্বরে। ডাক্তার বলেছে ওষুধ লাগবে। সে ফিসফিস করে বলল, “আমি খারাপ না।” এই বাক্য সে নিজেকেই বলছে। পাড়ার বাতি একে একে নিভে যায়। সবাই ভাবে দিন শেষ।
কিন্তু আসলে আজ একটা ফাঁক তৈরি হয়েছে। বিশ্বাসের ফাঁক। ভবিষ্যতের ফাঁক। দুজন মানুষের মাঝের নীরবতার ফাঁক। এই ফাঁকের ভেতর দিয়েই গল্প ঢুকবে। আর কেউ এখনও বুঝতে পারছে না সবচেয়ে বড় ভাঙন আলমারিতে না, মানুষের ভেতরে শুরু হয়েছে।
একজন বড় মিথ্যাবাদী, একজন বড় জাদুকরও


![[+]](https://xossipy.com/themes/sharepoint/collapse_collapsed.png)
![[Image: Shocked-Open-Asianpiedstarling-size-restricted.gif]](https://i.ibb.co/ngdFS53/Shocked-Open-Asianpiedstarling-size-restricted.gif)
